কথা_দিলো_রোদ্দুর (২২) #তুসিকা

0
1

#কথা_দিলো_রোদ্দুর (২২)
#তুসিকা
এই অসময়ের একদমই অনাকাঙ্খিত বৃষ্টিতে সবাই যেন বেকুব বনে গেল। বৃষ্টি প্রথমে টুপটুপ করে পড়লে ও মুহূর্তের মধ্যেই তা যেন আকাশ ভেঙে নামতে শুরু করলো। গোধূলির নরম আভাস টা মুছে চারদিক ধূসর রং ধারন করলো। উপস্থিত সকলেই হতবিলম্ব হয়ে দৌড়ে পাশে থাকা চায়ের দোকানের দিকে ছুঁটল। দুই টা খুপরি চায়ের দোকান আর একটা ছোট মুদি দোকান সহ তিনটা দোকান থাকলেও বড় মুদি দোকান টি বন্ধ। তাই বাকিরা অন্য একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে ও সাম্য, ফাহা, অর্থি, আর ইমরান পেছনে থাকায় তারা ছোট যে চায়ের দোকান সেটিতে বৃষ্টিতে ঠেলে যায়।

বৃষ্টি দেখে বাকি সবার খুশি হলেও অর্থি একদমই খুশি হলো না,, ফাহা তো হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছোঁয়, সঙ্গী থাকলে হয়ত বৃষ্টিতে ভিজতো। কিন্ত অর্থির কাছে একদমই ভালো লাগছে না,, তার তো ইচ্ছে হচ্ছে বাসায় গিয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে। আর গরম গরম চা খেতে। কিন্ত এই বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত তো যেতে পারবে না। তাই নিরশ চোখে বাইরে দিকে তাকিয়ে রইল। সাম্যের অযাচিত এই বৃষ্টি ভালো লাগলেও হঠাৎই অর্থির কথা মাথায় আসতে তার দিকে তাকালো। আর সামান্য বিরক্ত ও হলো। মাথায় থাকা বৃষ্টির পানি হাত দিয়ে ঝেড়ে বলল;

—” দূরও ঝড় তুফান ইবে আইবের আর সময় ন ফাইয়ি। কি সুন্দর এক্কান বিকাল উফভোগ করিত ফারিতাম। বৃষ্টি ইবে আইয়েনে সব মাডি খরি দিইয়ি। আর খফাল ইবেই খারাফ।

সাম্যের মুখে এমন আঞ্চলিক ভাষা শুনে তার পাশে দাঁড়ানোর ফাহা ভ্রু জোড়া সংকুচিত করে তাকে জিজ্ঞেস করলো;

—” ভাইয়া আপনি মাত্র কি বললেন!

সাম্য ভ্রু কুঁচকে বলল;
—” কোনটা!

–”এই যে বললেন, তুফান নিয়ে! ওটা কি আপনাদের চট্টগ্রামের ভাষায় বললেন,, আচ্ছা আপনি নিজের ভাষায় কথা খুব কমই বলেন তাই না।

সাম্য হেসে বলল;
—’ হ্যাঁ,, আমাদের আঞ্চলিক ভাষা আরকি। আর সবার সামনে বলি না কারন অনেকে বুঝতে পারে না তাই।

ফাহ উৎসুক হয়ে বলল;
–’ আমার তো বেশ লাগে! শুনতে ই কি যে ভাল লাগে,, আমাকে একটু শিখাবে ভাইয়া। এই ভাষায় যদি আমি কাউকে গালি ও কেউ ধরতে পারবে না। কি মজা তাই না। আমাকে একটু বলবে ভাইয়া।

সাম্য মাথা নাড়লো,, তবে তার মাথায় একটু দুষ্ট বুদ্ধি আসলো। আর ভাবলো তারা তো কাল চলেই যাবে হয়ত অর্থির সাথে আর তেমন দেখা হবে না তাই এই সুযোগের থেকে মহান সুযোগ বোধ হয় আর পাবে না। তাই ফাহা কে বলল;
—” আচ্ছা আমি তোমাকে এখনি শিখাতে পারবো। দেখবে প্রথমে আমি একদম আঞ্চলিক ভাষায় বলবো তারপর তোমাকে সহজ করে শেখাবো কেমন।

