আকাশপ্রিয়া #পর্ব_৩২

0
38

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৩২(রোমান্টিক পর্ব)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত ]

ঘোর জঙ্গলেে পাহাড়ি আঁকাবাকা রাস্তার মধ্যে দিয়ে প্রায় দু ঘন্টা ধরে বাস চলছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে।ঘনঘন আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে।যে কোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে।এমন শুনশান রাস্তা পেড়িয়ে লোকালয় পেতে আর বোধহয় ঘন্টাখানেক যেতে হবে।বাইরের আবহাওয়া যথেষ্ট ঠান্ডা।দ্রুত গতি তে গাড়ি চলায় খোলা জানালা দিয়ে বাতস একদম তীরের মতো নাকে মুখে এসে লাগছে।আকাশের এবার বেশ শীত করছে।কিন্তু সে জানালা চাপাতে পারছে না।তাকে চাপাতে দেওয়া হচ্ছে না।প্রিয়া জানালা ঘেষে জানালার কাচে মাথা ঠেকিয়ে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে।আকাশ বেশ কয়েকবার উঁকি দিয়ে বাইরের সৌন্দর্য দেখতে চাইলো।কি এমন সৌন্দর্য থাকতে পারে এই ঘোর অন্ধকারে যার কারণে এই হীম করা শীতল বাতাসের মধ্যে ও জানালা আটকাতে দিচ্ছে না মেয়েটা।যতবারই বাইরে তাকিয়েছে ঘুটঘুটে অন্ধকার ছাড়া আর কিছু তার নজরে পরেনি।প্রিয়াকে এর মধ্যে দু থেকে তিনবার কাছে নিতে চেয়েছে,বুকে জড়িয়ে রাখতে চেয়েছে।মেয়েটা মোটেই কাছে আসছে না।রাগ করেছে সেটা তার মুখ ফুলানো দেখেই বোঝা যাচ্ছে।কিন্তু সেটা ঠিক কি কারণে আকাশের হিসেবে মিলছে না।আকাশ হতাশ চোখে তাকিয়ে রইলো।প্রিয়া রীতিমতো শীতে কাঁপছে। তবুও জেদের কাছে হার মানবে না।খোলা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পাখির বাসায় পরিনত হচ্ছে একপ্রকার। বাতাসের তোড়ে ফর্শা ধবধবে মুখখানা লাল হয়ে গেছে।

বিরক্ত মুখে আরও একবার বাহু ধরে টেনে আনলো এদিকে।হাত বাড়িয়ে বন্ধ করতে গেলো জানালা।সেই একই রনমূর্তি ধারন করলো প্রিয়া।আকাশের হাত তো ছাড়িয়ে নিলোই।বাচ্চাদের মতো জানালার আগলে ধরে রইলো।
আকাশের এবার নিজের ওপর বেশ মায়া হলো।ভালোবাসায় আসলে মানসম্মান থাকতে নেই।রাখতে চাইলেও থাকে না বোধহয়। পুরুষ মানুষ এর ক্ষেত্রে কথাটা আরও প্রযোজ্য। এই যেমন এ জীবনে সে কি কখনো ভেবেছিলো এরকম সাত-আট বছরের ছোট এক মেয়ের প্রেমে পরবে?ভাবেনি।
প্রেম যে তার জীবনে আসবে এটা ভাবারই বোধহয় সময় ছিলো না।তবুও সে প্রেমে পরেছে।একেবারে ভয়াবহ ভাবে প্রেমের খাদে পিছলে পরেছে।ভালোবাসি এখনো বলেনি অথচ ধুরন্ধর পাকনা মেয়েটা ঠিক সেটা ধরে ফেলেছে,এখন তাকে রীতিমতো নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর ধান্দায় আছে।না হলে আকাশ এহনাজ চৌধুরী সে কি না এইটুকুন একটা মেয়েকে দেখার জন্য রাতবিরেতে লুকিয়ে লুকিয়ে তার ঘরে উকি মারতো,অন্ধকার বিছানার পাশে মেঝেতে বসে থাকতো!হাজার হাজার মেয়ে গায়ে এসে পরতো,কখনো তাদের প্রতি কোনো কামনা বাসনা জাগেনি।অথচ এই মেয়ে তার হুশ জ্ঞান খুয়িয়ে মাতাল করে রাখে।এর সামনে এলে দিনদুনিয়া সে ভুলে বসে থাকে।হিতাহিত বোধ বুদ্ধি হারায়…একটু আগে তাদের দুজনের মধ্যে যেটা হলো।আকাশ সেটাতে প্রশ্রয় দিলো!বলা বাহুল্য এ মেয়ে সিন ক্রিয়েট এর বায়না করলো আর সে সিন রেখে পুরো সিনেমা ক্রিয়েট করে ফেললো।
তারপর কি হলো সেই মেয়েই আবার অভিমান করে গাল ফুলিয়ে বসে আছে।আকাশ এহনাজ চৌধুরী নাকি সেই রাগ ভাঙানোর উপায় হাতড়ে চলছে আসমান জমিন এক করে! ভাবা যায়!

আকাশ এবার হাত রাখলো প্রিয়ার মাথায়।শক্ত করে চেপে মুখটা ঘুরিয়ে ফেললো নিজের দিকে।প্রিয়া তাকালো না।বরং চোখ বুজে রইলো।মুখটা ফোলানো।ঠোঁটের বা পাশ টা কেটে গেছে অনেকটা,লাল হয়ে ফুলে আছে।কিছুক্ষণ আগে ওই অধর দুটোর ওপর তার তোলা ঝড়ের কথা মনে পরলো।আকাশ মৃদু হাসলো।তবে সযত্নে হাসি টুকু আড়াল করে গম্ভীর গলায় বললো,”লুক অ্যাট মি।”

প্রিয়া মোটেই তাকালো না।মাথা সরিয়ে নিতে ছটফট শুরু করলো।আকাশের দানবীয় শক্তির কাছে সে পারলে তবে তো!
“তাকাতে বললাম তো আমার দিকে।কাটা জায়গায় আবার কামড় খেতে না চাইলে তাকাও।”

