#যাত্রাপথ
লেখনীতে: #মাশফিত্রা_মিমুই
[পর্ব:৪২]
ঝক ঝকাঝক সাইরেন বাজিয়ে স্টেশনের দিকে ছুটে চলেছে ভোরবেলার ট্রেন। বনের পাখিরা ঘর ছেড়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে। গোয়ালের গরুটাও গলা ছেড়ে কয়েকবার হাম্বা হাম্বা ডাকে গর্জে উঠলো। ধীরে ধীরে বেলা হলো। গ্ৰামের মেঠোপথ ধরে ভেসে এলো ফেরিওয়ালার হাঁক,“লেস ফিতা! নিবেন নাকি লেস ফিতা! চুড়ি, আলতা, টিপ, লিপিস্টিক!”
ডাকটা বাড়ির মেয়ে, বউদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। হাতের কাজ ফেলে দৌড়ে এলো তারা। বিথী গিয়ে লোকটাকে ডেকে এনে বসালো উঠোনের মেহেদী গাছের নিচে।
মিছরি চুলায় ভাত বসিয়েছে। যতই সংসারে নিপুণ হওয়ার চেষ্টা করুক, কৈশোরের ছটফটানি এখনো তার কমেনি। ভাত চাপিয়ে রেখেই সে দৌড়ে এলো ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা নারীদের মাঝে। ফেরিওয়ালা ইতোমধ্যেই নিজের কাঠের বাক্স খুলে বসেছে। মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত নারীরা যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ল সেখানে। কেউ টিপ, আলতা, লিপস্টিক কিনছে, কেউ বা কিনছে পায়েল, সিটি গোল্ডের হার।
বিথী জাকে দেখে পায়েল নাড়াচাড়া করতে করতে বললো,“পায়েল কিনবা? ভালা শব্দ হয়।”
মিছরি পরনের সালোয়ারটা খানিক উঁচু করে দেখিয়ে বললো,“রূপার নূপুর আছে, উনি দিয়েছেন। পায়েল দিয়ে আর কী করবো?”
সরু দৃষ্টিতে মিছরির পায়ের দিকে তাকিয়ে চোখমুখ কুঁচকে নিলো বিথী। ফর্সা পায়ে নূপুর জোড়া বেশ মানিয়েছে, তবে কয়েকদিনের ব্যবধানে মেয়েটা যেন প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই চতুরতা দেখাচ্ছে। এটাও যে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ খোঁচা বুঝতে আর দেরি হলো না বিথীর। তবে মিছরি সেদিকে খেয়াল করল না। তার নজর পড়ল আলতা, লাল ফিতা আর কাঁচের চুড়ির উপর। লাল রঙের প্রতি তার আলাদাই ভালো লাগা কাজ করে। বাবা মেলায় গেলেই মেয়ের জন্য কিনে আনতেন। অথচ দাদাজান ফেরিওয়ালা মোটেও পছন্দ করেন না। মাস্টার বাড়িতে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
ভাতের বলগ এসেছে। পাতিলের পানি উল্টে পড়ার অভিমুখে চুলার ভেতর থেকে মোটা খড়িটা টেনে বের করল নাজির। চামচ দিয়ে ভাত চেপে দিতেই দৌড়ে এলো মিছরি। চোখেমুখে তার খেলা করছে আনন্দ। নাজির ধমক দিয়ে বললো,“ভাত রাইখা কই গেছিলা রংঢং করতে?”
মিছরি রাগল না। রাগলেই তর্ক জটিল হবে। হাতের আলতা, ফিতা, চুড়িগুলো দেখিয়ে শান্ত গলায় বললো,“এগুলো সব আমার। যান, লোকটাকে টাকা দিয়ে আসুন।”
“মামা বাড়ির আবদার?”
“স্বামীর বাড়ির আবদার।”
“ফিতা রাইখা বাকি দুইডা ফেরত দিয়া আইয়ো। এই ফেরিওয়ালারা ভালা জিনিস বেচে না।”
“না, আমার এগুলোই লাগবে।”
“আমি শহরের ভালা দোকান থাইক্যা আইনা দিমু।”
“কবে? আমার এখনি লাগবে।” অধৈর্য হয়ে বললো।
“আইজ।”
“বিশ্বাস করি না।”
“কারে? আমারে?”
“হ্যাঁ।”
“সোয়ামিরে বিশ্বাস করো না? পাপী ছেরি!”
“আমার লাগবেই লাগবে।”
“হাত-পায়ের চামড়ায় খাজ্জানি হইলে শালবনে ফালাইয়া দিয়া আইমু।”
“এতে চুলকানি হয়?”
