মন_হারালো_বেঘোরে #লেখনীতে_মেহেরীন #পর্ব_১৯ (বর্ধিতাংশ)

0
28

#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_১৯ (বর্ধিতাংশ)

কলেজের করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় রিমির নজর গেল ক্যাফেটেরিয়ার কোণের টেবিলটার দিকে। ইনায়া বরাবরের মতোই ক্লাসের চেয়ে শাফিনের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতেই বেশি ব্যস্ত। মেয়েটা যেন আবেগের এক অতল সাগরে ডুব দিয়েছে, যেখানে শাফিনই ওর একমাত্র ধ্রুবতারা। রিমি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ও জানে, শাফিনের ওই মায়াবী হাসির আড়ালে একটা ধূর্ত শিকারি লুকিয়ে আছে। যে ছেলে কমনরুমের আড়ালে অন্য মেয়েদের সাথে সস্তা লালসা নিয়ে ফ্লার্ট করতে পারে, সে আর যাই হোক, ইনায়ার মতো সরল মেয়ের যোগ্য নয়। রিমি যদিও ওকে সাবধান করেছিলো কিন্তু মেয়েটা পাত্তা দেয়নি বলে রিমি বুঝতে পারল, শুধু কথায় কাজ হবে না। প্রমাণ ছাড়া এই মায়াজাল ছেঁড়া অসম্ভব। তাই ও আবিদের সাহায্য চাইল। আবিদ শাফিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও মনে মনে রিমিকে ভীষণ পছন্দ করে। রিমির এক ডাকেই ও রাজি হয়ে গেল শাফিনের মনের খবর বের করতে। সেদিন দুপুরে ক্যাফেটেরিয়ায় শাফিন, ইনায়া আর আবিদ আড্ডা দিচ্ছিল। রিমি সেখানে গিয়ে খুব স্বাভাবিক হওয়ার ভান করল। তারপর পড়ার একটা জরুরি বাহানা দিয়ে আবিদকে ওখান থেকে তুলে নিয়ে এল লাইব্রেরির একদম শেষ প্রান্তের নির্জন টেবিলটায়। রিমি অস্থির হয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল — “কোনো নতুন খবর পেলে? শাফিনের সাথে কথা হয়েছে তোমার?”

আবিদ এদিক-ওদিক তাকিয়ে গলাটা নামিয়ে বলল — “হয়েছে রিমি। আমি শাফিনকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম ও ইনায়াকে নিয়ে সিরিয়াস কি না, কিংবা ও তাকে ভালোবাসে কি না। কিন্তু শাফিন কথাটা বিষয়টা হেসে উড়িয়ে দিয়েছে”

রিমির কপালে ভাঁজ পড়ল — “আর কি বলেছে?”

আবিদ ওর ফোন আর ইয়ারফোন বের করে রিমির দিকে এগিয়ে দিলো কারণ ও শাফিনের কথা রেকর্ড করে নিয়েছিল। রিমি বেশ আনন্দিত হয়ে ইয়ারফোন কানে গুঁজতে গুঁজতে বললো — “what a genius idea Abid, এটা তো আমার মাথায়ই আসেনি যে প্রমাণ এভাবেও রাখা যাবে”

রিমি এবার শুনতে শুরু করলো, মোটামুটি ৫ মিনিটের একটা রেকর্ডিং যার পুরোটাই ছিলো শাফিনের এক প্রকার জবানবন্দি! পুরোটা শুনে রিমির মাথা রাগে টনটন করে উঠলো, বিশেষ করে শেষ অংশটা যেখানে শাফিন স্বীকার করেছে যে — “ইনায়া তো জাস্ট একটা ইমোশনাল ফুল। ও এত সহজেই গলে গেছে যে ওর পেছনে কোনো খাটুনিই করতে হয়নি। এমন বুদ্ধু মেয়েকে কেউ কি আর ভালোবাসে? ও জাস্ট টাইমপাস করার জন্য পারফেক্ট।”

কথাটা শোনা মাত্রই রিমির মাথার র’ক্ত যেন চট করে মাথায় উঠে গেল। নিজের বেস্টফ্রেন্ড সম্পর্কে এমন মন্তব্য ও নিতে পারল না। রিমি ভুলে গেল ও লাইব্রেরিতে আছে। ও সজোরে টেবিলের ওপর চাপড় দিয়ে উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে উঠল — “এত বড় সাহস ওর! ইনায়াকে নিয়ে ও এরকম কথা বলার হিম্মত পায় কোত্থেকে? জাস্ট টাইমপাস? ওকে তো আমি…”

