Soulmate_to_Enemy #পর্ব_৪৭

0
1

#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৪৭
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম

নোবারা আজ সারাদিন খুব ব্যস্ত। তার শোবার ঘরের বড় ড্রেসিং টেবিলের এক কোণে এখনো পুরোনো একটা ডায়েরি পড়ে আছে, যেখানে একসময় জেনিনের অবৈধ অস্ত্রের চালান আর ডার্ক ওয়েব হ্যাকিংয়ের খুঁটিনাটি লেখা থাকত। কিন্তু আজ সেই ডায়েরির ওপর জায়গা করে নিয়েছে একগুচ্ছ তাজা শ্বেতশুভ্র চন্দ্রমল্লিকা। নোবারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে একবার সেই ডায়েরিটার দিকে তাকাল। তার মনে পড়ে গেল সেই দিনগুলোর কথা, যখন সে জেনিনের প্রতিটি ফোন কল রেকর্ড করার চেষ্টা করত, জেনিনকে জেলের ঘানি টানানোর জন্য রাতভর পরিকল্পনা করত।

“কে জানত, যে মানুষকে কারাগারের খাঁচায় ভরতে চেয়েছিলাম, তার বুকের খাঁচাতেই আমি সারাজীবনের জন্য বন্দি হয়ে যাব?” নোবারা নিজের মনেই হাসল।

ইদানিং দিনগুলো নোবারার জন্য বড্ড দীর্ঘ হয়। জেনিন আজ সকালে বের হওয়ার সময় খুব গম্ভীর ছিল। নূরশাদ ইন্ডাস্ট্রিজের একটি বড় শিপমেন্ট নিয়ে বন্দরে ঝামেলা হয়েছে, আর ওদিকে নানামির সাথে গত রাতের পুনর্মিলনের পর জেনিনের ভেতরে এক ধরণের মানসিক দ্বন্দ্ব চলছে। জেনিন যখন চাপে থাকে, তখন সে আস্ত একটা আগ্নেয়গিরি হয়ে যায়। এটাই মূলত সমস্যা!

নোবারা আজ নিজের হাতে জেনিনের প্রিয় মোরগ পোলাও রান্না করেছে। বাড়ির প্রধান পাচককে সে আজ ছুটি দিয়ে দিয়েছে। রান্নাঘরের উত্তাপে তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমলেও তার মুখে ছিল এক তৃপ্তির হাসি। সে বুঝতে পেরেছে, জেনিনকে আইন দিয়ে হারানো অসম্ভব ছিল, কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে তাকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলা গেছে।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। নোবারা বারবার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। জেনিন সাধারণত পাঁচটার মধ্যে ফেরে, কিন্তু আজ সাতটা বাজতে চলল। নূরশাদ ভিলার গার্ডরা সতর্কভাবে গেটে পাহারা দিচ্ছে। ইউজি একবার ফোন করেছিল, জানাল যে বন্দরে একটা ফায়ারফাইট হয়েছে, জেনিন খুব রেগে আছে।

নোবারার বুকের ভেতরটা একটু কেঁপে উঠল। জেনিন যখন রাগে থাকে, তখন সে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়। নোবারা দ্রুত নিচে নেমে এল। ভিলার প্রধান হলরুমে কাজের লোক আর গার্ডরা ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। তারা জানে, জেনিন নূরশাদ যখন ক্ষিপ্ত মেজাজে ফেরে, তখন এই বাড়িতে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়।

নোবারা কিচেনে গিয়ে শেষবারের মতো খাবারগুলো চেক করল। সে জানে, জেনিন আজ ক্ষুধার্ত এবং বিরক্ত হয়ে ফিরবে। সে ড্রয়িংরুমের আলোগুলো একটু কমিয়ে দিল, মৃদু একটা পারফিউম স্প্রে করল…যাতে জেনিন ঢোকা মাত্রই একটা প্রশান্তির ছোঁয়া পায়।

তিনমাস আগে নোবারা যখন জেনিনকে প্রথমবার বন্দুকের নলের সামনে দেখেছিল, তখন সে জেনিনের চোখে শুধু হিংস্রতা দেখেছিল। আজ সে জানে, সেই হিংস্রতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অবুঝ শিশু, যে কিনা একটু ভালোবাসা আর যত্নের কাঙাল। নোবারা এখন আর পিএ নোবারা আকারি নয়, সে জেনিনের নূরা। সে আজ শত্রু থেকে প্রেমিকা হওয়ার সেই কঠিন সিঁড়িগুলো পার করে এসে আজ এক ঘরোয়া নারীর মায়া দিয়ে জেনিনের সমস্ত রাগ ধুয়ে দিতে চায়।

