#বুকের_পাঁজর
#লেখনিতে : #ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা)
#পর্ব : ১৪
রাত এগারোটার কাছাকাছি।বাড়িতে থাকা মানুষ গুলো ঘুমাতে গেলেও ঘুম নেই ছয় রমণীর চোখে।তারা সব গল্প করতে ব্যস্ত।এক কথা থেকে অন্য কথা,সেই কথা থেকে আরেক কথা,কথার শেষ নেই। কিন্তু দরজায় টোকা পড়ায় তাদের কথায় ব্যাঘাত ঘটল।
“কে?”
“দরজা খোল”
হামিমের গলা পেয়ে একটু অবাক ই হলো।সবাই বিছানায় ঠিক ঠাক হয়ে বসলেও সুমাইয়া দাঁড়িয়ে গেল আর নূর দরজা খুলে দিল।দরজা খুলে দিতেই হামিম বুলেটের গতিতে ঢুকে চোখের পলকে সুমাইয়া কে কোলে তুলে যেভাবে এসেছিল সেভাবেই বেরিয়ে গেল।কি থেকে কি হয়ে গেলো তা বোঝার সময় টুকু কেউ পেলো না।
হামিম সুমাইয়া কে নিয়ে বেরিয়ে যেতেই নূর ধীরে ধীরে দরজা বন্ধ করে দিয়ে পিছনে ফিরল।চোখে চোখে কথা বলেই একত্রে হেসে উঠল সবাই।
“বাবা,কি রোমান্টিক গো!!!ট্রু লাভ।”
হিরার কথায় আবার হাসির শব্দে ভরে উঠল রুম টা।
___________________________________________________________________________
“কি করছেন টা কি আপনি?”
সুমাইয়ার উপর ঝুঁকে থাকা হামিম ওর কাঁপা কন্ঠ শুনে হাসলো। সুমাইয়া কে সোজা নিজের রুমেই নিয়ে এসেছে।ওকে বিছানায় বসিয়ে দরজা দিয়ে ওর উপর ঝুঁকে পড়েছে।লজ্জা,ভয়ে মেয়েটার মুখ টা একটু খানি হয়ে গেছে।হেসেই সোজা হয়ে দাঁড়ালো হামিম।হামিম কে সরে যেতে দেখে নিজেও ঠিক হয়ে বসল। কিন্তু বেশিক্ষণ ঠিক থাকতে পারলো না।হুট করেই হামিম ওর কোলে মাথা রেখে পেটে মুখ গুঁজে দিল। নিঃশ্বাস আটকে গেছে মেয়েটার।
“নিঃশ্বাস ছেড়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেও।”
হামিমের কথানুযায়ী ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো সুমাইয়া।ঘুম ঘুম ভাব চোখে আসতেই সুমাইয়া কে কোলবালিশের মতো জরিয়ে গলায় মুখ গুঁজে শুয়ে পড়ল হামিম।সম্পূর্ণ ভার টাই ছেড়ে দিয়েছে সুমাইয়ার ওপর।
“ঠিক ভাবে ঘুমান না,আমার তো কোনো অসুবিধা হচ্ছিল না।”
“চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো।”
বেচারি কি আর করবে,ওভাবেই হালকা হালকা নিঃশ্বাস নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করল।
___________________________________________________________________________
“আজকে একটা জামাই নেই বলে কোলে উঠতে পারি না।”
“আফসোস”
হিরার কথায় সুর মিলালো নূর আর হালিমা।হাবিবা নিজের রুমে গেছে,ফোন এসেছে তার।
“ইস,কবে যে তার বুকে মাথা রাখবো,তার হৃদস্পন্দন শুনবো!!”
