বোকামন #পর্ব_২২

0
9

#বোকামন
#পর্ব_২২
#Tahsin_Atoshi

তুহিন আজ ভিষণ খুশি। চট্টগ্রামে একটা বড় কম্পানির সাথে ডিল ছিল তার এবং ডিলটা ফাইনালও হয়েছে অবশেষে। এতেই মূলত সে খুশি৷ আজ ঢাকায় ফিরবে সে। বন্ধুদের সাথেও কতদিন দেখা হয়না৷ কাজের ব্যস্ততায় যোগাযোগ করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি তার। মনে মনে ঠিক করে রাখে ঢাকায় ফেরার পরই তার বাবা-মাকে বলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে স্মৃতির বাসায়। এখন তো আর প্রস্তাব নাকোচ করার কোনো উপায় নেই৷ ছেলে হিসেবে সে পারফেক্ট। পড়াশোনা,ক্যারেক্টার সব দিক থেকেই। ছোট্ট ব্যবসাটাও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। এতে খারাপ কি৷ মেনে নেয়া আবশ্যক। কিছুক্ষণের মাঝেই বাস এসে হাজির হয় সামনে। চুপচাপ উঠে পরে বাসে। নিজের টিকিট কাটা বরাদ্দ সিটে গা এলিয়ে দেয়। কাজের চাপে ঠিকমতো রেস্ট নেয়াও হয়নি তার। এখন সব থেকে মুক্তি। মনে মনে ঠিক করে কিছুদিন রেস্টে থাকবে। এছাড়াও পরের মাসে মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা৷ তার প্রস্তুতি বাকি।

বাড়িতে একবার কল করে জেনে নেয় বাবা-মা কেমন আছে সেই অবস্থা। বন্ধুদের কল করার ইচ্ছে হয়৷ আবার ভাবে একেবারে ঢাকায় পৌছে দেখা করবে সবার সাথে। ফোনটা রেখে চোখ বন্ধ করে এক ঘুম দেয়।

~★~

ঘরের এক কোণে চুপটি করে বসে আছে হুমায়রা। ভালো লাগছে না কিছু। একা একা কেমন বিরক্ত লাগছে সব। গতরাতে আবারো শুভর সাথে তর্ক করেছে। তবে এবার শুরু করেছিল শুভই৷ হুমায়রা মন খারাপ করে বসে থাকায় নিজ থেকেই জিজ্ঞেস করে,

-কি আহানের বিয়ে স্মৃতির সাথে হয়েছে দেখে মন খারাপ নাকি?

শুভর কথায় বিরক্ত হয় হুমায়রা৷ সে আহানের কথা ভাবছিল এটা ঠিক। তবে সবচেয়ে বেশি ভাবছিল তুহিনের কথা। কিছুদিন যাবৎ তুহিনের খবর নেই। কোনো এক কাজে চট্টগ্রাম গিয়েছে। সে ফিরে এসে যখন জানতে পারবে স্মৃতির বিয়ে হয়েছে কি করবে সে? সবটা কি মেনে নিবে? নাকি আহানের মতো ভেঙে পরবে। এসব ভাবনায় মাথা ছিড়ে যাচ্ছে তার। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-এতে আমার মন খারাপ হবে কেন৷ ওনারা খুশি হলেই হলো।

-আচ্ছা…! তোমার আশিক না? সারাদিন তো বলতে থাকো ওকে ভালোবাসো ভালোবাসো৷ তো হঠাৎ বেস্টফ্রেন্ডের সাথে বিয়ে হয়ে গেল একটুও খারাপ লাগছে না বুঝি?

শুভর এমন কথায় এবার রাগ হলো হুমায়রার৷ উঠে শুভর মুখোমুখি হয়ে বলল,

-হ্যাঁ ভালোবাসি আমি আহানকে। আর সারাজীবন ভালোবাসবো। আপনার কি তাতে? স্মৃতির সাথে বিয়ে হয়েছে তো কি হয়েছে হ্যাঁ? সবাই পরিস্থিতির শিকার৷ আপনি আমাকে জোর করে বিয়ে না করলে এইদিন আসতো না বুঝলেন?

