#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_২৫
(শব্দসংখ্যা ১০৫০+)
শাওয়ার শেষ করে ড্রেসের প্যাকেট খুলতেই মেঘলার চক্ষু কপালে উঠলো।অনন্যা তাকে একটা কালো রঙের নাইটি গিফট করেছে। এখন এটা পড়ে সে বাহিরে কিভাবে যাবে ? শাড়িটাও তো ধুয়ে ফেলেছে। মেঘলা মহা বিপদে পড়লো। ছি ছি এমন ডিপ নেকের হাটুর উপর পর্যন্ত লম্বা নাইটি পড়ে কি কোনো পর পুরুষের সামনে যাওয়া যায় নাকি? ঠিক তার পর মুহূর্তেই তার মনে পড়লো আরশাদ তো কোনো পরপুরুষ না। সে তো তার বিয়ে করা স্বামী। যতই মুখে সে বলুক বিয়ে মানি না কিন্ত আরশাদ যে তার হাসব্যান্ড এই সত্যিটা তো আর চেঞ্জ হবে না। আর এই ব্যাটা তাকে এভাবেই অনেক জ্বালাচ্ছে। এখন এই নাইটি পড়ে ব্যাটাকে একটু জ্বালানো যাক। ইশ একটু আগেই ভেজা শাড়িতে কিভাবে ড্যাব ড্যাব করে দেখছিলো তাকে।এখন এই নাইটি পড়া অবস্থায় তাকে দেখলে বেচারা না অজ্ঞান হয়ে যায়। কালো নাইটি টা পড়ে মেঘলা পা টিপে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে গেলো। আরশাদ একটু ল্যাপটপ খুলে বসেছিলো। মেঘলাকে দেখে সে কিছু বলার আগেই থেমে গেলো। আরশাদ বেশ তোতলাতে তোতলাতে বললো,
“তুমি……তুমি মানে এই কাপড়ে কেনো? এটা কোথায় পেলে?”
“আসলে আপনার মেয়ে কলিগ এটাই গিফট করেছে।”
“কি… কি?
“হ্যা।”
আরশাদ ঐভাবে তোতলাতে দেখে মেঘলা বেশ মজা পেলো তাই তো সে আরশাদের দিকে আরো এগিয়ে গেলো।
“বাহিরে তো বেশ ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে। আজকের আবহাওয়া ও বেশ ঠান্ডা। তাহলে আপনি এভাবে ঘামছেন কেনো? ”
“এই তুমি আমার কাছে… কাছে আসবে না? ”
এবার মেঘলা আরশাদের বসে থাকা চেয়ারের কাছে এসে আরশাদের দিয়ে ঝুকে বললো,
“কি হলো আমাকে না বউ বলেন? তাহলে এখন এতো ভয় পাচ্ছেন কেনো? না আপনার ভিতরে কোনো সমস্যা আছে।”
কথাটা বলেই মেঘলা মুখ টিপে হাসলো।আরশাদ এবার নিজে চেয়ার থেকে উঠে মেঘলার কোমর ধরে তাকে টেবিলে বসিয়ে দিলো। মেঘলার একদম কাছে গিয়ে বললো,
“কি বলছিলে আমার ভিতরে সমস্যা আছে। চলো প্রমান করে দেই যে তোমার স্বামী সম্পূর্ণ ফিট।”
মেঘলা এবার বুঝতে পারলো যে সে নিজের জালে নিজেই ফেঁসে গেছে। তাই সে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললো,
” আমি তো মজা করছিলাম। আমাকে কোনো কিছু প্রমান করা লাগবে না। ”
কিন্তু আরশাদ মেঘলার কথার কোনো কর্ণপাত না করেই মেঘলার বাম গালে টুপ করে চুমু খেয়ে নিলো। মেঘলার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেলো। সে নিজের গাল চেপে ধরে বললো,
“এই আপনি আমাকে চুমু খেলেন কেনো? এটা আমার জীবনের প্রথম চুমু ছিলো।”
আরশাদ এবার মেঘলার কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে বললো,
“আমাকে জ্বালাতে এসেছিলে না, এটা তোমার শাস্তি। এরপর থেকে আমাকে যত জ্বালাবে তোমার শাস্তির পরিমাণ ততো পারবে।”
মেঘলার বেশ ঠান্ডা লাগছিলো। তা দেখে আরশাদ বললো,
“ঠান্ডায় তো তোমার কাঁপুনি উঠে গেছে। দাড়াও ভিতর থেকে আমার শাল নিয়ে আসি।”
আরশাদ নিজের বেডরুমে শাল আনতে গেলো। এদিকে মেঘলা নিজেই নিজেকে গালাগালি করতে লাগলো। কোন দুঃখে যে সে এই আরশাদ ফরাজীকে ক্ষেপাতে গিয়েছিলো। এখন নিজেই ফেঁসে গেছে।
—————-
নাফিজার হাসব্যান্ড হাসান বাসায় ফিরলো রাত ১০ টার দিকে। হাসানের জুতা খুলতে যেয়েই নাফিজা বুঝতে পারলো যে হাসান আজকেও ড্রিংকস করে এসেছে।
“তুমি আজকে আবার ড্রিংকস করেছো?”