“হ, মেয়াদ ছাড়া যে।”
“তাহলে শুধু চুড়ি, ফিতা নেই?”
নাজির আর কিছু বললো না। ভাত সেদ্ধ হয়ে গিয়েছে। পাতিলে ঢাকনা লাগিয়ে মার গেলে উঠে দাঁড়ালো সে। লুঙ্গির গিঁটের ভাঁজ থেকে খুচরা পয়সা বের করে ফেরিওয়ালাকে দিয়ে দিলো। নারীরা সাজসজ্জার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বিদায় দিলো লোকটাকে। ধীরে ধীরে বাইরে মিলিয়ে গেলো ফেরিওয়ালার ডাক। উঠোনে আবার ফিরে এলো দৈনন্দিন গৃহস্থালির ব্যস্ততা।
সেদ্ধ করা আলুগুলো ছিঁলে পেঁয়াজ কুচি করে রেখে শুকনো মরিচ ভাজলো মিছরি। নাজির সেগুলো একত্রে মেখে ভর্তা বানিয়ে গরম ভাতের সাথে মাখিয়ে খেতে খেতে হাঁক ছেড়ে ডাকলো,“নওশাদ! খাইতে আয়। আবার বাহির হইতে হইবো।”
প্রথম ডাকে ভেতর থেকে কোনো সাড়া এলো না। গত রাতে ফিরেই ঘরে গিয়ে যে খিল এঁটেছিল তারপর আর বের হয়নি ছেলেটা। নাজির এক লোকমা স্ত্রীর মুখের সামনে ধরে বিড়বিড় করে বললো,“পোলার মনে বিরহ জাগছে। বউয়ের প্রতি এত ভালোবাসা থাকলে তালাক দিছে ক্যান? শুরুতে ক্যান সামলাইয়া রাখতে পারে নাই?”
ভাত চিবোতে চিবোতে মিছরি জিজ্ঞেস করল,“তারা না প্রেম করে বিয়ে করেছিল? তাহলে ছাড়াছাড়ি কেন হলো? লিলি আপা কিন্তু মানুষ ভালো ছিলেন।”
“তুমি খারাপ, ভালার কী বোঝো? যদিও হের আর তোমার মধ্যে বেশি একটা পার্থক্য নাই। দুইডাই অকর্মার ঢেঁকি, বিয়ার সময় পলানোর চেষ্টা করছিল, বিয়ার পর জামাইরে ভাল্লাগে না, বাপ-মায়ের কাছে গিয়া নালিশ করে। শুধু চালাক দাদা আর আমার মতন ভালা জামাই পাইছো দেইখা এহনো সংসার করতে পারতাছো।”
মিছরি কপাল কুঁচকে মুখ বাঁকিয়ে পুনরায় হা করে। লোকটা যেমন তেমন হলেও তার হাতে খাবার খেতে ভালোই লাগে। নাজির আরো কয়েক মুঠো ভাত থালে তুলে নিয়ে ভালো করে মেখে স্ত্রীর মুখে দিয়ে বললো, “ভেঙ্গাইলে ব্যাঙ খায়, মরা গরুর ঠ্যাং খায়।”
রাগের মাথায় হেসে দিলো মিছরি। রাগ করলে কিংবা মুখ ভেঙ্গালে তাকে আরো রাগিয়ে দেওয়ার জন্য সুজাতাই তার কানের ধারে এ ধরণের ছড়া কাটতো। জিজ্ঞেস করল,“কোথায় যাবেন? কখন ফিরবেন?”
“যামু এক জায়গায়, কাম আছে। কাম শেষ হইলেই আইয়া পড়মু। সাবধানে থাইকো, বেশি ডর লাগলে ছুডো চাচীর কাছে গিয়া বইয়া থাইকো।”
“যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দিন। ঘন ঘন কোথায় যান এত? অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সংসার পেতে বসেছেন?”
খাওয়া শেষে এঁটো হাত ধুচ্ছিল নাজির। কথাটা শুনে এক ঝলক মাথা তুলে তাকালো। কী মনে করে যেন ঠোঁট চেপে হেসে বললো,“যদি করি, তাতে তোমার কী? তুমি তো এমনিতেও ঠিকঠাক আমার কাছে আইয়ো না।”
মিছরির এবার সত্যি সত্যি রাগ হলো। গজগজ করতে করতে বললো,“কাছে না গেলে বুঝি আপনি ছেড়ে দেন?”
“সময়মতো খাইয়া লইয়ো।”
“দুপুরে কী খাবেন?”
