#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_২৪
#আনিকা_আফসা
ছাদে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছছে তৃষা। অয়ন ওকে এভাবে ঠকাবে ও ভাবতে পারেনি। আর একটা খুনির থেকে ও আর কি- ইবা আশা করছে? নিচে তাকিয়ে দেখলো কয়েকজন লোক গায়ে হলুদের প্যান্ডেল খুলছে। স্টেজ নজরে আসতেই শরীর জ্বলে গেলো। হাত মুঠ করে শক্ত করে ধরে রইলো রেলিং। তখনই পেছনে কারো উপস্থিতি টের পেলো। একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে পেছনে তাকালো তৃষা। দেখতে পেল অয়নকে, হলুদের পাঞ্জাবি পড়ে আছে। এক হাতে একটা জুস আর আরেক হাত প্যান্টের পকেটে দিয়ে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওকে দেখতেই রাগেরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। পা চালিয়ে অয়নের কাছে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো ওর গায়ে, হাত দিয়ে ধরলো ওর কলার।
তখনই ছাদে আনিশা উঠতে গিয়ে ওদের এভাবে দেখে থেমে গেলো। কিছু একটা ভেবে আড়ালে ছাদের দরজায় দাঁড়িয়ে রইল সে। তখনই কানে এলো তৃষার আওয়াজ।
তৃষা কলার ধরে ঝাঁকিয়ে বলে উঠলো,
“এসব কি অয়ন? এসব কি? তুই তো আমাকে ভালোবাসিস তাইনা? তাহলে এই বিয়ে কেন? শুধু তোকে পাওয়ার জন্য আমি এতকিছু করলাম। তুই এমন কেন করলি? আঙ্কেলকে কেন মারলি?”
অয়ন বলল,”কি বলছিস এসব?”
তৃষা অয়নকে ছেড়ে দূরে সরে বলল,”ঠিকই বলছি। তোর তো এমন করার কথা ছিল না। তুই আমাকে বলেছিলি আনির বাবা তোকে প্রচুর অপমান করেছে এবং তুই তার থেকে প্রতিশোধ নিতে চাস আর তোর আমার হেল্প লাগতো। আমি তোকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তুই কেমন প্রতিশোধ নিবি কিন্তু তুই বলিস নি। তারপর গিয়ে দেখলাম তুই একেবারে মেরেই ফেলেছিস? তুই আঙ্কেলকে মেরে ফেললি কেন অয়ন?”
এই সব কথা শুনতেই আনিশা মুখ চেপে ধরলো। গাঁয়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো তার। তারমানে ওর বাবার খুনি অয়ন? তাহলে রুদ্র? রুদ্র নির্দোষ? তাহলে তো অনেক বড় ভুল হয়ে যাবে। তখনই আবারো তৃষা বলে উঠলো,
“তাও আমি চুপ ছিলাম, কেন জানিস? কারণ আমি তোকে ভালোবাসি। রুদ্র ভাইকে সবার সামনে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গেছে, কত আর্তনাদ করেছিলো সে নির্দোষ। তাও আমি বধিরের মতো তার এই আর্তনাদ শুনিনি। কারণ তোকে ভালোবাসি, আমি চাইনি আমার ভালোবাসার মানুষ জেলে যাক। ইভেন, তোর সাথে মিলে আমি নিজের বান্ধবী আনিকে পর্যন্ত চিট করলাম। তারপরও তুই আমার সাথে এমন কিভাবে করতে পারলি? কিভাবে অয়ন? তুই আমার অনুভূতিকে কি কোনো দামই দিস নি? নাকি সবই অভিনয় ছিলো?”
