মি_মাফিয়া #লেখনিতে_সুমাইয়াসাবিহা #অন্তিম_পর্ব

0
2

#মি_মাফিয়া
#লেখনিতে_সুমাইয়াসাবিহা
#অন্তিম_পর্ব

#storyname_mr_mafia

❤️❤️❤️~~~~~~
এদিকে সবাই এতোক্ষণ তানভীর আর আরিয়ার কথা গুলো শুনছিলো ,তারা হালকা গুজব হলেও শুনেছে স্যার বিয়ে করেছে তবে কি এই সেই সুন্দরী রুপবতী তরুণী? প্রকাশ না করে নিজেদের মনের মধ্যেই প্রশ্ন টা বিদ্ধ রাখে ।

মিনিট দশেক পর আরিয়া কে আকস্মিক অন্যমনস্ক হয়ে উপর থেকে নামতে থেকে তানভীর এগিয়ে গিয়ে বললো
__কিছু হয়েছে? স্যার বিজি আছেন খুব ? নাকি কথা শেষ ?

আরিয়া কোনো উত্তর করলো না । আঁখি পল্লব লাল হয়ে আছে আরিয়ার। তানভীরের দিকে তাকালো না একটি বার সোজা নেমে নিজের মতোই হাঁটতে লাগলো ।

তানভীর একবার সন্দেহ দৃষ্টি যে উপরের দিকে তাকিয়ে আবারো আরিয়ার পেছনে এসে কোমল গলায় জিজ্ঞাসা করলো
__ম্যা..ম ! কিছু হয়েছে ? ভেতরে জাননি? স্যার কিছু বলেছে ?
আরিয়া একবার মাথা ঘুরিয়ে তানভীরের দিকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকিয়ে দুদিকে মাথা দুলিয়ে আবার সামনে ফিরে চোখ জোড়া মুছে নিয়ে এবার দ্রুত পায়ে অফিস থেকে বের হয়ে গেলো ।

তানভীর কি বিষয় টা হয়েছে বুঝার চেষ্টা করলো কিন্তু মাথায় ঢুকলো না তবে আরিয়া কে দেখেই বুঝা যাচ্ছে ভেতর টা চৌচির হয়ে আছে ।
মিনিট দুয়েক পর হঠাৎ মাথায় আসে কিভাবে যাবে ভাবি ? গাড়ি তো পাঠিয়ে দিয়েছে মনে হয় তখন তো দেখেনি ।

কথাটা ভাবতেই নিজের কপালের ভবিষ্যৎ এর কল্পনা মূহুর্তেই মস্তিষ্ক জানান দেয় । আফরান স্যার জানতে পারলে কি হবে ?কথাটা ভাবতেই কলিজা শুকিয়ে যায় । দৌড়ে আবার বাহিরে যায় । চারদিকে চোখ বুলায় কিন্তু আশে পাশে আরিয়ার দেখা মিললো না । এদিকে ওদিকে কয়েকবার রাউন্ড করা হয়ে গেছে তানভীরের কিন্তু কোথাও নেই ।এবার সত্যিই জান নিয়ে ভয় খেলা শুরু হয় তানভীরের ভেতরে তাই আর সময় না নিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পড়ে ।

_______

রেস্টুরেন্টের ঠিক সামনে বরাবর ছোট পার্স হাতে দাঁড়িয়ে আছে অল্পবয়সী তরুণী । পরনে গর্জিয়াস ফুল হাতার এশ কালারের জামা । চোখে মুখে লজ্জার ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু এই রোদে মেকআপ মনে হয় নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম।কপালে বিন্দু ঘাম জমে আছে । ছোট পার্স টি ঠিক কপাল বরাবর উঠিয়ে চারদিকে একবার চোখ বুলায় । এখনো আসছে না কেনো ? কতো কষ্ট করে মেনেজ করে এসেছে মাকে প্রেমার সাথে দেখা করবে বলে । যদিও সত্য টা বললেও হতো কিন্তু আয়শকে লজ্জায় ফেলতে মন মানেনি তাই মিথ্যে টা বলতে হয়েছে সামিরার ।

কয়েকবার কল করবে ভেবেও লজ্জার কারনে কল দেওয়ার সাহস হয়নি ।একটু লেট হচ্ছে হয়তো কাজে আটকে গিয়েছে তাই ।তাই অপেক্ষা করতে লাগলো কোনো অভিযোগ না দিয়ে ।

মিনিট কয়েক পরে কেউ কানের কাছে বলে উঠলো
__হাই সুইটি কেমন আছো ?
সামিরা কেঁপে উঠে দু পা সামনে চলে গিয়ে পেছন ঘুরে তাকায় । কলিজা টা এখনো হঠাৎ ভয়ের কারনে কাঁপছে । এমন রাস্তায় অজানা অচেনা কন্ঠ কানের কাছে শুনতে পেলে কোন মেয়ে ভয় পাবে না ?
কিন্তু সেদিকে তাকিয়ে লোকটাকে আর অচেনা মনে হলো না । পরিচিত চেহারা । বিয়ের পর আরো কয়েক মাস আগেও দেখেছিলো তাকে ভার্সিটির সামনে ।

