#বোকামন
#পর্ব_৩১
#Tahsin_Atoshi
আহান…….!
কথাগুলো আপনাকে ঠিক কীভাবে বলবো জানি না। আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে ঠিক বলতেও পারবো না৷ তাই ডাইরিতেই লেখা। লেখাগুলো খুব অগোছালো হতে পারে। ভুল বুঝবেন না আমায়৷ আগে সবটা পড়বেন তারপর আপনি যা সিদ্ধান্ত নিবেন আমি মেনে নিবো। হাজার হোক আপনি আমার হাসবেন্ড। আপনি মানুন বা না মানুন। তাই বলতেই হচ্ছে।
আপনি জেনেছিলেন হুমায়রা আর আমার সেই ঘটনার কথা। বাচ্চা পাচারের কথা। কীভাবে আমরা পালিয়ে এসেছি সেই কথা। কিন্তু আমার ব্যাপারে আপনি সবটুকু ঠিক জানেন না৷ সেগুলোই বলবো আপনাকে।
তখন আমার বারো বছর। মামা বাড়িতে বড় হয়েছি ততদিন। কিন্তু মামা-মামি খুব একটা পছন্দ করতো না আমায়। সারাদিন তাদের কথা শুনতে শুনতে তিক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তারাও হয়তো বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। হুট করেই একদিন দিয়ে দেয় এক লোকের সাথে। বলে সে নাকি আমার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিবে। যেতে রাজি ছিলাম না ৷ কিন্তু তারা দিয়ে দেয়। তবুও ভেবে নেই লোকটার সাথে শহরে গেলে বাবাকে খুঁজবো৷ কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না।
নিয়ে ফেলে কিছু বাচ্চাদের মাঝে। ছোট্ট কাল কুঠুরিই বলা চলে। গায়ের রঙ তো আমার আহামরি সুন্দর না৷ তাই সব বাচ্চাদের কেউ না কেউ পছন্দ করে নিয়ে গেলেও আমাকে কেউ নিতো না। খুব খারাপ লাগতো বিষয়গুলো। আফসোস হতো। ওদের নেয় আমাকে কেন নেয় না। সুন্দর হয়ে কেন জন্মলাম না। তাই একদিন লুকিয়ে একটা বাচ্চার পিছু পিছু যাই। এরপর যা দেখলাম সত্যি বিশ্বাস করার মতো ছিল না। বাচ্চাগুলোকে পছন্দ করে নিয়ে যাওয়া হতো ভোগের পন্য হিসেবে৷ তখন আবার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া পরতাম খুব। মানুষ ঠিকই বলে। মাঝে মাঝে মানুষের সৌন্দর্যও অভিশাপ হয়ে ওঠে। যেমনটা হুমুর ক্ষেএে হয়েছিল।
তবুও যেন ছাড় পাইনা আমি। ঠিক তাদের জালে আটকে যাই৷ হয়ে যাই ভোগের পাত্রি। লেগে যায় আমার শরীরে ‘কলঙ্ক’ নামক শব্দটা। সেদিনের ঘটনাটা এখনো মনে গেথে আছে জানেন তো। চাইলেও ভুলতে পারছিলাম না। চুপ হয়ে যাই সেদিনের পর থেকে। একা থাকলেই কেমন সব স্মৃতিগুলো হানা দেয় মাথায়।
তবুও বাঁচার ইচ্ছেটা মন থেকে যায়নি। এরপরের ঘটনাটুকু আর নাই বা বলি। কারণ সেদিন জেনেছেনই। এরপর পালিয়ে আসি চাচা বাড়ি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারি মামা-মামী বলেছে আমি নাকি পালিয়ে গেছি অন্য লোকের সাথে। তার কিছুদিন পর কিছুলোক আসেও আমার খোঁজ করতে করতে। কীভাবে খোঁজ পায় ঠিক বুঝে উঠতে না পারলেও পরে মামাকে দেখে সবটাই ক্লিয়ার হয়ে যায়। গ্রামের মানুষ ততদিন খুব আদর করতো। কিন্তু লোকগুলো এসে নিজেদের মতো বলতে থাকে। বলে আমি নাকি সেইসব মেয়েদের মধ্যে একজন। যে দেহ..আর নাই বা বলি। তাদের সেখানে থেকে নাকি টাকা রোজগার করতাম। এবং কিছুদিন পরই টাকা নিয়ে পালিয়ে আসি।