হুমায়রার মুখে আহানকে ভালোবাসার কথা শুনেই মাথায় রক্ত উঠে গেল শুভ। রাগের মাথায় হুমায়রার চোয়াল শক্ত করে ধরে বলল,

-একবার বলেছি না আমার সামনে বলবি না ওকে ভালোবাসার কথা। কানে যায় না। মনে রাখবি ও এখন অন্যের হাসবেন্ড। তো মুখ সামলে কথা বলবি। তোর মুখে ওই নাম আমি শুনতে চাইনা।

কথা শেষে এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো হুমায়রাকে। রাগ নিবারণের জন্য নিজের মাথার চুল মুঠো করে ধরলো৷ এবার কাদঁলো না হুমায়রা৷ শুভর করা এমন কাহিনীতে আরো রাগ হলো ওর। এবার উচ্চস্বরেই বলল,

-ভালোবাসি আমি আহানকে। ভালোবাসি ভালোবাসি৷ কি করবেন আপনি হ্যাঁ? বলুন? মারবেন? মেরে ফেলুন না৷ আপনার সাথে সংসার করার চাইতে মরে যাওয়া অনেক ভালো। মেরে ফেলুন আমাকে।

গলা আটকে আসে হুমায়রার। থেমে যায় সে। এক মুহূর্তও এই লোকটার সাথে সে ঘরে থাকতে চায়না। তাই পা বাড়ায় বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না। হঠাৎ হাত ধরে এক হেঁচকা টানে হুমায়রাকে কাছে নিয়ে আসে শুভ। নিজের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,

-কেন বুঝো না তুমি? ভালোবাসি আমি তোমাকে। রাগ হয় আমার তোমার মুখে অন্যের কথা শুনলে। তবুও কেন বলো?

থামে শুভ। কন্ঠে অসহায়ত্ব স্পষ্ট তার। হুমায়রা অবাক হয়৷ এই দু সেকেন্ডে কি হয়েছে ব্যাপারটা বোধগম্য হতেই নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পরে। কিন্তু শুভর শক্তির কাছে হুমায়রার শক্তি নির্ঘাত তুচ্ছ। তবুও ছাড়ানোর চেষ্টা ছাড়ে না। হুমায়রাকে এমন ছটফট করতে দেখে ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দেয় শুভ। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-আ্ আম সরি৷ আসলে আমারই দোষ। আমার বলা উচিত হয়নি। সরি।

বিস্মিত হয় হুমায়রা৷ থামে এবার। আর ছাড়ানোর চেষ্টা করে না। মাঝে মাঝে তার মনে হয় লোকটা সাইকো। নিজেই ঝগড়া শুরু করে আবার নিজেই ক্ষমা চায়, নিজেই কাছে টেনে নেয়।
.
স্মৃতি চুপচাপ বিছানার এক কোণে বসে আছে। আহান তখনও ড্রয়িং রুমে৷ মূলত আহান ও তার খালার কথার শব্দেই ঘুম ভেঙে গেছে তার৷ কিন্তু বাইরে বের হয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেনি। তাই চুপচাপ বিছানার পাশেই বসেছিল। শরীর ক্লান্ত লাগছে খুব। গতকাল সকালে খেয়েছিল। এরপর এক গ্লাস পানিও গলা থেকে নামেনি৷ শরীর দূর্বল হয়ে পরছে। বিছানায় কতগুলো ব্যাগ দেখে কৌতুহল হয় তার। কিন্তু অন্যের জিনিস ভেবে আর ধরার সাহস হয়না৷

হঠাৎ দরজার শব্দে ধ্যান ভাঙে। আহান এসেছে। এক পলক দেখে আবার চোখটা মেঝেতে নিবদ্ধ করে। ভয় হয় তার। আহান তো তাকে মেনে নেয়নি এখনো। কতদিন থাকতে পারবে? নাকি ওকে ছেড়ে দিবে! আহান তো কিছু জানেও না ওর ব্যাপারে। ভাবনার মাঝেই আহানের কন্ঠ শুনতে পায়। সামনে একটা প্লেটে খাবার রাখা। চোখ তুলে আবারো এক পলক তাকায়। তা দেখে আহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-খাবার খাওনি কেন?

-এ্ এমনি।

-শোনো ওইসব ঢং আমার সাথে করতে আসবে না। এই যে রাখলাম খেয়ে নেও।

বলে বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে গিয়েও আবার থামে। পেছন ফিরে গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-আর হ্যাঁ ব্যাগে তোমার পরার জন্য জামাকাপড় আছে। খেয়ে দেখে নিও। আমি বাইরে যাচ্ছি।

-কো্ কোথায়?

