কাছে_আসার_মৌসুম! #নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি (৫৩-খ)

0
2

#কাছে_আসার_মৌসুম!
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
(৫৩-খ)
সৈয়দ বাড়ি থেকে আসা বড়ো মাইক্রো-টা একদম সোজা এসে থামল ক্লাবের সামনে।
সাথে সাথে নাসীর এগিয়ে গেলেন। সাথে তার বড়ো বোনের স্বামী ওয়াসিফ। শওকত আর সাইফুলও ছিলেন এখানে।
ততক্ষণে গাড়ির দরজা খুলে একে একে বের হলো সকলে। বড়োদের কুশলাদি বিনিময়ের মাঝে তুশি হাঁ করে দেখছিল চারিদিক। এসব চকমকে জমকালো পার্টি-টার্টি ওর জীবনে প্রথম। একেবারে চোখ ধাধানো ব্যাপার-স্যাপার। ইস,সারাজীবন এসব দূর থেকে দেখেছে। কখনো কোনো ক্লাবের ভেতরে ঢোকার সাহসও হয়নি। কোনোদিন ভেবেছিল,ওর জীবনেও ঘটবে এসব? তুশির ধ্যান ছুটল পাশ থেকে আসা পুরুষালি আওয়াজে।
উঁচু বিল্ডিং হতে চোখ এনে ফিরে চাইল সে। অয়ন হাসে,হাতটা পেতে বলে,
“ এসো।”
তুশির মুখে অস্বস্তির একটা লম্বা দাগ পড়ল। হাতটা ধরবে না ভাবলেও,ইউশা হতে দিলো না এবার। চট করে তুশির হাতটা তুলে অয়নের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
“ অয়ন ভাই, ওকে তোমার সাথে সাথে রাখো। আসলে আইরিন আপু কেমন জানোই তো!”
বলতে বলতে মেয়েটা এক বার দেখল গাড়ি পার্ক করে সদ্য হাজির হওয়া সার্থর পানে। তক্ষুনি ভেতর হতে সেখানে ছুটে এলো আইরিন। কোনো দিকে না চেয়ে সোজা গিয়ে থামল ওপাশে সার্থর সামনে।
খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,
“ এসেছ তুমি? আমি কখন থেকে অপেক্ষা করছিলাম। এমা,কালো কোর্ট কেন? আমি সাদা কোর্টের কথা বলেছিলাম, সার্থ।”
ইউশা চোখ কপালে তুলে বলল,
“ ইইই সার্থ! ভাইয়াকে নাম ধরে ডাকছে।”
অয়ন বলল,
“ তো ওর উড বি,ও ডাকবে না? আমিও তো চাই তুশি আমাকে এভাবে ডাকুক। কী তুশি ডাকবে না?”
তুশি চুপ করে থাকে।
ইউশা আগ বাড়িয়ে বলল,
“ ডাকবে তো,কেন ডাকবে না? একটু সময় দাও। ও তো আইরিন আপুর মতো এত ফাস্ট না।”
“ সময় দিয়েই যাচ্ছি। ম্যাডামের যে কবে একটু দয়া হবে কে জানে!”
তুশির কান কথার দিকে রইলেও চোখটা সার্থ আর আইরিনের ওপর। মেয়েটা অতি খুশিতে এখনো খেয়াল করেনি তুশির পরনেও সাদা গাউন। নিজের মতো আহ্লাদে নেতিয়ে পড়ে বলল,
“ তুমি আমার একটা কথাও শোনো না। আচ্ছা ছাড়ো, কেমন লাগছে আমায়?”
সফেদ গাউনের দুপাশটা ধরে একবার নেড়েচেড়ে দেখাল আইরিন। সার্থ কপালের সাথে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে রইল।
তক্ষুনি ওর পকেটে গুজে রাখা হাতের বাহুতে হাতটা গলিয়ে দিলো আইরিন।
“ চলো ভেতরে যাই৷ তোমাকে আমার বন্ধুদের সাথে আলাপ করাব!”
তুশির মুখ অমনি কালো হয়ে গেল। শরীর মুচড়ে উঠল, ফুঁসে ওঠা অধিকারবোধের দরুণ। ডাইনিটা এভাবে ওনার বাহু জাপটে ধরেছে! তুশির মন চাইল এক ছুটে গিয়ে ছাড়িয়ে দিতে। দুহাতে আইরিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলতে মাটির ওপর।
অথচ কাতর চাউনির ফাঁক গলে মেয়েটা দেখলই না আরো দুটো তপ্ত চোখের আগুন।
অয়নের হাতের মুঠোয় থাকা তুশির হাতটা,
অয়নের তিনটে আঙুল দিয়ে চেপে রাখা সেটা, সব মিলিয়ে চোয়াল শক্ত করে আইরিনের সাথে ভেতরে ঢুকে গেল সার্থ।
তুশি কষ্ট পেলো,বুক জ্বলে গেল তার। সাদা গাউন আর কালো কোর্ট পরা এক জোড়া কপোতির প্রস্থান শূন্য চোখে দেখল কিছু পল। পরপরই রাগে নিজের ওপর বিতৃষ্ণা ধরল ভীষণ। কেন পরলো ও সার্থর দেয়া জামা? সেইত ঠিকই আইরিনের হাত প্যাঁচিয়ে চলে গেলেন উনি। তাহলে ও কেন পরল? কেন আজ জামাটা রেখে আসতে পারল না? কেন ও আবার সার্থর প্রতি দূর্বলতা প্রকাশ করে নিজেকে এমন ছোটো করে ফেলল? অয়ন হাতে টান বসায় তখনই,
“ কী হলো, চলো?”
ততক্ষণে বড়োরা ভেতরে চলে গিয়েছেন।
তুশি হাত ছাড়াতে গেলেই ও বলল,
“ থাক না। কাপলদের এভাবেই এন্ট্রি নিতে হয়।!
তুশি আর তর্কে গেল না৷ মনে হলো ক্লান্তিতে শরীর নেতিয়ে যাচ্ছে। শুধু পাশ ফিরে মেজাজ খারাপ করে এক পল দেখল ইউশাকে। মলিন চোখে হাসল ইউশা। বলল,
“ আমাকে পরে দেখো,চলো তো এবার।”

