প্রভামঞ্জরী #নওরোজ_মীম পর্বঃ ৪৫

0
18

#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ৪৫ (কপি করা নিষেধ)
___________________________________

জালাল শেখের ঘর থেকে বেরিয়ে তনু নিজের রুমে যেয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এবং তার ঘরের সাথে থাকা বিশাল ক্লজেট রুমে যেয়ে দাঁড়ায়। মেয়ের জীবন বিলাসবহুল করতে যা যা করতে হয় তার সবকিছুই প্রয়োজন এর চেয়ে অধিকমাত্রায় করেছেন জালাল শেখ। তারই এক ছোট্ট নমুনা মেয়ের ঘরের সাথে লাগোয়া এই বিশাল ক্লজেট রুম। যদিও প্রথমে তনু সাধারণ ক্লজেট হিসেবেই ব্যবহার করতো এই রুম কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন।
ক্লজেটের ডান পাশের জায়গাটা একটা গাড় নীল পর্দা দিয়ে আড়াল করে রাখা। তনু সেই পর্দায় হাত রেখে তা টেনে সরিয়ে দিলে সেই পাশের দেয়ালে দেখা যায় অনিলের অগণিত ছবি। তার অনিল অবশেসনের প্রমাণ যেন এসব কিছু।
অনিলের ফেসবুক থেকে একটা ছবি সেভ করে তা বড় ফ্রেম বাঁধিয়ে দেয়াল জুড়ে স্থান দিয়েছে সে। সেই ছবিতে অনিল দেশের বাইরে একটা জঙ্গল মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ক্যামেরার দিকে তার ডার্ক ব্রাউন চোখ নিবদ্ধ। চারপাশে সাদা সাদা বরফ ঢাকা। সেই বরফের উপর আবার ম্যাপল পাতার দেখাও মিলছে। সাদা বছর রাজ্যের রাজার বেশেই সেখানে অনিলের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। পরনে ব্রাউন ওভারকোট সাথে কালো প্যান্ট। পায়ে ব্রাউন বুট জুতা। ওভারকোটের ভিতর আবার কালো হাইনেক সোয়েটার পরে আছে সে তাও স্পষ্ট। হাতেও কালো গ্লভস পরে শীত নিবারণের চেষ্টা বোঝা যাচ্ছে। মাথায় ব্রাউন কাউবয় ক্যাপ। অনিলের সাথে পরিচয় হওয়ার পর তার ফেসবুক ঘেটে এই ছবি যখন তনিমা দেখে কতবার যে তার হৃদপিণ্ড থেমে গিয়েছে তা তার হিসাবেও নেই। ধীরে ধীরে সে অনিলের উপর এতোটাই আসক্ত হয়েছে যা সীমা লঙ্ঘন করেছে বহু পূর্বে।
তনুর দেয়াল জুড়ে অনিলের বড় সেই ছবি ঘিরে রয়েছে ছোট, মাঝারি ফ্রেমবন্দী আরও শখানেক ছবি। প্রতিটি ছবিই তনুর মনের মধ্যে বন্দী যেন। এখন এই অনিল আবরারকে তার লাগবেই। যেভাবেই হোক। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করার সবরকম উপায় জানা আছে তনুর। তখন সে প্রয়োজনে এই ভালো মানুষির মুখোশ খুলে ফেলবে। এমনিতেও এই ন্যাকা সেজে থাকতে থাকতে ক্লান্ত সে। সবাই নাহয় আসল তনিমার দেখা পাবে।
এসব ভেবে অনিলের বড় ছবিটার সর্বত্র হাত ছুইয়ে দেয় তনু। মুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকে অনিলের ছবি পানে। যেন তার সামনে স্বয়ং অনিল দাঁড়িয়ে আর সে অনিলের মুখেই এভাবে হাত ছুইয়ে দিচ্ছে। ঠোঁট রেখে চুমু খাচ্ছে। নিজের অশ্লীল ভাবনায় নিজেই লাজুক হেসে ফেললো তনিমা। কি থেকে কি হয়েছে সে! মানুষ মা*রা তনিমা নিজেই এক পুরুষের উপর ম*রে বসে আছে। ভাবা যায়!
.
.
.
.
তাহমিদ অনিলের পার্সোনাল ফোনে কল করছে নিজের পার্সোনাল ফোন দিয়ে। প্রথম দুইবার রিসিভ না হলে বিজি ভেবে আর কল করে না সে। কিন্তু কিছুক্ষণ যেতে যেতেই অনিলের ব্যাক কল আসে তাহমিদের নাম্বারে।

“হুম বল।”

“কল করলাম রিসিভ করলি না যে। চট্টগ্রাম গিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলি কি নিয়ে অনিল।”

“এখানে আমাদের উপর এ্যাটাক করা হয়েছে। তাই হাসপাতালে আছি।”

“মানে কি বলিস এগুলো? মেজর এএকের চট্টগ্রাম যাওয়ার নিউজ তো কেউই জানে না তবে?”