হ্যাঁ সামনে দাঁড়িয়ে আছে আবির নামক ছেলেটি ।যার সাথে সামিরার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো । শেষ মুহূর্তে এসে বিয়ে বাড়ি থেকে অপমানিত হয়ে ফিরে যেতে হয়েছিলো বিয়ে শেষ না করেই ।
__আ..আপনি এখানে ?
লোকটা বাঁকা হেসে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সামিরার কাছে আসতে আসতে বললো
___অবাক হচ্ছো যে বেবি ? চিনতে অসুবিধা হয়নি তো ?
__কিন্তু আপনি এখানে ? আমাকে দেখলেন কিভাবে ?
__বেবি তুমি সব ভুলে গিয়ে নিজেকে তার মাঝে খুঁজে বেড়াতে পারো বাট আমি কখনো তোমাকে ভুলার নয় জানো তো ? সেদিনের অপমান টা এখনো গায়ে জ্বালা দিচ্ছে তবুও সব মানিয়ে নিয়ে ভেবেছিলাম তোমার আর ঐ আয়শ বেটার ডিভোর্স হলেই তোমার বাবাকে ফোর্স করলো বাট এতো এখন দেখছি সব ঘুরে গেলো । তাই ভাবলাম…
এটুকু বলে আবির দুদিকে মাথা ঘুরিয়ে আবারো ঠোঁট বাকায়। এক হাতে শার্টের ভেতরে ঠিক কোমরের কাছে নিজের হাত নেয় এই বুঝি কোনো অস্ত্র বের করবে ।
সামিরা বার কয়েক ঢুকে গিলে প্রশ্ন করলো
__ক…কি করছেন? সত্যি করে বলুন কি করবেন আপনি ? আর আপনি এতো সব কিভাবে জানেন আমাদের সম্পর্ক কেমন হচ্ছে কেমন হবে ?
আবির কোনো উত্তর না দিয়ে ঠিক প্যান্টের ভেতর গুঁজে থাকা কিছু একটা বের করতে যায় কিন্তু সে সময় হয়ে উঠতে পারেনি তার আগেই হাতের ফোন টি তেই রিং বেজে উঠে । বিরক্ত নিয়ে নাম্বার টা একবার দেখে নিয়ে আতঙ্কিত গলায় বলতে লাগলো
__হ.. হ্যাঁ স্যার বলুন না ।
ওপাশ থেকে কি বললো সামিরার বুঝার সাধ্য হলো না ।
আবির আবার বললো
__কিন্তু স্যার আমি তো এখন….
এটুকু বলতেই কল কেটে যায় । রাগে ফুঁসছে আবির ভিষন ভাবে । সামিরা কে উদ্দেশ্য করে বললো
___আজ না হয় বেঁচে গেলে আবার ঠিক তোমাকে আমার কাছেই আসতে হবে শুধু অপেক্ষা করো একটু ।
কথাটা বলে আবির সামিরা কে এখানে ফেলেই খুব দ্রুত সামনের দিকে হাটতে থাকে কিছু টা দৌড়ে চলে যায় ।

সামিরা ভয়ে কাঁপছে এখনো । কি করবে তার জানা নেই । বুঝে গেছে এই লোকটাই তাকে ছলনা করে এখানে নিয়ে এসেছে । কিন্তু এমন পাগলামী কেনো করছে লোকটা? কি করতে চায় ?

আচ্ছা তাকে জোড় করে তোলে নিয়ে যেতে আসেনি তো আবার ? নাকি কিডন্যাপ?
কথাটা ভাবতেই মূহুর্তে যেনো মাথার ভেতরে ভো ভো শুরু করে দেয় ।

……………

আরিয়া একমনে চোখের জল ফেলে অস্বাভাবিক ভাবে পাকা রাস্তার পাশ‌ দিয়ে হেঁটে চলছে । আজ সত্যিই নিজেকে কন্ট্রোললেস মনে হচ্ছে সব সময় তো ঐ নির্মম নির্দয় লাকটাকেই কন্ট্রোল লেস ভেবে এসেছে । আমি তো খুব ভালো করেই জানতাম যে ,লোকটা কন্ট্রোল লেস হয়ে গেলে সাইকো আচরন করে সেটা জানার পরেও বেক করাটা ছিলো আমার জন্য বোকামী । কেনো তার মুখোশের আড়ালের হালকা ভালো ব্যাবহার টুকু দেখে নিজেকে সংযত করতে পারিনি?

আজ মায়ের এই অবস্থার জন্য কে দায়ী? উনি?
উঁহু! আমি নিজেই ।
না উনার জিবনে দ্বিতীয় বারের জন্য আসতাম আর না বিয়ের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতাম আর না এতো পাষন্ড ময় খেলায় মেতে উঠতেন ।

বুক চিরে যাচ্ছে। স্রোতের মতো ঢেউ খেলে উথাল পাতাল করে যাচ্ছে ভেতর টায় । কেমন যেনো মনে হচ্ছে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে হৃদয়টা । হাত পা অবশ হয়ে আছে । এক্ষুনি বোধহয় সেন্সলেস হয়ে পড়বে ।

আরিয়ার ঠিক যতোবার মাথায় আসছে মায়ের সেদিনের ফ্লোরে পড়ে ছটফট করা দৃশ্য টি ততবার পাশাপাশি ঐ লোকটার প্রতিটা থ্রেট যুক্ত কথা কর্নে ভেসে আসছে । প্রতিটা কথা এখন সত্য মনে হচ্ছে।

চারদিকে প্রতিটা মানুষের ভালো চেহারার আড়ালে পশুত্বতা লুকিয়ে আছে এখন মনে হচ্ছে। যাকে একটু খানি ভালো মনে করে সেই যেনো অন্য রুপে ধরা দেয় ।

চোখের জল বুক ভাসিয়ে দিচ্ছে আরিয়ার । তখন উপরে গিয়ে আফরানের রুমের দরজা টা খুলে ভেতরে প্রবেশ করার আগ মুহূর্তে আয়শের কথাটা কর্নেল হতেই আরিয়ার ভেতর টা কেঁপে উঠে । ভেতরে ঢুকার আর সাহস পায় না ।পা দুটো থেমে যায় ।শুধু মাত্র স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে সব টা শুনে যাচ্ছিলো । কিন্তু এতজটাও ধৈর্য হয়নি তাই যেটুকু শুনেছে সেটুকু শুনেই জায়গা ছাড়ে ।

সব টা যেনো গুলিয়ে যাচ্ছিলো মন প্রান জুরে যাকে সমুন্নত করেছে তার নাম টা মনে হলেই নাকি আজ তীব্র ঘৃনায় নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে।

অথচ সেই মানুষ টাকে ঠিক সকাল অবদি পাগলের মতো ভালোবেসে গিয়েছিলো। আচ্ছা উনি কি পারতেন না অন্তত আমার জন্য নিজেকে সব কিছু তেই মানিয়ে নিতে ? উনি কি সরল মনে আমাকে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারতেন না ? আমি কি কোথাও হারিয়ে যাচ্ছিলাম ? উনাকে ছেরে চলে যাচ্ছিলাম ?

