#আকাশপ্রিয়া _____[পর্ব ৫০]
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ
.
গ্রীষ্মের দাবদাহে হুটহাট বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয় মোটেই। এদিকটায় তো আরও স্বাভাবিক। সপ্তাহের ছয়দিনই ভেজা আবহাওয়া থাকে। আজ প্রকৃতি বোধহয় বড্ড রুষ্ট। আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছে একদম । সেই ঝড়ের তান্ডব উপেক্ষা করে পাহাড়ের কোল ঘেষে উন্মাদ এর মতো ছুটছে কয়েকটা গাড়ি । রাত গভীর হচ্ছে, সাথে বৃষ্টিও। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আকাশ এহনাজ এর মনের ঝড়।
গুড়গুড় শব্দে প্রকৃতি কাঁপছে । বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টিও হচ্ছে সম্ভবত এতক্ষণ নতুন করে । এসবের মধ্যেও গাড়ির গতি কমলো না আকাশের । মাথা আর কোনোদিকে কাজ করার মতো অবস্থায় নেই বোধহয়।
রাতুলের ডিরেকশনে কাঙ্ক্ষিত লোকেশন এ যখন তারা পৌছালো তখন বেশ রাত । প্রত্যন্ত অঞ্চল । এদিকটায় যে কোনো জনবসতি থাকতে পারে তা চিন্তা ধারনারও বাইরে। আকাশ গাড়ি থেকে নামতেই ছাতা মাথায় হুড়মুড়িয়ে নামলো রাতুল, রাকিব রাও । আকাশের অবশ্য বৃষ্টি নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথায় নেই । যে তার কম্পিত শরীর নিয়ে নিজেকে সামাল দিতে ব্যাস্ত ।
আকাশ সামনে তাকালো। আশেপাশে ঝোপঝাড়ে আবৃত পাহাড় সব । এর মাঝ দিয়ে সরু পায়ে হাটার পথ। এ পথে সামান্য একটা বাইক চলারও উপায় নেই। আকাশ সে পথে তাকিয়ে রাশভারি কন্ঠে রাতুল কে উদ্দেশ্য করে বললো,
_____”এটা সেই রাস্তা?”
_____”এটাই।”
রাতুলের বলতে দেরি হলো। আকাশ এর সেদিকে ছুটতে না। আকাশের পিছনে পিছনে বাকিরাও ছুটলো একপ্রকার। ছাতা মাথায় ও বৃষ্টি তে কুলচ্ছে না। চাপা রাস্তায় ছাতা নিয়ে হাঁটাচলাও কষ্ট সাধ্য । সবার অবস্থা বেশ নাজুক। তবে কেউ-ই নিজেদের অবস্থা ভাবার মতো মন মানসিকতার মধ্যেই নেই। প্রিয়ার চিন্তায় কলিজা শুকিয়ে আসছে সবারই।
প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা ছোটার পর পাহাড়ের কোল ঘেষে ছোট্ট একটা লোকালয় এর মতো চোখে পরলো। সম্ভবত ইলেকট্রিসিটি এসে পৌছায় নি এদিকটায়। ঘোর অন্ধকার। তবে আরেকটু কাছে আসতেই দেখা গেলো কুপি বাতির ব্যবহার। এদিকে এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি, তা স্পষ্ট । রাকিব নিচু গলায় বললো,
____”মুসলিম উপজাতি। পূর্বপুরুষ রা শুনেছি ত্রিপুরায় ছিলো। গন্ডএলাকা একদম।”
রাকিব এর কথার পিঠে কেউ কথা বললো না। আকাশের সাথে তালে তাল মিলিয়ে ছাতা নিয়ে ছোটার চেষ্টা করছে রাতুলরা । তবুও ভিজেই যাচ্ছে দুজনেই। বাড়িগুলোর কাছাকাছি আসতেই কানে এলো হৈ হল্লার শব্দ। সম্ভবত নিজেদের সম্প্রদায়ের গান বাজনা হচ্ছে। আকাশের মাথা দপদপ করছে। অজানা আশঙ্কায় মস্তিষ্ক অচল হতে চাচ্ছে। পা যেনো শক্তি হারাচ্ছে।
ছোট একটা বাচ্চা মেয়ে তার থেকেও বছর খানেকের আর একটি ছোট একটা বাচ্চার হাত ধরে ছুটে যাচ্ছে। বেশে সেজেছে দুজন। দৌড়ানো অবস্থায় হাত টেনে ধরলো রেদোয়ান। হাটু গেড়ে বসে নরম গলায় বললো,
____”কি হচ্ছে এখানে? গান বাজনা এতো।”
মেয়েটা দোনোমনা করলো কিছুক্ষণ। অচেনা এতগুলো লোক। ছুটে পালাবে কি না! তবে তা করলো না। মিষ্টি কন্ঠে বললো,
____”নিকাহ হইতাছে। “
আকাশ এর গলা কাঠ হয়ে ছিলো। এ কথা শুনে আরেকদফা কাঠ হলো। সে দাড়িয়ে পরেছে। সামনে এগোনোর সাহস পাচ্ছে না। রেদোয়ান সবার দিকে অসহায় দৃষ্টি ফেলে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,
