নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা ৫৩.

0
3

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা

৫৩.

– আমরা জন্ম থেকে অনাথ নই শারাফ। আরপাঁচটা হাসিখুশি পরিবারের মতো, আমাদেরও ছোট্ট একটা পরিবার ছিলো। আদরমাখা মায়ের আঁচল ছিলো, দায়িত্ব-শাষণে ভরপুর বাবার কাধ ছিলো। বয়সের পার্থক্য কম বলে আমাদের দু ভাইবোনের হাসিমজার আওয়াজে সবসময় কলকল করতো এ বাসাটা। সবসময় টম এন্ড জেরির মতো একজন আরেকজনের মতো পেছনে লেগে থাকতাম, টিজ করতাম। বিশেষকরে আমি! অনেক জ্বালাতাম টুকিকে।

এটুক বলে সাইফ থামলো। এতোক্ষণ জানালা দিয়ে বাইরে তাকালোও এবার চোখ ঘুরিয়ে তাকালো শারাফের দিকে। স্নিগ্ধতা ওর রুমে। জ্ঞান ফেরার পর থেকে কারো সাথে ভালো করে কথা বলছে না ও। কেমন ভীতগ্রস্ত হয়ে বসে আছে। সাইফ-অগ্নিলা দুজনেই অনেক চেষ্টা করেছে ওর সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার। লাভ হয়নি। ভয়েভয়ে গুটিশুটি হয়ে বসে আছে ও। কখনো কখনো চোখ তুলে ক্যানভাসে তাকাচ্ছে। আবারো চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। শারাফ চলে এসেছে এ বাসায়। তবে এখনো স্নিগ্ধতার রুমে যায়নি ও। সাইফ পুলিশি পোষাকেই ড্রয়িংরুমের সোফায় আধশোয়া হয়ে ছিলো। স্নিগ্ধতাকে অজ্ঞান রেখেই বেরোতে হয়েছিলো ওকে। সেই ভ্যানচালকের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। ওদিকটা দেখে, বাসায় স্নিগ্ধতার ওমন অবস্থা দেখে বিধ্বস্ত লাগছিলো সাইফের। ক্লান্ত দেহটা সোফায় এলিয়ে দেয়। চোখ বন্ধ করে ঘাড় উচু করে রইলো চুপচাপ।

এ বাসায় ঢুকে ওকে ওমন দেখে ঘটনা জানতে চায় শারাফ। ড্রয়িং করতে গিয়ে, খু*নী শব্দটা শুনে স্নিগ্ধতা জ্ঞান হারিয়েছে শুনে সাইফকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছে, মৃ*ত্যু, র*ক্ত, খু*ন এসবে স্নিগ্ধতার এতো ভয়ের কারন কি? কবে থেকে হচ্ছে এমনটা। সাইফ দ্বিধাবোধ করছিলো। পরে অগ্নিলা, শারাফ দুজনে মিলে ওকে বোঝায়। সাইফের অনুধাবন হয়, ওদের সত্যিটা বলা উচিত। স্নিগ্ধতাকে সামলানোর জন্য ওদের স্নিগ্ধতার অবস্থা বোঝা উচিত। তাছাড়া ওরা দুজনে মনোবিজ্ঞানে পারদর্শী। কনসালটেন্ট হিসেবে হলেও ওরা পরিস্থিতি টের পাবে। তাই ঘটনাপ্রবাহ বলতে শুরু করে সাইফ। শারাফ এতোক্ষণ চুপচাপ দাড়িয়ে শুনছিলো শুধু। সাইফকে থামতে দেখে বললো,

– বলুন মিস্টার এহমাদ। শুনছি।

সাইফ শ্বাস ফেললো। আবারো বললো,

– বাবার নিজেরই পুলিশ হবার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু সবরকমের পরীক্ষায় উত্তির্ন হবার পরও যখন কর্তব্যরত অফিসার ঘুষ চেয়ে বসে, পুলিশের প্রতি ঘৃণা বসে যায় তার। সে নিজের পুলিশ হবার স্বপ্নকে দাফন করে পণ করলো, আমাকে ঘুষের টাকা ছাড়াই পুলিশ বানাবে। বাবা সবসময় বলতো, ঘুষের টাকায় পুলিশ হলে সে পোশাকের কোনো মুল্য থাকে না। আমিও তেমন মাইন্ডসেট করে আসি এই ফিল্ডে। কোনোরুপ ঘুষ ছাড়াই চাকরিটা হয়ে যায়। বাবার গর্ব ছিলো, আমার পোশাকে অসততার কোনো দাগ নেই। আর আমি আজঅবদিও তা ধরে রেখেছি। কোনো কলঙ্ক লাগতে দেইনি এই পোশাকে। এটা নিষ্কলঙ্ক।

