#কথা_দিলো_রোদ্দুর (৫)
#তুসিকা
বিয়ে বাড়ি থেকে অর্থির যাওয়ার খবরটা গুটি কয়েকমানুষ ছাড়া আর কেউ তেমন জানে না,, এই যেমন ফারিশ নিজেও জানতো না, সে ফারিন থেকেই শুনেছে। দুপুরে যখন সবাই বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হচ্ছিল তখন সবাই কে দেখলে ও ফারিশের যখন অর্থিকে নজরে আসলো না তখন সবাই কে জিজ্ঞেস করলে ফারিন ই বলে;
—” ভাইয়া অর্থি আপু তো বাসায় চলে গেছে, তার কলেজে কি কাজ ছিল তাই ফুফা এসেই তাকে নিয়ে গেছে।
এইকথা শুনেই ফারিশ রাগারাগি করছে, তার মায়ের কাছে গেল জিজ্ঞেস করতে, সাজেদা বেগম ফারিশ কে একই কথা বলেন।
—” ও চলে গেছে, আর তোমরা আমাকে এখন বলছো, ও যখন যাচ্ছিল তখন বললে তো আমি ই ওকে নিয়ে যেতাম, আবার আমি ওকে সাথে করে নিয়ে আসতাম।
ফারিশের কথা শুনে তার মা সাজেদা বেগম বলেন;
—”ওরা তাড়াহুড়োয় বেরিয়ে পড়েছে, আর তোকে কি বলবো তুই তো তখন ঘুমাচ্ছিলি।
—” উঠাই দিতা, অন্তত অর্থি বিয়েতে থেকে বৌভাত কাটিয়ে যেত।
ফারিশের এমন কথায় সাজেদা বেগম চুপ রইল।আজই সাজেদা বেগমের বড় ছেলে লাবিব এসেছে। লাবিবের কাজ থাকা হলুদে না আসতে পারায়, বউ বাচ্চা কে নিয়ে সে বিয়ের দিনই আসলো। তাই নাতি নিয়ে সাজেদা বেগম মত্ত রইল। ফারিশের কথার কোনো উওর করলেন না।
অথচ অর্থিই সাজেদা বেগম কে বলেছে তারা বাসার উদ্দেশ্য রওনা হবার দুই তিন ঘন্টা পর যেন ফারিশ তার যাওয়ার কথাটা জানতে পারে, নাহলে ফারিশ সে যে পাগলাটে, অর্থিকে নিতে চলে যাবে।
কারন আগের বারে লাবিব ভাইয়ের বিয়েতে অর্থি যখন বিয়ে শেষ করে চলে যায়, আর ফারিশ যখন জানতে পারে অর্থি বৌভাতে থাকবে না, তখন ফারিশ ওতটা পথ জার্নি করে অর্থিদের বাসায় গিয়ে অর্থিকে নিয়ে আসে।
তাই আগের বারের অভিজ্ঞতা থেকে অর্থি সাজেদা বেগম কে বলতে মানা করে,, আর সাজেদা বেগম ও অর্থির কথা রাখে।
তবে ফারিশের মতো অন্যরা ও মাত্রই জেনেছে অর্থি বিয়েতে থাকবে না। তারা ও হয়ত জানতো না, তবে ফারিশের মাধ্যমেই জেনেছে,, আর সামান্য একটা ব্যাপারে যে ফারিশ এতটা রিয়েক্ট করছে এটা দেখে তারা একটু অবাক হয়।
কিন্ত ফাহা, ফারিন এরা আগে থেকে জানতো, অর্থি যখন চলে যাবে তখন তারা ছিল ওখানে। আর জানতো সাম্য।
তাই সবাই যখন যে যার যার মতো চলে যায় সাম্য এগিয়ে আসে ফাহার কাছে, ফাহাকে জিজ্ঞেস করে অর্থি কেন চলে গেল? সাম্যের এমন প্রশ্নে ফাহা বলল;
—” আপুর কলেজে কি আছে বলল, তাই তো ফুফা এসে আপুকে নিয়ে গেল,,
—”ওওও, আর আসবেনা,
সাম্যোর কথায় ফাহা এতকিছু মনে না করেই বলে;
—”সবাই তো আপুকে বলল কিন্ত মনে হয় আপু আর আসবে।
—”ওও, আচ্ছা তোমার আপুটি কি সব সময় এমন চুপচাপ থাকে,, না কাল দেখলাম সবাই যেখানে নাচ গানে মেতে আছে সেখানে ও চুপচাপ এককোণায় বসে আছে। এমন ও মানুষ আছে।
—” না আপুর সাথে মিশলে বুঝো যায় আপু কিন্ত খুব ফ্রেন্ডলি, কিন্ত কিছু কিছু কারনেই আপু একটু চুপচাপ হয়ে থাকে।
ফাহার কথায় সাম্য মাথা নাড়লো, আর মিনমিন স্বরে বলল;
–”বুঝলাম,, আচ্ছা তোমার আপুর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট আছে, থাকলে দাও, হলুদে যে ছবি গুলো তুলেছি ওগুলো সরাসরি ওর ফোনে দিব,,
—” আচ্ছা,, বলেই ফাহা অর্থির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট টা দিল সাম্য কে।
