#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব ৩৮[শেষ অংশ]
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
আজগর সাহেবের বেশ কিছু আত্মীয় সজন এরই মধ্যে চলে এসেছেন বাড়িতে।তাদেরই কয়েকজনের স্ত্রী এবং মেয়ে বউ এসে সাজানো হচ্ছে শিয়াকে।
শিয়া পাথরের মূর্তির মতো বসা এই মূহুর্তে। কিছুক্ষণ আগেও বারবার প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছিলো মেয়েটার।জ্ঞান হারাচ্ছিলো বারবার।প্রিয়া তার জন্য কেনা লেহেঙ্গা টা কোলে নিয়ে বোনের সামান্য দূরেই সোফায় বসে আছে মলিন মুখে।মাথায় ঘুরছে হাজার একটা চিন্তা ভাবনা।তখন মোটেই আকাশের সাথে অমন ব্যবহার করা উচিত হয়নি।সেও নিশ্চয় তার ভাইকে নিয়ে চিন্তিত। প্রিয়া নিজেও একবিন্দু বিশ্বাস করেনা ওই সৌমি নামের মেয়েটার কথা।সে যতই প্রমান দিক।আকাশ বা অয়ন ভাই কেউ ওইরকম চরিত্রের নয়।তখন মাথা ঠিক ছিলো না রাগের বসে উল্টোপাল্টা বলে দিয়ে এখন অপরাধবোধে ভুগছে সে।প্রিয়া গভীর চোখে বোনকে দেখে।মুখটা কেমন রক্তশূন্য দেখাচ্ছে।অনূভুতিহীন একটা জড় পদার্থ লাগছে।
প্রিয়া উতলা হয়ে আছে একটা বার একটু বাবা মায়ের সাথে কথা বলার জন্য। আশ্চর্যজনক ভাবে তাদের বেরই হতে দেওয়া হচ্ছে না।আর না তো তাদের বাবা মা একটাবার তাদের সাথে দেখা করতে আসছে।প্রিয়া ব্যাস্ত হয়ে উঠে দাড়ায়।জামাকাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢোকে।পোষাক টা পরে বের হয়।এতো ভারি লেহেঙ্গা আজ অসহ্য লাগছে। এতো সাজগোছ এর মনমানসিকতা আছে নাকি আজ!
____
কঠিন মুখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছেন রেনুকা রহমান।আনিসুল রহমান নির্বিকার বসে আছেন।স্টাডি টেবিলের ওপর দু হাত রাখা।হাত জোড়া অস্বাভাবিক কাঁপাকাপি করছে।একটা টু শব্দও করছেন না তিনি।এ বাড়ির কাজের লোক এসে তিন তিনবার তাদের দ্রুত নিচে যেতে বলেছেন।কাজি সাহেব এসে গেছেন।কাবিন এর বিষয়ে আলোচনা করা হবে।আনিসুল রহমান উঠলেন না এবারেও।রেনুকা রহমান উঠে এসে স্বামীর পাশে চেয়ার টেনে বসলেন।কঠিন গলাতে বললেন,
____ “তোমার থেকে এটা আমি কল্পনা তেও আশা করিনি আনিস।যেটা করলে তার ব্যাখ্যা না দিয়ে কোত্থাও যাবে না তুমি।”
____”কি ব্যাখ্যা চাও তুমি?”
____”আমাকে আর আমার মেয়েদের মিথ্যা বলে এখানে আনা হলো কেনো?কেনো আনলে?”
আনিসুল সাহেব স্ত্রীর দিকে তাকায় না।মনের মধ্যে হাজার একটা সমীকরণ এর হিসেব মেলাচ্ছেন।
____”জবাব দিচ্ছো না কেনো!আমার মেয়েদের ওভাবে অপমান করলো তখনও এভাবে চুপ ছিলে তুমি।কথাবার্তা ছাড়া আমার মেয়ের বিয়ে দিচ্ছো তুমি।একটাবার আমার সাথে আলোচনার প্রয়োজন বোধ করলে না তুমি।আমাকে তো ছাড়ো যে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছো তাকে একবার জানাতে দিলে না!বলা হলো বিয়ের কথাবার্তা হবে!এভাবে কালেমা, কাবিন… সম্পূর্ণ বিয়ে!কেনো এসব বলো?আমার মেয়ের সিদ্ধান্তের দাম নেই।আমার দাম নেই তোমার কাছে!”
আনিসুল রহমান আহত চোখে তাকালেন স্ত্রীর দিকে।চোখজোড়া লাল দেখাচ্ছে।গলা পরিষ্কার করে বললেন,
____”তোমার মেয়ে একটা ছেলেকে ভালোবাসে।”
রেনুকা রহমান চমকায়।চোখ বড় বড় হয়।তবে নিজেকে সামলেও নেন।
____”ও ছোট বাচ্চা নয়।বাসতেই পারে।”
আনিসুল রহমান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ান।দু হাত কচলান।এটা অতিরিক্ত চিন্তায় থাকলে করেন তিনি।
____”হ্যা পরে।অবশ্যই পারে।তবে যাকে ও ভালোবাসে তাকে পারেনা।”
____”কি যা তা বলছো!যাকে ভালোবাসে তাকে পারে না মানে কি!”
আনিসুল রহমান আবার গিয়ে বসলেন চেয়ারে।দাড়িয়ে থাকতে বেশ কষ্ট হচ্ছে তার।আজ বুকের ব্যাথাটা বেশ বেড়েছে।
____”ও কাকে ভালোবাসে জানো?”
রেনুকা রহমান ভ্রু জোড়া তুলে তাকালেন।ধীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
____”কাকে?”
____”সেই ছেলেকে।মনে আছে তোমার?ছয় বছর আগে যে ছেলে তার বন্ধুদের দিয়ে আমার ওইটুকুন দুটো মেয়েকে….
থেমে গেলেন আনিসুল সাহেব। চোখ টকটক করছে। রাগে,ক্ষোভে।রেনুকা রহমান হতভম্ব হয়।সেই ছেলের কথা মনে আছে তার।থাকবে না মানে!ওইসময়ের মানসিক ট্রমা তারা ভুলতে পেরেছে আদৌ!সেই ছেলেকে শিয়া আবার ভালোবাসে মানে!
____”তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে না তো।”
____”না,হচ্ছে না।আজগর আমাকে বলেছে।নিলয় প্রমান সহ দেখিয়েছে।”
রেনুকা ভ্রু কোচকালেন।গম্ভীর গলায় বললেন,
____”নিলয় কি প্রমান দেখিয়েছে!”
____”আমাদের ওখানকার ওই পাচ তারকা হোটেল টার মালিকানা ওই লোফার দের।শিয়ার কোম্পানি কাজ করছে ওদের আন্ডারে।সেখান থেকে তারা গতমাসে ট্যুর গেলো কক্সবাজারে। সেখানে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় মেলামেশা করেছে তোমার বড় মেয়ে আর সেই লোফারটা।তোমার মেয়েকে ছেলেটা আবার ব্রেইন ওয়াশ করেছে।ভাবতে পারছো!না হলে ওই রকম ছেলের কাছে আবার কেউ যায়?”
