#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_৩০
(শব্দসংখ্যা ১০৫০+)
ভাইয়ের কল পেয়ে নাফিজা একদম সকালেই বাবার বাড়ি এলো। বাবার বাড়ি এসে দেখতে পেল তানিয়া আর তার বাবা-মা ও এই বাসায় উপস্থিত রয়েছে। নাফিজা তানিয়াকে দেখে কিছুটা ঠ্যাস মেরেই বলল,
” রাগ করে না চলে গিয়েছিলে? আবার একা একাই ড্যাঙ ড্যাঙ করে চলে এলে? ”
তানিয়া তার সাথে কোন কথা না বলে শুধু তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। লাজু বেগমও কিছুক্ষণের মধ্যে ড্রইংরুমে এসে উপস্থিত হলো। এবার নাবিল ফাইলের ভেতর থেকে একটা জমির দলিল বের করে নাফিজার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
” নাফিজা তুই বলেছিলিস না যে জমি বা পাঁচ লাখ টাকা না পেলে আমার নামে মামলা করবি? এই নে তোর ভাগের জমির দলিল। আরেকটা কথা আজকের পর থেকে আমার কাছ থেকে তুই আর এক টাকাও এক্সপেক্ট করবি না। ”
নাবিলের কথা শুনে নাফিজা হতভম্ব হয়ে বলল,
” এসব তুই কি বলছিস ভাইয়া? ”
“ঠিকই তো বলছি। তুই তো বলেছিস যে টাকা না পেলে বা জমির দলিল না পেলে আমার নামে মামলা করবি। তাই তোর জমির দলিল তোকে বুঝিয়ে দিলাম। তোর সাথে আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ। আমি যতদূর জানি বাংলাদেশে সম্পর্ক শেষ করলে অবশ্য তার নামে কোন মামলা হয় না।”
ভাইয়ের কথা শুনে নাফিজার মাথায় বাজ পরলো। এতদিন বিভিন্ন ভালো ভালো উপহার বাবার বাড়ি থেকেই নিয়ে যেত। এখন যদি তার ভাই তার সাথে সম্পর্ক শেষ করে দেয় তাহলে এসব উপহার সে কোথায় পাবে। ছেলের কথায় বাধ সেধে লাজু বেগম বললেন,
” নাবিল বাবা তুই এসব কি বলছিস? তুই তো আমাদের একমাত্র ভরসা। ”
এবার নাবিল রুক্ষ স্বরে তার মাকে উত্তর দিল,
” এতদিন পালন করিনি তোমার মেয়ের দায়িত্ব? কতগুলো টাকা খরচ করে বিয়ে দিয়েছি। কয়েক মাস পর পরই তোমার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে ভালো ভালো জিনিস পাঠানো লাগতো। সবই তো করেছি। কিন্তু তোমার মেয়ের তো তাতেও মন ভরলো না। আরো একটা কথা মা আমি তোমার সাথেও কোনো রকমের সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছি না কালকে আমি তোমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেব। আমি অলরেডি এক জায়গায় কথা বলেছি। প্রতি মাসে মাসে তোমার খরচ ওইখানে পৌঁছে যাবে।”
ছেলের কথা শুনে লাজু বেগম নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলে না। সে অসহায় সুরে তার ছেলেকে বলল,
” এসব কি বলছিস নাবিল? কে তোর মাথায় এইসব ঢুকিয়েছে? ”