“যেইটা তুমি রানবা।”
“আপনি বলুন।”
“পাক্কা গিন্নীগিরি! কইলেই যেন হেয় রানতে পারবো।”
“চেষ্টা করবো।”
“তাইলে কচু শাক রাইন্ধো। বহুদিন খাই না। ইলিশ মাছের মাথা দিয়া বেশি মজা লাগে, কিন্তু এত বেলা কইরা মনে হয় না পাওয়া যাইবো। মিল্টনরে দিয়া ইচা মাছ পাঠাইয়া দিমু না হয়। আর বাকি যা তোমার ভাল্লাগে রাইন্ধো। পাঙ্গাশ খাইবা? নাকি গোশ?”
“পাঙ্গাশ।”
“আচ্ছা, পাঠাইয়া দিমু। কলিমের মায়রে দিয়া কুটাইয়া লইয়ো। ট্যাহা তোশকের নিচে রাখা আছে।”
মিছরি মাথা নাড়িয়ে এঁটো থালা বাসন নিয়ে চলে গেলো কলপাড়।
অনেক ডাকাডাকির পর ঘর থেকে বেরিয়ে এলো নওশাদ। সারারাত না ঘুমানোর ফল হিসেবে চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে। ভাইয়ের ধমকে সকালের নাশতা সেরে তৈরি হলো সে। তারপর দুই ভাই মিলে বাড়ি থেকে একসঙ্গে বের হলো।
কলিমের মায়ের সঙ্গে কখনো আগ বাড়িয়ে কথা বলে না মিছরি। শ্বশুর মশাইয়ের মিলাদের পর থেকে মহিলাটিও তাকে এড়িয়েই চলে। মিল্টন কিছুক্ষণ আগে বড়ো বড়ো চিংড়ি মাছ আর একটা মাঝারি সাইজের পাঙ্গাশ দিয়ে গিয়েছে। সংগ্ৰহ করার ব্যবস্থা না থাকায় রোজকার বাজার রোজই করে নাজির।
কলিমের মা ওপাশের বারান্দায় বসে গল্প করতে করতে পুঁইশাক কাটছেন। মিছরি তাকে ডাকলো, “চাচী, আমার মাছটা একটু কুটে দিন তো। কুটা শেষ হলে রান্না বসাবো।”
“কাম করতাছি, দেহো না?”
“কাজ শেষ হলে দিয়েন।”
“হেরপরে আমার আরো কাম আছে। বইয়া খাই না।”
“আমার স্বামী আছে তাই বসে খাই। মাগনা তো আর আপনাকে দিয়ে কাজ করাবো না।”
“দুইদিনের মাইয়া খোঁটা দিও না। আমার কামের আর ট্যাহার অভাব নাই।”
“তাহলে আরকি? কাউকে দিয়ে আমার বাপের বাড়ি থেকে মাছ কাটার জন্য লোক আনাই? উনি ফিরলে না হয় নতুন লোকের ব্যবস্থা করতে বলবো। যিনি সব কাজ আমায় বিনা বাক্যব্যয়ে করে দেবে।”
চোখমুখ কুঁচকে নিলেন মহিলা। দিনদিন এই মেয়ের মুখ চলছে বেশি। চালাকও হয়ে গিয়েছে। নাকি আগে থেকেই ছিল? আমতা আমতা করে বললেন,“হাতের কাম শেষ হইলে কাইট্টা দিতাছি।”
অগোচরে হাসলো মিছরি। এই বাড়ির মহিলাদের স্বভাব সম্পর্কে তার ভালো করে জানা হয়ে গিয়েছে। এদের ঠিক এভাবেই টাইট দিয়ে রাখতে হবে, নাজির ভুল কিছু বলেনি। মর্জিনা লাউ কাটতে কাটতে জিজ্ঞেস করলেন,“কচু দিয়া কী করবা? রানবা?”
“হ্যাঁ।”
“কেমনে?”
“উনি বলেছেন, চিংড়ি দিয়ে রান্না করতে।”
“পারো রানতে? কচু শাক রানতে কিন্তু সবাই পারে না।”
“তা পারি না কিন্তু আপনি তো আছেনই। শিখিয়ে দেবেন। উনি বলেছেন, আপনার রান্না কচু শাক নাকি দারুণ হয়?”