নাহ তো ! তাহলে? তাহলে এমন আচরন কেনো করেন? এটাকে ভালোবাসা কিভাবে বলে? এটা তো ঐ লোকটার অভিশপ্ত চরিত্রের পূর্ব প্রমান মনে হচ্ছে।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আরিয়া উন্মাদ প্রায় এমন অবস্থায় হাঁটছে।কোথায় আছে হয়তো নিজেও জানেনা । মূহুর্তেই মাথায় আরেকটি ভাবনা এসে মস্তিষ্ক জানান দেয় । আচ্ছা আমিই যদি না থাকি তখন তো কাউকে আমার জন্য এতো সব সহ্য করতে হবে না তাইনা । কথাটা ভাবতেই ঠোঁটের কোনে হাল্কা বেপোরোয়া হাসির জমা হয় । একবার চারদিক টায় তাকিয়ে নেয় । রাস্তার পাশ চারদিকে মানুষ তার নিজের মতো চলে যাচ্ছে – আসছে। পাকা রোডে বড় বড় গাড়ি গুলো তার নিজ গতিতে চলছে ।

হ্যাঁ আজ এখানেই জিবন টা ত্যাগ করবে সে এটা ভেবেই দুকদম এগিয়ে সাইড রাস্তা থেকে নিচে নামতেই আরেক ভাবনা মাথায় ঘেরাও করে ।কিছুটা ভয় এসে বুকে বিঁধে ।

আচ্ছা এটা কি এতোই সহজ হবে ? আমি না থাকলে উনি শান্ত হয়ে যাবে? নাকি এর চেয়েও উগ্র পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন? কথাটা ভাবতেই পা জোড়া আবার পেছনে নিয়ে আগের জায়গায় উঠে দাঁড়ায় । কি করবে তার জানা নেই তবে আর না ঐ পাগল লোকটার সাথে থাকবে না সে , আর না তার মা বাবা কে এসবে জড়াবে ।

কিন্তু উনি .. উনি কি আমায় ছাড়া থাকতে পারবেন ? আমাকে নিয়েই তো উনার এই পাগলামী সব তাইনা ?
__পারবে না তো সহ্য করতে । উনার কষ্ট হবে খুব । উনাকে বুঝার মতো তো কেউ নেই ।উনার সব টুকু জুড়ে যে শুধু একটি নামই বিরাজমান।

আরিয়া এই মুহূর্তে দুটানার মাঝে আছে কি করবে মাথায় কিছুই যেনো ঢুকছে না । মস্তিষ্ক যেনো কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে সব কিছু জমে গিয়েছে ।

যদি থাকতে হয় এমন জেনেই লোকটার সাথেই থাকতে হবে নয়তো অন্য অপশন বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ আছে নাকি ?
কারো না কারো ক্ষতিগ্রস্ত রক্তাক্ত আজ নাহয় কাল নয়তো সারাজীবন চলতেই থাকবে । কিন্তু এটা সহ্য করার ক্ষমতা যে তার নেই ।

এসব ভাবার মাঝেই আচমকা কেউ পাশ থেকে শক্ত হাতে আরিয়া কে স্বজোড়ে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত গাড়ির রাস্তায় ফেলে দেয় ।আরিয়া বুঝেও উঠতে পারেনি কিছু তবে সঙ্গে সঙ্গে সেই মানুষটির হাত খানা ধরে নিজেকে বাঁচাতে চেয়েছে যেই মানুষ টি তাকে এই মুহূর্তে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তাকে ফেলে দিয়েছে । চেঁচিয়ে উঠা মতোও যেনো পরিস্থিতি ছিলো না । শুধু নিজেকে অচেতন মনে করে কি হয়েছে বুঝার চেষ্টা চালাতে চায় যেটার সময় টাও পায়নি তার আগেই সাদা রঙের একটি হাইএক্স কার তার উপর চালিয়ে কোথায় মূহুর্তে হারিয়ে গেলো আকস্মিক বিষয় টা আঁশ পাশের কেউ যেনো খেয়ালই করেনি ।

পেছনের সব গুলো গাড়ি এই মুহূর্তে ব্রেক চেপে আছে । আশ পাশে লোকজন দেখা মাত্রই দৌড়ে গিয়েছে সেখানে যেখানে পড়ে আছে একটি অল্পবয়সী তরুণী রক্তাক্ত অবস্থায়। পুরো শরীরে লাল রক্তে রঞ্জিত। হলুদ ফর্সা চেহারা টায় এই রক্ত গুলো সত্যিই বেমানান হয়ে আছে । শুধু স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে ঘন কালো চোখের পাপড়ি গুলো নিভু নিভু অবস্থায়। বাম হাত টি এখনো বাড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে কারো হাত ধরে বাঁচার ইচ্ছে এখনো তার মধ্যে আছে ।

চারদিকে লোকজনের শোরগোল ভেসে আসছে । কজন মহিলার আফসোসের বানী ধ্বনিত হচ্ছে
___আয় আল্লাহ এটা কি হয়ে গেলো ।এই টুকু মেয়েটা এভাবে নিজের জিবন টা দিয়ে দিলো ? বর্তমানে পরিবার গুলো সত্যি অনৈতিক হয়ে পরে চাপ সৃষ্টি করে সন্তান দের উপর কিন্তু তাই বলে নিজের সন্তান টা কোথায় যাচ্ছে না যাচ্ছে এসব খেয়াল ও করবে না ?