অগ্নিলার চোখ থেকে অগোচরেই দুফোটা পানি গরালো। দ্রুততার সাথে আড়াল হয়ে ও মুছে ফেললো চোখের জল। সাইফের দিকে তাকিয়ে রইলো একবুক শ্বাসরুদ্ধকর যন্ত্রনা নিয়ে। সাইফের চোখেমুখে গর্ব জ্বলজ্বল করছে, সে ওর দায়িত্বে কতোটা সৎ থেকেছে। ভবিষ্যতে থাকবে, তেমনটার স্ফুলিঙ্গও ওর চোখে যেনো পুরোদমে দেখতে পাচ্ছে অগ্নিলা। নিজের দু হাতের চুড়িদুটোর দিকে তাকালো ও। বিয়ের পর নিয়ম করে চুড়ি পরছে হাতদুটোয়। কোনো একদিন এই দুহাতেই ওকে হাতকড়া পরাবে সাইফ। অন্যায় সমর্থনের দায়ে, সব ভালোবাসার বন্ধনকে মাটি দিয়ে ঘৃণাভরা শিকলে বাধবে ওকে। আর সবটা জেনেও, বুঝেও আর পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই ওর। ভেতরটা চুরমার হয়ে যেতে লাগলো অগ্নিলার। শারাফের দিকে তাকালো একপলক ও। ওদিকে সাইফ বলে চলেছে,

– বাবা বরাবর অনেকবেশি কনসার্ভড্ ছিলো। ভালোবাসার প্রকাশ করতো কম। গম্ভীরতা বেশি ছিলো তার। কিন্তু আমার চাকরিটা হবার পর বাবা অনেকবেশি খুশি হয়ে যায়। এতোবেশি খুশি যে, যে মানুষটা কখনো আমাদের পড়াশোনার জন্য ঢাকার বাইরে কোথাও যেতোনা, আত্নীয়স্বজনদের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়ন তৈরী হওয়াকেও তোয়াক্কা করতো না, সেই মানুষটাই প্লান করে ফেলে, পুরো পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যাবে। অবিশ্বাস্য ব্যাপারটা শুনে দু ভাইবোন যতো না অবাক হয়েছিলাম, তারচেয়ে হাজারগুন খুশি হয়েছিলাম। টুকি তখন সবে ভার্সিটিতে। দুরন্তপণার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার বয়স ওর। ছিলোও তাই! জীবনে প্রথমবার পাহাড়, সমুদ্র দেখতে যাবে, উত্তেজনা, খুশিতে আরোবেশি হুল্লোড় পরে যায় এ বাসায়। সাজানো গোছানো পরিকল্পনার পর কক্সবাজার যাই আমরা। ঘোরাঘুরি, হুল্লোড়ে চোখের পলকে পাঁচদিন কেটে যায় সেখানে। খাচাবন্দি পাখিরা মুক্তির স্বাদ পেলে যেমনটা হয়, তেমনটাই উপভোগ করছিলাম আমরা। আমাদের দু ভাইবোনের জীবনে সবচেয়ে আনন্দভরা মুহুর্ত ছিলো ওই পাঁচদিন! সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিতে ভরপুর ছিলো কক্সবাজার ট্যুর। কিন্তু কখনো কল্পনাতেও ছিলোনা, ছ নম্বর দিনটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে দূর্বিষহ হবে। সবচেয়ে ভয়ানক হবে!

গলায় কথাগুলো অবরুদ্ধ হয়ে আসছিলো সাইফের। অগ্নিলা ওর অবস্থা টের পেলো হয়তো। এগোতে যাচ্ছিলো ও সাইফের দিকে। কিন্তু শারাফ ইশারায় থামিয়ে দেয় ওকে। সাইফ নিজেকে শক্ত রেখে বলে,

– ঢাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে সেদিন একদম ভোরেই বেরিয়ে পরি আমরা। মা বাবা চোখ বন্ধ করে ব্যাকসিটে, টুকি ফ্রন্টসিটে বসে ক্যামেরায় থাকা ছবিগুলো দেখছিলো। আমার পূর্ণমনোযোগ ছিলো ড্রাইভিংয়ে। পাহাড়ি মোড়, খাদগুলো দেখে বেশ সাবধানেই ড্রাইভ করছিলাম। এরমাঝেই আমার কোনো এক ছবি নিয়ে টুকি জ্বালাতে শুরু করে আমাকে। আমিও ওকে ছবিটা ডিলিট করতে বলতে থাকি। অন্যসময় হলে দুজন হয়তো হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যেতাম। কিন্তু ড্রাইভিংয়ে ছিলাম বলে আমি সেভাবেই বলছিলাম ওকে। এই ব্যাপারটাই টুকির ভালো লাগেনি। আমাকে রাগাতে না পেরে দুষ্টুমির ছলে গাড়ির স্টেয়ারিংয়ে হাত দেয় ও। আর ঠিক সে সময়ই কোনো এক মেয়ে আমাদের গাড়ির সামনে চলে আসে। এন্ড আই কুড নট কন্ট্রোল দ্য কার। শেষ হয়ে যায় সবটা!

