#কথা_দিলো_রোদ্দুর (২৪)
#তুসিকা
অর্থিদের বাসার পরিবেশ টা এখন বেশ থমথমে, সবাই উপস্থিত আছে লিভিং রুমে। সাজেদা বেগম মাথায় আইস ব্যাগ দিয়ে রেখেছেন ফারিশের এমন কান্ডে। আর হাশেম সাহেব ফারিশের দিকে র’ক্ত চক্ষু নিয়ে বারবার তেড়ে যেতে নিলে জাবের সাহেব তাকে আঁটকাচ্ছে আর শান্ত হতে বলছে।
আর এসবে সবার মাঝে আরশিয়া আর ফারিশ দাঁড়িয়ে আছে। আরশিয়া মাথা নিচু করে রাখলেও ফারিশ এক হাত বাম গালে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। না বোঝার আর কিছুই নেই কিছুক্ষণ আগে হাশেম সাহেব তার গালে কষিয়ে একটা চড় মেরেছে। চড় জোরেই পড়েছে যার আওয়াজ হয়ত এখনো ফারিশে কানে বাজছে।
এখন আরশিয়ার পাশে থাকায় কান্নাতে পারছে না,, আগে না হয় প্রেমিকা ছিল, কিন্ত এখন তো তার বিয়ে করা বৌ। এত বড় ছেলে বাবার হাতে চড় খেয়ে কাঁদলে মান সম্মান সব তেনা তেনা হয়ে যাবে। তাই চড়ের দাপট টা জোরে হলেও দাঁত চেপে সহ্য করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাজেদা বেগমের কথা শুনছে।
অবশ্য কথা বললেও কম হবে,, এক প্রকার গা’লি’গালাজ করছে। সাজেদা বেগমের মেজাজ যে গরম হয়ে আছে তাতে তিনি তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললেন;
—” জা’নোয়ার পোলা,, একদম বাপের গুষ্টির মতোই হয়েছে,,, আমার মানসম্মান সব নষ্ট করে দিয়েছে,,, বাপের গুষ্টি যেমন কোনোদিন আমার কথার দাম দেয় নি, তেমনি ছেলেটা ও হয়েছে তাই। এই জা’নোয়ার ছেলে তোর মাথায় এসব কে দিয়েছে বল, আর এত বড় ডিসিশন একা একা নিয়েছিস আমাদের কি চোখে মানুষ লাগে না।
এই বলে সাজেদা বেগম ফারিশের দিকে তেড়ে যেতে নিলে রেবেকা বেগম তার হাত আঁকড়ে ধরেন। তখন সাজেদা বেগম মেজাজ হারিয়ে কিছু অকথ্য ভাষা বলেন ফারিশ কে।
যা নির্বিকারে হজম করে নিচ্ছে ফারিশ। আর বারবার সাম্য, মুসাব, অর্থির দিকে তাকাচ্ছে।
মুসাব কে আরশিয়ার ব্যাপারে বলার পর সে বলেছে যদি কোনো প্রয়োজন হয় তবে তারা ফারিশ কে সাহায্য করবে,, তাই তো
আজ সাম্য আর মুসাবের সহায়তায় আরশিয়া কে নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। আর তাদের বিয়ের প্রথম সাক্ষী ই দেয় সাম্য, মুসাব, নাঈম এরা তিন জন। আর অর্থি কে আরো অনেক আগে তো বলেছিল,, তাই এরা সবাই জানে আজ যে ফারিশ আরশিয়া কে কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করবে।
কিন্তু তারা কেউ ই তাকে সাহায্য করতে আসছে না সাজেদা বেগমের ভয়ে। সবাই সাজেদা বেগম আর হাশেম সাহেবের রাগের উপর আর কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না ।
তখন সাজেদা বেগম ফারিশের দিকে তেড়ে আবারো ও বললেন;
—” এই তুই এই মেয়ে কে যেখান থেকে নিয়ে এসেছিস ওখানে রেখে আস! তার পর তোকে দেখাচ্ছি পালিয়ে বিয়ে করার মজা। কত শখ করে ভেবে রেখেছি ছেলেকে নিজের পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে দেব কিন্ত আমার সব পরিকল্পনার উপর পানি ঢেলে দিল এই মেয়ে।
এই শয়তান আমার ছেলের উপর কি কালা যাদু করছোস,,, যা বেরিয়ে এ বাসা থেকে। এই ফারিশের বাপ যা ও কাজী ডেকে আনো, এই মেয়ের সাথে ফারিশের তা’লাক দিয়ে এখুনি আমি ওকে আবার বিয়ে দেব অর….
