#কথা_দিল_রোদ্দুর (২০)
#তুসিকা
অর্থি পেছন দিকে যেতেই ফাহার হাত ধরে নিচু স্বরে বলল;
—” ফাহা তুমি লোকটা কে কেন বললে আমি কথা বলতে পারি না! আমি বোবা,, এখন লোকটা যদি জানে কি ভাববে বলো!
ফাহা মুখ চেপে হেসে বলল;
—” আরে আপু কি আর বলবে, লোকটা ই তো বললো সেতে আমাদের সাথে বেয়াইন আলাপ করতে চায়, তাই একটু শয়তানি করলাম বেয়াইয়ের সাথে,, এত ভেবো না।
ফাহা পারে ও বটে,, অর্থি প্রথম প্রথম তো ফাহা র সাথে এত মিল ছিল না,, কিন্ত ফাহা র সাথে যত মিশশে তত বুঝতে পারছে ফাহা নিজের কথার দ্বারা মানুষ কে এমন বোঝাবে যে সামনের ব্যাক্তিটি তার কথা সত্য মানতে বাধ্য। আর এখন ওই রাতুল নামের লোকটার সাথেও তাই হলো। ফাহার কথা যে লোকটা সত্যিই বিশ্বাস করেছে তা লোকটার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল।
আনিকা আর ফাহা ফিক করে হেসে দিল, অর্থি চুপ করে থাকলেও ভাবলো ভালোই হয়েছে। সে এসব কিছুতে অভ্যস্ত নয়, তার উপর বাইরের মানুষের সাথে সে খুব কমই কথা বলে। অর্থির আবার একটা হিডেন টেলেন্ট আছে সে চার পাঁচ ঘন্টা এমন কথা না বলে থাকতে পারে। কিন্ত এভাবে মিথ্যে বলাটা হয়তো ঠিক হয়নি,, তাই সে পেছনে ফিরে তাকালো লোকটা কে দেখার জন্য। কিন্ত দেখতে পেল না, উল্টো সাম্য কে তাদের পেছনে দেখায় অর্থি হঠাৎ ভিম-রি খেয়ে উঠল। তা দেখে সাম্য ঠোঁট কামড়ে হাসলো,, আর অর্থিকে জিজ্ঞেস করলো ভয় পেয়েছে কিনা।
সকালের সাম্যের ওই ভীতুরানী কথাটা মনে করে অর্থি তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল, বোঝালো সে ভয় পায়নি। তাই সাম্য ফাহা কে উদ্দেশ্য করে বলল;
—” বাইরে এখন অনেক মানুষ; তোমরা ভেতরেই থাকো,, এখানে আসার আর দরকার নেই।
সাম্যের কথায় ফাহা মাথা নাড়ল আর ওখান থেকে চলে গেল মায়েদের কাছে। সেখানে সাজেদা বেগম, রেবেকা বেগম, তিশার শাশুরি, নাহিদা বেগম, রাইমা বেগম আর সাম্যের মা ফাতেমা বেগম ছিলেন। বাকি আত্নীয়স্বজন যারা এসেছে তারা মাহা কে যে ঘরে রাখা হয়েছে সেখানেই আছে। অর্থি ওরা তিনজন মায়েদের কাছেই ছিল সারাটা সময়।
এরপর মাহার বিয়ের পুরো অনুষ্ঠান ভালো ভাবেই সম্পন্ন হলো,, খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে কবুল বলার মুহুর্ত টা বেশ ভালো ভাবেই কাটলো,, অর্থিরা ছিল কবুল বলার সময় টাতে, মাহা লজ্জা পেলে ও কি সুন্দর করে কবুল বলল। যা পুরো টা সাম্য তার ক্যামেরা বন্দি করে রাখল। আর অর্থির অকপটে তার অনেক গুলো ছবিই তুলে রাখলো। সাম্য আবার ছবি গুলো পর্যবেক্ষণ করে একটা জিনিস লক্ষ্য করলো অর্থির হাসি মাখা ডান গালে ছোট একটি টোল পড়ে, যা হয়ত সাধারণত দেখা যায় না, অথচ সাম্যের ক্যামেরায় জুম করা ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
_____
ফাহা, অর্থির সাথে নিপা র খালাতো বোন আনিকা র বেশ একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হলো। আনিকা পুরো সময় অর্থিদের সাথে ছিল। আর তারা তিন জনে একটা বিষয় খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারছিল–
সারা বিয়ের অনুষ্ঠান জুড়ে রাতুল নামের ছেলেটির সাথে যতটুকু দেখা হলো সে কেমন জানি উদাসীন ভাবে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আর চোখ বারবার অর্থির উপর গিয়েই ঠেকছিল। তা দেখে আনিকা ফাহা কে উদ্দেশ্য করে বলল;
—” ইশ ফাহা তুমি কেন যে বললে অর্থি বোবা! না বললে লোকটা নিশ্চয়ই অর্থির পেছন পেছন ঘুরতো, ওকে পটানোর চেষ্টা করতো। ফিলিংস ব্যাড ফর হার!