“হ্যা করেছি,তো কি হয়েছে?”
“এইসব ছাইপাশ কেনো গিলো?”
“এই মা*গী একদম চুপ থাক। তোর বাপের টাকা দিয়ে খাইনি। তাহলে এভাবে চোপা চালাচ্ছিস কেনো?”
“হাসান একটু বোঝার চেষ্টা করো। আমাদের বাচ্চা হচ্ছে না। হয়তো তার জন্য তোমার এই ড্রিংকস করাই দায়ী।”
“এই বে*শ্যা একদম চুপ থাক। তুই একটা বাজা তাই আমাদের বাচ্চা হচ্ছে না। বেশি পকপক করলে বাসা থেকে একদম গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো। আমার জন্য খাবার গরম করে নিয়ে আয়।”
নাফিজা রান্নাঘরে খাবার গরম করতে চলে গেলো। কিন্তু তার চোখে পানি টলমল করছিলো। এমন একটা পরিস্থিতি সে আছে যা সে কাউকে বলতেও পারছে না। হাসানের সাথে তার প্রেম করে বিয়ে হয়েছিলো। সম্পর্কের সময় থেকেই হাসান এরকম টক্সিক ছিলো। কিন্তু তখন নাফিজা প্রেমে অন্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করেছে। আর সেই ভুলের মাশুল এখন তাকে প্রতিদিন দিতে হচ্ছে।
————–
আদিব দুইটা ফ্লাইট টিকিট ইরিনার সামনে ধরে বলল,
” নেক্সট মাসে আমরা সুইজারল্যান্ড যাচ্ছি। ”
“সত্যিই? আমি তো জাস্ট এভাবেই বলেছিলাম।”
” তুমি যেভাবেই বলো, তোমার প্রতিটা শখ পূরণ করা তোমার স্বামীর দায়িত্ব। ”
” ধ্যাত অনেকগুলো টাকা খরচ হয়ে যাবে তো? ”
” তো তোমার স্বামীর কম আছে নাকি? তোমার টাকার চিন্তা করতে হবে না তুমি শুধু যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নাও। ”
” আচ্ছা। ”
হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই আদিব বললো,
” তোমার জন্য আরও একটা গুড নিউজ আছে? ”
” কি? ”
” ওই মেয়েটাকে আমি বাড্ডার ব্রাঞ্চ এ ট্রান্সফার করে দিয়েছি। এই মাসটাই ও এই হসপিটালে আছে।”
” ইশ আমার জন্য আপনি এত ঝামেলা করতে কেন গেলেন? ”
” কারণ আমি জানি ও যদি আমার সাথে সেইম হসপিটালে কাজ করে তাহলে তুমি সব সময় একটা আতঙ্কে থাকবে। এখন বিয়ে করে বউকে যদি একটু মানসিক শান্তি না দিতে পারি তাহলে আমি কেমন স্বামী? ”
ইরিনা এবার ভালবাসার সাথে আদিবের বাহু জড়িয়ে ধরে বলল,
” আপনি আমার জীবনে কালো মেঘের মধ্যে হঠাৎ করে ওঠা রোদের মতো। আমার জীবনের সব দুঃখ কষ্ট আপনি দূর করে দিয়েছেন। আমি যেন আপনার সাথে বৃদ্ধ হতে পারি। ”
” অবশ্যই। অনেক ভালোবাসি তোমাকে ওয়াইফি। ”
“আমিও।”
————–
বেশ অনেকদিন পর নাবিলের ভার্সিটি লাইফের বন্ধু রকিব তাদের বাসায় এলো। নাবিল রকিবকে জিজ্ঞেস করল,
” বিয়ের অনুষ্ঠানে কেন এলি না? ”