মর্জিনার হাত থেমে গেলো। একপলক তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন। ছ্যাৎ করে উঠে বললেন,“কেডায় এই প্রশংসা করছে? ওই গোলামের পুতে? এই কথা আমি বিশ্বাস করমু? হুনো মাইয়া,এইসব পামপট্টি মর্জিনারে দিও না। কিছু লাগলে চাইবা, রানতে না পারলে কইবা, চাচী শিখাইয়া দেন। তবুও পামপট্টি দিও না। মিছা কথা আমার পছন্দ না।”
মহিলার রাগ মিশ্রিত স্বর শুনে মিছরি ভড়কে গেলো। দৃষ্টি নামিয়ে শুধু মাথা নাড়ালো।
_________
ছোটো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে টুঙ্গির এক অজপাড়াগাঁয়ে এসে পৌঁছেছে নাজির। দুপুর এখনো হয়নি, ঘড়ির কাঁটা সবে বারোটায় এসে থেমেছে। গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে বাঁশঝাড়ের পাশে টিনের চালার একটি মাটির ঘর। সদর দরজা হাট করে খোলা। বারান্দায় এক বৃদ্ধা বসে কুলোর মধ্যে চাল বাছছেন। চুলে পাক ধরেছে, বয়সের ভারে মুখমন্ডলের কালচে চামড়া ঝুলে পড়েছে।
নাজির সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,“এইটা কী বৃদ্ধ মোতালেবের বাড়ি?”
বৃদ্ধা মাথা তুলে তাকিয়ে উপস্থিত যুবকদের দেখলেন। চেনার চেষ্টা করে বললেন,“হ, কিন্তু তোমরা কেডা?”
প্রথমেই উত্তর দিলো না নাজির। পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়লো, “সে কই? আমনে কেডা?”
বৃদ্ধার চোখেমুখে কৌতূহল। যেন বহুদিন ধরে এমন কোনো প্রশ্ন কেউ করেনি। থেমে উত্তর দিলেন,“নাই, বছর দশেক আগে মইরা গেছে। আমি তেনার বউ। আমনেরা কেডা?”
পুনরায় আশার আলো জ্বলে উঠলো নাজিরের বুকে। মোতালেবকে পাবে না জেনেও আল্লাহর উপর ভরসা রেখেই এতটা পথ সে পাড়ি দিয়ে এসেছিল। যদি কোনোভাবে সত্যের সন্ধান পেয়ে যায়? নওশাদ ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,“এখানে কেন এসেছি, ভাই? এই মোতালেব কে?”
“এহনি জানতে পারবি, ধৈর্য ধর।” সদ্য মাটির প্রলেপ দিয়ে লেপা বারান্দার কোণে রাখা পিঁড়িতে গিয়ে বসলো নাজির।ইশারায় নওশাদকেও কাছে ডাকলো। বৃদ্ধার উদ্দেশ্যে বললো,“আমি নাজির। বনখড়িয়া গেরামের ফতেহ আলী শাহর নাতি, সুবহান আলী শাহর বড়ো পোলা। ওয় আমার ভাই নওশাদ। এইবার চিনছেন?”
থম মেরে বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলেন বৃদ্ধা। কৌতূহলী মুখখানায় ভর করল বিস্ময়। চলন্ত হাতটা আচানক থেমে গেলো, চোখে খেলা করছে স্পষ্ট ভয়। ধীরে ধীরে তা নেমে এলো কণ্ঠস্বরেও,“কাউরে আমি চিনি না। যার খোঁজে আইছেন তিনি আর জীবিত নাই। আমনেরা যান গা, অযথা বিরক্ত কইরেন না।”
ভ্রু দ্বয়ের মাঝখানে সরু ভাঁজ পড়ল। সঠিক জায়গায় যে এসেছে তা বুঝতে আর বাকি রইল না নাজিরের। মৃদু হেসে বললো,“আমনের স্বামী যেই শাহ বাড়িতে একসময় কাম করতো, সেই বাড়ির পোলা সুবহান আলী শাহরে চিনেন না? তার বউ নাসরিনরে চিনেন না? সেই অন্ধকার রাইতে কী হইছে তাও জানেন না? আমি তো হুনছি, দাদায় নাকি আমনেগো থাকার লাইগা ঘরও দিছিলো। শেষ বয়সে আইয়াও মিছা কথা কইবেন? কীয়ের এত ডর আমনের? সেই ডর কী কবরের ডরের থাইক্যাও বড়ো?”
