কথা_দিলো_রোদ্দুর (৭) #তুসিকা

0
2

#কথা_দিলো_রোদ্দুর (৭)
#তুসিকা
নিপা গেল তার মা নাশিদা বেগমের কাছে, জিজ্ঞেস করতে কেন মেহেদী রা অর্থিদের বাসায় যাবে। নাশিদা বেগম তখন তিশার শশুর বাড়ির লোকেদের সাথে আলাপ চারিতা করছিলেন। নিপার এমন হন্তদন্ত হয়ে তাকে খোঁজ করাতে তিনি ভীষণ বিরক্ত হলেন। তিশার শশুর বাড়ির লোকেদের বলছেন তার মেয়েরা খুবই শান্তশিষ্ট। কিন্ত এখন যে নিপার এমন রেগে যাওয়া আর তীক্ষ্ণ মেজাজে কথা বলছে এটা দেখলে কি ভাববে!

তাই তিনি চোখের ইশারায় নিপাকে চুপ থাকতে বললেন, আর তিশার চাচি শাশুরি হয় তার সাথে মেয়ের পরিচয় দিতে লাগলেন।

—”আপা এটা হচ্ছে আমার ছোট মেয়ে নিপা, দেখলেন বললাম না মেয়ে আমার মা ছাড়া কিছু বোঝে না! এই যে একটু চোখের আড়াল হয়েছি দেখেন খোঁজ করতে করতে এখানে চলে এসেছে!!

সামনে থাকা ভদ্রমহিলা তাকালেন নিপার দিকে, কি ভাবলেন তার মুখ দেখে কিছু বোঝা গেল না,, তবে নাশিদা বেগম হাসলেন, আর নিপা কে বললো ভদ্রমহিলা কে সালাম দিতে।

নিপা একটু বিরক্ত সহিত ভদ্র মহিলাকে সালাম দিলেন,, আর নাশিদা বেগমকে বললেন তার সাথে আসতে।

নাশিদা বেগম চোখ রাঙালেন নিপাকে, আর ভদ্রমহিলা কে হাসি মুখে ‘আসি বলে নিপাকে নিয়ে সেখান থেকে চলে এলেন। আর ক্ষীণ স্বরে বললেন;

—”এমন আচরণ করে আমার মানসম্মান ডোবাতে চাইছিস, বে’য়াদপ কোথাকার! কি ভাবলেন ভদ্রমহিলা! একটু নরম করম হতে পারিস না সবার সামনে,, যেখানেই যায় নিজের আসল রূপ দেখিয়ে আসতে হবে তোদের? এমন স্বভাবের হলে ভালো সমন্ধ ও ফিরে যাবে।

নিপা বিরক্ত নিয়ে বলল;
—” রাখো তোমার সমন্ধ! আগে বলো মেহেদী ভাইয়েরা অর্থিদের বাসায় কেন যাবে?

—” এইকথা বলার জন্য এভাবে হাঁকডাক করছি! ওরা চট্টগ্রাম যাবে তাই যাওয়ার পথে ওদের বাসায় নামবে, কি হয়েছে তাতে! এমন করছিস কেন!

—”বড় ফুফু রা ও সবাই নাকি যাবে, ওখানে নাকি একটা দিন থাকবে, অর্থি সাথে দেখা হয়নি দেখে মাহিয়া ভাবী নাকি বিশেষ করে ওর সাথে দেখা করতে যাবে। ভাইয়ারা ও যাচ্ছে, আমরা ও যাবো তাহলে!

নাশিদা বেগম ভ্রু দ্বয় সংকুচিত করে বললেন;
—”তোর বড় ফুফু রা ও যাচ্ছে!!……. যাওয়া লাগবে না, তোর ভাইয়া কাজে যাবে তাই যাচ্ছে,,, আর তোর ফুফুরা নিজের বোনের বাসায় যাবে আমাদের বলেছে একবার ও,,, যতই আমাদেরকে আপন আপন করে মুখে বলে বেড়াক সেই আমাদের কে তো কথা শোনাতে একটু ছাড় দেয় না,, তাই যাওয়া লাগবে না।

সাজেদা বেগমের ওই সময়ের বলা কথা গুলো যেন নাশিদা বেগমের মনে এখনো লেগে আছে, তাই সাফসাফ নিপা কে তাদের সাথে যেতে মানা করে দিলো!

