যাত্রাপথ লেখনীতে: #মাশফিত্রা_মিমুই [পর্ব:৬০]

0
23

#যাত্রাপথ
লেখনীতে: #মাশফিত্রা_মিমুই
[পর্ব:৬০]

ক্লান্ত বিকেল হাসপাতালে কাটিয়ে দিয়ে সন্ধ্যা নামার পূর্বে গ্ৰামে ফিরলো নাজির। গন্তব্যহীন পথের পথিক হিসেবে কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়িয়ে এশার নামাজের পর উপস্থিত হলো সামাদ মিয়ার ডেরায়। ফাল্গুন, চৈত্র মাসে ট্রলার নিয়ে তেমন একটা বের হন না তিনি। এই সময়ে মাছের ব্যবসায় মন্দা চললেও সুদের ব্যবসা চলে রমরমা।

সামাদ মিয়ার ডেরায় ভিড় লেগেছে। বাইরে বসে দাবা খেলছে হৃদয় আর তার সমবয়সী কয়েকজন ছেলে। মাথার উপরে বৈদ্যুতিক হলদে আলোয় নাম না জানা পোকারা ঘুরপাক খাচ্ছে। গত বছর ছেলের বিয়ে দিয়েছেন সামাদ মিয়া। সেই বউ এখন পাঁচ মাসের গর্ভবতী। নাজিরকে দেখতেই তার দাবার গুটিতে চলা ব্যস্ত হাত থেমে গেলো। চঞ্চল কণ্ঠে বললো,“কেমন আছো, নাজি চাচা? আব্বায় ভিতরে। আব্বা, নাজির চাচা আইছে!”

“ভালাই, তোর কী খবর?”

“এইতো চলতাছে।”

পর্দা সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল নাজির। বাজারের মাঝামাঝিতে সামাদ মিয়ার কারবার। বছরের অর্ধেক সময় এখানে প্রচুর ভিড় লেগে থাকে। গ্ৰামের মধ্যবিত্ত দরিদ্র থেকে শুরু করে অধিকাংশ লোক এখান থেকে ঋণ নিয়ে ফসল ফলায়, জমি বন্ধক রেখে টাকা নেয়, মেয়ে বিয়ে দেয়।

সামনে রাজকীয় একটি কাঠের বাক্স রাখা। মোটা জাজিমের উপর বসে বালিশে হেলান দিয়ে আছেন সামাদ মিয়া। পাশেই একটা লোক বসে কাঁদছে, হাত জোড় করে মিনতি করছে। যার ফলে তাঁর মুখমন্ডলে খেলা করছে বিরক্তি। নাজির এসে কেদারায় বসলো। সামাদ মিয়া ইশারা করতেই লোকটাকে টেনে বাইরে নিয়ে গেলো জাকির। পান চিবোতে চিবোতে দুদিকে মাথা নেড়ে তিনি বললেন,“জাইনা বুইঝা ঋণ নিছে, কাগজে টিপসই পর্যন্ত দিছে। এহন কয়, আমারে আরেকটু সময় দেন। সময় কী কম দিছি? এত সময় দিলে আমি কেমনে চলমু, বাপ?”

“কী বন্ধক রাখছিল?”

“দুইডা গাভী।”

“লইয়া আইছেন?”

“হেয়ই দিয়া গেছিল। এহন ট্যাহা না দিলে ফেরত দেই কেমনে? সুদও দিতে পারে নাই। তাই কইছি, আরো কিছু ট্যাহা লইয়া যাও। গাভী আমি আর ফেরত দিমু না। তোর ভাবির আবার পছন্দ হইছে।”

নতুন করে আরেকটা পান মুখে গুঁজে হাঁক ছেড়ে বললেন,“জাকির, চিনি ছাড়া দুই কাপ চা দিয়া যা।” নাজিরের উদ্দেশ্যে বললেন,“হুনলাম, তোর ক্ষেতে নাকি কেডায় আগুন দিছে? তোর ছ্যাড়া দুইডারেও নাকি পিডাইছে? কী ঘটতাছে এইসব? কেমন আছে ওই দুইডায়?”

“ভালাই জখম হইছে। ঠিক হইতে সময় লাগবো।”

“কাউরে সন্দেহ হয়? হঠাৎ কইরা কী যে শুরু হইলো? মাইনষে মাইনষের সুখ দেখতে পারে না। অনেক ক্ষতি হইছে না রে, নাজির?”

