কাছে_আসার_মৌসুম! #নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতিও (২৮-খ)

0
3

#কাছে_আসার_মৌসুম!

#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতিও

(২৮-খ)

নিস্তব্ধ কামরার জানলাগুলো বন্ধ। একটা টু শব্দ আসার জো নেই। হুহু করা বাতাসও যেন থমকে আছে কিছু সময়। ঠিক যেমন করে থমকে রইল সার্থ। তুশির শেষ একটা লাইনে,স্তব্ধের ন্যায় স্থির হলো তার শিকারি চোখ। দৃষ্টিতে এক প্রস্থ বিস্ময় নিয়ে সামনের তরুণীর পানে চেয়ে রইল সে। তুশির তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। মনোযোগ দিয়ে ওরনায় মানুষটার রক্ত মুছছে মেয়েটা। ক্ষততে যখনই তুলো ছোঁয়াবে,আচমকা খপ করে ওর কব্জি ধরে ফেলল সার্থ। তুশি থামল ,চাইল চোখ তুলে। চোখেমুখে বিস্তর দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝে তুরন্ত তার পেলব, ফরসা হাতটা ছিটকে ফেলার মতো শরীর থেকে হটিয়ে দিলো সার্থ। তড়াক করে উঠে দাঁড়াল হঠাৎ। ঠান্ডা হাওয়ায় ছুড়ির মতো চিড়ে গেল তার গলার স্বর,

“ বেরিয়ে যাও।”

তুশি ভড়কে যায়। এক চোট হতচেতনায় দুলে ওঠে দৃষ্টি। বুঝতে না পেরে বলল,

“ আমি কি কিছু ভুল করলাম?”

সার্থের চোখের মণি বরফের ন্যায় ফ্যাকাশে। চাউনি সুস্থির। শক্ত মুখে শুধু ঢোক গিলল একটু। আগের চেয়েও কঠিন স্বরে বলল,

“ তোমাকে আমি যেতে বলেছি।”

তুশি বুঝল না কিছু! এই তো ভালো ছিল মানুষটা। হঠাৎ কী হলো? তার বিভ্রমের মাঝেই ঝট করে কনুই টান মেরে দাঁড় করাল সার্থ। তোপে ফার্স্ট এইডের বাক্সটা পড়ে গেল মেঝেতে। ভেতরের জিনিসপত্র ছড়াল দ্বিকবিদিক। তুশি চমকে গেল। বুক কাঁপল। হতভম্ব চোখ সরাসরি পৌঁছাল মানুষটার দৃষ্টিতে। সার্থের চোখে একরকম দূর্বোধ্য আগুন। না রাগ,না ক্ষোভ। কেমন অন্যরকম এক অস্থিরতায় ঝলসে যাচ্ছে অথচ। আর এক দণ্ডও থামল না সে। হাতটা হিড়হিড় করে টানতে টানতে দোর অবধি নিয়ে এলো তুশিকে। তারপর উচ্ছিষ্টের ন্যায় ছুড়ে ফেলল ঘরের বাইরে। থুবড়ে পড়তে পড়তেও দেওয়াল ধরে নিজেকে সামলায় তুশি। হতবাক চোখে ফিরে চায় পেছনে। কিংকর্তব্যবিমুঢ় মেয়েটা কিছু বলার সুযোগ অবধি পেলো না,মুখের ওপর ধড়াম করে দরজা আটকে দিলো সার্থ। সেই উৎকট শব্দে

তুশির বুক ভেঙে যায়। একটা সূক্ষ্ণ হাহাকারের রেখা ফুটে ওঠে চোখে। মেঘের মতো ঝুপ করে অন্তঃপুরে ঘনিয়ে আসে অন্ধকার। ও কী করেছে? যার শাস্তি হিসেবে এইভাবে ঘর থেকে বের করে দিতে হবে!

তুশির ঠোঁট ফুড়ে আওয়াজ এলো না। । চোখের ভেতর কাঁপন,কিন্তু কান্না আসছে না তো। কান্না তো এক মুক্তির নাম,তুশির বোধ এইটুকু মুক্তি পাবারও অধিকার নেই। মেয়েটা চুপচাপ মাথা নুইয়ে পা বাড়াল ফিরতে। আচমকা খেয়াল পড়ল গায়ে ওরনা নেই। এবার সচেতন চিত্তে নড়েচড়ে উঠল সে। ওরনা কি ভেতরে ফেলে এসেছে? এমা! তড়িঘড়ি করে দরজা ধাক্কা দিতে গিয়েও,হাতটা ফেরত আনলো আবার। না বাবা থাক! এখন ঘটনা বাড়াতে গেলেই হিতে-বিপরীত হয়ে যাবে। বিটকেলটা আহত বাঘের মতো ক্ষেপে আছে। এর চেয়ে কাল থানায় চলে গেলে,চুপিচুপি গিয়ে নিয়ে আসবে ও। তুশি সব হিসেব মিলিয়েও শান্তি পেলো না। সার্থের শরীরে এত আঘাত! খায়ওনি। ও যে তখন তনিমাকে বলল,ও সব করে দেবে। এখন যদি ওনার কিছু দরকার পড়ে? ইস!