____”সেটা আমাদের শিয়ার সাথে কথা বলা উচিত ছিলো না কি?আমরা কথা বলতে পারতাম ওর সাথে। এভাবে ধরে বেধে অন্য জায়গায় বিয়ে দিলে সব ঠিক হবে?তারওপর এভাবে মিথ্যে বলে নিয়ে এসে আমরা একটা বারের জন্য দেখা করলাম না।ওরা ট্রমাটাইজ হয়ে যাবে।বুঝতে পারছো?”
____”আজগর আমার খুব ভালো বন্ধু।ও আমার মেয়েকে কষ্টে রাখবে না।”
____”নিলয়কে তোমার মেয়ে একবিন্দু ও পছন্দ করেনা।”
___”তা করবে কিভাবে। তার মাথাটা তো ঘুরে আছে অন্য দিকে।”
আনিসুল সাহেব ঘুরে তাকালেন স্ত্রীর দিকে।মলিন গলায় বললেন,
____”আমার দুই মেয়ে আমার হৃদপিন্ডের দুই অংশ রেনু।তুমি আর ওরা দুজন আমার গোটা পৃথিবী। তোমাদের ক্ষতি আমি এ জীবনে দেখে যেতে পারবনা।তোমাদের ভালোর জন্য আমাকে যা করতে হয় আমি করবো।শিয়া ভালো থাকবে এখানে।আমার ওপর হয়তো কয়েকদিন রেগে থাকবে।তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।ওইছেলেটা ওর জীবন নষ্ট করে দিতো।কি কি বাজে প্রমান পেয়েছি তোমাকে আমি বলতে পারবনা।নিলয়…নিলয় বাচিয়েছে আমার মেয়েকে।”
রেনুকা রহমান কথা বলেন না।ছলছল চোখে স্বামীর কথা শোনেন।স্বামীর যুক্তি ভুল নয়।কিন্তু মেয়েটাকে এভাবে বন্দির মতো বিয়ে দিতে মন সায় দিচ্ছে না তার।একটা বার অন্তত দেখা টা করতে পারলে মনের শান্তি পাওয়া যেতো।
_____
রাকিব,রাতুল,রেদোয়ান ব্যাস্ত হয়ে খোঁজ করছে আজগর সাহেব এর বাড়ির ঠিকানা।তারা সেই ঠিকানা যানেনা।প্রিয়াদের বাড়ির আশেপাশে সেরকম বাড়িঘর নেই।যা আছে তারা কেউই স্থানীয় নন।সুতরাং কারোর থেকেই কোনো ধরনের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না।রাকিব রাতুলের দিকে ফেরে।ব্যাস্ত গলায় বলে,
____”শিয়াকে কলে পেলি না?”
দুদিকে মাথা নাড়ে রাতুল।
____”প্রিয়ু?”
____”রিং হয়ে কেটে যায়।”
বিরক্ত ছেয়ে যায় চোখেমুখে। মহা সমস্যা তো।এখন ঠিকানা না পেলে তো সর্বনাশ ঘটে যাবে।আকাশ নিজেও জানেনা ঠিকানা।অতদূর থেকে এদিকটার পরিস্থিতি বুঝতেও পারছে না সে।তাছাড়া অয়ন ভাইকে খুঁজতেই অবস্থা খারাপ ওদিকের।এদিকটা যদি তারা এতজন মিলেও সামলাতে না পারে কেমন হলো তবে।গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে তারা এসে থামলো এখানকার স্থানীয় বাজারে।বলা যেতে পারে মূল লোকালয় এটাই।তাছাড়া আশেপাশের সব বাড়িঘর ছন্নছাড়া ধরনের।গাড়ি থেকে নামে তিনজনই।এদিকওদিক ছোটে লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে।অনেকে নাম শুনলেও বলতে পারছেন না তার বাড়ির ঠিকানা।রাতুল পিছন ঘুরতেই সজোরে ধাক্কা লেগে গেলো একটা মেয়ের সাথে। মেয়েটার হাতে থাকা টমেটোর পলিথিন ছিটকে ছড়িয়ে গেলো সব।মেয়েটা চিৎকার করে উঠলো।
____”ইশশশ গেলো গেলো।
রাতুল নিজেও অপ্রস্তুত হয়েছে।ভুলটা তারই।চূড়ান্ত বিনয়ের সাথে বললো,
____”সরি সরি আমি…
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থমকালো।মেয়েটার রাগ পরে গেলো এক ঝটকায়।কাঁপা গলায় বললো,
____”আ…আপনি!”
রাতুল নিজেও চমকেছে।এটা তো সেই মেয়ে।কয়েকমাস আগে ঠিক এই বাজারেই দেখা হয়েছিলো মেয়েটার সাথে।সামান্য পায়ে পা লাগায় কি ঝগড়াই না করেছিলো।পরে অবশ্য সে ঝগড়া স্থায়ী হয়নি।মেয়েটাকে বাড়ি অবধি লিফট দিয়েছিলো সে।রাতুলের মুখে হাসি ফুটলো,
____”কেমন আছো পিচ্চি?”
রিমি কিন্তু আজকে মোটেই রাগলো না বরং ফিক করে হেসে ফেললো।সেদিনের পর লোকটাকে কত খুজেছে সে!পথেঘাটে,এমনকি এই বাজারে নিয়মিত আসতো তারপর থেকে।এই কয়েকমাস আর দেখা পায়নি।নিচে ছড়িয়ে যাওয়া টমেটো গুলো দেখিয়ে বললো,
____”তুলুন ওগুলো।তারপর জবাব দিচ্ছি।”
রাতুল হাসলো।ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবগুলো টমেটো সুন্দমতো ব্যাগে পুরে এগিয়ে দিলো রিমির দিকে।
____”কেমন আছো।”
____”ভালো।আপনি…”
____”ভালোই ছিলাম।আপাতত মাথার ওপর খাড়া ঝুলছে।”
____”আমার জন্য বললেন!”
দাতে জিব কাটলো রাতুল।
____”আরে না না তোমাকে বলবো কেনো।অন্য সমস্যাায় আছি।”
____”সেটার জন্য এতো ছোটাছুটি বুঝি।”
মাথা ঝাকায় রাতুল।এদিক ওদিক বন্ধু দের খোজ করে।দুদিকে দূজন।রাতুলকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসে তারা।রিমির সাথে এতক্ষণ কথা বলায় দুজনেরই ধারনা মেয়েটা কিছু খোঁজ দিতে পেরেছে।রেদোয়ান হন্তদন্ত হয়ে ছুটো এসে বললো,
_____”পেলি বাড়ির ঠিকানা?”
রাতুল মাথা নাড়ে দুদিকে।রিমির ভ্রু কোচকানো!কারোর বাড়ির ঠিকানা খুঁজছে এরা!এই এলাকায় তার থেকে ভালো তা কে চেনে।নরম গলায় বললো,