“ক্ষতি মানে? কী করমু কিছুই বুঝতাছি না। সারাদিন বাড়িতও যাই নাই। হাসপাতাল থাইক্যা সোজা এনে আইছি।”

“ভালাই করছোস। আমি আরো হৃদয়রে কইলাম, তোরে দেখলে যাতে আইতে কয়। সারা বিহাল বাজার দিয়া খুঁইজা আইয়া এহন দাবা খেলতাছে।”

“শকুনের নজর লাগছে। নওশাদরে বিদেশে পাঠানের লাইগা কত ধারদেনা করলাম! আমনের কাছেই তো জমি বন্ধক রাখছি। অথচ জীবনে একটা ট্যাহাও ঋণ নেই নাই কেউর থাইক্যা। এহন আবার! কত খরচ যে ধানের পিছনে গেছে। কতদিন আগে গরু মরছে। কী করি কন তো?”

“হুইনা আমারো খারাপ লাগতাছে। কিন্তু কী করমু ক? আমিও খাই সুদের ব্যবসা কইরা। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ আইলে ট্রলার লইয়া বাহির হই। লোক লাগামু নাকি? কার কাম জানা প্রয়োজন, শত্রুরে চিনা রাখা ভালা।”

“লাভ কী, ভাই? এহন এসবে জড়াইয়েন না। দরকার হইলে আমিই কমু।” ইতস্তত করে নাজির পুনরায় বললো,“সময় আরেকটু বাড়াইয়া দেওয়া যায় না?”

সামাদ মিয়ার মুখখানা মলিন হলো,“কী কস? এমনে করলে ব্যবসা টিকবো?”

“আমি কী ঋণখেলাপির মানুষ? প্রয়োজন হইলে দ্বিগুণ ফিরাইয়া দিমু না হয়।”

“তোর যেই অবস্থা, এহন আরো ট্যাহার প্রয়োজন। হুনছি তোর বউ নাকি পোয়াতি? এই সময়ে ভালামন্দ খাওয়া লাগে। আবার ভাইডাও তো বিয়া করছে। যত দিন না বিদেশে যায় ততদিন তোরই চালাইতে হইবো। কেমনে শোধ করবি? এর থাইক্যা লেহাপড়া কইরা জমি আমারে দিয়া দে, আমি ভালা দাম দিয়া দিমু।”

“এই ব্যবসা আমার লগে অন্তত কইরেন না, ভাই। শরীরে যতদিন রক্ত আছে ততদিন নাজির শাহর না খাইয়া মরতে হইবো না। আমি কী পরিস্থিতি থাইক্যা উইঠা দাঁড়াইছি আমনে খুব ভালা কইরাই জানেন। গোয়ালে এহনো গরু আছে, খাসি আছে। সামনের ঈদে বিক্রি করমু। মিল জমজমাট চলতাছে, কয়দিন পর আরো জমবো। নওশাদেও দেশ ছাড়বো। ভালা এক কোম্পানিতে কাম পাইছে। মাস খানেক পর ওয়ই রোজগার করবো। মাইনষের জীবনে সবসময় যেমন ভালা দিন থাকে না, তেমন খারাপ দিনও থাকে না। আমনেই তো শিখাইছেন।”

জাকির চা দিয়ে গেলো। সামাদ মিয়া খারদানে পিক ফেলে চায়ে চুমুক দিয়ে মাথা নাড়ালেন,“তোরে আমি বিশ্বাস করি। আমি চাই তোর অনেক উন্নতি হোক। কিন্তু নিজের ধান্দার কথাও তো ভাবতে হইবো। তবে চাপ নেইস না। এহনি ট্যাহা দিতে কই নাই। কত সময় পইড়া রইছে!”

নাজিরের নিজেকে অসহায় লাগছে। এত অসহায় যে শেষ কবে সে হয়েছিল, মনে পড়ে না। সামাদ মিয়া নিজের ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে লাগলেন। অন্যমনস্ক নাজিরের শ্রবণালীতে সেসব পৌঁছালো না। তার চিন্তা বাড়ছে, মনে হচ্ছে মাথা ফেটে যাবে। ঘরে যা চাল আছে তা মাস খানেক পর শেষ হয়ে যাবে। এ বছর চাল কিনেই খেতে হবে, মিল্টন লতিফের চিকিৎসার খরচও বহন করতে হবে। তার জন্যই তো আজ ওদের এই দুরাবস্থা।

সামাদ মিয়া বেশ কয়েকবার ডাকলেন তাকে। শেষে আলতো ধাক্কা দিয়ে বললেন,“কী রে, কই হারাইয়া গেছোস?”

ধ্যান ভাঙলো নাজিরের। আমতা আমতা করল। কিন্তু যথোপযুক্ত জবাব দিতে পারলো না। সামাদ মিয়া দূরত্ব মিটিয়ে আরেকটু কাছ ঘেঁষলেন। সতর্ক কণ্ঠে বলে উঠলেন,“আমার মনে হয় তোর চাচাগো কারো হাত আছে। বুঝি না, এই চাচা জাতটা খারাপ ক্যান? নিজের রক্তের লগে এত বেঈমানি কেমনে করে?”