তুশির মন খারাপ তরতর করে বাড়ল বৈ কমেনি। ফোস করে শ্বাস ফেলে রওনা করল ঘরে। প্রথম সিঁড়িতে নামতেই, নিচে বসার ঘরের বিশাল সাইজের ঘড়িটা ঢং ঢং করে উঠল। নিশ্চুপ বাড়ির ওই শব্দে লাফিয়ে উঠল তুশি। ভয়ে পা-টা হড়কে যেতে ধরলে ধড়ফড়িয়ে সিঁড়ির হাতল চেপে ধরল আবার। তুশি বুকে থুথু ছেটায়। কী ভয়টাই না পেয়েছে! বাবারে বাবা। মেজাজ খারাপ করে তাকাল ঘড়ির দিকে। বারোটা পনের বাজে। এই রে,আজ তো ওর জন্মদিন। সারাদিনের একেকটা কাণ্ডে মনেই ছিল না। তুশির এমনিই মন ভালো নেই,তার মাঝে জন্মদিনের কথায় দুঃখ বেড়ে গেল আরো। দাদির কথা ভাবতেই,টনটনিয়ে উঠল বুকের ধার। দাদিকে ছাড়া এটা তুশির প্রথম জন্মদিন। প্রতি বছর দাদি সকাল সকাল সেমাই বানাতো। ঘুম থেকে টেনেটুনে তুলতো তুশিকে। কত আদর,কত যত্ন করে সেমাই মুখে তুলে দিয়ে বলতো,

“ ল বু খা। তর আইজকা জন্মদিন না? এই দিন না আইলে এই সুন্দার নাতিনডারে আমি কই পাইতাম?”

এক দলা কান্নায় তুশির গলা আটকে এলো। কিন্তু কাঁদল না। ওই একটু ছোট্ট ঢোক গিলে বরাবরের মতো চাপা দিলো সেসব। আচ্ছা, দাদি কেমন আছে? বুড়ো মানুষটা একা একা কী করছে ওকে ছাড়া? তুশির আর ঘরে ফেরার ইচ্ছে হলো না। ওর জন্মদিনে দাদি নেই তো কী,ইউশা তো আছে। দাদির পর ওর আরেক বন্ধু। তুশি যদি গিয়ে জন্মদিনের কথা জানায়,মেয়েটা নিশ্চয়ই ভীষণ খুশি হবে? ও চটপট রওনা করল সে পথে। ইউশা বেশিরভাগই রাত জেগে পড়ে। এখনো জেগেই আছে হয়ত। হলোও তাই। ভেজানো দোরটাকে হালকা একটু ঠেলতেই, চোখ পড়ল সোজাসুজি টেবিলে। ল্যাম্পশেড জ্বলছে। ইউশার মাথা নিচু। এতক্ষণের সব বিষাদ নিমিষে হাওয়ায় উড়িয়ে দিলো তুশি। পা টিপে টিপে ঢুকল ভেতরে। একদম পেছনে দাঁড়িয়ে মৃদূ শব্দে চ্যাঁচাল,

“ ভাউ।”

ইউশা ভয় পেলো না। চমকেও গেল না। বরং চোখ তুলে চাইতেই আকাশ ভেঙে মাটিতে পড়ল তুশি। হাসিমাখা মুখখানা দপ করে নিভে গেল তার। ব্যস্ত হয়ে বলল,

“ ইউশা, তুমি কাঁদছো?”

ইউশা মাথা নামিয়ে নেয়। ডুকরে ওঠে। বাম চোখের জল রেখার মতো গড়িয়ে পড়ে সামনে রাখা অ্যালবামে। তুশির মনোযোগ ওতে নেই। ধড়ফড়িয়ে মেয়েটার পাশে বসল সে। উদ্বীগ্ন হয়ে বলল,

“ কী হয়েছে তোমার? আমাকে বলো না! কেউ কিছু বলেছে তোমাকে?”

ইউশা ঠোঁট টিপে কান্না আটকায়। মাথা নাড়ে দুপাশে।

“ তাহলে? বলো না আমায়,পিলিচ!”