____”তোমাদের গ্রামের বুঝি?”
____”শহরের এক সাহেব আর মেমসাহেব এর।”
কথাটা বলেই মেয়েটা আর দাড়ায় না। কয়েক কদম এগিয়েই তাদের ঘর ওটা হয়তো। সেটাতে ঢুকে গেলো। রাতুল আকাশের কাঁধে হাত রেখে বললো,
____”চল।”
আকাশ বড্ড কাতর কন্ঠে কোনো মতে বললো,
____”যা শুনেছিস সব মিথ্যা কিন্তু। বুঝলি। আমি যাবো না। এখানে প্রিয়া নেই। থাকতে পারে না। এখানে কারোর বিয়ে হচ্ছে। আমার প্রিয়া অন্য কাউকে কিভাবে বিয়ে করবে! আশ্চর্য। চল চল।”
আকাশ উল্টো হাটা ধরতেই হাত টেনে থামালো রাতুল। ছেলেটার অবস্থা চোখে দেখা যাচ্ছে না। শিয়ারও একই অবস্থা। অয়ন দু হাতে জড়িয়ে আছে তাকে। আকাশ কেমন অপ্রকৃতস্থর মতো হয়ে গেছে।সে মানতে নারাজ। সামনে যা হবে তার মুখোমুখি হতেও নারাজ।
উপজাতি সম্প্রদায়ের ছোট্ট একটা মসজিদ এই ছোট্ট মহল্লায়। সেটার সামনে এসে থামলো সকলে। মূল পাড়ায় ঢোকার আগে মসজিদ পেরিয়েই যেতে হয়। মসজিদ এই মূহুর্তে তালা ঝোলানো। সুতরাং এখানে কাউকে পাওয়া গেলো না। তবে ছোট্ট এক খন্ড জায়গায় এতগুলো শহুরে মানুষ আসার খবর চাপা রইলো না। বাতাসের গতিতে জানাজানি হয়ে গেলো।
মহল্লার গন্যমান্য বয়:জেষ্ঠ রা আন্দাজ করলো রিয়ান দের খোঁজেই এসেছে সম্ভবত কেউ। বাচ্চা মেয়েটার মুখের কথায় লোক পাঠানোও হলো আকাশদের কাছে। তাদের ডেকে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিয়ে পড়ানো শেষ হয়েছে আরও আধঘন্টা আগেই। স্থানীয় রা হৈ হল্লা করছে। এটা তাদের রীতিনীতি। নিজেদের পাহাড়ি আচার -অনুষ্ঠানে, খাওয়া দাওয়ার পর্ব চলছে।
মহল্লার বাকি দিকগুলো জনশূন্য হওয়ার কারণ বুঝতে পারা গেলো। সবাই এখান টায়। আনন্দ ফূর্তি তে মগ্ন। আকাশ রা সবাই প্রায় পনেরো-ষোল জন মানুষ জন। এদিকটায় দ্রুত পায় আসতেই থমকাতে হলো। স্থানীয় প্রচুর মানুষ। যতটা কম ভেবেছিলো এত ছোট্ট জায়গায়,ততটাও কম মোটেই নয়।
আকাশের অসহায়, ব্যাস্ত চোখ খুঁজে ফিরলো প্রিয়া কে। এখানে দেখতে পাওয়া গেলো না। রিয়ান অথবা প্রিয়া কেউ নেই এখান টায়। এক মুরুব্বি মতো লোক এগিয়ে এলো লাঠি ঠকঠক করতে করতে। ভাড়ি চেহারা,শরীর। কন্ঠও বেশ ভাড়ি। বললো,
____”কি দরকারে আসা হইছে?”
আকাশ লোকটার কথায় সম্ভবত তাল করেনি। সে কেমন অপ্রকৃতস্থর মতো প্রিয়া কে খুজতে ব্যাস্ত। অয়ন এগিয়ে এলো আকাশের পাশে। লোকটাকে জিজ্ঞেস করলো,
____”আমার বোন কে খুঁজতে এসেছি। ওকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। লোকেশন এখানে দেখাচ্ছে।”
লোকটার কথাবার্তায় মনে হলো একেবারেও গন্ড মূর্খ সে নয়। অয়নের কথাগুলো চট করেই ধরে ফেললো। মুখের ভাব আরও কঠিন হলো।