“এটা মেজরের উপর হয়নি। এই আ*ক্র*ম*ণ মাশফিয়া মীমের উপর হয়েছে। এবং আ*ক্র*ম*ণকারীরা জানেও না তার সাথে আমি মানে কোন মেজর আছে। ওরা কারো অর্ডারে মীমকে কিড*ন্যাপ করতে চেয়েছিল।”

“হায় আল্লাহ বলিস কি? ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জানে তার মেয়ের পিছনে এধরণের লোক পড়ে আছে?”

“হয়তো জানে। মীম আর ওর পরিবারের সাথে প্রায় চারবছর আগে কোনো দূর্ঘটনা হয় আমরা জানি। আমার মনে হয় সেই ঘটনার পিছনে যে বা যারা ছিলো এই চট্টগ্রাম ঘটনা ও তাদের করা।”

“তুই আর তোর বউ ঠিক আছিস?”

“আমি ঠিক আছি। কিন্তু আমাকে ঠিক রাখতে যেয়ে আমার বউ এখনো অচেতন। আঘাত পেয়েছে অনেক।”

“আর সাদাফ কই?”

“আমার কাছে গণ্ডগোল লাগায় সাদাফকে আগেই অন্য ব্যবস্থা করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি তুরিনের কাছে।”

“তুরিনটা কেমন আছে কি জানি? সাদাফ যে কেমন রিএক্ট করবে তুরিনকে ওর ওয়াইফ জানলে আল্লাহ ভালো জানে। ইবনাত এদিকে পাথরের মতো আচরণ করছে। এমন ভাব যেন কিছুই হয়নি। আমার বোনের জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেল রে অনিল! আবার এদিকে মৌনতার কি হবে?”

“চিন্তা করিস না। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। হয়তো ইবনাত মৌনতার সাথে ভালো থাকবে আর তুরিন সাদাফের সাথে। এইজন্যই ইবনাত আর তুরিনের মিল হয়নি। সময়ের উপর সব ছেড়ে দে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখ সব ঠিক হয়ে যাবে।”
.
.
.
.
তাহমিদের সাথে কথা শেষ করে মীমের কেবিনে যায় অনিল। শাহমীরকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে জোর করেই। মীমের জ্ঞান ফিরলে তারাও যাবে এসব বলার পরেই গিয়েছে সে।

মীম ঘুমের ওষুধের প্রভাবে ঘুমিয়ে আছে। অনিল তার মাথার কাছে চেয়ার টেনে বসে। ক্যানোলা লাগানো হাতটা আলতো ভাবে ধরে রেখে চেয়েই থাকে শান্তভাবে ঘুমন্ত মুখ পানে। এই মেয়েটার সামনে আসলেই মেজরের তুখোড় বুদ্ধির মাথাটা কাজ করে না। কেমন ফাঁকা ফাঁকা হয়ে যায়। শুধু কঠোরতার শিকলে বন্দী করা হৃদযন্ত্রের ধুকপুকানি ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায়না অনিল। শুনতে চায় ও না। যাকে আড়ালে আবডালে ভালোবেসেছে বছরের পর বছর। যার উপর দূর থেকে সর্বদা রেখেছে নজর। তার এই অবস্থা কিভাবে সহ্য করছে শুধু অনিল আর আল্লাহই জানেন।
মীমের সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা জানা অনিলের। সে সবাইকে শাস্তি ও দিয়েছে। তবে এখন আবার তাদের কেউ ফিরে আসলো কিভাবে জানা নেই অনিলের। তবে সে জেনে ছাড়বে। জেনে ব্যবস্থাও নিবে। শুধু তার প্রাণপ্রিয়া সুস্থ হোক।
এতো সহজে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমান তার কলিজা অনিল আবরার খানের হাতে তুলে দেয়নি। এর পেছনের কারণ, শর্ত কারই বা জানা আছে! এতো সাধনার পর সে এই মেয়েকে পেয়েছে। কিছুতেই মাশফিয়া মীমকে হারানোর ক্ষমতা নেই অনিলের। কিছুতেই না।
এসব ভেবে ভেবে অনিল নিজের মাথা এলিয়ে দেয় মীমের কাঁধে। অনেকটা সময় কাঁটে ওভাবেই। মীম ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায়। কাঁধে ভার অনুভব করায় হালকা ফিরে চায় সেদিকে। কাঠখোট্টা মেজরকে দেখে শান্তি পায় মনে। কিন্তু ঘুম পুরোপুরি উড়ে যায় তার যখন কাঁধে ভেজা ভেজা আর গরম অনুভব করে। নিজের ভালো ডান হাত মেজরের মাথা সহ ঘাড়, পিঠ বুলিয়ে দিতে থাকে। মীমের ঘুম ভেঙেছে তাই অনিল তার কাঁধ থেকে মাথা উঠাতে চাইলে মীম এবার দূর্বল হাতেই একটু জোর প্রয়োগ করে না উঠতে। অনিল বুঝে সেভাবেই পড়ে থাকে।
নিরবতা চলে কেবিনে। পিনপতন নীরবতা।