“কেন এখনো ফিরছে না?” নোবারা পায়চারি করতে করতে বিড়বিড় করল। তার দুশ্চিন্তা এখন আর কোনো কেস ফাইল নিয়ে নয়, তার দুশ্চিন্তা এখন তার স্বামীর নিরাপত্তা আর স্বস্তি নিয়ে। সে জানত, জেনিন নূরশাদকে সামলানো মানে বাঘকে শান্ত রাখা। কিন্তু সে এটাও জানত, তার এক চিলতে হাসির কাছে জেনিনের সমস্ত ক্ষমতা তুচ্ছ।

হলরুমে রাখা বিশাল গ্র্যান্ডফাদার ক্লকটা যখন আটটার ঘণ্টা বাজাল, ঠিক তখনই বাইরে দ্রুতবেগে কয়েকটি গাড়ি ঢোকার আওয়াজ পাওয়া গেল। জেনিন ফিরছে। নূরশাদ ভিলার বিশাল লোহার গেটটি যখন সজোরে খুলে গেল, তখন চাকার ঘর্ষণে এক বিকট শব্দ সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল। ব্ল্যাক আউট করা মার্সিডিজটি যখন পোর্টিকোর সামনে এসে থামল, তখন ভিলার ভেতরে থাকা প্রতিটি মানুষের মেরুদণ্ড দিয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল। ভিলার প্রধান হলরুমে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ ভৃত্য পর্যন্ত..সবাই এক নিমেষে পাথরের মূর্তিতে পরিণত হলো। জেনিন নূরশাদ যখন ক্ষিপ্ত হয়ে ফেরে, তখন এই বাড়ির প্রতিটি ইটের দেয়ালও যেন আতঙ্কে কাঁপতে থাকে।

গাড়ির দরজাটা প্রায় ধাক্কা দিয়ে খুলে জেনিন বাইরে বেরিয়ে এল। তার পরনের আকাশী রঙের শার্টের ওপরের তিনটি বোতাম খোলা, স্লিভগুলো কনুই পর্যন্ত বিশৃঙ্খলভাবে গোটানো। জেনিনের মুখমণ্ডল আজ এক কালবৈশাখী ঝড়ের প্রতিচ্ছবি। তার কপালে স্পষ্ট হয়ে ওঠা শিরাগুলো দপদপ করছে, আর চোখের মণি দুটো যেন জ্বলন্ত কয়লা।

ইউজি সামনে যাওয়ার সাহস করল না, সে কেবল দূর থেকে জেনিনের অস্থির পদবিক্ষেপ দেখছিল। জেনিন হলরুমে ঢোকা মাত্রই তার হাতের লেদার ব্রিফকেসটা সামনের সেন্টার টেবিলের ওপর সজোরে আছাড় মারল। সেই প্রচণ্ড শব্দে টেবিলের ওপর রাখা ক্রিস্টাল ফুলদানিটা কেঁপে মেঝেতে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।

“সবাই এখান থেকে দূর হও!” জেনিনের কণ্ঠস্বর যেন কোনো আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ। “গেট আউট! এভরি ওয়ান!”

ভিলার চিফ সিকিউরিটি এজেন্ট সামাদ সাহেব একটু এগিয়ে এসে কিছু বলতে চাইলেন, “বস, বন্দরের রিপোর্টটা…”

“শাট আপ সামাদ!” জেনিন ক্ষিপ্ত হয়ে সামাদের কলার চেপে ধরল। তার চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। “আমি কি তোমাকে রিপোর্ট দিতে বলেছি? বন্দরের তিনটে কন্টেইনার পুলিশের কব্জায় গেল কীভাবে? নানামির লোক সেখানে পৌঁছাল কীভাবে? তোমাদের কি আমি এখানে খয়রাতি করতে রেখেছি? এক একটা গাধাকে পালছি আমি!”