আইরিন আর সার্থ ঢুকতেই ওপর থেকে বেলি ফুলের পাপড়ির বৃষ্টি হয়। এটা আগে থেকে বলাই ছিল ক্লাবের কর্তৃপক্ষের কাছে। মাত্রাতিরিক্ত ফরসা মেয়েটার ঠোঁটের হাসি, আর সুদর্শন খেতাবে এগিয়ে থাকা বলিষ্ঠ গড়নের যুবক সবার মনোযোগ কেড়ে নিলো। হাসিহাসি মুখ করে চেয়ে রইল সকলে। সার্থর মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ। মুখে হাসি তো দূর,একটু শিথিলতা অবধি নেই। আইরিন বাহু প্যাঁচিয়ে রাখলেও,ওর চোখে অয়নের ওই তিন আঙুল দিয়ে তুশির হাত ধরে রাখার দৃশ্যই ভেসে গেল শুধু।
আইরিন বলল
“ চলুন,আমার বন্ধুরা ওদিকটায় আছে। ওরা আপনাকে দেখার জন্যে ভীষণ এক্সাইটেড।”
“ ওদের এখানে আসতে বলো। আমি কারো কাছে যেচে আলাপ করতে যাই না। আমার কাছে সবাই আসে।”

আইরিন রাগ করল না,হাসল উলটে। মনে মনে বলল,
“ আপনার এই এটিটিউডেই আমি প্রথম মরেছিলাম সার্থ। তারপর থেকে একটু একটু করেই আমাকে মারছেন আপনি।”
মুখে বলল,
“ আচ্ছা, ডেকে নিয়ে আসছি।”
সার্থ দাঁড়িয়ে রইল। হুট করে
একজন পাশ থেকে বলল,
“ ওয়াও, এত দেখছি আরো একটা কাপল!”
অমনি চকিতে ফিরে চাইল সে।
অয়ন আর তুশি আসছে। সেই একই থিমে,ধবধবে গাউন পরিহিতা মেয়েটার পাশে সুতনু অয়ন হাত ধরে এগোচ্ছে। ফুলের বৃষ্টি তখনো থাকায় ওদের গায়েও পড়ল কিছু কিছু । আশপাশ থেকে চাপা গুঞ্জনে যখন দু একটা শব্দে নাইস কাপল, কী দারুণ মানিয়েছে শুনতে পেলো সার্থ গায়ের চামড়া সহ পুড়ে গেল তার।
একবার কটমট করে দুজনকে দেখে সেখান থেকে গজগজে চিত্তে সরে গেল সে।

মিন্তু ভেতরে এসে দেখল চারিদিকে শুধু জোড়া জোড়া সবাই। বড়োদেরও কেউ আছে,মাঝবয়সিদেরও কেউ না কেউ আছে। ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“ সবার একটা করে কাপল আছে। শুধু আমার আর তোর নেই। আমরা হোলাম এই বিরিয়ানির মতো পার্টিতে এলাচের মতো বেমানান।”
ইউশা নাক কুঁচকে বলল,
“ তুই কোন ক্লাসে পড়িস? এই বয়সে কাপলের কী বুঝিস তুই!”
মিন্তু বুক ফুলিয়ে বলল,
“ আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। আমার গোফ উঠেছে। দুদিন পর দাড়ি উঠবে। তুই সব সময় আমাকে বাচ্চা বানিয়ে দিবি না। এবার কোচিং-এ একটা মেয়ে আমাকে লাভলেটার দিয়েছে জানিস!”
“ কীহ,তোর মত ফেলুদাকে চিঠি দিয়েছে? ইয়াক, এই মেয়ের পছন্দ দেখে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে।”
“ তো যা না। গিয়ে ঐ পুলে ঝাপ দে। ওখানে পরলে মনে হয় না বাঁচবি।”

