#বোকামন
#পর্ব_২৫
#Tahsin_Atoshi
বন্ধুরা সকলে মিলেই আড্ডা দিচ্ছে । কিন্তু সবার মাঝে আগের মতো প্রাণবন্ত আর নেই বললেই চলে। থাকবেই বা কীভাবে? সেরকম পরিস্থিতি তো আর নেই এখন। স্মৃতি সবার জন্য হালিম বানাচ্ছে। আর হুমায়রা পাশে বসে আছে। মনোযোগ দিয়ে তাই বানানো দেখছে সে। হুমায়রার এতো মনোযোগ দেখে হাসে স্মৃতি। এদিকে ড্রইং রুমে কথার মাঝে দুই জোড়া চোখ দেখে যাচ্ছে তাদের না হওয়া প্রেয়সীকে। দুজনের মাঝেই অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট। ব্যাপারটা সকলের চোখ এড়াতে পারেনি। কিন্তু তাদের বলার মতোও কিছু নেই।
হুমায়রার মনোযোগ দিয়ে কাজ দেখা দেখে স্মৃতি কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-কি দেখছিস এতো? যা সবার সাথে গল্প কর।
স্মৃতির কথায় ধ্যান ভাঙে হুমায়রার। ঠোঁট উল্টে বলে,
-দূর ওনাদের ফ্রেন্ডের মাঝে আমি কি কথা বলবো?
-এতদিন মনে হয় বলিসনি?
-বলেছি। তোর ভাইয়ের চেহারা দেখলেই তো মাথা গরম হয়ে যায়।
হুমায়রার কথায় অবাক হয়ে তাকায় স্মৃতি। সামনে তাকাতেই আহানের সাথে চোখেচোখ পরে। সাথে সাথেই চোখ সরিয়ে নেয় সে। ভ্রু কুঁচকে মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
-ইশ! কত কিউট আমার ভাইটা। আর তুই বলছিস দেখলে মাথা গরম হয়! সিরিয়াসলি হুমু!
-হ্যাঁ হ্যাঁ তোর ভাই না। তোর কাছে তো কিউটই লাগবে। হুহ…!
কিছুক্ষণ আবারো চুপ থাকে দু’জন। আবার কিছু একটা ভেবে হুমায়রা বলে,
-আহানের সাথে তোর সব ঠিকঠাক তো?
-হুম আছি আলহামদুলিল্লাহ।
-ভালো থাকলেই ভালো।
-তুইও ভাইয়ার সাথে সবটা মানিয়ে নে না।
-আমার সময় লাগবে স্মৃতু। তুই তো জানিস আমি সহজে সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিতে পারি না। চাইলেই তো সব ভুলে যাওয়া যায় না তাই না?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্মৃতি । এটা সত্যি হুমায়রা সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। হুট করেই মনে প্রশ্ন জাগে স্মৃতির।
“ যখন হুমায়রা নিজের ব্যাপারে জানতে পারবে তখন কি হবে? অমিত ভাইয়ারা কি ওকে ওর আসল পরিচয় বলবে না?”
মনের প্রশ্ন মনেই থেকে যায়। হুমায়রার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয় শুধু৷ কিছু ফল একটা বাটিতে করে হুমায়রার হাতে দিয়ে দেয়৷ হুমায়রাও চুপচাপ সেগুলো নিয়ে শুভর পাশে বসে পরে। এক কামড় দিয়ে খায় আবার সবার গল্প শুনতে থাকে। এদিকে স্মৃতি সবার জন্য নাস্তা বানিয়ে পরেছে মহা বিপদে। সব একসাথে এতোগুলো বাটি নিতে পারবে না। আর একটা একটা করে নেয়ার মতো ধৈর্য তার নেই। ঠোঁট কামড়ে কিছুক্ষণ ভাবতে থাকে কি করবে। সামনে চোখ যেতেই আহানকে চোখে পরে। আর কিছু না ভেবেই ডাক দেয় এবার,
-এই শুনছেন এদিকে আসুন তো।
স্মৃতির এমন ডাকে সবার কথা বন্ধ হয়ে যায়। আড়চোখে একবার ওকে দেখে নেয়। সবারই ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে। শুধু মাএ আহান ও তুহিন বাদে। তুহিন তখনও গম্ভীর হয়ে আছে। আর আহান বিরক্তি নিয়ে একটা চ্যাহ শব্দ করে ফোন ঘাটতে শুরু করে। তা দেখে অর্নি বলে,
-আহান তোকে ডাকছে তো।
-ডাকুক……!
কেউ আর কথা বলে না। শুভ উঠে স্মৃতির কাছে যেতে চাইলেই তুলি আটকে দেয়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
– বস তুই।
এরপর আহানের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পেছন থেকে আবারো স্মৃতির ডাক শোনা যায়…
-এই যে “নিমের বংশধর” ডাকছি কানে যায় না?
