প্রভামঞ্জরী #নওরোজ_মীম পর্বঃ ৪৯

0
17

#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ৪৯ (কপি করা নিষেধ)
___________________________________

অনিল চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে সামনে বেঁধে রাখা চারজনের সহ্যশক্তি পরীক্ষা করছে। শাহমীরের লোকের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে, ঠান্ডা পানির মধ্যে প্রায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা হয়েও একজনও মুখ খোলেনি। এবার তবে তাকেই খেলার মাঠে নামতে হবে। কিন্তু সে চাইছিল না নিজে কিছু করতে। কারণ সে নিজে একবার হাত লাগালে এদের অবস্থা আর দেখার মতো থাকবে কি না সেই ব্যাপারে অনিল নিজেই গ্যারান্টি দিতে পারছে না। নিজেকে সে খুব ভালো করে চেনে কিনা!

কিন্তু এরা যখন ভালোই ভালো কথা শুনতে রাজি নয় তখন তার তো আর কিছু করার নেই। নিজের বিপদ এরা নিজেরাই ডেকে নিয়েছে।
ফুটন্ত গরম পানির দিকে তাকিয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে লোকগুলোর। বার বার চেষ্টা করেও ঢোক গিলে কোনো ভাবেই এর সমাধান পাচ্ছে না। তারপর আরও ভয়ংকর বেপার হচ্ছে তারা দেখলো সেই সুদর্শন পুরুষ চেয়ার ছেড়ে উঠে তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে।

অনিল এসেই চারজনকে আলাদা আলাদা ভাবে উল্টো করে চারটা হারনেসের সাথে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেয়। মানে তাদের মাথা নিচের দিকে আর পা উপরের দিকে। এতক্ষণ এতো মারধরের পর ঠান্ডায় শরীরের অবস্থা খুবই নাজুক হয়েছে লোকগুলোর। তারপর আবার মাথা নিচের দিকে দেওয়ায় সাথে সাথে মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে তাদের। চোখের সামনে প্রায় সব অন্ধকার হয়ে যায়। এবার অনিল একটা লোহার ডান্ডা হাতে নিয়ে চারজনের মধ্যে একজনকে মারা শুরু করে। লোকটা চিৎকার করে ওঠে। একের পর এক মেরেই যাচ্ছে তো মেরেই যাচ্ছে। কোনো ব্রেক নেই। লোকটার চিৎকারে অন্য তিনজন তো ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছেই কিন্তু সেখানে উপস্থিত শাহমীরের লোকেরাও শিউরে উঠছে বারবার। তাদের কাজ এইসব মারপিট করা। কিন্তু তাদের বস শাহমীরের এই মেজর ভাই তাদের ফিল্ডে কাজ না করেই কেমন নিজের নির্দয়তা দিয়ে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে তাদের। কোনো ভাবে যদি এই লোক সার্টিফাইড মাস্তান হতো তবে মাস্তান সমাজের রাজা বাদশা হওয়া থেকে এই মেজরকে কেউ আটকাতে পারতো না। কেউই না।

মারতে মারতে আধমরা করে থামে অনিল। একে আর মারলে এবার আসলেই মরে যাবে। তাই এবার মারা থামিয়ে বলে,

“তোদের এখানে মেরে পুতে রাখলেও কেউ খোঁজ করবে না তোদের। আর না তোদের খুন করার জন্য কেউ আমার কিছু করতে পারবে। তোদের মেরে এই চট্টগ্রামেই লা*শ গুম করে ঢাকা ফেরা খুব একটা কঠিন কাজ ও নয় আমার জন্য। আর আমি যে তোদের আসলেই মেরে ফেলতে পারি তা দেখে নে সামনে।”