ইউশা ওর আঙুল মেপে ফিরে তাকাল। ওই কোণে একটা টলটলে সুইমিংপুল আছে। পানির রং কালো,নিচে কালো টাইলস থাকায় দেখতে ভূতুড়ে বেশ। পাশে আবার ছোটো বিলবোর্ডে লেখা,
“ আট ফুট গভীর জল। সাঁতার না জানলে দূরে থাকুন।”

ইউশার নাম ধরে মা ডাকলেন তখনই।
মিন্তুকে নিয়েই এগোলো সে।
এদিকে অয়ন তুশিকে ছাড়ছে না। একদম সাথে নিয়ে হাঁটছে। আলাপ করাচ্ছে এর ওর সাথে। তুশির আর ভালো লাগছে না এসব। বিশেষ করে অয়ন যখন বলছে, ওর হবু বউ, অস্বস্তিতে মুচড়ে উঠছে ভেতরটা। ও
আস্তে করে বলল,
“ অয়ন ভাই এবার হাতটা ছাড়ুন।”
“ তুশি, আমি ধরলেই তুমি এমন ইরিটেট ফিল করো কেন?”
“ আমার ভালো লাগছে না।”
অয়ন দাঁড়িয়ে গেল।
“ এখন তো এটা বললে হবে না তুশি৷ আমাদের বিয়ে ঠিক হয়েছে। আজ পার্টির পরে এংগেজমেন্টের তারিখ পড়বে। অফিসিয়ালি আমার বাগদত্তা তুমি। আমি তোমার হাত ধরব না তো কি অন্য কেউ ধরবে?”
তুশি খেয়াল করল অয়নের কথা বলার ভঙ্গিমা অন্যরকম। চোখ দুটো জ্বলছে। শক্ত হচ্ছে মুখের পেশী। ধরে রাখা হাতটায় আঙুল দাবিয়ে দিচ্ছে আরো। এই রূপ অচেনা তার। ও ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ আপনার কি রাগ হচ্ছে আমার ওপর?” মুহূর্তেই অয়ন হেসে ফেলল,বলল
“ তোমার ওপর আমার রাগ হবে? ধ্যাত।
আচ্ছা শোনো এমন করতে নেই। থাকো না আমার সাথে। চলো তোমাকে আংকেলদের ফ্যামিলির সাথে পরিচয় করিয়ে দিই, ওনারা তো তোমাকে তেমন করে চেনেনই না।”

জুসবারে একটা টুলের ওপর বসেছিল সার্থ। হাতে জুসের গ্লাসটা টেবিলের ওপর ঘোরাতে ঘোরাতে তার ঠান্ডা, নির্লিপ্ত চোখ এদিকেই আটকে।
তখনই আইরিন এসে বলল
“ আপনার আইস লাগবে?”
“ লাগলে আমি নিতে পারব।”
“ আমি দিয়ে দিই?”
উত্তর দেয় না সার্থ।
আইরিন খেয়াল করল ওর চোখ অন্য কোথাও। ওহ, নিশ্চয়ই তুশিকে দেখছে। এই বস্তিটার কথা তো ওর মাথাতেই ছিল না। কী পরে এসছে আজ? মল থেকে কী কিনল দেখা হয়নি তো। আইরিন সাথে সাথে ঘুরে তাকাল ওদিকে। অমনি প্রকাণ্ড বাজ পড়ল মাথায়। সে ছাড়া গোটা কালোয় ছেঁয়ে যাওয়া পার্টির মাঝে তুশি সাদা গোলাপের মতো ফুটে আছে। ও আর্তনাদ করে বলল,
“ এ কী! ও হোয়াইট পরেছে কেন? আমি বারবার বলেছিলাম এটা আমাদের থিম। ও কোন সাহসে পরল?”
আইরিন তেড়ে যেতে নিলেই সার্থ হাতটা টেনে ধরল। গর্জন ছুড়ল তপ্ত চোখে,
“ চুপ করে বসে থাকো।”
“ কিন্তু ও..”
“ এখন ওকে একটাও কথা শোনালে এই সুস্থ পার্টি আমি অসুস্থ বানিয়ে দেব,আইরিন। সো কিপ ইয়র মাউথ কমপ্লিটলি শাট।”
আইরিন থম মেরে গেল। বলল,
“ গাউনটা কি আপনি ওকে দিয়েছেন?”
“ তাতে তোমার কোনো অসুবিধে? আমার টাকায় আমি কাকে কী দেব,ইটস ডেফিনেটলি মাই চয়েস। তুমি যে সবার সামনে আমাকে নাম ধরে, তুমি তুমি করে আহ্লাদ করছো, এটুকুতেই শান্ত থাকো। এর বেশি গভীরে যেও না।”
“ কিন্তু এভাবে আমার আনন্দটা ভেস্তে না দিলেই পারতেন। এটা কথা ছিল না।”