“নিমের বংশধর ” নামটা শুনতেই সবাই অবাক হয়ে স্মৃতির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। এতে স্মৃতির কিছু আসে যায় না৷ সে এখনো থালা ঠিক করতে ব্যস্ত। সঙ্গে সঙ্গে আহান তেড়ে আসে স্মৃতির দিকে। তা দেখে হাতে থাকা ছুরি আহানের দিকে তাক করে। আহান কিছু বলার আগেই নিজেই ছুরিটা দেখিয়ে বলে,
-কি সমস্যা? ভালোমতো ডাকলে কানে যায় না…না? এখন চুপচাপ আমার সাথে হাতে হাতে এগুলো ওনাদের দিয়ে আসুন।
আহান থামে৷ কিন্তু রাগটা কমার নাম নেই৷ আহানের এমন বেহাল দশা দেখে সকলেই অবাক হয়৷ আহানও কাউকে ভয় পেতে পারে এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কেউই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না যেন। এটা আহান!
আহানকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্মৃতি গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-আপনার কানে বোধহয় সমস্যা দেখা দিয়েছে। কাল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো না হয়৷ এখন দয়া করে এগুলো নিয়ে আমাকে সাহায্য করুন।
স্মৃতির কথায় আহান আর সহ্য হয়না৷ রাগ নিয়েই থালার পাশে ফাঁকা জায়গাটায় সোজোরে একটা বারি মারে। এতো জোরে শব্দের কারণে সকলেই কেঁপে ওঠে। শুধু মাএ স্মৃতি ছাড়া। স্মৃতি চোখ ছোট ছোট করে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
– রাগ নিজের উপর ওঠান। এগুলো কি দোষ করেছে হ্যাঁ? আ্ আর এটা আমার কিচেন। এখানের জিনিস পএ ভাঙলে আপনার খবর করে ছাড়বো বলে দিলাম।
কথাটুকু শেষ করে আর সেখানে থাকে না স্মৃতি। চুপচাপ দুই হাতে দুই বাটি নিয়ে সবাইকে দেয়ার জন্য পা বাড়ায়। আহান তখনও বোকার মতো তাকিয়ে থাকে। সে এটা ভেবেই কুল পায়না এই মেয়ে এতো সাহস পেলো কোথায়! তার সাথে এমন ব্যবহার করার সাহস তার বাবাও করে না। তাহলে এই মেয়ে কোন…
ভাবনার মাঝে আবারে স্মৃতির কন্ঠ ভেসে আসে,
-অতিরিক্ত চিন্তা করলে মাথায় সমস্যা হবে। আপাতত হাতে হাতে সাহায্য করুন।
দাঁতে দাঁত লাগিয়ে তাকায় আহান। কিন্তু কোনো কথা বলে না। স্মৃতির কথা মতো সে সবাইকে একটা একটা করে হালিমের বাটি হাতে দেয়। স্মৃতির ব্যবহার আর আহানের ঘটনায় সকলে বিস্ময়কর ভাবে তাকিয়ে থাকে। সবকিছু তাদের কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে৷ আহানের কাহিনী দেখে হাসিও পাচ্ছে তাদের। কিন্তু এই মুহূর্তে হাসাটা ঠিক হবে না তারা ভালো মতোই জানে। আহান যেমন শান্ত আছে। ওদের হাসি দেখলে তার দ্বিগুণ রাগও করবে। স্মৃতিও চুপচাপ হুমায়রার পাশে বসলো। সবাই মিলে চললো কিছুক্ষণ আড্ডা।
সন্ধ্যা হতেই সবাই মিলে স্থান ত্যাগ করলো। অমিত,অনিলও শুভকে রিকুয়েষ্ট করলো হুমায়রাকে নিয়ে বাসায় যাওয়ার জন্য। শুভ তেমন একটা আপওি করেনি। হুমায়রাকে অমিত,অনিলের সাথেই পাঠিয়ে দিয়েছে। তবে শুভ আর যায়নি। তাতে হুমায়রার কিছু যায় আসে না বললেই চলে। চুপচাপ অমিত অনিলের সাথে বাসায় চলে আসে সে। বাসায় পৌঁছাতেই এক দৌড়ে নীলা বেগমের ঘরে এসে হাজির হয় হুমায়রা। নীলা বেগম মাএই নামাজ পড়ে বিছানায় বসে ছিল। হুমায়রাকে দেখে সেও খুব খুশি হয়। হুমায়রা কিছু না বলেই নীলা বেগমের কোলে শুয়ে পরে। অনেকদিন পর মায়ের কোল পেয়ে হুমায়রাও খুশি। কিন্তু হুট মন করে মন খারাপ হয়ে যায় নীলা বেগমের প্রশ্নে।
-শশুড় বাড়ি সবটা মানিয়ে নিতে পেরেছিস তো মা?