____”কেমন বোন আপনের? দেইখা রাখতে পারেন না? আমদ ফূর্তিতে মইজা থাকে জোয়ান মর্দর সাথে। তাও বিবাহ্ হওয়ার আগেই?”
এদিকে সবার মুখ কেমন পানসে হয়ে আছে। এরকম তথ্য তো তাদের কাছেও এসেছে। লোকটার এ কথায় বজ্রকঠিন রুপে একপ্রকার উচ্চ কন্ঠে আকাশ বললো,
____”মুখ সামলে কথা বলুন। প্রিয়ার নামে বাজে কথা বলার আগে মুখে লাগাম টানবেন । না হলে এই মহল্লা এক মিনিটে ধুলায় মিশিয়ে ফেলবো।”
রাগের মাথায় আকাশের বলা হুংকারে আসেপাশের লোকজন হৈ হৈ করে উঠলো । লোকটা দু হাত তুলে থামার নির্দেশ দিলো তাদের । আকাশের দিকে তাকালো। তবে সে রাগলো না। শীতল কন্ঠে বললো,
____”পাপ তো পাপই বাছা। পাপ মুছবে কি না হেইডা জানিনা। তবে বিবাহ যখন সম্পন্ন একবার হয়েছে কিছুটা হইলেও পাপ মোচন হইবো।”
____”বিয়ে হয়েছে মানে?”
____”এরকম অবস্থায় বিবাহ দেওয়া ফরজ কাজ হয় না কি?”
সবাই হতবিহ্বল, হতবাক। আকাশ খেয়াল করলো চোখ কেমন ঘোলা হয়ে আসতে চাচ্ছে। মাথার ওপরে উঠোনের অল্প জায়গা জুড়ে টিনের একটু চাল। সেখানে এতজন এর জায়গা হয়নি। এতক্ষণ সে ছাউনির নিচেই গানবাজনা হচ্ছিলো। আকাশ কোনোমতে বললো,
____”আ. আ..আমার প্রিয়া কোথায়? ওর বিয়ে কি করে হয়? ও তো আমার।”
বৃদ্ধ খানিক্ষন আকাশের মুখ স্থির দৃষ্টি তে পরখ করে কি ভাবলো কে জানে। হাতের ইশারায় পাশের একটা ছোট্ট ছনের ঘর দেখালো । আকাশ কিচ্ছু ভাবলো না আর। হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে গেলো সে ঘরের দিকে। বলাবাহুল্য শিয়া, অয়ন,রাতুল,রাকিব আর রেদোয়ান ও ছুটলো সঙ্গে। বাকিরা অবশ্য অপেক্ষা করলো এদিকটায় । সবার মধ্যে চূড়ান্ত উৎকন্ঠা কাজ করছে । আকাশের অবস্থা দেখে ভয়ে কাঁপছে সকলে। ভীষন কষ্ট হচ্ছে আকাশের জন্য।
উদভ্রান্তের মতো ঘরের ভিতর ঢুকেই আরেকদফা থমকালো আকাশ। ঘরভর্তি মহিলা মানুষ। বেশ কয়েকটা কুপিবাতি জ্বালানো।সে-সব এর হলুূ আলো ঘর জুড়ে। সেই ভিড়ে বিছানার ওপর বসা প্রিয়া। লাল টকটকে একটা শাড়ি জড়ানো গায়ে। এখান স্থানীয় নারীদের বিয়ের সময় যেভাবে সাজানো হয় এটা হয়তো সেই সাজ। তার বয়সী তিন চার জনের সাথে বসে গল্পে বিভর। মুখে হাসি হাসিও রয়েছে।
কপালের মাঝে কয়েকটা ভাজ পরলো আকাশের। প্রিয়া কে বিয়ের সাজে দেখো শূন্য মস্তিষ্ক আরও শূন্য হয়ে এলো।
প্রিয়া এতক্ষণে তাকিয়েছে এদিকে। আকাশ কে দেখে থমকালো সে নিজেও । পিছনে হুড়মুড়িয়ে বাকিদের দেখে আখিজোড়া ভিজে উঠলো নোনাজলে । সঙ্গে সঙ্গেই বাইরের সেই বৃদ্ধ গলা উচিয়ে সবাইকে বের হতো বললো এ ঘর থেকে। শুনলোও সবাই তাই। স্থানীয় সকলেই বেরিয়ে এলো ওদের নিজেদের মতো কথা বলতে দিয়ে।
প্রিয়া বিছানা থেকে নেমে দাড়াতেই দু হাতে তাকে খামচে ধরলো আকাশ । ভিজে একসাড় হয়ে থাকা মানুষ টাকে দেখে প্রিয়ার বুঝতে অসুবিধা হলো না। কি উন্মাদের মতোই না খোঁজা হয়েছে তাকে। ওপাশে শব্দ করে কেঁদে ফেলেছে শিয়া।
আকাশ নিজের খসখসে হাতে প্রিয়ার পুতুলের মতো মুখটা নিজের হাতের আজলায় নিলো। গভীর চোখে পরখ করতে ব্যাস্ত প্রিয়ার সাজগোছ। সে ভাষা হারিয়েছে। মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছে কি সত্যিই? কি বলে শুরু করবে কথা? জিজ্ঞেস করলে যদি সবার কথা সত্যি হয়ে যায়? তখন!