“ক্যান মনে হইলো?”

“মনে না হওয়ার কী আছে? তারা ছাড়া আর কেডায় করবো? সবাই তো তগোরে ডরায়। আগ বাড়াইয়া শত্রু হইতে যাইবো ক্যান?”

“কী করমু কন? ঘরের শত্রু দমন করা কঠিন।”

“তা ঠিক। দুনিয়ার প্রত্যেক বাড়িতে এই এক সমস্যা। আমার বাপ মরতে না মরতেই আমার চাচতো চাচায়ও সেই সুযোগটা লুটতে আইছিল। ভাবছিল, সবুরের পোলা সামাদ একলা। হেরে সহজে ঠকানো যাইবো। তাই দুইদিন পর আইলো ভিটে বাড়ি ভোগ দখল করতো।”

“এই ঘটনা হুনছিলাম। পুলিশে নাকি আমনেরে তার খুনের দায়ে ধইরা লইয়া গেছিল?”

ভয়ের বদলে সামাদ মিয়া হেসে কুটিকুটি হলেন,“তুই আপনা লোক। তোর কাছে আর কী লুকামু? শালার ঘরের শালায় পোলাগো লইয়া আমার বাপের ভিটে জমি দখল করতে আইছিল। আমি দিছি বাঁধা। তাই আমারে সবার সামনে চটকানা মারছিল। তুই তো জানোস, আমি লোভী প্রকৃতির মানুষ। ট্যাহা, সম্পদ আমার যৌবনের প্রথম পেরেম। বয়স কম, তাই রাগ আছিলো বেশি। তহন রহমত চাচা, জাকিররে ডাইকা আইনা লাঠি নিয়া গেলাম আটকাইতে। কি কাইজ্জা, মারামারি যে লাগলো হেইদিন! শালায় আমার পিঠে জোরে বাড়ি মারছিল, আমিও রাগের মাথায় জায়গা মতন দিছিলাম বাঁশের কঞ্চি ঢুকাইয়া। হা, হা, মনে হয় দুর্বল আছিলো। লগে লগে শেষ। কী লাভ হইলো ঝামেলা কইরা? পরে হের পোলারা আমারে জেলে ঢুকাইলো। এক মাসও রাখতে পারে নাই। সবাই আমার পক্ষে আছিলো। এমনকি ফতেহ দাদায়ও। এর লাইগাই বুইড়ারে আমি বেশি পছন্দ করতাম।”

নাজির বিস্ময় ভরা চোখে তাকিয়ে রইলো লোকটার মুখের দিকে। এখনো তিনি হাসছেন। বললেন,“নিজে বাঁচলে বাপের নাম। এমন একটা প্রবাদ আছে না? যদি প্রমাণ পাস যে এর পিছনে হেরা আছে তাইলে ক্ষতিপূরণ দিতে কইবি। না দিলে জায়গা মতন ভইরা দিবি। তবে শুধু ভইরা দিলেই হইবো না। সুযোগ মতন ভরতে হইবো। যাতে প্রমাণ না থাকে। হারামখোরডা এহন আমার ব্যবসায়ও লাল বাত্তি ধরাইতে চাইতাছে। কাঁচামালের ব্যবসা থুইয়া মাছের ব্যবসায় নামবি ক্যান? যত্তসব।”

চাচাদের প্রতি সামাদ মিয়ার ক্ষোভ এবার বুঝতে পারলো নাজির। তবে শেষ কথাটা তার মস্তিষ্কে গেঁথে গেলো। রাত গভীর হতেই নিঃশব্দে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ল সে। কিন্তু বাড়ি ফিরলো না।

রাতের খাবার খেয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে কাচারি ঘরে ঢুকলেন মুমিনুল শাহ। আমিরুল শাহ থুথু দিয়ে টাকা গুনায় ব্যস্ত। সামিউল বাবার পাশে বসে হিসাব লিখছে। ছোটো ভাইকে দেখা মাত্রই কিছু টাকার বান্ডিল বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেললেন আমিরুল শাহ। দৃশ্যটা মুমিনুল শাহর নজর এড়ালো না। তবুও না দেখার ভান করে বসে পড়লেন কেদারায়। জিজ্ঞেস করলেন,“কীয়ের ট্যাহা এডি? আইজকার বেচা কেনার?”

“হ।”

“কী রে সামিউল, শাহরিয়াররে নাকি আমগো ভাগেরটা দেস নাই? দিনদিন বাটপারি শিখতাছোস কইত্তে?”