মায়ের কথা শুনে নিপা নাক ফোলালো,, অহমিকার পরদ টা আরো একটু বেড়ে গেল, মনে মনে নিপা ভাবলো তিশা আপু দের কে তো দাওয়াত করবে, তখন ওই অর্থিদের একদম শোনাবে না, প্রতিবারের ন্যায় অর্থিকেই তাদের সবার থেকে বঞ্চিত করবে। আর আলাদা করে রাখবে প্রতিবার যেমনটা করে রাখে।

তাই সেই সকলের সাথে আলগা আলগা হয়ে থেকেছে আগের মতোন। যার প্রভাব দেখিয়েছে মাহিয়া ভাবী আর ছোট্ট লুবানের উপর। প্রতিবার তো লুবান কে দেখলেই আদর করে কোলে নেয়, হাটাহাটি করে, কিন্ত তিশার শশুর বাড়িতে যতক্ষণ ছিল ওরা সামনে থাকলে ও ওদের সাথে কোনো কথা বলেনি,,, লুবান ছোট্ট মানুষ, হাত টেনে কয়েক যেতে চেয়েছে কিন্ত সে তাকে ও কোলে নেয়নি। পরে সবাই যখন গ্রুপ করে ছবি তুলেছে ফাহা যখন অর্থির কথা তুলেছে নাক টা আচমকাই ফুলে উঠেছে। আর মনে মনে হয়ত ঠিক ও করে রেখেছে বাসায় ফিরলে ফাহার সাথে কথা বলবে না, এড়িয়ে এড়িয়ে চলবে।

____________

কলেজ শেষ হবার পর রেবেকা বেগম অর্থিকে ফোন করে বলেছে তাদের বাসায় মেহমান আসবে, তাই সে যেন সামনের রুম পরিষ্কার করে রাখে আর লাবিব রা থাকবে তাই একটি রুম যে গুছিয়ে রাখে। লাবিব ভাইয়েরা মানে বড় খালামনিরা ছাড়া আর কে আসবে সেটা সে জানে না,, তাই কলেজ থেকে পা চালিয়ে বাসায় পৌছালো।

আজ কলেজে তার ফ্রেন্ড ফেরদৌস ও আসেনি, তাই কলেজ শেষে প্রাইভেট ও একা পড়েছে। আর সম্পূর্ণ রাস্তা একা এসেছে দেখে মনে হয় একটু তাড়াতাড়ি ই বাসায় পৌছে গেছে। আর বাসায় পৌছেই মায়ের কথা মতো কাজ করেছে,, সাথে নাস্তার জন্য যা যা লাগে হাতের কাছে গুছিয়ে রেখেছে। যেন তারা আসলে মায়ের একটু কষ্ট কমে।

অর্থি ভেবেছিল তারা আসতে আসতে সন্ধ্যা সাতটা আট টা বাজবে কিন্ত তারা মাগরিবের দিকে অর্থিদের বাসায় এসে পৌঁছায়। দরজা খুলে ভাবলো খালামনি রা হবে কিন্ত তানভীর, মেহেদী আর তার বন্ধুরা। অর্থি অবাক হয় সাথে একটু অপ্রস্তুত ও হয়ে পড়ে! ওরা তাদের বাসায় কেন এসেছে এটা আন্দাজ করতে পারলো না অর্থি।

তবে দরজা থেকে সরে অর্থি সালাম জানায়। আর পেছনে দেখে মা, খালা, ভাবী ওরা আসছে। সবাই আসতেই অর্থি রান্না ঘরে গিয়ে সবার জন্য শরবত তৈরি করে। পরে রেবেকা বেগম ফ্রেশ হয়ে আসতেই তিনি ই সবাই কে নাস্তা দেন। অর্থি ও আসে কিন্ত তার কেমন যেন লজ্জা লাগছে। তাই সে মাহিয়া ভাবীর সাথে রুমে চলে যায়।

কিন্ত কিছুক্ষণ পর তার ডাক আসে, সবার ফোন চার্জ দেবে তাই সে যেন মাল্টি ফ্লাগ দিয়ে আসে মেহেদী কে। কথাটি অর্থ ই বলে, আর বলেই আবার ও মেহেদী আর তার বন্ধুদের কাছে চলে যায়। অর্থ র মেহেদীর ওই ফ্রেন্ড গুলোর সাথে ভালোই ভাবসাব হয়েছে, যা তার কথাবার্তার ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আসা থেকে ওদের সাথেই লেগেই আছে, চেঞ্জ ও করেনি।