আনিকার কথা শুনে ফাহা নাক কুঁচকে বলল;
—” ওই কারনেই তো বলেছি আপু,, এমন সেধে কথা বলতে আসা লোক গুলো কে আমার একদমই পছন্দ না। অন্য কার কাছে কেমন লাগে জানি না, কিন্ত আমার কাছে এসব একদমই ভ্যালিড না। পুরুষ মানুষ হতে হবে গম্ভীর ব্যক্তিত্বের অধিকার। যাকে প্রথম দেখলেই মন থেকে সম্মান আসবে। যেন সব কিছুতেই আন্তরিকতার ছোঁয়া মেশানো থাকে, আর হাসি! ওই হাসি তে ই যেন লিখা থাকে এক মর’ণাস্ত্র।
আনিকা, অর্থি দুজনেই ফাহা র কথা শুনে তার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকালো,, আনিকা ফাহা কে জিজ্ঞেস করলো;
—” কি ব্যাপার ফাহা, এমন দ্বারা কথা বলছো,, এসেছে নাকি ওই অ’স্ত্র জীবনে।
ফাহা একটু লজ্জা পেল, আর গোমড়া মুখ করে বলল;
–’আমি তো এমনিতেই বলেছি আপু,, তোমরা দেখছি সিরিয়াস নিয়ে নিচ্ছ আমার কথা।
—” আচ্ছা থাক আমরা আর কিছু বলবো না,,
কিন্ত আনিকা কথার উওর না দিয়ে ফাহা তার অপর পাশে দাঁড়ানো ঠিক তার বর্ণনার মতোই একজন পুরুষের দিকে তাকালো। যার হাসি সত্যিই যেন এক মর’ণাস্ত্র। তাই ফাহা ব্যাক্তিটিকে দেখে নিজেই বিরবির করে বলল;
—” আপনি এমন কেন মুসাব ভাই। আপনাকে দেখে আমি বারবার মুগ্ধ হচ্ছি কিভাবে যে বোঝাই তা আপনাকে। কোনদিন বোঝাতে পারবো আমার এই ছোট্ট মনে আপনার জায়গা কোথায়??
নিজের মাঝে বিরবির করে ফাহা দীর্ঘশ্বাস নিল। আর বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলল;
—” চলো আপুরা মাহা আপু তো এখন চলে যাবে, আমরা বাইরে যাই।
ফাহার কথায় তখন সবাই বাইরে গেল, উপস্থিত মুরব্বী রা কিছু ফরমালিটি করে মাহা আর তার বরকে গাড়িতে তুলে দিল,, যাওয়ার সময় মাহা সে কি কান্না! বাপের বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে এমন টা করা স্বাভাবিক ই। কিন্ত তার সাথে সাথে বাকিদের ও চোখে বিন্দু বিন্দু পানি। এত আনন্দের মাঝে এই বিদায়ের মুহুর্ত টাই যেন সব থেকে কষ্ট দায়ক।
তবে মাহা আপুর গাড়ি যখন বাড়ির ছেড়ে গেল, তখন বাকিরা ও যাবার জন্য উদ্যত হতেই ওই রাতুল নামের ছেলেটি আবারও অর্থিদের সামনে এসে উপস্থিত হলো। অর্থির দিকে চেয়ে একগাল হেসে বলল;
—” কথা বলা হয়ত আমাদের সৌভাগ্যে নেয়, তবে আপনার সাথে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগলো,, ভালো থাকবেন, আসি বেয়াইন সাহেবা।
অর্থি আর লুকালো না, এভাবে লোকটা কে মিথ্যে বলে তো লাভ নেই। আর লোকটা তো ভালো কথাই বলছে তাই অর্থি বলল;
—” জ্বি ভাল থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
অর্থির মুখ থেকে কথা শুনে লোকটা যেন পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য দেখছে এমন বড় বড় চোখ করে তাকালো, কিন্ত কিছু বলতে পারলো না,, তার আগে অন্য আরেকটি ছেলে তাড়া দিয়ে নিজের সাথে করে গাড়িতে নিয়ে চলে গেল।