প্রিয়ার নরম হাত জোড়া যখন নিজের গালের ওপরে রাখা আকাশের হাত স্পর্শ করলো তখন বাধ ভাঙ্গলো আকাশের। শুকনো ঢোক গিলে ব্যাতিব্যাস্ত কন্ঠে কোনোমতে আউরালো,
____”যেটা শুনছি বলো সেটা মিথ্যা। প্রিয়া বলো। সব মিথ্যা, সব মিথ্যা। এমন কিছু হয়নি। এখানে কোনো বিয়ে হয়নি।”
মানুষ টা তাকে না পেয়ে কতটা মরিয়া হয়ে গিয়েছে সেটা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে প্রিয়া । বোনের কান্নার শব্দও হচ্ছে পাশেই । বাকিদের চোখ জোড়াও রক্তিম। এরকম হবে জানতো তো সে। প্রিয়ার দু চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরলো। আকাশের উন্মাদের মতো করা প্রশ্নে নিজের কান্না থামিয়ে প্রিয়া। নরম কন্ঠে বললো,
____ “যেটা শুনেছেন সেটা ঘটেছে। মিথ্যা নয়। “
আকাশ ভুল শুনলো কি না সেটা এই মূহুর্তে খেয়াল করে উঠতে পারলো না। ওর মনে হলো সময় থেমে গিয়েছে এই মূহুর্তে। খেয়াল করলো সে শ্বাস নিচ্ছে না ,নিতে পারছে না। বুকের কাছটা খামচে ধরা কেউ। হা করে শ্বাসকষ্টের রুগীর মতো শ্বাস নিলো। প্রিয়া কে ছেড়ে পিছিয়ে এলো কয়েকপা। ধাক্কা খেলো রাতুলের সাথে। বন্ধু কে দু হাতে ধরলো রাতুল।
আকাশ ক্রমাগত জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। যা শুনলো সেটা ঘটতে পারে না। একদম পারে না। প্রিয়ার গোটা শরীর জুড়ে ঝলমল করছে রক্তলাল বর্ণের শাড়িটা। আকাশ চাইলো এসব স্বপ্ন হোক। কোনো এক দুঃস্বপ্ন। দু হাতে ভেজা মুখটা ডললো। নাহ, সব সত্যি তে ঘটছে! তবুও সে বিশ্বাস করে না।
কি আশ্চর্য! আকাশ এহনাজও ভয় পাচ্ছে! যদি প্রিয়ার মুখে শোনে বাকিটা ,সহ্য করতে পারবে কি সে! কি করা উচিত তার। আকাশ কি ভাবলো কে জানে। ঘরে থেকে বেরিয়ে গেলো কম্পিত পায়ে। প্রিয়া ছুটলো আকাশকে থামাতে। আবার বৃষ্টির পানিতে ভিজে উঠলো শরীর। এবারও প্রিয়াও ভিজে গেলো। আকাশ কয়েকপা এগিয়েই থামলো, ঘুরে দাড়ালো। এহেন মুখ আগে কেউ কখনো দেখেনি। তাকে দেখে মোটেই সুস্থ মানুষ বলে মনে হচ্ছে না। চোখমুখ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে এ দুনিয়া তেই নেই সে। মাথা কাজ করছে না তার। আকাশ প্রিয়া কে কিছু বলতে যাবে এগিয়ে,তার আগেই পায়ের বল হারালো সে। হাঁটু ভেঙে পরে গেলো কাদার মধ্যে। রাতুল,রাকিবদের চোখ ভিজে উঠেছে এরইমধ্যে। আশেপাশের সকল মানুষ হা করে তাকিয়ে আছে এদিকে। কি হচ্ছে বুঝতে পারছে না তারা। শিয়া ওড়নায় মুখ চাপা দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো। অয়ন ভাইয়ের অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ। তবে বাকিদের এগোনোর আগে কাঁদতে কাঁদতে আগেই ছুটলো প্রিয়া। প্রিয়া আকাশকে ধরতে ছুটে আসতেই কাঁদার মধ্যে থেকেই হুড়মুড়িয়ে পিছিয়ে গেলো আকাশ। কাঁদায় আরও মাখামাখি হলো শরীর। প্রিয়া নিজেও বুঝতে পারছে না এতোটা পাগলামির কারণ। এখন তো সে সামনেই।
বৃষ্টির পরিমাণ কমে এসেছে অনেকটা । যারা ঘরে ছিলো একে একে তারাও বের হয়ে আসছে উঠানে। সবাই আগ্রহ চোখে দেখছে সবটা। কি হচ্ছে, কেনো হচ্ছে সম্ভবত কেউ বুঝছে না স্থানীয়রা। সফেদ শার্ট,প্যান্ট কাঁদায় মাখামাখি। মাথায় চুলগুলো এসে এলোমেলো ভাবে লেপটে আছে কপাল। মুখচোখ শুকিয়ে একসাড়। ক্ষনিকের বৃষ্টির ছোয়ায় প্রিয়ার মুখের সাজ গুলোও এলোমেলো হয়েছে বৈকি। লাল শাড়ি শরীরে লেপটেছে বেশ রকম। আকাশ সেই সাঁজের পুরোটা আবার অবলোকন করলো।
আকাশ প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ব্যাগ্র গলায় বললো,