____”কাউকে খুজছেন আপনারা?”
মাথা নাড়ে ওরা।খুঁজছে তো অবশ্যই।
____”তুমি বাড়ি যাও তাহলে হ্যা?অন্য দিন কথা হবে।”
____”কাকে খুজছেন বলুন দেখি চিনতে পারি কিনা।”
মুখ চাওয়াচাওয়ি করে তিনজন।এতো এতো বড় মানুষ রা চেনেনা।সেখানে রিমি চিনবে এটা তাদের আশাতেও নেই।নিতান্তই অনাগ্রহী গলায় রাতুল জবাব দেয়,
____”আজগর তালুকদার।চেনো?”
রিমি ফিক করে হেসে ফেলে!এটা কোনো প্রশ্ন!হাসি হাসি গলায় বললো,
____”মায়ের কাছে মামার বাড়ির গল্প করার মতো হয়ে গেলো মিস্টার…চিনবো না মানে!আমার পাশের বাসা তো।টাকলা আংকেল বলি আমরা।আমার বেস্ট ফ্রেন্ড দের ফ্যামিলি ফ্রেন্ডও।”
তিনজন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো যেনো।রাতুলের তো ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে কষিয়ে একটা চুমু খেতে।অতি উচ্ছ্বসিত হয়ে রিমির হাত দুখানা টেনে নিলো নিজের হাতের মুঠোয়।ধন্যবাদ জানাতে জানাতে মুখে ফেনা তুলে ফেললো সে।রাকিব,রেদোয়ান দুজনেই খেয়াল করলো সেটা।রাকিব তো অন্য দিকে ফিরে কনুইএর গুতো দিলো রাতুলকে।ধীর গলা বললো,
____”ছার ব্যাটা।মেয়েটো লজ্জা পাচ্ছে তো।”
রিমির মুখটা সত্যিই টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে।বেশ লজ্জায় পরেছে।দ্রুত হাত টা সরিয়ে নিয়ে মিনমিনে গলায় বললো,
____”আসুন আমার সাথে। “
রেদোয়ান এগিয়ে গেলো ওদিকে আগে।রিমির দিকে ফিরে বললো,
____”আমাদের গাড়িতে লিফট দেই?একই জায়গা তো।”
মাথা নাড়ে রিমি।দ্রুত ছোটে তিনজন।রিমির বোঝে না এতো হুড়োহুড়ির কি আছে!
______
নির্জন জায়গা হলেও বিকট আওয়াজে খানিকদূরের পাহাড়ের ঢালে অবস্থান করা স্থানীয় আদিবাসী দের কানে গেলো সেই আওয়াজ।হৈ হৈ করে ছুটে এলেন আশেপাশের মানুষজন।যতটা হতাহতর আশা করেছিলেন ততটা নয়।ট্রাকটা খাদে পরে গেছে।সুতরাং ড্রাইভার এর বেচে থাকার সম্ভাবনা একদম নেই।স্থানীয় লোকজন চিৎকার চেচামেচি করে ব্যাস্ত হয়ে গেলো অয়নকে বের করার জন্য
রক্তে ভেসে গিয়েছে আশপাশে টা।লাল একটা শাড়িতে জড়িয়ে পরে আছে নিথর একটা দেহ।লোহার একটা রড ঢুকে গিয়েছে পেটের বা পাশ দিয়ে।পুলিশ আসতে ঢের সময়।একই বিষয় অ্যাম্বুলেন্সরও।
অয়নকে দ্রুত বেগে টেনে বের করা হলো ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে।পালস চেক করলো তারা।বেঁচে আছে।অতি ধীর গতিতে চলছে।চোখাচোখি হলো স্থানীয় মানুষদের মধ্যে।অভিজ্ঞ কিছু মানুষ চোখের পলকে টেনে বের করে ফেললেন পেটের রডখানা।এক পৌঢ় মহিলা এগিয়ে দিলেন তার মাথায় বাধা তাদের পোষাকের ওড়নাটা।শক্ত করে বাধা হলো পেটে সেটা।রক্ত পরা থামছে না।লালা শাড়িটির ছেড়া অংশ দিয়ে আরেকদপা বাধা হলো জায়গাটা।ধরাধরি করে কয়েকজন দ্রুত তুলে ফেললো গাড়িতে।
আধঘন্টার মধ্যে ভর্তি করা হলো স্থানীয় এক হাসপাতালে।
ডাক্তার মিরাজ গতমাসেই পোস্টিং নিয়েছে এই এলাকায়।নেন নি যদিও। শাস্তি সরুপ দেওয়া হয়েছে আরকি।এইমাত্র এক ক্রিটিকাল অপারেশন শেষে বের হতেই নার্সরা হুড়মুড়িয়ে নিয়ে ঢুকলেন কঠিন অ্যাক্সিডেন্ট এর এক রুগীকে।চিৎকার এ ছুটে এলেন ডাক্তার মিরাজ। রুগীর মুখের দিকে তাকিয়ে রক্তশূণ্য হলো তার মুখ।চেঁচিয়ে উঠলেন,
____”অয়ন!”
____”স্যার অবস্থা ক্রিটকাল।পেটের ভিতর রড ছিলো।স্থানীয় মানুষ বের করেছে।প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। পালস মাঝেমাঝেই পাওয়া যাচ্ছে না।”
ডাক্তার মিরাজ প্রফেশনালি খুব দ্রুতই কাটিয়ে উঠলেন তার হতবিহ্বলতা।নার্সদের পেশেন্ট নিয়ে আসতে বলে ছুটলেন ওটির দিকে।ঢোকার আগে চিৎকার করে বাইরে তার অ্যাসিসটেন্ট কে বললেন,