অর্থির সাথে ফাহা, ফারিন, আনিকা ছিল। তাদের তো হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার অবস্থা। লোকটা কে তারা যেভাবে বোকা বানিয়েছে, লোকটা হয়ত এটা কখনো ভুলবে না। ফাহার তো বেশি হাসি পাচ্ছিল লোকটার ওই বিস্ময় করা চেহারা দেখে। কিন্ত অর্থি বারণ করলো কাউকে এই বিষয় টা না জানতে। বড়রা শুনলে উল্টো তাদেরই বকাঝকা করবে। তাই বড়রা বিয়ে বাড়িতে থেকে গেলেও অর্থিরা আবার তাদের বাড়িতে ফিরে গেল।
গরম পড়েছে আজ প্রচুর। তার উপর অর্থি আজ অর্গানজা স্লিকের লাইট হলুদ কালারের একটি জামা পড়েছিল।
তাই গায়ের ভারী জামা টি না খোলা পর্যন্ত যেন শান্তি লাগবে না, তাই অর্থি ফাহা র রুমে গিয়ে প্রথমে ওড়না টি বিছানার উপর রাখলো,, ফ্যান ছেড়ে বিছানার উপর আধশোয়া হয়ে রইল কিছুক্ষণ। কিছুটা স্বত্বি অনুভব হতেই বিছানা ছাড়লো,, না এবার আর আলসেমি করলে হবে না,, তাই রুমে উওরালি জানালা টি বন্ধ করতে গেল। কিন্ত জানালার কাছে গিয়ে অর্থি অবাক করা এক জিনিস দেখলো। কেউ থোকা খানেক লাল জবা জানালার গ্রিলের পাশে রেখে গেছে।
ফুল জিনিস টাই সুন্দর,, তাই অবাক হলেও অর্থি ফুল গুলো হাতে তুলে নিল। জানালার বাইরে উঁকি দিয়ে দেখলো কেউ আছে কিনা। কই কেউ নেই, তাই ফাহা রুমে আসতেই তাকে জিজ্ঞেস করলো;
—” ফাহা এই ফুল গুলো এখানে কে রেখেছে জানো!
ফাহা ফুল গুলো দেখে বলল;
—” আরে এগুলো তো পুকুরের পাশে গাছটার! এটা নিশ্চয়ই জুনের কাজ,,ওই ফুল ছিড়ে এনে ঘর নোংরা করে। ফেলে দাও জানালার বাইরে কিছু হবে না।
—’ ওও!আরে না থাক, সুন্দর লাগছে দেখতে।
ফাহা বলল;
—” তোমার ইচ্ছা। তবে এখন তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাও! সন্ধ্যার পর ভাইয়া রা নাকি আসবে এখানে! আম্মু মেহেদী ভাইয়ের বন্ধুদের খেতে বলেছে।
—” আজকে কেন!
–” ওনারা কয়েকজন কাল সকালে চলে যাবে তাই। তবে জানো ভাইয়ারা যখন একসাথে থাকে তখন কি যে মজা হয়। তুমি তো তিশা আপুর বিয়েতে ছিলে না, তাই জানো না। তিশা আপুর বিয়ের দিন রাতে আমরা সকলে একসাথে ছিলাম। আরে ভাইয়ারা সকলে গান গেয়েছে,, ইমরান ভাইয়া আছে না উনি লুঙ্গি ডান্স দিয়েছে। আর ট্রুথ ডেয়ার যখন খেলেছিল তখন মুসাব ভাই কি করেছে জানো!!
অর্থি আগ্রহ নিয়ে বলল;
—” কি করেছে!
—”মুসাব ভাই কে তানভীর ভাইয়া বলেছিল মেয়ে সেজে কারো সাথে ভিডিও বানাতে। ওমা উনি সাম্য ভাই সাথে বানিয়েছে আর সাম্য ভাই নাকি ওটা পড়ে ওনার ফেসবুকে ও দিয়েছিল। যে শয়’তানি করেছে সাম্য ভাই কি বলবো। আর জানো সাম্য ভাই ফারিশ ভাইয়া কে কোলে ও নিয়েছিল।
এটা শুনে অর্থি বলল;
–” প্রথমে দেখে বোঝা যায় না,, কিন্ত উনি কি সবসময় এমন থাকে!