আনিশার চোখ ছুটে জল গড়িয়ে পড়লো। তৃষাও থেমে নেই, সমানে জল গড়িয়ে ভিজে গেছে কপোল। অয়ন এগিয়ে এসে একটা টিস্যুর সাহায্যে তৃষার গাল মুছে দিলো। তারপর তার সামনে জুসের গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
“নে খা”
তৃষা একবার জুসের দিকে তাকালো, তারপর আবার অয়নের দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা গলায় বলল,
“প্লিজ বিয়েটা করিস না অয়ন। তোকে আমি অনেক ভালোবাসি। তোকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।”
অয়ন বললো,”শুনেছি , এটা নে তারপর আমি আমার সিদ্ধান্ত জানাচ্ছি যে বিয়েটা করবো নাকি করবো না।”
তৃষা কাঁপা হাতে গ্লাসটা নিল। চোখে তখনও আশার ঝিলিক। মনে হলো হয়তো অয়ন শেষ মুহূর্তে সবকিছু বদলে দেবে। ওর কথা শুনবে। ওকে বেছে নেবে। এক নিঃশ্বাসে জুসটা খেয়ে ফেলল তৃষা। অয়ন ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে রইল ওর দিকে। তৃষা বলল,
“এখন বল,”
তৃষা আকুল হয়ে বলল, “বিয়েটা করবি না তো?”
অয়নের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল এবং বলল,
“করব।”
এক মুহূর্তে যেন তৃষার পৃথিবী থেমে গেল। সে বিস্ফোরিত কন্ঠে বলল,
“কি?”
“আমি আনিকেই বিয়ে করব।”
“না,,, না, তুই মিথ্যে বলছিস!”
“মিথ্যে না। বরং এতদিন যা বলেছি তার বেশিরভাগই মিথ্যে ছিল।”
তৃষা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। অয়ন দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে বলল,
“তুই ভাবিস আমি তোকে ভালোবাসতাম? আমি শুধু তোকে ব্যবহার করেছি। তুই ছিলি আমার কাজ সহজ করার একটা মাধ্যম। এর বেশি কিছু না।”
“অয়ন!!!”
“চিৎকার করিস না। সত্যি কথা শুনতে কষ্ট হচ্ছে?”
তৃষার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল এবং অনেক কষ্টে বলল,
“আমি তোকে বিশ্বাস করেছিলাম,,,”
“সেটাই ছিল তোর সবচেয়ে বড় ভুল।”
আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা আনিশার চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল। সে যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না। সে বিশ্বাস করতে পারছেনা এতদিন এই সহজ সরল ছেলেটার পেছনে এমন এক পশু লুকিয়ে আছে।
তৃষা এবার রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“তুই একটা শয়তান! মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলেছিস। নিজের স্বার্থে সবাইকে ব্যবহার করেছিস।”
অয়ন নির্লিপ্ত গলায় বলল,
“দুনিয়াটা স্বার্থের ওপরই চলে।”
কথাটা বলেই সে ঘড়ির দিকে তাকাল। তারপর হঠাৎ বলল,
“যাই হোক, আমাদের কথাবার্তা এখানেই শেষ।”
তৃষা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। মাথাটা কেমন যেন ঘুরে উঠছে।
“অয়ন,,,, আমার,,, কেমন লাগছে,,”
অয়নের চোখে অদ্ভুত এক ঝিলিক দেখা দিল। সে বলল,
“কেমন লাগছে?”
“মাথা,,,, ঘুরছে,,,,”
তৃষা টলমল করে দাঁড়িয়ে রইল। হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরল। আনিশার বুক ধক করে উঠল। সে কিছু বুঝতে পারছে না। অয়ন কিন্তু একটুও অবাক হলো না। বরং শান্ত স্বরে বলল,
“জুসটা খাওয়ার পর এমনটাই হওয়ার কথা।”
তৃষা বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল এবং বলল,
“তু,,,তুই.,,কি মিশিয়েছিলি এতে?”
অয়ন কোনো উত্তর দিল না। শুধু ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। আর আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা আনিশার শরীর ভয়ে শিউরে উঠল।
তৃষার হঠাৎ কাশি উঠল। মুখের কোণ বেয়ে রক্তের দাগ দেখা দিতেই সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। আনিশার বুক কেঁপে উঠল। আড়াল থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়েও সে নিজেকে সামলে নিল।
তৃষা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“অ,,,, অয়ন,,,, তুই,,,,আমাকে,,.”