ফাহা উৎসাহ নিয়ে বলল;
—” হ্যাঁ ভাইয়া, একদম ঠিক আছে,, এই অর্থি আপু তুমি শুনবা,, দেখ ভাইয়া আমাকে চট্টগ্রামের ভাষা শিখাবে।

অর্থি র এমনিতেই বৃষ্টি হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে না, তারপর চট্টগ্রামের ভাষা তার কাছে চুং চাং এর মতো চাইনিজ এর মতো লাগে তাই সে না সূচক মাথা নাড়ল। কিন্ত সাম্য মুচকি হেসে বলল;

—” দেখ ফাহা আমি যেমন এখন অর্থির সাথে কথা বলবো,, মানে ওর সাথে কথোপকথন করবো। তো দেখ—- এরপর সাম্য অনেক দ্রুত বলল;
অর্থি তুয়ই গম আছনে,, তোয়ার লগে ফয়ইল্লা দেখাত আর তুন ক্যান জানি লাইগ্গি ,মনে অয় আই তোর মায়ায় পড়ি গেইয়ি এহন এত হতা না হই বাজি মেইন হতা হই,, হুনন আই তোয়ারে বহুত বালা ফাই। বিশ্বাস ন করি বে কিন্তু সত্যি খতা ইবে আইয়ে দে আই তোয়ারে বহুত বালা ফাই তুয়ার লাই আর পেট ফুরের । তোয়ারে অন্য খনিক্কার লগে দিখিত ন ফারি । ও বাজি এক্কারে হাছা খতা ফারিশ ইবের লগে তোয়ারে দেখিলে মনত অয় ইতের গেডি ইবে মুছরাই দেয়।তুইয় তো আর মনের খতা ন বুঝদ্দে। কি গরিতাম আই ইবা খয় দো এক্কানা ।আর তুন এত জ্বালা সহ্য ন অর রাতিয়ে ঘুম ন অর দিনে পেডত ভাত ন যার । আই কিত্তাম খই দো চাই,,

ফাহা তো ছিলই অর্থি ও তার এমন কথায় হা হয়ে তাকিয়ে আছে। সাম্য এতক্ষণ কি বলছে তাদের মাথার উপর দিয়ে গেছে। তাই ফাহা জিজ্ঞেস করলো;

—” ভাইয়া তুমি কি বলেছো!

সাম্য ঠোঁট চেপে হেসে বলল;
—” মানে হলো অর্থি তুমি কেমন আছো, তোমাকে দেখলাম অনেকদিন হলো,, ফারিশ কেমন আছে,, তোমাকে দেখে ভালো লাগছে। সময় থাকলে আমাদের বাসায় এসো। আমরা অনেক মজা করবো। যদি তুমি আমাদের বাসায় না আসো আমি কিন্ত মনে অনেক কষ্ট পাবো।

ফাহা একটু চিন্তা করে বলল;
—” ওও,,,, আচ্ছা সমস্যা নেই। আপনি বলেন আমি চেষ্টা করবো।

বৃষ্টি জোরেই পড়ছে,, বড় বড় গাছ গুলো হেলে দুলে পড়ছে, বেশ ঠান্ডা একটা পরিবেশ। তাই সময়টা কাটানোর জন্য সাম্য ফাহা কে চট্টগ্রামের ভাষায় শুধু ভালো আছে কি না, দিনকাল কেমন যাচ্ছে, বাসার সবাই কেমন আছে,, এই টুকু ই শিখালো। তবে সাম্য খেয়াল করে দেখলো ইমরান তার পাশে এসে তার দিকে কেমন করে দাঁড়িয়ে আছে। আর বার বার আড়চোখে সাম্যের দিকে তাকাচ্ছে। এটা দেখে সাম্য ইমরান কে আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো;

—” কি হয়েছে, তুই এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস কেন।

ইমরান দুষ্ট হেসে সাম্যের কাঁধে চাপড় দিয়ে বলল;
—” ও বাজি ত’লে ত’লে দেখি টে’ম্পু তুমিও চালা ও আর দোষ হয় এই ইমরানের তাই না। আমি তোমারে ভালা পাই। এর মনে ওরা না বুঝলেও আমি তো বুঝি সাম্য…. তা কয়দিন ধরে চলে এসব। আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল তুই অর….