বলেই হাতের লাঠি দ্বারা এতক্ষণ ধরে পেটানো লোকটাকে ইশারা করে। অন্যরা দেখে লোকটার শরীর কেমন ফালাফালা হয়ে গিয়েছে। পুরো শরীর কেমন কেঁটে কেঁটে গিয়েছে। আর সেই সব ক্ষতস্থান হতে চুইয়ে চুইয়ে র*ক্ত পড়ে মেঝে ভেসে যাচ্ছে। লোকটার চোখ বুজে গিয়েছে। শ্বাস আছে নাকি নেই সেই ব্যাপারেও অন্যেরা যথেষ্ট সন্ধিহান। এবার ওই আধমরা অচেতন লোকটাকেই ফুটন্ত ধোঁয়া ওঠা গরম পানির ড্রামে ফেলার নির্দেশ দেয় অনিল। শাহমীরের লোকগুলো বাধ্য সেনার ন্যায় তাই করে। হারনেসের সাহায্যে একপ্রকার ছুড়ে ফেলে লোকটাকে।
বাকিরা ভয়ে চেঁচিয়ে কেঁদে ফেলে।

“রাজি রাজি আমরা রাজি। আপনি কি জানতে চান বলেন আমরা সব বলবো। দয়া করে আমাদের ছেড়ে দেন স্যার। মারবেন না।”

ভাইয়ের বুদ্ধিমত্তা দেখে এবার আর না হেসে পারে না শাহমীর। এতক্ষণে চুপচাপ দেখে গেলেও এবার সে মন খুলে সুন্দর করে হেসে ফেলে। ভাইটা তার ছোটবেলা থেকেই তুখোড় বুদ্ধির কারবারি দেখিয়ে আসছে। তাইতো এখন আর নতুন লাগে না। না হলে সাধারণ পানিতে কেমিক্যাল মিশিয়ে ধোঁয়ার ব্যাপারটা ম্যানেজ করে কিভাবে সেটাকে গরম পানি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। আর সেই পানিতে ফেলে মারার ভয় দেখিয়ে কেমন সবার মুখ খুলতে বাধ্য করেছে। এসব তো আর সাধারণ মানুষের মাথায় এতো সহজে আসবে না। তুখোড় বুদ্ধির মাথাটা সবার থাকে না কিনা। সবাই মেজর এএকে হয়না কিনা। কিন্তু রড দিয়ে মারাটা চোখের ধুলো নয়। আসলেই বেধড়ক পিটিয়েছে। হয়তো মনের ক্ষোভ ঝেড়েছে এভাবেই। হাজার হোক তার প্রেয়সীকে মারার জন্য সব ব্যবস্থা এই লোকগুলোই করেছিলো।

অনিল যেনো এতক্ষণ এই সময়ের অপেক্ষায় ছিলো। তাইতো লোকগুলো মুখ খুলতে রাজি হলেই সে বলে তাদের সোজা করে চেয়ারে বসাতে। নির্দেশ মতো তাই করা হলে তিনজনের সামনে যেয়ে বসে অনিল নিজে। আর পানিতে ফেলা লোকটাকে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

“আমাদের উপর আ*ক্র*মণ করার কারণ কি?”

“আপনার উপর নয় স্যার। আপনার সাথে যে ম্যাডাম ছিলো তার উপর আ*ক্র*মণ করার নির্দেশ ছিলো আমাদের।”

“তাকে মা*রতে চাওয়ার কারণ?”

“কারণ জানিনা স্যার। আর তাকে মা*রার উদ্দেশ্য ছিলো না আমাদের। তাকে কিড*ন্যাপ করার নির্দেশ ছিলো। তাকে জীবিত চেয়েছিলেন।”

চোয়াল শক্ত হয়ে যায় অনিলের। ভিতরে ঝড় ওঠে। কিন্তু বাইরে থেকে নির্বিকার সে। আবারও জিজ্ঞেস করে,

“কে?”

