বৈরি_হাওয়া #পর্ব_২৩

0
8

— পারবেন কি মিমিকে ত্যাগ করতে ? ভুলতে পারবেন, মিমি নামক কোনো অস্তিত্ব ছিল আপনার জীবনে?

ঊর্মির শীতল কণ্ঠের নিঃসৃত বাক্যটিতে কিছু একটা ছিল, যার ফলে কায়সার দুপা পিছিয়ে গেল। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঊর্মির পানে, যেন কিছু ভুল শুনছে। এই মেয়েটিকেও কি তাহলে ভুল চিনল সে?এতটাই নিষ্ঠুর সামনের মেয়েটি?

কায়সারের সেই দৃষ্টিকে তোয়াক্কা করল না ঊর্মি। সামান্য হাসল। কায়সার পিছলেও ঊর্মি তার মুখোমুখি হলো। মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে নিল। চোখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে অদ্ভুত শীতল কণ্ঠে বলল,

— কি, পারবেন না তো? আমার প্রতি খুব রাগ হচ্ছে, তাই না? মনে হচ্ছে মেয়েটা খুব নির্দয়, তাই তো?

কিছুটা বাঁকা হেসে আগের জায়গাতে ফিরে গেল। কণ্ঠের সেই গম্ভীরতা বজায় রেখেই বলল,

— আপনার ধারণাই ঠিক। হ্যাঁ, আমি নির্দয়। আমার ভেতরের নিষ্ঠুরতাকে আপনি পরিমাপ করতে পারবেন না, সো কল্ড পতিদেব।

মিমির সাথে আমার স্বাভাবিক আচরণ কেন জানেন?

কারণ আপনাকে আমি স্বামী হিসেবে চিন্তাই করিনি। সৎ মেয়েকে সহ্য করার মতো দয়ালু আমি নই। মানলাম, আপনি দয়ালু প্রেমিক ছিলেন। ভালোবেসে ভুল করেননি। কিন্তু তাতে আমি কেন ভুক্তভোগী হব?
থামল ঊর্মি।

কায়সারের কপালের ভাঁজ শিথিল হলো। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকাল ঊর্মির দিকে। দেয়ালের সাথে হেলান দিল সে। স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

— তাহলে এটাই রইল। তোমাকে আমি চেয়েছি পবিত্রভাবে। আমার প্রথম প্রেম ভুল ছিল, বলতে গেলে ভুলটা আমারই ছিল। কিন্তু আমার মেয়েটা ভুল নয়। ও হলো এক পবিত্র ফুল। সেই ফুলকে নিয়ে যার মনে এমন ধরনের চিন্তা আসে, তাকে আর দ্বিতীয়বার আমি চাইব না। ঊর্মি, তুমি আমার পাগলামো দেখেছ। আমার নীরবতা কি সহ্য করতে পারবে? হয়তো পারবে। তুমি আজ থেকে মুক্ত।

ঊর্মি সামান্য হকচকাল, তবে প্রকাশ করল না। একবার কায়সারের দিকে তাকিয়ে বের হওয়ার সময় মিমির সাথে দেখা হলেও সামান্য হেসে চলে গেল। কায়সার দেখল সবটা। মেয়েটা ছোট ছোট পায়ে বাবার পাশে এসে দাঁড়াল। নরম হাত দিয়ে বাবার হাতে স্পর্শ করে ঝুঁকতে ইশারা করল। মেয়ের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে কায়সার মেয়েকে কোলে নিয়ে জড়িয়ে ধরল। ভেতরে থাকা সব হতাশা যেন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
শক্ত করে জড়িয়ে ফিসফিস করে বলল,

— পাপা আছি, মা। পৃথিবীর সব সুখ তোমার হবে। সেই সুখ আমি দেব। তবে আফসোস, তোমাকে মায়ের ভালোবাসা দিতে পারব না। মা কি খুব দরকার? পাপা থাকলে কি হবে না?

বাবার অদ্ভুত কথার মানে না বুঝলেও বাবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল মিমি। পর্দার আড়ালে থেকে সবটাই দেখল ঊর্মি।

————-

— কনিকার মেয়ে ঊর্মিমালা, তাই তো?

চাচি শাশুড়ির কথা শুনে অবাক হওয়ার কথা থাকলেও ঊর্মি নির্বিকার। সে নিশ্চুপ। তার এই নীরবতাই বলে দিচ্ছে, সে এখনই কিছু বলতে চায় না। ঊর্মির নীরবতাকে বেশি পাত্তা না দিয়ে খানিকটা তেজি কণ্ঠে বলে উঠলেন,

—- জীবনটাকে নিজের হাতে নষ্ট করছ, ঠিক যেভাবে নষ্ট করেছে তোমার মা। আমি যদি জানতাম, ওই গর্দভ মহিলার সন্তান তুমি, তাহলে কখনোই কায়সারের সাথে বিয়ে হতে দিতাম না। তবে তুমি তোমার মায়ের মতো নও। আলাদা ব্যক্তিত্বের। আলাদা হলেও কি হবে, কাজ তো একই করছ। তোমার মা সংসার পায়নি, তবে তুমি সংসার পেয়েও তার কদর করছ না। কনিকার ভাগ্য খারাপ ছিল, কিন্তু তুমি নিজের হাতে তোমার ভাগ্য নষ্ট করছ।

রেহেনা দেওয়ানের পেঁচানো কথাগুলো ঊর্মির ভালো লাগল না। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে বলে উঠল,

— চাচি, ঠিক বলেছেন, আমি কনিকার মতো বোকা নই। তাই আমাকে আগডুম বাগডুম বোঝাতে আসবেন না। আপনি ভয় পাচ্ছেন, পাছে এতদিনের লুকিয়ে রাখা ক্ষত বের হয়ে পড়ে। তবে আপনার ধারণাই ঠিক। আমি শুধু ক্ষত বের করব না, সেখান থেকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত না বের করা পর্যন্ত থামব না।

এবার যেন চাচির আসল রূপ বেরিয়ে এলো।

— ঊর্মি, তুমি জানো না, আমি আমার সংসারের জন্য কতটা মরিয়া। আগেও ছিলাম, এখনও আছি। তুমি যতবার আমার স্বামীর দিকে এগোবে, ততবার আমাকে সামনে পাবে।

ঊর্মি সামান্য হাসল।

— চাচি, মন থেকে দোয়া রইল। তবে সেই দোয়া যে কাজে লাগবে না। কনিকার এই বিভৎস মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের শাস্তি হবেই। এবং সেটা বেঁচে থাকা অবস্থায়।

খানিকটা এগিয়ে এসে, কণ্ঠের গভীরতা বজায় রেখে বলল,

—- জীবনে চলার পথে মানুষ অনেক কথা বলবে। এত মানুষের কথা কানে নিলে আমার লক্ষ্য নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু আমি যদি আমার উদ্দেশ্যের দিকে নজর রাখি, তাহলে সফলতা অনিবার্য।
তাই আপনার মতো দু-একজন উটকো লোকের কথা শুনছি না।

—- ঊর্মি, শুনো মা, তোমার মায়ের মৃত্যু—

চলবে,,,

( প্রথমেই দুঃখিত এমন লেট করে দেওয়ার জন্য 😓 তবে আমার বিশ্বাস আপনারা বুঝবেন আমার অবস্থাটা। এখনো আমার পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। সবাইকে পবিত্র ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা 🌸)

#বৈরি_হাওয়া
#পর্ব_২৩
#ফারজানা_প্রণয়_চৌধুরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here