এর মাঝে আবার সাম্য কে ডাকতে মুসাব আসে, সবাই তৈরি হয়ে গেছে, কিন্ত সাম্যের জন্য তাদের দেরী হচ্ছে তাই। কিন্ত সাম্যের সাথে ফাহা কে দেখে এবার মুসাব ও জিজ্ঞেস করে অর্থির কথা।
—” তোমার আপু এভাবে চলে গেল যে,,
মুসাবের প্রশ্ন শুনে সাম্য ভ্রু দ্বয় কুঁচকে তার দিকে তাকায় কিন্তু ফাহা আবারো ও বলল;
—” আপুর কলেজে কাজ ছিল ভাইয়া। তাই চলে গেছে।
মুসাব হয়ত আরো কিছু প্রশ্ন করতো, কিন্ত তার আগে ফাহার ডাক পড়ে যাওয়ায় আর কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে না,,
______________
অর্থিরা বাসায় পৌছায় দুপুর দেড়টার দিকে, তারা বারোটায় ই পৌঁছে যেত, কিন্ত রাস্তায় জ্যাম পড়েছে তাই দেরী হয়ে যায়,, তাই জাবের সাহেব অর্থিকে বাসায় রেখে আবার চলে গেলেন কাজের জায়গায়,, অর্থি অনেক বলল তিনি যেন খেয়ে যায়, কিন্ত তাড়াহুড়োয় জাবের সাহেব চলে যান,, সাধারন একটি অফিসে কাজ করেন তিনি, তাই ধরা বাধা নিয়মের বাইরে যেতে পারেন না।
মধ্যবিত্ত মানুষের এই বুঝি লড়াই, পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফোটানোর পায়তারা করে সব সময়, জাবের সাহেব ও পিছিয়ে নেয় সেদিকে,, কম মাইনেতে চাকরি করলে ও নিজের স্ত্রী, সন্তানের মুখের হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন সবসময়।
তাই তো অর্থি যখন খেতে যেতে বলে তখন তিনি অর্থির মাথায় হাত রেখে বলেন;
—”তোমার মা তো ফ্রিজে তরকারি রান্না করে গেছে, তুমি অল্পসল্প যা পারো শুধু ভাত ফুটিয়ে খেয়ে নিও, বাবা আসলে রাতে রান্না করে তখন না হয় একসাথে খাবো,,
অর্থি মাথা নাড়ল,, আর জাবের সাহেব যেতেই প্রথমে গোসল করে ভাত রান্না করল। কিন্ত তার কেন জানি খেতে ইচ্ছে করলো না,, একে তো প্রচন্ড গরম তার উপর বাম পাশে তল”পেটে কেমন হালকা ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। তিন চার মাস ধরেই এমন ব্যাথা হয়, কিছুক্ষণ থাকে আবার ধীরে ধীরে ব্যাথা কমে যায়,,
তাই এখনও যখন হালকা ব্যাথা করছে, হটব্যাগে গরম পানি ভর্তি করে রাখলো পে’টের উপর। এমনটা করলে ব্যাথা একটু হলে ও কমে, একটু হলেও আরাম লাগে।
অর্থি কিছুক্ষণ ওভাবেই শুয়ে ছিল, কিন্ত ফোনের শব্দে উঠে বসে, তার মা রেবেকা বেগম ফোন করেছেন,, তাই রিসিভ করে কানে তুলল আর শুনতে পেল তার মা বলছে;
—”বাসায় পৌছেছিস?? কলেজের কাজ মিটলো তো ঠিক ভাবে,,
কলেজে তো কোনো কাজই ছিল না, ঠিক আর ভুল হবে কি, কিন্ত মাকে তো মিথ্যে বলতে হবে তাই অর্থি বলল;
—'” হ্যাঁ আম্মু, সব ঠিক ভাবে হয়েছে,
কিন্ত পেটে ব্যাথা করার কথাটা আর বলল না, আগে ও যখন পেটে ব্যাথা করেছে তখন সাধারন ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ এনে দিয়েছিল, কিন্ত দুই তিন টা খাওয়ার পর অর্থি আর একটা ওষুধ ও মুখে তুলেনি,,এখন যদি শোনে আবার ও পেটে ব্যাথা করছে তখন চিল্লাচিল্লি শুরু করবেন। তাই অর্থি কিছু বলেনি।
—” আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে,, ও শোন তোর বাবা তো অফিসে চলে গেছে ফোন করেছিল আমায়, তুই খেয়ে নিস,, আর শোন দরজা বন্ধ করে থাকবি, ছাদে গিয়ে বেশি লাফালাফি করার দরকার নেই।
—”আচ্ছা….