হাওয়ার কথায় মুখ বাঁকালো হিরা।ঢং দেখে বাঁচা যায় না,ওমন মানুষের প্রেমে পড়ে নাকি কেউ?কেমন একটা জানি।দেখতে শুনতে তো ভালোই তবে বর বা বয়ফ্রেন্ড কোনোটার ই যোগ্য না।যে মানুষ হাসতে জানে না,মজা করতে জানে না তার থেকে কি ই বা চাওয়ার থাকে?দুজনে মিলে কত কথা বলবো,মজা করবো,মন খুলে হাসবো,সাথে থাকবে মিষ্টি রোমান্টিকতা।কখনো ছাদে দাঁড়িয়ে তার বুকে মাথা রেখে চাঁদ দেখা,তার কোলে বসে দোলনা খাওয়া,তার বুকে মাথা রেখে ঘুমানো এইসব ই তো চাই মেয়েরা,অন্তত ওর তো তাই ই মনে হয়।ঐ গুরুগম্ভীর,দৈনিক রুটিনে বাঁধা মানুষ টা কি করে জানবে এসব কথা?কীভাবে বুঝবে সবসময় রুটিন মাফিক চললে হয় না, এর বাইরেও আলাদা একটা জগৎ আছে। পছন্দের মানুষ টা যদি নিজের পছন্দের কিছু নিয়ে আসে,তবে সেটাই কত ই না আনন্দ থাকে। নিরিবিলি রাস্তায় প্রিয় মানুষটার হাত ধরে হাঁটার মধ্যে যে আনন্দ তা ঐ রোবটিক মানুষ জানে নাকি!! নিজের ভালো পাগলেও বোঝে,হাওয়ার টা হাওয়া বুঝবে।তবে ওর তো হাসিখুশি মানুষ ই চাই,যার কাছে ভালোলাগা, আনন্দ,রোমান্টিকতা সব আছে।
“এই হাওয়া নাম টা বল না রে।হিরা যদি জানতে পারে তবে আমরা জানলে দোষ কি রে?”
“জেনে কি করবি তোরা।থাক না কিছু অজানা।”
“ধুর,এই হিরা তুই বলতো,বললে আমরা তো আর ঢাক ঢোল পিটিয়ে সবাইকে বলল না তাই না!!”
নূরের কথায় হিরা তাকালো হাওয়ার দিকে।অন্যসময় হলে তো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে,আর আজকে তাকাচ্ছেই না।মেয়েটা বুঝলো হয়ত বোনের কথা। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানায় আরাম করে বসলো হিরা।
“হিম ভাই ”
“হিরা মজা করিস না।হিম ভাইয়া দেশেই নেই,এখানে আসবে কি করে?”
হালিমার রাগ মিশ্রিত কথায় মুচকি হাসলো মেয়েটা।একটা বোম ব্লাস্ট হবে এখন।
“আমি বলতে চাইছি যে তোমাদের আদরের সেঝ বোনের প্রেমিক পুরুষ হিম ভাই”
“কিইইইইইই”
শীতল হাওয়া বয়ে গেল নূর আর হালিমার মধ্যে দিয়ে।শেষে কি না হিম!!
“হিম ভাই মানে কোন হিম ভাই?আ.. আমাদের হি.. হিম ভা…ই?
নূরের কথায় মাথা নাড়ালো হিরা।মাথা ঘুরে এলো ওর।এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।হাওয়ার সব পাগলামি তবে হিমের জন্য!!!এর পরিণতি কি?
নূর অবাক হলেও হালিমা অবাক হওয়ার পাশাপাশি ঘোর অন্ধকারেও ডুবে গেলো।হাবিবা একদিন কথায় কথায় বলেছিল,হিম কাকে নাকি ভালোবাসে!!ভালোবাসে বললে ভুল হবে।চরম বিষাক্তময় আসক্তি বলা চলে।মেয়েটা যদি হামিম হাসিবের সাথেও কথা বলে,তাতেই হাত শক্ত হয়ে যায় হিমের।হামিম নাকি হাবিবা কে বলেছিল,হিম মেয়ে টাকে নাকি পুরো বন্দি করে রাখবে।মেয়েটার হাসি,কান্না, ভালোবাসা,রাগ, অভিমান, অধিকার সবকিছু শুধু হিমের, একমাত্র হিমের।হাবিবা নাকি মেয়েটাকে চেনে, কিন্তু হালিমাকে বলেনি সে নাম।
“আব.. তোরা কথা বল।আমি একটু আসছি।”
___________________________________________________________________________
“হাওয়া,তুই হিম ভাইয়াকে ভালোবাসিস?”
