#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
৪৫.
বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট আঙ্গিনাটা জুড়ে উৎসবের রব ছুটেছে আজ। বয়সের ভারে স্তিমিত হয়ে যাওয়া প্রাণগুলোর কেউই থেমে নেই। কেউ মিষ্টির হাড়ি নিয়ে এগোচ্ছে, কেউ হলুদের ডালা সাজাচ্ছে, কেউ নতুন লুঙ্গি গামছা গুছিয়ে রাখছে, কেউ পানির বালতির সামনে পিড়ি-সাবান তৈরী রাখছে, আবার কেউ বা পানের বাটা নিয়ে বসে সবদিকের তদারকি করছে। সাইফ একপাশে বুকে হাত গুজে দাঁড়িয়ে সবার ব্যস্ততা দেখছে। গায়ে হলুদ আজ ওর। ও আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলো, হলুদপর্বটা আশ্রমে করবে। যতোই ঘরোয়া বিয়ে হোক, বিয়েতে অভিভাবক আর বয়জৈষ্ঠ্যদের দোয়া থাকা আবশ্যক। সাইফের মতে, বাবা-মা হারা হওয়ার পর থেকে যাদের কাছ থেকে ওরা দুভাইবোন সে ভালোবাসাটা উশুল করেছে, তাদের কাছেই সে দোয়া মিলবে। অনাথ বলে যারা ওদের সাথের রক্তের সম্পর্ককে দুর সম্পর্ক বানিয়েছে, তাদের আলাদাকরে কোনো উৎসবে নিমন্ত্রনের রুচি নেই সাইফের। আশ্রমের গোটাবিশেক দম্পতিদের সান্নিধ্যে বেশ ভালোই চলছে ওর আর স্নিগ্ধতার অভিভাবক-সমাগম। এতেই সন্তুষ্ট ও।
– তারপর? পুলিশমশাই-ও শেষমেষ ধরা খেয়ে গেলো। এটলাস্ট বিয়েটা করছিস হুম?
পুরুষালি আওয়াজে পাশ ফিরলো সাইফ। সাদা পান্জাবী পরিহিত মানবের মুখটা দেখেই মন ভরে উঠলো ওর। তাকে জড়িয়ে ধরে সাইফ খুশিময় স্বরে বললো,
– আরাফাত! এসেছিস তুই!
দুহাতে সাইফকে জড়িয়ে রেখে একটা ঢোক গিললো আরাফাত। সাইফ ওকে কয়েকবার বলছিলো আসার জন্য। আসতে চায়নি ও। কিন্তু না আসলে স্নিগ্ধতাকে নিয়ে ওর টানাপোড়নের ব্যাপারটা টের পেয়ে যেতো সাইফ। ওর জন্য দুভাইবোনের মাঝে একবিন্দুও সংকোচ আসুক, সেটা চায়নি আরাফাত। তাই আসতে বাধ্য হয়েছে ও। আরাফাত সাইফকে ছাড়িয়ে নিয়ে, ওর বুকে কিল ছুড়ে বললো,
– তোর বিয়ে! আমি আসবো না? ভাবলি কিকরে তুই?
সাইফ কিছুক্ষণ শুধুশুধু তাকিয়ে রইলো আরাফাতের দিকে। নকল হাসিটা একদমই হাসতে পারে না আরাফাত। চেহারার অবস্থাও অতি বিধ্বস্ত। কোঠরে ঢুকে যাওয়া চোখজোড়া দেখলেই বোঝা যায়, অযত্নে অযত্নে ক্রমাগত নিঃশেষ হয়ে আসছে ওর ভেতর-বাহির সব! নিজেকে মাঝেমাঝে অপরাধী মনে হয় সাইফের। শারাফ স্নিগ্ধতার জীবনে আসার আগেই যদি ও স্নিগ্ধতাকে বুঝাতে পারতো, তাহলে হয়তো আজ আরাফাতের পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতো, ওর হাসিটা অন্যরকম হতো। সাইফ বললো,
– ভালো আছিস?
আরাফাত জোরপুর্বক হাসলো। সাইফের কাধে হাত রেখে বললো,
– আরেহ আমি কেনো ভালো থাকবো না? আছি বেশ ভালো। তবে তুমি শোনো বস, ম্যাডাম অগ্নিলা কিন্তু পুরো ভার্সিটির ক্রাশম্যাম। তার জন্য কিন্তু হ্যান্ডেল উইথ কেয়ার দন্ডবিধি প্রযোজ্য। পুলিশি ধারা সামলে চলো কেমন?
– তুই চিনিস নীলাকে?