সামাদ সাহেব ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। নূরশাদ ভিলার দুর্ধর্ষ এজেন্টরা, যারা বড় বড় গ্যাংস্টারদের চোখে চোখ রেখে কথা বলে, তারা আজ জেনিনের এই রুদ্রমূর্তি দেখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জেনিন সামাদকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে হলরুমের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াল।

“ইউজি!” জেনিন চিৎকার করে উঠল। “কোথায় তুমি? তুমি কি সারাদিন কম্পিউটারে বসে গেম খেলো? আমার সার্ভারের সিকিউরিটি ব্রিচ হলো আর তুমি জানতেও পারলে না? আমার ডেটা লিক হওয়ার পর তুমি আমাকে মেসেজ দিচ্ছ? আর ইউ ব্ল্যাক আউট ম্যান?”

ইউজি মাথা নিচু করে ভেতরে ঢুকল। সে জানে আজ কোনো যুক্তি খাটবে না। জেনিন আজ যুক্তির ঊর্ধ্বে। জেনিন তার হাতের গ্লাভসগুলো খুলে মেঝেতে ছুড়ে মারল।

“এই নূরশাদ ভিলার প্রতিটি ইঞ্চি আমার টাকায় চলে, আর সেই টাকা আজ লস! ইউ গাইজ অল আর অ্যা বুলশি|ট!”

ভিলার প্রবীণ ভৃত্য শামসুর চাচা কাঁপতে কাঁপতে এক কাপ কফি নিয়ে এগিয়ে আসছিলেন। জেনিন তার হাত থেকে ট্রের ওপর রাখা কফির কাপটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিল। কাপটি দেওয়ালে আছড়ে পড়ে সাদা দেওয়ালটাকে কালো কফির দাগে রঞ্জিত করে ফেলল।

“আমার কফি খাওয়ার সময় আছে? বন্দর থেকে ফোন আসছে প্রতি মিনিটে, ক্লায়েন্টরা ডিল ক্যানসেল করছে, আর তোমরা আমাকে কফি খাওয়াতে আসছ? ফায়ার অল অফ দেম!” জেনিন তার পার্সোনাল সেক্রেটারি ইয়াসির কে উদ্দেশ করে চেঁচিয়ে উঠল। “আজ রাতেই যেন এই বাড়ির অর্ধেক স্টাফকে টার্মিনেট করা হয়। আমার অযোগ্য মানুষের দরকার নেই!”

পুরো ভিলা তখন মৃত্যুপুরীর মতো নিস্তব্ধ। কেবল জেনিনের ভারী নিশ্বাসের শব্দ আর তার জুতোর খটখট আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। জেনিন তার কোমর থেকে পিস্তলটা বের করে টেবিলের ওপর সশব্দে রাখল। এটি একটি সংকেত..বিপদ আর কয়েক ধাপ দূরে। বেশকম করলে জেনিন একেকটা কে শ্যুট করবে। নোবারা আসার আগে নুরশাদ ভিলায় এমন দৃশ্য বহুবার দেখা গিয়েছিল।

“এতো বছর ধরে এই সাম্রাজ্য গড়েছি আমি! একা! কেউ পাশে ছিল না! আর আজ তোমরা সবাই মিলে সেটা ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছ? কার সাহসে আমার শিপমেন্টে পুলিশ হাত দেয়? জেনিন নূরশাদের নাম কি এই শহর থেকে মুছে গেছে?” জেনিন রাগে ক্ষোভে ফুঁসছে এবং একের পর এক অভিযোগ করতেই আছে।

গার্ডরা এক এক করে পিছিয়ে যাচ্ছে। এজেন্টরা ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জেনিনের এই রূপটি তারা গত কয়েক মাসে দেখেনি। এতো দিন পর তাই আর সহ্য হচ্ছে না।

“কেউ আমার সামনে থাকবে না! বের হও! গেট আউট এভরিওয়ান” জেনিন আবার গর্জে উঠল। “আমি যদি এই হলরুমে আর কাউকে দেখি, আমি নিজের হাতে তাকে শেষ করব। গেট আউট!”

এজেন্টরা একে একে মাথা নিচু করে বের হয়ে যেতে লাগল। মেইডরা রান্নাঘরের দিকে পালাল। জেনিন একা দাঁড়িয়ে রইল হলরুমের ধ্বংসস্তূপের মাঝে। তার শার্টের ঘাম আর বৃষ্টির ফোঁটা মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। সে একটা সোফায় ধপাস করে বসে পড়ল এবং নিজের দুই হাতে মাথা চেপে ধরল। তার ভেতরে এক তীব্র যাতনা। সে সাফল্যের শিখরে দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই, কিন্তু আজ তার মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিশেষ করে আজ পুলিশের হামলা!