অয়নের মুখে কোনো ভয় নেই, কোনো অনুশোচনা নেই। যেন তার সামনে কোনো মানুষ নয়, একটা অপ্রয়োজনীয় জিনিস দাঁড়িয়ে আছে।
সে ঠান্ডা গলায় বলল,
“তুই অনেক কিছু জেনে গিয়েছিলি, তৃষা।”
তৃষার চোখ ছলছল করে উঠল , সে অনেক কষ্ট করে বলে উঠলো,
“আমি,,,,তোকে বাঁচিয়েছি,,,সবসময়,,,”
“আর সেই কারণেই তোকে এতদিন বাঁচিয়ে রেখেছিলাম।”
কথাটা শুনে তৃষা স্তব্ধ হয়ে গেল। অয়ন ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এল।
“রুদ্রকে ফাঁসানো, আনিকে আমার দিকে ঠেলে দেওয়া, সবকিছুতেই তুই কাজে লেগেছিস। কিন্তু এখন তুই একটা ঝুঁকি।”
তৃষার চোখ থেকে টপটপ করে জল পড়তে লাগল।
“আমি তোকে সত্যি ভালোবেসেছিলাম,,,”
এক মুহূর্তের জন্যও অয়নের মুখের ভাব বদলাল না বরং সে বলল,
“সেটা তোর সমস্যা ছিল, আমার না।”
আনিশার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। তার পুরো শরীর রাগ আর ঘৃণায় কাঁপছে। তৃষা কোনোমতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল এবং বলল,
“আমি,,, আমি সবাইকে বলে দেব,,,,”
অয়ন মুচকি হাসল এবং বলল,
“কাউকে কিছু বলার মতো সময় তোর থাকবে বলে মনে হয়?”
সত্যিই তাই। তৃষা আর উঠে দাঁড়াতে পারল না। চারপাশটা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে। মাথার ভেতর যেন অসংখ্য শব্দ একসাথে বাজছে। শরীরের সমস্ত শক্তি ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
সে কাঁপতে কাঁপতে হাত বাড়াল, যেন শেষবারের মতো কাউকে আঁকড়ে ধরতে চায়। কিন্তু তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অয়ন একটুও নড়ল না।
তৃষার চোখ বেয়ে নীরবে জল গড়িয়ে পড়ল।
এই মানুষটার জন্য সে কত কিছু করেছে! নিজের বিবেকের বিরুদ্ধে গেছে, বন্ধুত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, একজন নির্দোষ মানুষকে বাঁচানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চুপ থেকেছে। অথচ আজ সেই মানুষটাই তার দিকে তাকিয়ে আছে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত চোখে।
তৃষার ঠোঁট কেঁপে উঠল।
“অ,,, অয়ন,,,”
শব্দটা খুব ক্ষীণ হয়ে বের হলো। ফিসফিসানির মতো শব্দ যেন। অয়ন কোনো উত্তর দিল না।
তৃষা একবার আকাশের দিকে তাকাল। চোখের সামনে ভেসে উঠল অতীতের কত শত স্মৃতি, আনির সাথে কাটানো দিনগুলো, হাসি, গল্প, স্বপ্ন। নিজের ভুলগুলো হঠাৎ করেই তাকে তীব্রভাবে আঘাত করতে লাগল।
কাঁদতে কাঁদতে সে ফিসফিস করে বলল,
“আনি,,,আমাকে ক্ষমা করে দিস।”
আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা আনিশার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। পরক্ষণেই তৃষার শরীরটা সামনের দিকে ঢলে পড়ল। সে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে এলো তার। শেষ মুহূর্তে তার চোখের কোণ বেয়ে একটি অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়ল।
তারপর সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে গেল। ছাদের ওপর শুধু নীরবতা। একটা অসমাপ্ত ভালোবাসা, অসংখ্য ভুল সিদ্ধান্ত আর গভীর অনুশোচনা নিয়ে তৃষার জীবনের গল্প সেখানেই থেমে গেল।
আনিশার মাথা তখন পুরো ফাঁকা হয়ে পড়ে রইলো। চোখের সামনে একটা মানুষের মৃত্যু হলো অথচ সে কিছু করতে পারলো না ভেবে অনুশোচনায় দগ্ধ হলো বক্ষ। মুখ চেপে ফুঁপিয়ে উঠলো। হঠাৎ তার মনে পড়লো এভাবে তার বোনের জীবনও নষ্ট হয়ে যাবে যদি এখনই আনিকে সত্যিটা বলা না হয়। আনিকে এসব জানানো জরুরি। শেষ সময় তৃষার লাশের দিকে করুণ চোখে তাকালো। অয়ন হাঁটু মুড়ে বসেছে তৃষার পাশে। আনিশা ভাবলো তার যাওয়া উচিত, অয়ন দেখলে সমস্যা হতে পারে। ও একটা খুনি।
তাই যাওয়ার জন্য যখনই পা বাড়ালো আনিশা, তখনই অসাবধানতাবশত তার পা পাশে রাখা একটা পুরোনো লোহার স্ট্যান্ডে লেগে গেল।
ঠন্ করে শব্দ হতেই আনিশার বুক ধক করে উঠল।
সে মুহূর্তেই বুঝতে পারল,বিপদ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে শব্দ শুনে অয়নের চোখ সরু হয়ে এলো। সে দ্রুত মাথা তুলে চারপাশে তাকাল।
“কে ওখানে?”