প্রিয়া ফট করে তাকালো এবার।ভয়টা পেয়েছে সত্যি। তবে চোখে চোখ রাখতে পারলো না।সে সচারাচর আকাশের চোখে চোখ রাখতে পারে না।এই যেমন এখন পারছে না।লোকটা কেমন দুষ্টু নজরে তাকিয়ে আছে।এতক্ষণ ঘটে যাওয়া সবটা যেনো ভাসছে সেই চোখে।সে চোখে প্রিয়া কিভাবে তাকাবে।তারমনেও তো একই জিনিস রয়েছে।সরছেই না।তাকালে আবার লোকটা পড়ে ফেলে যদি।

আকাশ মাথা হেলালো পিছন দিকে।প্রিয়া ঠায় নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো।আকাশের গম্ভীর কন্ঠ আরও গম্ভীর শোনালো।
“তাকাতে বলছি না?”
প্রিয়া এতক্ষণ পর এবার মুখ খুললো।খুব রেগে কিছু বলতে চেয়েছিলো।কিন্তু হলো ঠিক তার উল্টো।কথা গুলো জড়িয়ে গেলো।মিনমিন এ গলায় বললো,”শুনছি তো।”
“কি সমস্যা? “
“কিছুনা।”
“চুপ কেনো?”
“এমনি।”
“কাছে আসার সখ মিটে গেছে?”

প্রিয়ার এবার রাগ হলো।হাত বাড়িয়ে ঝটকা টানে সরিয়ে দিলো আকাশের হাত।আকাশও সরিয়ে নিলো এবার।স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো।প্রিয়া অস্বাভাবিক গাল ফুলিয়ে আছে।আকাশের খুব করে ইচ্ছে করছে ফোলা ফোলা ওই গালদুটো টিপে ধরে গাঢ়ো করে কয়েকটা চুমু খেতে। কিন্তু সে ইচ্ছেটা মনেই রেখে অপেক্ষা করলো প্রিয়ার রাগ উপড়ে দেওয়ার।প্রিয়া মুখ অন্য দিক ঘুরিয়ে রাগী গলায় বললো,
“আপনি একটা নির্লজ্জ।”

আকাশ এবার আকাশ থেকে পরলো যেনো।এখন তাকে নির্লজ্জ বলা হচ্ছে? শুরু টা কে করেছিলো!কিন্তু সেটা তো বোধহয় বলা যাবেই না।যতদূর বুঝেছে সেটা বললে ম্যাডাম বাসা থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেও দিতে পারে।তাই নরম গলায় বললো,”
“আমি কি করেছি।”
“কথা বলবেন না তো।”

আকাশ চুপ করে গেলো।আকাশ এহনাজ চৌধুরী যাকে দেখে বাঘে মহিষে একঘাটে জল খায় সে কিনা একটা পুচকে মেয়ের ধমকে চুপ করে রয়েছে।
আকাশ শুকনো ঢোক গিললো।প্রেমে পরলে আর কত কিছু হয়!আলতো হাতে ঘুরালো প্রিয়াকে। নিজের বেশ আহ্লাদী গলায় বললো,”তাকাচ্ছো না কেনো?এতক্ষণ তো কথার চোটে মাথা ধরে যাচ্ছিলো।”

প্রিয়া তাকালো না।রক্তিম ফোলা মুখটা সরিয়ে নিলো আরও।ঠোঁটজোড়া তিরতির করে কেঁপে উঠলো। মেয়েটা কি লজ্জা পাচ্ছে!
“বাই এনি চান্স তুমি কি আমাকে লজ্জা পাচ্ছো?”

মোক্ষম জায়গায় কথাটা লাগলো। এই ভয়টাই পাচ্ছিলো প্রিয়া।লজ্জারুণ মুখটা আরও লাজে ভরে উঠলো।নত মস্তিষ্ক আর নত হয়ে এলো।মূহুর্তেই অভিমান ফুটে উঠলো আবারও।ঝট করে আকাশের দিকে তাকালো।তবে চোখে চোখ পরতেই সরিয়েও নিলো।আকাশের দিকে ঘুরে থেকে আকাশের হাতের দিকে নজর রাখলো।ঠোঁট উল্টিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,”কথা বলবেন না তো।নির্লজ্জ লোক।দেখুন কি করেছেন।ঠোঁট টা কেটে।ফেলেছেন।ফুলে গেছে পরো।জ্বলছে…”

বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে আঙুল দিয়ে ইশারা করে দেখালো।আকাশ এতক্ষণে সম্পূর্ণ বিষয় বোধগম্য হলো।শব্দ করে হেসে ফেলতে ইচ্ছে হলো।তবে তা সে করলো না।এমনিই কি এ মেয়ের সামনে নিজের শক্তপোক্ত ইমেজের কম দফারফা করেছে!বরং হাসি টুকু আড়াল করে আঙুল দিয়ে চিবুক উঁচু করলো প্রিয়ার।প্রিয়া উঁচু করলো ঠিকই।নজরে নজর মেলালো না।আকাশ টুপ করে কপালে একটা ভেজা চুমু খেয়ে আদুরে গলায় বলে উঠলো,”আদর চাইবে,আর আদরের এতটুকু মিষ্টি যন্ত্রণা সহ্য করতে পারবে না।এটা সম্ভব। “

ইশশ লোকটা বারবার মনে করে দিয়ে লজ্জায় ফেলে দিচ্ছে।এমনি তখন ঘোরের বশে যা করেছে আর তার ফলসরূপ যা হলো তার জন্য লজ্জায় মাটি খুড়ে নিচে চলে যেতে মন চাচ্ছে।তার ওপর লাইন বাই লাইন মনে করিয়ে দিতে তৈরি এই অসভ্য লোকটা।লোকটার মাতাল কথা কণ্ঠস্বর শুনলেই তার মাথা ঘোরাচ্ছে এখন।এই লোকটার সবকিছুতে আফিম মেশানো।আদর চেয়েছিলো,এভাবে কাটা ছেড়া করে প্রমান রাখতে বলেছিলো?
তেতে উঠলো প্রিয়া।মুখ একই রকম কাঁদো কাঁদোই এখনো।
“আপনাকে না কথা বলতে না করলাম।সবাই যখন দেখবে কি জবাব দেবো আমি।লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।”