ইউশা দম নিলো। থেমে থেমে জানাল,

“ আজ আমার জন্মদিন, তুশি।”

তুশির চোখ শৃঙ্গে। বিহ্বলতায় ফাঁকা হলো ওষ্ঠপুট। অবাক হয়ে ভাবল,

“ আজ ইউশারও জন্মদিন?”

অমনি হাসল সে,

“ তোমার জন্মদিন? এটাতো অনেক ভালো খবর,ইউশা। এজন্য তুমি কাঁদছো কেন? জন্মদিনে কেউ কাঁদে বোকা মেয়ে? এটাতো খুশির ব্যাপার তাই না!”

“ কিন্তু এই জন্মদিন এলে যে বাড়ির কেউ খুশি হয় না, তুশি। কেউ হয় না। উলটে সবার মন খারাপ হয়ে যায়। মা কাঁদে,বাবা ছটফট করে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু। বড়ো মা,চাচ্চু,মেজো ভাইয়া, দিদুন কেউ হাসে না জানো! মন মরা হয়ে ঘুরে বেড়ায় সবাই। হ্যাঁ ওরা আমাকে গিফটস দেয়,উইশ করে, কেকও কাটে, কিন্তু আমি জানি ওদের কারো ভেতরে কোনো আনন্দ থাকে না।”

তুশি আশ্চর্য হয়ে বলল,

“ ওমা কেন? এমন করে কেন সবাই? আচ্ছা, সবার কথা বাদ,তোমার মা-ও খুশি হয় না? সে কেন কাঁদে ভাই! মেয়ের জন্মদিনে কাঁদে এরকম মা আমি কস্মিনাকালেও কোথাও দেখিনি। উহু,নট সি। যেখানে তুমি এ বাড়ির একমাত্র মেয়ে,সেখানে সবার তো…”

মাঝপথেই থামিয়ে দিলো ইউশা। বিমর্ষ গলায় জানাল,

“ আমি বাড়ির একমাত্র মেয়ে নই,তুশি।”

তুশির ভ্রু বেঁকে এলো,

“ তবে?”

ইউশা চোখের পানি মুছল। বন্ধ করা অ্যালবামটা খুলে রাখল ওর সামনে।

“ এটা দ্যাখো।”

তুশি তাকায়। এক জোড়া শিশুর ছবি। ধবধবে সাদা তোয়ালেতে মোড়ানো৷ এত ছোটো! রোগা! ঘুমোচ্ছে ওরা। তুশি শুধায়,

“ এরা কারা?”

ইউশা একটা ছবিতে আঙুল ধরে দেখাল,

“ এটা আমি,আর এটা আমার বোন। আমার জমজ বোন।”

তুশি চোখের হোচট খেলো। ছবিটা আরো ভালো করে দেখল এবার। বিশদ কৌতূহল নিয়ে বলল,

“ জমজ! কিন্তু চেহারায় মিল নেই যে? দুটো বাবু তো আলাদা। একজন একটু ফরসা আরেক…”

ইউশা ক্লান্ত কণ্ঠে বলল,

“ জমজ মানেই সব সময় চেহারা এক হয় না তুশি। জমজ অনেক রকম হয়। তবে সব থেকে প্রধাণ দুটো ধরণ হচ্ছে আইডেন্টিকাল টুইন্স,আরেকটা নন- আইডেন্টিক্যাল টুইন্স। আইডেন্টিক্যাল টুইন্স মানে হলো যাদের জন্ম একইসাথে,একই ডি এন এ। একই চেহারা। গলার স্বর, রক্তের গ্রুপ, এমনকি চোখের রংটাও প্রায় এক হয়। যাদের দেখলে সহজে বাইরের কেউ আলাদা করতে পারে না। আর নন-আইডেন্টিক্যাল মানে আমরা। মানে আমি আর আমার বোন। যাদের জন্ম একই সময় হলেও চেহারা আলাদা। হয়ত, আমাদের বাকি সবও আলাদা। কে জানে!”

ইউশা উদাস চিত্তে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তুশি বলল,

“ কিন্তু আরেকটা বাবু কোথায়? এ বাড়ি আসা থেকে তো একবারও দেখিনি।”

মেয়েটার চোখ ফের ভিজে উঠল। জড়িয়ে এলো কণ্ঠস্বর,

“ ও নেই। চুরি হয়ে গেছে।”

