#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
২৫.
ব্যস্ততার সাথে পুলিশস্টেশনে ঢুকলো সাইফ। কোনোদিক না তাকিয়ে কেবিনের টেবিলে হাতের ব্যাগটা রাখলো। শেলফের দিকে এগিয়ে, ফাইল দেখতে দেখতে উচুগলায় বললো,
– সমরেশ চাচা? কফি দিও। আর স্যারেরা কি মিটিংয়ে ঢুকে গেছেন?
– আপনারও কি মিটিং আছে?
মেয়েলী স্বর শুনে পেছন ফিরলো সাইফ। অগ্নিলা দরজায় দাঁড়িয়ে। কিছুটা সন্দিহান স্বরে বললো,
– মিস অগ্নিলা?
– বললেন না আপনার মিটিং আছে কিনা? যদি থাকে, পরে আসছি?
– মিটিং আছে। তবে আধঘন্টা পর।
– ইটস্ এনাফ।
আস্তেধীরে বলে মাথা নামিয়ে নিলো অগ্নিলা। সাইফ তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। ওর মনে হলো মেয়েটা লজ্জা পাচ্ছে। কিন্তু ও এটাও জানে, লজ্জা অগ্নিলার সাথে সেভাবে মানানসই নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গলা ঝেরে বললো,
– ভেতরে আসুন মিস অগ্নিলা। কফি অর…?
– কিছুনা। শুধু কিছু কথা বলার জন্য আসা।
ভেতরে এগোতে এগোতে বললো অগ্নিলা। সাইফ শেলফের দিকে গিয়ে ফাইল রাখতে রাখতে বললো,
– তা কি করে হয়? আমার সাথে প্রথমবার দেখা করতে পুলিশস্টেশন এসেছেন, আপনাকে খালিমুখে বসিয়ে রাখা উচিত হবে না।
– ড্যাডের সাথে প্রথমবারের সাক্ষাতেই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াটা কি উচিত ছিলো ইন্সপেক্টর?
সাইফ থামলো। পেছন ফিরে অগ্নিলার ঠোটের কোনের তীক্ষ্ণ হাসিটা দেখে নিয়ে বললো,
– আমার এখনো মনে হচ্ছে না আমি অনুচিত কিছু করেছি। তবে আপনার যদি তেমনটা মনে হতো, আপনি রিয়্যাক্ট করতে পারতেন। আপনাকে সুযোগ দিয়েছিলাম আমি মিস অগ্নিলা।
অগ্নিলা এবারেও দৃষ্টিনত করলো। হাতের নখ আচড়াতে আচড়াতে লাগলো ও। সাইফ আবারো অবাক হলো। এইটুকো লজ্জাতেই কেমন অদ্ভুত দেখাচ্ছে অগ্নিলাকে। দরজায় নক হলে সেদিকে ফিরলো দুজনেই। এক লোক হাতে একটা কফিমগ নিয়ে দাড়িয়ে। সাইফ বললো,
– এসো। ওনাকে দাও।
লোকটা কফি দিয়ে বেরিয়ে গেলো। অগ্নিলা বললো,
– এটা আপনার ছিলো।
সাইফ নিশব্দে হাসলো। বললো,
– আমি ভেবেছিলাম আপনার বাবাকে যেমন বাসায় গিয়ে বলে এসেছি, উনিও একইভাবে আমার বাড়ি বসে গিয়ে আমায় শুনিয়ে আসবেন। আপনার আসাটা আনএক্সপেক্টেড ছিলো।
– আপনার ধারনা ভুল নয়। তবে ড্যাড বিয়ের বিষয়টা পুরোটাই আমার ওপর ছেড়েছে।
সাইফ দুপা এগোলো। মাথা খানিকটা খানিকটা নিচু করে উকি দিলো অগ্নিলার মুখের দিকে। বললো,
– বুঝলাম। এখন তবে আপনার মতটাই শুনি মিস অগ্নিলা?