সামিউল আড়চোখে পিতার দিকে একবার তাকালো। নজর ফিরিয়ে হেসে বললো,“চাচার লগে বাটপারি করে কেমনে? দিনকাল ভালা না, ছুডো মানুষ এত ট্যাহা যদি সামলাইতে না পারে? তাই আমিই একলগে লইয়া আইলাম। আব্বা, দিয়া দেন তো।”

টাকাগুলো গোনা শেষে দুই ভাগের এক ভাগ ভাইয়ের সামনে রাখলেন আমিরুল শাহ। মুমিনুল শাহ কিছু বললেন না। টাকাটা ফতুয়ার পকেটে রেখে বললেন, “নাজিরের ক্ষেতে আগুন লাগাইছে কেডায়, ভাইজান?”

“আমি কী জানি? তুই লাগাস নাই?”

মুমিনুল শাহ হাসলেন,“আমারেও মিছা কথা কওয়া শুরু করছো, ভাইজান? আমি কী তোমার পর? কম উপকার জীবনে করছি?”

আমিরুল শাহ ভারি আশ্চর্য হলেন,“মিছা কথা কমু ক্যান? আগুন লাগাইলে তুই জানতি না? আমি তো আরো ভাবছি, তুই মনে হয় লাগাইছোস। আমি নিজে ওরে সামলানোর দায়িত্ব তোরে দিছিলাম। তাইলে? হ, এইডা সত্য যে সামিউলরে মিলে আগুন লাগানোর আদেশ আমিই দিছিলাম। কিন্তু ক্ষেতের ব্যাপারে তো জানি না।”

“কী কও? আমি আরো ভাবলাম তুমি। তাইলে এই কামডা করল কেডায়?”

“মহা চিন্তায় ফালাইয়া দিলি তো।”

“আর চিন্তা! তোমার পোলাডাও তো কোনো কামের না। ভরসা কইরা একটা কাম দিলা অথচ পারলো না, ব্যর্থ হইয়া ফিরলো।”

সামিউল মাথা নিচু করল,“মিল্টনডার যেই তেজ! ওর চিল্লাচিল্লিতে লতিফ, পাহারাদার সব আইয়া পড়ছিল। বেশিক্ষণ থাকলে নির্ঘাত ধরা পড়তাম।”

আমিরুল শাহ ইশারায় ছেলেকে চলে যেতে বললেন। হেসে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললেন,“যেয় করছে ভালাই করছে। অনেক উজাইছিল। বাপের অবস্থা দেইখাও শিক্ষা হয় নাই। হেইদিন আমারে কয়…

“কী কয়?”

বলতে গিয়েও কিছু একটা ভেবে থেমে গেলেন তিনি। ভাইকে থেমে যেতে দেখে মুমিনুল শাহর কৌতূহল বাড়লো। তবুও চুপ থাকলেন। মাথা নাড়িয়ে কথায় সায় জানালেন। তাঁর মনে যে কী চলছে কে জানে?
_______

মিছরি স্বামীর চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়েছে। বিকেলে বমি করে ভাসিয়েছে, শরীর এখন ভীষণ দুর্বল। নওশাদ একবার ভাইকে খুঁজতে বের হয়েছিল। না পেয়ে সন্ধ্যা হতেই বাড়ি ফিরে এসেছে। মিছরি তাকে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল,“পেয়েছেন?”

তাকে নিরাশ করল নওশাদ,“না, মনে হয় এখনো হাসপাতালে। আপনি অযথা চিন্তা করবেন না। ভাই নিজের খেয়াল নিজে রাখতে পারে।”

মিছরি তবুও শান্তি পায় না। নাজিরের দুর্বলতা আর কেউ না জানলেও তার সহধর্মিণী হিসেবে মিছরি তো জানে। শালিক তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার অনেক চেষ্টা করল। কিছুতেই কিছু হলো না। সারারাত সে ঘুমালো না। জায়নামাজে বসে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ল। ভোরের দিকে চোখ লেগে যাওয়ায় আর বসে থাকতে পারলো না সেখানে। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।

খোপে মোরগ ডাকছে। পাখিরা খোলা আকাশে উড়ে বেড়িয়ে কিচিরমিচির শব্দের ঝড় তুলেছে। আকাশ হুট করেই গর্জে উঠলো। দরজায় খটখট শব্দ হলো। ভেসে এলো ডাক,“তাল মিছরি।”

ক্লান্ত, দুর্বল দেহী মিছরির ঘুমন্ত শ্রবণালীতে সেই ডাক পৌঁছালো না। পাশ থেকে উঠে বসলো শালিক। সারা রাত সে বোনের কাছেই ছিল। তার সঙ্গে সেও একসময় ঘুমিয়ে পড়েছিল বিছানায়। মিছরিকে আর জাগালো না। শাড়ির আঁচল ঠিক করে মাথায় ঘোমটা টেনে ঘরে আলো আসার জন্য খুলে দিলো জানালার কপাট। দরজা খুলে ইতস্তত ভঙিতে সালাম দিলো, “আসসালামু আলাইকুম, ভাইজান।”

সারাদিন, রাত ঠিকঠাক না খেয়ে নাজিরের মুখটা শুকিয়ে গেছে। ভেবেছিল, বাড়ি ফিরেই হয়তো দেখতে পাবে তার অভিমানী স্ত্রীকে। কিন্তু অন্য কাউকে দেখে অপ্রস্তুত হলো। সালামের জবাব নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,“আমার বউ কই?”

