নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ৩৯.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

৩৯.

শারাফ শপিংমলের সামনে এসে গাড়ি থামালো। ব্রেকের জন্য ধ্যান ভাঙলো স্নিগ্ধতার। অগোছালো দৃষ্টিতে চারপাশ দেখে নিলো ও। টের পেলো, গন্তব্যে পৌছেছে ওরা। ভ্রুজোড়ায় কিঞ্চিৎ বিরক্তির আভাস মিললো স্নিগ্ধতার। শারাফ তো বলেছিলো আজ ও ধীরে ড্রাইভ করবে। তাহলে? এতো জলদি ফুরিয়ে এলো পথ? সবেই তো গাড়িতে উঠলো দুজন। শারাফ ড্রাইভ করছিলো, আর ও তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলো ওকে। নির্বিঘ্নে। ওর দিকে তাকিয়ে ওর দৃষ্টিতে লজ্জা আঁকার কাজটা শারাফ করেনি আজ। স্নিগ্ধতা গাড়ি থেকে নামতেই দেখে সাইফ আর অগ্নিলা ওদের দিকেই আসছে। হাসিমুখে এগোলো ও ভাইয়ের দিকে। কিন্তু ওর আগেই শারাফ এগিয়ে হ্যান্ডশেইক করলো সাইফের সাথে। মুচকি হেসে বললো,

– অল গুড মিস্টার এহমাদ?

সাইফ মাথা নেড়ে জবাব দিলো। শারাফ হাত বাড়িয়ে স্নিগ্ধতাকে দেখিয়ে বললো,

– এই নিন আপনার আমানত। শুধু মনটা বাদে বাদবাকিটা আপনার হাতে তুলে দিলাম। তা মিস হটি কি খুববেশি জ্বালাতে শুরু করেছে আপনাকে? এভাবে ডেকে পাঠালেন যে?

স্নিগ্ধতা বড়বড় চোখে তাকালো শারাফের দিকে। এভাবে কেউ সাইফের সাথে কথা বলবে, কোনোদিনও ধারনা করেনি ও। অগ্নিলা এগিয়ে এসে স্নিগ্ধতার কাধ ধরে দাড়ালো। তারপর শারাফকে উদ্দেশ্য করে বললো,

– প্রথম দুই বাক্যকে অগ্রাহ্য করে দেবার উদ্দেশ্যে আমাকে তাক করছো। তবে তোমার এই কথারজাল সবার সাথে খাটলেও আমার সাথে কিন্তু খাটবে না শারাফ। এটা জেনে রেখো।

শারাফ পকেটে একহাত গুজে দাঁড়িয়ে হাসলো কেবল। স্নিগ্ধতা অপ্রস্তুত দশায় জোরপুর্বক হাসলো। অগ্নিলাকে বললো,

– ক্ কেমন আছেন ম্যাম?

– ম্যাম?

অগ্নিলা ভ্রুকুচকলো। শারাফ বললো,

– আসলেই তো! ম্যাম কেনো বলছো স্নিগ্ধতা? অলরেডি তোমার ভাইয়ের মনে ঘাটি গেড়েছেন ইনি। কদিন পর চিরস্থায়ী হিসেবে তোমাদের বাসায়ও পৌছে যাবে। ভাবি ডাকো! ভাবি!

ভাইয়ের দিকে তাকালো স্নিগ্ধতা। সাইফ এবারেও কেবল মাথা নেড়ে সম্মতি বোঝালো। স্নিগ্ধতা একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে অগ্নিলাকে ডাকলো,

– ভাবি।

অগ্নিলাও হাসলো এবার। তারপর চারজন মিলে ভেতরে ঢুকলো। অগ্নিলা-স্নিগ্ধতা আগে আগে, পেছলে সাইফ-শারাফ। অগ্নিলার সাথে স্নিগ্ধতাকে দেখে মিসেস নাহিদ উৎসাহ নিয়ে বলে উঠলেন,

– আরেহ শারাফের শালুক ফুল যে!