“ পার্টি রাখা হবে,সেখানে বিয়ের এনাউন্সমেন্ট হবে,এটাও কিন্তু কথা ছিল না।
তাও হচ্ছে। কিছু বলেছি এ নিয়ে?”
আইরিন আর কথা খুঁজে পেলো না। মুখ কালো করে বসে রইল। তবে ভেতর ভেতর তুশির প্রতি চাপা রাগটা গাঢ় হলো আরো। খুব সেজেগুজে আসা হয়েছে না,একটা সুযোগ আসুক শুধু। সবার সামনে এমন নাস্তানাবুদ করবে,কেঁদে কূল পাবে না।

নাসীরের আম্মা আসেননি। শুধু ওনার বড়ো বোন,আর তার পরিবার এসেছে। তবে ইউশা আর তুশির চোখ কপালে গিয়ে ঠেকল রোকসানার সাজসজ্জা দেখে। এতদিন ছেড়া ফাঁটা জিন্স আর টপসে দেখে আসা নারী,আজ একটা কালো শাড়ি পরেছেন। চুলটা খোলা, মুখে ভারি সাজ। ইউশা ফিসফিস করে বলল,
“ ফুপিকে দেখেছ তুশি, বিদেশ থেকে এসে যা রঙ দেখাচ্ছিল,শ্বশুর বাড়ি এসেই ভোল পালটে ফেলেছে।”
তুশি মিটিমিটি হাসল। রোকসানার তক্ষুনি ওর দিকে চোখ পড়ল। সাথে সাথে বললেন,
“ হোয়াট দ্য হ্যেল,
তুমি হোয়াইট কেন পরেছে? পার্টির থিম কালো শোনোনি? হোয়াইট তো শুধু সার্থদের জন্যে।”
এইত, এই ভয়টাই পাচ্ছিল তুশি। মুখ কাচুমাচু করে ও ইউশাকে দেখল। সে বলল,
“ মেজো ভাইয়াও তো কালো স্যুট পরেছে ফুপি।”
“ সেটা পরের কথা। তুশি কেন থিম অনুযায়ী ড্রেস পরেনি? তোমার মা দেখেনি এসব? কোথায়,কোথায় ছোটো ভাবি কোথায়?”
তুশির ভেতরটা গণগণ করে উঠল। এখন ওর জন্যে মা কথা শুনবেন নাকি!
ভুল তো ওর,মায়ের নয়। তুশি এইবার স্পষ্ট ভাবে বুঝল সার্থর ওকে এই গাউন দেয়ার মানে। এখন মা কথা শোনাচ্ছে,এরপর মেয়ে শোনাবে একে একে সবাই শোনাবে সেজন্যেই বুঝি ইচ্ছে করে এমন করলেন উনি? নিজে সারাদিন অপমান করে হয় না, এখন ইনিয়েবিনিয়ে লোক ভাড়া করেছে।

“ তোমার মা তুশিকে কথা শোনাচ্ছেন, যাও।”
আইরিন অবাক হয়ে বলল,
“ আমি গিয়ে কী করব?”
“ গিয়ে বলবে ,তুশিকে সাদা গাউন পরতে তুমি বলেছ।”
আইরিন আকাশ থেকে পড়ল,
“ কীহ?
আমি পারব না।”
সার্থ বলল,
“ তাহলে আমি এক্ষুনি পার্টি রেখে বেরিয়ে যাব। তখন যে বেইজ্জতিটা তোমাদের হবে,আই থিংক সেটা হজম করতে পারবে।”
“ আপনি আমাকে ব্লাকমেইল করছেন, সার্থ ভাই?”
“ করছি আইরিন। তুমি তো জেনেশুনেই ব্লাকমেইলড হচ্ছো। আমাদের মধ্যে কিন্তু কোনো লুকোচুরি নেই। যাবে কিনা,সেটা বলো!”