“ঘরে, সারারাইত আমনের চিন্তায় সজাগ আছিলো। এইতো একটু আগেই ঘুমাইছে।”

“আর নওশাদ?”

“উনিও উনার ঘরে। আমনেরে না পাইয়া তিনিও অনেক রাইত পর্যন্ত সজাগ আছিলো।”

“আচ্ছা, তুমি ঘরে যাও।”

শালিক চলে গেলো। যাওয়ার আগে বলে গেলো,কাল দুপুর থেকে যে মিছরি না খাওয়া। নাজির ঘরে প্রবেশ করল। সারারাত যে কোথায় কোথায় সে ঘুরেছে ঠিক নেই। মানুষের সঙ্গ বিরক্ত লাগায় বসেছিল গিয়ে ধান ক্ষেতের ধ্বংসাবশেষে। কীসব যে ভাবলো! কতশত ফন্দি আঁটলো! নিজেকে নিয়ে আজকাল ভাবলেই নাজির অবাক হয়। এত ধৈর্য তার এলো কোথা থেকে? সে তো এমন ধৈর্যশীল ছিল না কখনো। ছিল রাগী, উচ্ছৃঙ্খল, পরিশ্রমী এক ছেলে। যে কাউকে বিশ্বাস করে না, ভাঙে না, খারাপ জেনেও কারো সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে না, কোনোকিছু না ভেবেই করে অন্যায়ের প্রতিবাদ। অথচ আজ!

শুধুমাত্র পিতা-মাতার পরিণতি নিজের সাথেও ঘটুক চায়নি বলেই নাজির ধৈর্য ধরে ওৎ পেতে ছিল। স্ত্রী, সন্তানকে সুন্দর একটা পরিবার আর জীবন দেওয়ার জন্য ঝামেলায় জড়ায়নি, ভাইকে স্থায়ী ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য নিজে প্রতিশোধের দহনে পুড়েও সব সহ্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু লাভ কী হলো? সব আঘাত তো এই পরিবারটার উপরে এসেই পড়ছে। নাজির এবার ধৈর্য হারিয়ে ফেলল। রাতে এ নিয়েই নানান পরিকল্পনা করেছে।

বিছানায় বসে স্ত্রীর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালো সে। বহুদিন পর বোধহয় মেয়েটিকে এভাবে দেখছে। সেই প্রথম সাক্ষাতের কথা মনে পড়ে গেলো। কী বকাই না দিয়েছিল সেদিন! তারপর যতবার দেখা হয়েছে ততবার মাস্টার বাড়ির মেয়ে হিসেবে বাঁকা নজরেই দেখেছে। একে তো নাজির বিয়ে করেছিল কষ্ট দিয়ে সবার থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার আশায়। কিন্তু সেই নাজিরের কী যে হলো? বিয়ের পর যতবার মেয়েটার প্রতি দুর্বল হচ্ছিলো ততবার সে বিরক্ত হচ্ছিলো, ইচ্ছে করে রাগানোর জন্য গালমন্দ বা কটু কথাও বলতো। নাজিরের হঠাৎ মনে পড়ল, অনেকদিন মেয়েটাকে সে রাগায় না, বকে না। উল্টে নিজেই তার রাগ হাসিমুখে সহ্য করে, উঠেপড়ে লাগে মান ভাঙাতে। এটাই কী তবে ভালোবাসা? কী জানি? নাজির তো এসব বোঝে না, কখনো ভাবেনি। সাহিত্যের রসও তেমন আস্বাদন করেনি। সারাক্ষণ যাত্রা করছে নিজের জীবন বদলানোর পথে।

হাত বাড়িয়েও গুটিয়ে নিলো নাজির। শরীরে ঘামের গন্ধ। যেই ছেলের দিনে দুইবার গোসল না করলে চলে না, সেই ছেলে কাল সারাদিন গোসল করেনি। বসা থেকে উঠতেই মিছরির ঘুম ভেঙে গেলো। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকিয়ে স্বামীকে দেখে ছটফট করে উঠে বসার চেষ্টা করল। নাজির তাকে ধরে ফেলল। শাসন করার ভঙিতে বললো,“আস্তে, এই সময়ে অসাবধান হইলে চলবো? আমগো বাচ্চার কথাও তো ভাবতে হইবো।”

“কোথায় ছিলেন সারারাত? কার সাথে ছিলেন? আমার চিন্তা হয় না বুঝি? বাজে লোক, খারাপ লোক।”

“খাও নাই ক্যান? পেটের বাচ্চার প্রতি মায়া নাই?”