“কেন কেউ আমাকে বোঝে না?” জেনিন বিড়বিড় করে বলল। তার গলার স্বর এবার রাগের বদলে এক ধরণের ক্লান্তিতে ভরে উঠল। “কেন সব দায়িত্ব আমার ওপর?”

সে জানে না, ঠিক ওপরের তলায় বারান্দার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে একজন নারী এই পুরো তান্ডবটা দেখছিল। নোবারা। সে এক মুহূর্তের জন্যও ভয় পায়নি। সে দেখছিল তার স্বামী কীভাবে ভাঙছে। সে দেখছিল জেনিনের ভেতরের সেই দাহ। নোবারা জানত, এই জেনিনকে শান্ত করার জন্য কোনো বন্দুক বা কোনো যুক্তি যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন কেবল সেই হারানো আত্মার ছোঁয়া।

জেনিন আবার উঠে দাঁড়াল। এবার সে তার হাতের ঘড়িটা খুলে মেঝেতে আছাড় মারল।

নূরশাদ ভিলার হলরুমের ভয়াবহ তান্ডব তখন এক চরম শিখরে পৌঁছেছে। বাতাসে বারুদের গন্ধ নেই ঠিকই, কিন্তু জেনিন নূরশাদের ভেতর থেকে যে আগ্নেয়গিরির লাভা বেরিয়ে আসছিল, তা যে কোনো বারুদের চেয়েও বেশি দাহ্য। জেনিন তখন উন্মত্ত। তার হাতের প্রতিটি শিরার স্পন্দন বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। টেবিলের ওপর রাখা ৯ এমএম পিস্তলটির দিকে সে হাত বাড়িয়েছিল…হয়তো নিজের অবাধ্য কোনো এজেন্টের ওপর রাগ ঝাড়ার জন্য, কিংবা স্রেফ দেয়ালের কোনো পেইন্টিং ঝালাই করার জন্য। তার গলার স্বর ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

“কেউ কি বেঁচে নেই এই ভিলাতে যে আমার প্রশ্নের উত্তর দেবে? আমি কি এই সাম্রাজ্য গাধাদের জন্য বানিয়েছিলাম?” জেনিন আবার চিৎকার করে উঠল। সে নিজেই গেট আউট বলে বেরিয়ে যেতে বললো আবার কৈফিয়ত ও খুঁজছে!তার আওয়াজ হলরুমের উচ্চ সিলিংয়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসছিল।

ঠিক সেই মুহূর্তে, হলরুমের বিশাল সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত লয়ে নেমে আসছিল একজোড়া পা। কোনো শব্দ নেই, শুধু শাড়ির খসখসানি। নোবারা নুরশাদ। সারাদিন ধরে সে এই মানুষটির জন্য এক ফোঁটা পানিও মুখে দেয়নি। সকালের নরম রোদে যখন জেনিন কপালে একটা আলতো চুমু দিয়ে বেরিয়েছিল, তখন থেকেই নোবারার প্রহর গোনা শুরু। প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মিনিট সে কাটিয়েছে জেনিনের অপেক্ষায়।

জেনিন তখন পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার শরীরটা রাগে কাঁপছে। সে ভাবছিল হয়তো আবার কোনো কাজের লোক বা এজেন্ট ভুল করে সামনে এসেছে। সে গর্জে ওঠার জন্য মুখ খুলতে যাবে, এমন সময় এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটল।

পেছন থেকে এক জোড়া কোমল হাত জেনিনের শক্ত সমর্থ কোমরটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। নোবারা প্রায় দৌড়ে এসে জেনিনের পিঠের ওপর নিজের মুখটা সঁপে দিল। জেনিনের চওড়া পিঠ, যা সারা দুনিয়ার ভার বয়ে বেড়ায়, সেখানে নোবারা তার গালটা চেপে ধরল। জেনিনের শার্টের কাপড়ে নোবারার চোখের এক ফোঁটা উষ্ণ জল এসে লাগল।