হালিমা হাবিবাকে গিয়ে হিরার কথা বলতেই ও ফোন কেটেই দৌড়ে চলে এসেছে।হিরার কথায় বিশ্বাস নেই,হাওয়ার মুখ দিয়ে আগে শুনতে হবে।এমন কিছু হতেই পারে না,হয়ত হিরা মজা করছে নয়ত ওর কোথাও ভুল হচ্ছে। আচ্ছা যদি হিরার কথা সত্যি হয়!!
“আমি কি মিথ্যা বলছি নাকি? অদ্ভুত তো। আরে আমি যা বলছি ঠিক ই বলছি”
“আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি হিরা।যাকে জিজ্ঞেস করেছি তাকেই উত্তর দিতে দে।হাওয়া কথা বল”
হাবিবার কথায় ঠোঁট উল্টালো হিরা।তাকে কেউ বিশ্বাস ই করতে চাই না।
“হিরা যা বলছে সব ঠিক।আ.. আমি ভা..লো…বাসি হিম ভাইয়াকে। পাঁচ বছর ধরে।পনেরো বছরের আমি প্রেমে পড়েছিলাম চব্বিশ বছরের যুবকের উপর।আজ আমি সে দুজন ই প্রাপ্ত বয়স্ক কিন্তু আবেগ টা ঠিক সেই জায়গা তেই আছে যেখানে প্রথম থেকেই ছিল।প্রথম দেখাতেই ভালোলাগা আর তারপর ভালোবাসা।আমার সবটা জুড়ে শুধুই তার উপস্থিতি আপু।”
হাওয়ার সব কথা হাবিবার কানে গেলো না বোধ হয়,ওর জন্য হাওয়ার বলা প্রথম দুটো কথায় যথেষ্ট ছিল।ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল হাবিবা।কি হবে এর পরিণতি!!কোনদিকে যাবে এই ত্রিকোণ প্রেম?
হিম হিরা কে কখনো ছাড়বে না,প্রয়োজনে হিরাকে মেরে ফেলবে তবুও ওকে কারো হতে দেবে না। অন্যদিকে হাওয়া,এই মেয়ের লুকায়িত ভালোবাসা তো সে প্রথম থেকেই দেখেছে। দিনশেষে যে হাওয়া হেরে যাবে তার ভালোবাসার কাছে। আল্লাহ উপরে কোনো কথা নেই কিন্তু হিরাকে হিমের হতেই হবে। তাহলে?ভাঙন ধরবে দুই বোনের সম্পর্কে।আর এসব কথা আসমা বেগমের কানে গেলে তো ভাঙবে মা মেয়ের সম্পর্কও।সামনে অনেক বড় ঝড় আসছে,অনেক বড়।ঝড় টা পুরো শিকদার বাড়ি কে শেষ করে দেবে।এত আবেগ,মায়ায় মোড়ানো সম্পর্ক গুলো ভেঙে মিশে যাবে ধুলোয়।
নিজের মাথা চেপে ধরল হাবিবা।এত বড় ধাক্কা নিতে পারছে না।কেউ ই পারছে না যদিও কিন্তু হাবিবা সবার থেকে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।এদিকে যাকে নিয়ে এত কিছু সে শান্ত,নির্বাক।ও কাউকে জানাতে চায়নি হিমের বিষয়ে কিন্তু আজ কেনো জানি মনটা বাঁধা দিল না।ওর মন চাইছে সারা পৃথিবীকে জানাতে।
ও চাইবে হিম কে। কিন্তু কার কাছে?দাদির কাছে নাকি বাবার কাছে।দাদির কাছে চাওয়াটাই বেশি ভালো হবে হয়ত। অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে ওর।মনে হচ্ছে সামনে কিছু হবে। কিন্তু কি হবে?ঐ রাগী গম্ভীর মানুষ টাকে ও পাবে তো?ঐ শক্ত বুকের বাঁ পাশে সত্যিই ওর আধিপত্য থাকবে!!কি জানি কি লেখা আছে ভাগ্যে।
এসবের মাঝে চরম বিরক্ত হিরা।সব কেমন থম মেরে বসে রয়েছে।কেউ কিছু বলছেই না,শক তো লাগার কথা,তারও লেগেছিল কিন্তু এরা একটু বেশিই মানে ওভার রিয়েক্ট করছে।