“বাচ্চার বাপের মায়া না থাকলে মায়ের কীভাবে থাকবে? সব দায় কী শুধু মায়ের? কথা ঘোরাবেন না, উত্তর দিন। মিথ্যা বললে আল্লাহ এর বিচার করবে। শান্তি পাবেন না।”

“শান্তি আর পাইলাম কই? যহনি আসে তহনি কেউ না কেউ ছিনাইয়া নেয়।” দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিলো, “হাসপাতালে আছিলাম। ওগো অবস্থা ভালা না। সেইখান থাইক্যা ফিরা মহাজনের কাছে গেছিলাম। রাতে আর বাড়ি ফিরতে পারি নাই, মিলে থাকছি। আবার যদি কেউ আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে? পথে বসতে হইবো। উঠার আর রাস্তা নাই।”

“একটা খবর পাঠালে কী হতো?”

“মনে আছিলো না, ভুল হইয়া গেছে। মাফ করো।”

মিছরি কান্না আটকে রাখার চেষ্টা করেও পারলো না। স্বামীকে জড়িয়ে ধরলো। নাজির চোখমুখ কুঁচকে নিলো,“মাইয়াডা তো খাচ্চর! গোসল করি নাই, জড়াইয়া ধরছে।”

মিছরি তাকে ছাড়লো না। নাজির তার মাথায় হাত বুলিয়ে অনেক কষ্টে শান্ত করল। শালিক তখনি গিয়ে রান্না বসিয়েছিল। রান্না শেষে সবাইকে ডাকলো। নাজির গোসল সেরে এসে আগে স্ত্রীকে খাইয়ে দিয়ে তারপর নিজে খাবার খেলো।

বেলা বাড়লো। এতক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে চট করে শোয়া থেকে উঠে বসলো নাজির। হাতমুখ ধুয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। নওশাদ তার পিছু নিলো। বাড়িতে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পায়নি।

“সব ঠিক আছে, ভাই?”

“হ, আয় এক জায়গায় যামু।”

“কোথায়?”

“গেলেই দেখতে পাইবি।”

নওশাদকে আর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে আগে আগে হাঁটতে লাগলো নাজির। উপায়ান্তর না পেয়ে নওশাদও তার পিছুপিছু হাঁটতে লাগলো। মহা সড়কে যেতেই ভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলো টেম্পু। দুই ভাই উঠে বসলো তাতে।
________

বেলা এগারোটা। আজ বহুদিন পর আড়তে এসেছেন আমিরুল শাহ। কর্মীরা তাকে দেখেই কুশল বিনিময় করে চা দিয়ে গেলো। চা খেতে খেতে গুদামে বসে আশেপাশের দোকানদারদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠেছেন তিনি। এতক্ষণ পারভেজ এখানে বসা ছিল। তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বড়ো ছেলেটাকে পাঠিয়েছেন ঢাকায়, কিছু কাজে। আর ভাই তো অন্য কাজে ব্যস্ত।

দরজায় কেউ কড়া নাড়লো। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে অনুমতি দিলেন,“আয়।”

ভেতরে প্রবেশ করল পরিচিত এক মুখ। তৎক্ষণাৎ চা গলায় আটকে গেলো, কেশে উঠলেন আমিরুল শাহ। প্রতিবেশী আড়তদার দ্রুত উঠে গিয়ে তাঁর মাথায় চাপড় দিয়ে বললেন,“আহা, সাবধানে। এই বয়সে খাওন গলায় বাঁধাইয়া তো একদিন মরবেন।”

নিজেকে সামলালেন তিনি। মনে মনে বললেন,“মরণ তো সামনে আইয়া নাচতাছে।” মুখে বললেন,“এইডা আমার ভাতিজা। কী রে, তুই হঠাৎ এইখানে? জানলি কেমনে আমি যে এনে আইছি?”

“পারভেজরে জিগাইতেই কইয়া দিলো।”

মনে মনে অপদার্থ ছেলেকে গালি দিলেন তিনি। মুখে বললেন,“কোনো প্রয়োজনে আইছিলি?”