স্নিগ্ধতার পা থামলো। অবুঝের মতো তাকিয়ে রইলো মিসেস নাহিদের দিকে। মেহেরুনও হেসে এগিয়ে এলো ওদের দিকে। আপাদমস্তক স্নিগ্ধতাকে দেখে নিয়ে, ওর থুতনি ধরে বললো,

– মাশাআল্লাহ।

তারপর শারাফের দিকে উকি দিয়ে ইশারায় কিছু বুঝালো। নিশব্দে হাসলো শারাফ। তবে স্নিগ্ধতা বুঝে উঠলো না কিছুই। অগ্নিলার বাবাকে চেনে ও। ওদের বাসায় গিয়েছিলো বলে। আর শায়েরীকে সেদিন সাইকেলের ঘটনার পর থেকে৷ এখানে ওকে আর কারো চেনার কথা না। তারওপর শারাফের শালুক ফুল নামে ব্যাপারটা আরো জটিল লাগছে ওর কাছে। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে শারাফের দিকে তাকালো ও। শারাফ নিজের মানিব্যাগটা তুলে ধরে ওর ছবিটা দেখলো। মানে বাড়িতে সবটা বলেছে ও। লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিলো স্নিগ্ধতা। শারাফ এগিয়ে এসে অগ্নিলার মা, মিসেস নাহিদ আর মেহেরুনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো ওকে। হাসিমুখে সবার সাথে পরিচিত হলো স্নিগ্ধতা। মুসকান নিজে থেকে হাত বাড়িয়ে বললো,

– হ্যালো বিউটি? আমি শারাফ ভাইয়ার নিকবউ মুসকান। উর্ফ মুসু। তুমি?

ওর কথায় হেসে দিলো সকলে। স্নিগ্ধতা নিজেও হেসে মেঝেতে ঝুকে বসলো। মুসকানের সাথে হাত মিলিয়ে বললো,

– হ্যালো কিউটি! আমি সাইফ ভাইয়ার ছোটবোন, স্নিগ্ধতা। উর্ফ টুকি।

– ও ওই পুলিশভাইয়াটার বোন? আর কি সুন্দর নাম তোমার! কিন্তু মাম্মাম তোমাকে শারাফ ভাইয়ার শালুক ফুল বললো কেনো?

স্নিগ্ধতা অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। পেছনে শারাফ সাইফের পাশে দাড়ানো অবস্থায় বেপরোয়াভাবে বললো,

– শারাফের বউ বলার সময় আসেনি বলে। আপাতত ওটুকোতেই চালা মুসু।

বিস্ফোরিতচোখে ওরদিকে তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধতা। সাইফ গলা ঝেরে অগ্নিলাকে বললো,

– ন্ নীলা? একটু জলদি শেষ করো। বেরোতে হবে আমাকে।

এটুক বলে ওখান থেকে সরে গেলো সাইফ। সবাই মিলে স্নিগ্ধতার সাথে ব্যস্ত হয়ে পরলো। আলাদা আলাদা জায়গায় দাড়িয়ে, সবার মাঝে স্নিগ্ধতার হাসিমুখটা দেখছিলো সাইফ-শারাফ। দুজনের মনেজুড়ে সুখের সুখ দেখার মতো সুখ। শাড়ির দোকানে একসাথে অগ্নিলার জন্য বেনারসি দেখলো সবাই। স্নিগ্ধতা অনেক গুছিয়ে শাড়ি পছন্দ করে দিলো সবাইকে। আসার পর থেকে ওর সাথে অনেক কথা বলেছে মেহেরুন। মিষ্টিভাষী মেয়েটাকে খুব ভালো লেগেছে ওর। সবার সাথে সুন্দরমতো মিশে গিয়েছে স্নিগ্ধতা। মেহেরুন এক পর্যায়ে বললো,

– তোমার ভাইয়ের বিয়ে। শাড়ি নেবে না স্নিগ্ধতা? সবাইকে চুজ করে দিচ্ছো, নিজের জন্যও তো দেখো?