আর অর্থি অর্থ র থেকেই জানতে পারে তারা বন্ধুরা মিলে সাজেক যাচ্ছে তাই মাঝ পথে তাদের বাসায় বিশ্রামের জন্য এসেছে, নয়টা দশটার দিকে তারা আবার এখান থেকে রওনা দেবে।

এই কথা শোনা মাত্র অর্থি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো।
আর মাল্টি ফ্লাগ টি নিয়ে সামনে গেল। বাকিরা রুমেই আছে, সামনে শুধু ,, মেহেদী, তানভীর, মুসাব, সাম্য, ফারিশ আর ইমরান আছে। তাও কেউ সোফায় হেলান দিয়ে আছে, আর কেউ সোফায় শুয়ে ফোন টিপছে।

অর্থি অবাক হয় এই ছেলে গুলোর এমন এনার্জি কই থেকে আসে,, পুরো একটি বিয়ে বাড়ি কাটিয়ে এখন আবার ট্যুর দিচ্ছে,, অর্থির তো হলুদের দিন যা জেগে ছিল এতেই তার ঘুমের রেশ এখন পর্যন্ত কাটেনি।

অর্থি ভাবলো জিনিস টি দিয়েই চলে আসবে, মেহেদীর মুখের সামনে সে বেশিক্ষণ থাকতে চায়না, মেহেদী তাকে ভুতুম বলে ডাকে তাই। কিন্ত আসার সময় পেছন থেকে মুসাব তাকে ডাকলো।

—”কেমন আছো অর্থি!

মুসাব তাকে নিজে থেকে জিজ্ঞেস করছে, উওর না দিয়ে চলে আসলে কেমন খারাপ দেখাবে তাই অর্থি দাঁড়িয়ে মুসাবের কথার উওর দিল;
—” জ্বি আলহামদুলিল্লাহ,,

—” কলেজে কাজ নাকি শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাহলে তো বৌভাতে যেতে পারতে, যাওনি যে!

এই কথার উওর অর্থি কি দিবে,, বলবে জনসমাগম তার ভালো লাগে না, তাকে যেখানে খারাপ কথা বলেছে সেখানে ইচ্ছের বিরুদ্ধে যেতে চায়না,,, কিন্ত এসব কথা তো বলা যাবে না তাই সে মিনমিন করে বলল;
—” এমনই ভাইয়া!!

তবে ফারিশ ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল;
—”ওর কি সময় আছে এসব সাধারণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার! বিআইপি পার্সন!

এবার অর্থি ফারিশের দিকে তাকালো, আসা থেকে সে তার সাথে কথা বলেনি, তার রুমে গিয়ে তার জিনিস ও এলোমেলো করেনি। কারনটা অর্থি জানে! তিশা আপুর হলুদের দিন ফারিশ তাকে বলেছিল অর্থির সাথে তার ইমপরন্টেন কথা আছে, বিয়ের দিন কথাটা বলবে, কিন্ত অর্থি তো বিয়ের দিনই ফারিশ কে না বলে চলে এসেছে তাই হয়ত রেগে অভিমান করে আছে।

তবে ফারিশের কথায় মুসাব হাসলো; আর অর্থিকে নানা প্রশ্ন ই জিজ্ঞেস করল; অর্থি ও ভদ্র মেয়ের মতো উওর করলো,,

মুসাব মেহেদীর বন্ধু হলেও অর্থি তো কোনোদিন তাদের সাথে কথা বলেনি, আর ইনট্রোভার্ট ব্যক্তিদের বোধ হয় এই সমস্যা অচেনা মানুষদের সাথে কথা বলতেই যেন তাদের বুকে ডিপঢিপ শব্দ করে।
তাই হাসি মুখে কথা বললেও অর্থির ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি হচ্ছিল।

—” পানি হবে!!