“যেই ডার্ক ব্রাউন চোখের আগুনে পুড়েছি আমি সেই চোখে অশ্রুকণা দেখার মতো পেইন আমাকে দেওয়া কি খুব জরুরি মেজর?”

উত্তর দেয় না অনিল। তবে তার বন্ধন দৃঢ় হয়। মীমের কাঁধে রাখা মাথাটা সামান্য নেড়েচেড়ে গলার ভাঁজে গাড় চুমু দেয়।
বিয়ের পেরিয়েছে মাস দুই। এই দুই মাসে এমন সময় অসময়ের ছোয়ায় অনেকটা অভ্যস্ত হয়েছে অনিল প্রিয়া। এখন আর অস্বস্তি লাগে না। তাই এবারেও কোনরূপ অস্বস্তি হয়না তার।
অনিল চোখের কোণের শেষ আদ্রতা বিন্দুও মীমের কাঁধের কাপড়ে মুছে সোজা হয়ে বসে চেয়ারে। মীম অসহায় ভাবে দেখে বিদ্ধস্ত ওই মুখ। তার পছন্দের তীক্ষ্ণ ডার্ক ব্রাউন চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে। মাঝারি সাইজের কাঁটা চুলগুলোর উসকোখুসকো অবস্থা। মীম জানে সে উত্তর পাবে না তবুও সে আবারও জিজ্ঞেস করে,

“অনিল..।”

লাল চোখেই অত্যন্ত নমনীয় ভাবে অনিল তার রমণীর চোখে চোখ রাখে।

“হুম।”

“ভালোবাসেন?”

চোখ নামিয়ে নেয় অনিল। এই প্রশ্নের উত্তর জানাতে অক্ষম সে। এখনই কিছুতেই সে বলতে পারবে না যে তার কঠোরতার আড়ালে রাখা মনে এক আকাশ সম ভালোবাসা রয়েছে এই মেয়ের জন্য। তার যে হাত পা বাঁধা দায়িত্ব নামক শিকলে।
আচ্ছা মেয়েটা কি বোঝে না তাকে? একবিন্দু পরিমাণেও কি বোঝে না? কেন তাকে মুখে বলেই বোঝাতে হবে? অনিলের ব্যবহার, কাজ কিছুতেই কি মেয়েটা বোঝে না ঠিক কতখানি ভালোবাসে অনিল তাকে?
এদিকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে মীম।

“আমি কি বেহায়া হয়ে গিয়েছি অনিল?”

এবার অনিল তড়িৎ মীমের মুখপানে প্রশ্নবিদ্ধ চাহনি নিক্ষেপ করে।

“এই যে আপনি কি সুক্ষ্ম ভাবে প্রতিবার আমাকে এড়িয়ে যান তবুও আমি বারবার এই একই প্রশ্ন করে আপনাকে বিরক্ত করছি।”

কিছু না বলে অনিল ডাক্তার ডেকে আনে। স্যালাইন শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্যানোলা খুলে দেয়। সাথে নানান সাবধান বাণী। অনিল মীমকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায়। শাহমীরের পাঠানো গাড়িতে পিছনের সীটে বসে অনিল। ড্রাইভার গাড়ি শার্ট দেয়।

তখনই তার ব্যক্তিগত ফোনটা আবারও বেজে ওঠে। এবার দেখে তার বাবা কল দিয়েছে। বিলম্ব না করেই রিসিভ করে অনিল।

“আসসালামু আলাইকুম বাবা।”

“আলাইকুম আসসালাম। শুনলাম মামা বাড়ি যাবে নাকি আজ অনি?”