____”অয়ন মেহনাজ চৌধুরি.. ঢাকায় আকাশকে খবর দাও।চেনো তো?”
সজোরে মাথা নাড়লো লোকটা ছুটলো খবর দিতে।
_____
আকাশ সৌমির বাড়ি গিয়ে বহাল তবিয়াতে অতি স্বাভাবিক অবস্থাতেই পেলো সৌমিকে। বহা বাহুল্য সে অয়নকে নিয়ে একটা শব্দও জানালো না।পুলিশকে এদিকে খোঁজ করতে বলে আকাশ নিজের গাড়ি ছুটিয়েছে। এখন শিয়ার কাছে যাওয়ার জন্য। অয়নকে এদিকে পুলিশ খুঁজতে থাকে,শিয়াকে ওই ঝামেলা থেকে উদ্ধার করা জরুরি।ফোন বেজে উঠলো তার।ব্যাস্ত হাতে ইয়ারপডস কানে গুজলো সে।ওপাশ থেকে শোনা গেলো এক অচেনা ব্যাক্তির অতি উত্তেজিত কন্ঠস্বর।শব্দ করে গাড়ি ব্রেক করলো আকাশ।শ্বাস আটকে থমকে রইলো সামনের দিকে।শূন্য রাস্তা প্রায়।চোখ জ্বালা করছে আকাশের।ড্রাইভিং হুইলে রাখা হাতটা নিঃশক্তি অনুভব করলো সে।ছেলেটা অয়নের অ্যাক্সিডেন্ট এর খবর জানিয়ে ফোন কাটলো।মিনিটখানেক পর হুশ এলো আকাশের।লোকেশন তো কাছেই!হসপিটাল এখান থেকে খানিকটা পথ।কাঁপা হাতে ড্রাইভিং করতেই দশ মিনিট পরেই তার গাড়ি পৌছুলো অ্যাক্সিডেন্টের জায়গায়।ভাঙ্গা গাড়ির অংশ সরিয়ে নিতে ব্যাস্ত পুলিশের লোকজন। গোটা রাস্তা রক্তে ভাসা।থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো আকাশের গোটা দেহ।ভাইয়ের অবস্থা কল্পনা করে মাথা কাজ করছে না তার।রাতের আদার নেমেছে।পনেরো মিনিটের মাথায় সে এসে পৌছুলো হসপিটালে।কোনোমতে গাড়ি রেখে ছুটলো সে।
রিসিপশনে এসে হন্তদন্ত কন্ঠে শুধালো পেশেন্ট এর কথা।দেখিয়ে দেওয়া হলো অপারেশন থিয়েটার।বিধ্বস্ত চেহারায় ধীরে পা এসে স্থির হলো অপারেশন থিয়েটার এর সামনে।দরজার সামনে দাড়িয়ে দৃষ্টি রাখলো স্বচ্ছ কাজের ওপর। ভিতরে নিথর হয়ে পরে আছে অয়ন।মুখে অক্সিজেন মাক্স লাগালো।বেশ কয়েকজন ডাক্তার ব্যাস্ত ভাবে এটা সেটা করছে।দু হাত অসহায় এর মতো দরজায় রেখে করুন চোখে দেখলো ভাইকে।ফোন বের করে কল করলো রাতুলকে।জানালো সব।
______
শিয়াকে সাজানো হয়েছে।গায়ে জড়ানো হয়েছে লাল একটা বেনারসি।প্রিয়াও নিজের জন্য বরাদ্দ পেষাকখানা পরে অসহায় এর মতো বসা।শিয়া ড্রেসিং টেবিল এর সমানে বসা।ধীর গলায় বললো,
____”আপনারা এখন যান।আমি ওয়াশরুমে যাবো।প্রিয়ার সাথে একটু পর আসছি।”
ঘর ফাঁকা হলো খুব দ্রুতই। নিচ থেকে তাড়া দেওয়া হচ্ছে কনে কে দ্রুত নিয়ে নামতে।দরজার ছিটকিনি আটকে শিয়া ছুটে এলো বোনের দিকে।
____”অয়ন…অয়ন..আর কল করেছে?”
হতাশ মাথা নাড়ে প্রিয়া
___”আকাশ?”
প্রিয়া চমকায়।তার ফোন টা কোথায়!সে তো শিয়ার ফোনটা হাতে নিয়ে বসা।ফোনটা ভাঙা।বন্ধ হয়ে আছে।তার টা কোথায়।হন্তদন্ত হয়ে এদিক সেদিক খুঁজলো নিজের ফোনটা।বালিশের তলায় পেলো।ফোন চালু করতেই নজরে এলো প্রায় শ খানেক মিসড কল।রাতুল,রাকিব,রেদোয়ান এমনকি রিমিরও…মাথায় হাত পরলো এবার প্রিয়ার।বোকার মতো ভাঙা জিনিস হাতে বসে আছে সে।প্রিয়া ব্যাস্ত হাতে ধরলো শিয়ার দিকে।
____”কল কর রাতুলদের।জলদি।”
প্রিয়া মাথা নেড়ে কল ব্যাক করে সর্বপ্রথম রাতুলকেই।রাতুল বোধহয় ফোনটা হাতে নিয়েই ছিলো।এক রিং হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ হলো।
____”প্রিয়ু ঠিক আছো বোন তোমরা?”
কেঁদে ফেললো প্রিয়া রাতুলের এহেন আদুরে গলায়।ফুঁপিয়ে উঠলো।
____”ভাইয়া আপনারা কোথায় সবাই।”
____”তোমরা কোথায়?এখনো তালুকদার বাড়িতে?”
প্রিয়া হতভম্ব হয়।রাতুল রা জানলো কি করে!
____”জ্বী ভাইয়া।”
____”আমাদের তো ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না প্রিয়া।”
____”এখন কি করি ভাইয়া?”
রাতুল নিজেও হতাশ চোখে তাকায় পাশে থাকা রাকিব আর রেদোয়ান এর দিকে।তারা এখানে এসেছে প্রায় পনেরো মিনিট।কোনোকিছু করেই ভিতরে ঢুকতে পারছে না তারা।রিমি কে গাড়িতে সব ঘটনা বলেছে তারা।প্রিয়াই যে রিমির বেস্ট ফ্রেন্ড জানতে পেরে আকাশ থেকে পরেছে সবাই।কো-ইন্সিডেন্টলি মিলে গিয়েছে সবটা।তবে রিমিকে এখানে আনেনি।অযথা মেয়েটাকে বিপদের মধ্যে নিয়ে আসার মানেই হয় না।রাকিব, রেদোয়ান হালকা মাথা ঝাকিয়ে কিছু একটা ইশারা করতেই।গলার স্বর খাদে নামে রাতুলের।
_____”শিয়া কোথায় প্রিয়া?”
_____”আপু আর আমি একসাথেই।পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমাদের নিচে নিতে আসবে।বিয়ের জন্য। “
আৎকে ওঠে রাতুল।পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিয়ে পড়ানো হলে তার এখন কি করবে।উত্তেজিত গলায় বলে,
____”তোমরা কিছুতেই বের হতে পারবে না?”
____”অসম্ভব ভাইয়া।এখানে একটা ঘরে আটকে রাখা হয়েছে আমাদের এমন অবস্থা। আসার পর এ ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি।এমনকি মা-বাবার সাথে ও দেখা করতে দেওয়া হয়নি।”
চমকে ওঠে রাতুল। মেয়েদুটো মহা সমস্যা আছে।কি এক অবস্থা। অয়ন-আকাশ থাকলে এই অবস্থা হয়।চৌধুরী সাহেবদের প্রেয়সী দের আটকে রেখে অন্য জায়গায় বিয়ে! বুকের ভিতর ছটফট করে রাতুলের। অয়ন ভাইয়ের অবস্থা ক্রিটিকাল।খোদা জানে ফিরবে কিনা আর।আকাশের ওখানে থাকা ইম্পরট্যান্ট। তারা তিন তিনজন মানুষ থাকতেও যদি আকাশকেই সবদিক একা হাতে সামলাতে হয় তাহলে তারা আর কিসের বন্ধু!
