বিপরীত_মেরুর_টানে #পর্ব_৩৫

0
14

#বিপরীত_মেরুর_টানে
#পর্ব_৩৫
#আরিবা_নাওশীন

হাসপাতালের করিডোর আজ শ্মশানের মতো শান্ত। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে আরাভ বসে আছে। ওর সারা গায়ে র-ক্ত, ভাইয়ের র-ক্ত আর ওর অনাগত সন্তানের মায়ের র-ক্ত। আফজাল চৌধুরী আর রোকেয়া বেগম হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলেন। রিন্নির বাবা-মাও এসেছেন। রিন্নির মা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে বিলাপ করছেন।

“ওরে আমার রিন্নি রে! ও তো আজ আমায় ফোনে বলছিল ও খুব খুশি! ওরে খোদা, আমার মেয়েটার কোল খালি করলি কেন? ও তো মা হতে চলেছিল!”

আরাভ দেয়ালের এক কোণায় পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। আফজাল চৌধুরী ছেলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। ওনার চোখও আজ পানিতে ভেজা। তিনি আরাভের কলার চেপে ধরে ধরা গলায় বললেন

“তোর ওই জেদ আর ওই ডার্ক ওয়েবের নেশা আজ আমার ঘরটা কবর বানিয়ে দিল আরাভ! তুই কেন ওদের ওই বিপদের জায়গায় নিয়ে গেলি? কেন ফাহিমকে বাঁচালি না? আমার ছোট ছেলেটা ওর ভাবীকে বাঁচাতে গিয়ে আজ যমের দুয়ারে! আমার দু’টা সন্তানের তোর জন্য এই অবস্থা।”

আরাভ কোনো প্রতিবাদ করল না। ও শুধু শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। ও পকেট থেকে সেই র-ক্তে ভেজা প্রেগন্যান্সি রিপোর্টটা বের করল যেটা ধুলো থেকে কুড়িয়ে নিয়েছিল। যখন স্থানীয় লোকের সাহায্যে রিন্নি আর ফাহিমকে গাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল তখন আরাভের হঠাৎ রিপোর্টটার দিকে চোখ যায়। সে তাড়াতাড়ি কোনো মতো খুডিয়ে দৌড়ে এসে ওটা তুলে নেয়। ওটা এখন রিন্নির র-ক্তে ভেজা এক দলা দগদগে ক্ষত।

আরাভ ডুকরে কেঁদে উঠে আকাশের দিকে মুখ করে বলতে লাগল

“আল্লাহ! তুমি কেন আমার জীবনের সবচেয়ে দামী ইকুয়েশনটা ভুল করে দিলে? আমি তো দেশের জন্যই এটা করতেছিলাম। আমার ভালো কাজের এত বড় উপহার কেন দিলে? বিশ্বাস করো খোদা! আমি সহ্য করতে পারচ্ছি না এই উপহার। আমার… আমার দমবন্ধ লাগছে। কেন আমার জেরি’র কোল খালি করলে? আমি তো শুধু ওকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম! কেন আমি ওকে তখন বকা দিলাম? কেন ওর কথা শুনলাম না? জেরি… তুমি ফিরে আসো, আমি আর কোনোদিন প্রফেশনাল হব না। আমি শুধু তোমার স্যার হয়ে থাকব জেরি… প্লিজ ফিরে আসো!”

আরাভ হাসপাতালের মেঝেতে মাথা ঠুকতে লাগল। ওর হাহাকারে করিডোরের নার্স আর ডাক্তারদের চোখও ভিজে উঠল। যে মানুষটা লজিক দিয়ে দুনিয়া জয় করতে চেয়েছিল, সে আজ স্রষ্টার কাছে কোনো লজিক খুঁজে পাচ্ছে না।

আরাভ বিড়বিড় করে বলতে লাগল, “ও আমাকে দেখছিল… গাড়িটা যখন উল্টে যাচ্ছিল ও আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। ওর চোখে কত অভিমান ছিল খোদা! ও হয়তো বলতে চেয়েছিল স্যার, আপনার কোডিং জেতাতে গিয়ে আমরা হেরে গেলাম। আমি হেরে গেলাম জেরি… আমি হেরে গেছি!”