বাকি কথা শেষ করার আগে রেবেকা বেগম তাকে এক পাশে টেনে আনলেন আর বললেন;
“”আপা এখন এসব কথা বলে কোনো লাভ নেই, শুধু শুধু অশান্তি আরো বাড়বে। আর ফারিশ একটা কাজ করে ফেলেছে এখন এটা তো তুমি অস্বীকার করতে পারবে না, তার চেয়ে বরং শান্ত হয়ে সবটা সামলানোর চেষ্টা করো।
সাজেদা বেগম তেঁতে গেলেন, আর তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন;
—” কি সামলানোর চেষ্টা করবো রেবেকা,, দুদিন বাদে ওর সাথে অর্থির বিয়ে ঠিক করেছিলাম,,, জাবের তো রাজিই হচ্ছিল না ফারিশের সাথে অর্থির বিয়ের কথা শুনে। যাও তোর দুলাভাই এর কথায় সম্মতি দিল, এখন বাঁদর ছেলে এমন একটা কান্ড করে বসলো। আমি এখন জাবেরের সামনে কোন মুখে দাঁড়াবো বল। কিভাবে নিজের দেওয়া কথা খেলাপ করবো বল!
—”আপা যা হবার তা তো হয়েই গেছে,, আর আমাদের ও তো ভুল হয়েছে,, আমরা যদি আগেই ওদের পছন্দ জেনে বিয়ের কথা বার্তা শুরু করতাম তাহলে এমনটা হতো না। আর ফারিশের পছন্দ আছে তা না জেনে যদি ওদের বিয়ে টা করিয়ে দিতাম ভবিষ্যতে কি হলো চিন্তা করতে পারছো আপা!
রেবেকা বেগমের কথায় সাজেদা বেগমের রাগটা কমলো না,, উল্টো রাগের পরদ টা বেড়ে গেল,, আর এতে সামনে এসে ফারিশের অন্য গালে চড় দিয়ে বললেন;
—” রেবেকা আমি ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করছি না। কিন্ত ও এখন যা করলো আমার মান সম্মান কোথায় থাকলো চিন্তা করছিস। আমরা বাবা মা আমাদের কি কোনো অধিকার নেই ছেলে মেয়েদের নিজের পছন্দে বিয়ে করানোর। তাই আমি যা বলছি তাই হবে,,, এই ফারিশের আব্বা কি হলো এখনো বসে আছো,, বলছি না কাজী ডাকো,, আমি আবার ফারিশের সাথে অর্থির বিয়ে দেব। আর এই মেয়েকে তো আমি কিছুতেই মানবো না।
সাজেদা বেগমের কথায় যেন পুরো ঘরে বজ্রপাত হলো,, বিশেষ করে ফারিশ, আরশিয়া, অর্থি আর সাম্যের উপর ই তা যেন পড়ল। তারা অবাক হয়ে সবার দিকে তাকালো। এতক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলেও ফারিশ এবার বুঝলো ইদানীং তার মা কেন অর্থির ব্যাপারে বারবার জিজ্ঞেস করছিল,, মাহিয়া ভাবী কেন বারবার অর্থির সাথে তাকে দেখলে হাসতো। কিন্ত সে অর্থি কে শুধু ই নিজের বোন মনে করে,, আর অন্য সম্পর্ক তো দূরে থাক।
তাই ফারিশ এবার মুখ খুলল, তার এইসব নিয়ে খুব কথা কাটাকাটি হলো তাদের মাঝে। শেষমেষ না পেরে ফারিশ অর্থি কে উদ্দেশ্য করে সাজেদা বেগম কে বললেন;