“আমি যখন বললাম তখন তো বিশ্বাস করলে না। এখন হলো বিশ্বাস?আমার জীবনে কষ্টের শেষ নেই,কত আশা ছিল নিজের বোনের বরকে নিয়ে। কিন্তু আশা আমার নিরাশায় রূপ নিল।ওমন কাঠখোট্টা মানুষ কে দুলাভাই হিসেবে মানায় যায় না। কিন্তু হায় কপাল।মানতেই হবে। কিন্তু তোমরা এখন একটু নাটক বন্ধ করো।রাত বারোটা বাজে। তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।ঘুমিয়ে পড়ো সবাই।বাবা চাচ্চু রা হয়ত এসে পড়েছে।আমি নিজের রুমে যাচ্ছি,আজকে বড্ড একা ঘুমাতে ইচ্ছে করছে। গুড নাইট”
বলে উচ্ছাস ভঙ্গিতে চলে হিরা।হিরা চলে যেতেই হাবিবা হালিমাও জড় বস্তুর ন্যায় চলে গেল।পেছনে থেকে গেলো হাওয়া আর নূর। হাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ওয়াশরুমে চলে গেল নূর।নূর যেতেই হাওয়ার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল পানি।কি আছে ভবিষ্যতে!!!
___________________________________________________________________________
হিম বাড়িতে নেই আজ দশ দিন হতে চলল।দেশে এসেছে কি না তাও জানে না কেউ।ভোরেই দুই ভাই মানে হামিম আর হাসিব কই জানি চলে গেছে।কখন আসবে তার কোনো ঠিক নেই।
“হামিম ভাইয়া আর হাসিব ভাইয়া কই গেছে বলতে পারিস সুমু?”
“কি জানি হালিমা।কালকে রাত সাড়ে চারটার দিকে তার ফোনে কে জানি কল করল,কল ধরে সে কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে দশ বারো সেকেন্ড ধরে কি বলল জানি, তৎক্ষণাৎ সে উঠে পড়ল। রেডি হয়ে হাসিব ভাইকে কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। আমাকে তেমন কিছু বলেনি।”
সুমাইয়ার কথায় কেউ কিছু বলল না।এ বাড়িতে এমন অনেক কিছু হয় যা অদ্ভুত লাগে কিন্তু তারা কিছুই জানে না।
হিরার কাছে তো এক বাড়ির মানুষ গুলোকে রহস্যে মোড়া লাগে। তাদের কিছু কাজে বা কথায় এটা বোঝা যায়, অদ্ভুত আচরণ করে তারা।মাঝে মাঝেই হিম উধাও হয়ে যায়,আর হিম উধাও হওয়ার দশ বারো দিন পর হামিম আর হাসিব এভাবেই কাউকে কিছু না জানিয়ে কোথাও একটা চলে যায়।পরেরদিন বাড়িতে আসে তাও খুব দরকার হলে।যদিও দুজন একসাথে বের হয় তবে বাড়িতে আসলেও এক জন আসে,সে গেলেই আরেকজন আসে। এভাবে দেড় দিন দুদিনের মধ্যেই হিম শিকদার বাড়িতে চলে আসে।এটা যেন এক নিয়ম।
তারপরে কথায় আসে হিমের বন্ধুরা।ওরা তো শুধু হিমের না, নীড়,হাসিব হামিমেরও বন্ধু কিন্তু হিম বাড়িতে না থাকলে এদের কাউকে এ বাড়ির ত্রিসীমানায় দেখা যায় না।নীড়ও খুব একটা আসে না।কি জানি কি চলে এদের মধ্যে। শুধু এখানেই শেষ না। ওদের বাগানে যে কাজ করে মানে রহিম,দেখতে পুরো বডিবিল্ডার।কি লম্বা,শক্ত শরীর!!তার মতো মানুষ কি না বাগানে কাজ করে!! শুধু সে না,তাদের ড্রাইভারও।কি সুন্দর দেখতে, চাইলে যে কারো বডিগার্ড বা গার্ড বা যেকোনো বাহিনীতে ভালোভাবেই কাজ পেয়ে যেত।সেসব ভালো মানের কাজ বাদ দিয়ে করে ড্রাইভার গিরি!!