জেনিন থমকে গেল। তার সেই আকাশ ফাটানো চিৎকার মাঝপথেই থেমে গেল। তার মুষ্টিবদ্ধ হাতদুটো মুহূর্তেই শিথিল হয়ে এল। এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা গ্রাস করল পুরো ভিলাকে। যে জেনিন নূরশাদকে একটু আগে মনে হচ্ছিল এক খু•নি সিংহ, সে এখন যেন এক শান্ত পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। নোবারার হাতের পরিচিত স্পর্শ, তার গায়ের মায়াবী ল্যাভেন্ডার পারফিউমের সুবাস জেনিনের সমস্ত ইন্দ্রিয়কে অবশ করে দিল।

“নূরা…” জেনিন খুব নিচু স্বরে বিড়বিড় করল। তার গলার কঠোরতা এখন এক গভীর কাতরতায় বদলে গেছে।

নোবারা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল জেনিনকে। সে তার মুখটা জেনিনের পিঠ থেকে সরালো না। “আর একটাও কথা নয়। আর একটাও চিৎকার নয়। শান্ত হোন।”

জেনিন এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখের কোণে জমে থাকা রক্তিম রাগ এক নিমেষে ধুয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালো। নোবারা তখনো তার হাত ছাড়েনি। জেনিন যখন ঘুরল, নোবারা তার বুক পকেটে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠল। জেনিন নিজের কাঁপানো হাত দুটো দিয়ে নোবারার মুখটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরল।

সে দেখল নোবারার চোখে জল। সারাদিনের অনাহার আর দুশ্চিন্তায় তার ঘরণীর মুখটা একটু শুকিয়ে গেছে, কিন্তু তার চোখের মায়া জেনিনের হৃদয়ের সমস্ত ক্ষত সারিয়ে দিল। জেনিনের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ম্লান কিন্তু অকৃত্রিম হাসি ফুটে উঠল। সে বুঝতে পারল, দুনিয়ার সমস্ত শিপমেন্ট হারানো যেতে পারে, সমস্ত রাজত্ব ধ্বংস হতে পারে, কিন্তু এই নারীটি যদি পাশে থাকে তবে সে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে পারে।

“সরি নূরা,” জেনিন খুব শান্ত গলায় বলল। “আমি আসলে… আমি নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না।”

জেনিন নোবারার চোখের জল নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে দিল। আশেপাশে থাকা গার্ড, এজেন্ট আর মেইডরা যারা এতক্ষণ ভয়ে কাঁপছিল, তারা এখন পরম বিস্ময়ে এই দৃশ্য দেখছিল। তারা দেখল তাদের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বস কীভাবে এক মুহূর্তের মধ্যে এক অবুঝ প্রেমিকের মতো শান্ত হয়ে গেছেন। এজেন্টরা মাথা নিচু করে নিঃশব্দে সরে গেল। ইউজি দূর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাসল! সে জানত, জেনিন নূরশাদকে হ্যাক করার পাসওয়ার্ড একমাত্র নোবারার কাছেই আছে!

জেনিন হঠাৎ নিচু হয়ে নোবারার পায়ের তলা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে তাকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল। নোবারা চমকে গিয়ে জেনিনের গলা জড়িয়ে ধরল।

“আপনার এই কোলে তোলার অভ্যাস টা কি যাবে না? কী করছেন? সবাই দেখছে!” নোবারা লজ্জা পেয়ে জেনিনের বুকে মুখ লুকাল।

“দেখুক। ওরা জানুক এই জেনিন নূরশাদ সবচাইতে বড় অপরাধী নয়, সবচাইতে বড় প্রেমিকও, আর আপনাকে আমি কোলে নয়, পারলে মাথার উপর তোলে রাখতাম!” জেনিন গম্ভীর গলায় বলল, তবে এবার তার গলায় রাগ নয়, ছিল অধিকারবোধ।

জেনিন নোবারাকে কোলে নিয়ে ধীর পায়ে বিশাল মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল। হলরুমের বিধ্বস্ত অবস্থা এখন আর জেনিনকে ভাবাচ্ছে না। তার কোলে এখন তার পুরো পৃথিবী। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় জেনিন নোবারার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “নূরা, আপনি যদি আজ আমাকে ওভাবে না জড়াতেন, তবে হয়তো আজ রাতে এই ভিলাতে বড় কোনো অনর্থ ঘটে যেত।”