____”প্রিয়া।এখন আমি যা বলবো।চুপ করে শুনবে হ্যা?কোনোরকমের রিঅ্যাক্ট করবে না।কি বলছি সেটা যেনো শিয়া টের না পায় হুম?”
প্রিয়া অবাক হলেও ছোট্ট করে স্বীকার করে,
____”হুম।”
রাতুল জোরে জোরে শ্বাস নেয়।চোখ জ্বলছে তার।কাঁপা গলায় বলে,
____”অয়ন ভাইয়ের একটা মেজর অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে প্রিয়া।তোমরা ভাই না আসার কারণে ভুল বুঝছো।ভাই হসপিটালে মৃত্যুর সাথে….
এবার সত্যিই কেঁদে ফেললো রাতুল।রাকিব,রেদোয়ান ও চোখ মুছছে।প্রিয়া শ্বাস নিতে ভুলে গেলো যেনো।পাশের টেবিলের কোনা আকড়ে দাড়ালো।ঘোর অন্ধকার নামছে ধরনীর বুকে। দূরে শেয়াল ডাকছে।গা ছমছম করে উঠলো প্রিয়ার।
রাতুল দম নিয়ে বললো,
____”বের হতে হবে তোমাদের। পালাতে হবে।পারবে?”
প্রিয়া বাকরুদ্ধ এই মূহুর্তে। কি বলবে বুঝে উঠতে পারে না।শিয়া হাত থেকে ফোন কাড়ে।
____”রাতুল…আমি… আমি…তোর ভাই আসছে না ক্যানো হ্যা?আমি কি এই ছেলেটাকে বিয়ে করে নেবো নাকি!কি করবো বলনা।”
____”পালাতে পারবি?”
শিয়াও থমকায়।মুখের সামনে ভেসে ওঠে বাবা মার মুখ।
____”পালাবো মানে!”
____”আমরা গেটের সামনে।ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।তোদের বের করার এর থেকে আর কোনো ভালো উপায় নেই।”
শিয়া ধপ করে বিছানার কিনারায় বসে।ধরা গলায় বলে,
____”কার জন্য পালাবো?তোর ভাই তো আমাকে…
____”ভাই তোকে চায় শিয়া।আয়।সব বলবো।”
____”তোর ভাই আসলো না কেনো।”
____”সব জানাবো শিয়া।তুই রাজি।”
বোনের দিকে ছলছল চোখে তাকালো শিয়া।প্রিয়া মাথা নেড়ে আস্বস্ত করে বোনকে।সে তো অন্তত জানে অয়ন ভাইয়ের অবস্থা। শিয়াকে তো এই মূহুর্তে জানানো জাবে না।মরে যাবে মেয়েটা।
শিয়স ব্যাস্ত গলা বলে,
_____”পিছনের দিকে আয়।আমরা নামছি।”
ফোন কেটে হন্তদন্ত হয়ে দু বোন এসে দাড়ায় তাদের রুমের অন্য সাইটের বারান্দায়। এটা বাড়ির পিছনের দিক।নিচের দিকে তাকিয়ে চোখাচোখি হয় দু বোনের।দোতলা থেকে নামা মোটেই মুখের কথা নয়।না তো সিনেমা এটা।আধো আধো অন্ধকার এ একটু অদূরে মালির ঘরের পাশে লাগোয়া মই চোখে পরলো প্রিয়ার।বোনকে ইশারা করে চেঁচিয়ে উঠলো একপ্রকার। শিয়াও দেখেছে সেটা।তবে সেটা এ অবধি আনতে হলেও কাউকে লাগবে।দ্রুত হাতে মেসেজ পাঠালো রাতুলকে।বাড়ির পিছন সাইট দিয়ে আসতে হবে।যতদূর মনে হচ্ছে এ পাশটা পরিত্যক্ত।এ সময়ে এ পাশে কারোর আসার সম্ভবনা একদম নেই।
তালুকদার বাড়ি থেকে শিয়া প্রিয়াকে নিয়ে রাতুলদের হসপিটাল এ আসতে সময় লাগলো বিশ মিনিটের মতো।পাগলা ঘোড়ার মতো গাড়ি ছুটিয়ে এসেছে তারা।বাড়ির পিছন দিয়ে গিয়ে মই দিয়ে নামিয়েছে দু বোনকে। পুরো রাস্তা একবারের জন্যও বলা হয়নি অয়নের অ্যাক্সিডেন্টের কথা।গাড়ি হসপিটালের সামনে এসে থামতেই বড় বড় চোখ হয়ে গেলো শিয়ার।জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো রাতুলদের দিকে।ড্রাইভ করছে রাকিব।এখানে ভুলে গাড়ি থামলো কিনা সেটাও জিজ্ঞেস করলো।প্রিয়া ঠোঁটে ঠোঁট টিপে কান্না কাটকানোতে ব্যাস্ত।শিয়াকে ধরলো সে।
____”আয় নাম।”
____”এখানে কেনো।”
____”চল ভিতরে।”
শিয়া বোনের চোখের ভাষা বুঝলো কি!বুঝলো কি না বোঝা গেলো না। তবে বুকের বা পাশ টা মোচড় দিয়ে উঠলো অজানা আশঙ্কাায়।কোনো দূর্ঘটনা!না না এ কি করে হয়।হুড়মুড়িয়ে গাড়ি থেকে নামলো সে।রাকিব, রাতুল এর সাথে ছুটলো হসপিটালের ভিতরে।তিনতলার অপারেশন থিয়েটার এর সমানে এসে স্থির হলো চারজন।রেদোয়ান প্রায় সাথে সাথেই এলো গাড়ি পার্কিং করে।
আকাশ দু হাত মাথায় ঠেকিয়ে বসা।ভিতরে অপারেশন চলছে অয়নের।অবস্থা বেশ ক্রিটিকাল।এরই মধ্যে ছয় ব্যাগ রক্ত লেগেছে।আরও জোগাড় হচ্ছে।আকাশকে ওভাবে বসে থাকা দেখে পা টলে উঠলো শিয়ার।প্রিয়া আকড়ে ধরলো বোনকে।
____”আকাশ…”
শিয়স কন্ঠে চমকে মুখ তুলে তাকালো আকাশ।ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে বুকটা কাঁপলো প্রিয়ার। অপরাধবোধে ভারি হলো বুক।লোকটা এত ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে!আর সে কিনা তখন এতগুলো কথা শোনালো!আকাশ উঠে এসে দাড়ায় শিয়ার সামনে।শিয়া দু হাতে খামচে ধরে আকাশের বাহু।
____”খবরদার বলবে না,ওই ঘরে তোমার ভাই।খবরদার আকাশ।”
আকাশ পাথরের মতো দাড়িয়ে শক্ত হয়ে।প্রিয়া হু হু করে কেঁদে ফেলে।রাতুল মাথা নিচু করে মুখ আড়াল করে।রাকিব,রেদোয়ান ও তাই।চিৎকার করে ওঠে শিয়া
____”ওটি তে তোমার ভাই নেই বলো?আমাকে এখানে আনলে কেনো?আমি বিয়ে থেকে পালিয়ে এসেছি তোমাদের সাথে মশকরা করতে?তোমার ভাইকে ডাকো।আজকে বিয়ে করতে হবে আমাকে।ও কোথায় আকাশ?”