বৃদ্ধার তেজ কমলো খানিক। বিমূঢ় দৃষ্টিতে মাটির দিকে তাকিয়ে থম মেরে বসে রইলেন। নাজির তাঁর মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে হাবভাব বোঝার চেষ্টা করল। সময় দিয়ে বললো,“দীর্ঘ একুশ বছর বিছানায় পইড়া থাইক্যা, কষ্ট নিয়া গত মাসে আমার আব্বা এই নিষ্ঠুর দুনিয়া ত্যাগ করছে। এতগুলা বছর আমার আব্বা হাঁটতে পারে নাই, কথা কইতে পারে নাই, নিজের হাতে খাবার খাইতে পারে নাই। আমরা দুই ভাই মা আর মায়ের আদর ছাড়া বড়ো হইছি। লোকে কয় আমগো মা নষ্টা, আমগো ফালাইয়া পরপুরুষের হাত ধইরা ভাইগা গেছে। কী লজ্জা! এতকাল আমি তারে ঘৃণা করছি, মনে জইম্মা থাকা প্রশ্ন করার লাইগা সব জানে এমন কাউরে পাগলের মতন খুঁইজা বেড়াইছি। এমনকি নানার বাড়িও গেছি। সেইখানে গিয়া হুনি, নানা-নানী আর নাই। মামারা কইলো, সেই রাইতের পর থাইক্যা মার লগে তাগো যোগাযোগ হয় নাই। কই গেছে কেউ জানে না, অনেক খুঁইজাও নাকি পায় নাই। আমনের কাছে পৌঁছাইতেও আমার কম খাটা খাটতে হয় নাই। এহনো কী কইবেন, আমনে কিছু জানেন না?”
অনায়াসে কথাগুলো বলে থামলো নাজির। এখন আর তার কষ্ট হয় না। এ যাবৎকালে বহু সত্যের মুখোমুখি সে হয়েছে। আরো যে কত হতে হবে তাও অজানা নয়। তাই আগেই নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছে। বললো,“সন্তান তো আমনেরও আছে। আমগো মা নাসরিনের জায়গায় একবার নিজেরে কল্পনা কইরা দেখেন তো। আমগো জায়গায় নিজের সন্তানগো রাইখা ভাবেন। তহনো কী এমনেই চুপ থাকতেন?”
বৃদ্ধার হাত, জবান কিছুই চলে না। আচমকাই তিনি আঁতকে উঠে অঝোরে কেঁদে দিলেন। সেই কান্না না থামাতে পেরে মুখে আঁচল গুঁজে লুকানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু তবুও পারলেন না। কত বছর ধরে যে হৃদয়ে কিছু তিক্ত, ভয়ানক অতীত গোপন করে রেখেছিলেন, তার প্রমাণ দেয় চোখের এই বারিধারা।
আকাশ ফকফকা পরিষ্কার। বাঁশ ঝাড়ের কচি, চিকন পাতাগুলো ছন্দ তুলে বাতাসে দোল খাচ্ছে। ছেলেরা ভোর হতেই চলে গিয়েছে কাজে। বড়ো বউ বাঁশের তৈরি টাবায় করে গাছের শুকনো পাতা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বারান্দায় শাশুড়ির কাছে অপরিচিত লোক দুজনকে দেখতেই দৃষ্টি অদ্ভুত হলো মহিলার। বৃদ্ধার সেসব চোখে লাগে না। চোখে যে অশ্রু জমে ঘোলাটে হয়ে গিয়েছে। তার উপর বয়সের ভারে ছানিও পড়েছে। যতটুকু দেখেন তা দিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেন। এই মুহূর্তে অনেক কিছুই তাঁর মনে পড়ে। স্মৃতির মতো জীবন্ত ভেসে ওঠে চোখের পাতায়।
_________
ফতেহ আলী শাহর মৃত্যুর মাস ছয়েক পেরিয়েছে সবে। গ্ৰামে তখনো খুনের উত্তালতা কমেনি। চায়ের দোকান, হাট বাজার থেকে শুরু করে পাড়ায় পাড়ায় সেই চর্চাই চলছে। মর্জিনা গর্ভবতী, থাকেন বাপের ভিটায়। শ্বশুরের নির্মম পরিণতির খবর পেয়ে পিতা এসে মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন বাড়ি। সেই সুযোগে কর্তাহীন বাড়িতে ফরিদার বাপের বাড়ির লোকেদের পদচারণা বেড়েছে। দিন নেই, রাত নেই বউ সন্তান নিয়ে শাহ বাড়িতে পড়ে থাকতেন সিরাজ উল্লাহ। কখনো তাস খেলতেন, দাবা খেলতেন আবার কখনো উচ্চ স্বরে ভেসে আসতো হাসাহাসির শব্দ। ছেলে দুটোও ছিল একেবারে বিচ্ছু। সুযোগ পেলেই নাজির আর নওশাদকে এসে চিমটি কাটতো। কখনো বা কাঁচা চাল মুঠো করে ঢুকিয়ে দিতো মুখে। নাসরিনের এসব সহ্য হতো না। ছেলে দুটো ধবধবে ফর্সা। রোদ বা ভারী কিছুর ছোঁয়া লাগলেই শরীর হয়ে উঠতো লাল। তাই মাঝেমধ্যেই ফরিদাকে ডেকে বলতেন,“আমনের ভাই পুতগো সামলাইয়া রাইখেন। আমার পোলাগো বিরক্ত করে ক্যান?”