এসব শোনার পর মাথায় বাজ পরে। ভেবেছিলাম হয়তো কেউ বিশ্বাস করবে না। আমাকে সাপোর্ট করবে। কিন্তু তেমনটা আর হয়না। সমাজের কাছে হয়ে যাই আমি কলঙ্কিত নারী এবং দে’হ ব্যবসায়ী। কতজন যে খারাপ প্রস্তাব দিয়েছে হিসেব নেই। ব্যাপারটা নিজের কাছেই হাস্যকর লাগে।
দুনিয়াটা কেমন বিচিত্র তাইনা৷ যে মানুষ আমাদের ভালোবাসে তারাই দুদিন পর অন্যের কথা শুনে কুৎসা রটাতেও থামে না। গ্রামের মানুষগুলো ঠিক তেমন। এরপর থেকে হয়ে যাই চোখের মনি থেকে শত্রু। গ্রামের কোনো মেয়েকে চলতে দেয়া হতো না আমার সাথে। শুধু হুমু চলতো। ওর পরিবারও বারণ করতো। কিন্তু ওর জেদের কাছে সবই হার মানে। আর আমার বাবা ওর বাবার বন্ধু বলে তেমন বারণও করতো না। জেদ ধরে পড়াশোনাও করি। মাঝে থেমে যায় সব।
গায়ের কালিগুলো না উঠলেও কেউ আর মাখতেও আসতো না। আমিও ভুলে নিজের জীবনটা গড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তা আর বেশিদিন টিকে কোথায়। মাঝে আবার রোদের ঘটনাটা আবারো পুরোনো সকল স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। আবার থু থু দিতে থাকে আমার উপর। চাচা-চাচিরাও বিরক্ত হয়ে যায় এবার৷ তবে বাবাকেও জানায় না৷ তাদের ভয় যদি বাবা আমাকে তার সাথে নিয়ে যায়। তাহলে আর টাকা দিবে না৷
এতো কথা কেন বলছি জানি না। মনে হলো আপনাকে জানানো উচিত। হাজার হোক বিয়ে করেছেন আমায়৷ অধিকার তো আছেই আপনার তাই না। অন্য কারো কাছ থেকে জানুন তার আগে আমিই জানাতে চাই আপনাকে। তাই এইসব লেখা৷
এবার আপনার ইচ্ছে আমাকে মেনে নিবেন নাকি দূরে ঠেলে দিবেন।
তবে জানেন তো প্রথম যখন আপনাকে দেখেছিলাম কেমন একটা অনুভূতি হয়েছিল। কিন্তু এই বোকামন কি কাউকে ভালোবাসতে পারে? আমার মতো কলঙ্কিত মেয়েদের জন্য তো ভালোবাসা নিষেধ৷ তাই মনের ভুল ভেবেই বসে ছিলাম। কিন্তু এরপর আমাদের বিয়ের দিনের ঘটনাটা?
চাইলেই বিয়ে না করে বাসায় ফিরে যেতে পারতাম। শুভ ভাই বারণও করেছিল জানেন তো। বলেছিল সারাজীবনের প্রশ্ন, সুখী হতে পারবো না৷ আপনি নাকি খুব জেদি৷ কিন্তু এই বোকামনকে বোঝাতেই পারলাম না৷ সুযোগ যখন পেয়েছি আপনার কাছে থাকার, নিজের করে নেয়ার; ছেড়ে দেই কীভাবে। ভাইয়াকে বলেছি,
“কলঙ্কিত নারীদের সুখের দাবিদার হতে নেই। বেঁচে থাকে সেই তো অনেক।”
তাই করে নিলাম বিয়ে। মনে দ্বিধা নিয়েই।
এতোদিন আপনার সাথে থাকা,সময় কাটানো আরো বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। এরপর গতদিনের সেই মুহূর্তটা। সত্যি বলতে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এরপর যখন বললেন বন্ধুদের সাথে বাজি ধরেছিলেন। নিমিষেই বোকামনটা ভেঙে গেল। কিন্তু তবুও কেন জানি মনে হচ্ছিল সব মিথ্যা না। বলবেন কিন্তু মিথ্যা ছিল কি? আপনার চোখ পড়তে পারি আমি। সেখানে মিথ্যা ছিল না। তাহলে…? আপনার মুখ থেকেই জানতে চাই। আর কিছু বলার নেই। উওরের অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি..
আপনার না হওয়া প্রেয়সী..!