আইরিন উঠে দাঁড়াল,
“ যাচ্ছি।”

রেহণূমা ডাক শুনে এসে দাঁড়ালেন। কিছু বুঝতে না পেরে বললেন,
“ কী হয়েছে রোকসানা, এভাবে ডাকছো কেন?”
“ ভাবি প্লিজ,এখানে অন্তত সানা বলে ডাকো। আর তোমার মেয়ে…”
তক্ষুনি আইরিন এসে দাঁড়াল। ছটফটিয়ে বলল,
“ মাম্মাম মাম্মাম,তুশির দোষ নেই। ওকে হোয়াইট গাউন আমি দিয়েছিলাম।”
রোকসানা অবাক হয়ে বললেন,
“ কী বলছো কিউটি,তুমি! কিন্তু কেন? এটা তো তুমি তোমাদের জন্যে স্পেইশাল থিম করলে।”
তুশি তাজ্জব হলো। চোখটা ঝাপটাল দুবার। ইউশা,রেহনূমা দুজনেই ভীষণ চমকে গেলেন। আইরিন কিছু দেবে তুশিকে?
আইরিন বলল,
“ সার্থ ভাই তো হোয়াইট স্যুট পরবেন না বলেছিলেন। ভাবলাম আমি একা হোয়াইট পরে ঘুরব,তাই একটা গাউনের পিস তুশির জন্যে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। কী তুশি,নিশ্চয়ই তোমার খুব পছন্দ হয়েছিল? হবেই তো,আমাদের দুজনের পছন্দই তো এক।”
শেষ লাইন চিবিয়ে চিবিয়ে বলল মেয়েটা। তুশি স্তব্ধের ন্যায় চেয়ে রইল। রোকসানা আর কথা বাড়ালেন না। কিন্তু মুখ দেখে বোঝা গেল,মেয়ের কাজে বেজায় চটেছেন তিনি।
ইউশা হাঁ করে বলল,
“ এই ড্রেস তোমাকে আইরিন আপু দিয়েছে তুশি? আমাকে বললে না কেন?”
তুশির নিজেরই সব প্যাঁচ বেঁধে গেল। ওই চিরকুটে তো সার্থর মতো করে লেখা ছিল সব। সার্থর সেই “ এ্যাই চোর” ডাক। সেজন্যেই তো এত অভিমান সত্ত্বেও আজ বেহায়া বনে গিয়েছিল মেয়েটা। ওসব তবে ওনার দেয়া ছিল না?
আইরিন কি ওনার নাম করে পাঠিয়ে মজা নিয়েছিল? কিন্তু ওর বিছানার ওপর কীভাবে রাখবে! ডাইনিটা তো বাড়িতেই ছিল না।
তুশি আর ভাবতে পারল না। মাথা এলোমেলো হয়ে গেল। আজ যদি কেউ এই মূহুর্তে ওকে একটা জাদুর কাঠি দিয়ে বলতো ও কী চায়, তুশি নির্ঘাত ওর সেই আগের জীবন ফেরত চাইত। চাইত আবার সেই বস্তির চোর হয়ে থাকতে। এই অশান্তি, এই যন্ত্রণা,এই মানসিক টানাপোড়েন আর সহ্য হচ্ছে না,আর না।

জামিল পার্টিতে এসেছে মাত্র। সোজা এসে এখানেই ভিড়ল। বড়ো প্রফুল্ল স্বরে বলল,
“ হ্যাল্লো এভ্রিওয়ান,হোয়াটস আপ?”
এই ছেলেকে রোকসানার ভীষণ মনে ধরেছে। আইরিন সার্থ সার্থ না করলে কিছু একটা নিশ্চিত ভেবে ফেলতেন। খুব গদগদ হয়ে বললেন,
“ আরে জামিল,এসছো বেটা? আমি তোমার কথাই ভাবছিলাম।”
জামিল দ্বিগুণ গদগদ হয়ে বলল,”
“ আওও, সো সুইট অফ ইউ আন্টি। আপনাকে তো আজ একেবারে জীবন্ত ফুল মনে হচ্ছে। এখানে এত এত বাচ্চা মেয়ে অথচ সৌন্দর্যে আপনাকে কেউ বিট করতে পারবে না। সাচ আ ন্যাচারাল বিউটি।”
সবাই মাথা নুইয়ে ঠোঁট টিপে হাসল। রোকসানা খুশিও হলেন,লজ্জাও পেলেন। বললেন,
“ যাহ, কী যে বলো না! এই এই ওয়েটার জামিলকে এখানে ড্রিংকস সার্ভ করো।”