মৃদ্যুভাবে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বুঝালো স্নিগ্ধতা। পুরো দোকানটায় চোখ বুলিয়ে এককোনে থাকা একটা সাদা শাড়িতে নজর আটকালো স্নিগ্ধতার। দোকানী এগিয়ে দিলো ওটা। শাড়িটা কাধে রেখে আয়নায় নিজেকে পরখ করতে লাগলো স্নিগ্ধতা। মিসেস নাহিদ বললেন,

– ওমা স্নিগ্ধতা? ভাইয়ের বিয়ে! কালারফুল কিছু নাও? ওমন নিরস সাদা কেনো?

স্নিগ্ধতা মুচকি হেসে বললো,

– ভাইয়ার বিয়ে। কেবল একরঙা শাড়িতে পরলে কেমন হয়? তাই সব রঙের সমাহার সাদাই নেবো ভাবছি।

মিসেস নাহিদ হাসলেন। মেহেরুন হেসে স্নিগ্ধতার থুতনি টিপে দিলো। বললো,

– তোমার যুক্তিগুলো তোমার মতোই মনভুলানো স্নিগ্ধতা। এবার আসল কথা বলো। খুব পছন্দের বুঝি সাদা রঙ?

হাসিটা মিলিয়ে গেলো স্নিগ্ধতার ঠোট থেকে। মেহেরুনের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে, আয়নার দিকে তাকালো ও। শাড়িটা নেড়েচেড়ে বললো,

– ও্ ওই আরকি। দেখুনতো আন্টি, সাদায় ভালোলাগবে না আমাকে?

– অপুর্ব লাগবে।

কোথথেকে এসে মেহেরুন স্নিগ্ধতার মাঝামাঝি টুলটায় বসে পরলো শারাফ। হাটুতে দুহাত রেখে, সামনে তাকিয়ে বললো কথাটা। স্নিগ্ধতা আটকে গেলো ওকে দেখে। একদন্ড সময় নিয়ে শারাফও তাকালো ওর দিকে। কাধ থেকে শাড়িটা নিয়ে, ঘোমটার মতো মাথায় পরিয়ে দিলো স্নিগ্ধতাকে। ওর কপালের বেবিহেয়ার আলতো করে কানে গুজে দিলো। সাদা শাড়িটার আঁচলের কারুকাজে আলো পরে প্রতিফলন হলো শারাফের চোখে। অন্যদিক তাকিয়ে ও ঠোট কামড়ে হাসি দিলো একটা। তারপর আবারো স্নিগ্ধতার দিকে ফিরে বললো,

– শুভ্রতায় শুভ্রতা কতোটা ঝলসানো হয়, সেটা স্নিগ্ধতার সংস্পর্শের সাদা শাড়িটাও জানে। তুমি জানো না বউমা?

মিসেস নাহিদ ঘাড় নাড়িয়ে হাসলেন। শারাফের কানে ফিসফিসিয়ে ‘ক্যারি অন’ বলে বাকিদের সাথে শাড়ি দেখতে লাগলো মেহেরুন। শারাফ নিজের বুকের বাদিকে ডানহাত রেখে বললো,

– এন্ড ইউ মিস স্নিগ্ধতা! ভুলেও কোনোদিন যারতার কাছে বর্ননা চেও না নিজের। আমার মতো সেল্ফকন্ট্রোল সবার নেই। দেখা যাবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটা কাউকে জিজ্ঞেস করলো তাকে কেমন দেখতে, আর সামনেরজন তৎক্ষনাৎ জ্ঞান হারালো। না পারলো বলতে, না পারলো সইতে। বুকের বা পাশে হাত রেখেই…

কথা শেষ না করে ‘ক্ক্যা’ আওয়াজ তুলে ‘শেষ’ বুঝালো শারাফ। হেসে দিলো স্নিগ্ধতা। বললো,

– ও। তারমানে মেহুভাবী ঠিকই বলেছিলো।

– ইয়াকীন শারাফের একমাত্র ভাইয়ের বউ। ঠিক বলা আবশ্যক তার। তা এখন তোমার কাছে কি ঠিকটা বললো শুনি?

ভাব নিয়ে বললো শারাফ। স্নিগ্ধতা খানিকটা ঝুকলো ওর দিকে। শারাফের চোখে চোখ রেখে ফিসফিসিয়ে বললো,

– ভাবি বলছিলো, তার দেবর নাকি পৃথিবীর নম্বর ওয়ান ফ্লার্টকারী।

শারাফের বিশ্বজয়ের হাসিটা কমে আসলো। স্নিগ্ধতা এবার আরোবেশি আগ্রহের স্বরে শুধালো,

– বরাবরের মতো ভাবি ঠিকই বলছিলো, তাইনা মিস্টার সাইকোলজিস্ট?