—” তুমি যার জন্য বিয়ে মানো না বলছে ,, সেই অর্থি শুরু থেকে আমাদের সম্পর্ক টা সবটা জানে। আর আজ যে আমরা বিয়ে করবো সেটা ও অর্থি জানে। আর বিশেষ কথা অর্থি আমার নিজ বোনের মতো,, ওকে আমি নিয়ে আমি অন্য কিছু কোনোদিন ভাবিনি। তাহলে তোমরা কিভাবে ভাবলে।
এদিকে সাম্যের যেন অস্থির লাগা শুরু করলো,, সে তো জোর দিয়ে কিছু বলতে ও পারবে না,, যার জন্য ফারিশের বিয়েতে সাহায্য করেছে এখন কিনা সেই মেয়েটিকে নিয়ে আবার টানাটানি শুরু হলো। তাই অস্থিরচিত্তে সোফায় বসা হাশেম সাহেবের সাথে গিয়ে বসলো। এমনিতেই তার প্রেশারের সমস্যা আছে, তার উপর এসব কান্ডে তার যেন মাথা ঘুরছে। তাই তিনি সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে।
—” আঙ্কেল! বলছি কি বিয়ে যখন হয়ে গেছে, তখন এত ঝামেলা করে তো লাভ নেই,,
সাম্যের এমন ফিসফিসে কথায় হাশেম সাহেব তার দিকে তাকালেন,, মুখের ভাব পরিবর্তন হয়েছে বটে তবে নড়েচড়ে বসে বললেন;
—” আমি কি করবো বলো,, চড় দুটো দিয়েছি এতেই আমার প্রেশার উঠে গেছে,, আর ওর আম্মা যা ক্ষেপেছে, আমার কথা জীবনেও শুনবে না।
সাম্য আবারো মিনমিনে কন্ঠে বলল;
“”দেখুন ফারিশের তো বিয়ে হয়েই গেছে,, এখন যদি আরশিয়া র সাথে ওর জোর করে ছাড়াছাড়ি করিয়ে দেন তাহলে মেয়েটা কোথায় যাবে বলেন। আর একটা কথা তো জানেন ই না,,
—” কি কথা!!
—” ফারিশ যে টাকা কাবিন বেঁধে বিয়ে করেছে,, এখন ছাড়াছাড়ি হলে তা সবটাই আপনাদের দেওয়া লাগবে,, আর মেয়ের বাপ তো কোন এক উপজেলার কাউন্সিলর। এখন যদি এভাবে তা’লাক দিতে চান তবে মেয়ে যদি পুলিশ কেস করে তখন। আর একটা কথা ভেবে দেখেন ওরা বিয়ে করেছে ঠিকই, কিন্ত কোনো অঘটন না ঘটিয়ে সোজা আপনাদের কাছেই এসেছে,, কিন্ত আপনারাই এখন এমনটা করছেন,, কিভাবে হবে বলুন,,
হাশেম সাহেব সাম্যের কথা শুনে তার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকালো,, হতচ্ছাড়া টা বুঝি আর কোনো মেয়ে পেল না,, সোজা কাউন্সিলর এর মেয়েকে নিয়েই বুঝি পালালো! এসব নিজেই বিরবির করে হাশেম সাহেব সাম্য কে বলল;
—” সবই বুঝলাম,, ফারিশের আম্মু শান্ত হলে না হয় বুঝিয়ে বলবো সবটা,, কিন্ত কাবিন কতো ধরেছে।
—” বেশি না আঙ্কেল বি’শ লাখ।
—” কি…. আমার জমানায় আমি বিশ হাজার দিয়ে বিয়ে সেরেছি,, আর শয়’তান টা সোজা বি’শ লাখ বেঁধেছে। এই টাকা কি ওর বাপের নি উসুল করবে।