ঠোঁট উল্টে তাকায় হুমায়রা৷ ভালো লাগে না তার। প্রশ্নের জবাব না পেয়ে আবারো প্রশ্ন করে নীলা বেগম,
-সব কাজ করিস তো সবার সাথে? রান্না-বান্না তো আর পারিস না৷ শিখছিস তো?
-নাহ্।
-কেন?
-তা তুমি ওই লোককে জিজ্ঞেস করো। দূর মামনি ওই বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করা বাদ দিবে? ভালো লাগে না কিন্তু…!
-আচ্ছা বাদ দিলাম। এখন বল হঠাৎ এখানে আসলি?
-আসতে পারি না আমি?
-হ্যাঁ পারিস৷ কিন্তু হঠাৎ এখন..! আর শুভ কোথায়?
-উনি আসেনি। আমি ভাইয়াদের সাথে এসেছি।
-ও আচ্ছা।
-মামনি একটা প্রশ্ন করি তোমাকে?
-হুম বল..!
-আচ্ছা আমার কেন মনে হয় তুমিই আমার মা? তুমি জানো আমার তোমার কাছে যতটা আসতে ইচ্ছে করে মায়ের কাছে একটুও যেতে ইচ্ছে করে না। আর আমার ছোটবেলার কিছু মনে নেই কেন?
হুমায়রার প্রশ্ন চমকায় নীলা বেগম। এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে তিনি জানেন আগে থেকেই। কিন্তু এর উওরে বলার মতো কিছু নেই তার কাছে। কি বা বলবে? তিনিই তো ওর মা। সেই সত্যিটা চাইলেই তো তিনি বলতে পারেন না। গলা আটকে আসে তার। তবুও সামলান নিজেকে। মুচকি হাসি দিয়ে বলেন,
-তুই তোর মায়ের থেকে বেশি আমার কাছে থেকেছিস যে তাই।
-আর ভু…
-ছোটবেলায় তোর একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল। তাই ছোটবেলার কিছু মনে নেই তোর।
হুমায়রার কথা শেষ করার আগেই নীলা বেগম বললেন। থামে হুমায়রা৷ মন খারাপ হয় তার। কেন ছোটবেলার কিছু মনে নেই তার।
মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে তুহিন৷ বাসায় ফিরে এক সেকেন্ডেরও ঘরে থাকতে পারেনি সে। আহানের বাসার মুহূর্তগুলো মাথায় গেঁথে আছে তার৷ তার প্রেয়সী অন্যের বউ হয়ে সুখেই আসে। আহানের সাথে স্মৃতির ব্যবহার মনে পরতে হাসেও কিছুটা। চোখের কোণে পানি চলে আসে না চাইতেও। মন খারাপ হয় তার৷ ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস৷
– দা ভাই…!
পেছন থেকে পরিচিত কন্ঠ শুনতেই নিজেকে সামলে পেছনে তাকায় তুহিন। তিন্নি এসেছে। বোনকে দেখে একটা মুচকি হাসি উপহার দেয় এবার। চোখের ইশারায় পাশে এসে দাড়াতে বলে। তুহিনের বোনও এসে দাড়ায়। দু’জনই আবার চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর তুহিন জিজ্ঞেস করে,
-কিছু বলবি?
তিন্নি আকাশ থেকে চোখ ফিরিয়ে তুহিনের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছোড়ে এবার,
-তোর মন খারাপ দা ভাই?
-বুঝলি কীভাবে?
-আমি সব বুঝতে পারি।
-আচ্ছা? বড় হয়ে গেছে আমার বোনটা। তা হঠাৎ ঘরের কোণ থেকে বাইরে এলো যে? জোর করেও তো বের করতে পারি না…!
-ঘরের কোণটাও বিরক্ত লাগে এখন। আর সারাদিন পড়াশোনা কার ভালো লাগে?
তুহিন এবার তিন্নির দিকে তাকায়৷ বোনের দুইগালে হাত রেখে বলে,
-সারাদিন পড়াশোনা না করে লাইফটাও এনজয় করতে শিখ।
-আচ্ছা! বললেই হলো? পরীক্ষায় ফেল করলে তখন?
-তুই পরীক্ষায় ফেল করলে সেটা হয়তো আমাবস্যার চাঁদ হবে।
-তুই না স্মৃতিকে ভালোবাসতি ওর কি খবর? বিয়ে করবি না?
– স্মৃতির বিয়ে হয়ে গেছে।
-সে কি দা ভাই!
-হুম আহানের সাথে।
-সত্যি..!