এতো ভিতরের মাঝে তানভীর দুর থেকে দৌড়ে কোনো রকম আরিয়ার পাশে উপুর হয়ে বসে ।
তানভীর একটু আগের ঘটনা সব টাই খেয়াল করেছে। আরিয়া কে কিছুক্ষণ আগেই গাড়ি থেকে দেখতে পেয়ে এভাবে উদাসীন হয়ে হাঁটতে দেখে গাড়ি নিয়ে এদিকেই আসছিলো কিন্তু হঠাৎ পাশ থেকে ঐ আবির নামের ছেলেটা এমন একটা কাজ করে বসবে সেটা তো জানা ছিলো না । স্যার তো বলেছিলো সামিরা ম্যাম কিংবা আয়শ স্যারের সাথে এর সমস্যা ।
আর কার্তিক এর সাথে স্যারের শত্রু তা তবে ? ঐ গাড়ি তে নিশ্চিত ঐ কার্তিক ছিলো আবির এই কার্তিকের সাথে কখন হাত মিলালো ? সেটা তো স্যার বলেনি । তানভীরের এক মিনিট ও লাগেনি এর হিসেব মিলাতে । কিন্তু এক্সিডেন্ট টা হতেই সব জায়গায় জেনে পড়ে যায় তাই গাড়ি ওখানে রেখেই চলে আসে ।

আরিয়া তানভীরের দিকে তাকিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছে কিন্তু মুখ থেকে একটা শব্দ ও বের হচ্ছে না ।
পাশ থেকে একজন বললো
__আপনার কিছু হয় নাকি ? বোন হয় ? এভাবে কিভাবে আপনারা একা ছেড়ে দিতে পারেন ? কি করেছেন আপনারা যে মেয়েটা নিজেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো ।

তানভীর কথা বাড়ায় না হাতের ফোন টা নিয়ে প্রথমেই অ্যাম্বুলেন্স ফোন দিলো তারপর আফরান কে কল দিয়ে কি বলবে তার এইটুকু জানা নেই তবে খুব বিচলিত গলায় বললো
__স….স্যার ভ..ভাবি । এটুকু বলে আরো কয়েকবার শ্বাস ফেলে আবারো বললো
__স্যার আমি কফি হাউজের পেছনে মেইন রোডে আছি । প্লীজ আপনি ….
ওপাশ থেকে আওয়াজ আসতেই তানভীর কেঁপে উঠে । আফরান এর কাছে এই খবর আরো আগেই চলে গিয়েছে কিভাবে সম্ভব ?মিনিট পাঁচেক হবে হয়তো এক্সিডেন্ট টা হয়েছে ।
তানভীর কিছু বলবে তার আগেই কল কেটে গিয়েছে ।

আর সময় নিলো না তানভীর । অ্যাম্বুলেন্স আসতে অনেক সময় আর আফরান আসতে কমপক্ষে আরো ১০ থেকে ১৫ মিনিট তো লাগবেই । তাই আর না ভেবেই আরিয়া কে কোলে তুলে নিয়ে দ্রুত পায়ে নিজের গাড়িতে বসায় । ততক্ষণে আরিয়া জ্ঞেন হারিয়েছে।

তানভীরের সাদা কোট খানা লাল রক্তে মিশ্রিত হয়ে আটখানা হয়ে আছে । আজ সত্যিই তানভীরের নিজের কাছেই খারাপ লাগছে ভিন্ন রকম । সেখানে স্যার কিভাবে সহ্য করবে ? কি হতে চলেছে আগামী তে?
তানভীর পাশ থেকে বারবার আরিয়ার চেহারায় তাকাচ্ছে শ্বাস পড়ছে কিনা বারবার চেক করে যাচ্ছে। এই টুকু শরীর থেকে এতো রক্তপাত হয়ে যাচ্ছে বাঁচবে তো? তানভীরের মনে এই প্রশ্ন টা বারবার দোলা দিয়ে যাচ্ছে।

_________

হসপিটালে ইমার্জেন্সি অপারেশন থ্রিয়েটারে ভর্তি আছে আরিয়া । অবশ্য এক্সিডেন্ট কেস বলে ডঃ প্রথমে ভর্তি করাতে চায়নি কিন্তু তানভীর নিজের পরিচয় টা ক্লিয়ার করে দেওয়াতে ডঃ ভয়ে বাধ্য হয়েছে নিতে ।

আফরান কে হসপিটালের নাম টা বলার জন্য কল দেয় বারকয়েক কিন্তু আফরান কল টাও ধরেনি তাই ভেবেছে হয়তো স্যারের জানা হয়ে গেছে এতোক্ষণে ।

ফ্রম পুরন করে ঠিক ভাইয়ের জায়গাতে নিজের সাইন টা বসায় তানভীর।আজ মনে হচ্ছে যেনো সত্যিই আরিয়ার ভাই সে । সব টা দায়িত্ব তার উপর । আরিয়া কে বাঁচাতে হবেই নয়তো এই সিগনেচার টুকু বৃথা যাবে ।

তানভীর বাহিরে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছিলো হঠাৎ মনে হলো একবার বাড়িতে জানানো উচিৎ সবাই কে তাই আয়শের নাম্বার টায় ফোন করলো কিন্তু রিং হয়েই গেলো রিসিভ করলো না । হয়তো বিজি আছে তাই জাফর সাহেবের নাম্বারে কল দিলো সেটাও রিং হলো ঠিক কিন্তু রিসিভ হলো না । বার কয়েক রিং হওয়ার পরেও কেউ কল ধরলো না ।

ভেতরে এখন আবার আরেক রকম খটকা কাজ করলো , কার্তিক আবার বাড়ি অব্দি চলে যায়নি তো ? ওহ শিট ।
কথা টা ভাবতেই কাউকে কল দিয়ে বললো জলদি চৌধুরী বাড়িতে গিয়ে একবার দেখতে সব ঠিক আছে কিনা ।

____________

পুরো হাত পায়ে রক্তে ছুপছুপ হয়ে আছে । মাথার ছোট চুল গুলো এলো দেশে পরিনত হয়েছে এতোক্ষণ। একটু ক্লান্ত হয়ে সোফার উপর পায়ের উপর পা তুলে বসলো আফরান ।সামনেই ব্লাক লেদার জেকেট পরিহিত ছয় টা লাশ ফ্লোরে পরে আছে । জায়গা টা আর কোথাও না চৌধুরী বাড়ির হলরুমে ।