“হ্যা বাবা। তারা বউ দেখতে চাইছে। তাই ভাবলাম এতো কাছে যখন এসেছি একবার সবার সাথে দেখা করে যাই।”

“তা বেশ তা বেশ। কেমন আছো তুমি? আর আমার মা কেমন আছে?”

“আমি ভালো আছি বাবা। আর তোমার মাও ভালো আছে। আছে আমার পাশেই। কথা বলবে?”

“উম এখন না। আমার মিটিং শুরু হবে এখনি। পরে কথা বলে নেবো। তুমি বিজনেসম্যান হওয়ার ভং ধরে যে মেস ক্রিয়েট করেছো তা এখন তোমার বাবাকেই সামলাতে হচ্ছে মেজর।”

বাবার আফসোসের কথা শুনে আলতো হেসে কল কাঁটে অনিল। পাশে ফিরে দেখে মীম ঘুমিয়ে পড়েছে আবার। হয়তো ওষুধের প্রভাব যায়নি এখনো। অনিল সুন্দর করে মীমের মাথাটা এনে তার বুকে রাখে। আর পিছন থেকে হাত দিয়ে তার কোমড় জড়িয়ে ধরে আরাম করে ঘুমাতে দেয় তাকে।
.
.
.
.
সাদাফ হাসপাতালে আছে এখনো। তার বউ প্রচন্ড অসুস্থ। অনিল তাক্র ফোন করে বলেছে এখানে থাকতে সে একটু পর আসছে। এরমধ্যেই ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর বাড়ির লোকের ডাক পড়লে সে যায়।

“রোগীর সাথে আপনার সম্পর্ক?”

“আমি তার হাসবেন্ড ডক্টর।”

“আচ্ছা আচ্ছা। আপনার স্ত্রী রুমাইশার ডান হাত ভেঙে গিয়েছে মি. সাদাফ। সেরে উঠতে সময় লাগবে।”

“বুঝেছি ডক্টর। কিন্তু আমি তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে চাইছি। এখানে ও একা থাকে। আমার কাজ-কর্ম সব ছেড়ে এখানে থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া ওর ভার্সিটি শেষ। পরীক্ষা বাকি। প্রয়োজনে এসে পরীক্ষা দিয়ে যাবে। আপনি প্লিজ ওকে ঢাকা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।”

“হ্যা আমিও ভাবছিলাম আপনাকে বলবো এখন কিছুতেই আপনার স্ত্রীকে একা ছাড়বেন না। তার সেবা শুশ্রূষা দরকার। আপনি যা বললেন তাকে লজিক রয়েছে। সো আপনি যা চান তাই সঠিক মনে হচ্ছে।”

ডক্টরের সাথে কথা বলে সব ঠিকঠাক করে ফিরে এসে কেবিনের সামনে বসে সাদাফ। সে আজ জানলো তার বউয়ের নাম রুমাইশা। তাও এখানে এসে গার্ডিয়ান ফর্মে দেখেছে নাম ‘রুমাইশা আফনান’।

সে একবার ভাবে কেবিনের ভিতর যেয়ে মেয়েটাকে একবার দেখে আসবে। আবার অস্বস্তিতে যেতেও পারছে না। প্রচন্ড দ্বিধা নিয়ে এক পা এগিয়ে আবার পিছিয়ে আসে। আবার মাথায় আসে মেয়েটা তার বিয়ে করা বউ। এখন হোক বা পরে তাদের একসাথে থাকতেই হবে। তাই সে অস্বস্তি নিয়েই ভিতরে যায়।
সাদাফ দেখে মেয়েটা জেগে আছে। একটা বালিশে মুখ গুজে বসে আছে। সাদাফ গলা খাকারি দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। মেয়েটা নড়েচড়ে উঠলেও মুখ তোলে না উপরে।

“এখন কেমন লাগছে তোমার?”

“….”

“এবার তোমাকে ঢাকায় নিয়ে যাবো। নিজেকে মনে মনে রেডি করে নাও।”

এবার এই কথা শুনে বালিশে গোজা মুখ আস্তে আস্তে সাদাফের দিকে তোলে। সাদাফ তাকিয়েই ছিল। এলোমেলো চুলে মুখ কিছুটা ঢেকে গেলেও ওই মুখের মালিককে চিনতে সময় লাগেনি সাদাফের। নিজের চোখকে বিশ্বাস কর‍তে পারছে না সে।
কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলে,

“তু..তুরিন ত..তুই?”

..
..
..
..
চলবে___

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here