-হুম..!
-কিন্তু…?
-কি?
-নাহ্ কিছু না। ওদের সাথে দেখা করাবি আমাকে? স্মৃতিকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। কখনো দেখালি না তো…!
-দেখে কি হবে?
চোখ সরিয়ে নেয় তিন্নি। কান্না আসে তার। কান্নামাখা কন্ঠে বলে,
-তোর সাথে এমন কেন হয় দা ভাই?
-আল্লাহ উওম পরিকল্পনাকারী বনু।
আর কথা খুঁজে পায়না তিন্নি। আবারও ছুটে চলে যায় নিজের রুমে। তুহিন বোনের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে শুধু। সে জানে তার ভাগ্য এমনই। এর আগে কলেজ লাইফেও কাউকে ভালোবেসেছিল সে। কিন্তু দিন শেষে সেই মানুষটাও অন্যকারো হয়ে গেছে। তবুও আল্লাহর উপর সব ছেড়ে দিয়েছে। মনকে এটাই বুঝিয়েছে আল্লাহ তার জন্য পারফেক্ট কাউকে বেছে রেখেছেন হয়তো।
সবাই চলে যাওয়ায় স্মৃতিও বই নিয়ে বসে। কিছুদিন পর তার পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। অথচ পড়াশোনার “প” পড়েছে বলে তার মনে পরে না। মন খারাপ হয়ে যায় তার৷ রাগ দেখিয়ে একটা বই জোরেই টেবিলে রাখে। কান্না পায় তার। এই প্রথমবার এমন হলো। কিছুদিন পর পরীক্ষা আর সে কিছু পারেনা। আহান বসে বসে কাজ করছিল নিজের। অফিসের কাজ সে ঘরে বসেই করে। এদিকে মাথা গরম হয়ে আছে বন্ধুদের সামনে করা স্মৃতির করা কাহিনীতে। আর এখন কাজের মাঝে এমন ডিস্টার্ব করা। বিরক্তি নিয়ে চ্যাহ শব্দ করে এবার। কিছু বলতে যাবে তার আগেই স্মৃতির নাক টানার শব্দ শুনে থামপ। মুহূর্তেই রাগটা পানি হয়ে যায় তার। ধীরে ধীরে পা ফেলে একটা চেয়ার টেনে বসে স্মৃতির পাশে। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-কাঁদছো কেন?
হঠাৎ আহানের কন্ঠে ভরকায় স্মৃতি। মন খারাপ করে বলে,
-এমনি৷ আপনি না কাজ করছিলেন? করেন এখন।
– করতে দিচ্ছো কোথায়? শব্দ করছো কেন এতো?
-ওহ্ বিরক্ত করছি আমি। আচ্ছা থাকুন যাচ্ছি আমি৷
স্মৃতির ব্যবহারে অবাক হয় আহান। ঝগড়া করা মেয়ে এতো সহজে ছেড়ে দিলো। স্মৃতির হাত ধরে থামিয়ে দেয়। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-কি হয়েছে আমাকে বলো?
-পরীক্ষার কোনো পড়া পারি না আমি..!
বলেই ঠোঁট উল্টে আবারো কান্না করে দেয় স্মৃতি। অবাক হয় আহান। হাত ধরে চেয়ারে বসিয়ে বলে,
-পরীক্ষা তো পিছিয়েছে। এখনো হাতে দু’মাস আছে। তাহলে কি সমস্যা?
-আমি এখনো পড়া শুরু করিনি।
-তাহলে এখন থেকে করো। না বুঝলে আমাকে জিজ্ঞেস করবে আমি বুঝিয়ে দিবো।
-আপনি…?
বিস্ময়ের স্বরে জিজ্ঞেস করে স্মৃতি। আহান ভ্রু কুঁচকায়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-হুম কেন?
– বই সব ও বাড়িতে। এখানে এই একটাই আছে।
-কাল একসাথে ও বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসবে আর বাবা-মায়ের সাথে দেখা করে নিবে।
আহানের কথায় আরেক দফা অবাক হয় স্মৃতি। বিয়ের দিনের কথা মনে পরে যায় তার। তবুও প্রশ্ন করে না। ঝগড়া করার মুড নেই তার এখন। মন খারাপ করেই বলে,
-আচ্ছা। আমি ঘুমাবো এখন।
-ঘুমাও আমি যাচ্ছি।
#চলবে….
(নানি মা’রা যাওয়ায় গল্প লেখা হচ্ছে না তেমন। পর্বটা আগেই লেখাছিল তাই দিয়ে দিলাম। নেক্সট সপ্তাহ থেকে আবার দেয়ার চেষ্টা করবো। তার আগেও হতে পারে সঠিক বলতে পারছি না। সবাই দোয়া করবেন 😓)