রিমির কণ্ঠস্বরের তীব্রতায় লাইব্রেরির নিস্তব্ধতা কাঁচের মতো চুরমার হয়ে গেল। টেবিলের ওপর ঝুঁকে থাকা ছাত্রছাত্রীরা আর লাইব্রেরিয়ান সবাই বড় বড় চোখে রিমির দিকে তাকাল। চারদিকের কয়েক ডজন উৎসুক চোখ যেন রিমির গায়ের ওপর তীরের মতো বিঁধছে। আবিদ তৎক্ষণাৎ রিমির হাতটা টেনে ধরে নিচু বললো — “রিমি! শান্ত হও। নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করো”

রিমি একটু ধাতস্থ হয়ে বলল — “অনেক ধন্যবাদ আবিদ। সত্যিই, তুমি শাফিনের এত ভালো বন্ধু হয়েও যে আমাকে এভাবে সাহায্য করবে, সেটা আমি ভাবতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম হয়তো তুমি ওর পক্ষ নেবে বা বিষয়টা এড়িয়ে যাবে।”

আবিদ রিমির কথা শুনে সামান্য হেসে বললো — “তুমি বলেছো আর আমি সাহায্য করব না, রিমি? এটা কি সম্ভব? তোমাকে তো আগেই বলেছি তোমার যেকোনো প্রয়োজনে, যেকোনো বিপদে আমি সবসময় তোমার পাশে থাকতে রাজি আছি”

রিমি আবারো মৃদু হেসে ধন্যবাদ জানালো। আবিদ মাথা নাড়িয়ে রিমির কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করলো। ও রিমির টেবিলের ওপর রাখা হাতটার ওপর নিজের হাতটা রাখার উপক্রম করেও থেমে গেল কারণ ওর মনে পড়লো এর আগেরবার রিমি হাত সরিয়ে নিয়েছিল। আবিদ রিমির সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করে, শাফিনের প্রসঙ্গ ছাড়িয়ে ওরা কোনো এক পড়ার বিষয়ে আলাপ শুরু করলো। লাইব্রেরির পিনপতন নিস্তব্ধতায় ওদের আলাপ যখন বেশ জমে উঠেছে, ঠিক তখনই রিমির ব্যাগটার ভেতর ফোনটা কেঁপে উঠল। সাইলেন্ট মুডে থাকায় কোনো শব্দ হলো না, শুধু স্ক্রিনটা ক্রমাগত কাঁপছে। রিমি ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করতেই ওর বুকটা ধক করে উঠল। স্ক্রিনে সেই চেনা নম্বরটা আরশান! আরশানের ফোন রিমি কখনোই কাটে না, কাটার সাহসও ওর নেই। ও দ্রুত কলটা রিসিভ করে কানের কাছে ধরল। ওপাশ থেকে আরশানের সেই ভারী আর শীতল কণ্ঠস্বর ভেসে এল — “মেইন গেটের বাইরে এসো, এখুনি।”

রিমি হকচকিয়ে গেল — “মেইন গেট মানে কী? আপনি কোথায়?”

“আমি তোমার ভার্সিটির বাইরে আমার গাড়ির সামনে অপেক্ষা করছি। দ্রুত চলে এসো”

এ কথা শুনে রিমি বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল। ও নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আরশান এখানে? এই ভরদুপুরে দেখা করতে নিজেই চলে এসেছে? রিমি খানিকটা চিন্তিত হলো কারণ এটা ভার্সিটি! কতো মানুষ এখানে, আর আরশান কখন কেমন আচরণ করে বসে তার ঠিক নেই! ও ধীর স্বরে জানতে চাইলো — “আপনি এই সময়ে এখানে কেনো এসেছেন? আমরা তো পরেও দেখা করতে পারতাম তাইনা?”

ঠিক সেই মুহূর্তেই পাশে বসে থাকা আবিদ রিমিকে চিন্তিত দেখে প্রশ্ন করে বসল — “কী হয়েছে রিমি? কোনো সমস্যা? কার ফোন?”

আবিদের এই পুরুষালি কণ্ঠস্বর ওপাশ থেকে আরশানের কানে পৌঁছানো মাত্রই লাইনের ওপারে যেন এক মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এল। আরশানের কপালে একটা গভীর ভাঁজ পড়ল, ওর চোয়াল শক্ত হয়ে এল। ও খুব নিচু আর তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্ন করল — “কোথায় তুমি এখন?”