আড়চোখে মেহেরুনের দিকে তাকালো শারাফ। বললো,

– সিরিয়ালের ভাবিদের মতো আমার উঠতি সংসারে বাগড়া দিচ্ছো মেহুভাবী? শাওন ভাইয়াকে বলে দেবো তুমি তাকে না দেখিয়ে শাড়ি কিনতে এসেছো?

মেহেরুন একটা মাসুম হাসি দিলো। নিজের ফোনটা তুলে দেখালো ও ইতিমধ্যে শাওনকে ভিডিও কল করেছে। তারপর ইশারায় বোঝালো নিজের দিক সামলাও দেবরজি। শারাফ কিছু বললো না। এমনই হাসিঠাট্টায় একসাথে কেনাকাটা শেষ করলো ওরা। তারপর সবাই বেরিয়ে আসলো শপিংমল থেকে। সাইফ স্নিগ্ধতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সবাই গাড়িতে উঠে গেলো। দাড়ালো শারাফ-অগ্নিলা। মিসেস নাহিদ গাড়ির জানালা দিয়ে শারাফকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

– শায়েরী? তোমার মনোবিজ্ঞানী ভাইয়ের মনে কি চলে আজকে আমি বলে দেই হুম? সে এখন আমাদের সাথে স্বপ্নীলে ফিরছে না। নাইবা শো তে যাবে। সে এখন স্নিগ্ধতার রাজ্যে হারাবে।

– প্রফেসর নাহিদের বউ, ইয়াকীন শারাফের বউমা তুমি। ভুল প্রেডিকশন দিলে চলবে? এখন তোমার কথার মান রাখার জন্য হলেও আমি থেকে যাবো বউমা।

গা ছাড়া ভাবে জবাব দিলো শারাফ। সাইফ-স্নিগ্ধতা বাদে উপস্থিত বাকি সকলে হেসে দিলো ওর কথায়। শারাফদের পরিবারের সবার মাঝে এতো সুন্দর সম্পর্ক, সাইফের ভালোই লাগছে ব্যাপারটা। ওদের হাসিখুশি পরিবারের একাংশ দেখেই মুগ্ধতা বাড়ছে স্নিগ্ধতারও। শারাফ কিঞ্চিৎ ঝুকে ধীরগলায় বললো,

– শো আছে আমার। তুমি চাইলে ক্যান্সেল করতে পারি।

– আসুন।

সোজা জবাব দিলো স্নিগ্ধতা। হতাশ একটা চাওনিতে তাকালো ওর দিকে শারাফ। হাসি পেলেও হাসলো না স্নিগ্ধতা। শারাফ সাইফকে ‘আসছি মিস্টার এহমাদ’ বলে একটা জোরালো হাসি দিলো। তারপর প্যান্টের পকেট থেকে চাবি বের করে উল্টোদিকে হাটা দিলো। কয়েকপা এগোলো স্নিগ্ধতা। একইসাথে মেহেরুনদের গাড়িও এগিয়ে দাড়ালো। আর অগ্নিলা তাকিয়ে রইলো সাইফের দিকে। ফেরারী সময়টা ওদের একাকী দেবে বলে ইচ্ছে করে গাড়িটা এগিয়েছে মেহেরুন। অগ্নিলা আশা করেছিলো, সাইফ কিছু বলবে ওকে। কিন্তু না, বললো না। ও নিজেই বললো,

– কিছু বলবে না সাইফ?

– গাড়িতে না গিয়ে দাড়িয়ে গেলে যে?

– তুমি কি এখনো আমার কথাটা ধরে আছো?