____”ডোন্ট টাচ মি। ডোন্ট টাচ মি মিসেস রিয়ান। ডোন্ট টাচ মি।”
রাতুল কপালে আঙুল চেপে ঘুরে দাড়ালো । সম্ভবত তার চোখ থেকে নোনাজল গড়িয়ে পরলো। আকাশের অবস্থা চোখে দেখার মতো নয়। ছেলেটা নিজের মধ্যে নেই একদম।
আকাশের মুখে মিসেস রিয়ান শব্দটা শুনে হা জোড়া স্থির হলো প্রিয়ার। উদগ্রীব হয়ে থাকা মুখ টা ফ্যাকাসে হলো। আকাশ ততক্ষণে দু হাতে ভর দিয়ে উঠে দাড়িয়েছে। অয়ন পাশ থেকে ধরলো ভাইকে। শিয়া কিছু বলতে এগোবে তাকে রাকিব আটকালো। আকাশ প্রিয়া কে কথা বলতে দেওয়া হোক আগে। তারা আশপাশে দৃষ্টি ফেলে খুজলো রিয়ান কে। তাকে অবশ্য এই মূহুর্তে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
আকাশ কাঁদায় মাখামাখি শরীর নিয়ে টলছে একপ্রকার। রক্তিম চোখ আর বাধ মানলো না। স্থান কাল ভুলে আকাশ এহনাজের চোখ গড়িয়ে পরলো নোনাজল।
____”তোমাকে অন্য কারোর নামে কবুল পড়তে দেখা, গায়ে অন্যের নামের লাল শাড়ি জড়ানো দেখার মতো শক্তি খোদা আমাকে দেন নি পাখি। এখন কি করা যায় বলোতো? “
পাথরের মতো দাড়িয়ে আছে প্রিয়া। এ আকাশকে সে চেনে না। আকাশ এহনাজ চৌধুরীর এতো অসহায়,দূর্বল রুপের সাথে সে অভ্যস্ত নয়। একদম নয়। আকাশ কয়েকপা এগিয়ে এলো। একদম মুখোমুখি হলো প্রিয়ার। প্রিয়া অনবরত কেঁদে যাচ্ছে। আকুল মুখে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। সে সচরাচর আকাশের এই চোখে তাকাতে পারে না। অথচ আজ ওই চোখের অতল অবধি স্পর্শ করতে পারছে সে। ভালোবাসার গভীরতা দেখতে পারছে ওই চোখে। ভালোবাসলে একটা কঠিন মনের মানুষ ও যে কতটা অসহায় হতে পারে আকাশ কে না দেখলে হয়তো জানা হতো না। আকাশ একদম ঘেঁষে এসে থামলো। বাঁকা কন্ঠে বললো,
____”সরি সরি। সামান্য মিসটেক। কি করা যায় বলুন তো মিসেস রিয়ান। আমি তো আবার আপনার জন্য হারাম এখন,পরপুরুষ আমি৷ আপনি সদ্য বিবাহিতা একজন নারী। অন্যের তকদিরে থাকা নারী।”
আকাশের মুখের এহেন কথায় প্রিয়া আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। ঝাঁপিয়ে পরলো আকাশের ওপর। পায়ে ভর করে উচু হয়ে দু হাতে পেঁচিয়ে ধরলো আকাশের ঘাড়। গলায় মুখ ডুবিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো। আকাশ নড়াচড়া করলো না। না চাইতেও দু হাত পেচিয়ে ধরলো প্রিয়ার কোমড়।
আশেপাশের মানুষ কে উপস্থিত বয়যেষ্ঠ রা তারা দিলো সরে যেতে। বাচ্চাদের নিয়ে সবাই একে একে সরে গেলো। আকাশ দু হাতে শক্ত করে জড়িয়ে কাঁপা কন্ঠে কোনোমতে আউরালো,
____”আমি কিভাবে বাঁচবো পাখি৷? কিভাবে মানবো এটা? আমি তো মরে যাচ্ছি। তোমাকে ছাড়া, তুমি অন্য কারোর স্ত্রী এটা মাথায় এসে হানা দিয়েই নিজেকে শেষ করে ফেলতে…
আকাশের কথা শেষ হয়না। প্রিয়া ততক্ষণে মুখ চেপে ধরেছে আকাশের। আকাশের কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলে উঠলো,
____”আমি আপনার, আকাশ। আমি পুরোটা আপনার। আমি অন্য কারোর নামে কবুল পরবো আপনি ছাড়া এটা কল্পনায় ও আনতে পারি না আমি। আমার কোনো বিয়ে হয়নি।”
চিৎকার করে বলা প্রিয়ার এ কথায় যেনো বজ্র পাত হলো উপস্থিত সকলের ওপর। বড় বড় হয়ে এলো সবার আখিজোড়া। অদূরে দাড়িয়ে থাকা স্থানীয় রা বুঝতে পারলো ভুল বোঝাবুঝি টা ঠিক কোথায় হচ্ছিলো। এক মহিলা এগিয়ে এলো শিয়ার পাশে। সেই মহিলা,যে শুরু থেকে প্রিয়া কে আগলে আসছে। মহিলা নরম কন্ঠে শিয়াকো উদ্দেশ্য করে বললো,
____”আপনেদের ভুল হইতেছে। এতক্ষণ বুঝি নাই। বিয়া তো এই মাইয়ার হয় নাই। জামাই বউ রে তো ওইদিকে আমাগো গ্রামপ্রধান এর বাড়িতে নেওয়া হইছে।”