—” কে সাম্য ভাই! কেন কি হয়েছে আপু।
—”না কেমন ঘাসফড়িং এর মতো তিরিংবিরিং করে সবসময়। প্রথম যেদিন দেখেছি এমন মনে হয়নি!!
—”আরে উনি এমনই! আচ্ছা বাদ দাও, কারেন্ট থাকতে থাকতে আগে ফ্রেশ হয়ে নাও। না হলে পরে গরমে বিতৃষ্ণা লাগবে।
ফাহা কথায় অর্থি ফ্রেশ হয়ে নিল, বাইরে আর বের হলো না, কাল রাত করে ঘুমিয়েছিল, আর আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেছে তার পর বিয়ে বাড়িতে ও ছিল অনেক। তাই ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতে চোখ লেগে এসেছিল তার। আর সেই চোখ খুলল সন্ধ্যার পর। ঠিক সন্ধ্যা বললে ভুল হবে তখন রাত আট টা বাজে।
অলস ভঙ্গিতে মোবাইল নিয়ে দেখে আট টা তখন অর্থি মোচড় দিয়ে উঠে পড়ে। পাশে দেখে ফাহা মোবাইল দেখছে,, তাকে জিজ্ঞেস করে;
—’ আমি এতক্ষণ ঘুমিয়েছি,, কেউ আমাকে ডাকে নি,,
ফাহা তখন মোবাইল থেকে চোখ সরিয়ে বলল;
—” আল্লাহ! কি বলে ডাকে নি,, তিশা আপুরা যখন চলে যাবে তখন ডাকলো, নাস্তা খেতে কতবার ডাকলাম। কিন্ত তুমি যে ঘুম দিয়েছো ডাকাত এসে তুলে নিলেও হয়ত বলতে পারতে না।
—” কখন চোখ লেগে এসেছে বলতেই পারবো না।
—” আচ্ছা ঠিক আছে, এখন যা ও হাত মুখ ধুয়ে আসো,, আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসি আম্মু তোমার জন্য নাস্তা বানিয়ে রেখেছে।
—” না এখানে আনা লাগবে না, চলো আমরা বাইরে যাই।
অর্থি চোখে মুখে পানি দিয়ে আসতেই ফাহা সহ সামনের রুমে গেল। তখন সবাই সেখানে ছিল। অর্থিরা ও গিয়ে সেখানে বসলো। সবাই কে এক সাথে দেখে অর্থির কি যে ভালো লাগছিল। কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া তো সবাই কে একসাথে পাওয়া যায় না,, তাই অর্থি গিয়ে সাজেদা বেগমের পাশটায় বসলো আর সবার কথা শুনতে লাগলো। অর্থি এসেছে দেখে শারমিন বেগম নাস্তা দিলেন কিন্ত সেটা অর্থি পুরোটা শেষ করতে পারলো না,, তার আগেই অর্থি, ফাহার ডাক পড়ল তারা যেন ছাঁদে যায়। তারা সবাই ছাঁদে বসে গল্প করছে।
অর্থি বলল সে চা টা শেষ করে তারপর যাবে, কিন্ত অর্থর তাগাদা দেখানো তে আর পারলো না,, শেষ অর্ধেক চা খেয়ে ফাহা র সাথে উঠে গেল ছাঁদে।
__________
ছাঁদে তখন মেহেদী, সাম্য, মুসাব, তানভীর, ফারিশ, নাঈম, ইমরান, আনিকা, নিপা, নিপার মামাতো বোন ঝুমুর, মুনফি, ফারিন, এরা সবাই ছিল। অর্থ গিয়ে তো আবার সাম্যের পাশেই বসলো। আর অর্থি আর ফাহা যেতে আনিকা র সাথে বসলো। গিয়ে বুঝলো সকলে ভালোই মজা করছিল। তারা হয়ত যেতে দেরী করে ফেলেছে।
তবে অর্থিকে দেখে আনিকা তো খুশি হলো,, আর বলল;
—” তুমি আরো আগে কেন আসলে না,, আমরা কতক্ষণ ধরে এখানে বসে আছি।
—” ঘুমিয়েছি কতক্ষণ আর বলতে ও পারবো না কখন দেরী হয়ে গেছে।
অর্থির কথা শুনে মেহেদী বলল;
–” তোর সব গেলে ও ঘুম কাতুরে স্বভাবটা আর যাবে না। তাই তো তোরে ভুতুম বলি কি আর সাধে।
অর্থি কিছু বলল না,, যার যার স্বভাব তা তো কোনোদিন যাবে তার থেকে ভালো মেহেদীর কথায় চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করলো অর্থি। তবে সাম্য ভ্রু কুঁচকে তাকালো মেহেদীর দিকে। এটা তো মেহেদী অর্থিকে কটাক্ষ করেই বলেছে যা একদমই ভালো লাগে নি সাম্যের। তার তো ভীতুরানী নাম টাই বেশী ভালো লাগে অর্থির জন্য।
–’ কি হলো অর্থিরা তো এখন এসেছে আমরা আবার কন্টিনিউ করি। বলো কি করবে এখন!!