না চাইতেও হেসে ফেললো আকাশ শব্দ করে হেসে ফেললো।প্রিয়া আর কুন্ঠিত হলো। আকাশ মুখ ঝুকালো তার দিকে।ফিসফিস করে।বললো,”এ আর এমন কি।বলবে মৌমাছি কামড়েছে।”

প্রিয়ার শক্তপোক্ত কিছু দিয়ে লোকটার মাথা ফাটাতে মন চাচ্ছে।দাত কিড়মিড় করলো।
“মৌমাছির নাম জানতে চাইলে সেটাও বলে দেবো।সবার সমানে বলে দেবো।তখন দেখবো াআপনার এই হম্বিতম্বি ইমেজ কোথায় যায়।”

প্রিয়ার বাচ্চামো কথা আকাশ বাঁকা হাসলো। দু হাতে আলতো করে চেপে ধরলো দু গাল।
“সে তুমি বলতেই পারো। জগতের সবচাইতে ভ্যাবলা পুরুষেরও দেখবে বিয়ের পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ছানা পোনা দিয়ে ঘর ভরে যায়।আর আমি তো এমন হ্যান্ডসাম, ড্যাশিং,রোমান্টিক পুরুষ।আর বউয়ের কাছে সব পুরুষই নির্লজ্জ। জগতের রীতিই এটা।না হলে জনসংখ্যা বাড়তো?”

খোদা এ কাকে পাঠালো তার জীবনে।লোকটা এতো লজ্জায় ফেলতে পারে।আগে তো বোঝেনি সে।দেখে একফোঁটাও টের পায়নি।কস্মিনকালেও না।এনাকে দিয়ে রোমান্স হবে না বলেই তো তখন ওরকম করার সাহস পেয়েছিলো।এখন দেখছে খাল কেটে কুমিড় আনেনি বরং নিজেই কুমিড়ের খালে ঝাপ দিয়েছে।
সরে যেতে মোচড়ামুচড়ি শুরু করলো প্রিয়া।
“মুখে কি আঠা লাগিয়ে চুপ করাতে হবে আপনাকে?”

আকাশ টুপ করে ঠোঁটে ঠোঁট রাখলো।কয়েক সেকেন্ড পরে আবার ছেড়েও দিলো।প্রিয়া বড় বড় চোখ করে।ফেলেছে।
“ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়ালেও চুপ হয়ে যাওয়া যায় কিন্তু। ভেবে দেখো।”

প্রিয়া আকাশের সাথে কথায় কিছুতেই পেরে উঠছে না।বারবার কথার প্যাচে ঘায়েল করছে তাকে।দুঃখে কেঁদে ফেললো প্রিয়া।আকাশ শব্দ করে হেসে জোর করে।টেনে নিলো বুকের মধ্যে। জাপটে ধরলো।প্রিয়া ছোটার জন্য জোরাজোরি শুরু করলো,কিন ঘুষি ছুড়লো আকাশের শক্তপোক্ত পেশিবহুল বুকে
আকাশ মোটেই ছাড়লো না।জড়িয়েই রাখলো।ঠোঁট ছোয়ালো প্রয়সীর চুলের সিঁথিতে।মুখ গুজেই রাখলো।সেখানে।কয়েক মূহুর্তের মধ্যে শিথিল হলো আবার প্রিয়া।থেমে গেলো নড়াচড়া। এই বুকের মধ্যে মুখ গুজে আজীবন থেকে যেতে পারবে।এত শান্তি এ জীবনে এর আগে অনূভব করেনি সে।সেই নেশাক্ত ঘ্রান
যেটা দূরে থেকে অনূভব করতো, একটু কাছে যাওয়ার জন্য বেহয়া মনটা আকুপাকু করতো।এটা সেই ঘ্রান,সেই বুক…প্রিয়া নিজেও হাত বাড়ালো।আদুরে ভঙ্গিতে জড়িয়ে ধরলো আকাশের কোমড়।ঢুকে রইলো আকাশের বুকের মধ্যে।

____

“ম্যাডাম ঘুম ভাঙ্গলো তবে অবশেষে আপনার?”
শিয়া আধোআধো চোখেই নড়েচড়ে দু হাতে জড়িয়ে ধরলো অয়নের হাত।মুখ ডললো ফোলা বাহুতে। অয়নের গলার স্বরে ঘুম ছুটে গেলো শিয়ার।হাত ছেরে সোজা হয়ে বসলো।খোপা করা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে।দু হাতে ঠিকঠাক করলো।
“মোটেই ঘুমাচ্ছিলাম না আমি।একটু চোখ বুজে ছিলাম।”
“তাই নাকি।চোখ বুজেই আড়াই ঘন্টা! বাহ্।”

শিয়া হেসে ফেললো।পর্দার দিকে ইশারা করলো।
“ওটা সরিয়ে দাও।সবাই কি ভাবছে বলতো।”

অয়ন পর্দা টা খানিক উঁচু করলো।শিয়াকে চোখ দিয়ে ইশারা করলো তাদের ডান পাশের দু সিট আগের বসা আকাশদের সিটের দিকে।
“আমরা নই শুধু।তোমার আদরের ভাই বোনের অবস্থাও একই।”
শিয়া চোখ বড় বড় করে তাকালো।আলতো থাপ্পড় মারলো অয়নের বাহুতে।
“এই পর্দা টানা বাস কেনো নিয়েছো বলোতো। কেমন একটা দেখতেই খারাপ লাগছে। “

অয়ন প্রতিবাদ করলো।”মোটেই না।খারাপ লাগবে কেনো।পর্দা টেনে দিলেই যে অন্য কিছু হয় তা কে বললো?”