“হ, একটু দরকার আছিলো। সবার সামনে কওয়া যাইবো না।”

কৌতূহলী হয়ে উঠলেন আমিরুল শাহ। কোনোমতে তাদের বিদায় দিয়ে কেদারায় পা তুলে বসলেন। বললেন,“কী কওয়ার লাইগা এতদূর আইয়া পড়ছোস? কইয়া ফেলা।”

নাজির তাঁর মুখোমুখি কেদারায় বসে টেবিলে পানি ভর্তি জগ থেকে পানি খেয়ে গলা ভেজালো। বললো, “আমনের কিছু পাপ কর্মের হিসাব খুলতে আইছি।”

হাসলেন আমিরুল শাহ। বললেন,“সারা রাইত নাকি বাড়িত ফিরোস নাই? লস খাইয়া মাথা টাথা নষ্ট হইয়া গেছে নাকি?”

“মাথা নষ্ট হইবো ক্যান? ক্ষতি কেমনে পোষাইতে হয় আমার জানা আছে।”

“কেমনে?”

“আমার লগে এক জায়গায় যাইতে হইবো।”

“কোন জায়গায়?”

“উপজেলা ভূমি আফিস।”

লোকটা কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “ক্যান যামু? ওইহানে কী কাম?”

“ভূমি আফিসে মাইনষে ক্যান যায়?”

আমিরুল শাহ বুঝলেন না। বিরক্ত হয়ে বললেন,“কী শুরু করলি, বাপ? ব্যবসা করতে গেলে একটু আধটু ক্ষতি হইবোই। এর লাইগা পাগল হইতে হয়? সমস্যা সব জায়গাতেই থাহে। সময়ের লগে লগে ঠিক হইয়া যাইবো।”

“সময়ের লগে কিছুই ঠিক হয় না, চাচা। হয় মানাইয়া লইতে হয়, নয়তো সমস্যা গোঁড়া থাইক্যা উপড়াইয়া ফেলতে হয়। আমার বাপ, দাদা থাইক্যা শুরু কইরা আমার সব সমস্যার মূল তো আমনে।”

“কী করবি এহন? মানাইয়া নিবি?”

“না, উপড়াইয়া ফেলমু।”

আমিরুল শাহ চমকালেন। নাজির হেসে বললো, “আকবর মিয়ায় মরার আগে আমারে অনেক কথাই কইয়া গেছে। তার মধ্যে একটা হইলো, সম্পদের ব্যাপার। হুনছি আমার দাদার নাকি অনেক জমিজমা আছিলো? প্রায় একশ বিঘার উপরে। সেইডারে তিন ভাগ করলে কত হয়, চাচা? কিন্তু দিলেন তো মাত্র… বাকি একত্রিশ বিঘার হিসাব যদি দিতেন?”

আমিরুল শাহ আশ্চর্য হলেন। এতদিন পর এই ছেলে আবার পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটছে কেন? সবসময়কার মতো এবারেও ছ্যাৎ করে উঠলেন,“দেখ, মেজাজ খারাপ করবি না, নাজির। যা পাইছোস তাই অনেক।”

“তা কইলে তো হয় না, চাচা। দলিল, দস্তাবেজ সব আমি আগেই তৈয়ার কইরা রাখছি। এহন আমনের একটা স্বাক্ষর লাগবো শুধু।”

“কই দলিল? কীয়ের দলিল? কী আছে তাতে?”

“দলিলে কী থাহে? জমিজমার হিসাব লেখা। এইতো কয়দিন আগে ভূমি আফিস গিয়া সব জানলাম। তাই নওশাদরে দিয়া নতুন কইরা মুক্তার ধইরা দলিল করলাম। কালীগঞ্জের থাইক্যা মোট দুই বিঘা, ধান আর আনাজ ক্ষেতের মোট সাত বিঘা, আর উত্তরের ভিটের যেই বড়ো জমিডা আছে তা সজ্ঞানে আমনে আমিরুল শাহ নিজের ভাতিজা নাজির শাহর নামে লেইখা দিবেন। এইটুকুতেই আপাতত হইবো। আমার আবার চাহিদা কম।”

এই পর্যায়ে আমিরুল শাহ রেগে গেলেন,“এক থাপ্পড় দিয়া তোমার জবান বন্ধ কইরা দিমু, বজ্জাত। সাপের পাঁচ পা দেখছোস? আমার লগে ফাইজলামি? আমি জীবনে যা করছি তা তোর বাপও করতে পারে নাই। পারলে এই জীবনডা আইজ হেয়ই কাটাইতো। আইছে আমারে হুমকি দিয়া আমার জমি আমার থাইক্যা কাইড়া নিতো। দুইদিনের ছোকরা আমারে কয় ভূমি আফিস যাইতে। এত কাঁচা কাম করলে হয়? বাঘের খাঁচায় ঢুইকা শত্রুতা করোস?”