বাকি কথা বলার আগে সাম্য ইমরানের পেটে খোঁচা দেয়। ফাহা আর অর্থির থেকে একটু দূরে গিয়ে সাম্য বলে;
—” আরে কি করছিস,,,, জেনেছিস ভালো কথা মুখটা একটু বন্ধ রাখ মামা। এখনো কিছুই হয়নি শুধু নিজের ভালো লাগাটা একটু প্রকাশ করছি। আর হবে কিনা তাও সন্দেহ আছে।

—” কেন, পছন্দ করিস যখন বলে দে। এভাবে লুকিয়ে রাখলে লাভ কি বল।

—” তুই বুঝবি না। জানিস না ভালোবাসা গোপনে সুন্দর। আর অর্থির পার্সোনালিটি যেমন মনে হয় ও এসবে রাজি হবে, তাই মানা শোনার থেকে ভালো নিজের মনেই রাখি।

ইমরান একটু ভেবে বলল;
—” আচ্ছা সাম্য তুই ওদিন ফারিশ কে ভয় দেখিয়েছিস অর্থির কারনে তাই না।

সাম্য বোকা হেসে মাথা নাড়ল। আর ওর কথায় ইমরান ওকে বলল;

—” ঠিক আছে মানছি সব কিন্ত হালকা ট্রাই তো করতেই পারিস। দাড়া আমি ফাহা কে আমার সাথে কথায় ব্যস্ত রাখছি তুই অর্থির সাথে কথা বলার চেষ্টা কর। আয়….

—” আরে না,,, থাক…

—” আরে আয়,, তোর জায়গায় আমি হলে এতক্ষণে পটিয়ে ও নিতাম। চার নম্বর গার্লফ্রেন্ড চলে গেলে এখন পাঁচ নম্বর টার অপেক্ষায় আছি,,, আর তুই সামান্য বাচ্চা মেয়েটার সাথে কথা বলতে পারছিস না। শেম অন ইউ।

এই বলে ইমরান এগিয়ে গিয়ে ফাহা র সাথে কথা বলায় ব্যস্ত রাখলো ওকে। আর সাম্য পেছন থেকে অর্থির পাশে এসে এক হাত দূরে এসে দাঁড়ালো। কি বলবে প্রথমে ভেবে পেল। এমনিতে তো সারাক্ষণ কথার ফুল ঝুড়ি ফুটে মুখে। দুবার সবার অজান্তে অর্থিকে নিজের মনের কথা ও বললো। কিন্ত এখন হঠাৎ তার কি হলো কে জানে সে চুপ করে অর্থির পাশেই দাঁড়িয়ে রইল। দেখতে লাগলো হালকা করে। সাম্যের মনে হয় এই কথা বলা থেকে এভাবে নিরবে দেখাতেই একটা শান্তি আছে। একটা ভালো লাগা আছে। তাই ইমরানের কথা সাম্য আসলেই শুনলো না। আর বৃষ্টি ঝাপটা যখন খানিক টা কমে আসলো তখন তারা সবাই আবার একত্রিত হয়ে হালকা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো।

সবাই তখন প্রায় কাক ভেজা হয়ে আছে,, সবারই তাড়া বাড়ি কখন পৌছাবে, বড় রা হয়ত চিন্তা করবে। কিন্ত হাসি মজা একটু কমলো না। সবাই এক সাথে তাল মিলিয়ে ই হাটছে। তবে সাম্য একটু চুপ হয়ে গেছে,, তার নিজের মতোই গুন গুন করছে। এটা দেখে তানভীর তাকে বলল;

—” সাম্য একটু জোরেই গান ধর ভাই,, তোর গান শুনতে শুনতে বাকি রাস্তা আরামে কাটিয়ে নেব।

সবাই তখন তানভীরের কথায় হ্যাঁ মেলালো। আর সাম্য ও এতক্ষণ ধরে গুনগুন করা গানটা গাইল।
তুমি না ডাকলে আসবো না,
কাছে না এসে ভালো বাসবো না।
দূরত্ব কি ভালো বাসা বাড়ায়,
নাকি চলে যাবার বাহানা বাড়ায়।
দূরের আকাশ নীল থেকে লাল,,
গল্প টা পুরোনো, ডুবে ডুবে ভালোবাসি।
তুমি না বাসলে ও আমি বাসি।