– তুমি যেভাবে ভাবছো, ব্যাপারটা কিন্তু তেমন না নীলা।

অগ্নিলা দুহাতে সাইফের একহাত ধরলো। আদুরে গলায় বললো,

– আমি তোমাকে তোমার মতোই ভাবি সাইফ। তবে ভালোবাসি আমার মতো করে। আজকের দিনটা আমার নামে করার জন্য থ্যাংকস। বাই ইন্সপেক্টর।

সাইফ কেবল তাকিয়ে রইলো অগ্নিলার কৃতজ্ঞতাভরা চোখের দিকে। নিজেকে একমুহুর্তের জন্য দোষী মনে হলো ওর। দ্রুত নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে স্নিগ্ধতাকে বললো,

– টুকি? তুই এখানেই দাড়া। আমি পার্কিং এরিয়া থেকে গাড়ি নিয়ে আসছি।

চলে গেলো সাইফ। অগ্নিলা ওর চলে যাওয়া দেখে স্নিগ্ধতার দিকে এগোচ্ছিলো। কিন্তু কয়েকমুহুর্তের ব্যবধানে কি হলো, একটা দ্রুতগতির গাড়ি ওর অনেকটা কাছ দিয়ে পেরিয়ে যায়। স্নিগ্ধতা হেচকা টানে সরিয়ে আনে ওকে। ভীতগ্রস্ত স্নিগ্ধতা যখন অগ্নিলাকে সামলাতে ব্যস্ত, কিছুটা দুরেই গিয়ে থামে গাড়িটা। ড্রাইভারের বেখেয়ালিপনায় রাগ হলো অগ্নিলার। কিছু বলার জন্য এগোচ্ছিলোও ও। কিন্তু গাড়ির মালিক জানালার কাচ নামিয়ে মুখ বের করতেই পায়ের তলার মাটিটাও গরম হয়ে যায় ওর। এটা আর কেউ নয়, শায়েরীকে বাজেভাবে ছোয়ার চেষ্টা করা সেই ডাক্তার। অগ্নিলা কিছু বলার আগেই সে বিদঘুটে একটা হাসি দিয়ে বললো,

– কি ম্যাডাম? আমাকে ভেতরে ঢুকিয়ে অনেকসুখে দিন কাটাচ্ছেন দেখি। কি ভেবেছিলেন, আর বেরোতে পারবো না?

– তুই?

– হুম। আমি। তার দুদিন পরেই ছাড় পেয়েছি। তোমার ওই পুলিশ কিন্তু টিকিটিও ছুতে পারেনি আমার। অবশ্য আমি কিন্তু না ছুয়ে দেওয়াদের দলে নই। আজকে গাড়িতে আছি বলে ছুইনি। তবে অন্যদিন অন্যভাবে ছুয়ে দেবো তোমাকে কেমন?

কথা শেষ না করে বিশ্রি একটা হাসি দিলো লোকটা। ‘ইউ ব্লাডি…’ বলে জবাব দিয়ে এগোতে যাচ্ছিলো অগ্নিলা। ডাক্তার ততক্ষনে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছে। স্নিগ্ধতা দুহাতে আটকে দিলো অগ্নিলাকে। ওকে বারবার বলছে, শান্ত হতে। আর অগ্নিলা রাগে কাপছে। এতো জঘণ্য মানসিকতার লোকটা টাকার জেরে সাজা পাওয়ার পরিবর্তে বাইরে ঘুরছে ভাবতেই গা জ্বলছে ওর। তারপরও নিজেকে শান্ত করলো ও। স্নিগ্ধতাকে ধীরস্থির গলায় বললো,

– ওনার ব্যাপারে সাইফকে কিছু বলো না স্নিগ্ধতা।

অবাক চাওনিতে তাকালো স্নিগ্ধতা। ওর মতো অগ্নিলাও জানে ব্যাপারটা সাইফকে জানালে সাইফ যে করেই হোক ডাক্তারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। তবুও মানা করলো অগ্নিলা। ও চাইছে ব্যাপারটা সাইফের দৃষ্টি এড়াক। তবুও সবটা নজরবন্দি হলো তৃতীয় একজনের। সে শক্তমুঠো দুহাতের মালিকের দৃষ্টির তীক্ষ্মতা বলছে, তার সহনশক্তি ক্রমশ ক্ষীয়মান। আর আক্রোশ, ক্রমশ প্রকাশ্য…

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here