“পোলাপাইন মানুষ এমন একটু করেই।”
“হের লাইগাই সামলাইয়া রাখতে কইছি। আমার এসব পছন্দ না। আমার আদরের পোলাপাইন।”
“আমগো বুঝি ফালাইন্না?”
“ফালাইন্না না হইলে তো সামলাইয়াই রাখতেন।”
এক কথা দুকথা থেকে লেগে যেতো বড়ো ধরণের ঝগড়া। ফরিদা কথায় না পেরে গালাগালি করতেন, মারার জন্য তেড়ে আসতেন। শ্বশুরের মৃত্যুর পর নাসরিন যেন বিশাল এক অথৈ সাগরে পড়ে গেলো। কোনদিক কীভাবে সামাল দেবেন বুঝে উঠতে পারেন না। তার মধ্যেই ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলো। মেজো ভাইয়ের মাস্টার বাড়ি প্রীতি আমিরুল শাহর একদম পছন্দ নয়। বহুবার সাবধান করেছেন, ওদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করেছেন। বুঝিয়েছেন, ওরা আমাদের শত্রু। কিন্তু সুবহান আলী শাহ মানতে নারাজ। ফরিদা আলাদা সংসারের জন্য শুরু করলেন দিনরাত বায়না। সিরাজ উল্লাহও দুলাভাইকে বুঝালেন,“এহনি তো সব নিজের দখলে নিয়া নেওয়ার সময়, দুলাভাই। আর কতকাল ছুডো ভাইগো সামনে নিচু হইয়া থাকবেন? আমনেই তো শাহ বাড়ির বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব।”
আমিরুল শাহ বিপাকে পড়লেন। এমনিতেও অবস্থা বেগতিক। পাওনাদারের অভাব নেই, জমিজমাও কম বিক্রি করেননি। সবার মুখ বন্ধ করার উপায়ও তো খুঁজতে হবে নাকি! নইলে নিজের তৈরি গর্তে নিজেকেই পড়তে হবে। সবটা সামলে নিতে একদিন সময় করে জমিজমা ভাগাভাগির কাজে বসলেন তিনি। সর্বপ্রথম সুবহান আলী শাহর কাছে ব্যবসায়ের ভাগ চাইলেন। সুবহান আলী শাহ তাতে নারাজ হয়ে বললেন,“আব্বায় তোমারে ব্যবসার ভাগ দিতে নিষেধ কইরা দিছে। আগেও আমগো সয় সম্পত্তির অনেক ক্ষতি করছো তুমি। আর ক্ষতি করতে দিমু না।”
“তাইলে আমি চলমু কেমনে? মুমিন চলবো কেমনে? সংসার তো আমগোও আছে।”
“তোমরা জমিজমা, ক্ষেত খামারের দেখভাল করো। আরতে গিয়া বও, ঘুরাঘুরি করো। যা লাভ হইবো তা না হয় তিন ভাগ হইবো।”
আমিরুল শাহ নারাজ হলেন। ভাগ বাটোয়ারা তাঁর পছন্দ নয়। শেষে কিনা ছোটো ভাইয়ের অধীনে চলতে হবে? চাপা গর্জন দিয়ে বললেন,“আব্বা এহন আর নাই। তোর পিরিতের আকবর চাচায় তাঁরে খুন করছে। তাই হের নিয়মও আর এই বাড়িত চলবো না। শাহ বাড়ির বড়ো পোলা আমি। এহন থাইক্যা আমিই বাড়ির কর্তা।”
“বড়ো পোলার কোন দায়িত্ব পালন করছো জীবনে? সবসময় এই বাড়ি আর আব্বার সম্মান নষ্ট করছো। এহন তো আমার সন্দেহ হয়, আব্বারে তুমি খুন করো নাই তো?”