মুসাবের কথার মাঝে সাম্য অর্থির কাছে পানি চাইল, তখন অর্থির চোখ যায় সাম্যের দিকে,, ওদের ফ্রেন্ড সার্কেলে সবচেয়ে উৎসুক ব্যাক্তি সাম্য,, কর্নার এ সিঙ্গেল সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে, চোখে মুখে কেমন নির্লিপ্ত ভাব, তবে দৃষ্টি বোধ হয় অর্থির দিকেই ছিল।

কেমন ছোট ছোট চোখ করে তার তার দিকেই তাকিয়েই আছে। সে দৃষ্টি! অর্থিরা যখন তিশা আপুদের বাসা থেকে চলে আসবে তখন ও সাম্য ঠিক এভাবেই ওদের দিকে তাকিয়ে ছিল।

তাই এই দৃষ্টি নজরে আসতে অর্থি সেখান থেকে রান্নাঘরে গেল আর পানি এনে দিল সাম্য কে।

কিন্ত এবার আর সেখানে দাঁড়ালো না, কেউ যাতে পেছন থেকে ডাকতে না পারে তাই ছুঁটে গেল নিজের রুমে। তবে পেছন ফারিশ কি যেন বললো, রুমে আসার কারনে ঠিক তা শুনতে পেল না।

—–

মেহেদী রা বলেছিল নয়টা কি দশটা করে রওনা দেবে, কিন্ত তারা নয়টা বাজার আগেই অর্থিদের বাসা থেকে চলে গেল। জাবের সাহেব অনেক করে বলেছে ফিরতে পথে তারা যেন আবার তাদের বাসায় আসে,, খুব মিশুক ছেলে গুলো তার তো ভীষণ ভালো লাগলো, তাই জাবের সাহেব নিজেই তাদের বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন।

তবে তারা যতক্ষণ ছিলো অর্থি মাহিয়া ভাবীর সাথে ছিল, লুবান ঘুমাচ্ছিল দেখে টুকটাক ভাবীর সাথেই কথা বলছিল। তবে তারা যাওয়ার সময় অবশ্য সৌজন্যতা স্বরূপ সামনে এসেছিল, কিন্ত ওই লিভিং রুমের দরজা পর্যন্ত তার পা সীমাবদ্ধ ছিল। আর এতেই নজরে আসলো সবাই বেরিয়ে যাচ্ছে, আর অর্থি কে দেখতেই মুসাব হাসলো, তবে তার পাশে সাম্য নামের চঞ্চল লোকটাকে এখন ও কেমন নির্লিপ্ত
দেখালো।

অর্থি অবশ্য আমলে নিল না, তারা যেতেই সে কেমন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। আর নিজের রুমে চলে গেল,,, ভাবলো একটু পড়বে কিন্ত ফারিশের জন্য তা আর হলো কই। সে এসেই তার রুমে জিনিস এলো মেলো করছে,, তার রুমটা ডোরেমনের জিনিস দিয়ে সাজানো, ছোট দুটা ডোরেমন টেবিলের উপর রাখা, আর মাঝারি সাইজের একটি বিছানার উপর রাখা,,

অর্থির আবার ডোরেমন খুব ভালো লাগে তাই বিছানার চাদর হতে, দেয়ালে নিজের ছবির পাশে ডোরেমন এর জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো। এগুলো কেউ ধরলে তার আবার সহ্য হয়না।

তাই ফারিশ যখন এগুলো ধরছে তার রাগ লাগছে,,,

—” কি হয়েছে তোকে এগুলো মানা করছি না ধরতে!

—'”তুই বললেই কি শুনলে হবে এমন কোনো কথা আছে,, আমার ইচ্ছে! তাছাড়া তুই শুনছিস নাকি আমার কথা যে আমি তোর কথা শুনবো!

—” এমন বলছি কেন! কি শুনিনি বল, তোর সব কথাই তো আমি শুনি,, তাই রেখে দে আমার পুতুল টা।

—”হুমমম,, তোকে যে বলেছি তোর সাথে আমার কথা আছে তিশা আপুর বিয়ের দিন কথাটা বলবে, শুনেছিস আমার কথা!! সেই আমাকে না বলে চলে এলি আর বিয়েতে ও থাকলি না।

অর্থি মিনমিন করলো, শান্ত স্বরে বলল;
–’ কি করবো কাজ ছিল,, তা কি বলবি বল, এখন তো ফ্রি আছি তোর সব কথা শুনবো, কিন্ত তার আগে হাতের জিনিস টা রাখ।