কার্তিক তার ছেলে পুলে পাঠিয়েছিল পুরো ফ্যামিলি টা যেনো রক্তে বিভোর করে দিয়ে রক্ত সহ ছবি গুলো তার কাছে পাঠায় ।

আফরান কে আরিয়ার খবর টা কার্তিকই দিয়েছিলো ।খবর পাওয়া মাত্রই সে মূহুর্তে হন্তদন্ত হয়ে বের হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু তানভীরের কল পাওয়ার পরই আফরান এর বিচক্ষণ বুদ্ধি মাথায় ঝেকে বললো
কার্তিক আরিয়ার কথা নিজে জানিয়েছে এর মানেটা ঠিক উল্টো হবে। যেনো সে হসপিটালে যায় আর ওদিকে বাড়িতে নিশ্চিত ঢুকে পড়বে ।

আফরান তো একটু আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো আজ কালকের মধ্যে ঐ কার্তিকের দেশে আসার সাধ মিটিয়ে দেবে কিন্তু এই কার্তিক তো আগেই নিজের প্লেন সাকসেস চাচ্ছে । কথাটা ভাবতেই গাড়ির সিটে এক হাতে বারি মেটে গাড়ি ঘুরায় নিজের বাড়ির দিকে। তানভীর যে এদিক টা বুঝে নিবে সেটা তা জানা আছে ।

যেমন ভাবা তেমন কাজ গাড়ি ফুল স্পীডে বাড়িয়ে বাড়িতে আধ ঘন্টার মাঝেই পৌঁছে যায় । গিয়ে মনে হয় সামান্য হলেও সময় দেরী করে ফেলেছে ।
জাফর সাহেবের আয়শ এমন কি খলিল সহ বাড়ির প্রত্যেক টা সার্ভেন্ট কেও আটকিয়ে রেখেছে । একজন সার্ভেন্ট সহ গেইটের দারোয়ান কে প্রানে মেরে দিয়েছে ।হয়তো আর একটু দেরী করলেই এর চেয়ে বেশি কিছু হয়ে যেত ।

চুপচাপ এসে কথা না বলেই নিজের পকেট থেকে ছোট ছুড়ি টা নিয়ে আস্তে করে এগিয়ে গিয়ে জাফর সাহেবের সামনে দাঁড়িয়ে বললো
___শরীর থেকে হাত সরা
__কোথা থেকে এসে পড়লি ? ঐ দিকে তো তোর প্রেয়সীর অবস্থা প্রায় শেষ । এতোক্ষণে নিশ্চিত প্রান টা উপরে চলে গেছে তা আমরা তো জানতাম ফ্যামিলি থেকেও তোর ওটার দুর্বলতা বেশি ।নাকি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর……

আর একটা শব্দ বেরোতে দিলো মুখ থেকে সোজা হাতের ছুড়িটা দিয়ে লোকটার গলায় আক টানে । মূহুর্তে কন্ঠনালী কেটে গিয়ে রক্ত বয়ে যায় নিচে । নিঃশ্বাস টা যেতেও যেনো মিনিট সময় নিলো না হেলে পড়ে নিচে ।

জাফর সাহেব সব সময়ের মতোই শান্ত স্বাভাবের তবে কিছুক্ষণ আগে মনে হচ্ছিল যেনো জীবন টা হারিয়ে ফেলবে তাই বেশ ভয় পেয়েছিলো । কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে লোক গুলোর হাতে মৃত্যু হওয়াই ভালো ছিলো এমন সন্তানের বাবা পরিচয় দেওয়ার চেয়ে না থাকাই ভালো হয়তো ।

শরীর থরথর করে কাঁপছে সবার মৃত্যুর ভয়ে নয় আফরানের নিজ হাতে লোক গুলো কে কিভাবে একের পর এক মেরে যাচ্ছে সেটাও এখানের সবাই চোখ খুলে দেখে যাচ্ছে। সবাই জানে আফরান এসবে অভ্যস্ত কিন্তু সেটা যে এভাবে কোনো দ্বিধা ছাড়াই এভাবে মানুষ মারতে পারে জানা ছিলো না ।

ছয় টা খুন করে প্রায় ক্লান্ত হয়ে সোফায় বসে । নিজের হাতেও আঘাত লেগেছে । কার্তিকের পাঠানো আর একটা লোকও বেঁচে নেই ।

আয়শ দৌড়ে এগিয়ে এসে প্রথমে আফরানের কেটে যাওয়া হাত টায় ছুঁতে চায় কিন্তু আফরান হাত সরিয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে যায় । তার এখন কিছুতেই রেষ্ট নেওয়ার সময় নয় তাই আবারো বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে নেয় পেছন থেকে জাফর সাহেবের কথায় দাঁড়িয়ে যায়
___দেখলে তো ? হয়েছে ? আর কতো ? আজ আমাদের ছি অবস্থার জন্য দায়ী কে? কার সাথে শত্রুতা এদের? আমাদের কারো তো এমন কোনো পার্সোনাল শত্রু নেই । এসব তোমার বিরোধী লোক তাই না ?

আর তখন ছেলেটা কি বললো ? আরিয়া মামনির কি হয়েছে সত্যি করে বলো তো ? মেরে দিয়েছে ? কিন্তু ও তো তোমার কাছে গিয়েছিলো সকালে তাইনা ?

আফরান একটু অবাক হয়ে ঘুরে তাকায় তাকায় ।

জাফর সাহেব তার কথা চালিয়ে গেলো
___মেয়েটা কতোটা শখ করে তোমার কাছে গিয়েছিলো সে কোথায় ? তুমি এক ফিরলে কেনো? অবশ্যই তাকে কিছু করেছে এরা তখন তো এটাই বললো তাইনা ?