অগ্নিলা মাথা তুললো। ঠোটে হাসি চেপে রেখে, দু দন্ড এদিকওদিক তাকিয়ে বললো,
– মিস অগ্নিলাকে মিসেস সাইফ এহমাদ বলে ডাকার প্রস্তুতি নিন ইন্সপেক্টর। ড্যাড জলদিই এ ধরনের বাধ্যবাধকতায় বাধ্য করতে চলেছে আপনাকে।
সাইফ শব্দহীন হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। কিয়দক্ষণ কেবল দৃষ্টিবিনিময় হলো দুজনের। টেবিলঘড়ির আওয়াজে ধ্যান ভাঙতেই বেরিয়ে আসছিলো অগ্নিলা। সাইফ পেছন থেকে ডাক লাগালো,
– নীলা?
অগ্নিলা থামলো। তবে পেছন ফিরলো না। শুধু কিঞ্চিৎ ঘাড় ঘুরিয়ে বললো,
– ইউ হ্যাভ দ্যাট রাইট। ওয়েলকাম টু মাই লাইফ সাইফ।
বেরিয়ে গেলো অগ্নিলা। সাইফের ঠোটের কোনে হাসি ফুটলো। মাথা নেড়ে মিটিংয়ের ফাইল, ব্যাগ গুছিয়ে নিলো নিজের। সবুজ মার্ডার কেইসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রমাণ মিলেছে ওর। সেগুলো নিয়েই আজকের মিটিং। এই লিডগুলো কেইসে অনেকটা স্বচ্ছতা এনে দিতে পারে এমনটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মিটিংরুমে ঢুকলো ও।
•
বৃদ্ধাশ্রম থেকে ফিরতি পথে আবাসিক এলাকা দিয়ে হাটা লাগিয়েছে স্নিগ্ধতা। গলির রাস্তায় হাটতে বেরোনো লোকজন, চায়ের দোকানের আড্ডা আর রাস্তার ধারে কাগজি ফুলের গোলাপীরঙ চোখ ভরে দেখতে লাগলো ও। আগেরদিন ড্রয়িং বিক্রি করে যা টাকা পেয়েছিলো, পুরোটা বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে এসেছে ও। বাবা মা হারানোর পর সাইফ নিজেই দুজনের দায়িত্বপালন করে এসেছে। কোনোদিন ওকে কোনো কমতি অনুভব করতে দেয়নি। তবুও নিয়ম করে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে সবার সাথে সময় কাটায় স্নিগ্ধতা। কথায় বলে, বাবা মায়ের আদরের জায়গাটা কোনোকিছুতেই পুরোপুরিভাবে পুরন হবার নয়। ব্যতিক্রম হয়নি ওর ক্ষেত্রেও। আর সেটুকো পুরন করার আশাতেই বৃদ্ধাশ্রম যায় ও।
রাস্তাটায় মৃদ্যু উত্তরিয়া বাতাস। ওড়নাটা চাদরের মতো মুড়িয়ে নিলো স্নিগ্ধতা। হাটতে হাটতে হঠাৎ দেখতে পেলো টলোমলো গতিতে সাইকেলে করে একটা মেয়ে ওরই দিকে এগোচ্ছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, প্রথমপ্রথম সাইকেল চালানো শিখছে ও। মেয়েটা বারবার চেচিয়ে বলছে ‘সাইড প্লিজ! সাইড!’ স্নিগ্ধতা ডানে সরতে যাবে, মেয়েটিও ডানে সাইকেল ঘুরিয়েছে। কোনদিকে সরবে বুঝেই উঠতে পারছিলো না স্নিগ্ধতা। দুবার দিকভ্রম ঘটিয়ে ও যেইনা বামদিক সরেছে, ঠিক সেপাশেই সাইকেলসহ হুড়মুড়িয়ে স্নিগ্ধতার গায়ে পরলো মেয়েটা। ওর কনুইয়ে লেগেছে সাইকেলের হ্যান্ডেল। একহাতে কনুই চেপে ধরে মাটিতে পরে গেলো স্নিগ্ধতা। মেয়েটাও ওর হাটু ধরে ‘আহ’ শব্দে আর্তনাত করে উঠলো।
– ইশ! তোমার হাটু তো অনেকটা ছড়ে গেছে!