– সাইকোলজি-থার্টিটু আমার মুখস্ত।
ধীরগলায় বললো আরাফাত। সাইফের কানে পৌছায়নি কথাটা। ও ভ্রুকুচকালে আরাফাত দ্রুত কথা ঘোরাতে বললো,
– ভুলে কেনো যাচ্ছিস, আমিও ওই ভার্সিটির এক্স স্টুডেন্ট। আর তোর নীলাম্যাডাম আমার ব্যাচমেট। খোঁজ নেওয়া কোনো ব্যাপার হলো?
– কাকন আম্মা? হলুদের আরেকটা বাটি কই?
বাগানের মাঝখান থেকে উচ্চস্বরে বলে উঠলো স্নিগ্ধতা। গোসলের পিড়ি আঁকাতে বসেছে ও। আরাফাত দৃষ্টিস্থির সেদিকে। ব্যস্ত মানুষগুলোর মাঝে সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত মুখ ওটা। হালকা কমলা রঙের কারুকাজবিহীন শাড়ি আর খোলা চুলের সাজে এক অপরুপা। যার চলনে বুনো চঞ্চল পাখির আভাস মেলে। এক বৃদ্ধা হলুদের বাটি নিয়ে এগিয়ে গেলো স্নিগ্ধতার দিকে। স্নিগ্ধতা হাসিমুখে ওটা হাতে নিয়ে আবারো ব্যস্ত হয়ে পরলো নিজের কাজে। সাইফ বললো,
– আঙ্কেল-আন্টিকে নিয়ে আসতে পারতি আরাফাত।
– বলেছিলাম। রাজি হয়নি।
বলার আর কিছু খুজে পেলোনা সাইফ। এক বয়স্ক লোক গেন্জি-লুঙ্গি-গামছা হাতে ওরদিক এগিয়ে আসলো। ওগুলো দেখিয়ে বললো,
– এইযে পুলিশপুত্তুর? এইসব শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে এগুলো পরে আসো। বেলা গরাচ্ছে। চৌধুরী বাড়িতেও তো হলুদ পাঠাতে হবে নাকি?
সাইফ কথা বাড়ালো না। আরাফাতকে ইশারায় আসছি বুঝিয়ে চেন্জ করে আসলো। বেরিয়ে দেখে স্নিগ্ধতা গোসলের জায়গার একপাশে দাড়িয়ে অনুর সাথে কথা বলছে। আর আরাফাতকে সেখানেই দাঁড়িয়ে। একবারের জন্যও ও যায়নি স্নিগ্ধতার সামনে। সাইফ ওর সাথে এগোতে বললো আরাফাতকে। কিন্তু ও মানলো না। বৃদ্ধাশ্রমের সবাই মিলে হলুদ ছোঁয়ালো সাইফকে। অনুর হলুদ লাগানো শেষে সাইফ আরাফাতকে ডাক লাগালো। তখনই একমাত্র আরাফাতকে চোখে পরে স্নিগ্ধতার। হাসিমুখে সাইফকে হলুদ ছুইয়ে স্নিগ্ধতার প্রতিক্রিয়া খেয়াল করলো আরাফাত। হাসিটা দু সেকেন্ডের জন্য কমে আসলেও ওর অস্তিত্বকে প্রভাব ফেলতে দেয়নি স্নিগ্ধতা। তিনআঙুলে হলুদ নিয়ে অতি স্বাভাবিকতার সাথে ভাইয়ের দুগালে ছুইয়ে দিলো। পরপরই বিস্ময়ে বলে উঠলো,
– ওমা! হলুদের এ রঙ কেনো?
সাইফও অবাক হলো। শঙ্কা নিয়ে বললো,
– এ রঙ মানে? হলুদে হলুদ ব্যতিত কি রঙ হয়?
স্নিগ্ধতা ভয়ার্ত চেহারা করে, আরো বেশি করে হলুদ লাগালো দুহাতে। একদম ভর্তি করে। তারপর সেটা সাইফের পুরো মুখে লেপ্টে দিলো। তারপর শব্দ করে হেসে দিয়ে, শাড়ির কুচি ধরে ছুট লাগিয়ে বললো,
– তোমার গায়ে নীলাভাবীর নীল রঙ ছুটেছে ভাইয়া! হলুদের কোনো অস্তিত্ব নেই! বেশিবেশি হলুদ লাগালেও সেটা নীলাভাবির রঙ পাচ্ছে! সেকেন্ডট্রাইয়েও হলুদ হয়নি!