রেবেকা বেগম ফোন রাখতেই ফাহা মেসেজ দিল, আর ভিডিও পাঠালো কয়েকটি। ভিডিও টি চালু করতে দেখলো তিশা আপুর বরের এন্ট্রি নিয়ে সবাই মজা করছে,, গেট ধরেছে; মিষ্টি খাইয়ে টাকা দাবী করছে,, আর মজা করে সবাই স্লোগান দিচ্ছে তিশা আপুর বরের উদ্দেশ্য। এসব দেখে অর্থির মুখটা একটু বেজার হলো, তার ইচ্ছে করে এসব আনন্দ মিছিলে থাকতে, সবাই যেমন করে হইহুল্লোর করে তেমন টা করতে, কিন্ত অর্থির শুধু এসব ইচ্ছেই করে,
কিন্ত কিছু মানুষের জন্য তা সম্ভব হয়না। মানুষ কখন কি বলবে, কি ধরনের মন্তব্য করতে তার তো ঠিক নেই। এই যেমন নিপা কাল বলল তার খাওয়া নিয়ে, ইনডাইরেক্টলি তার ওজন নিয়ে।
তাই তিশার বিয়েতে থাকলে ও অর্থি ওই রুমের ভেতরই বসে থাকতো। আর তার অবস্থা দেখে তার মা তাকে বকা দিত সবার সাথে না মেশার জন্য,, তার চেয়ে ভালো ঘরে বসে এসব দেখছে, আর নিজের মতো রিয়েক্ট করছে।
তবে ফাহা ভিডিও কল দিল তাকে,, কথা বলল, ঘুরে ঘুরে সবটা দেখালো,, তিশা আপু আর তার বর যখন কবুল বলল সেই মুহুর্তের দৃশ্য ও ফাহা দেখালে তাকে, ইদানীং ফাহা কেমন নিজে থেকে এসে অর্থি সাথে কথা বলে, নিজে থেকে আবার মেসেজ ও দেয়, অর্থি অবাক হয়না,, বরং তার ভালোই লাগে। ফাহা ও নানা কথাই বলে অর্থির সাথে,,
কিন্ত এর মাঝেই একটি অচেনা আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে, সায়েফ আহমেদ নামে, অর্থির প্রোফাইলে বাগান বিলাসের ছবি দেওয়া, পরিচিত ছাড়া তাকে তেমন কেউ চেনে নাই তাই রিকোয়েস্ট পাঠানো আইডিটি আর দেখলো না। ফাহার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রেখে দিল।
হেলায় ফেলায় বেলাটা ওর ওভাবেই গেল, পেটে আর ব্যাথা করলো না, কিন্ত শরীর দূর্বল লাগলো ভীষণ, তাই জাবের সাহেব অফিস থেকে ফিরলে বাপ মেয়ের মিলে রান্না চাপালো।
জাবের সাহেব হয়ত জানতেন অর্থি সারাদিন কিছু খায়নি তাই আসার সময় তার জন্য চকলেট ড্রাই কেক নিয়ে এলেন,, সেটা খেয়ে রাতের জন্য বাবা মেয়ের রান্না করলেন ডিম আলুর ঝোল আর আলু ভাজা।
এই রান্না টুকু করতেই বাপ মেয়ে গরমে ঘেমেঘুমে একাকার অবস্থা, তবে অর্থি টুকটাক রান্না জানে। তাই রান্না শেষ করে খেতে বসলো তারা।
আর রেবেকা বেগম যে ফ্রিজে মাছের তরকারি রান্না করে গেলেন তাই অল্প একটু গরম করে নিলেন,, খাওয়া শেষে সব গুছিয়ে ঘুমাতে ঘুমাতে সাড়ে এগারো টা তখন। অর্থি শুয়ে শুয়ে ফোন দেখছিল একটু, কিন্ত তখন আবারো ফেসবুকে অচেনা আইডি থেকে রিকোয়েস্ট আসে, তবে রিকোয়েস্ট এর সাথে মেসেজ ও দেয় কেউ,, কিন্ত এবার ও অর্থি দেখে না, ফোন খানা পাশে রেখে শুয়ে পড়ল।
চলবে।
( আচ্ছা এটি একটি সাধারন প্লট নিয়ে লেখা গল্প, কিভাবে লিখছি, কিভাবে কি করছি জানি না, তবে এখন যারা পছন্দ করছেন তারা কি শেষ পর্যন্ত থাকবেন পাশে,, তবে যারা থাকবেন তাদের একদম লাস্ট পর্বের আগের পর্বে একটা সত্য কথা বলবো,
তবে ওটা নিয়ে আপাতত ভাববেন না, যারা গল্প পড়ছেন তারা একটু রিয়েক্ট করুন, নাহলে যে অন্য কারে ফিডে গল্প পৌছাবে না,, তাই এই সামান্য রেসপন্স টুকু করুন,,
আর আমার পেইজ কি আপনাদের সামনে যাচ্ছে? যদি যায় একটি করে কমেন্ট করুন)