আমিরুল শাহ চমকান। ভয়ে ঘেমে ওঠে মুখমন্ডল। সুবহান আলী শাহ যেন আরো নিশ্চিত হন। ঘৃণায় রি রি করে ওঠে সারাদেহ। এই বিশ্বাস যদি সত্যি হয় তাহলে বড়ো ভাইকে তিনি ছাড়বেন না। তাঁর জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দেবেন। শেষমেশ সেই বৈঠকের সমাপ্তি ঘটে, আর কখনো এসব নিয়ে কথা বলেন না সুবহান আলী শাহ। মুমিনুল শাহ নীরব দর্শক হয়ে বড়ো দুই ভাইয়ের ঝামেলা দেখেন। দুজনের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।
এভাবেই দিন পার হয়। লোকে নানান কথা বলে। মাঝেমধ্যে চেয়ারম্যানের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় বাড়িতে।
সিরাজ উল্লাহর চরিত্রে দোষ আছে। রূপেগুণে শাহ বাড়ির মেয়ে বউদের মধ্যে নাসরিন, মর্জিনাকে টেক্কা দেওয়া কঠিন। যে কারো দৃষ্টি সর্বপ্রথম এদের উপরে এসেই পড়ে। তবে অহংকার, জেদের জন্যই মর্জিনার কাছ ঘেঁষা বা কথা বলার দুঃসাহসও কেউ করে না। সুবহান আলী শাহর স্ত্রীর প্রতি কি আহ্লাদ! বাড়িতে সিরাজ উল্লাহর বসবাস তাঁর পছন্দ নয়। এই নিয়ে বড়ো ভাইয়ের সঙ্গে কম ঝামেলাও হয়নি। শুধু হাতাহাতি হওয়ারই যা বাকি ছিল।
সেদিন ভরা পূর্ণিমার রাত। বিকেলে বড়ো জায়ের সঙ্গে নাসরিনের ঝগড়া হলো। ফরিদা নিজেই এসে বলেছিলেন,“তোর জামাইরে বুঝা। সব কী একলা একলা ভোগ করবি, মাগী? ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া লাগলে ভাল্লাগে?”
নাসরিন নরম হলেও সোজাসাপ্টা নারী। শাড়ি ভাঁজ করতে করতে বললেন,“আমি এসবে নাই। আমনের দেওর ভাইবা চিন্তাই সিদ্ধান্ত নিছে। সংসারের ভালা চাইলে নিজের স্বামীরে গিয়া বুঝান। বাড়ি থাইক্যা ভাইরে খেদান। হেয়ই ভাইজানরে কানপড়া দিতাছে।”
ফরিদা রেগে গেলেন,“মুখ টাইনা ছিঁড়া ফেলমু, মাগী। আমার ভাইয়ের উপরে দোষ চাপাস?”
“মুখ সামলাইয়া কথা কন। গালি আমিও দিতে পারি। আমনের ভাইয়ের চরিত্রে দোষ আছে, তার লাইগা ঘর থাইক্যা বাহির হইতে পারি না। নেড়ি কুত্তার লাহান জিভ বাহির কইরা পা থাইক্যা মাথা পর্যন্ত চাইয়া থাহে। দেখলেই গা ঘিন ঘিন করে।”
“মেজাজ খারাপ করিস না, ছুডোলোক একটা!”
“নিজের কথা কইলেন?”
“ভালা হইবো না কিন্তু।”
“আমনের ভালা হইবো না। চোর ছেচ্ছড় হঠাৎ বড়ো কিছু পাইয়া গেলে কী করবো বুঝতে পারে না। এত লোভ কইরেন না। লোভ হইলো পতনের মূল। কবে জানি আমনের ভাইয়ের ছ্যাঁচড়া গোষ্ঠীরে আমি ঘাড় ধইরা বাড়ি থাইক্যা বাহির কইরা দেই। জ্বালাইয়া খাইতাছে, আমার পুত দুইডারেও একটু শান্তি দেয় না।”
ফরিদার গা জ্বলে ওঠে। গালিগালাজ করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। সেকথা কীভাবে যেন গিয়ে পৌঁছায় সিরাজ উল্লাহর কান পর্যন্ত। রাতে ছেলে দুটোকে পাশের ঘরে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে নিজের ঘরে এসে খিল আঁটেন নাসরিন। আগে কখনো তালা দিতে হয়নি, কিন্তু শ্বশুরের মৃত্যুর পর থেকে এই বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে।
সুবহান আলী শাহ বাড়িতে নেই। ব্যবসায়িক কাজের ব্যস্ততায় প্রায়শই ফিরতে রাত হয়। নাসরিন খান না, ঘুমান না। হারিকেন জ্বালিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় ঘরে বসে থাকেন। বিকেলের ঝগড়ার পর রাতেরবেলা দরজায় টোকা পড়ল। বাইরে থেকে ভেসে এলো ফরিদার কণ্ঠস্বর,“নাজিরের মা! ও নাজিরের মা!দরজা খোল।”
“ক্যান?”
“আহা, খোল না। রাগ কইরা থাকিস না, বোইন। তহন আমার মাথা ঠিক আছিলো না। তাই কী কইতে কী কইয়া ফেলাইছি?”
মাথায় ঘোমটা টেনে দরজা খুললেন নাসরিন। ফরিদা তাকে সরিয়ে দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লেন। আশেপাশে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,“সুবহানে কই? ফিরে নাই?”
“না।”
“পোলারা কই?”
“ওই ঘরে ঘুমায়।”
কথার মাঝখানেই ভেতরে প্রবেশ করলেন সিরাজ উল্লাহ।নাসরিন ভ্রু কুঁচকালেন। নারাজ কণ্ঠে বললেন, “আমনে এইখানে! কী দরকার?”