ওদের বাড়িতে কাজ করা শিউলিকে তো ওর কাছে লেডি বডিবিল্ডার থেকে কোনো অংশে কম লাগে না।কি সুন্দর ফিগার শিউলির, সামান্য মেদ পাওয়া যাবে না বোধহয় ওর শরীরে।ওর হাত পা স্বাভাবিকের থেকে একটু শক্ত অবশ্য।গ্রামের মেয়ে তো,খেটে মানুষ।তাই হয়ত এমন।
___________________________________________________________________________
“নীড়,হাসিব হামিম কোথায় গেছে জানিস কিছু?”
সবাই সকালের খাবার খেতে বসেছে।নীড় এসেছে কিছুক্ষণ হলো।শেষ খাবার টুকু টেবিলে রেখে চেয়ারে বসতে বসতে বললেন রোকেয়া বেগম।
“তা তো জানি না বড় মামি।আমাকে কিছু বলেনি।”
নীড়ের কথায় দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন রোকেয়া বেগম।এরা কখন কি যে করে কে জানে।ওদিকে যার ছেলেদের নিয়ে এতকিছু তার মধ্যে কোনো ভাবান্তর নেই।হিম যখন বাড়ির বাইরে যায় তখন থেকেই চিন্তায় থাকে মানুষটা তবে হামিম হাসিব এভাবে কোথাও গেলে লোকটাকে একটু নিশ্চিন্ত দেখায়।
“তোমরা আজকে হাসপাতালে চলে যেও।আমি একটু দেড়ি করে যাব।”
খাবার খেয়ে উঠতে উঠতে বললেন আকরাম শিকদার।ওনার কথায় কপালে ভাঁজ পড়ল রোকেয়া বেগমের।
“কেনো?আপনি এখন কোথায় যাবেন?”
“বাইরে একটু কাজ আছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাব হাসপাতালে।চিন্তা করো না।আর সুমাইয়া মামুনি,তোমার সাথে তো ভালো করে কথায় হয়নি। খুব ব্যস্ততা যাচ্ছে মা, কিছু মনে করো না।”
“না না আঙ্কেল,আমি জানি তো আপনাদের উপর থেকে অনেক চাপ যাচ্ছে।এতে কিছু মনে করব কেনো?তবে আঙ্কেল এত ব্যস্ততাও কিন্তু ঠিক না।বয়স বাড়ছে, নিজের শরীরের দিকে খেয়াল রাখতে হবে তো।”
“আচ্ছা মা।তোমার কথা মনে রাখবো।আর কোনো অসুবিধা হলে আমাকে জানিও কিন্তু।”
“আচ্ছা আঙ্কেল।সাবধানে যাবেন।”
“আচ্ছা ঠিক আছে।আমি আসলাম।”
“আমিও যাব মামা। দাঁড়ান।”
“আমি গাড়িতে বসছি, তুই আয়”
উনি চলে যাওয়ার পরপরই নীড়ও বেরিয়ে গেল।ওরা যাওয়ার মিনিট পাঁচেক পর বেরিয়ে গেলো বাকিরাও।তিন গিন্নি কিছুক্ষণ পর যাবেন। সুমাইয়া রয়েছে তাই চাইলে তারা ছুটি নিতে পারতো তবে খুব সমস্যা হবে তাতে।না চাইতেও যেতে হবে। সুমাইয়া, হাবিবা,হালিমা এরা সবাই নিজেদের মেডিকেল কলেজে যাবে।হাওয়া নূর যাবে তাদের ভার্সিটিতে।আর হিরা যাবে তার কলেজে।এক কথায় বাড়িতে থাকবে না কেউ।
হাবিবা, হালিমা, হাওয়া, নূর, সুমাইয়া আর হিরা বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে গেলো তিন গিন্নিও।রোকেয়া বেগম হামিম কে ফোন করে জেনে নিয়েছেন যে আজকে তারা বাড়ি আসবে না। মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে শিকদার বাড়ি।
#চলবে ?