—” না জানি আঙ্কেল! কিন্ত ভেবে দেখবেন অর্থির সাথে শুধু বিয়ে কথা বলে নিজেদের ভেতর সমস্যা না বাড়িয়ে ফারিশ আর আরশিয়া কে মেনে নিন। দেখবেন সকলে সুখে থাকবে, কারো দুশ্চিন্তা হবে না। রাস্তা একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আরে কিছু বলে সাম্য হাশেম সাহেবের কাছ থেকে উঠে গিয়ে আবারো মুসাবের পাশে দাঁড়ালো। ফারিশ কে আরো কয়েকটা বাঁশ দিলে তার কি যে ভালো লাগতো। কিন্ত এখন ফারিশের নামে কিছু বললে দেখা যাবে হিটে বিপরীত হবে, তাই বেশি কিছু বলল না।
তবে অর্থি তাদের বারবার দাঁড়িয়ে আছে,, চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে এসব ঘটনায় সে অবাকের থেকেও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সবার দিকে।
তবে ফারিশ আর সাজেদা বেগমের কথা যেন বেশি বাড়াবাড়ি না হয় তাই জাবের সাহেব তাদের শান্ত হতে বলেন,, জাবের সাহেব বিচক্ষণ মানুষ তিনি যৌক্তিক কথা দিয়ে আপাতত সাজেদা বেগম কে চুপ করায়,, আর বলেন;
—’ আপা দেখেন, এটা কখনোই হয় না,,, ফারিশ যেভাবেই হোক বিয়ে করেছে,, নিশ্চয়ই তার কোনো সমস্যা ছিল, না হলে ফারিশ তো এমন ছেলে নয় বলুন।
এরপর জাবের সাহেব আরো নানা কথাই বলেন,, এ ও বলেন অর্থির সাথে তো ফারিশের বিয়ে কথা চলছিল ঠিকই, কিন্ত তিনি অর্থির অনুমতি ছাড়া কখনো এই বিয়েতে সম্মতি দিত না,, তাই এই বিষয় নিয়ে আপাতত কেউ যেন কথা না বলে,, এমনিতেই ফারিশ বিদেশ চলে যাবে, তার আগে যেন তারা ওদের মেনে নেয়।
জাবের সাহেবের কথা শুনে অন্য দের ভাবভঙ্গি পরিবর্তন না হলে ও সাম্যের ভেতর কেমন যেন প্রশান্তি কাজ করছে,,, সাজেদা বেগম যখন বলেছিল “এই ফারিশের আব্বা কাজী ডাকো অর্থির সাথে আমি ফারিশের আবার বিয়ে দেব” তখন যেন সাম্যের হালকা করে হা’র্ট এর্টা’ক করবে এমন মনে হয়েছিল। কিন্ত এখন ঠিক লাগছে,, মাথা থেকে যেন একটা বোঝা নেমে গেছে। ( সবাই আমার পেইজ তুসিকা তে রেসপন্স করবেন প্লিজ) তাই শান্ত চোখে এবার অর্থির দিকে তাকালো। অর্থির ও কি হলো হঠাৎই চোখ পড়ল সাম্যের দিকে। আর তখনই দুজনের চোখ এক হলো।
অর্থি তো তাড়াতাড়ি মাথা নামিয়ে নিল,, তার হঠাৎই কেমন বুকের ভেতর শব্দ করে উঠল সাম্যের এমন চাহনি দেখে,, মনে হলো বুকের ভেতর কেউ যেন হাতুড়ি পিটিয়ে গেল। আর ওই দিনের কথা ভেবে তো অর্থির গাল কেমন লাল নীল হয়ে উঠল।
তবে জাবের সাহেব আরশিয়া কে নিয়ে রুমে যেতে বললে কোনো দিক না তাকিয়ে রুমে চলে গেল।