চোখমুখের মাখোমাখো হলুদ আঙুলে ডলে ছাড়ালো সাইফ। বোনের ঠাট্টা বুঝে উঠতেই নিজেও অনেকবেশি হলুদ হাতে নিয়ে স্নিগ্ধতার পেছনে ছুটলো। কিন্তু লুঙ্গি পরে থাকায় পদক্ষেপ টালমাটাল হলো সাইফের। ওরা দু ভাইবোন মিলে পুরো আশ্রমে বাচ্চাদের মতো ছোটাছুটি করছে, এরওর পেছনে লুকোচ্ছে, আর সবাই মনখুলে উপভোগ করছে ওদের এই খুনশুটি। কিছুসময় পর সাইফ ধরে ফেলে স্নিগ্ধতাকে। স্নিগ্ধতা কাঁদোকাঁদো মুখ করে বললো,
– অনেক হলুদ মাখাবে?
ওর মুখ দেখেই বাকিসব ভুলে গেলো সাইফ। হতাশ শ্বাস ফেলে বললো,
– না। একটু!
ঠোট টিপে হাসি আটকালো স্নিগ্ধতা। সাইফ দু আঙুলে অল্প একটু হলুদ ছোয়ালো ওর গায়ে। ওর অনেকটা পেছনে, ঠিক বরাবর আরাফাত দাঁড়িয়ে ছিলো। সাইফের সাথেসাথে হাত তুলে, দুর থেকেই স্নিগ্ধতাকে হলুদ ছোয়ানোর ভঙিতে নিজেকে বুঝ দিলো ও। পান্জাবীর পকেটে দুহাত গুজে নিজেকে শক্ত করলো আরাফাত। অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্যের জেরে ভেতরের কেউ বুঝি গুনগুনিয়ে সুর তুললো,
‘তোমাকে ছোঁয়ার নেইতো আমার সাধ্য,
দেখতে পারা সেইতো বড় ভাগ্য…’
•
একসাথে কয়েকজন মিলে হাতে, গায়ে, হলুদ ছোয়াচ্ছে সাইফকে। স্নিগ্ধতা পুরো মুখভর্তি হলুদ দিয়েছে ওর আর সাইফ হাসছে। ছবিতে সাইফের হাসিটা দেখে অগ্নিলার ঠোঁটেও মুচকি হাসি ফুটলো একটা। হলুদরঙা শাড়ি পরে আয়নার সামনের টুলটায় বসে ছিলো ও। ম্যাসেঞ্জারের টুইং শব্দটা অনেকদিন পর আজ ওর ঠোঁটে মুগ্ধতার হাসি ফুটিয়েছে। আলতোকরে ছবিটায় হাত বুলিয়ে দিলো অগ্নিলা৷ বললো,
– তোমার হাসিটা তোমার ভালোবাসার মতোই সুন্দর সাইফ। আর আমি হলাম সে স্বার্থান্বেষী মানবী, যে কিনা রুপকথার ডাকিনীর মতো সে সব সৌন্দর্য শুষে নিতে প্রস্তুত হচ্ছি।
…
– এগেইন, আ’ম সরি, বাট নট সরি ইন্সপেক্টর।
– নীলা?
ঘাড় ঘুরিয়ে দরজায় তাকালো অগ্নিলা। ফুলের গয়না হাতে নিয়ে মেহেরুন দাড়িয়ে। ওর পেছনে শায়েরী, মিসেস নাহিদ, শারাফের মা, ওর মা। হাতের ফোন ড্রেসিংটেবিলে রেখে উঠে দাড়ালো অগ্নিলা। মেহেরুনের চোখ ছলছল করে উঠলেও হাসিতে চেহারা ঝলমলো করে উঠলো। একই অবস্থা মিসেস চৌধুরীরও। মেহেরুন এগিয়ে আসলো। অগ্নিলার থুতনি ধরে আদুরে গলায় বললো,
– কি মিষ্টি লাগছে তোকে নীলা! কারো নজর না লাগুক!
চোখ মুছলেন মিসেস চৌধুরী। শারাফের মা একহাতে সামলালেন তাকে। তারপর এগিয়ে এসে বললো,
– আসলেই মেহু। একদম ঠিক বলেছো তুমি। নীলাকে তো সবসময় একরঙা কালো শাড়ি আর কালোফ্রেমের চশমায় দেখেছি। কেমন একটা নেত্রীনেত্রী ভঙিমায় হাটতো। চাওনিতেই সামনেরজনকে থামিয়ে দিতে পারে, এমন গুরুগম্ভীর। আর আজকে দেখো? হলুদ শাড়িতে কত্তো সুন্দর লাগছে ওকে। একদম বউবউ!