” কেউ ঢোকায়নি। তানিয়ার বাবা শর্ত দিয়েছে যে হয় তানিয়ার সাথে আমার আলাদা সংসার করা লাগবে আর নইলে আমাকে জেলে যেতে হবে। আর ওই যে তোমার মেয়ের নামে জমি বন্দক ছাড়িয়েছি সেটাও তানিয়ার বাবার দেয়া টাকায়। আর মা এখন এত অবাক হচ্ছ কেন তানিয়াকে তো তুমি পছন্দ করে এনেছিলে। তুমিই তো বলেছিলে তানিয়ার সাথে আমি ভালো থাকবো। তাইতো ভালো থাকার চেষ্টা করছি। তুমি শুধু শুধু আমার রাস্তায় বাধা দিতে এসো না। ”
ছেলের কথা শুনে লাজু বেগম নিস্তেজ হয়ে পড়লেন। হঠাৎ করে তার মেঘলার কথা মনে পড়ল। ওই মেয়েটা তাকে কত সম্মান করত। সে তাকে এতো কটু কথা বলতো তারপর ও মেয়েটা কোনোদিন প্রতিবাদ করতো না।যদি আজকে ওই মেয়েটার সাথে তার ছেলের বিয়ে হত তাহলে হয়তো তার বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়া লাগত না।
——————
আদিব আর ইরিনা যখন বাসায় ফিরল তখন বাজে সন্ধ্যা প্রায় সাতটা। ইরিনা সেই সকালের ঘটনার পর থেকেই চুপচাপ হয়ে আছে। আদিব নিজে থেকেই রাইস কুকারে ভাত বসিয়ে ইরিনাকে বলল,
” তোমার শরীরটা হয়তো আজ ভালো নেই। আমি ভাত বসিয়ে দিয়েছি। ফ্রিজে ডাল আছে আর মাছটা ফ্রাই করে নিচ্ছি। ”
হুট করে ইরিনা হাউমাউ করে কান্না করতে শুরু করল,
” আপনি কি সত্যিই এখনো ওকে ভালোবাসেন? এই জন্যই কি ও আজকে ওরকম সিনক্রেট করলো? ”
” তুমি কি পাগল হয়ে গেছো ইরিনা? তুমি আমার একমাত্র ভালোবাসা। আমার হার্ট তো দূরের কথা আমার ব্রেনে ও ওর কোন জায়গা নেই। ”
এবার ইরিনা মাথা নিচু করে আদিবকে বলল,
” সরি। আসলে ওকে দেখে আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। তাইতো হসপিটালে সবার সামনে ওভাবে চিৎকার করলাম। আমার জন্য হয়তো আপনার রেপুটেশন নষ্ট হয়েছে। ”
” তুমি শুধু শুধু সরি কেন বলছো? এখানে তুমি যা করেছ আমার মতে একদম ঠিক করেছো। আগে ও ওকে আমি শান্তভাবে নিষেধ করেছি। কিন্তু ও তো শোনেনি, তো ওর জন্য আজকের শিক্ষাটা দরকার ছিল। আর এই সুযোগে আমিও বুঝতে পারলাম যে আমার বউ ও কোনো অংশে কম না। ভবিষ্যতে আমার বউ দরকার হলে আমার জন্য কাউকে ক্যালানি ও দিতে পারবে। ”
“ধ্যাত, আপনি আছেন আপনার ফাজলামি নিয়ে।”
” তোমার প্রশংসাই তো করলাম।ওহ আর শোনো কাল ভাইয়া হসপিটাল থেকে রিলিজ পাচ্ছে। শুনলাম ভাইয়া আর ভাবী নাকি বাসায় যাবে। তোমার সামনে দশ দিন গরমের ছুটির জন্য কলেজ অফ তাহলে আমিও ১০ দিনের ছুটি নিয়ে নেই। কয়েকদিন ফ্যামিলির সবাই মিলে একসাথে টাইম স্পেন্ড করব। ”
” বেশ ভালো আইডিয়া তো। এভাবে ও এসব তামাশা থেকে আমাদের দুইজনেরই কিছুটা টাইম ব্রেক দরকার। আমি প্যাকিং শুরু করছি। আপনি ছুটির জন্য মেইল করে দিন। ”
—————————