আওয়াজ শুনে যন্ত্রণার মধ্যেও চোখ খুলে তাকালো শায়েরী। জলভেজা চোখে দেখে নিলো সামনের মানুষটাকে। খয়েরীরঙা বড়হাতা গোলজামা, সাদা চুড়িদার, সাদা ওড়না, বা হাতে রুপালীরঙা চুড়ি, প্রায় কোমড় অবদি লম্বা খোলা চুল, ফর্সা মুখশ্রী, বিন্দুমাত্র কৃত্রিমসাজ বিহীন টানাটানা চোখ আর সে চেহারায় একরাশ উদ্বেগ। স্নিগ্ধতা হাত ছোয়ালো ওর হাটুতে। আবারো ব্যথাতুর শব্দ করে উঠলো শায়েরী। ওর হাটু থেকে রক্ত আসতে দেখে স্নিগ্ধতা এবার ফুপাতে শুরু করলো। বললো,
– আ’ম আ’ম সরি! ত্ তোমারতো ব্লাড…
শায়েরী ব্যথায় কাতরাচ্ছিলো। তারপরও অবাক হলো প্রাপ্তবয়সী যুবতীকে রক্ত দেখে এতোটা অস্থির হতে দেখে। কোনোমতে বললো,
– ই্ ইটস ওকে আপু। আপনার কোনো দোষ নেই। আমিই সাইকেল নিয়ে এভাবে…আহ…
আরেকটা মেয়ে দৌড়ে এলো ওদের দিকে। শায়েরীর অবস্থা দেখে বললো,
– এজন্যই বারণ করেছিলাম তোকে! আমার কথা শুনলি না শাই! দেখেছিস কতোখানি কেটেছে? ইশ! তুই তো গাড়িতেই চলাচল করিস। কোনো দরকার ছিলো সাইকেল শিখতে চাওয়ার? দেখলি কি হলো?
– লেকচার না দিয়ে ফার্স্ট এইড নিয়ে আয় মেরি মা! জ্বলছে প্রচন্ড! আহ্!
শায়েরীর চোখ দিয়ে জল গরাচ্ছে। তবুও চোখ বন্ধ করে দাতে দাত চেপে মেয়েটাকে শুনিয়ে দিলো ও। সত্যিই ওর উচিত হয়নি বান্ধবীর বাসায় এসে সাইকেল শেখার লোভ করার। ঠোট কামড়ে ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করতে লাগলো ও। মেয়েটা বললো,
– আমার বাসার চেয়ে ডিসপেন্সারি কাছে। ওখানে চল!
– কতো কাছে তোর ডিসপেন্সারি? উফ! আমি শিওর তুই আমাকে সেখানে কোলে করে নিচ্ছিস না! তাহলে কিভাবে যাবো? আরেকপায়ে লম্ফ দিলেই কি সেখানে পৌছে যাবো? নাকি উড়ে যাবো ডাফার?
– রিকশায় ওঠো!
আবারো চোখ মেললো শায়েরী। স্নিগ্ধতা অন্যদিক ফিরে ওকে তোলার চেষ্টা করছে। পাশে একটা রিকশাও দাড় করানো। স্নিগ্ধতা তাড়া দেখিয়ে বললো,
– পাশের ডিসপেন্সারিতে গিয়ে আগে ড্রেসিং করে নেবে চলো। তারপর বাকিটা। যেতে দুমিনিট লাগবে। চলো।
কথা বাড়ালো না শায়েরী। আপাতত ব্যান্ডেজ করানোটা বেশি জরুরি। কোনোমতে শরীরের ভর স্নিগ্ধতার ওপর ছেড়ে রিকশায় উঠে বসলো ও। সত্যিই মোড় পেরোলেই ডিসপেন্সারি। স্নিগ্ধতা অন্যদিক চোখ রেখেই ওকে রিকশা থেকে নামালো। ওর বান্ধবী হেটেই এসেছে। দুজনে মিলে ভেতরে নিয়ে সোফায় বসালো ওকে। অবস্থা জানাতেই একজন এসে ক্লিন করতে লাগলো। বারবার কেদে উঠছিলো শায়েরী। স্নিগ্ধতা ওকে জরিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলো। ড্রেসিং শেষে ব্যান্ডেজটার দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। পুরোটা সময়ে একমুহূর্তের জন্যও শায়েরীর দিকে ঠিকমতো তাকায়নি ও। কান্নায় অভ্যস্ত না, এমন কারো কান্নামুখ একটু বেশিই আদুরে দেখায়। স্নিগ্ধতা মুচকি হেসে শায়েরীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
– ফিলিং বেটার?