এই সব কিছুর জন্য কে দায়ি ? আর কতো হাত চালাবে ? কতো জন কে এমন কে থামাবে? যতো দিন এগুবে জীবনের সমস্যাটা বাড়তেই থাকবে তুমি কি ততদিন অবদি মানুষ গুলো এভাবে খুন করতে থাকবে ? মেয়েটার জান টুকু কতোদিন রক্ষা করতে পারবে ? তোমার জন্যই তো বারবার কাল হয়ে আসছে তার জীবন টা এই টুকু বুঝতে তোমার এতো সময় কেনো লাগছে ? এবার অন্তত ছাড়ো এসব । আজ যদি আমার মামনির সত্যি কিছু হয়ে যায় তবে নিজেকে বাদ দিলাম তোমার অবস্থা টা আমি কল্পনা করছি আফরান। আমার জন্য নয় তোমার জন্য হলেও এসব ছাড়তে পারোনা? মেয়েটাকে একটু শান্তি যে বাঁচতে দেবে না? দয়া করে একটু তো বুঝো আফরান ।

আফরান মুখ ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যেতে বললো
__i understand আজকের পর ভেবে দেখবো বাট আজকের জন্য….
এটুকু বলে থেমে যায় আফরান ।

____________

তানভীরের পাঠানো লোকটা এসে বাড়ি ভর্তি খুন দেখে বুঝতে সময় নিলো না কা হয়েছে এখানে তাই আরো কয়েকজন ডেকে নিয়ে লাশ গুলো সরিয়ে বাড়ি পরিস্কার করে দিয়েছে । আরিয়ার খবর টাও জানিয়েছে । খবর জানা মাত্র কেউ এক মিনিট ও দেরী করলো না জলদি করে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেলো হসপিটালের উদ্দেশ্য ।

এতো পরিমাণ রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে গিয়েছে যে ২/৩ বেগ রক্ত এখনো অব্দি লেগেছে । সামিরা প্রেমা সহ এখানে উপস্থিত হয়েছে সবার সাথে । বাহিরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে যাচ্ছে। ডঃ কতোবার বের হচ্ছে ততবার নানা প্রশ্ন করছে একেকজন।

কিন্তু সব চেয়ে আশ্চর্য করছে যে বিষয় টা সেটা হলো আফরান এখনো একটি বারের জন্যও কল দেয়নি হসপিটালে আশা তো দুরের কথা ।

______________

আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা সবার চেয়ে ভিন্ন। আসলে এদের কে মানুষের কাতারে দাঁড় করাতেও অনেকটা ভাবতে হয় । মুসলিম কিংবা অমুসলিম অথবা নাস্তিক মোট কথা সব রকমের মানুষের মাঝেই আরো কিছু ভিন্ন মানুষ থাকে বিকৃত মস্তিষ্কের যারা স্বাভাবিক আচরন করে না যাদের পেশা অথবা লোভ শুধু মাত্র তাদের মস্তিষ্ক টাকে এমন ভাবে ঘায়েল করে থাকে যা তারা স্বাদারন খাদ্যে স্বাধ উপভোগ করেনা মানুষের গোশতেই তাদের রুহের শান্তি মিলে ।

এই মুহূর্তে আফরানের ঠিক ডান পাশে বসে আছে এই বিকৃত মস্তিষ্কের একজন অদম্য মানুষ। তার হাত পা দুটো বেঁধে রাখা হয়েছে । লোভনীয় দৃষ্টি ফেলে রেখেছে কড়াইতে। মাংশ কষা হচ্ছে সেটায় ।

আফরান হাতের ছুড়ি টা নিয়ে তৃতীয় বারের মতো কার্তিকের পায়ের উপরের অংশ টাতে আবারো ছুরি ফলা বসিয়ে কিছু অংশ কেটে ফেলতেই পাশ থেকে কেউ একজন সেটা একবার পানিতে ধুয়ে আবারো আফরানের সামনে রাখে ।
আফরান সেটা হাতের ছুরি টা দিয়ে একসাথে কুচি কুচি করতে থাকে ।শেষ হতেই সেটা কড়াইতে রান্নার জন্য দেওয়া হচ্ছে। কার্তিক প্রায় ঘন্টা খানেক আগে জ্ঞেন হারায় এখনো জ্ঞান ফেরার নাম গন্ধ নেই ।

মুখে হাসি জমা রেখে আবার বাম পাশে আবিরের দিকে তাকায় ।

আফরান কে এই মুহূর্তে বুঝার কোনো উপায় নেই ।তবে সে যে কতোটা উন্মাদ হয়ে আছে এর প্রমান আবারো দিচ্ছে। তানভীর পাশেই বড় বড় চোখে ভীত হয়ে তাকিয়ে আছে ।

তবে আফরানের অবস্থা টা সে বুঝতেছে যার হাত থেকে সামান্য রক্তপাত হওয়ার কারনে দুজন মানুষ কে তিলে তিলে দিনের পর দিন এভাবে কষ্ট দিয়ে মারতে পারে সেখানে আজ তো এরা দুজন সাহসা ডিরেক্ট মেরে ফেলার সীমা অব্দি চলে গিয়েছে এখনো তো নিশ্চিত না আরিয়া বাঁচবে কিনা তাহলে এদের ফল টা এরা ভুগ করছেই এটা তো হওয়ারই ছিলো ।

কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই লোকটাকে কোথা থেকে ধরে নিয়ে এসেছে সেটাই তানভীরের অজানা । ছিহ কিভাবে তাকিয়ে আছে ঐ কড়াইতে দেখলেই তানভীরের ভমি পাচ্ছে।
কথাটা ভেবেই নাক সিঁটকায় তানভীর। দুহাতে মুখের উপর ধরে রেখেছে । বাংলো টা একদম গোরস্থানে পরিনত হয়ে গিয়েছে বাজে গন্ধ চারদিকে ।

তানভীরের অবস্থা আফরান খেয়াল করে ।
বললো
___আমার বউ এর কি অবস্থা এখন? ডঃ কে ফোন কর ফার্স্ট যদি কিছু হয়ে যায় নিজের অবস্থান টা বুঝে নে । আমার অফিসে আমার বউ আমাকে দেখতে এসেছে সেটা আমাকে জানানো হয়নি । এর ফল টা তোর জানার কথা ছিলো তাইনা? নিশ্চিত আয়শ আসার পর বউ এসেছিলো তাইনা ? এম আই রাইট ?