চৌধুরী ভিলার সেই করিডোরে আজ শুধু কান্নার রোল। যে বাড়িতে কালও খুশির প্রদীপ জ্বলছিল, আজ সেখানে শুধু এক অপরাধী প্রফেসরের আত্মচিৎকার আর এক পরিবারের বুকফাটানো শোক। ফাহিম আইসিইউ-তে মৃ-ত্যুর সাথে লড়ছে, আর রিন্নি… রিন্নির নিশ্বাসটুকু যেন সুতোর মতো সরু হয়ে ঝুলে আছে এক অজানা অন্ধকারে।

দেয়ালের সাদা রঙগুলোও যেন শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে। স্ট্রেচারের চাকার ঘড়ঘড় শব্দ আর রিন্নির মায়ের গগনবিদারী চিৎকারে বাতাসের প্রতিটি কণা ভারী হয়ে উঠছে। আরাভ আইসিইউ-র কাঁচের দেয়ালের ওপাশে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ওর সেই তীক্ষ্ণ চোখ দুটো আজ কোটরাগত, চোখের মণি দুটো স্থির।

ঠিক সেই সময় করিডোরের ওপাশ থেকে কান্নার রোল তুলে হন্তদন্ত হয়ে এল নয়না আর ওর পরিবার।

নয়না তখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে তার খুনসুটির সঙ্গী ফাহিম আর তার আদরের রিন্নি ভাবী মৃ-ত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

নয়না আইসিইউ-র জানালার কাছে গিয়ে যখন দেখল ফাহিমকে অসংখ্য নলের মাঝে ব্যান্ডেজে ঢাকা অবস্থায় রাখা হয়েছে, ও চিৎকার করে মেঝেতে আছড়ে পড়ল।

“ফাহিম! ওরে গাধাটা, তুই কথা বলছিস না কেন? তুই তো বলেছিলি আজ আমার সাথে গেম খেলবি! ওঠ ফাহিম! রিন্নি ভাবী… আপনার কোল তো খালি হতে পারে না! আপনি তো মা হতে চলেছিলেন! কে কেড়ে নিল সব?” নয়না পা-গলের মতো নিজের মাথা দেয়ালে ঠুকতে লাগল। ওর হাহাকারে হাসপাতালের নার্সদেরও চোখ ভিজে উঠল। রিন্নি আর ফাহিমের জন্য চিৎকার করতে করতে এক পর্যায়ে নয়নার শরীরটা নিস্তেজ হয়ে এল। ও “ফাহিম…” বলে একটা শেষ গোঙানি দিয়ে মেঝেতে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল। ওর বাবা-মা ওকে ধরাধরি করে অন্য বেডে নিয়ে গেলেন।

আরাভ তখনও নড়ছে না। ওর ভেতরের ঝড়টা এখন এক ভয়ংকর নিস্তব্ধতায় রূপ নিয়েছে। ঠিক তখনই ভারী বুটের শব্দে করিডোর কেঁপে উঠল। গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মিসেস সুরাইয়া আর একদল সশস্ত্র অফিসার সেখানে এসে পৌঁছালেন।

সুরাইয়া ম্যাম অপরাধবোধ নিয়ে আরাভের কাঁধে হাত রাখলেন। “আরাভ, উই আর সো সরি। আমরা ড্রাগনকে বর্ডার থেকে ধরে ফেলেছি। ওর পুরো গ্যাং এখন আমাদের কবজায়।”

আরাভ ধীরে ধীরে ঘাড় ঘোরাল। ওর চোখ দুটো তখন টকটকে লাল, যেন রক্ত বেরোবে। সে সুরাইয়া ম্যামের হাতটা ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিল। ওর কণ্ঠস্বর আজ আর মানুষের মতো শোনাচ্ছে না, ওটা যেন এক আহত পশুর গর্জন।

“ধরেছেন? এখন ধরে কী হবে ম্যাম? আমার ছোট ভাইটার গাড়িটা যখন আমার সামনে উল্টে যাচ্ছিল, তখন কোথায় ছিল আপনাদের টিম? আমার জেরি যখন ওর সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল, তখন কোথায় ছিল আপনাদের ওই হাইল্যান্ডার সিকিউরিটি? ড্রাগনকে ধরে কি আমার বাচ্চাটাকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন? আমার ভাইয়ের হাসিটা ফিরিয়ে দিতে পারবেন?”

আরাভ এবার ক্ষিপ্ত হয়ে সুরাইয়া ম্যামের কলার চেপে ধরল। গোয়েন্দা অফিসাররা অস্ত্র তাক করতেই আরাভ অট্টহাসি দিয়ে উঠল।

“গুলি করবেন? করুন! ম-রার ভয় তো আপনাদের মতো কাপুরুষদের থাকে যারা দেশের দোহাই দিয়ে অন্যের ঘর উজাড় করে দেয়। ধিক্কার জানাই আপনাদের এই গোয়েন্দা সংস্থাকে! দেশের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছি আমি, অনেক কোডিং করেছি ফ্রিতে। কিন্তু আজ থেকে এই আরাভ চৌধুরী নিজের জন্য একটা খারাপ কাজ করবে। ড্রাগনকে যদি আইনের হাতে সোপর্দ করেন, তবে মনে রাখবেন আমি এই দেশের পুরো ব্যাংকিং সিস্টেম এক মিনিটে ক্র্যাশ করে দেব। ওকে আমার হাতে তুলে দিতে হবে, আমি ওর র-ক্ত দিয়ে আমার ভাইয়ের র-ক্ত ধুয়ে দেব!”