শ্বাস ফেলে মাথা ওপরনিচ করলো শায়েরী। বললো,
– আপনাকে অহেতুক অনেক কষ্ট দিয়ে ফেললাম তাইনা আপু?
– একদমই না। দোষটা আমারই। ঠিকভাবে রিসিভ করতে পারিনি তোমাকে। বুঝতে পারিনি কোনদিকে যাবে তাই সাইড দিতে পারিনি। আর আমাকে সাইড দিতে গিয়ে তুমিই…
– আসলে আপু আমি সাইকেল চালাতে জানিনা। ফ্রেন্ডের বাসায় এসেছিলাম গ্রুপস্টাডি করবো বলে। বাট ওর সাইকেল দেখে হঠাৎই মাথায় ভুত চাপলো সাইকেল শেখার। তাই ওরটা নিয়ে বেরিয়েছি। বিনিময়ে নিজেরও এই হাল আর আপনারও…
মন খারাপ করে ফেললো শায়েরী। স্নিগ্ধতা মৃদ্যু হেসে বললো,
– আমার কিছুই হয়নি। রক্তে ফোবিয়া বলে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। যাইহোক, ডক্টর বাইরে গেছেন। উনি এসে, তোমাকে দেখে দেন মেডিসিন দেবেন।
– ততোক্ষণ আমি এখানে বসে থাকবো?
– চাইলে বাদরনৃত্য করে আমাদের এন্টারটেইন করতে পারিস! হাটু সারতে সহায়ক হবে সেটা।
বান্ধবীর দিকে কুশন ছুড়ে মারলো শায়েরী। স্নিগ্ধতা হাসলো। বললো,
– ফ্রেন্ডের বাসায় এসেছো, তারমানে তুমি এখানকার নও। একাকী তো বাসায় ফিরতো পারবে না। তো বাসার কাউকে কল করে বলে দাও তোমাকে এসে নিয়ে যেতে। ওনারা আসতে আসতে ডক্টরও এসে যাবেন আই গেইস।
নিজের মোবাইল এগিয়ে দিলো স্নিগ্ধতা। শায়েরী ভয়েভয়ে শারাফের নম্বর ডায়াল করলো। পাকনামী করে সাইকেল শিখতে গিয়ে পা কেটেকুটে একাকার করেছি, আমায় এসে নিয়ে যাও, বাসায় বললে বাসাছাড়া হবে ও। তারচেয়ে শারাফকে বলাই উচিত মনে হলো ওর। পচাক, রাগ দেখাক, ভালোবাসাটাও সবার চেয়ে বেশি ওই বাসে ওকে। কল রিসিভ হলে বললো,
– পা কেটে গেছে। ব্লক সি-র ডিসপেনসারিতে আছি। গাড়ি করে বাসায় নিয়ে যা প্লিজ!
বোনের কথা শুনে গাড়িতে ব্রেক কষলো শারাফ। হঠাৎ এভাবে ব্রেক করায় চমকে উঠেছে অগ্নিলা। ভার্সিটি থেকে দুজনে একসাথেই বেরিয়েছিলো আজ। অগ্নিলা স্বপ্নীলে যাবে বলেই শারাফের সাথে এসেছে। শারাফ কানের ব্লুটুথ আরেকটু জোরে কানে চেপে ধরে বললো,
– কতোখানি কেটেছে? ঠিক আছিস তুই? ডিসপেন্সারি কেনো? হসপিটাল…
– সাইকেল থেকে পরেছি। অল্পই ছড়েছে। ব্লাডলস হচ্ছে না আর। টেনশন নিস না। ব্যান্ডেজ নিয়ে বাসায় একাকী ফেরা মানে মায়ের হাজারটা বকা। তাই তোকে বলা। আমাকে এবারের মতো উদ্ধার কর ভাইয়া। প্লিজ? প্লিজ?