“বাপ করতে পারে নাই দেইখা যে পোলায় পারবো না তা নিশ্চিত কেমনে? ওহ, এইডা বাঘ না কেঁচো। এই ধরণের কেঁচো নাজির শাহ হাঁটার সময় পারা দিয়া মাইরা ফেলায়।”

“আব্বাসটায় কই? আইজ তোরে দেহামু আমিরুল শাহ কী জিনিস। এতদিন কিছু কই নাই তো।”

“গাড়ি ভরা মাল আইছে দেখলাম। কামলা গো লগে
মাল নামাইতাছে। তয় চাইলে আশেপাশের লোকজন ডাকতে পারি। ভালা মানুষির মুখোশ পইরা থাকা শাহ বাড়ির কর্তার কুকর্ম জানুক তারা। জানুক কেমনে সে নিজের বাপরে ক্ষেতে ফালাইয়া কুপাইয়া মারছে, রাইতের আন্ধারে শালা দিয়া ছুডো ভাইয়ের বউরে ধর্ষণ করাইয়া খুন করছে, জানুক কেমনে নিজের আপন ভাইরে এতগুলা বছর পঙ্গু, বোবা কইরা ঘরে বন্দি কইরা রাখছে, জানুক কেমনে পারিবারিক ব্যবসা, সম্পত্তি থাইক্যা ভাতিজাগো ঠকাইছে। আমি তো এইডাই চাই।”

আমিরুল শাহ বাকহারা হয়ে বসে রইলেন কেদারায়। পা দুটো আপনাআপনি নিচে নেমে গেলো। ভাবতে পারলেন না কিছু, এই ছেলে এসব জানলো কীভাবে? কে বলেছে তাকে? নাজির মুচকি হাসে,“কইলাম না, গুরুত্বপূর্ণ কথা কইতে আইছি?”

“তুই!”

“সব জানি। সত্য কহনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। বুইড়ার কথায় তহনি মামার বাড়ি গেছিলাম, সেইখান থাইক্যাই সব ঘটনা হুইন্না মনে সন্দেহ জাগলো। নতুন এক নামের লগে পরিচিত হইলাম,‌ যার নাম মোতালেব। খুঁজতে খুঁজতে হুনি আব্বাস ভাইয়ের চাচা। আব্বারে চাইপা ধরলাম হেইদিন। আব্বা যা কইলো তাতে বুঝলাম, আমার মা পলায় নাই। সবকিছুর পিছনে আমনেগো হাত আছে। হেরপরে নওশাদরে লইয়া গেলাম ভূমি আফিস। আব্বায় মরার পর গেলাম মোতালেবের বাড়ি। ব্যাডায় মরলে কী হইবো? বউ এহনো বাইচ্চা আছে। সে আমারে সব জানাইছে।”

আমিরুল শাহ বলার মতো শব্দ খুঁজে পেলেন না। মাথা ঘুরাচ্ছে। নাজিরকে তিনি যা ভেবেছিলেন নাজির তা না। এই ছেলে আগেই সাবধান করেছিল তাকে। তিনি বেশি গুরুত্ব দেননি। ভেবেছেন, সাজানো দাবার গুটি ছোট্ট এক আনাড়ি ছেলের পক্ষে সরানো সম্ভব নয়। অথচ, পিঠপিছে এই ছেলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বের করে ফেলেছে? এতদিন কি সুন্দর অভিনয় করেছে, ঘুরে বেড়িয়েছে সামনে দিয়ে। যেন জানে না কিছু। আমিরুল শাহ শুকনো ঢোক গিলে কপালের ঘাম মুছলেন। মাথার উপরে চলা বৈদ্যুতিক ফ্যানেও কাজ হচ্ছে না। দুর্বল কণ্ঠে বললেন,“হুন, নাজির।”

“হুনাহুনির সময় নাই, চাচা। অনেক হুনছি, এইবার আমনে হুনেন। আমার লগে আইয়েন। নিজের সম্মান আর জীবনের থাইক্যাও সম্পদের মূল্য কী আমনের কাছে বেশি? শেষ জীবন মাথা নিচু কইরা জেলে কাটাইতে চান নাকি?”

“হুমকি দেস আমারে? মুখের কথায় আইন চলে না। কত বছর আগের ঘটনা! কারো কিছু মনে আছে?কোনো প্রমাণ আছে? শত্রুতা কইরা টিকতে পারবি?”

“আমারে এহনো এত কাঁচা কাম করা পোলা ভাবেন? প্রমাণ, সাক্ষী সব আছে। সাক্ষ্য যদি আমনের শালায় দেয় তাইলে কী করবেন?”

“সিরাজ!”

চলবে ________

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here