—” ভাবী তুমি খালামনির কথায় রাগ করো না,, খালামনি কিন্তু মানুষ অনেক ভালো,, হয়ত ফারিশ হঠাৎ করে এমন করাতে একটু রাগ দেখাচ্ছে, কিন্ত শান্ত হলে দেখবে তোমাকে ঠিকই মেনে নেবে।
আরশিয়া হাসলো,, সে জানতো এমন কিছুই হবে, তাই সে প্রস্তুত ই ছিল। তাই অর্থি কে সে বলল;
—” তোমার ভাইয়ের উপর আমার বিশ্বাস আছে অর্থি, তাই তো এক কাপড়ে তার সাথে সংসার করার জন্য বেরিয়ে এসেছি। আমি জানি তোমার ভাই ঠিক সবটা ম্যানেজ করে নেবে।
আরশিয়ার কথায় অর্থি কিছুটা স্বস্তি পেল,, তবে বিচলিত হয়ে আবার বলল;
—” আচ্ছা ভাবী তুমি মনে কষ্ট নিও না,, বড়রা যে ভেতর ভেতর ফারিশের সাথে আমার বিয়ে নিয়ে এত কিছু ঠিক করে রেখেছে তা আসলে আমরা কেউ জানতাম না,, আর ফারিশ সে শুধু আমার নিজ ভাইয়ের মতোই।
আরশিয়া আবারও হাসলো,, আর বলল;
—” একটা ব্যাপার কি জানো অর্থি! কাল আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে হবার কথা ছিল! সে অনুযায়ী আজ হলুদ। তাই তো ফারিশের হাত ধরে আমি পালিয়েছি। আর জানো পার্লার থেকে ওই মামাতো ভাই ই আমাকে ফারিশের সাথে পালাতে সাহায্য করেছে।
আরশিয়ার কথায় অর্থি আরো অবাক হলো,, এবার বুঝলো, ফারিশ কেন বিয়ে নিয়ে এত জোর দিচ্ছিল। তবে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার টা। যার সাথে বিয়ে ঠিক হলো সেই নাকি আরশিয়া কে পালাতে সাহায্য করলো। এত চিন্তার মাঝে কেমন হাসি পেল অর্থির। তাই তো আরশিয়া কে কমম্ফোট ফিল করানোর জন্য বলল;
–’সময় কে একদিন বলবে কাহিনী টা। কিন্ত আগে ফ্রেশ হয়ে আসো,,
এই বলে অর্থি আরশিয়া কে নিজের একটি জামা দিল। আর তাকে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলল! এর মাঝে আবার গুটি গুটি পায়ে তার কাছে মিষ্টি আসলো। অর্থিদের বাসায় সে অনেক আগেই এসেছিল,, সবার যে চেঁচামেচি করছে সে সব টাই দেখলো। তাই অর্থি রুমে এসেছে দেখে সে তার রুমে এসে তাকে জিজ্ঞেস করলো;
—” আচ্ছা আপু! আজকে ফারিশ ভাই কে সবাই এত বকেছে কেন! ওই কি খারাপ কিছু করছে!
অর্থি মিষ্টিকে বলল;
–” ফারিশ ভাই কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেছে তাই সবাই তাকে বকা দিয়েছে।
একটু ভেবে মিষ্টি বলল;
–” কেন আপু, বিয়ে করা বুঝি খারাপ! তাহলে কখনো আমি বিয়ে করবো না। তবে আমি তোমাকে বিয়ে দেব ভীতুরানী!! তোমার লাল টুকটুকে একটা বর হবে দেখবা!