____”তাহলে আমার বোনটা বিয়ের সাঁজে?”
মহিলা মৃদু হাসলো। শিয়াকে বললো,
____”আপনের বোন তো কইছে সে আগে থেইকাই বিবাহিত।ওইডা বুঝি আপনের বুইনের স্বামী? মোহাব্বত দেইখাই বোঝা যাইতাছে। তাছাড়া আমাগো বুঝতেও ভুল হইছিলো। প্রত্থমে আপনের বইনেরে ভাবছিলাম আমরা। বিয়ার জন্য তৈয়ারিও করছিলাম। কিন্তু পরো জানলাম মর্দ টার সাথে আপনের বইন আছিলো না। যে আছিলো তার সাথে বিয়া পড়ান হইছে তারপরে।”
এদিকে প্রিয়ার মুখের কথায় আকাশ স্তব্ধ হলো। দু হাতে প্রিয়াকে সোজা করে দাড় করালো। প্রিয়ার মুখটা নিজের হাতের আজলায় নিয়ে বললো,
_____”তুমি আমার। রিয়ান তোমাকে বিয়ে করলেও আমি তোমাকে নিজের করে নেবো। ওকে খুন করে হলেও। তোমাকে স্পর্শের অধিকার শুধু আমার। “
প্রিয়া ক্রমাগত আকাশকে শান্ত করার চেষ্টায় মরিয়া হলো। মাথা নাড়লো আকাশের দিকে তাকিয়ে। আকাশের গালের ওপর পানিটুকু সযত্নে নিজের হাতে মুছে ভীষন আদুরে কন্ঠে বললো,
_____”ভুল তথ্য পেয়েছেন। আমার সাথে রিয়ান ভাই এর বিয়ে হয়নি। সৌমি আপুর সাথে হয়েছে। “
আকাশ অপলক তাকিয়ে থাকে প্রিয়ার দিকে। এ মেয়ের মুখে যা শুনবে তার ওপর সে কখনো প্রশ্ন করতে পারবে না। প্রিয়ার চোখের ভাষা সে জানে। সত্য মিথ্যা বোঝে। প্রিয়া মিথ্যা বলতে পারে না । কখনো পারে না । তাদের বিশ্বাস কে আরও জোড়ালো করতে গ্রামের ওই মহিলা এরই মধ্যে সৌমি কে নিয়ে এসেছে । ছোট্ট করে জানালো সৌমির সাথে রিয়ান এর বিয়ের কথাখানা। আকাশ দূর থেকে দেখলো একপলক সৌমিকে। প্রিয়া হাতের ইশারায় দেখালো। সৌমি আদতে কনের সাঁঝে। প্রিয়ার থেকে ঢের সাঁজগোঁজে সে। আকাশ আর একটা প্রশ্নও করলো না। করার ইচ্ছে হলো না। দু হাতে প্রিয়াকে বুকে জড়ালো। শক্ত করে চেপে ধরলো তার বুকের বাঁ পাশে। অস্পষ্ট স্বরে আউরালো,
_____” আমি জানতাম এ হতে পারে না। আমি বলেছিলাম সবাইকে। আমার প্রিয়া বিয়ের কনে হতেই পারে না। মরে যেতাম পাখি।”
প্রিয়া ভেজা চুমু আকলো আকাশের বুকে।
_____”আমার গন্তব্য আপনাতে গিয়ে ফুরিয়েছে আকাশ। আত্মহত্যা করতাম, তবুও অন্য কারোর নামে কবুল পরতাম না আমি। কোথায় যেতাম আপনাকে ছেড়ে, কে এতো ভালোবাসা দিতো আমাকে! একজীবন একসাথে পারি দেওয়ার কথা দিয়ে অন্যের নামে কবুল পরতাম আমি? এতোটা বেইমান কি করে হতে পারি আমি। প্রিয়া আকাশকে ছেড়ে অন্য কারোর বউ! এও সম্ভব এ জীবনদশায়? সম্ভব না তো। আমার চৌধুরী সাহেব তো মরে যাবে আমাকে ছাড়া। শোনা কথায় পাগল হয়েছে,উন্মাদ এর মতো করছে। সত্যি হলে তাকে আমি দুনিয়া থেকেই হারিয়ে ফেলতাম। জানি তো আমি সেটা। পাগলের মতো ভালোবাসি আমি আপনাকে আকাশ। মৃত্যু বাদে আলাদা আমি হবো না আপনার থেকে।”
আকাশ কথা বলে না। চোখ বেয়ে নোনাজল এর বাধ ভেঙেছে। থরথর করে কাঁপছে এখনো শরীরটা। বুকটা খা খা করছিলো। প্রিয়ার ভেজা চুলের সিঁথি তে চুমুতে ভড়িয়ে দিলো। টুকরো টকরো চুমু আকলো প্রিয়ার গোটা মুখ জুড়ে।