“সুনিল সেন।”

এবার এদেরকে শাহমীরের জেম্মায় ছেড়ে উঠে চলে যায় অনিল। শুধু বলে যেনো প্রাণে না মা*রে। তারপর যেনো কোনো হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
.
.
.
.
রাত প্রায় একটা। মীম এতক্ষণ অনিলের জন্য অপেক্ষা করছিল। তার মামা শ্বশুর আর মামী শ্বাশুড়িরা তাকে কতবার করে খেয়ে নিতে বললো কিন্তু সে খায়নি। বলেছে আপনাদের ছেলে আসুক তারপর খাবো। এভাবে করে সময় যেতে যেতে বারোটার দিকে তাদের দেওয়া রুমে এসেছে সে। কিছুক্ষণ ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রাতের চট্টগ্রাম দেখেছে। শরীর মন কোনটাই খুব একটা ভালো না তার। হাসপাতাল থেকে এই বাড়িতে আসার পর অনিল তার থেকে দূরে দূরে থাকছে। কেমন জানি এড়িয়ে যাচ্ছে তাকে। এর কারণ কি জানা নেই মীমের। তবে তার ধারণা সে অনিলের প্রতি দূর্বল সে অনিলকে ভালোবাসে এটা জানার পরেই অনিল দূরে থাকছে। তবে কি অনিল তাকে…..
না না আর ভাবতে পারলো না মীম।
আজ তার মামী শ্বাশুড়িদের জোর করায় সে একটা মেরুন রঙের শাড়ী পরেছিল খুবই সাদামাটা ভাবে। নিজের স্বভাব থেকে ভিন্ন কিন্তু সারাদিন তাদের সাথে রান্নাঘরে তাদের রান্নায় সাহায্য করেছে। সন্ধ্যায় সবাইকে চা বানিয়ে খাইয়েছে। ননদ দেবরদের সাথে সারাবিকাল ছাদে আড্ডা দিয়েছে। মন খুলে মৌ ছাড়া কারো সাথে মিশেছে প্রথমবার।
এতোসবের মাঝে আবার সে নতুন বউদের মতো ঘোমটা দিয়ে রেখেছে। কারণ তার বড় মামী শ্বাশুড়ি বলেছিলেন। কিন্তু এখন রাত বারোটায় ঘরে এসে সারাদিনের এলোমেলো হওয়া শাড়ী আরও ঠিকঠাক করে পড়লো। লম্বা চুলগুলো ছেড়ে দিলে তা প্রথমে পিঠে তারপর কোমরে তারপর কোমর ছাড়িয়ে আরও বেশকিছুটা নিচে যেয়ে থামে। তার এই লম্বা চুল অনিলের সবচেয়ে বেশি প্রিয়। সুযোগ পেলেই কাঠখোট্টা মেজর তার চুলের প্রসংশা করে। প্রতি রাতে তার চুলে মুখ গুজে লম্বা লম্বা শ্বাস নিয়ে ওভাবেই চুলে মুখ গুজে ঘুমিয়ে পড়ে। অবশ্য তাকে বুকে নিয়েই তার চুলে মুখ গুজে। তার লম্বা চুলের প্রতি তার প্রিয় পুরুষের এমন মুগ্ধতা বুঝতে পেরেই তো মীম নিজের চুলের এমন ভাবে যত্ন করে। না হলে এই জীবনে তাকে দিয়ে কখনো চুলের যত্ন হয়নি।
মেরুন রঙের শাড়ীর সাথে ননদের রুম থেকে এনে মেরুন লিপস্টিক দেয় গাঢ় করে। চোখে কাজল। সাথে এইবাড়ি থেকে তাকে উপহার হিসেবে কিছু গয়না দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে একটা ছোট ঝুমকো পরে। গলায় আগে থেকেই পরা তার শ্বশুর আবরার খানের দেওয়া চেন সাথে তার ছোট বেলার একটা লকেট দুটোই সে সবসময় পরে থাকে। তাই গলায় কিছু পরে না। কিন্তু হাত ভর্তি চিকন চিকন স্বর্ণের চুড়ি পরে আজ। নিজেকে একবার আয়নায় দেখে সে। এভাবে আগে কখনোই সাজে নি মীম। তাদের ফার্স্ট নাইটের রাতে তাকে সাজানো হয়েছিলো। তারপর আজ দ্বিতীয় রাত। ওইরাতে অনিলের জন্য তাকে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আজ রাতেও সে নিজেকে সজ্জিত করেছে সেই অনিলের জন্যেই। কিন্তু আজ নিজ হতে সে সেজেছে তার হাসবেন্ড এর জন্য। নিজেকে রেডি করতে করতে সময় গড়িয়েছে পৌনে একটা। তাও অনিলের কোনো খোঁজ নেই। মীম এরমধ্যে কয়েকবার তাকে ফোন ও করেছে কিন্তু আল্লাহর বান্দা একবারও রিসিভ করেনি। এবার মন খারাপ করে রুমে রাখা সিঙ্গেল সোফায় বসে। এবং ওভাবেই একসময় ঘুম চলে আসে তার দুই চোখে।