গান শেষ হবার পর, বাকি রাস্তা তারা জোরে জোরেই হেঁটে বাড়ি পৌছালো। শারমিন বেগম তো ফাহা কে অনেক বকা দিল। তার জন্যই সবাই বেরিয়েছিল, তাই বকা টা ফাহা র উপর ই পড়ল। অর্থ ঘুমিয়েছিল বলে তাকে নিয়ে যায়নি তাই সে ও তাদের উপর ভীষণ রেগে ছিল। তারা আসলে ও সে কারো সাথেই কথা বলেনি।

মুসাব আর সাম্য জামা কাপড় পাল্টে আসলে দেখে অর্থ তাদের রুমে মুখ থোঁতা করে বসে আছে। মুসাব বিছানায় গা এলিয়ে অর্থ কে টেনে এনে জিজ্ঞেস করে সে এমন মুড অফ করে বসে আছে কেন। প্রথমে তো অর্থ কিছুই বলল না, এরপর মুসাব অনেক করে বলার পরই অর্থ বলল;

“”তোমাকে আমাকে নিয়ে যাও নি, একা একা ঘুরে এসেছো,, জানো আমার কতো খারাপ লেগেছে। আর বেশি খারাপ লেগেছে বাসায় থেকে।

মুসাব বলল;
–’ আরে তুমি তো ঘুমাচ্ছিলে তাই ডাকিনি,, কিন্ত বাসায় থেকে তোমার খারাপ লেগেছে কেন?

মুসাবের কথায় অর্থের মুখটা যেন আরো চুপসে গেল। সে দু হাত গুছে গাল ফুলিয়ে রাখলো,, আর মুসাব কে বলল;

—” আমার আপুর বিয়ে হয়ে যাবে জানো,, শয়’তানটা আমাদের বাসা ছেড়ে খালামনিদের বাসায় চলে যাবে।

অর্থ মুখ থেকে শোনা এই কথা যেন মুহুর্তেই নীল বি’ষের মতো প্রতিক্রিয়া করলো রুমে থাকা সাম্য আর মুসাবের শরীরে। সাম্য বড় একটা হা নিয়ে চোখ বড় বড় করে অর্থের দিকে তাকিয়ে রইল। অর্থ কি আসলেই সত্যিই বলছে তার জন্য এবার সাম্য হাতে থাকা টাওয়াল টা নিয়ে অর্থ র কাছে বসলো। তাকে জিজ্ঞেস করলো ব্যাপার টা। আর অর্থ ও কান্না মিশ্রিত কন্ঠে তাদের বলল সবটা। অর্থ তখন সেখানে ছিল বলে তাদের কিছু কিছু কথা শুনতে পেয়েছে। আর বড় খালামনি সাজেদা বেগম কিভাবে ফারিশ ভাই আর তার আপুর বিয়ে টা ঠিক করবে সেটা ও বলেছে।

কথা শুনে সত্যিই সাম্যের পুরো শরীরে বি’স্ফো’রণ হলো যেন, সে কি আসলে ঠিক শুনেছে। না ঠিকই শুনেছে, এই তো অর্থ নিজের মুখে তাকে বলেছে তাহলে এটা মিথ্যে নয়।

সাম্যের যেন এবার পুরো গা ছেড়ে দিল, চোখের কার্নিশে জল টলমল করছে, চোখ বড় বড় করে নিচ্ছে বারবার যেন পানি নিচে না গড়িয়ে পড়ে। তখন আবার ইমরান রুমে আসলো,,

ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে সে আবার ফোনে চলা “তুমি অন্য গ্রহের চাঁদ” গানটি গাইছে। কিন্ত মুসাব আর সাম্যের এমন চেহারা দেখে সে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে। কিন্ত অর্থ র সামনে তো কিছু বলা যাবে না তাই মুসাব কায়দা করে অর্থ কে বলে;