শিয়া ঠোট উল্টালো!”তো হয়না?না হলেও কেমন একট াালগে না!বাইরের অন্য সিটের মানুষ কি ভাবছে বলোতো।”
অয়ন ঘেষে বসলো আরেকটু।
“কি ভাবছে!ভাবুক না।এই ধরো আমরাও তো পর্দা টেনে রেখেছি।আমাদের কিছু হয়েছে?তুমি তো ঘুমেই তলিয়ে।”

অয়নের বাঁকা কথায় মুখ রক্তিম হয়ে এলো শিয়া।
“সরো তো।”
অয়ন সরলো না।বরং আর দ্বিগুণ ঝুকলো শিয়ার দিকে।আলতো চুমু আকলো কপালে।শিয়ার মাথা টেনে নিয়ে রাখলো নিজের বাহুতে।
“আমরা বিয়ে কবে করছি?”
শিয়া শক্ত করে ধরলো অয়নকে। “দেরি আছে।”
“আমি আর অপেক্ষা করতে পারবো না।”
“এতো অধৈর্য হলে চলবে?
“ কিসের অধৈর্য? যে বিয়ে ছ বছর আগে করবো ভেবেছিলাম। হারাম ঝুলিয়ে রাখবো না বলে।সেটা আমার গলায় তাবিজ হয়ে ঝুলছে হারাম হিসেবেই।আর কত অপেক্ষা করবো।”

অয়নের বাচ্চা বাচ্চা কন্ঠে হাসলো শিয়া।মাথা তুলে চুমু দিলো অয়নের গালে।
“বাবা মা দেশে নেই। এখন কিভাবে কি করবো।”
“ওনাদের কাছে যাই চলো।অনুমতি নিয়ে আসি।”
শিয়ার মুখ শুকিয়ে গেলো এবার।মনে পরে গেলো কয়েকদিন আগে বলা তার মায়ের এই একই কথা।আজগর আংকেল ও বাবা মা কে এই একই প্রস্তাব দিয়েছে।দরকার হলে তারা যাবে, তবুও নিলয় আর শিয়ার বিয়েটা যেনো এ বছরই দিয়ে দেয়।শিয়ার আওয়াজ না পেয়ে ঘাড় বাকিয়ে তাকালো অয়ন।শিয়া পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে।
হাত বাড়িয়ে হাতের ওপর রাখলো।
“কি হলো।মজা না কিন্তু। আমার ফ্যামিলি আপত্তি করবেনা সত্যি। “
“অয়ন..আমি তোমাকে নিলয় এর কথা বলেছিলাম।”
অয়ন থমকে গেলো।ধীর গলায় বললো,”হুম।তো?”
“ওর সাথে আমার সত্যিই বিয়ে টা ঠিক…

অয়নের বুকের ভিতর টা চিনচিন করে উঠলো।নিলয়ের কথা শিয়া তাকে বলেছিলো তো।কিন্তু সে তো তা বেমালুম ভুলে বসে আছে।তার তো একটা সময় ধারনা হয়েছিলো শিয়া তাকে রাগানোর জন্য, তার ওপর রেগে ছিলো তাই ওসব কথা বলতো।তাহলে আজকে এসব বলার মানে কি।
“এখন কি করতে চাইছো?”
অয়নের কাটকাট জবাবে সোজা হয়ে বসলো শিয়া।অয়নের মুখটা গম্ভীর দেখাচ্ছে।রেগে গেছে হয়তো।
“বাবা মা কিছুতেই সেটা ভাঙ্গবে না।”
অয়ন এবার তাকালো শিয়ার দিকে।শিয়া সে দৃষ্টিতে তে রাগ দেখলো না।হতাশা দেখলো।তার বুকের ভিতরেও মোচড় দিয়ে উঠলো।চোখে পানি জমে গেলো।
অয়ন নিজেকে সামলে নিলো।দু হাতের আজলায় নিলো শিয়ার মুখটা।
“আমার ওপর ছেড়ে দাও সবটা।তুমি শুধু এবার আমাকে দূরে করে দিয়ো না।বাকিটা আমি দেখবো।কেমন?”
শিয়ার বুকের ভিতর না নিমিষেই শান্ত হলো।অয়নের এতটুকু কথায় শীতল হয়ে গেলো পুরো শরীর।

____

গন্তব্যে যখন তারা সবাই পৌছুলো তখন গভীর রাত।ঘড়ির কাটায় সময় পোনে দুইটা।আরও আগে পৌছুনোর কথা থাকলে ড্রাইভার কে রয়ে সয়েই চালাতে বলা হয়েছিলো বাস।পাহাড়ি রাস্তায়, মাঝরাতে। এদিকসেদিক হলেই গাড়ি একেবারে খাদে। কক্সবাজার এর বড় পাঁচ তারকা হোটেল গুলোর একটি বুক করা হয়েছে তাদের জন্য। “সি পার্ল বিচ রিসোর্ট “এর সামনে এসে পৌছুলো তারা।এদিকটায় আকাশ একদম পরিষ্কার। আকাশের মেঘের ছিটেফোঁটা অবধি নেই।প্রিয়ার হিসেব ঠিক।আজ সত্যিই পূর্নিমা।খোলা আকাশের নিচে চাঁদকে একদম রুপোলি থালার মতো ালগছে দেখতে।মাঝরাত হওয়া সত্ত্বেও সে আলোতে চকচক করছে সবটা।লাগেজ জিনিসপত্র ঠেলে ভিতের প্রবেশ করলো সবাই।রিসেপশন থেকে যারযার বরাদ্দকৃত রুমের চাবি নিয়ে এলো যার যার রুমে।শিয়া আর প্রিয়া এক রুম নিয়েছে ইচ্ছে করেই।যদিও তাদের ডানে বায়ের দুপাশের দুটো রুম অয়ন আর আকাশের।কয়েক ঘন্টা জার্নি করে আজ রাতের মতো ক্লান্ত সবাই।নিজেদের রুমে এসে আর এদিক সেদিক দেখাদেখির শখ হয়নি কারোরই।
বাসা থেকে নিয়ে আসা খাবার গাড়ির মধ্যে কমবেশি খাওয়া হয়েছে।এত রাত্তিরে তাই আর কিছু খাওয়ার ইচ্ছে নেই কারোরই।শরীর চলতে চাচ্ছে না আর।আপাতত ফ্রেশ হয়ে ঘুমের দেশে পারি দিতে পারলে শান্তি