আকাশ এক হাতে আগলে নেয় শিয়াকে।মাথায় হাত বুলায়।
____”শান্ত হও শিয়া।ভাই আছি তো।”
শিয়ার সন্দেহ এবারে প্রমানিত। অয়ন তারমানে…।ছিটকে সরে আসে আকাশের থেকে।ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ছোটে ওটির দরজার দিকে।কাচের সামনে যেতেই স্তব্ধ হয় শরীর।জোরেশোরে কাঁপুনি দিয়ে ওঠে।আপাদমস্তক রক্তে মাখামাখি ভিতরের মানুষ টার।বাইরের নার্সরা দ্রুত সরিয়ে আনতে উদ্যত হয় শিয়াকে। শিয়া তখন প্রায় উন্মাদ।তার পাগল প্রেমিকটা রক্তে মেখে শুয়ে আছে নিথর হয়ে।
____”আ..আমি ভিতরে যাবো।আকাশ আমাকে ভিতরে যেতে দিতে বলো।তোমার ভাই..ও আমাকে..আমি..আকাশ..দিতে বলো।”
শিয়া দু দুজন নার্স থেকে ছাড়ে পেয়ে ভিতরে ঢুকতে মরিয়া।আকাশ, প্রিয়া দুপাশ থেকে আগলে নেয় বোনকে।শিয়া চিৎকার করে যাচ্ছে।
উন্মাদের মতো আকাশের হাত ছোটাতে চায়।
____”ছাড়ছো না কেনো আকাশ?তোমার ভাই…আমার অয়নটার…আমার অয়ন টার বুক…বুকের পাজর গুলো ভাঙা…আকাশ..এর আগের অ্যাক্সিডেন্টে। “
কান্নায় কথা জড়িয়ে আসছে। চিৎকার করে কাঁদছে শিয়া।মেঝেতে বসে পরে পাগলের মতো হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে।প্রিয়া হুড়মুড়িয়ে হাটু ভেঙে বসে বোনের মাথা শক্ত করে চেপে ধরে বুকে।কোনো কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না শিয়া।
____”আগের বার আ..আ..আমি ছিলাম না কাছে।যতবার, যতবার ওর বুকের ওই ক্ষতবিক্ষত দাগ দেখি আমার কলিজা পুরে যায়।আজ…আজ আবার…আমি মরে যাবো।এই আকাশ…তোমার পাগল ভাইকে ফিরতে বলো।আমাকে রেখে ও চলে যেতে পারে না।এতো বড় বেইমানি করতে পারে না।আমাকে…আমাকে…একটা সংসার…আমার সংসার লাগবে।তোমার ভাইয়ের সাথে। না দিয়ে যেতে ওকে মানা করো।অ্যাই আকাশ…”
আকাশও হাটু ভেঙে বসে শিয়ার হাত চেপে শান্ত করার চেষ্টায় মগ্ন।শিয়া কারোর এসব শান্তনায় মোটেই থামছে না।এদিকওদিক খোঁজে সবাইকে,
____”অ্যাই প্রিয়ু,বোনরে।তোর ভাইকে ডাক।তোর বেইমান ভাইকে আসতে বল…রাতুল…অ্যাই রাকিব।তোদের ভাই আমার চোখের পানি তো সহ্য করতে পারেনা।আজ এতো পাষান হলো কি করে..!”
শিয়ার বুক ফাটা আর্তনাদে কাঁদছে সবাই।হসপিটালে উপস্থিত বাকি মানুষ অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে অপারেশন থিয়েটার এর দিকে।লাল বেনারসি তে এক বিয়ের কনে বসে এমন আর্তনাদ করছে।বুঝতে বাকি নেই কারোর আর।কমবেশি সবার চোখেই পানি।খোদাকে ডাকতে ব্যাস্ত চেনা -অচেনা সকলেই।
ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন এক ডাক্তার।প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে শিয়াকে আগলে রাখতে বলে আকাশরা ছুটলো সেদিকে।শিয়াকেও আটকে রাখা গেলো না। সেও ছুটে এলো সেদিকে।ডাক্তার মলিন মুখে বললো,
____”অপারেশন শেষ। তবে পেশেন্ট এর অবস্থা ক্রিটিকাল। পালস রেট একদম লো।জ্ঞান না ফেরা অবধি বলা যাচ্ছে না।তবে যে কন্ডিশন। স্থানীয় লোকজন খুব দ্রুত এনেছে বলে তাও হয়তো এতটকু সময় আমরা পেলাম। সামনে বলতে পারছি না।খোদাকে ডাকুন।তবে…
চুপ করলেন ডাক্তার।একনজর চোখ বোলালেন শিয়ার দিকে।বিয়ের সাজে বিধ্বস্ত এক রমনী।আকাশের দিকে তাকিয়ে হতাশ গলা বললেন,
____”সরি টু সে মিস্টার চৌধুরী। আমি বলবো পরিবার কে খবর দিন।কেউ… শেষদেখা দেখতে চাইলে আসতে বলুন।আমাদের মেডিকেল সাইন্স অনুযায়ী ওনার হাতে সময় আর নেই।এর মধ্যে ভুলেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে… আমাদের হাতে কিচ্ছু থাকবে না।”
ডাক্তার কথায় বজ্রপাত হলো সবার মাথায়।থরথরিয়ে কেপে উঠলো আকাশ।কয়েকটা পিছিয়ে হুড়মুড়িয়ে মেঝেতে বসে পরলো শিয়া।মাথার খোপা করা চুল খুলে গিয়েছে বহু আগে।মুখের সাজসজ্জা লেপেটে মুখের আদল নষ্ট করে দিয়েছে।চূড়ান্ত বিধ্বস্ত এক রমনী শ্বাস নিতে ভুলে গেলো।প্রিয়া শব্দ করে কেদে জড়িয়ে ধরলো বোনকে।হাসপাতালে একই সময় হুড়মুড়িয়ে প্রবেশ করলো শিয়ার বাবা মা সহ তালুকদার বাড়ির বেশ কয়েকজন। তাদের খোঁজ করতে করতে চলে এসেছে তারা।রেনুকা রহমান পাগলের মতো ছুটে এসে বুকে আকড়ে ধরলেন দুই মেয়েকে।শিয়া মুখ তুলে পরখ করলো হতবিহ্বল এর মতো সবাইকে। মায়ের গায়ের গন্ধ পেতেই বুকটা একটু হলেও শীতল হলো তার। মাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে বুকে মুখ গুজলো,