“ না আন্টি,এক্ষুনি এসব ড্রিংক্স ফ্রিংক্স নয়। আমি আসলে সার্থকে খুঁজছি । মিস আয়োডিন হোয়ার ইজ সার্থ?”
আইরিন ফুঁসে উঠল,
“ আমার নাম আইরিন।”
“ ওপ্স সরি,সরি।”
আইরিন মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল। রোকসানাও গেলেন কোথাও একটা। এতক্ষণে সুযোগ পেয়ে হুহা করে হেসে উঠল ইউশা। হাসির আওয়াজে ধ্যান ছুটল তুশির। ফিরে চেয়ে বলল,
“ কী হয়েছে?”
জামিল নিজেও হাসছিল। উত্তরে বলল,
“ মিস আয়োডিনের মেজাজটা খুব গরম বোধ হয়। অল্পের জন্যে পুড়ে যাইনি।”
“ আয়োডিন! সেটা আবার কে?”
“ আইরিন আপুর কথা বলছে।”
ফিক করে হেসে ফেলল সেও। জামিল বলল,
“ বাই দ্য ওয়ে,ইউশা ইউ আর লুকিং সো গর্জিয়াস। এতদিনে মনে হচ্ছে সেই আগের ইউশাকে দেখছি।”
“ থ্যাংকিউ,ভাইয়া।”
জামিল এক পল থেমে পকেট থেকে একটা ছোটো প্যাকেট বার করল। এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ দিস ইজ ফর ইউ।”
ইউশা একটু চমকায়। এক বার তাকায় তুশির পানে। কিছু বলার আগেই বাক্সটা হাতে ধরিয়ে দিলো জামিল। খুব তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বলল,
“ সার্থকে খুঁজে আসি। পরে কথা হবে।”
ও গেল,আর ক্রস লাইন কেটে একই পথ দিয়ে হেঁটে এলো
অয়ন। ব্যাপারটা দেখে বলল,
“ কী দিয়েছে?”
ইউশা কাঁধ উঁচাল,
“ কী জানি!”
অয়ন নিজেই প্যাকেট নিয়ে নিলো।
খুলল টেনেটুনে। ভেতরে পাথরের ব্রেসলেট দেখে বলল,
“ ব্রেসলেট, তোকে কেন দিলো?”
“ আমি কী করে বলব?”
অয়ন ভ্রু কুঁচকে একবার জামিলের যাওয়ার পথে দেখল। ইউশা বলল,
“ তোমাকে বলেছিলাম তুশির সাথে থাকতে। তুমি কেন এদিক ওদিক যাচ্ছ?”
অয়ন তুশির দিকে চেয়ে বলল,
“ আমি সাথে থাকতে চাইলেই হবে? হাত ধরলেই সে মোচড়াচ্ছে।”
“ আসলে, ও তোমাকে প্রথম থেকে এরকম নজরে দেখেনি তো তাই ওর অস্বস্তি হচ্ছে। সময় দাও ঠিক হয়ে যাবে।”

চারদিকে ছড়ানো ছিটানো লোকজনের মাঝে সার্থকে খুজে পাওয়া মুশকিল হলো বটে। সে দাঁড়িয়ে ছিল পুলের কাছে। সাউন্ডসিস্টেম এখানেই বসানো। চারপাশের নীল-সবুজ লাইটিং,আর বাতাসে ঘুরে বেড়ানো সফট মিউজিকের সাথে হঠাৎ-ই পেছন থেকে এসে পিঠে চাপড় মারল জামিল।”
“ হ্যান্ডসাম বয়,এখানে কী করছিস? ”
“ কখন এলি?”
“ মাত্র। কী খাচ্ছিস?”
“ জুস।”
“ মদ খাচ্ছিস?”
“ বললাম জুস।
“ জুসের ভেতর মদ খাচ্ছিস?”
সার্থ কটমটিয়ে তাকালে, হেসে ফেলল জামিল। পরপর কপাল কুঁচকে বলল,
“ কী রে,তুই ব্লাক সু..
সার্থ কথা টেনে নিলো,
“ ফর গড শেইক এই প্রশ্ন আর করিস না। শুনতে শুনতে কান ধরে গেছে।”
“ কান আবার কে ধরল?”
সার্থ বিরক্ত হয়,
“ জামিল!”
জামিল ফের হাসল। চাপা গলায় বলল,
“ তুশিকে দেখলাম। ঝাক্কাস লাগছে ভাই। তোর কপাল দেখে আমার হিংসে হয়। এক্স,প্রেজেন্ট সব একেকটা…
আবার ইউশা, ওতো পুরো…
মাঝপথেই সার্থ কড়া গলায় বলল,
“ ভুলেও আমার বোনের দিকে নজর দিবি না জামিল। আমি কিন্তু তোকে খুব ভালো করে চিনি।”
“ তোর বোন বোন,আর অন্যের বোন বোন নয়? তুই যে ইউশার বোনের দিকে নজর দিয়ে রেখেছিস,তার বেলা? বেচারি তুশি, নিজের স্বামীর শ্বশুর বাড়ির পার্টি দেখতে এসেছে। এই কপাল আমার শত্রুরও না হোক,তবে তোর হোক।”
সার্থ কিছু বলতে গেলেই অয়ন এসে দাঁড়াল। থেমে গেল ওরা।
“ ভাইয়া তোমাকে খুঁজছে সবাই। এখন কেক কাটা হবে।”
“ কীসের কেক?”
জামিল বলল,
“ কেক তো ডিমের হয়। কেন, তুই জানিস না?”
সার্থ রেগে তাকাল। অয়ন হাসল,বলল
“ আরে, এমনি কাটছে। চলো তো।”