___

সবার ফ্রেশ হয়ে ঘুমোতে ঘুমোতে বেশ রাত হওয়ায় সকাল সকাল প্রায় কেউই ওঠেনি।তবে প্রিয়া তার ব্যাতিক্রম।নতুন জায়গায় আসলে তার ক্লান্তি খুব কমই লাগে।রাতে ঘুম হতে চায়না,আর না সকালে বেশি বেলা অবধি বিছানায় থাকতে পারে।বেশ সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেছে তার।আলসেমি করে ইচ্ছে করেই বেশকিছুক্ষন গড়াগড়ি করলো বিছানায়।পাশ ফিরে তাকালো বোনের দিকে।বেশ নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।আজ অনেকদিন পর বোনের সাথে ঘুমালো।পুরানো দুষ্টমি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।আগে যেমনটা করতো।ফট করে ঘুমিয়ে থাকা শিয়ার নাক চেপে ধরলো।কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে বিরক্ত তে চোখমুখ কুচকে নড়েচড়ে উঠলো শিয়া।প্রিয়া খিলখিল করে হেসে উঠলো।এই কাজটা করতে তার বেশ লাগে..
দু হাতে পেঁচিয়ে বেধে নিলো লম্বা চুলগুলো।দ্রুত বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরোলো।টি শার্ট আর পালাজো পাল্টে সুন্দর একটা জামা পরে এসে দাড়ালো বারান্দায়। মুগ্ধ হয়ে গেলো সে। তাদের রুমটা ছয় তলায়।বারান্দা থেকে পুরো সমুদ্র সৈকত দেখতে পাওয়া যায়।বেশ ভোর হওয়ায় কোনো জনমানব নেই বিচে।সকাল বেলা হৃদয় ঠান্ডা করা শীতল,পরিষ্কার বাতাস,আর উঁচু থেকে সৈকত দেখা।স্বর্গীয় অনূভুতি একদম।মানুষের আনাগোনা একদম না থাকায় উত্তাল সৈকত এর ঢেউ৷ এর শব্দ গুলোও খানে এসে বাজছে।
প্রিয়া দু হাত ছড়িয়ে চোখ বুঝে লম্বা শ্বাস নিলো।আহ্ শান্তি…তার এখন খব ইচ্ছে করছে বিচে যেতে।ভাবা মাত্রই ছুটে ঢুকলো ঘরের।বেশ কয়েকবার ঠেলাঠেলি করলো শিয়াকে।শিয়ার মধ্যে ওঠার নূন্যতম লক্ষ্মণ দেখতে পাওয়া গেলো না।ঘুমিয়েছে তিনটার দিকে।জার্নি করে এসে অতো রাতে ঘুমিয়ে কিভাবে ভোর ছ টায় উঠবে।সবাই তো আর প্রিয়া নয়।মনটা তার খারাপ লাগছে।আকুপাকু করছে বাইরে যেতে।তারা যখন যাবে তখন নিশ্চয় আরও দশ জন মানুষ ও যাবে।আর সেসময় কিপরিমান মানুষ এর গিজগিজ হবে তা সে খুব ভালো করে জানে।এর মধ্যে ঘোরা যায় নাকি।শিয়াকে জাগাতে না পেরে লাফ দিয়ে নামলো বিছানা থেকে।পায়চারি করলো এদিক ওদিক।ঝট করে কিছু একটা মাথায় আসলো তার।ওড়না টা গায়ে জড়িয়ে,ফোন হাতে গুটিগুটি পায়ে বেড়িয়ে এলো ঘর থেকে।গরের চাবি একটা শিয়ার মাথার কাছে রেখে অন্য টা দিয়ে নিজে লক করলো রুম।

ধীর পায়ে এসে দাড়ালো পাশের রুমের সামনে।রুম টা আকাশের।খানিকক্ষণ ইতস্তত করলো।ডাকবে কি?আকাশও নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে।একবার নিজেকে বকাও দিলো,প্রথমদিনই এমন শখ হওয়ার জন্য
।কিন্তু মানাতে পারলো না মনকে।নক করলো রুমে।শাড়া পাওয়া গেলো না।বেশ কয়েকবার নক করলো।প্রায় মিনিট তিনেক পরে দরজা খুললো আকাশ।তার বুকটা ধকধক করে উঠলো।
সাদা একটা থ্রি কোয়ার্টার ট্রাউজার পরা আকাশ।সম্পূর্ণ উদাম শরীর।চুলগুলো একদম এলোমেলো। সিল্কি লম্বা চুলগুলো কপালের ওপর পরে আছে।মুখটা ফুলে আছে।গলা শুকিয়ে আসলো প্রিয়ার।লজ্জার মাথা খেয়ে নজর বোলালো সামনের অতী সুদর্শন পুরুষের পুরো শরীরে।বরাবরের মতো আটকে গেলো তার চোখ।শিল্পি আকা খোদাই করা কারুকার্যের মতো পুরো শরীর।পরনের ট্রাউজার বেশ নামানো।পেটের সিক্সপ্যাকটা নিচের দিকে ভি শেপ হয়ে নেমে গেছে।টেনেহিঁচড়ে চোখ সরিয়ে নিলো প্রিয়া।বুকের ভিতর ঝড় বইছে।

দরজা খুলে দিয়ে একনজর দেখলো প্রিয়াকে।আধবোজা চোখ,ঘুমে কাতর বোঝাই যাচ্ছে।দাড়ালো না।ঝট করে গিয়ে উপুড় হয়ে সজোরে পরলো বিছানায়।হোটেল রুমে ঝকঝকে সফেদ বিছানার ওপর আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে আছে আকাশ।প্রিয়া কি করবে বুঝতে পারলো না।কথা না বলে এরকম দরজা খুলেই গিয়ে শুয়ে পরলো।কি আশ্চর্য।