____”মরুভূমির মধ্যে এক পশলা বৃষ্টি তুমি আমার। তৃষ্ণার্ত নাবিকের মতো হাতড়ে ফিরছিলাম তুমি নামক শীতল পানি। তোমাকে হারালে আমি শেষ হয়ে যেতাম পাখি। শেষ হয়ে যেতাম।”
____”আর কতবার বলতে হবে? আপনাকে ছেড়ে আমার যাওয়ার গন্তব্য নেই। আমার গন্তব্য আপনাতে শুরু,আপনাতে শেষ। এক জীবনে এতো ভালো আমাকে কে বাসবে? আমি আপনার ভালোবাসার লোভে লোভি চৌধুরী সাহেব। নিজের সুখ এর জন্য হলেও আমার আপনাকে চাই। আপনার ভালোবাসা চাই।”
ভিজে ওঠা চোখ মুছলো উপস্থিত সকলেই। কিছু মূহুর্তের জন্য সত্যি সত্যিই ভেবেছিলো সব শেষ শেষ হয়ে গিয়েছে। সৌমি নিজেও কাঁদছে। আকাশ প্রিয়ার ভালোবাসা দেখে কাঁদছে। আশ্চর্য লাগলো তার। আজ রাগ হচ্ছে না একদম। আকাশ প্রিয়া বৃষ্টি মাথায় এতো মানুষ এর সমানে দু’জন দু’জন কে আকড়ে ধরে আছে। একের পর এক ভালোবাসার বুলি আউরাচ্ছে। অথচ সৌমির আজ খারাপ লাগছে না। সবটা অন্য রকম লাগছে। নিজের পেটে হাত বুলালো সে। এক অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান তার অস্তিত্বই পাল্টে দিয়েছে । মনুষ্যত্ব,নারীত্ব সব জাগ্রত করে দিয়েছে। আজ সেও পরিপূর্ণ । হোক রিয়ান এখনো তাকে ভালোবাসে না। তবুও তার আক্ষেপ নেই। তার সন্তান এর পরিচয় নিয়ে তার ভাবনা নেই। তার নির্দোষ সন্তান টা নিজের বাপের পরিচয় পাবে । সেও জানবে তার বাবা মা আছে। চোখজোড়া মুছলো সে।
হঠাৎ অদূরে দেখতে পাওয়া গেলো রিয়ান কে। বরের বেশে । চিরাচরিত বর সাজ না হলেও পাঞ্জাবি জড়ানো গায়ে। গ্রাম পন্চায়েতের ঘরে ছিলো সে। এইমাত্র এখানে আসতেই আকাশ দের দেখে রক্তশূণ্য হলো মুখটা। ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে থ মেরে দাঁড়িয়ে পরলো। প্রিয়া সবেই আকাশ কে ধরে বসিয়েছে চেয়ারে। গামছায় মাথা মুছে দিচ্ছিলো। রিয়ান কে দেখা মাত্র তিরতির করে রাগ মাথায় উঠলো আকাশের। প্রিয়াকে পেয়ে এক মূহূর্তের জন্য বেড়িয়ে গেছিলো বোধহয় সবটা। তবে রিয়ানকে চোখে পরতেই মাথায় এসে হানা দিলো সবটা। আর কিচ্ছু শোনা বা বোঝার প্রয়োজন বোধ করলো না। ঝড়ের গতিতে পৌছুলো রিয়ান এর সামনে। আর কারোর কিচ্ছুর পরোয়া করলো না। দিকবিদিকশুন্য হলো তার মস্তিষ্ক। হাতের মুঠো শক্ত হলো। বজ্রমুষ্ঠি করে আঘাত করলো রিয়ানের নাকে। ছিটকে পরে গেলো ছেলেটা। গলগল করে রক্ত বের হলো নাক দিয়ে। আকাশ কে আজকে কেউ আটকালো না। সৌমি নিজেও না। চোখ বুজে দাড়িয়ে রইলো। আকাশ এর একেরপর এক আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে রিয়ান। গ্রামের মানুষ হতভম্ব হয়ে থামাতে ছুটলো আকাশকে। তবে তাদের থামালো আকাশের অফিসের লোকজন। রিয়ান অবস্থা বেগতিক। নাক,ঠোঁট কেটে রক্ত গড়িয়ে পরছে। কাদায় মাখামাখি শরীর। আকাশ নিজের মধ্যে নেই। কলার চেপে টেনে তুলে হিসহিসিয়ে বললো,
_____”তোকে ওয়ার্ন করেছিলাম। আকাশ এহনাজ চৌধুরীর কলিজার দিকে হাত দিবি না। হাত বাড়ালি আবার চরিত্র দাগ লাগিয়ে বিয়ে করতেও চাইলি! জানের ভয় নেই?”