একটা উঁচু চার কোণা কেক ঘিরে সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্থ আসতেই রোকসানা বললেন
“ এসো, বেটা এসো। তোমার আর আইরিনের জন্যে কেক এরেঞ্জ করেছি। সবাই মিলে আনন্দ করব,এটুকু বাদ যাবে কেন!”
সার্থর চেহারায় অঢেল বিরক্তি। যেন না পারছে কিছু বলতে,না পারছে কথা মতো চলছে। বেচারার মুখ দেখে জামিল মিটিমিটি হাসল। থুত্নী ঘষতে ঘষতে গুনগুন করল,
“ আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি মাইনকার চিপায়।”

সার্থ চোখ রাঙাল। তারপর গিয়ে দাঁড়াল এক পাশে। ক্ষুরধার দৃষ্টি সাথে সাথে গিয়ে ঠেকল তুশির ওপর। মেয়েটা হাস্যহীন ঠিকই,তবে ভীষণ স্বাভাবিক একটা মুখ। এই যে একইসাথে সার্থ আর আইরিন কেক কাটবে,কেকের গায়ে লেখা ❝ কাপল টু বি…❞
এসব যেন খুব সাবলীল ব্যাপার-স্যাপার। বাকি প্রতিটা মানুষ যেভাবে দাঁড়িয়ে আছে,সেও ঠিক একইরকম ভিড়েছে এখানে। মেয়েটার এই নিষ্পৃহতা,এই নিরুৎসাহিত হাবভাবই সার্থ নিতে পারে না। আইরিন ছুরি এগিয়ে দিলো,
“ ধরো।”
তুশির দিকে ক্ষিপ্ত চোখ রেখেই ছুরিসহ আইরিনের হাতের কব্জি ধরল সে। পোচ বসাল সেই একইরকম ওর দিকে চেয়ে৷ অথচ ঠোঁট টেনে হাসল তুশি। নির্লিপ্ত চোখে বাকিদের সাথে তাল মিলিয়ে হাত তালি দিলো। সার্থর চোখা নাক ভীষণ রাগে ফেঁপে উঠল আরো।
চেতে টেতে কী করবে বুঝল না। এক টুকরো কেক তুলেই আইরিনের মুখে ঠুসে দিলো সে। জামিল দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়ল দুপাশে,
“ শালা নিজের জালে নিজেই প্যাঁচাচ্ছে। এখন লেজে গোবরে হ।”
কেকের পালা মিটল। নাসীর বললেন,
“ তাহলে ভাইজান, ঘোষণাটা দিয়ে দেই?”
শওকত মাথা নাড়লেন। মেয়ে আর সার্থকে দুপাশে নিয়ে মধ্যমণি হয়ে দাঁড়ালেন নাসীর।
খুব প্রফুল্ল স্বরে ঘোষণা দিলেন,
“ সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, আপনারা হয়ত জানেন না আজ একটা বিশেষ কারণে আমি এই পার্টিটা রেখেছিলাম। আসলে,আমার একমাত্র মেয়ে আইরিনের সাথে আমার স্ত্রীর বড়ো ভাই সাবেক মেজর শওকত আলীর মেজো ছেলে সৈয়দ সার্থ আবরারের বিয়ে ঠিক হয়েছে। ও কিন্তু একজন এ এস পি। এই অল্প বয়সে দু দুবার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অবধি পেয়েছে।”
পাশ থেকে অনেকেই বললেন,
“ হ্যাঁ ওনাকে তো রুস্তমের ছেলের কেস থেকেই চিনি।”
নাসীর গর্বের সাথে বললেন,
“ তাহলে ভাবুন, এমন একজন বীর আমি মেয়ের জামাই হিসেবে পেয়ে কতটা আনন্দিত!”
তনিমা এক পল তুশির পানে চাইলেন। তুশির মাথা নিচু। দেখে মনে হচ্ছে, সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। কিন্তু তিনি বোঝেন,ভেতর ভেতর নিশ্চয়ই কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা! অন্তত একটু হলেও সার্থর জন্যে মেয়েটার পাগলামি, ছোটাছুটি আর ছটফটানি তো দেখেছেন তিনি।