ইতস্তত করে কাঁপা কাঁপা পায়ে ভিতরে ঢুকলো সে।দরজা টা আটকে রুমের ভিতর আসলো।লাগেজটাগেজ এলোমেলো ভাবে খুলে রাখা।কিচ্ছু গোছায় নি বোঝা যাচ্ছে।রাতের পরনের জামাকাপড় গুলো চেয়ারের ওপর ছড়িয়ে রাখা।শার্ট টা তো নিচেই পরে আছে।
রুমটা অন্ধকার করে রাখা।
ঘুরে তাকালো আকাশের দিকে।হৃদপিণ্ড টা বেড়িয়ে আসলো বলে।একটা ঘুমন্ত মানুষ কে এতটা অ্যাট্রাকটিভ লাগতে পারে তার আন্দাজ ছিলো না।এর আগে সে আকাশকে কখনো ঘুমের অবস্থা টা দেখেনি।বালিশে মুখ গুজে দু হাত বালিশের ওপরে দিসে উপুর হয়ে শুয়ে আছে।পেশিবহুল বাইসেপস্ ফুলে ফেপে আছে।প্রিয়ার খেয়াল করলো এই মূহুর্তে তার শ্বাস আটকে আসছে,গলা শুকিয়ে আসছে।কি করবে বেড়িয়ে যাবে।কিন্তু সে তো ডাকতে এসেছিলো।ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে।দুরত্ব রেখে বসলো।নরম গলায় ডাকলো,”
“শুনছেন।”
আকাশের কানে কথাটা গেছে বলে মনে হলো না।প্রিয়া নিচু হলো খানিকটা।আবার ডাকলো।
“এইযে,শুনছেন।ডাকছি তো।”
“উমমমম্।”

প্রিয়ার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো।ব্যাক্তিগত পুরুষের সকাল বেলা ঘুমের ঘোরে বলা কথা,কণ্ঠস্বর দুনিয়ার সব নেশা কে হার মানাবে বোধহয়। প্রিয়ার শরীর শিওড়ে উঠলো।আবার ডাকার শক্তিই পাচ্ছে না।গলার জোর হারিয়েছে।দু হাতে মুখ ডললো।ঘামছে সে।তাকালো এসির দিকে।এসি বেশ পাওয়ারে চলছে।
“উঠুন বলছি।দেখলেন আমি, তাও এসে শুয়ে পরলেন।”
“উমমমমম্।”
আবার একই শব্দ।খুন করতে চায় সে প্রিয়াকে। নাহলে এমন করবে কেউ?
“আমি একটু বিচে যাবো।নিয়ে চলুন না।”
“উমমম্।”
এবার রেগে গেলো প্রিয়া।বারবার এই শব্দে সে খেই হারাছে কথার।মাথা ঘুরছে তার।বুকের ভিতর দ্রিমদ্রিম শব্দ দুনিয়াদারীর সবাই শুনবে আরেকটু হলে।
“এই শব্দটা একদম করবেন না।”
“উমমম হুমমমম।”
“আবার?না করলাম না।”
“,উমমমম।”
আকাশের মধ্যে এই শব্দ খানা ছাড়া আর কোনো শব্দের সন্ধান এই মূহুর্তে পেলো না প্রিয়া।খুব রাগ করতে চাইলো।কিন্তু ওই মুখটার দিকে তাকাতেই সব রাগ কর্পূরের মতো উবে গেলো।খানিকটা ঝুকে কপালের ওপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিলো সে।এখন ঠিক আছে,মুখটা সুন্দর মতো দেখতে পাচ্ছে।অবশ্য ওভাবেই বেশি কুল লাগছিলো।প্রিয়া হাসলো আনমনে।এলোমেলো করো দিলো আবার চুলগুলো। সেই চিরাচরিত দুষ্টুমি টা করে বসলো।নাক চেপে ধরলো আকাশের।কিন্তু শিয়ার মতো এতো দ্রুত নড়াচড়া করতে দেখা গেলো না আকাশকে।দ্রুত কেনো নড়াচড়াই করতে দেখা গেলো না।
প্রিয়া অবাক হয়ে গেলো।এ কি কথা।এতক্ষণ শ্বাস আটকে রাখার পরও এ লোক কিছু বলছে না।মানুষ না কি জিন টিন! আবার চেপে ধরলো,এবার আরও কতক্ষণ ধরে রাকলো।এবারও হতাশ হলো।মরা মানুষ এর মতো পরে থাকে।বেচেটেচে আছে তো নাকি!শ্বাসটাশ কি নেয় এ লোক?
নিচু হয়ে আঙুল এগিয়ে নিলো শ্বাস পরীক্ষা করতে এখন তো দিব্যি স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিচ্ছে। তাহলে অতক্ষণেও হাপায় না কেনো।
চিন্তার মাঝেই হুট করে শোনা গেলো আকাশের ঘুম জড়ানো কন্ঠ,”আমাকে কি তোমার এতো কম জোরের মনে হয়?হুমমম?আমি এতো সহজে হাঁপাই?আমার দম এত সহজে ফুরায় না।বিষয়টা মাথায় ঢুকিয়ে নাও।মেন্টালি নিজেকে প্রিপেয়ারড ও করে নাও।পরে না হলে নিজে হাঁপাবে আর আমাকে বকাবকি করবে,না হাঁপানোর জন্য। ছোট্ট মানুষ, জোর,দম দুটোই দূর্বল,আমাকে সামলাবে কি করে।”