তানভীর কপাল গলায় উত্তর দেয়
__জ..জী স্যার । আসলে ম্যাম নিষেধ…..
__হ্যা আমাকে সারপ্রাইজ করতে এসে নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে বেরিয়ে গিয়েছে তাইতো?

আফরান আর কথা বাড়ায় না তানভীরের দিকে তাকিয়েই ধারালো ছুরি টা আবিরের ঠিক পেটের ভেতর ঢুকিয়ে আবার তুলে নেয় তারপর আবার একই জায়গাতে আঘাত করে । তারপর জায়গা চেন্জ করে এবার বুকের উপর বসায় ছুরিটাই এবার বুকের এপাশ চিরে পিঠ দিয়ে বেরোয় ।

আবিরের চিৎকার ধ্বনি না হওয়ার কারন কার্তিকের অবস্থা দেখে আরো আগেই জ্ঞান হারায় । একটা মানুষ কতোটা পাগল হলে এমন করতে পারে ? এ তো পাগল নয় সাইকো ও নয় । এটাকে জানোয়ার বললেও কম হবে । তার ঐ চরিত্রের পেছনে যে এই বাঙলো টাই একমাত্র তার আসল রুপি হওয়ার প্রামান বহন করে । এই বাংলোর ব্যাপারে কখনো কি কেউ জানবে ? হয়তো না । এমন এক জায়গায় একা নির্মিত যেখানে না আছে কোনো মানুষের চলাচল । শুধু আছে চারদিকে জন্তু জানোয়ার এর হালকা বিষম খাওয়া আওয়াজ চিহ্ন।

___________

কেটে গিয়েছে মাস তিনেক। সব কিছুরই যেনো আলাদা কিছু পরিবর্তন হয়েছে এই অল্প সময়ে। বলতে গেলে চাকচিক্যের আড়ালে ঢেকে গিয়েছে কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত শুধুমাত্র আরিয়ার কারনে । তাকে সুস্থ করতে আফরানের মাঝে পরিবর্তন এসেছে অনেকটা । অনেকটা বললে ভুল হবে সবার নজরে অফিস এর কালো টাকা ছাড়া খুন খারাপিতে আফরান এখন লিপ্ত হয়না । মারামারি কাটাকাটি এসব নেই সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলে । পরিবার সঙ্গ মিলিয়ে চলে ঠিক স্বাভাবিক একজন মানুষের মতো । শুধু মাত্র আরিয়াকে খুশি করতে । আরিয়া বিব্রত হবে এমন কিছুই আফরান করেনা সব কিছুকে ঢাকা দিয়ে দিয়েছে আরিয়ার কারনে শুধু মাত্র।

কিন্তু আদৌ এটা সত্যি তো ? নাকি শুধু মাত্র আরিয়া কে সুস্থ করতে ? নাকি আরিয়ার মাঝ থেকে ভয় কাটাতে নিজের পরিবর্তন ?

একটু আগেই যখন সামিরার মা হওয়ার সুসংবাদ টা ডঃ দিয়েছেন জাফর সাহেব খুশিতে যেনো নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন ।
বিষয় টা এখনো আয়শ কে জানানো হয়নি তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরবে হয়তো কারন এই সন্ধা বেলায় বাড়ির সবাই নিয়ম করে বাড়ি ফিরে । এটা এখন চৌধুরী বাড়ির নিউ লুক । এটাই তো পরিবর্তনের কয়েক ধাপ সামনে নিয়ে এসেছে । আফরান পর্যন্ত সেই মুহূর্তে একই সময় বাড়ি ফিরে তবে সেটা শুধুমাত্র তার বউয়ের কারনে । সারাদিন যখনি ঘুম শেষ হয় আরিয়ার তখন থেকে ফোন করে আফরানের সাথে কথা বলে । আফরান ও সেইম ভাবে বউয়ের ফোনের অপেক্ষায় থাকে তবে সন্ধ্যার পর বাহিরে থাকলে আরিয়া মুখ ফুলিয়ে বসে থাকে তাই অতিরিক্ত কাজের চাপ ছাড়া সেও বাহিরে থাকে না ।

কিছু ক্ষণ আগে সামিরা মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলো । সবার মুখেই ভয়ে ছাপ ছিলো কাজের মহিলা কি যেনো ভেবে সামিরা চোখ জোড়া একবার একটু করে দেখে নিয়ে বললো
__এইডা তো খুশির খবর সাহেব মেডামের কোল জুড়ে একখান বাচ্চা আইবো সাহেব ।

সালেহার কথা টা কেউ বিশ্বাস করেনি জাফর তাই ডঃ ডেকে এনেছে কিন্তু ডাঃ ও একই সুসংবাদ দিয়েছে । কথাটা শুনেই জাফর সাহেব খুশিতে মাতোয়ারা হয়ে গিয়েছেন ।

এদিকে আরিয়ার মুখ খানা অন্ধকার হয়ে আছে । তারও তো কতো দিনের ইচ্ছে ছিলো একটা ফুটফুটে বাবু নিয়ে আসবে এই বাড়িতে কিন্তু তার বর টা বারবার কি সব বুঝিয়ে দেয় কথা কাটিয়ে । এখন তো তার লজ্জা করবে তাইনা? বড় বউ হয়েও তার আগে কেনো বাবু আসলো না এই পেটে ?

ভেতরের কথা গুলো চট করে প্রকাশ করে জাফর সাহেব কে বলে বসলো
__এই যে আমার চাচাজান কিংবা বাবা যাই হোন ।
আমাকে কিন্তু কথা শুনাতে পারবেন না ঠিক আছে ? আমি আপনার ছেলেকে অনেকবার বলেছি আমার বাবু লাগবে সে আমার কথা মোটেও শুনে না ।আমি নাকি অসুস্থ এই কথা টা বলে বারবার এড়িয়ে যায় । কিন্তু আমি বুঝাতেই পারিনা আমি একদম সুস্থ আছি । আপনি বলুন আমাকে কোন দিক থেকে অসুস্থ মনে হয় ? খেতে পারি দিব্বি হাঁটতে পারি ঠিক মতো শুধু একটু মাথা টা মাঝে মাঝে ঝঞ্ঝা করে উঠে কিন্তু এটা তো তেমন কোনো সমস্যা না তাইনা?