____”মা… বাবাকে বলবে আমি অয়নের।বলবে কেমন?আমার অয়ন…আমার অয়ন সেদিন কিচ্ছু করেনি।আমাকে বাচাতে গিয়ে ওর বুকের…ওর বুকের চারটে পাজর ভেঙে গেছিলো।আজকেও তাই মা…আমার কাছে আসতে গিয়ে।আমার জানটা আজ…আজও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।”
রেনুকা রহমান ঝরঝরিয়ে কেঁদে বুকে চেপে রাখলেন মেয়েকে।চুমু খেলেন মেয়ের মাথায়।
____”আল্লাহ ফিরিয়ে দেবে মা।দেবে…কেড়ে নেবেন না।আমাদের দোয়া আছে তো।অয়ন ফিরবে মা।”
শিয়া মায়ের বুক থেকে মুখ তোলে না।কান্না কেমন বন্ধ হয়েছে হঠাৎ। দু হাত অসাড় হয়ে মেঝে ছুয়ে আছে।
____”আমি কিন্তু অয়নের সাথেই সংসার করবো মা।পাগল একটু ছেলেটা।আমার পাগল।পাগলের মতো ভালোবাসে আমাকে।আমাকে একটা সংসার না দিয়ে ও যেনো পালায় না।খোদাকে একটু অনুরোধ করো মা।সন্তানের জন্য মায়ের দোয়া খোদা ফেরাবে না।তুমি চাও মা।”
রেনুকা রহমান মনে মনে চিৎকার করে।ডাকছে খোদাকে।আনিসুল রহমান ছলছলে চোখ নিয়ে মূর্তি হয়ে দাড়ানো।মেয়ের এই অবস্থার জন্য আজ সে দায়ী নয় কি!অপরাধবোধে মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।হাসপাতাল জুড়ে মানুষ করুন চোখে পরখ করতে ব্যাস্ত তাদের। আকাশের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে।আসতে সময় লাগবে তাদের।আকাশ নিজেও হতবিহ্বল হয়ে দাড়ানো।এর আগে কখনো এতটা অসহায় লাগেনি নিজেকে।চোখের সামনে ভাইয়ের নিথর দেহ,শিয়ার আর্তনাদ। তার মতো শক্তপোক্ত পুরুষ হৃদয়েও কম্পন ধরিয়ে দিচ্ছে।
ডাক্তার মিরাজ অপারেশন কেবিন থেকে বের হলেন আরও আধঘন্টা পর।সবাই চাতক পাখির মতো অপেক্ষায়।বেড়িয়েই চোখ পরলো বাইরে অপেক্ষমান সবার দিকে।আকাশের দিকে চোখাচোখি হতেই এগিয়ে এলো আকাশও।আকাশ ব্যাস্ত গলায় বললো,
____”ভাইয়ার কি অবস্থা মিরাজ ভাই।”
মিরাজের মুখ অস্বাভাবিক কালো হয়ে আছে।আকাশের কাধে আলতো হাত রাখে।ধীর গলায় বলে,
____”পরিবার এর সবাই এসেছে?”
বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দ অগ্রাহ্য করে আকাশ ধীর গলায় বলে,
____”আসছে।”
____”দ্রুত আসতে বল।”
___”ভাইয়া..?”
মিরাজের চোখ পরে শিয়ার দিকে।চমকে ওঠে।সে।শিয়া বিয়ের সাজে।শিয়া অয়নের প্রেমের কথা সে জানতো।ডিগ্রি নিতে বিদেশ চলে যাওয়ার পর এতবছর দেখা হয়নি কারোর সাথে। জানেও না কারোর খবরাখবর। শিয়ার সাথে অয়নের আজ বিয়ে ছিলো বুঝি!বুকটা হু হু করে ওঠে তার।
আকাশের দিকে ফিরে বলে,
____”সময় কম আকাশ।তোরা ভিতরে গিয়ে দেখে আসতে পারিস।”
শিয়াকে ইশারা করলো ড.মিরাজ।
____”আজ ওদের বিয়ে ছিলো বুঝি!”
আকাশ সত্যি টা বলে না।মাথা ঝাকায়।নিজের বুকের যন্ত্রনা অগ্রাহ্য করে বলে,
____”মেয়েটাকে নিয়ে যা ভিতরে।দেখিয়ে আন।”
আকাশ ভাঙ্গা গলায় জিজ্ঞেস করে,
____”সত্যিই কি…ভাই বাঁচবে তো?”
মিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে।অসহায় গলায় বলে,
____“খোদাকে ডাক।কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট জেনো না হয়।তাহলে যে কয়েক পার্সেন্ট পসিবিলিটি…সেটাও।যাহ ভিতরে যা ওকে নিয়ে। “
আকাশ প্রিয়াকে ইশারা করে।রাতুল,আর প্রিয়া মিলে শিয়াকে নিয়ে ঢোকে ভিতরে।অয়নের এ অবস্থা দেখে রুহ কেঁপে উঠলো প্রায় সবার।শিয়া দু হাতে মুখ চাপা দিয়ে ধরলো।থরথর করা শরীর অবশ হয়ে এলো।তবে সে অনূভুতি প্রকাশ এর সময় পেলো না। আচমকা ঝাকি দিয়ে উঠলো অয়নের শরীর।আৎকে উঠলো সকলে।ঘরের একপাশ তিনজন ডাক্তার বসা।এক ঝটকায় এসে পরলো অয়নের পাশে।
____”কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট স্টেজ।বের হন প্লিজ।নার্স ড.মিরাজ কে ডাকুন।”
রাতুল আকাশ বের হলো প্রিয়া শিয়াকে নিয়ে।শিয়া বোধহয় এবার সত্যিি বাকরুদ্ধই হবে।ছেড়ে দেওয়া শরীর আকাশের হাতের মধ্যে। কাঁদছে না একদম।।চোখের পলকে ছুটে ভিতরো ঢুকলেন ড.মিরাজ।
____”স্যার হার্টবিট নেই!”
মনিটরে এলোমেলো ওয়েভ উঠছে।হার্টবিট আছে তবে,হৃদস্পন্দন যেন ঠিক তাল খুঁজে পাচ্ছে না।খুব লো।ধরতে না পারারই মতো।ডাক্তার মিরাজ বন্ধুর এ অবস্থায় অধৈর্য হলো।কেপে উঠলো দক্ষ হাতখানা।
___”বিপি ড্রপ করছে!”
নার্স দ্রুত বলে উঠল।
ড.মিরাজ অয়নের ওপর থেকে দৃষ্টি সরালেন না।ব্যাগ্র কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
___“অক্সিজেন স্যাচুরেশন?”
___“৮২%… দ্রুত কমছে!”
___”“অক্সিজেন বাড়াও, আইভি লাইন ফ্লুইড চালাও!”
একজন ডাক্তার দ্রুত স্টেথোস্কোপ বুকে চেপে ধরলেন।তারপর হঠাৎ অয়নের মুখটা শক্ত হয়ে গেল।ঠিক তখনই মনিটরের ওয়েভগুলো হঠাৎ উন্মত্তভাবে কাঁপতে শুরু করলঅনিয়মিত, বিশৃঙ্খল।