—” হ্যাঁ করো,, তবে ট্রুথ ডেয়ার আর ভালো লাগছে না, অন্য কিছু করো যেন ভাল লাগে।
মুসাব ইমরানের দিকে তাকিয়ে বলল;
—” কেন রে তোর সকল গোপন তথ্য সবার সামনে ফাঁস হচ্ছে দেখে খারাপ লাগছে তাই না।
–” আরে মামা কি বলিস এসব বলতো ছোট ভাই বোনদের সামনে,, আরে আমি বলছি কি কেউ যদি একটু গান টায় গায় শুনবো আরকি।
দেখ কি সুন্দর হাওয়া দিচ্ছে, আকাশে তারা দেখা যাচ্ছে,, এমন সময়ে গান হলে কি যে ভালো লাগবে।
মেহেদী বলল;
—” এত যখন বলছিস তাহলে তুই একটা শোনা।
ইমরান রাশভারী কন্ঠে বলল;
—” আমার কন্ঠ সুন্দর না জানিস ই তো। আচ্ছা সাম্য গায়, এবার না হয় সাম্য গাইলো আমরা ওর সাথে গলা মেলাবো।
কলেজ লাইফ থেকে ওদের সকলকে মাতিয়ে রাখার একটি নাম ই হলো সাম্য,, তাই সকল কিছুতে ওকে সবাই বেশি করে টানে,, তাই সকলের বলা বলিতে সাম্য ই এবার গান গাই বে বলল। কিন্ত বলল এই গান শুনে কেউ যেন না হাসে,, হঠাৎ করে এই গান কেন যেন তার মাথায় ঘুরছে। তাই সবাই রাজি হলো,, আর সাম্য নিজের গলায় গান ধরলো;
“” আমি প্রেমিক, আমি কবি।
তুমি সিরিয়াস ভাবে দেখ সবই।
আমি গেম খেলে সারা রাত জাগি, তুই পড়ুয়া মেয়ে বেজায় রাগী,,,
তোমার প্রিয় বিড়াল ছানা, আমার প্রিয় কু’কুর
তোমার প্রিয় পাহাড়ি ঝরনা, আমার প্রিয় পুকুর।
গোলাপ ফুলের জায়গায় আমি, দিলাম তোমায় জবা।
বলো তুমি এবার কি আমার প্রেমিকা হবা।
সাম্যের গানে সবাই হেসে উঠলো,, তাকে খোঁচাতে লাগলো রীতিমত। কিন্ত সাম্য নির্বিকার ভাবে গান খেয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্ত ধরতে পারলো না সাম্যের আসল কারন।
চলবে।
কেমন হয়েছে জানাবেন,, কিভাবে প্রেম নিবেদন করেছে দেখেছেন,, এই ছেলে কি শয়’তান ভাবা যায়। আর যারা পড়ছেন তারা একটু রিয়েক্ট করবেন গল্পে,, বেশি রেসপন্স পেলে লেখার আগ্রহ পাই আরকি।
এখন আসি কিছু কথা নিয়ে,, আমি এখানে আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলি না, কিন্ত একটু ঝামেলায় আছি,, তাই হয়ত গল্পে ছন্দ ঠিক না থাকতে পারে,, গল্প সাজানো ও ঠিক না হতে পারে তাই আগে থেকেই দুঃখিত। আর যারা প্রথম থেকে পড়ছেন কিন্ত মনে করছেন এখন গল্প ভালো হচ্ছে না তাদের কে আমার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। এটা হয়ত আমার ব্যর্থতা। তাই নিজের মন মস্তিষ্ক দিয়ে ঠিক ভাবে সাজানোর চেষ্টা করবো।
আর যারা মনে করছেন সাম্যের ব্যাপার গুলো বেশি বেশি মনে হচ্ছে তাহলে জানাবেন,, আমি অর্থির দিক গুলো বেশি করে লিখবো।