সাথে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল ইউশা। থেমে থেমে বলল,

“ আমার ওর জন্য খুব খারাপ লাগে জানো তুশি! ও তো আমার বোন বলো। আমার মা-তো ওরও মা। অথচ ও আমাদের কারো কাছে নেই। হয়ত ও আমাদের চেনেও না। জানেও না এই পৃথিবীতে ওর একটা পরিবার আছে। যেখানে ওর মা ওর জন্য সব সময় কাঁদে,দুঃখ পায়। ও থাকুক না থাকুক কেক বানায় ওর জন্যে। আমার মাকে তোমার ভালো লাগে না, তাই না তুশি? কিন্তু মা এরকম ছিল না। বড়ো মা বলেছিল,মা খুব মিশুকে ভালো মানুষ ছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর মা মানসিক ভাবে সুস্থ নেই। সন্তানহারা মা কখনো ভালো থাকে বলো! মা খুব কাঁদে,ছটফট করে আড়ালে। দিদুন বলেছিল, আমরা প্রি ম্যাচিউরড বেবি ছিলাম। যখন প্রথম বার ওটি থেকে বের করা হয়, তখন এই ছবিটা অয়ন ভাই তুলেছিল। আর এটাই আমাদের দুজনের একইসাথে প্রথম আর শেষ মূহুর্ত । ওর সাথে আমার হয়ত কোনোদিন দেখা হবে না। কখনো জানাও হবে না ও কেমন দেখতে হয়েছে! আচ্ছা, ও এখন কী করছে বলো তো তুশি! যারা ওকে চুরি করেছে তারা নিশ্চয়ই ওকে কোথাও একটা বেচে দিয়েছে তাই না? নাকি ও বেঁচেই নেই!”

ইউশার কান্নার গতি বাড়ল। হাহুতাশ করে বলল,

“ আমার জন্মদিন ভালো লাগে না, তুশি। আমার জন্মদিন মানে তো ওর ও জন্মদিন বলো। ওর তো আজ থাকার কথা ছিল এখানে। এই ঘর তো আমাদের দুজনের হতো। আমরা একই সাথে থাকতাম,ঘুমোতাম,গল্প করতাম। আমার সুখগুলো ভাগাভাগি করার জন্য ওকে যখন রাখা হলো না,তখন জন্মদিন চাই না আমার। চাই না!”

তুশি ধড়ফড় করে ইউশার মাথাটা এনে চেপে ধরল বুকে। গায়ে-পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,

“ কেঁদো না ইউশা, সব ঠিক হয়ে যাবে দেখো। সব ঠিক হয়ে যাবে।”

বুক থেকে মুখটা তুলে এনে মেয়েটার চোখ মুছিয়ে দিলো তুশি। পৃথিবীর কী অদ্ভুত নিয়ম! আজ ওদের তিনটে মানুষের জন্মদিন একই দিনে পড়ল? ইউশা নিজেকে সামলেছে। চোখমুখ ডলে ঠিকঠাক হয়ে বসার মাঝেই টুং করে শব্দ হলো ফোনে।

তুশির নজর আপনা-আপনি পৌঁছে গেল স্ক্রিনে। ইউশা নিজেই বলল,

“ আমার বন্ধুরা জন্মদিনের উইশ করছে বোধ হয়। করুক গে! ভালো লাগছে না।”

উইশ মানে তুশি জানে। বলল,

“ এমন করতে নেই৷ ওরা তো তোমাকে ভালোবাসে। বন্ধুত্বের ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে এরকম অবহেলা করলে ওরা তো কষ্ট পাবে।”

ইউশা নাক কুঁচকাল,

“ ভালোবাসে না ছাই! বাবার টাকা থাকলে ওরকম ভালো সবাই বাসে। আর এসব বন্ধুবান্ধব কষ্ট পেলে আমার কী? আমার তো একেবারে মনের মতো বন্ধু আছে একজন,এই যে তুশি রানী।”

তুশি হেসে ফেলল। ইউশা অনীহ চিত্তে ফোন তুলল হাতে। অনেকগুলো ম্যাসেজ পেরিয়ে চোখ আটকে গেল অয়নের নামটায়। তাড়াহুড়ো করে ইনবক্সে মেলল সে।

“ happy birthday little cherry…

Amader jalate aro onek bochor beche thakun.”

ইউশার কান্নাভেজা মুখটায় অমনি পূর্নিমার আলো ছুটল৷ লালচে ঠোঁট আপনা-আপনি সরে এলো দুপাশে। তুশি বলল,

“ কী লিখেছে?”

“ অয়ন ভাই উইশ করেছেন। ভাইয়ার এটাতে কোনোদিন ভুল হয় না!”

তুশি দুই ভ্রু উঁচিয়ে বলল,

“ বাবাহ! কত ভালোবাসেন তোমাকে।”

তারপর এক টুকরো দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। বুকটা কেমন হুহু করে উঠল।

মলিন চোখে ভাবল,

“ আর আমার জন্মদিন! আমার জন্মদিন তো বিটকেলটা জানেই না। এই দুনিয়ায় আমাকে উইশ করার কেউ নেই। ”

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here