-তা জেনে তোমার কাজ?

কথাটা একটু রাগ নিয়ে বলে আহান। ভয় পায় স্মৃতি। তবুও থামে না। মন খারাপ করে বলে,

-আ্ আমার একা ঘরে ভয় করে।

-একা ভয়ের কি আছে হ্যাঁ?

আহান এবার কথাটা উচ্চস্বরেই বলে ওঠে। ভয় পায় স্মৃতি। তবুও গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-আমার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলবেন না।

স্মৃতির বলা কথাটা হজম হয়না আহানের। স্মৃতির কাছে এসে চুলের মুঠি ধরে বলে,

-কি করবি হ্যাঁ? ভালো ব্যবহার করছি দেখে মাথায় উঠে গেছো না।

অবাক হয় স্মৃতি। আহানকে এমন ভাবেনি কখনো। তবুও সেও নাছোড়বান্দা। ভয় পায়না৷ চুলের মুঠি ধরা আহানের হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলে,

-বিয়ে হয়েছে দেখে এটাও না যে আপনি আমার সাথে যা খুশি তাই করবেন। ছাড়ুন আমাকে।

আহানের হয়তো খেয়াল হয় সে কি করছে৷ নিজের হাত স্মৃতির চুলে দেখে এক ঝটকায় সরে যায়৷ হুট করে রাগের মাথায় কি করছিলো তাই ভাবতে থাকে। এদিক-সেদিক তাকিয়ে নিজের চুলগুলো মুঠো করে নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এটা তার ব্যর্থ চেষ্টা সেটা সে ভালোমতোই জানে। আর এক মুহূর্ত দাড়ায় না সে। হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

আর স্মৃতি চুপচাপ বসে রয় কিছুক্ষণ। চোখের সামনে কেমন ঝাপসা দিয়ে আসে৷ ক্লান্ত লাগছে খুব৷ তবুও ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে-মুখে পানি দিয়ে ঠিক করে নিজেকে৷ খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ সুয়ে থাকে। তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে নিজের ভাগ্যের উপর।
ব্যাগের দিকে চোখ পরতেই ধীরে ধীরে উঠে ব্যাগের ভেতরের জামাগুলো দেখতে থাকে। আকাশি,পারপেল,সাদা ও গাড় সবুজ রঙের চারটা চুড়িদার আছে একটা ব্যাগে। আরেকটা ব্যাগে কালো, টিয়াল গ্রীণ, খয়েরী ও কলাপাতা রঙের চারটা শাড়ি। সেগুলো দেখে কৌতুহল নিয়ে এবার আরেকটা ব্যাগ খুললো। অন্য ব্যাগে কালো,জলপাই রঙা,মেরুন কালার ও গোলাপি রঙের চারসেট থ্রি পিস। আরেকটা ব্যাগ খুলতেই সেখানে কালো ও খয়েরী রঙের দুটো বোরকা ও হিজাব ও সাথে হিজাব পিন আছে।

সব দেখে এক নিমিষেই রাগ উধাও হয়ে যায়৷ কিন্তু বোরকা দেখে কৌতুহল হয়। কারণ স্মৃতি বোরকা পরে না। তাহলে বোরকা কেন এনেছে?ভেবে নেয় বাসায় আসলে জিজ্ঞেস করবে। কাপড় রাখার জন্য কাবার্ড খুলতে গেলেই সব কাপড় একসাথে স্মৃতির মুখে এসে পড়ে।
হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটায় পুরো বোকাবনে গেল স্মৃতি। রাগ নিয়ে আআআ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো। একা একা বিরবির করে বলতে লাগলো,

“এই লোককে আমারই শায়েস্তা করতে হবে। তাতে যা হবে হোক। এই স্মৃতি কম না হুহ। গ্রামে বড় হয়েছি আমি। এসব ঘাড়ত্যাড়া, অগোছালোকে ঠিক করা আমার বা হাতের খেল।”

এসব কথা একা একা বিরবির করতে করতেই পুরো কাভার্ডটা গুছিয়ে নিলো। একসাথে আহানের কাপড় ও অন্য সাইডে নিজের জামা রাখলো। জামা,শাড়ি কম হওয়ায় তেমন একটা জায়গা লাগলো না স্মৃতির। এবার চুপচাপ একটা থ্রি পিস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল গোসল করার জন্য।