নোবারা জেনিনের কাঁধে মাথা রেখে আলতো করে হাসলো। তাল অপেক্ষা এবার স্বার্থক।

জেনিন তার রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। সে নোবারাকে বিছানায় নামিয়ে না দিয়ে সোজা বারান্দার দিকে নিয়ে গেল। বাইরের আকাশে তখন বৃষ্টি থামার পর চাঁদের এক ফালি আলো উঁকি দিচ্ছে।

জেনিন নোবারাকে মেঝেতে নামিয়ে দিল ঠিকই, কিন্তু তাকে এক মুহূর্তের জন্যও নিজের বাহুডোর থেকে আলাদা করল না। সে নোবারার কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। জেনিনের ভারী নিশ্বাস নোবারার নাকে এসে লাগছে। পনেরো বছরের পুরনো প্রেম আজ যেন আবার নতুন করে প্রাণ পেয়েছে।

“নূরা, আজ থেকে আমি আর কারো ওপর চিৎকার করব না। যদি রাগ হয়, আমি সরাসরি আপনার কাছে আসব। আপনি শুধু এইভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরবেন। দেখবেন আমি শান্ত হয়ে গেছি।” জেনিন খুব শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় প্রতিজ্ঞা করল।

নোবারা হাসল। সে জেনিনের শার্টের বোতামগুলো ঠিক করে দিতে দিতে বলল, “ঠিক আছে। কিন্তু এখন চলুন তো, আমি আপনার প্রিয় মোরগ পোলাও রেঁধেছি। আপনি সকালে কিছু খাননি, আমি জানি।”

জেনিন অবাক হয়ে তাকাল। “আপনি রান্না করেছেন? কেন? শেফরা কোথায়?”

“সবাই আছে। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম আমার জেনিন তার স্ত্রীর হাতের রান্নায় শান্তি খুঁজে পাক,”

এই যে শত্রু থেকে প্রেমিকা হওয়া নোবারা, যে একসময় জেনিনকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল…সে আজ জেনিনের অস্তিত্বের আধার। জেনিন নূরশাদ আজ আর একা নয়। তার পাশে আছে এক জোড়া শান্ত হাত, যা যে কোনো ঝড় থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

***ঘরের ভেতরে এসি-র মৃদু গুঞ্জন আর দামী সুগন্ধি মোমবাতির ঘ্রাণ এক মোহময় পরিবেশ তৈরি করেছে। জেনিন ফ্রেশ হয়ে কালো রঙের একটা সিল্কের পায়জামা আর ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি পরে তার ডেস্কে বসেছে। তার সামনে রাখা হাই-কনফিগারেশন ল্যাপটপ, যার স্ক্রিনে এখন হাজার হাজার জটিল ডেটা আর গ্রাফ ওঠানামা করছে।

এটা জেনিনের প্রতিদিনের রুটিন। দিনভর কর্পোরেট যুদ্ধ আর মাফিয়া সাম্রাজ্যের কঠিন সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও, দিনশেষে সে যখন নিজের ঘরে ফেরে, তখনো তার মস্তিষ্ক বিশ্রাম নিতে জানে না। সে তার চশমাটা নাকের ডগায় ঠিক করে ল্যাপটপের কিবোর্ডে আঙুল চালাচ্ছে। কিন্তু আজ তার একাগ্রতায় বারবার ছেদ পড়ছে। কারণ তার পেছনে থাকা ড্রেসিংরুম থেকে চুড়ির রিনরিন শব্দ আসছে।

নোবারা কিচেন থেকে বড় একটা পাথরের থালায় জেনিনের প্রিয় মোরগ পোলাও আর একপাশে শামি কাবাব নিয়ে ঘরে ঢুকল। খাবারের সুবাসে পুরো ঘরটা ম ম করছে। নোবারা জানে, জেনিন এখন কাজের মধ্যে ডুবে আছে, আর এই অবস্থায় তাকে খেতে বলা মানে হলো অরণ্যে রোদন করা। কিন্তু নোবারা দমে যাওয়ার পাত্রী নয়।

সে টেবিলের একপাশে থালাটা রাখল। জেনিন একবারও মুখ তুলল না। তার দৃষ্টি স্ক্রিনের দিকে নিবদ্ধ।

“শুনছেন? খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। অনেক তো হলো, এবার অন্তত ল্যাপটপটা বন্ধ করুন,” নোবারা আদুরে গলায় হুকুম দিল।