আরশাদের হসপিটালে থেকে রিলিজ পেতে প্রায় বিকাল হলো। হসপিটালের সব ফর্মালিটি আদিবই শেষ করলো। আরশাদ বাড়ি যাওয়ার পথে গাড়িতে বসে আদিবকে জিজ্ঞেস করল,
” ওই মেয়েটাকে কি হসপিটাল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে? ”
” জ্বী ভাইয়া। কিন্তু তুমি কিভাবে জানলে? ”
” তুই আমার ছোট ভাই তোর ব্যাপারে সব খবরই রাখতে হয় আমাকে। ওর কাছ থেকে একশ হাত দূরে থাকবি। রাস্তায় দেখলে অন্য দিকে তাকিয়ে হাটবি। ”
” আহা ভাইয়া এত টেনশন করো না। ইরিনা কালকে ওকে চুলের মুঠি ধরে আছাড় মেরেছে ও মনে হয়না ভুলেও আর আমার দিকে তাকাবে। ”
আদিবের কথা শুনে আরশাদ হো হো করে হেসে মেঘলার দিকে তাকিয়ে বলল,
” এই সত্যি বলতো তোমরা বোনেরা এত ডেঞ্জারাস ভাবে মাইর দেয়া কিভাবে শিখলে? তোমাদের দেখতে তো অনেক শান্তশিষ্ট মনে হয়। ”
মেঘলা বুঝতে পারলো আরশাদ আবার বকবক শুরু করবে। তাই সে তার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে মুখ ভেংচি কাটলো।
—————
রিফাতের ছোট ভাই রিয়াজকে টর্চার সেলে নিয়ে আসা হয়েছে। যে রিফাত এতক্ষণ ধরে কিছুতেই মুখ খুলছিল না নিজে ছোট ভাইকে দেখেই সে সাদাতের হাতে পায়ে ধরা শুরু করল।
” স্যার আমার ভাইকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?”
” তোর তো মুখ খোলাতে পারছিনা, এখন দেখি তোর ভাইকে জিজ্ঞেস করে কিছু জানা যায় কিনা। ”
” স্যার প্লিজ এরকম কিছু করবেন না। ”
” আমরা রুলস ভাঙতে চাইনি কিন্তু তুই তো মুখ খুলছিস না। ”
” স্যার আমি সব বলব শুধু আমার ভাইকে ছেড়ে দিন। ”
এবার সাদাত ইশারা করতেই অনন্যা রিয়াজকে নিয়ে টর্চার সেলের বাইরে গেল।
” এবার বল কে তোকে অর্ডার দিয়েছে? ”
” স্যার ডাক্তার সিনথিয়া জামান। ”
“আবার মিথ্যে বলছিস? উনি কেন স্যারকে মারার অর্ডার দেবে?”
” স্যার আমি সত্যি বলছি। আসলে সিরিয়াল কিলিং মার্ডার কেসের সাথে উনি যুক্ত। ”
“কিহহ? তুই যে এসব বলছিস তোর কাছে প্রমাণ আছে?”
” স্যার আমার বাসায় একটা ফোন আছে। যেটা দিয়ে আমি ওনার সাথে যোগাযোগ করতাম। এমনকি ওনার একটা মার্ডার করার ভিডিও আমি রেকর্ড করে রেখেছিলাম যেন পরবর্তীতে ওনাকে আমি ব্ল্যাকমেইল করতে পারি। ”
এবার সাদাত অনন্যা কে আবার সেলের ভিতর ডাকলো,
” ওকে নিয়ে ওর বাসায় যাও। খেয়াল রাখবে পালাতে যেন না পারে। আর শোনো সিনথিয়া জামানকে কাস্টাডিতে নাও। ”
” স্যার ফরেনসিক ডাক্তার সিনথিয়া জামান? ”
” জি, এরা দুইজনই সিরিয়াল মার্ডারের সাথে যুক্ত। ”
চলবে…………
পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি পেতে টুস করে লাভ রিয়েক্ট দিবেন আর সুন্দর করে কমেন্ট করে যাবেন ❤️