“আমি লাইব্রেরিতে আছি, কিন্তু আপনি…”

সঙ্গে সঙ্গে আরশানের কণ্ঠের শীতলতা যেনো উবে গেল, ও ধমকে বললো — “Come here right now! আমাকে ভেতরে ঢুকতে বাধ্য করো না।”

আরশান রেগে গেছে দেখে রিমি ফোন কানে তুলেই দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে বললো — না!! আমিই আসছি, দু-মিনিটের মধ্যে আসছি।”

ফোনটা রেখেই রিমি দেখল আবিদ ওর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রিমি আবিদকে কোনোমতে বলল— “আবিদ, ওই রেকর্ডিংটা আমার ফোনে পাঠিয়ে দিও আর ইনায়া বা শাফিনকে এখনই এই বিষয়ে কিছু বুঝতে দিও না”

আবিদ আর কিছু জিজ্ঞাসা করার অবকাশই পেলো না, রিমি ততক্ষণে প্রায় দৌড়ানোর ভঙ্গিতে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেলো। ও হন্তদন্ত হয়ে ভার্সিটির মেইন গেট পার হয়ে পার্কিং লটের একদম শেষ প্রান্তের দিকে নজর দিল। বিশাল এক কৃষ্ণচূড়া গাছের ছায়ায় আরশানের সেই পরিচিত কালো গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। রিমি দ্রুতপায়ে গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়াল, আরশান গাড়ির ভেতরে আছে। ও জানালার কাঁচে দু-তিনবার বেশ জোরেই নক করল কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই দেখে রিমি কোনো দ্বিধা না করে সরাসরি গিয়ে অপরপাশের ফ্রন্ট সিটের দরজাটা টেনে খুলে ভেতরে ঢুকে বসল। গাড়ির ভেতরের এসির হিমশীতল বাতাস রিমির ঘামে ভেজা শরীরে একটা প্রশান্তি দিলো! রিমি দেখল আরশান ড্রাইভিং সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে। ওর এক হাতে একটা কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্যান। ও খুব নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে এক চুমুক পানীয় মুখে নিল, যেন রিমির উপস্থিতি ওর কাছে খুব একটা বড় ব্যাপার নয়। রিমি পরিস্থিতির গাম্ভীর্যটা একটু হালকা করার জন্য একটা বড় করে শ্বাস নিল। ও আরশানের দিকে একটু ঝুঁকে পড়ে বেশ মজা করার সুরে বলল — “বাহ! একাই একাই কোল্ড ড্রিঙ্কস খাচ্ছেন? এই গরমে আমি লাইব্রেরি থেকে প্রায় দৌড়ে এলাম, আমার জন্য একটা আনতে পারতেন! বড্ড স্বার্থপর তো আপনি!”

আরশান ক্যানটা হাতের হোল্ডারে রাখল। ওর ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি খেলে গেল, ও খুব ধীরলয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের সিটে বসা রিমির দিকে তাকাল। গাড়ির ভেতরের এসির ঠান্ডা বাতাসও আরশানের ভেতরের তপ্ত আ’গুনটাকে নেভাতে পারছে না। ও ড্রাইভিং সিটে বসে শক্ত হাতে স্টিয়ারিং হুইলটা ধরে আছে, ওর হাতের শিরগুলো রাগে ফুলে উঠেছে। ওর মস্তিষ্কে বারবার প্রতিধ্বনি হচ্ছে লাইব্রেরির সেই অপরিচিত যুবকের কণ্ঠস্বর! লাইব্রেরি মানেই এক নিভৃত কোণ, আর সেখানে রিমি অন্য একটা ছেলের সাথে একান্তে বসে ছিল এই চিন্তাটা ওকে রীতিমত পা’গল করে দিচ্ছে। ও নিজেকে শান্ত করার জন্য কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্যানটা একপাশে সরিয়ে রাখল এবং ধীরলয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের সিটে বসা রিমির দিকে তাকাল। রিমি হঠাৎ আরশানের চোখের দিকে তাকিয়ে ভয় পেলেও সেটা প্রকাশ না করে বললো — “কি হয়েছে?”

“ছেলেটা কে ছিলো?”

রিমির আরশানের প্রশ্ন শুনে হাসলো! — “আপনি কি এটা জানার জন্যে এখানে এসেছেন?

রিমির এই পাল্টা প্রশ্ন আরশানের সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেল। ও হুট করে পেছনের সিটের দিকে ঝুঁকে রিমির খুব কাছাকাছি এসে দাঁতে দাঁত চেপে প্রচণ্ড এক ধমক দিয়ে গর্জে উঠল — “Answer my question, Rimi! Who was that guy?”

এবার রিমির কণ্ঠস্বর গলার কাছে আটকে গেল। আরশানের চোখদুটো দেখে মেয়েটা মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেল! আরশান আবারো প্রশ্ন করলো — “লাইব্রেরিতে তুমি ওই ছেলের সাথে কী করছিলে? ও তোমার এত কাছের হলো কবে থেকে যে তোমার সমস্যার কথা আর কে ফোন করেছে সেটা জানতে চায়?”