জেনিন কিবোর্ড থেকে হাত না সরিয়েই খুব শান্ত গলায় বলল, “আর মাত্র দশ মিনিট নূরা। বন্দরের শিপমেন্টের ইনভয়েসগুলো চেক না করলে কাল সকালে ইউজি বিপদে পড়বে। আপনি খেয়ে নিন, আমি আসছি।”

নোবারা মনে মনে হাসল। এই ‘দশ মিনিট’ যে কোনোদিন শেষ হয় না, তা সে গত কয়েক মাসে খুব ভালো করে বুঝে গেছে। সে আর কথা বাড়ালো না। সে নিজেই হাত দিয়ে পোলাওটা একটু নেড়েচেড়ে একটা লোকমা পাকালো। তারপর সে জেনিনের খুব কাছে এসে দাঁড়ালো।

জেনিন তখন মেইল টাইপ করছিল। নোবারা হুট করে জেনিনের মাউস ধরা হাতটার ওপর নিজের বাঁ হাত রাখল আর ডান হাত দিয়ে জেনিনের মুখের কাছে লোকমাটা ধরল। জেনিন চমকে গিয়ে স্ক্রিন থেকে চোখ সরালো। সে দেখল নোবারার চোখে এক ধরণের দুষ্টুমি আর জেদ।

“নূরা, কী করছেন? আমি এখন খুব ইম্পর্ট্যান্ট একটা মেইল লিখছি,” জেনিন একটু শাসন করার ভঙ্গিতে বলল।

“মেইল পরে লিখবেন। আগে এক লোকমা খান, তারপর কথা হবে,” নোবারা জেদ ধরল।

জেনিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে নোবারার এই জেদের সামনে তার মাফিয়া ইমেজ একদম ধূলিসাৎ। সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও মুখ খুলল। নোবারা খুব যত্ন করে জেনিনকে খাইয়ে দিল। খাবারের স্বাদ জেনিনের সমস্ত ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তেই মুছে দিল। কিন্তু খাওয়ার পরেই সে আবার টাইপ করতে শুরু করল।

জেনিন ভেবেছিল সে এক লোকমা খেয়ে নোবারাকে বিদায় করবে। কিন্তু নোবারা আজ নাছোড়বান্দা। জেনিন যখন চেয়ারে বসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করছে, নোবারা তখন কখনো জেনিনের বাম পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, কখনো ডান পাশে। সে যেন একটা চঞ্চল হরিণী। জেনিন যখন খুব সিরিয়াসলি একটা গ্রাফ দেখছে, নোবারা তখন দৌড়ে গিয়ে টেবিলের ওপাশ থেকে আর এক লোকমা বাড়িয়ে ধরল।

“নূরা, আপনি কি আমাকে স্থির হয়ে কাজ করতে দেবেন না?” জেনিন একটু বিরক্ত হওয়ার ভান করলেও তার চোখে আজ এক অদ্ভুত প্রশান্তি। যেন সে চায় নোবারা বারবার তাকে বিরক্ত করুক!

নোবারা হেসে ঘর কাঁপিয়ে তুলল। “কাজ তো সারাজীবনই করবেন। কিন্তু এই যে আপনার ঘরণী আপনাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে, এই সুযোগ কি প্রতিদিন পাবেন? ধরুন, কাল আমি বাপের বাড়ি চলে গেলাম, তখন কী হবে? এমনিতে ও আম্মু কল দিয়েছিল, আপনাকে সহ নিয়ে গ্ৰামে যেতে বলেছে।”

জেনিন ল্যাপটপের স্ক্রিনটা অর্ধেকটা নিচু করে দিল। সে নোবারার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল। “বাপের বাড়ি? কার সাহসে? নূরশাদ ভিলার রানীকে তার রাজা কি ছেড়ে দেবে মনে করেছেন?”

নোবারা একটু ভ্যাঙালো। “রাজা তো এখন ল্যাপটপের প্রেমে মগ্ন। রানীর তো এখানে কোনো কাজ নেই।”

নোবারা এবার একটু দূরে সরে গেল। সে ঘরের এক কোণ থেকে অন্য কোণে পায়চারি করছে আর জেনিনকে দূর থেকে এক লোকমা খাওয়ার জন্য ইশারা করছে। জেনিন অবাক হয়ে দেখছে তার দাপুটে পিএ নোবারা আজ কীভাবে একজন ছোট্ট কিশোরীর মতো আচরণ করছে। প্রেমে পড়লে নারী জাতি ঠিক এতোটাই যত্নশীল হয়!