” ভাই কনেটা যদি মেঘলা হতো তাহলে অবশ্যই আসতাম। কিন্তু তুই যা খেল দেখালি। ”
” দেখ ভাই সব সময় কি আমাদের একজনকে ভালো লাগবে? সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিবর্তন হয় আমার ভালো লাগারও পরিবর্তন হয়েছে। ”
” ভাই ভালবাসায় এরকম কোন কথা নেই। তুই যদি সত্যিই কাউকে ভালবাসিস তাহলে সব জন্মেই তোর তাকে ভালো লাগবে। যাই হোক তুই মেঘলার সাথে ব্রেকআপ করায় একজনের কিন্তু সেই লাভ হয়েছে।”
রকিবের কথা শুনে নাবিলের কিছুটা খটকা লাগলো।
” তুই এসব কি বলছিস?কার লাভ হয়েছে? ”
” মেঘলার বর্তমান স্বামীকে চিনিস তো? ”
” হ্যাঁ, এএসপি আরশাদ ফরাজী। ”
” আরশাদ ভাই আমাদের সিনিয়র ছিল। আমার বড় ভাই রবির ব্যাচমেট। ”
” কিহহ? উনি আমাদের ভার্সিটিতেই পড়তো? ”
” হ্যাঁ তবে তার চেয়ে ও বেশি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল সে ভার্সিটি লাইফ থেকেই মেঘলাকে একতরফা ভালোবাসতো। ”
” তুই এসব কি বলছিস? ”
” যা সত্যি তাই বলছি। ভাইয়া শুধু ভালবাসতো তা বললে ভুল হবে, সে জাস্ট অবসেসড ছিল মেঘলাকে নিয়ে। জাস্ট মেঘলার জন্য সে এত বছরেও কোন নারীর সাথে জড়ায়নি। হয়তো মেঘলাকে বিয়ে করতে না পারলে সে সারা জীবনে বিয়ে ও করত না। ”
এসব কিছু শুনে নাবিলের মাথায় যেন গন্ডগোল পাকিয়ে গেল।
“মেঘলা সব জানে?”
” পাগল নাকি? এভাবেই তুই ওকে যে ধাক্কা দিয়েছিস তার উপর যদি আরশাদ ভাই যেয়ে ওকে ভালোবাসার কথা বলতো তাহলে ও সন্ন্যাসীই হয়ে যেত। তাই তো আরশাদ ভাই সুযোগে ওকে বিয়ে করে নিয়েছে। ”
সবকিছু শুনে নাবিলের খুব আফসোস হতে লাগলো।
তার মনে হয়েছিল যে মেঘলা তার যোগ্য না। হয়তো মেঘলা কে ছেড়ে দেওয়ার পর মেঘলার আর কোনো উপায়ই থাকবে না। কিন্তু সে মেঘলাকে ছেড়ে দিয়ে তো উল্টো তার উপকার করেছে। আরশাদ যে মেয়েকে এত বছর যাবত ভালবাসতে পারে সে মেয়েকে তো সে বউ হিসেবে রানীর মত ট্রিট করবে। নাবিল ভেবেছিল সে মেঘলা জীবন শেষ করে দিয়েছে কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সে নিজের হাতে নিজের জীবনই শেষ করেছে। সে এমন একজনকে বিয়ে করেছে যে কিনা ছোটোখাটো ঘরোয়া ঝামেলায় ও তাকে মামলার ভয় দেখায়।
চলবে…..
প্রতিদিন দুইটা করে পর্ব দিচ্ছি। কিন্তু আপনাদের তেমন কোনো রেসপন্স নেই। টুস করে একটা লাভ রিয়েক্ট দিতে কি আপনাদের এতো কষ্ট হয় 😔।তাহলে কি আমি প্রতিদিন দুইটা করে পর্ব শেয়ার বন্ধ করে দেবো। কমেন্টে জানাবেন।