“আমনে নাকি আমারে চরিত্রহীন কইছেন? আমি নাকি আমনের দিকে কুনজর দেই? নেড়ি কুত্তার লগেও তুলনা দিছেন। কথাডায় দুঃখ পাইছি, ভাবি। তাই একটু সাক্ষাৎ করতে আইলাম।”
নাসরিন ফরিদার দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকালেন। বললেন,“বাইর হন ঘর থাইক্যা। এত রাইতে নাটক করতে আইছেন?”
সিরাজ উল্লাহ আরো এগিয়ে এলেন। অধরে নোংরা হাসি। তা দেখে গা জ্বলে উঠলো নাসরিনের। দরজার কাছে দেখা গেলো চেয়ারম্যানকেও। নাসরিনের বুকটা ধক করে উঠলো। অশনি সংকেত পেয়ে গেলো যেন মস্তিষ্ক। আতাউর রহমান বললেন,“আমিও ভাবির লগে দেখা করতে আইলাম। আমনের যত তেজ খালি জা গো লগেই। আমগোরেও একটু দেহান সেই তেজ।”
“বাইর হন ঘর থাইক্যা। চিল্লামু কিন্তু। আমার স্বামী যদি দেহে…
“কী করবো ওই বলদায়? হের কথা বাদ দেন। আগে আমিও আমনের তেজ দেখমু। কুত্তা কইছেন অথচ কুত্তার কামড় খাইবেন না তা কেমনে হয়?” সিরাজ উল্লাহ বললেন।
আতাউর রহমান রাগ করলেন,“আমি থাকতে তুই? বেশি উজাইস না।”
ফরিদা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। নাসরিনও তার পিছুপিছু বের হওয়ার চেষ্টা করেও পারলেন না। সিরাজ উল্লাহ তাঁর চুলের মুঠি টেনে ধরে আটকে দিলেন। আতাউর রহমান হেসে ঘর থেকে বের হয়ে যেতেই বাইরে থেকে শিকল আটকে দিলেন ফরিদা। নাসরিনের রূহ কেঁপে উঠলো। চিৎকার করে ডাকলেন,“দরজা খুলেন, বুবু। খুলেন কইতাছি। এইডা আমনে করতে পারেন না, বুবু। আমি আমনের ছুডো বোইনের মতো। এই নোংরামি আল্লাহ সইবো না। খুলেন কইতাছি। মাপ চাই, বুবু।”
নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী ফরিদার কান পর্যন্ত সেই ডাক পৌঁছায় না। সিরাজ উল্লাহ পৈশাচিক হাসলেন। লুঙ্গি তুলে চুলের মুঠি ধরে থাপড়ালেন সদ্য যৌবনে পদার্পন করা যুবতী নাসরিনের দুই গালে। নাসরিন কাঁদছে, চিৎকার করছে। আকুতি মিনতি করে বলছে, “আমার দুইডা পোলা ওই ঘরে ঘুমায়। আমি ছাড়া কে ওগো আদর, যত্ন করবো? কে খাওয়াইবো ওগো? আমনের দেওর একটু পর বাড়িত আইয়া পড়ব। আমারে ছাড়া ওরা থাকতে পারে না। একটু মায়া করেন। ছাইড়া দেন, ভাই। পায়ে পড়ি আমনের। আমি আমনের বোইনের মতন। ও আল্লাহ!”
“বোইন!” শরীর দুলিয়ে হাসলো পিশাচটা। শুনলো না কিছু। চার দেয়ালের ভেতরে এক অসহায় নারীর শ্লীলতাহানি করে জানোয়ারের মতো খুবলে খুবলে তাকে খেলো। যেভাবে পারলো কষ্ট দিলো। একসময় চিৎকার থামাতে নাক, মুখ চেপে ধরে বিচ্ছিরিভাবে বললো,“জামাইয়ের বেলা তো রস ঝইড়া পড়ে। তহন তো কোনো শব্দ হুনি না। আমার বেলায় যত তেজ!”
ফরিদা বারান্দায় দাঁড়িয়ে শুনছেন সব। আশেপাশে মানুষের বসবাস কম। বর্তমানে যেখানে আমিরুল শাহর দালান উঠেছে সেখানেই পূর্বে ছিল সুবহান আলী শাহর মাটির ঘর। একসময় হঠাৎ সব চিৎকার, হাহাকার থেমে গেলো। সিরাজ উল্লাহ কার্য শেষ করে উঠে বসলেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহবশত নাকের কাছে আঙুল নিতেই থমকে গেলেন!
চলবে _________