আরাভের এই বিধ্বংসী রূপ দেখে সুরাইয়া ম্যাম এক পা পিছিয়ে গেলেন। এই মানুষটা এখন আর কোনো প্রফেসর নেই, সে এখন এক জ্যান্ত শয়তান।

ঠিক সেই মুহূর্তেই আইসিইউ-র দরজাটা সশব্দে খুলে গেল। ডাক্তার বের হয়ে এলেন। ওনার হাতে ফাহিমের সেই র-ক্তাক্ত ঘড়িটা, যা আরাভ ওকে জন্মদিনে দিয়েছিল। ডাক্তারের মুখটা বড্ড ম্লান।

আরাভ টলতে টলতে গিয়ে ডাক্তারের সামনে দাঁড়াল। “ডাক্তার? ফাহিম… ও গেম জিতবে তো?”

ডাক্তার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নিচু করলেন। ওনার ধরা গলায় শুধু কয়েকটা শব্দ বেরোল
“উই লস্ট হিম, মিস্টার আরাভ। ফাহিম সাহেব আর বেঁচে নেই। ট্রাকের সেই প্রচণ্ড ধাক্কাটা উনি রিন্নির দিকে যেতে দেননি। ওনার স্পাইনাল কর্ড আর লিভার পুরোপুরি চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। রিন্নির দিকে নিজের পিঠ দিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন উনি শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত। উনি রিন্নিকে বাঁচানোর জন্য নিজে চলে গেলেন।”

আরাভের চারপাশের জগতটা এক নিমিষে স্তব্ধ হয়ে গেল। করিডোরের কান্নার আওয়াজগুলো ওর কানে যেন কোনো দূর দেশের প্রতিধ্বনি হয়ে এল। আফজাল চৌধুরী ডুকরে কেঁদে উঠে মেঝেতে বসে পড়লেন।

রোকেয়া বেগম “বাবা আমার… ফাহিম রে!” বলে জ্ঞান হারালেন। হাসপাতালের ওই সাদা করিডোরটা মুহূর্তেই যেন একটা জীবন্ত নরককুণ্ডে পরিণত হলো।

নয়নার জ্ঞান ফিরেছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে। কিন্তু ডাক্তারের ওই শেষ বাক্যটা “ফাহিম সাহেব আর বেঁচে নেই” ওর কানে পৌঁছানো মাত্রই ও এক পৈশাচিক চিৎকার দিয়ে উঠল। নয়না পা-গলের মতো দৌড়ে গিয়ে আইসিইউ-র কাঁচের দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল।

“মিথ্যা কথা! সব মিথ্যা! ফাহিম ম-রতে পারে না! ও তো আমায় কথা দিয়েছিল কাল সকালে আমাকে কোডিং শেখাবে! ওরে ফাহিম… তুই তো ভীরু ছিলি না রে! তুই কেন ভাবীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের বুকটা পেতে দিলি? কেন আমাদের একা করে দিলি?” নয়না নিজের দুই হাতে নিজের চুল ছিঁড়তে লাগল। ওর হাহাকারে করিডোরের বাতাস যেন ভারী হয়ে জমে গেছে। নয়নার মা-বাবা ওকে জড়িয়ে ধরে থামাতে চাইছেন, কিন্তু নয়না তখন এক উন্মাদিনী। ও দেয়ালে মাথা ঠুকতে ঠুকতে বলছে, “তোর ওই বিরিয়ানির কে খাবে রে ফাহিম? কে আমাকে জ্বালিয়ে ম-ারবে? ফিরে আয় ফাহিম… একবার শুধু ফিরে আয়!”

করিডোরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসারদের চোখেও আজ পানি। মিসেস সুরাইয়া পাথরের মতো দাঁড়িয়ে দেখছেন এক সাজানো গোছানো পরিবারের ধ্বংসস্তূপ। যে ফাহিম সবসময় হাসিমুখে ল্যাবে ঘুরে বেড়াত, যে ছেলেটা ছিল এই পরিবারের প্রাণভোমরা সে আজ সাদা চাদরের নিচে নিথর। সুরাইয়া ম্যামের মনে হচ্ছে, এই র-ক্তের দায়ভার কোথাও না কোথাও তাঁদেরও। তাঁদের ব্যর্থতার কারণেই আজ এক মেধাবী তরুণ প্রাণ অকালে ঝরে গেল।

আরাভ ধীর পায়ে আইসিইউ-র ভেতরে ঢুকল। ফাহিমের নিথর দেহটার ওপর একটা সাদা চাদর টেনে দেওয়া হচ্ছে। আরাভ ফাহিমের বরফ শীতল হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল। যে হাতটা দিয়ে ফাহিম কয়েক ঘণ্টা আগেও রিন্নিকে আগলে রেখেছিল, সেই হাতে এখন কোনো স্পন্দন নেই।

আরাভ ফাহিমের কপালে একটা চুমু দিল। খুবই দীর্ঘ একটা চু*মু যেন অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল। তারপর ফাহিমকে উঠিয়ে জড়িয়ে ধরল। নিবিরভাবে জড়িয়ে ধরল। তারপর খুব নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল
“তুই জিতে গেলি ছোট। তুই তোর ভাবীকে আর তোর ভাইয়ের ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নিজে অমর হয়ে গেলি। কিন্তু আমাকে যে একা ফেলে গেলি রে পা*গলা! আমি এখন কাকে বকা দেব? কার বিরিয়ানির বাটি কেড়ে নেব? ফাহিম… কথা বল ভাই! তোর ভাইয়া ডাক না শুনলে যে আমার রাত কাটতে চায় না। প্রতিরাতে আমি দেরি করে ফিরি বলে তুই সোফায় বসে থাকিস যাতে দরজা খুলতে দেরি না হয়। এখন কে দরজা খুলবে বল? তোর মুখ না দেখলে যে আমার ঘরে ডুকতে ইচ্ছে করে না! তুই নিজের জেতার জন্য এত নিচে নামলি? নিজের ভাইকে এই বিভৎসভাবে হারাতে তোর লজ্জা করল না?”

আরাভ এবার ফাহিমের লা-শের ওপর মাথা রেখে এমন এক আর্তনাদ করল, যা হাসপাতালের দেয়ালগুলোকেও যেন বিদীর্ণ করে দিল। ওর ওই কান্নায় কোনো লজিক নেই, কোনো সমীকরণ নেই আছে শুধু এক বড় ভাইয়ের বুকফাটানো হাহাকার।

বাইরে করিডোরে তখনো রিন্নির বাবা-মা বিলাপ করছেন। তাঁদের একমাত্র মেয়ে রিন্নি… সে পাশের ওটিতে ম-ৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। ফাহিম তো নিজের জীবন দিয়ে ভাবীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টাটুকু করে গেছে, কিন্তু রিন্নি কি পারবে এই বিশাল শোকের পাহাড় সয়ে ফিরে আসতে? ওর শরীর থেকে লিটার লিটার র-ক্ত ঝরে গেছে। ডাক্তাররা এখনো বের হননি।রিন্নির নিশ্বাসটুকু যেন একটা সরু সুতোর মতো ঝুলছে যেকোনো সময় ছিঁড়ে যেতে পারে।

আরাভ আইসিইউ থেকে বেরিয়ে এসে সুরাইয়া ম্যামের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ওর চোখ দুটো এখন আগুনের গোলার মতো জ্বলছে। ও দাঁতে দাঁত চেপে বলল
“আপনারা ড্রাগনকে ধরেছেন তো? মনে রাখবেন ম্যাম, ফাহিমের এই প্রতিটি ফোঁটা র-ক্তের বদলে আমি ড্রাগনের বংশ নির্বংশ করে দেব। দেশের জন্য অনেক বিসর্জন দিয়েছি, এবার নিজের আত্মার শান্তির জন্য আমি ধ্বংসলীলা চালাব। আমার ছোট ভাইটা ওর ভাবীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের কলিজা দিয়ে দিয়েছে… আর আপনারা বলছেন আপনারা তদন্ত করছেন? যান! আমার সামনে থেকে চলে যান আপনাদের ওই উর্দির অহংকার নিয়ে!”

হাসপাতালের সেই করিডোরে আজ শুধু কান্নার রোল। চৌধুরী ভিলার সেই চঞ্চল ছেলেটা আজ চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছে, বিনিময়ে রিন্নিকে দিতে চেয়েছে এক অভিশপ্ত জীবন আর এক চিরস্থায়ী হাহাকার। রিন্নি বাঁচবে কি না, নাকি সেও ফাহিমের পিছু পিছু না ফেরার দেশে চলে যাবে তা এখনো এক রহস্যময় অন্ধকার।

চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here