____“ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশন!”
ডাক্তার মিরাজ চিৎকার করে উঠলেন।
ঠিক তার সাথেসাথেই শব্দ হলো একটা।একদম পরের মুহূর্তেই হওয়া ছোট্ট একটা শব্দের সাথে বাইরে দরজার সমানে ভাবলেশহীন চোখে তাকানো নববধূর সাথে দাড়িয়ে থাকা এক অসহায় রমনীর শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো
____”বিপ…….
মনিটরে আঁকাবাকা ওঠা-নামা করতে থাকা লাইনটা সোজা হয়ে গেল।এক সেকেন্ডের নিস্তব্ধতা বিরাজ করলো অপারেশন থিয়েটার জুড়ে।বাইরে প্রিয়া খামচে ধরলো আকাশের বাহু।বুকের ভিতরের রক্তক্ষরণে দাড়িয়ে থাকা কষ্টকর হলো আকাশের।রেনুকা দহমান অনবরত দোয়া কালাম পরে যাচ্ছেন বড় মেয়েকে আকড়ে।শিয়ার মির্বিকার দৃষ্টি ভিতরে শুয়ে থাকা তার উন্মাদ প্রেমিকটার দিকে।তার না হওয়া সংসার ভেসে উঠলো চোখের সমানে।
চিৎকার করে উঠলো ডাক্তার মিরাজ…
___“কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট!সিপিআর শুরু করো।এখনই!”
অন্য একজন ডাক্তার দ্রুত বুকের মাঝখানে হাত রেখে কম্প্রেশন শুরু করলেন।নির্দিষ্ট রিদমে চাপ দিতে থাকলেন।
___“ডিফিব্রিলেটর আনো! দ্রুত!”
নার্স দৌড়ে গিয়ে মেশিনটা নিয়ে এলো।আরেকজন নার্স দ্রুত হাতে অয়নের বুকের ওপরের কাপড় কেটে ফেলল। ঠান্ডা জেল লাগিয়ে দুই পাশে প্যাড বসানো হলো।একটা ডানদিকে, আরেকটা বাম পাশের নিচে।
ডাক্তার মিরাজ আরেকদফা চেঁচিয়ে উঠলো,
___“রিদম চেক!”
___“শকেবল,ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশন কনফার্মড!”
___“চার্জ—২০০ জুল।”
যন্ত্রটি হালকা গুঞ্জন তুলেছে এরইমধ্যে। ঘরভর্তি ডাক্তার সবাই নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে একপ্রকার। বাটন চাপা হলো যন্ত্রটির।
অয়নের শরীরটা হঠাৎ শক্ত হয়ে উঠলো।ঝাঁকি দিয়ে উচু হয়ে গেলো স্ট্রেচার থেকে।কেঁপে উঠল হাতের আঙুলগুলো।
লাইনটা একবার কেঁপে উঠল… তারপর আবার বন্ধ হলো।ডাক্তার মিরাজ চিৎকার করেই যাচ্ছেন উত্তেজিত কন্ঠে,
____“পালস নেই! সিপিআর…”
আবার বুক চাপ শুরু করলেন দায়িত্বে থাকা ডাক্তারসাহেব।
___“এপিনেফ্রিন ১ মিগ্রা IV পুশ!”
মনিটরে সোজা লাইনটা একবিন্দুও নড়লো না।ড. মিরাজ গোটা জীবনে এত অসহায় অনূভব করেননি কখনো।থরথর করে কাপলো হাত।পাশ থেকে একই কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলেন অন্য এক দক্ষ ডাক্তার।
____”নো পালস।”
আর একমুহূর্ত সেখানে দাড়াতে পারলো না আকাশ।পিছিয়ে শব্দ করে ধাক্কা খেলো দরজার সাথে…
শিয়া হেসে উঠলো খিলখিল করে আচমকা।রেনু, প্রিয়া,রাতুল মিলে দরজা থেকে সরিয়ে আনলো তাকে দ্রুত।মেঝেতে ধপ করে বসে পরলো সে।
হাসতে হাসতে মাথা এলিয়ে দিলো প্রিয়ার বুকে।শূন্যে দৃষ্টি রেখে চিৎকার করে উঠলো,
____”শেষমেশ ফাঁকিই দিলে চৌধুরী সাহেব! হুম?এ জনমের মতো ফাঁকি বুঝি!”
খিলখিল করে হেসে উঠলো আবার।গোটা হসপিটালের মানুষ জমা হয়ে গিয়েছে একপ্রকার। বলা বাহুল্য সবাই কাদছে শিয়ার অবস্থায়। শিয়া হাসতে হাসতে কেঁদে ফেললো এবারে।সাথে সাথেই শব্দ করে হেসে উঠলো,
____”কবুল,কবুল,কবুল…চৌধুরি সাহেব শুনলেন?
শিয়া উন্মাদের মতো এদিকওদিক তাকালো
সবাইকে দেখলো।
____”অয়ন মেহনাজ চৌধুরির কে স্বামী হিসেবে গ্রহন করলাম আমি।শুনলেন আপনারা হ্যা?শুনলেন তো?আমি বিবাহিত কিন্তু। বিবাহিত। ভিতরের ওই বেইমান পুরুষ টার বউ আমি।আমাকে ফাঁকি দিলো সে এ জনমে।বউ করে ঘরে তুললো না।আমাকে একটা সংসার দিলো না।পরকালে জবাব নেবো আমি তার।দিতেই হবে এইজন্মে বেইমানির কারণ কি ছিলো।উঠতে বসতে বলতো শিয়া..চলো বিয়ে করি।বিয়ে করি।সব মানিয়ে নেবো আমি…আজ দেখুন…দেখুন আমাকে।আমি লাল শাড়ি পরে বসে আছি।কবুল করলাম তাকে।সে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো না।ধরলো না।পাষান পুরুষ আমার।পাষান………”
গলাকাটা মুরগীর মতো ছটফট করে উঠলো শিয়া।হা করে শ্বাস নিলো জোরে জোরে।আবার বলে উঠলো,
____”অয়ন…কবুল কিন্তু… কবুল তোমাকে… কবুল তোমার দেওয়া শূন্যতা…কবুল তোমার দেওয়া অপূর্ণতা। কবুল আমাদের না হওয়া সংসার…কবুল…পরকালের জন্য তোমাকে কবুল….”
অস্পষ্ট শেষ কথা গুলো বলে মূর্ছা গেলো শিয়া।নিথর হলো সেও।থেমে গেলো আর্তনাদ…
চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼🍂
[🌼কথা হলো আপনাদের কি অবস্থা জানিনা।আমি কিন্তু কেঁদে চোখ ফুলায় ফেলেছি।ক্ষমা করবেন এমন একটা পর্বের জন্য।,🙏কষ্ট লাগবে,লাগারই বিষয়।তবুও ভরসা রাখবেন কেমন?তবে তবুও কেউ না পড়তে চাইলে অনায়াসে পড়া বাদ দিয়ে দিতে পারেন…..]