প্রায় আধঘন্টা সময় নিয়ে গোসল শেষে বের হতেই আহানের মুখোমুখি হলো। আহান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিল। হঠাৎ স্মৃতিকে বাইরে আসতে দেখে চোখ আটকে যায় সেদিকে। গোলাপি রঙের থ্রি-পিসটা পরেছে সে। রঙটা স্মৃতির শ্যাম বর্ণের গায়ে দারুণ ফুটে উঠেছে।
কোনো কথা না বলে স্মৃতিও চুপচাপ পাশে দাড়িয়ে মাথার তোয়ালে খুলে চুল মুছতে লাগলো। স্মৃতিকে পাশে দেখতেই ধ্যান ভাঙে আহানের। ভ্রুঁ কুচকে তাকিয়ে চলে যায় সে। আয়নার প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়েই স্মৃতি জিজ্ঞেস করল,

-বোরকা এনেছেন কেন? আমি তো বোরকা পরি না।

-এখন থেকে পড়বে। ভার্সিটি যাওয়ার সময়।

-কিন্তু…..

-কিছুই না। আমি বলেছি মানে পরবে শেষ।

-ওকে….!

দু’জনের মাঝে আবার নিস্তব্ধতা বিরাজ করে। আহান কাবার্ড থেকে জামা বের করতে গিয়ে গোছানো দেখে অবাক হয়৷ সবচেয়ে বেশি অবাক হয় নিজের জামা-কাপড়ের পাশে স্মৃতির জামাকাপড় দেখে। গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-তোমাকে গোছাতে কে বলেছে?

-আপনার মতো অগোছালো থাকার ইচ্ছে নেই আমার তাই।

-তোমার জামাকাপড় এখানে রেখেছ কেন? এটা আমার….

আহানের কথা শেষ করতে না দিয়েই স্মৃতি বলে,

– তো জামা কাপড় কি আপনার মাথায় রাখবো আমি? আর রেখেছি তো কি হয়েছে। বিয়ে হয়েছে মানে আপনার সবকিছুতে আমার অধিকার আগে।

“অধিকার” শব্দটা শুনে থমকায় আহান। রাগ নিয়ে স্মৃতির দিকে তেড়ে আসতেই স্মৃতি হালকা দূরে সরে বলে,

-বিকেলে বের হবেন আমার সাথে। কসমেটিকস কিনবো। কিছু নেই এখানে।

স্মৃতির কথায় আরো রাগ হয় আহানের। এদিক-সেদিক তাকিয়ে নিজের রাগ নিবারণের চেষ্টা করতে থাকো। তার বোধগম্য হয়না এই মেয়ে এরকম ভাবে কথা বলছে কীভাবে তার সাথে? এতো সাহস..! এরই মাঝে আবারো স্মৃতি বলে,

-রাগ আর ভাবনা শেষ হলে এখন খাবার খেতে আসুন। একা একা বোরিং লাগে।

আহান আরেক দফা অবাক হয়। পাশে থাকা ফুলদানিটা স্মৃতির পায়ের কাছে ছুড়ে মারতেই ভেঙে যায় সেটা। এক পা নড়ে না স্মৃতি। সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ সে জানে এখন ভয় পেলে এই লোক আরো বেশি করবে। রাগ দেখিয়ে বলে,

-ইশ..! কি সুন্দর ফুলদানিটা ভেঙে ফেললেন? আপনার দ্বারা কিছু হবে না। কসমেটিকসের সাথে কিছু ফুলদানি আর ফুলগাছও কিনবো ওকে? এখন চলুন।

বলেই বাইরের দিকে পা বারায়। আহান দাঁতে দাঁত লাগিয়ে তাকিয়ে থাকে স্মৃতির যাওয়ার পানে। দরজার কাছে গিয়ে আবার থামে স্মৃতির। পেছন ফিরে আহানের দিকে তাকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে বলে,

-এগুলো পরিষ্কার করে তারপর আসবেন। পরে পা কাটলে আপনার মাথা ফাটাবো আমি বলে দিলাম।

কথা শেষ হতেই এক দৌড়ে ঘর থেকে বের হয় স্মৃতি। বুকে হাত দিয়ে দুইবার জোরে শ্বাস ফেলে। বিরবির করে বলে,

“নিমের বংশধর…!”

আহান তখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। স্মৃতির ব্যবহারে অবাক হয় সে। এতো সাহস পেলো কোথায় মেয়েটা তাই মাথায় ঢুকে না।

#চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here