একই সময় সার্থও আড়চোখে তুশির পানে দেখল। ঐ মেদুর চেহারার অন্ধকার দেখে ক্রুর হাসিটা ওষ্ঠপুটে ছুটে এলো অমনি।
“ কষ্ট হচ্ছে? কষ্ট পাও তুশি,কষ্ট পাও।
তুমি কষ্ট না পেলে আমি যা চাইছি তা হবে কী করে?”
তার নজর ফিরল শওকতের আওয়াজে। হঠাৎ-ই হাত বাড়িয়ে ডাকলেন,
“ অয়ন, তুশি এসো,তোমরা দুজনও এসো।” তুরন্ত সার্থর মুখ কাঠের মতো শক্ত হয়ে গেল। অয়ন- তুশি দুজনেই আস্তেধীরে গিয়ে দাঁড়াল ওনার পাশে। শওকতের বামে তুশি,ডানে অয়ন। অয়নের পাশে আইরিন,তার পাশে নাসীর,নাসীরের অন্যপাশে সার্থ ছিল।
শওকত বললেন,
“ খুশির খবর কিন্তু একটা নয়,দুটো। আসলে ঐ একইদিনেই আমার ছোটো ছেলে সৈয়দ অয়ন আবসারের সাথে আমার একমাত্র ভাই সাইফুল ইসলামের ছোটো মেয়ে মেহরিন রহমান তুশির বিয়েও ঠিক করা হয়েছে। আজ আপনাদের উপস্থিতিতেই আমরা আগামী ১৫ই ডিসেম্বর ওদের এনগেজমেন্টের ডেট ফিক্সড করছি।
বুঝতেই পারছেন,দু দুটো বিয়ে। কাজেই আনন্দও দ্বিগুণ। আপনারা কিন্তু সবাই নিমন্ত্রিত! প্লিজ আসবেন,ভালো লাগবে আমাদের।”
হাত তালি ফের আরেকবার পড়ল। প্রায় সবার মুখে রংবেরঙের হাসি। শুধু হাসল না তিনটি মানুষ। পকেটে দুই হাত ভরে আরো কঠিন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল সার্থ। যদিও সে হাসে কম, তবে এই মূহুর্তে তুশি আর ইউশার মতো দুটো উচ্ছ্বল মেয়ের হাস্যোজ্জ্বল চেহারা একটা ভ্যাপসা বাতাস তার পাখায় বেঁধে উড়তে উড়তে কোথাও একটা উধাও হয়ে গেল। না চাইতেও চোখ টলমল করে উঠল ইউশার। তাকাতে তাকাতে জলের তোড়ে অয়নের স্ফূর্ত মুখ আস্তেধীরে ঝাপসা হয়ে অশ্রুটা গড়িয়ে পড়ল গালে।
নাসীর ওপাশে গিয়ে সার্থকে আইরিনের পাশে আনলেন। শওকত সরে গিয়ে তুশিকে দিলেন অয়নের পাশে।
কত জন ‘মেইড ফর ইচ আদার’ বলে বলে মুখে ফ্যানা তুলল। আইরিন পারল না আনন্দে লাফিয়ে চড়িয়ে গলে যেতে। রোকসানা মেয়েকে দেখে দেখে তৃপ্তির হাসি টানলেন ঠোঁটে। অয়ন এক ফাঁকে তুশির হাত চেপে ধরল। ফিসফিস করে বলল,
“ ফাইনালি,তুশি ফাইনালি তুমি আমার হচ্ছো।”
তুশির টু শব্দ নেই। রোবটের মতো চিবুক নামিয়ে রাখল সে।
দ্রুত শ্বাস টানতে টানতে গাউনের এক পাশ এক হাতের মুঠোয় খামচে রাখল কিছুক্ষণ। তারপর কী ভেবে মাথা তুলে এক পল পাশ ফিরে চাইল। সার্থর তীক্ষ্ণ নজর অয়নের ওই হাত থেকে উঠে এসে আস্তেধীরে এসে পড়ল তার মুখে। পাষন্ড মানুষটার ভেতর কী হচ্ছিল তুশি জানে না,তবে ওর হৃদয় গুমড়ে উঠল বিবশ কোনো ব্যথায়। বুক তোলপাড় করা কান্নাটা গলায় এসে দাঁড়াল। জমতে জমতে ওরা
স্রোতের প্রতিকূলে ভাসতে ভাসতে বলল,

“ আমার দরজায় খিল দিয়েছি,
আমার দারুণ জ্বর!
তুমি অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো ঘর।”

চলবে…
এখনো রোমান্স নাই এই সেই, মিল হয় না কেন,আর পড়ব না অমুক সমুক বলা পাঠকগুলা ভাই আমার গল্প থেকে একটু দূরে থাকেন। আগে মন দিয়ে লিখতে দিন। কাহিনী না গুছিয়ে,ঠাস করে রোমান্স দেয় কীভাবে? এটা কি মাফিয়া বস-টস নিয়ে লিখছি,যে জোরজবরদস্তি করে সব দিয়ে দেবো? সব কিছুর একটা নির্দিষ্টতা আছে। সেটুকুর জন্যে ধৈর্য না থাকলে আপনারা আপাতত দূরে থাকুন। 😑

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here