একে-তো নেশাক্ত কন্ঠ তার ওপর এত গভীর কথা।প্রিয়ার মাথায় কথাটা যেতেই ছিটকে সরে আসতে চাইলো।তবে ততক্ষণে হাত আকড়ে ধরেছে কেউ একটা।কিছু বুঝে ওঠার নিজেকে আবিষ্কার করলো আকাশের সুঠাম, উন্মুক্ত বুকের নিচে।খিঁচে চোখমুখ বন্ধ করে ফেললো।আকাশ দু হাতের কনুইএ ভর দিয়ে আছে।প্রিয়ার বিড়ালের বাচ্চার মতো তুলতুলে শরীরটা আকাশের প্রশ্যস্ত চওড়া শক্তপোক্ত শরীরের নিচে এতটুকুই লাগলো।আকাশ ঘুম ঘুম সরু চোখে তাকালো। প্রিয়া এখনো চোখ বুজে আছে।নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে।কাঁপছে মেয়েটা।প্রিয়া মোটেই এরকম টা হতে পারে বলে আশা করেনি।আকাশ দুষ্টু হাসলো।নাক ডললো প্রিয়া নাকের সাথে। অস্বাভাবিক ঝাকি দিয়ে উঠলো তার ছোট্ট শরীরখানা।আকাশ বেশকিছুক্ষন ঘোর লাগা চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইলো।মুখ নিয়ে এলো প্রিয়ার কানের কাছে।
হাস্কিস্বরে বললো,”এই সময় টা পুরুষ মানুষের জন্য খুব ঝামেলাকর।জানো কেনো?সকাল সকাল অনেক কিছুই মন চায়।মন টা না চাইলেও শরীরটা চায়।বিদ্দ্রোহ শুরু করে শরীরটা।কেউ যদি ইচ্ছে করে সে বিদ্রোহে শহীদ হতে আসে তাকে কি করা উচিত?ছেড়ে দেয়া উচিত। বলো?”

প্রিয়া কি বলবে।স্পষ্ট বুঝতে পারছে আকাশের কথার ইঙ্গিত। মটকা মেরে পরে রইলো।

“ভালোয় ভালোয় চাইছিলাম স্থির থাকো।থাকলে না।দূরে থেকেই পাগল করো,তার ওপর ছোঁয়াছুয়ি শুরু করে দিলে।আমার দোষ আবারও?”

প্রিয়া মাথা নাড়লো দুদিকে।তাকাতে পারচে না। দোষ তো তারই।সত্যিই তো।
আকাশের অস্থির লাগছে।প্রিয়ার শরীরের ঘ্রানে।একই অনূভুতি প্রিয়ারও হচ্ছে বইকি।আকাশ প্রিয়ার বা পাশে শুলো।হাত রাখলো প্রিয়ার মাথার ওপর।খানিকটা মাথা টা টেনে মুখ ডুবালো প্রিয়ার খোলা চুলে।ঘ্রান টেনে নিলো।প্রিয়া রোবটের মতো শক্ত হয়ে পরে আছে।নড়তে পারছে না,শক্তিও নেই।
আকাশ হুট করে সরিয়ে নিলো তার ওপর থেকে নিজের হাত।সটানে চিত হয়ে শুয়ে পরলো।দু হাত দুদিকে ছরানো।শ্বাস নিলো জোরে জোরে।আকাশের হাত সরে যাওয়ায় ফট করে উঠে বসলো প্রিয়া।গায়ের ওড়না টা ঠিকঠাক করে নিলো।আকাশ দু হাতে চোখমুখ ডললো।

প্রিয়া তাকাচ্ছে না ভুলেও পিছনে।খোলা লম্বা চুলগুলো বিছানা ছড়িয়ে আছে।উল্টো হয়ে বসেই যে হাঁপাচ্ছে মেয়েটা বেশ বুঝলো আকাশ।

“আমার ওপর তোমার দয়া মায়া হয়না,মানলাম।কিন্তু নিজের সর্বনাশ এর কথাটাও তো ভাবতে পারো নাকি?এ অবধি কতবার সর্বনাশ হতে গিয়ে লাস্ট মোমেন্ট এ আমি ব্রেক করি। কতটা কষ্ট হয় আমার বোঝো?”

প্রিয়ার মেরুদন্ড বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে।পেটের মধ্যে হাজার একট প্রজাতির ওড়াওড়ি করছে।

“বুঝলে পাখি।আমাদের উচিত বিয়েটা করে রাখা।না হলে যে হারে জ্বালাও আমাকে।যেকোনো সময় কনট্রোল এর মাথায় বাড়ি দিয়ে আমি তোমার সর্বনাশ টা করে ফেলবো।তখন কপাল চাপড়ানো ছাড়া গতি নেই।চলো বিয়ে করে ফেলি।”

প্রিয়ার এখন কেনো জেনো কান্না পাচ্ছে। কষ্টে?আকাশ যা করলো তার জন্য? মোটেই না।এতো আদুরে ভাবে কেউ বলে বিয়ের কথা?আকাশ একই কথা আবার বলে উঠলো।এবার বেশ সিরিয়াস গলা।
“পাখি…”
“হুমমম।”
“চলো বিয়ে করে ফেলি।”
“হুমম?”
“বিয়ে করে ফেলি।আজই।করবে? “

প্রিয়ার ধৈর্যের বাধ ভাঙ্গছে।নারীত্বে নাড়া দিচ্ছে লোকটা।প্রিয়া না হয় অনেক কিছুই বোঝেনা।এ লোকটা কি বোঝে ভালোবাসার পুরুষটা যদি এভাবে তার নারীর কাছে বিয়ের আবদার করে সে নারীর মনের ভিতর কি হয় তখন?জানেনা।প্রিয়া কেঁদে ফেললো।আকাশ সে শব্দ পেলো।চমকে সোজা হয়ে বসলো।

“জানপাখি…”
প্রিয়া হঠাৎ পাশ ফিরে জাপটে ধরলো আকাশেকে।মুখ গুজলো আকাশের ঘাড়ে।এমন আদুরে ডান,কথা তার সব এলোমেলো করে দিচ্ছে।
আকাশ প্রেয়সীর আশ্চর্যতা বুঝলো।মৃদু হেসে চুমু একে দিলো ললাটে।
“এভাবে যে কাছে আসো আমার তো অন্য কিছু ইচ্ছে হয়। কি করি বলোতো।”
প্রিয়া লজ্জায় লাল নীল হতে ব্যাস্ত। মুখ তুললে নির্ঘাত মারা যাবে।
“বিয়ে করে ফেলি হ্যা?বাকিসব পরে দেখে নেবো?”
“করবো।”
“আজই।”
“উহু।আজ নয়।”
“আমি সব সামলে নেবো বললাম তো।”
“বাবা মা আমার ওপর আপসেট হবে।তাদের বিশ্বাস ভাঙ্গতে চাইনা।”
“তাদের কাছে সুন্দর মতো প্রস্তাব পাঠিয়েই তারপর ঘটা করে তোমায় ঘরে তুলবো তখন।এখন করবে বিয়ে?আমি তুমি জানবো শুধু।চাইলে তোমার বোন দুলাভাই কেও জানাবে।আর কেউ না।”