নোবারা হঠাত্‍ করে হেঁটে এসে জেনিনের চেয়ারের হাতলে বসল। সে জেনিনের ঘাড়ের ওপর দিয়ে হাত বাড়িয়ে আবার লোকমাটা ধরল। জেনিন এবার কাজ ছেড়ে দিল। সে বুঝতে পারল, আজ রাতে তার সিইওগিরি খাটবে না। সে নোবারার হাতের তালুটা ধরল।

“আপনি কি চান আমি আজ রাতভর কাজ না করি?” জেনিন খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল।

“আমি চাই আপনি অন্তত দশটা মিনিট শুধু আমার জেনিন হয়ে থাকুন। একটু খেয়ে নিয়ে কাজ করলে কি এমন ক্ষতি হবে?”

জেনিন এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে নোবারার হাত থেকে লোকমাটা খেল এবং হঠাত্‍ করে এক ঝটকায় নোবারাকে তার নিজের কোলের ওপর বসিয়ে নিল।

নোবারা অপ্রস্তুত হয়ে জেনিনের গলা জড়িয়ে ধরল। জেনিনের কোলের ওপর বসে সে এখন জেনিনের খুব কাছাকাছি। জেনিনের শক্ত সমর্থ বাহুডোর নোবারাকে ঘিরে রেখেছে। ল্যাপটপটা এখন একপাশে পড়ে আছে, স্ক্রিনটা অন্ধকার হয়ে গেছে। জেনিন নোবারার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।

“এবার কি শান্ত হয়েছেন?” জেনিন হাসল।

নোবারা একটু লজ্জা পেয়ে জেনিনের শার্টের কলারটা ঠিক করে দিল। “আমি শান্তই ছিলাম। অশান্ত তো আপনি। এই যে রাত-দিন শুধু টাকার পেছনে ছোটা, ক্ষমতার পেছনে ছোটা..এতে কি শান্তি পাওয়া যায়?”

জেনিন নোবারার কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। “শান্তি? সে তো আছে আপনার এই হাসিতে। কিন্তু আপনি তো জানেন নূরা, এই সাম্রাজ্য আমাকে রক্ষা করতে হবে শুধু আপনাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। আমি যদি দুর্বল হয়ে পড়ি, তবে আমার শত্রুরা আবার আপনার ছায়া স্পর্শ করার চেষ্টা করবে। আমি তা হতে দিতে পারিনা!”

নোবারা জেনিনের বুক পকেটে মাথা রাখল। সে শুনতে পাচ্ছে জেনিনের হৃদপিণ্ডের নিয়মিত স্পন্দন। এই সেই মানুষ, যাকে সে এক সময় ঘৃণা করত। আজ সেই মানুষের বুকেই সে তার পৃথিবীর সবচাইতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।

জেনিন নোবারার চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরল। “আপনি জানেন নূরা? প্রতিদিন আপনি যখন আমাকে এভাবে খাইয়ে দেন, তখন আমার মনে হয় আমার পনেরো বছরের সব ক্ষুধা মিটে গেছে। আমি তো কেবল আপনার হাতের অন্ন খাই না, আমি আপনার ভালোবাসা খাই।”

নোবারা জেনিনের কানে ফিসফিস করে বলল, “আর জানেন, এই রাগী খিটখিটে মাফিয়া জেড কে তো দুনিয়া দেখে, আমি দেখি আমার সহজ-সরল জেনিনকে। যাকে আমি খুব..খুব ভালোবাসি।”

ঘরের কোণে রাখা মিউজিক প্লেয়ারে খুব হালকা একটা সুর বাজছে। জেনিন নোবারাকে কোলে নিয়েই চেয়ারে একটু দুলছে। কাজের পাহাড় এখন আর জেনিনকে ভাবাচ্ছে না। তবে তার এখনো শিপমেন্ট এ পুলিশের হামলা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। গতকালই নানামির সাথে বন্ধুত্ব জোড়া লাগলো আর আজ শিপমেন্টে পুলিশী হামলা! জেনিনের এই বিষয় নিয়ে আরেকটু গভীরে চিন্তা করতে হয়।

চলবে ইংশাআল্লাহ।।।।।।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here