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ঘনঘন। বাজ পরছে। বৃষ্টি নেই যদিও। কাঁদার মধ্যে পরে একের পর এক মার খেয়ে যাচ্ছে রিয়ান। এ যাত্রায় মুখ দিয়ে গলগলিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই প্রিয়া আর সৌমি একসাথে ছুটলো। প্রিয়া পিছন থেকে জাপটে ধরলো আকাশকে।
____”মরে যাবে। ছেড়ে দিন। আকাশ…”
আকাশ প্রিয়ার কোনো কথা কানে তুললো না। আবার মারতে উদ্বত হতেই একপ্রকার পা জড়িয়ে বসে পরলো সৌমি। ঝরঝর করে কেঁদে আকুল গলায় মিনতি করলো রিয়ান কে আর না মারতে। সৌমির এই রুপে অবাক এর চূড়ান্ত সকলে। বৈধ সম্পর্কের টান বুঝি এটাকেই বলে? আকাশ শুনলো না তবুও। ধমকে সরে যেতে বললো সৌমিকে। প্রিয়া চেঁচিয়ে রাতুলদের ডাকলো। আকাশের মতো পুরুষকে তার শক্তিতে সরিয়ে আনা থোরাই সম্ভব।
আকাশের প্রলয়কারী রুপের সমানে মিয়িয়ে যাচ্ছে আজকে সকলে। তাছাড়া রিয়ানেরও এটা প্রাপ্যই। আর এক দু আঘাতে নিশ্চিত দম বের হবে রিয়ান এর। সেটা বুঝতে বাকি নেই কারোর। সৌমি চিৎকার করে থামতে বলছে আকাশকে। প্রিয়া সৌমির এই অবস্থা দেখো চিৎকার করে উঠলো পিছন থেকে আকাশ কে জড়িয়ে।
_____”আমার কসম। থামো জান। সব ঠিক আছে এখন। আমি ঠিক আছি তো। ওনাকে ছেড়ে দাও ,মরে যাবে তো। ওনার বাচ্চাটা এতিম হবে।”
আকাশ এ যাত্রায় স্থির হলো। প্রিয়ার আদুরে,আকুতি মেশানো কন্ঠের ডাক অগ্রাহ্য করার শক্তি তার নেই।
তবে আকাশ একটু নরম হতেই প্রিয়া টেনে সরিয়ে আনলো আকাশকে। পিছন থেকে জড়িয়েই রাখলো। হাপাচ্ছে আকাশ। রাগ নিয়ন্ত্রণ এ আনতে পারছে না সে। রিয়ান কে আকাশের সমানে থেকে সরানো হলো। বেচারা জ্ঞান হারিয়েছে। অবস্থা বেগতিক।
প্রিয়া সরিয়ে নিয়ে গেলো আকাশ কে সেখান থেকে।
ছোট্ট ঘরটায় এনে বসালেো। নিজে সামনে দাড়িয়ে মাথাটা টানলো। নিজের বুকে মেশালো। বাচ্চা শান্ত করার কন্ঠে বললো,
____”সব ঠিক আছে এখন। একটু শান্ত হও।”
আকাশ আর শব্দ করলো না কোনো। প্রিয়ার মুখে তগমি ডাকটা ভীষন আদুরে লাগলো এই মূহুর্তে। খেয়াল হলো প্রিয়া তাকে নাম ধরে ডাকছে। আকাশ মুখ তুললো। ঝটকা টানে প্রিয়া কে বসালো নিজের উরুর ওপর। ঘরের মিটমিটে হলুদ আলোয় দুটো ভেজা শরীর জ্বলজ্বল করছে। আকাশ কথা বাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করলো না। নির্দ্বিধায় ঠোঁট গুজে দিলো প্রিয়ার পাতলা, ভেজা ঠোঁটে। প্রিয়া মানা করলো না। দু হাতে জড়িয়ে রইলো আকাশকে।
বুকের ভেতরে জমে থাকা এতো এতো পাথর নেমে গেলো জেনো এক নিমিষে। সারাদিন এর ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, কষ্ট, রাগ সব কিছুর রেশ বয়ে গেলো প্রিয়ার ওষ্ঠজোড়ার ওপরে।
.
চলবে ইনশাআল্লাহ 🦋🌷
[ কিছু একটা ঘটবে সামনের দু এক পর্বের মধ্যে। বিয়ের দাওয়াত চাই তো নাকি? আকাশ- প্রিয়ার বিয়ের দাওয়াত রইলো কিন্তু 🥹🍂]