প্রিয়া এবার খানিকক্ষণ চুপ করে রইলো।আকাশের শক্তপোক্ত কোমড় আরও শক্ত করে ধরলো।বুকের মধ্যে নাক ঘষলো।ফিসফিসিয়ে বললো,”
“করবো না বিয়ে।”

আকাশ হতভম্ব হয়ে গেলো।মেয়েমানুষ এর মন বোঝা!এতো সহজ!এতক্ষণ রাজি ছিলো,এখন বলে করবে না।
“কেনো কেনো।”
“আমি আপনার কে?”
“কে মানে! “
“ভালোটালো বাসেন কি?”
“না বোধহয়।”
প্রিয়া চটে গেলো।”না? “
“ওইরকমই।”
“তাহলে সরুন।কিসের বিয়ে!ভালো বাসেন না।ভালোবাসি বলবেন না।অথচ কাছে আসলে যা ইচ্ছা করবেন।সরুন।ঘরে যাবো আমি।”
আকাশ শব্দ করে হাসলো।চেপে ধরে রইলো।
“ওরকম শব্দ তো সবাই ব্যবহার করে ম্যাডাম।সারাক্ষণ করে।কারণে অকারনে করে।ভালোবাসলেও করে না বাসলেও…আমি ওসব বলে সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না।”

প্রিয়ার মন খারাপ হলো।ভালোবাসি বলাটা সময় নষ্ট?
“আমি কেউ না আপনার।আপনিও আমার কেউ না।সরুন।”
আকাশ মাথা নিচু করে একদম প্রিয়ার কানের কাছে মুখ নামালো।ঠোঁট ছোয়ালো নরম কানে।
“কাল রাতের পর আমি তোমার কে,কি।সেটা আরও বোঝাতে হবে?”
প্রিয়া কিচ্ছু বলতে পারলো না।

“বিয়ে ছাড়া সব সময় নষ্ট ম্যাডাম…এর জন্যই তো বউ বানাতে চাচ্ছি।একদম খাতাকলমে স্ট্যাম্প মেরে,খোদার হিসেবে হালাল করে।যেখানে আপনার চোখে চোখ রেখে দু সেকেন্ড তাকালেও সাত আসমানের ওপর থেকে একজন মুচকি হাসবেন।যে সম্পর্কে দাগ নেই,ভুল নেই,পাপ নেই।
তখন না হয় রাত দিন যা শুনতে চান শোনাবো…”

প্রিয়া মুগ্ধ হয়ে গেলো।সন্তুষ্টিতে ভরে গেলো মনটা।ভালোবেসে সে ভুল করেনি। একদম করেনি।গোটা পৃথিবীতে খুঁজেও এমন ভালোবাসা সে পেতো না।পেতো কি?এই মানুষ টার প্রেমে মরণও কবুল…
“কবে থেকে ভালোবাসেন আমায়?”
আকাশ নিঃশব্দ হাসলো। “বাসিনা তো।”
“বলুন না।”
“বলবো।অন্য কোনোদিন।”
“উহু আজই।”

আকাশ প্রিয়া কে সোজা করাে বসালো।ভ্রু তুলে তাকালো।
“কি দরকার এ এসেছিলেন আগে সেটা বলুন।আমাকে পাগল করতে?”
প্রিয়া চমকে বাইরের দিকে তাকালো।সর্বনাশ।সে তো ভুলেই বসেছিলো এখানে আসার কারণ।লাফিয়ে উঠে এগিয়ে গেলো জানালার দিকে।পর্দা টেনে দিলো।আবার ছুটে এসে বিছানার ওপর তার ফোনটা তুলে নিলো।সাড়ে ছয়টা বাজে।কপাল চাপড়ালো।
আকাশ কপাল কুচকে দেখছে মেয়েটার অস্থিরতা।
“কি হয়েছে বলবেন তো।”
“আমি বিচে যাবো।চলুন না।”
“এই সাজ সকালে ঘুম ভাঙানোর কারণ এটা?”
“ওভাবে হেলাফেলা ভাবে বলছেন কেনো।আসুন দেখাচ্ছি।”

প্রিয়া দু হাত টেনে আকাশকে নিয়ে আসলো বেলকনি তে।রেলিং ধরে দাড়ালো।উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো।
“দেখছেন কি সুন্দর। “
আকাশের দৃষ্টি প্রকৃতির রুপে মুগ্ধ হওয়া এক ফুলের দিকে।প্রিয়া বাচ্চাদের মতো খুশি।
আকাশ মাথার চুল গুলো একহাতে পিছনে ঠেললো।ঘাড় ডললো নিজের।নরম গলায় বললো।
“খুব সুন্দর। একেবারে খুন হওয়ার মতো সুন্দর। “
“তাহলে চলুন না।চলুন।”
প্রিয়া আবার একই ভাবে ঠেলেঠুলে ঘরে আনলো আকাশকে।ফ্রেশ হতে পাঠালো।
খুব দ্রুত হাতে আকাশের স্যুটকেস থেকে তার জামার সাথে ম্যাচ করে একটা ন্যুড গ্রিন কালার শার্ট বের করলো।আকাশ ফ্রেশ হয়ে এসে শার্ট টা হাতে নিয়ে বিনা প্রতিবাদে পরলো।
“চলুন ম্যাডাম।”
প্রিয়াকে বলতে হলো না।সে ছুটে আগে আগে বেড়িয়ে গেছে এরই মধ্যে। আকাশ সেদিকে তাকিয়ে দু দিকে হেসে মাথা নাড়লো।পুরো বাচ্চা একটা।একে নাকি বউ বানানোর কথা ভাবছে সে।বিয়ে করে বাচ্চা মানুষ করতে হবে তার,বাচ্চার বাবা হওয়া বহু দেরি…

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼🍂

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here