– আজীবন সাদাকালো শাড়ি পরে আসা রমনীর গায়ে হলুদ ছোয়া। সাইফ নামক রঙ জুড়ে যাচ্ছে তার সাথে। এটুকো পরিবর্তন তো স্বাভাবিক মা।
পুরুষালি আওয়াজে দরজায় তাকালো প্রত্যেকে। শারাফ এসেছে। পরণে গুটানো বড়হাতার কমলা পাঞ্জাবি, সাদা পায়জামা, হাতে ঘড়ি। অগ্নিলা ঠোঁটে হাসি টানলো। শারাফ ভেতরে ঢুকে ঘাড় কাত করে দেখে নিলো ওকে। বললো,
– কি মিস হটি? মুহুর্তেমুহুর্তে মিসেস এহমাদ হয়ে যাওয়ার পথে এগোচ্ছো। বদলটা পছন্দ হয়েছে নিজের?
– আমার সবরুপ জানে, তারা আমার অতিপছন্দের। মনোবিজ্ঞানী মহাশয়ের সেটা জানা উচিত।
শারাফ প্রতিতরে কেবল মুচকি হাসলো। মিসেস নাহিদ এগিয়ে এসে ঠেলে টুলটায় বসিয়ে দিলো অগ্নিলাকে। বললো,
– এই তোমাদের সাংকেতিক কথাবার্তা পরে বলোতো। নীলা? গয়নাগুলো পরাবো। চুপচাপ বসো এখানে। আর শারাফ? তুমি যাও নিচে গিয়ে দেখো ভাইজানের কোনো কাজে হেল্প লাগবে কিনা! শাওন নেই, তোমাকেই সবদিক দেখতে হবে। জলদি যাও!
– সবদিক দেখেই এসেছি। কে জানতো তোমরাই এতো লেইট? মিস হটিকে এখনো সাজাওনি কেনো বউমা? ক’টা বাজে দেখেছো?
– ঘড়ি দেখা বাদ দিয়ে, গার্ডেনে গিয়ে দেখ কে এসেছে। আমি দুশো পার্সেন্ট গ্যারেন্টি দিচ্ছি, তোর সব বলতি ওখানেই বন্ধ হয়ে যাবে।
শায়েরীর কথায় দৃষ্টি উজ্জ্বল হয়ে উঠলো শারাফের। আর ঠোঁটের হাসি বর্ধিত হলো। হলুদ পান্জাবীর বাহাতের নেমে আসা হাতাটা ডানহাতে গুটাতে গুটাতে, বেরিয়ে এলো ও রুম থেকে। বাসা থেকে বেরিয়ে, সোজা গার্ডেন। তিনচারজন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, আর অনুর সাথে হলুদের ডালা হাতে দাড়িয়ে স্নিগ্ধতা। অগ্নিলার বাবার সাথে কথা বলছিলো তারা। স্নিগ্ধতা ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকালো। শারাফ কোনোদিক পাত্তা দিলোনা। সোজা এগিয়ে এসে স্নিগ্ধতার হাতে থাকা ডালাটা থেকে বড়সর একটা গাদাফুল হাতে নিলো। তারপর সবার সামনেই সেটাকে স্নিগ্ধতার কানের পাশে গুজে দিলো ও। বড়বড় চোখে তাকিয়ে পাথরের মতো দাড়িয়ে রইলো স্নিগ্ধতা। শারাফ ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
– স্নিগ্ধতার রঙ আমার নজর কেড়েছে বলে গাদার বোধহয় হিংসে হচ্ছিলো। তাই দুটো ফুলকেই একসাথে করে দিলাম। এবার আপনারা দুজনেই আমার নজরবন্দিনী হয়ে থাকুন। কেমন? বেয়াইনসাহেবা?
শারাফ সোজা হয়ে দাড়ালো। স্নিগ্ধতা ওভাবেই স্তব্ধ হয়ে আছে। বাসাভর্তি লোকজনকে পরোয়া না করে শারাফ এমন ব্যবহার করবে, আশা করেনি ও। শারাফ বাকিসবাইকেও সালাম দিয়ে কুশলবিনিময় করলো। তারপর ভেতরে যাওয়ার জন্যই হাত বাড়িয়ে ইশারা করলো সবাইকে। আর থেমে থাকা স্নিগ্ধতাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
– এখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে এভাবে আমাকেই দেখতে থাকবেন, নাকি ভেতরেও আসবেন? বেয়াইন?
কথার শেষেও চোখ মেরেছে শারাফ। সেইসাথে চোখ কপালে স্নিগ্ধতার। শারাফের এই বেয়াইন সম্বোধনে আজ ওর আর কি কি দেখা লাগবে, শোনা লাগবে, সেই চিন্তার পাহাড় মাথায় নিয়ে, বাকিসবের সাথে বাসার ভেতর ঢুকলো ও।
#চলবে…