অনিক ফেরে একটার দিক। এসেই পুরো বাড়ি অন্ধকার দেখে চলে যায় তাদের রুমে। রুমের বাইরে থেকে দরজা চাপানো দেখলেও ভিতরে যে আলো জ্বলছে তা বোঝা যাচ্ছে। ‘আশ্চর্য মেয়েটাকি ঘুমায়নি এখনো? তার তো শরীর খারাপ। এভাবে জেগে থাকার মানে আছে?’

খুবই সাধারণ ভাবে রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে আবার তা বন্ধ করে সোফার দিকে তাকাতেই চোখজোড়া স্থির হয় মেজরের। স্থির হয় আবারও পুরো দশবছর পর আরও এক মেরুন রঙের রমণীর উপর নজর পড়েই। মেরুন রঙের শাড়ীতে নিজের রমণীকে দেখে অনিল। দেখেই চুপ থাকেনি। এগিয়ে গিয়ে হাটুতে ভর দিয়ে বসে মেঝেতে। চোখ রাখে নিজ রমণীর পানে। স্বর্ণের গয়নায়, শাড়ীতে মেয়েটা একদম বাঙালী বধূ লাগছে। নিজের চিন্তায় বিরক্ত হয় অনিল। তার হাইনেসকে একদম অনিলের বধূ লাগছে। আসমান থেকে নেমে আসা কোনো পরী লাগছে। ইশ এভাবে সামনে আসলে কবে জানি অনিল হার্ট অ্যাটাক করে বসে। এসব ভেবেই নিজের ডান নিয়ে নিজের বুকের বা পাশে একদম হৃৎপিণ্ড বরাবর রাখে সে। হার্টবিটের আওয়াজ সে বাইরে থেকেই কেমন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। মেয়েটা জেগে থাকলে অনিল নির্ঘাত ধরা পড়ে যেতো এই হৃদয়ের তাড়নায়।

বেড সাইডে টেবিলে খাবার ঢেকে রাখা। ম্যাডামের এমন সেজেগুজে অপেক্ষা। দুইয়ে দুইয়ে চার করতে মিনিট ও লাগেনা মেজরের। আর হিসেব মিলতেই শিহরণ বয়ে যায় অন্তরে। মেয়েটা তাকে সুখের সাগরে ভাসানোর একটা সুযোগ ও হাতছাড়া করে না। বিয়ের পর থেকেই সে কি নিদারুণ সুখেই না আছে। আল্লাহকে যে আর কতবার শুকরিয়া জানাবে অনিল এই মেয়েটাকে তার করে দেওয়ার জন্য বুঝতেই পারে না সে। মীমকে আর না ডেকে ওয়াসরুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে অনিল। তারপর মীমকে পাঁজাকোলে তুলে বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দেয়। শাড়ী পরে থাকায় মীমের পেটের দিকের শাড়ী কিছুটা সরে যায়। অনিলের চোখের সামনে পড়ে মীমের পেটে নখ বসানো সে দাগ গুলো। তিনটা নখের দাগ সেখানে। এমন ভাবে যেনো মাংস তুলে নেওয়া হয়েছিল এখান থেকে। সময়ের ব্যবধানে দাগ হালকা হলেও মিলিয়ে যায়নি। প্রতিবার অনিল এই দাগ দেখে আর নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে রাখে। এই দাগ দেখলেই তার এই দাগের কারণ উপড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। যে তার রানিকে এভাবে কষ্ট দিয়েছে তাকে দুনিয়া থেকে উচ্ছিন্ন করতে ইচ্ছে করে। আর এতদিন পর আজ সে জেনেছে তার প্রেয়সীর এমন হয়ে যাওয়ার কারণ। তার পেটে আর গলায় নখের দাগের কারণ। এই কারণ সুনিল সেন। আর এই সুনিল সেন এবার মেজর এএকের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। কেউ পারবে না সুনিল সেনের রক্ষা করতে।