জাফর সাহেব স্তব্ধ হয় আরিয়ার কথায় । কিভাবে বুঝাবে তার ব্রেইনে যে এখনো সমস্যা টা শেষ হয়নি । কমপক্ষে বছর সময় নিবে স্মৃতি শক্তি সব টা ফিরতে অথবা ফুলি সুস্থ হতে । সেদিন যেভাবে আঘাত পেয়েছিলো বেঁচে উঠেছে সেটাই তো অনেক সপ্তাহ খানেক জ্ঞান ই তো ফিরেনি কতো হাজার দোয়া করেছে সবাই । এতো মানুষের দোয়া বিফলে যায়নি জ্ঞান ফিরেছিল ও সেদিন তবুও তো অসুস্থতা কাটেনি এখনো আবার তার থেকে এখন বাচ্চার আশা করবে কেনো? কথাই বা কেনো শুনাবে ? কিন্তু আরু কে তো সেটা বুঝানো যাবে না । এই পর্যন্ত এসে আফরানের কথা মতো যেভাবে শিখিয়েছে সেভাবেই সবার সাথে মিশেছে । আফরান এর যত্ন আফরানের স্নেহ তাই তো আরুকে তার দিকে আকৃষ্ট করেছে ।

নিজের মা বাবা কেও তো ঠিক ভাবে চেনেনা এখনো । কিছুদিন আগেই তো দেখতে এসেছিলো মেয়েকে দুদিন থেকে আবার চলে গিয়েছে । তবে রহিমা বেগমের অবস্থা টা আগের থেকে অনেক টা ভালো আছে এখন সেটাই শুকরিয়া ।

__কি হলো কি ভাবছেন আপনি ?
জাফর হেসে আরিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল
____দেখো মামনি আমার কিন্তু এখন একটাই নাতি লাগবে ।তারপর ও বড় হলে আরেকটা লাগবে এখন লাগবেনা বুঝেছো ।নয়তো দেখা যাবে একজন কে আদর করতে গেলে অন্যজনের আদর কম হয়ে যাবে কিন্তু আমি মোটেও একজন কে আদর কম দিতে চাইনা বুঝেছো ।
____সেটা অবশ্য ঠিক বলেছেন কিন্তু….
দরজার সামনে থেকে আফরান কোট হাতে দাঁড়িয়ে বললো
___কিসের কথা হচ্ছে এখানে ?
আফরান কে দেখা মাত্রই দৌড়ে গিয়ে এক লাফে কোলে উঠে গালে চুমু বসিয়ে দেয়
টাল সামলাতে না পেরে আফরান দু কদম পিছে চলে যায় দুহাতে আরিয়া যেনো পড়ে না যায় তাই কোমর আকড়ে ধরে । ইদানিং বউটা এমন হঠাৎ হঠাৎ করেই আহ্লাদি গলায় অনেক কিছু আবদার করে যেমন ,চকলেট চাই ,দুপুরে চলে আসবেন আজ , আজ অফিস যাবেন না ,বাবু চাই আমার । কিন্তু তাই বলে এমন করে সবার সামনে তো কখনো কোলে উঠে চুমু বসায় নি তাই নিজেকে আনকম্ফোট্যাবল ফিল করে বললো
__কি হয়েছে ? এমন করছো কেনো? কাউকে কি চোখে দেখো না ? কতোবার বলেছি সবার সামনে এমন করবে না । পার্সোনাল রুমে যা ইচ্ছে করবে ।
___দেখুন না ; সামিরার বাবু হবে ডঃ বললো ।আমারো বাবু চাই কিন্তু বাবা তো বলছে এখন নাকি একটাই বাবু লাগবে ।
আরিয়ার কথা শুনে আফরান কাশতে শুরু করে জাফরের দিকে তাকায় । সকল কাজের লোকদের দৃষ্টি সেদিকেই তাকিয়ে ডাগর ডাগর দৃষ্টি তে ।

এর মধ্যেই আয়শ ভেতরে ঢুকে বললো
___ভাই তুই কি বউ নিয়ে এভাবেই পার্সোনাল রুমে বসে থাকিস?
আয়েশের কথায় আফরান কপাল কুঁচকে বললো
__তা কে বউ নিয়ে বসে থাকে সেটা তো প্রমান হয়েই গেলো
__কি বলতে চাইছিস?

দুর থেকে সালেহা (কাজের মহিলা ) বললো
__ছোট স্যার আপনি তো বাবা হতে যাচ্ছেন।মেডামের ঘরে বাঁচ্চা হইবো ডঃ কইলো।
কথাটা আয়শের কান অবদি যেতেই ডান হাত গোল করে মুখের সামনে নিয়ে কাশতে কাশতে আফরানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন যুক্ত কপাল করলো
যার অর্থ এটা সত্যিই?
আফরান এবার ঠোঁটের কোনে হাসি টেনে আয়শের কানের কাছে মাথা নিয়ে ফিসফিস করে বললো
__হ্যা ভাই ।বড় ভাইয়ের আগে কাজ চালিয়ে গিয়েছিল। বুঝতে পারছিস বিষয় টা ? বাবার সামনে তোর ইজ্জতের দফারফা না চাইলে চুপ থাক ।
আয়শ এবার আরো জোড়ে জোড়ে কাশতে শুরু করে । জাফরের বুঝতে বাকি নেই দুই ভাই নিশ্চিত উল্টা পাল্টা কিছু নিয়ে কথা বলছে তাই নিজেকে জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে বের হতে হতে বললো
___আজ আমি নিজে মিষ্টি নিয়ে আসছি বু?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here