সবটা পড়ার পর থামে আহান৷ নিজের ওপরই রাগ হয় খুব। কেন স্মৃতির কাছ থেকে সত্যিটা জানতে চাইলো না। কেন রাগ দেখালো। সাথে সাথে ঘর থেকে বের হয়৷ স্মৃতি..! স্মৃতি..! বলে ডাকে কয়েকবার। কিন্তু তার উওর আর আসে না। কোথায় গেল সে? সারাঘর, ছাদ দেখে আবার ড্রইং রুমে আসে। কোথায় গেল মেয়েটা। রাগ দেখিয়ে বলেছিল সামনে থেকে যেতে। তাতে কি বাসা থেকেই চলে যাবে? বুঝে উঠতে পারে না সে। দ্রুত ফোন নিয়ে কল করে। কিন্তু ফোনটাও বিছানায় পরে আছে। রাগ হচ্ছে নিজের উপর। কেন এমন করতে গেল। আর উপায় পায়না। দ্রুত গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরে স্মৃতিকে খোঁজার উদ্দেশ্যে। কিছুদূর যেতেই সামনে ভিড় দেখে থামে। বৃষ্টির মাঝে নামতেও ইচ্ছে হয়না তার। তাই সামনে থাকা একটা লোককে জিজ্ঞেস করে,
“এখানে কি হয়েছে ভাই?”
“জ্বী একটা মেয়ে এক্সিডেন্ট করেছে। ”
একটা মেয়ের কথা শুনেই স্মৃতির কথা মাথায় হানা দেয় আহানের। এবার আর বসে থাকতে পারে না। দ্রুততার সাথে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে ভিড় ঠেলে সামনে যেতেই থমকে যায়। হ্যাঁ তার ভাবনা ঠিক। স্মৃতি পরে আছে রাস্তার মাঝে। মাথা থেকে রক্ত পরছে খুব। বৃষ্টির পানিতে ধুয়েও যাচ্ছে সবটা৷ কিছু মানুষকে বলতে শোনে,
“লোকগুলো এমনিতেই ভালো না। কেন ওদের কাছে গেলো। মেয়ে মানুষ নিজের মতো থাক না। নিজে বাঁচলে বাপের নাম। আরেকটা মেয়েকে বাঁচাতে কে বললো? পারলো না তো বাঁচাতে। ঠিকই নিয়ে গেল। আর নিজের এই হাল হলো। ”
কথাগুলো শুনে কৌতুহল হয় আহানের৷ কাকে বাঁচাতে চাইছিল স্মৃতি? কারা ছিল। জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হলেও করে না সে। এই মুহূর্তে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। স্মৃতির কিছু হতে দিবে না সে। কিছু হবে না। আর অপেক্ষা করে না এক মুহূর্তও। সেভাবেই গাড়িতে উঠে হাসপাতালের জন্য রওনা হয়৷ খুব একটা সময় লাগে না তার। হাসপাতাল কাছে থাকায় দ্রুততার সাথেই পৌছায় সেখানে।
★
রাগে চুলমুঠো করে বসে আছে শুভ। রাগ হচ্ছে নিজের উপর। একটু একটু করে হুমায়রার মন পাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। অথচ তা আর হয়ে ওঠে কোথায়। মাঝে বাঁধা আসেই৷ কেন হাত তুলতে গেল হুমায়রার গায়ে। মন চাচ্ছে নিজের হাতটাই কেটে ফেলতে। এতো ভাবনার মাঝে পাশ থেকে সাঈমা বলে,
-শুভ তুমি মন খারাপ কোরো না তো। ওই মেয়েকে ডিভোর্স দিয়ে দেও। দেখো না ও কতটা খারাপ। ওর বাবা-মা না ওকে…..
আর কথা বলতে পারে না সাঈমা। গালে হাত দিয়েই থমকে দাঁড়ায়। রাগে এক প্রকার কাঁপছে শুভ। ইচ্ছে করছে ঘার ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিতে। তবুও কথা বলে না। মৌমিতা দরজার কাছেই দাড়িয়ে ছিলেন। হুমায়রা যাওয়ার পরই তিনি এসেছিলেন কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতে। কিন্তু সাঈমাকে দেখে তা আর প্রয়োজন মনে করেনি৷ হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছিলেন এমনটাই হবে। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেল। শুভ রক্ত বর্ণ চোখ নিয়ে নিজের মা-কে একবার দেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। এই মুহূর্তে হুমায়রার কাছে যাওয়াটাই সে ঠিক মনে করছে। এতো রাতে একা একা বের হয়েছে মেয়েটা।
ফুল স্প্রিডে গাড়ি নিয়ে বের হয় সে। এই মুহূর্তে আশেপাশে তাকানোর ইচ্ছে হয়না। সামনে কিছুটা ভিড় দেখলেও থামে না সে। মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে“ হুমায়রাকে মানাতে হবে”। কেন রাগ দেখাতে গেল সে। ভুল কিছু তো করেনি হুমায়রা। কেন করলো। আফসোস হচ্ছে খুব৷
বাসায় পৌছাতেও খুব একটা সময় লাগলো না। তিন চারবার কলিং বেল বাজাতেই অমিত এসে দরজা খুলে দিলো। শুভকে দেখে খুশিই হলো সে। মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
-এসেছিস তবে। হুমু কোথায় ও আসেনি?