মিষ্টির কথায় অর্থি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালো,, এই ডাকটা একজনই তাকে বলে,, তাই অর্থি মিষ্টিকে বলল;
—” মিষ্টি তোমাকে এই ডাকটা কে বলতে বলেছে! সাম্য ভাই বলেছে!
—” না আপু,, কেউ বলেনি,, তুমি যে ভয় পাও! এই ডাকটা ই তোমার সাথে ভালো লাগে বুঝেছো!
এই বলে মিষ্টি রুম থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেল, অর্থির আর বুঝতে বাকি রইল না,, সাম্য ই মিষ্টিকে শিখিয়েছে ভীতুরানী বলতে।
____________
বাসার পরিবেশ শান্ত হয়েছে,, তবে গম্ভীর ভাব এখনো রয়েছে,, ফারিশের কাবিনের টাকা নিয়ে একদফা চোটপাট হয়েছে,,
তাই তো আরশিয়া কখন তাদের বাসায় এসেছে অর্থি সাহস করে তার জন্য নাস্তার কথা বলতে পারছে না। তার উপর সাম্য, মুসাব, নাঈম এরা এখনও বাসায় আছে,, জাবের সাহেব তাদের রাতের খাবার খেয়ে যেতে বলেছেন, তাই সামনের রুমে যে যেতেই পারছেন না। কিন্ত এখন তো তার নিজেরই হালকা খিদে পেয়েছে তার আরশিয়া হয়ত অনেক ধরেই খালি পেটে আছে। তাই ওড়না মাথায় নিয়ে গেল সামনের রুমে। ফারিশ নেই, তবে বাকি সবাই সামনের রুমেই আছে। অর্থি তাড়াতাড়ি সেখান থেকে রান্না ঘরে গেল। রেবেকা বেগম তখন রান্না করছিল! অর্থি কে দেখে তিনি বললেন সাম্যদের যেন চা বানিয়ে দিয়ে আনে।
অর্থি ও আর কি করবে,, সবাই জন্য চা করলো, আরশিয়া আর তার চা টা আলাদা করে রেখে। বাকিদের চা নিয়ে সামনে গেল।
প্রথমে খালামনি আর খালু কে রুমে চা দিয়ে এসে সাম্য মুসাব নাঈম আর অর্থ কে চা দিল। সাথে নাস্তা দিল।
মুসাব জিজ্ঞেস করলো চা কি সে তৈরি করেছে নাকি,,, পারফেক্ট হয়েছে। চা খাওয়ার জন্য হলেও একটি বার অর্থিদের বাসায় আসা দরকার।
অর্থি মাথা নাড়ল। আর চলে আসতে নেবে তখন সাম্য হালকা গুন গুন করল;
” মধু হই হই বি’ষ হাওয়াইলা, হন হারনে ভালোবাসার দাম ন দিলা।
চলবে।
জানাবেন কেমন হচ্ছে,,, আপনাদের কমেন্ট গুলো দেখলে ভীষণ ভালো লাগে,, আর দুঃখিত গল্প দেরী করে দেওয়ার জন্য। গল্পের জন্য আপনারা রেসপন্স করবেন। তাহলে আমি তাড়াতাড়ি গল্প দেব। আর যদি মনে হয় না ঠিক ভাবে লিখতে পারছি না তার জন্য অগ্রিম দুঃখিত।
আর ভালোবাসা রা একটু কমেন্ট করুন তো দেখি,,, আমি চেষ্টা করি সবার কমেন্টের উওর দিতে তাই লজ্জা পাবেন না কিন্ত। আর যে কোনো প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন সব কিছুর উওর দেব আজ। আর আমার পেইজে সবাই রেসপন্স করবেন। কষ্ট করে লিখে যদি অন্য পেইজ গুলো তা কপি করে গল্পে ভিউ পায় তখন কি যে কষ্ট লাগে।