অনিল ঝুঁকে মীমের পেটে থাকা নখের দাগের উপর আর লালচে ঠোঁটের সাহায্যে চুমু খায়। শুধু চুমু না ওখানে ওভাবেই ঠোঁট ছুইয়ে রাখে কিছু সময়। এদিকে তার সেই ছোয়ায় ঘুম ভাঙে মীমের। সে চোখ খুলে দেখে অনিল তার শাড়ী সরিয়ে পেটের দাগে চুমু খাচ্ছে। নিজেকে আর অনিলকে এমন পরিস্থিতিতে দেখেও লজ্জা পায় না মীম। যেনো এসব খুব সাধারণ ব্যাপার। প্রায়শই এসব হয়ে থাকে। তাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে সে। আসলেই তাই। অনিল বলা নেই কওয়া নেই তার পেট আর গলার দাগে ঠোঁট ছোয়ায়। সে জেগে থাকুক বা ঘুমিয়ে এমন প্রায়ই হয়। যেনো কিছু নক বলেই অনিল মীমের ভিতরের সকল আঘাত, সকল কষ্ট শুষে নিতে চায় নিজের মাঝে।

“এতো দেরি হলো কেন? আমি অপেক্ষা করছিলাম তো।”

মীমের ঘুম জড়ানো কন্ঠে এমন হৃদয় শীতল করক কথা শুনে তার পেট থেকে মুখ ওঠায় অনিল। ডার্ক ব্রাউন তীক্ষ্ণ চোখ জোড়ার সাথে কালো ঘুম জড়ানো চোখের মিলন ঘটে মূহুর্তেই।

“একটু কাজ ছিলো তাই দেরি হয়েছে। আর এভাবে অপেক্ষা করলে আমি রোজ রোজ দেরি করবো।”

বলেই মীমের পুরো শরীরে নজর বোলায়। সেই নজর সহ্য হয়না মীমের। তার কাছে মনে হচ্ছে অনিল মোটেই ভালো নজরে তাকে দেখছে না। এদিকে তার মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। হ্যা আজকাল এই মেজরের প্রেমে পড়ে সে লজ্জা পেতেও শুরু করেছে। আর এখন তার প্রচুর লজ্জা লাগছে।

“এভাবে কি একজন দেশ রক্ষাকারীর একটা মেয়ের দিকে অশ্লীল নজর দেওয়া ঠিক মেজর? দেশ রক্ষাকারীর এমন হাল হলে দেখের কি হবে?”

এবার অনিল জোরে হেসে ওঠে। তার সেই হাসিতে আরও লজ্জা পেয়ে যায় মীম।

“দেশ রক্ষকারীরাও বউয়ের দিকেই অশ্লীল নজর দেয় দেশের অন্যদের মতো। বউয়ের দিকেই যদি অশ্লীল নজর না দেওয়া যায় তবে ভেতরে থাকা অশ্লীল মানুষটাকে দেশ রক্ষাকারীরা কি করবে ম্যাডাম?”

মীম যেনো ভাষা হারায়। অনিল কখনোই এভাবে ঠোঁটকাঁটা কথা বলে না।

“অনি…”

“হাহা…… বউ এমন মাতাল করা রুপে সামনে আসলে কিবতার বরের নজর ঠিক থাকে ম্যাডাম? আমি যে কবে পাগল হয়ে যাই সেই চিন্তায় আছি।”

“কি শুরু করেছেন আপনি?”