কল রেখে গাড়ি স্টার্ট দিলো শারাফ। ড্রাইভ করতে করতে অগ্নিলাকে জানালো বিষয়টা। দুজনে মিলে দ্রুতই পৌছালো ডিসপেন্সারিতে। শায়েরী সোফায় বসে,স্নিগ্ধতার কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছে। একহাতে ওকে জড়িয়ে আরেকহাতে সাইফকে কল করছিলো স্নিগ্ধতা। সামনে কারো উপস্থিতি অনুভব করে মাথা তুলে তাকালো ও। কালো শার্ট, জিন্স পরিহিত শারাফ ওর দিকে ভ্রুকুচকে তাকিয়ে। পেছনেই আরেক পরিচিত মুখ। অগ্নিলা। কপালে ভাজ পরতে যাচ্ছিলো স্নিগ্ধতারও। নিজেকে সামলে উঠে দাড়াতে যাচ্ছিলো ও। অগ্নিলা ইশারায় উঠতে বারণ করলো ওকে। শারাফ শায়েরীর সামনে হাটু গেরে বসলো। আলতো করে ওর মাথায় হাত রেখে বললো,
– শাই?
শায়েরী চোখ মেললো। শারাফ চোখ দিয়ে ওর হাটুর ব্যান্ডেজটা ইশারা করলো। শায়েরী কাচুমাচু মুখ করে বললো,
– ঐশীর সাইকেল শিখতে গিয়ে…
– ডক্টর আসেনি?
– হুম। ভেতরে আছেন। আরেকজনের ইমারজেন্সি ছিলো আর ওর বাসার কেউ আসেনি তাই…
স্নিগ্ধতা কথা শেষ করার আগেই এপ্রোন পরিহিত একজন চেকআপের জন্য এসে দাড়ালো ওদের সামনে। শায়েরীকে ছেড়ে উঠে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। অগ্নিলা পাশে বসলো ওর। শারাফও সরে দাড়িয়েছে। স্নিগ্ধতা ইতস্তত করে বললো,
– আসলে আমি ঠিকভাবে সাইড দিতে পারিনি। শায়েরী তখন…
– তারমানে আপনার সাথে এক্সিডেন্টটা হয়েছে?
সামনে তাকিয়েই বললো শারাফ। স্নিগ্ধতা চমকানো চাওনিতে তাকালো। ওর আত্মগ্লানি হচ্ছিলো বলে কথাটা বলছিলো ও। কিন্তু শারাফ এভাবে সরাসরি ওকে দোষী করবে, সেটা ভাবেনি। কোনোমতে বললো,
– না মানে, হ্যাঁ আমি…
শারাফ ওরদিকে ঘুরে দাড়ালো। চোখ নামিয়ে একপা পিছিয়ে গেলো স্নিগ্ধতা। শারাফ ওর দিকে খানিকটা ঝুকে বললো,
– আপনার জন্য আমার একমাত্র আদুরে বোনটা এতো কষ্ট পাচ্ছে মিস স্নিগ্ধতা।
স্নিগ্ধতা নিশ্চুপ। শারাফ আরেকটু আওয়াজ নামিয়ে বললো,
– গিল্টিফিল করছেন বুঝলাম। কিন্তু তার প্রমাণ কোথায় মিস স্নিগ্ধতা? এখন যদি শাই আপনাকে ভাবী হিসেবে চেয়ে বসে, আত্মগ্লানী কমাতে আপনি আমায় বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাবেন কি? মনে তো হয় না!
বিস্ফোরিত চোখে তাকালো স্নিগ্ধতা। কোন কথা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে শারাফ? ওকে ওভাবে তাকাতে দেখে শারাফ হেসে দিলো। আর ওর হাসি দেখে শ্বাস ফেললো স্নিগ্ধতা। টের পেলো, মজা করছিলো ও। আচমকা চড়ের আওয়াজ শুনে পাশ ফিরলো দুজনেই। দেখতে পেলো, অগ্নিলা জোরেজোরে রাগী শ্বাস ফেলছে আর ওর সামনেই গালে হাত দিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে ডক্টর। শায়েরী বেশ অনেকটা ভীতগ্রস্ত হয়ে অগ্নিলার বুকে মুখ গুজে আছে। শুন্য করিডোরের পিনপতন নিরবতা জানান দিলো, ডক্টরকে চড় মেরেছে অগ্নিলা।
#চলবে…