আনিশার নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে এলো। এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে সে ঘুরে দাঁড়াল। সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো নিচের করিডরে। নিস্তব্ধ করিডর। সব অতিথি তো চলে গেছে, বাড়িতে বেশি মানুষও নেই। তাই এই করিডর ফাঁকা।
আনিশা ভাবছে ওকে এখনই আনির কাছে যেতে হবে। যেভাবেই হোক সত্যিটা জানাতে হবে।
কিন্তু দু-এক কদম যেতেই পেছন থেকে অয়নের কণ্ঠ ভেসে এলো,
“আনিশা!”
নিজের নাম শুনে আরও ভয় পেয়ে গেল সে।
পেছনে তাকাতেই গা হিম হয়ে গেল। কেননা অয়ন দাঁড়িয়ে আছে। চোখ সরু তার। আনিকে সবকিছু জানাতে হবে, এই অয়নের হাতে ধরা দিলে চলবে না। এই ভেবেই ছুট লাগালো লেহেঙ্গা ধরে।
অয়নের চোখে তখন আতঙ্ক আর ক্রোধ একসাথে জ্বলছে। এতক্ষণে সে বুঝে গেছে, আনিশা সব শুনেছে।
সামনে রাখা একটা সাজসজ্জার ফুলদানি চোখে পড়তেই সে সেটি তুলে নিল।
“থামুন!”
চিৎকার করে উঠল সে। কিন্তু আনিশা একবারও পেছনে তাকাল না। পরের মুহূর্তেই অয়ন ফুলদানিটা তার দিকে ছুড়ে মারল।
আনিশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শক্ত কিছু একটা তার মাথার পাশে এসে আঘাত করল।
সে টাল খেয়ে সামনে এগিয়ে গেল। চারপাশটা হঠাৎ ঘুরতে শুরু করল। চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল। দেয়াল ধরে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল সে, কিন্তু শরীর আর কথা শুনল না। মনে হলো দূর থেকে কারও কণ্ঠ ভেসে আসছে।
“ধুর!”
অয়নের বিরক্ত স্বর। পরক্ষণেই আনিশার হাত দেয়াল থেকে সরে গেল। ধীরে ধীরে তার শরীর ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ল।
চোখ দুটো আধখোলা অবস্থায় শেষবারের মতো আনির মুখটা মনে পড়ল তার। অন্ধকার ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করে নিল।
আর অয়ন স্থির চোখে তাকিয়ে রইল অচেতন আনিশার দিকে।
তারপর ধীরে ধীরে সে চারপাশে নজর বুলিয়ে নিল, যেন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটাই ভাবছে। ছাদের এক পাশে পড়ে আছে তৃষার নিথর দেহ, আর অন্য পাশে অচেতন আনিশা। পকেটে হাত গলিয়ে ফোন বের করে কাউকে ফোন করলো।
পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করেছে।
#চলবে