—” দেখো অর্থ এই খবরটা কি তুমি আর কাউকে বলেছো,,
অর্থ মাথা নাড়ল,, তখন মুসাব আবার বলল;
—” গুড, দেখো তুমি যদি বেশি বেশি কথাটা কাউকে জানাও বিয়ে কিন্ত সত্যি সত্যিই হয়ে যাবে, তাই তুমি কাউকে বলো না ঠিক আছে,, আর কাউকে বুঝতে ও দি ও না ব্যাপার টা তুমি জানো। এখন হাসি খুশি থাকো আর কষ্ট করে আন্টিকে একটু বলবে আমাদের জন্য যেন একটু চা করে দেয়।

অর্থ মুসাবের কথায় মাথা নাড়ল, আর রুম থেকে বেরিয়ে গেলে ইমরান জিজ্ঞেস করলো ব্যাপার কি হয়েছে। তখন মুসাব বলে অর্থির বিয়ে নাকি ফারিশের সাথে ঠিক করবে সাজেদা বেগম।

—” একদম ঠিক হয়েছে,, বললাম আজকে সুযোগ আছে কথা বল,, নিজের মনের কথা অন্তত জানা,, না তখন আমার কথা শোনেনি,, আরো বলেছে ভালোবাসা গোপনে ই সুন্দর। এখন বুঝ শা’লা।

ইমরানের কথার পিঠে মুসাব বলল;
—”আর কি গান গাইছিলি যেন ডুবে ডুবে ভালোবাসি। হ্যাঁ তুই ভালোবাসতে গিয়ে ডুবে। আর তোর থেকে ছোট ফারিশ অর্থি কে বিয়ে করে সংসার করুক।

—” আমি কি জানতাম নাকি এই কান্ড হবে,, কত কিছু ভেবে রেখেছি,, আমার সব প্ল্যানে পানি ঢেলে দিল সাজেদা খালা।

সাম্যের কথায় ইমরান বলল;
—” এখন মনে হয় ওদের বিয়েটা হয়েই যাবে,, কারন তারা নিজেরা নিজেরা,, সবাই রাজি হলে বিয়ে দেখবি কিছুদিনের মধ্যেই হবে।

এই কথা শুনে সাম্যের যেন নাক ফুলে উঠলো, এতদিন ব্যাপার টা সে সিরিয়াস নেয়নি,, তার মতোই গা ছাড়া মনে করেছিল ব্যাপার টা। মুসাব কত করে বলতো, কিন্ত সে আরো হেসে উঠিয়ে দিত। কিন্ত এখন ওর বিয়ের কথা শুনে কেন যে বুকে হঠাৎ ব্যাথা করছে। মনে হচ্ছে শ্বাস বুঝি এখুনি বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে তখনই মুসাব বলল;
—” আমার জানা মতে ফারিশের প্রেমিকা আছে, তোকে বললাম না সাম্য। আর আজ যখন ফারিশের সাথে কথা বলেছি তখন ও বলল আমাকে ও ওর প্রেমিকা কে ভীষণ ভালোবাসে,, সব ঠিক থাকলে ওরা নাকি বিয়ে ও করবে। তাহলে….

চলবে।

( ভাষায় যদি ভুল মনে হয় দুঃখিত)

প্রথমে আসি চট্টগ্রামের ভাষায় সাম্যের প্রোপোজ টা। আমার নিজেরই এত ভালো লেগেছে,, এর জন্য আমার মিষ্টি একজন পাঠিকা “” কাজল আপুকে” অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপু কে এক বার বলায় উনি কি সুন্দর চট্টগ্রামের ভাষা টা লিখে দিল আমাকে। এমন আরো অনেক পাঠিকা আছে আমার। ওরা কি ভালো মাশাল্লাহ।

এখন আসি গল্পে,,
আজকে একদিনে সাম্য কে দুটা শকড দিলাম,, পরের পর্বে পুরো পরিবার কে বড় ধরনের একটা শকড দেব। আপনারা সবাই তৈরি থাকবেন কিন্তু। আর যারা রেসপন্স করছেন না তারা একটু রিয়েক্ট করবেন। আর কমেন্ট করবেন। আপনাদের মতামত পড়তে আমার ভীষণ ভালো লাগে।
আর বেশী বেশী রিয়েক্ট করলে দেখলে পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দিয়ে দেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here