অমিতের এমন প্রশ্নে ভ্রুঁ কুঁচকায় শুভ। কোনো কথা ছাড়াই সব রুমগুলো চেক করে। আর অমিত বোকার মতো তাকিয়ে রয়। বাকিরাও এতক্ষণে ড্রয়িং রুমে হাজির হয়েছে। সব রুম দেখা শেষ হতেই শুভ নিচে এসে জিজ্ঞেস করে,
-হুর কোথায়?
অবাক হয় সকলে। অনিল ভ্রুঁ কুঁচকে বলে,
-সেটা তোর জানা উচিত না। ও এখন তোর বউ তোর বাসায় থাকে।
রাগ হয় শুভর। তবুও চোখ বন্ধ করে চুল মুঠি ধরে কিছুটা জোরে শ্বাস নেয়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছে ও। এখানে ছাড়া আর কোথায় যাবে? এতো জেদ কেন ওর?
-মানে? রাগ করে বেরিয়ে গেছে মানে কি? আর্ তুই ওকে…
-আরে সেই সুযোগ দিয়েছে তোদের বোন। কোথায় খুঁজবো আমি এখন।
-বিয়ে করার আগে জানতিস না ও জেদি কিনা। সব জেনে কি বিয়ে করিসনি। ওকে দেখার দায়িত্ব তোর শুভ।
রাগ হয় অনিলের। দাঁতে দাঁত লাগিয়ে বলে,
-আমার বোনের যদি কিছু হয়না৷ তোকে ছাড়বো না আমি মনে রাখিস।
আর থামে না অনিল। সবার আগেই অর্নিকে কল করে। সে জানে হুমায়রা কখনোই অন্যের বাসায় যাবে না৷ কিন্তু মনকে শান্তনা দেয়ার জন্য হলেও তার জানতে হবে। দু’বার রিং হতেই রিসিভ করে অর্নি। কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই অনিল জিজ্ঞেস করে,
– অর্নি হুমু তোমাদের বাসায় গিয়েছে?
-না তো।
সাথে সাথেই কল কেটে দেয় অনিল। বোকাবনে যায় অর্নি। কিন্তু হুমায়রার কথা জিজ্ঞেস করেছে মানে কিছু একটা তো হয়েছে। বুঝতে খুব একটা দেরি হয়না। কিছু একটা ভেবে অমিত বলে,
-আ্ আহানকে কল করে দেখবো?
রক্তবর্ণ চোখে তাকায় শুভ। রাগ নিয়ে বলে,
-ওকে কল করে কি হবে? ওর কাছে যাবে হুমু?
– ন্ না। স্মৃতির কাছেও তো যেতে পারে। জানিস তো ও কেমন। মন খারাপ হলে মা অথবা স্মৃতি দুজনার একজনের কাছে যায়।
কথাটা এবার বোধগম্য হয় শুভর। এবার সে অপেক্ষা করে না। স্মৃতির ফোনে কল করতে যাবে সেই মুহূর্তেই আহানের কল আসে। অবাক হয় কিছুটা। কিন্তু সময়ও নষ্ট করে না। রিসিভ করে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই আহানের ভঙ্গুর কন্ঠ ভেসে আসে অপর পাশ থেকে।
-শুভ একটু হাসপাতালে আয় না প্লিজ।
-কি হয়েছে আহান? তো্.. তোর কন্ঠ এমন লাগছে কেন? সব ঠিক আছে তো?
– সৃ.. স্মৃতি এক্সিডেন্ট করেছে। ডাক্তার কি সব বলছে বুঝতে পারছি না আমি কিছু। সব এলোমেলো লাগছে আমার। একা কি করবো জানি না। তুই আয় প্লিজ।
থমকে দাঁড়ায় শুভ। কল কেটে এবার চিৎকার করে ওঠে। রাগে,জেদে কয়েকটা লাথি মারে সোফার কর্নারে। একদিকে হুমায়রার চিন্তা। অন্যদিকে স্মৃতির এক্সিডেন্ট। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। অমিত পাশে এসে দাড়ায় এবার। কাঁধে হাত রেখে ইশারায় জিজ্ঞেস করে,
-কি হয়েছে?
কথা বলতে কষ্ট হয় শুভর। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে অনেকটা। হুট করে যে কেউ দেখলেই ভয় পাবে নিশ্চিত। সেভাবে তাকিয়েই বলে,
-স… স্মৃতুর এক্সিডেন্ট হয়েছে।
#চলবে…