রিমির অবাক হয়ে আরশানকে দেখছে, লোকটা কিনা এখন অন্য ছেলেকে নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেছে? রিমির খারাপ লাগলো! ও ফ্যাকাশে মুখে আরশানের দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল— “ও আমার ক্লাসমেট। আমরা একটা বিষয়ে কথা বলছিলাম। এর বাইরে আর কিছুই নয়।”

আরশান একটা শীতল বিদ্রূপের হাসি দিল — “ক্লাসমেট? জাস্ট কথা বলছিলে? এতো জায়গা থাকতে লাইব্রেরীতে? আর একটা ছেলে তোমার বন্ধু কবে থেকে হলো? আমি তো জানতাম শুধু আমার বোন তোমার বান্ধবী”

রিমির এবার রাগ হলো, আরশানের এই অকারণ অধিকারবোধের প্রতি ও বিরক্ত হয়ে গেছে! — “আরশান, ভার্সিটিতে আমি কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবো না করবো সেটা নিশ্চয়ই আপনার কাছে জিজ্ঞাসা করে করবো না। আপনার কথা বাধ্য হয়ে শুনছি আমি, তার মানে এই না আপনি আমার জীবনের প্রতিটা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন”

রিমির কথাগুলো শুনে আরশানের ধৈর্যের বাঁধ তখন পুরোপুরি ভেঙে গেছে। ও স্টিয়ারিং হুইলটা এক হাতে এমনভাবে চেপে ধরল যে ওর হাতের শিরাগুলো নীল হয়ে ফুলে উঠল। আরশান এক ঝটকায় রিমির দিকে ঘুরে বসল। রিমির দু-কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরল, যেন লোহার কোনো সাঁড়াশি দিয়ে ওকে সিটের সাথে পিষে ফেলবে। ও দাঁতে দাঁত চেপে, একদম নিচু আর ভয়ংকর গলায় গর্জে উঠল — “Listen to me, Rimi! তোমার লাইফ, তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস, এমনকি তোমার প্রতিটি চিন্তার ওপর শুধু আমার অধিকার। তোমার বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিকও একমাত্র আমি! Coz you are mine… only mine! আমার অনুমতি ছাড়া তুমি কোনো ছেলের সংস্পর্শে যাবেনা!”

রিমি আজ আরশানের রাগ দেখে ভয় পেলো না, বরং ওর মধ্যে যেনো জেদ কাজ করলো যে এখানে আর এক মুহুর্ত বসবে না! — “আপনার সঙ্গে আমার কোনো কথা বলার ইচ্ছে নেই”

রিমি গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিল তার আগেই আরশান এক হাত দিয়ে রিমির ঘাড়টা শক্ত করে চেপে ধরে নিজের কাছে আনলো। রিমির কোনো প্রতিবাদ বা বাধা দেওয়ার সুযোগ থাকল না। আরশান রাগের মাথায়, নিজের সবটুকু পাশবিক শক্তি দিয়ে রিমির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল। এই স্পর্শে কোনো প্রেম ছিল না বরং এটি ছিলো আরশানের নিজের কর্তৃত্ব জাহির করার চেষ্টা। ওর দাঁতের তীব্র চাপে রিমির নরম ঠোঁটটা এক নিমেষেই কেটে গেল। যন্ত্রণায় রিমির চোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। ও দুই হাত দিয়ে আরশানের শক্ত বুকটা ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু আরশানের সেই পাহাড়সম শক্তির কাছে ও ছিল বড্ড অসহায়। বেশ কিছুক্ষণ পর আরশান যখন ওকে ছেড়ে দিল, রিমি হাপাচ্ছিল। রিমির ঠোঁটের কোণ দিয়ে র’ক্ত বেরিয়েছে, আর ওর দুচোখে তখন রাজ্যের ঘৃনা। ও এক মুহূর্ত দেরি না করে, শরীরের সবটুকু শক্তি সঞ্চয় করে আরশানের গালে সজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দিল!গাড়ির ছোট্ট কেবিনের ভেতর চড়ের শব্দটা যেন বজ্রপাতের মতো শোনাল। রিমি কাঁপাকাঁপা গলায়, কান্নায় ভেঙে পড়া স্বরে চিৎকার করে উঠল….

“আমার ওপর অধিকার দেখানোর এই অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? আপনি কী ভেবেছেন, আপনি আমাকে কিনে নিয়েছেন? I hate you Arshan!”

চলবে…

[উফফ! আরশানকে থা’প্প’র খাওয়াতে পেরে এত্ত শান্তি লাগছে। good job my girl!!] 🤌

আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/18RBY21yvc/?mibextid=oFDknk

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here