ফারিশ এবার ভাবলো, আর ভাবতেই লাজুক মুখে অর্থির পাশে চেয়ার টেনে বসলো। আর নিজের ফোন ঘেটে কিছু একটা বের করে অর্থির সামনে রাখলো। একটা মেয়ের ছবি স্ক্রিনে ভাসতেই অর্থির চোখ জোড়া বড় বড় হলো, আর ফারিশ কে বলল;

—” ব্যাপার কি বলতো, মেয়ের ছবি দেখাচ্ছিস, কে এটা।

ফারিশ এবার যেন আরো লজ্জা মাখা হলো, ঠোঁটের নম্রতা রেখে বলল;
—” আরশিয়া! পছন্দ করি, না পছন্দ নয় ভালোবাসি,, ও আমাকে ভালোবাসে। বলতে পারিস পুরো ভদ্র একটা মেয়ে। একদম আমাদের সম্পর্কে কোনো ভেজাল নেই,,

—” হ্যাঁ তো এটা তো ভালো কথা। এখন কি হয়েছে!

—” অর্থি শোন না,, আম্মু তো তোকে এত আদর করে, তুই বলতে আম্মু অজ্ঞান। তাই বলছি কি যদি সময় হয় আম্মুকে যখন ওর কথা বলবো তুই আমার পক্ষ নিয়ে আম্মুকে একটু রাজি করাবি। জানিস ই তো আম্মু তোর কথা ফেলতে পারবে না,, তুই শুধু হ্যাঁ ভোট দিবি নির্বাচন এ আমি জয়ী হবো দেখবি।

অর্থি দীর্ঘশ্বাস নিল,, তাহলে এই ফারিশের ইমপরন্টেন কথা। তাই তো ফারিশের ভাবগতি অন্য রকম ছিল, হ্যাঁ ফারিশ অর্থিকে স্নেহ করে তবে তিশা আপুর বিয়েতে বারবার অর্থির খোঁজ করা, তার পছন্দের বেলী ফুলের গাজরা তবে এই কারনেই দেওয়া।

ফারিশ তো তার থেকে তিন বছরের বড় কিন্ত এই বন্ধুত্ব সম্পর্ক টাই অর্থির ভালো লাগে,, তাই অর্থি ফারিশ কে বলল;
—” কয়দিনের সম্পর্ক তোদের!

ফারিশ একটু খানি মাথা চুলকে বলল;
—”ছয় মাসের!

—”আচ্ছা,,, তোদের আগে সবঠিক হোক পরে না হয় বলবো খালামনি কে। এখন এসব বলে শুধু শুধু ঝামেলা বাড়ানোর কোনো দরকার নেই। তোরা নিজেদের মতো থাক যখন প্রয়োজন হবে তখন দেখা যাবে।

—” থ্যাংকস অর্থি। জানতাম তোর থেকে পজেটিভ কিছু উওর পাবো এই জন্যই তো তোকে ভীষণ ভালোলাগে!!!

—” কি ভালো লাগে ফারিশ! কি কথা হচ্ছে দুজনার মধ্যে।

অর্থি আর ফারিশের কথার মাঝে মাহিয়া ভাবী তাদের রুমে আসলো,, লুবান উঠে গেছে তাই তিনি অর্থির রুমে আসলো লুবান কে নিয়ে। কিন্ত ভাবীর সামনে এখন তারা কিছু বললো না তাই তাদের কথার ইতি সেখানেই হলো।

চলবে।

আমাদের ফেনীতে একদম পারফেক্ট ঝড় তুফান হচ্ছে, কারেন্ট থাকে না, নেটওয়ার্ক নেই। এর মাঝে আজ কিন্তু আগে থেকে বড় পর্ব দিয়েছি। তাই জানাবেন কেমন হচ্ছে গল্প।

আর যারা গল্প পড়ছেন তাদের বলছি একটু রেসপন্স করবেন, আপনারা যদি রেসপন্স না করেন তাহলে অন্যদের কাছে গল্প পৌছাবে না,,, আর গল্প হয়ত আপনাদের সামনে ও যাবে না,,, কারন যে হারে গল্প পড়েন তার থেকে রেসপন্স খুব কম।

তাই রেসপন্স করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here