“ডিনার করেননি নিশ্চিত। তাইনা?”

“আপনার সাথে খাবো বলে বসে ছিলাম।”

ঠোঁট ফুলিয়ে বাচ্চাদের মতো করে বললো মীম। এদিকে মেয়েটার রুক্ষতা দিন দিন কমে আসছে। বাচ্চামো করে এখন মাঝে মাঝে তার সামনে। ধীরে ধীরে প্রেয়সীর সাধারণ জীবনে আসার জার্নি দেখতে কি যে ভালো লাগে অনিলের!

“আচ্ছা এবার তবে আপনার অপেক্ষার অবসান ঘটাই। ফ্রেশ হয়ে আসুন।”

মীম উঠে ফ্রেশ হয়ে আসলে অনিল এক প্লেটেই খাবার নিয়ে নিজেও খাচ্ছে আর মীমকেও খাইয়ে দিচ্ছে। মীম খেতে খেতেই কেমন জানি অসহায় ভাবে চেয়ে আছে অনিলের দিকে। অনিল বুঝতে পেরেছে। তবে সে খাওয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে। শেষ হলে হাত ধুয়ে এসে বিছানায় মীমের পাশ ঘেঁষে বসে তার গালে হাত রেখে বলে,

“কি হয়েছে? আমার হাইনেসের মন খারাপ কেন?”

“আপনি কি আমার উপর রেগে আছেন অনিল?”

“এমন কেন মনে হচ্ছে আপনার?”

“এই বাড়িতে আসার পর থেকেই আপনি এক প্রকার আমাকে ইগনোর করছেন। দূরে দূরে থাকছেন। আমার মনে হচ্ছে আমি সেদিন যে বললাম ওই কথাটা তার পর থেকেই আপনি দূরে সরে যাচ্ছেন আমার থেকে?”

“কোন কথা?”

“ওইদিন যে বললাম ওই কথাটা।”

“কোন কথাটা?”

“ভালোবাসি।”

অনিল অদ্ভুতভাবে মীমের চোখে চোখ রাখে। কালবিলম্ব না করেই হৃদয় হরণকারীকে ঠেনে বুকে নিয়ে জাপ্টে ধরে। এমনভাবে দুইহাতে বুকের সাথে চেপে ধরে যেনো বুকের লুকানো মণিকোঠায় ঢুকিয়ে রাখবে।

অনিল যে মীম থেকে একটু দূরে দূরে ছিলো এটা সত্যি কথা। কিন্তু এর কারণ হলো সে তার প্রেয়সীকে আ*ক্র*মণ করার রহস্য ভেদ করতে পারছিলো না তাই। নিজের ব্যর্থতার দায়ে প্রেয়সীর কাছে আসেনি। কিন্তু এর কি কি মানে তার প্রেয়সী বের করতে পারে তা তার মাথায় আসেনি। এখন যারপরনাই অবাক হচ্ছে এসব যেনে। মেয়েটাকি জানে তার মুখে ভালোবাসি কথাটা সোনার জন্য অনিল ঠিক কত বছর অপেক্ষা করেছে? ঠিক কতটা তড়পেছে? জানলে কি আর বলতে পারতো? সেদিন তার মুখে ওই চার শব্দের কথাটা শুনে মেজরের বুকে, মনে ঠিক কতখানি শান্তি অনুভূত হয়েছিলো? জানলে মেয়েটা নিজেই অবাক হয়ে যেতো।

“এটাই প্রথম আর এটাই যেনো শেষ হয়। সারাজীবনে আমি আর কখনোই আপনার মুখে এধরণের কথা শুনতে চাইনা।
শুনুন মাই হাইনেস, এই অনিল আবরার খান আপনার। একান্তই আপনার। আপনার কখনো কোনো ভাগীদার ছিলো না,নেই আর কখনো থাকবেও না।”

..
..
..
..
চলবে_______

(এটা একটা অনিল এবং তার হাইনেস স্পেশাল পর্ব।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here