শারাফ স্থির হয়ে দাড়িয়ে। ওর চোখ ছলছল করছে অনেক আগে থেকেই। অথচ কাদছে না ও। সাইফ নিজের কপাল চেপে ধরেছে। অগ্নিলা আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না। এগিয়ে গিয়ে কাধে হাত রাখলো সাইফের। সাইফ দুহাতে মুখ মোছার মতো করে বললো,

– এক্সিডেন্টের পর কয়েকসেকেন্ডের জন্য চোখ মেলেছিলাম। সৃষ্টিকর্তা আমাকে আমার বেখালিপনার পরিনামের প্রত্যক্ষদর্শী বানাতে চেয়েছিলো হয়তো। সেটুক সময়ে কেবল রক্তের স্রোত আর তার মাঝে আস্তেআস্তে নিস্প্রাণ হতে থাকা টুকিয়ে দেখেছিলাম। খুব চাইছিলাম, উঠে দাড়াতে, টুকির কপাল থেকে গরানো রক্ত থামাতে, ওর মুখ দিয়ে আসা রক্ত থামাতে, ওর গলায়, কাধে, হাতে বিধে থাকা কাচ সরিয়ে দিতে। চেয়েছিলাম আশেপাশের কোথাও পরে থাকা মা বাবাকে দেখতে। টুকি শ্বাস নিচ্ছে। মা বাবাও কি বেচে আছে? শুধু ভাবছিলাম, কেউ কি আসবে না আমাদের সবাইকে হসপিটালে নিতে? আমার সুন্দর হাসিখুশি পরিবারটাকে বাচাতে কেউ আসবে না? ওই অজ্ঞাত মেয়েটিও বা বেচে আছে কি? গাড়িতে চাপা পরে থাকা সে অবস্থাতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রত্যেককে বাচানোর শক্তিটুক চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু পারিনি উঠে দাড়াতে। জ্ঞান হারাই আবারো। আর জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হসপিটালাইজড পাই। নড়চড়ে অক্ষম শরীর নিয়ে পাগলের মতো উঠে দাড়াই পরিবারের খোজে। ডক্টর জানায়, এক্সিডেন্টের পর স্থানীয়রা আমাকে আর টুকিকে হাসপাতালে দিয়ে গেছে। মা বাবা আর ওই অজ্ঞাত মেয়েটির নাকি স্পট ডেথ ছিলো।

ডুকরে কেদে ওঠে সাইফ। শারাফের মুখ দিয়ে শ্বাস বেরোলো। সাইফের থেকে চোখ নামিয়ে নিতেই চোখের জল বেরিয়ে আসলো ওর। কাউকে বুঝতে না দিয়ে শারাফ মুছেও ফেললো সে জল। সাইফের সাথে অগ্নিলাও নিশব্দে কাদছে। সাইফ কাদতে কাদতেই বললো,

– মা বাবা নেই, কথাটা শুনেই পাগলপ্রায় হয়ে যাই আমি। বারবার মনে হতে লাগলে, আমার মতো অপদার্থ ছেলে পৃথিবীতে বোধহয় আর দুটো হয়না। নিজেই নিজের হাতে পুরো পরিবারটাকে শেষ করে দিয়েছি। বটবৃক্ষের ছায়ার মতো যারা সবসময় ভালোবাসায় আগলে রাখতো, সে মানুষগুলো জানতেও পারলো না, যে ছেলের ভরসায় তারা ব্যাকসিটে চোখ বন্ধ করে ছিলো, সেই ছেলেই তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। আমাকে শান্ত হতে বললেন ডক্টর। জানালেন, টুকির অবস্থাও ভালো না। চিকিৎসায় কোনোরকমের রেসপন্স করছে না ও। তার কথা শুনে আরেকদফায় দিশেহারা হয়ে যাই আমি। বাবা-মাকে হারানোর পর টুকিই আমার বেচে থাকার শেষ সম্বল। নিজেকে সামলালাম। বোনকে সামলাতে, হুইলচেয়ারে করে গেলাম আইসিইউতে। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, বিশ্বাস করো শারাফ! দুনিয়ার কোনো ভাইই সে দৃশ্য মানতে পারবে না! মাথাজুড়ে ব্যান্ডেজ, সার্ভিকাল কলার, হাতে ক্যানোলা, শরীরের হাজারটা ক্ষত নিয়ে, বেডে চোখ বন্ধ শুয়ে ছিলো আমার বোনটা। দেখে বোঝাই যাচ্ছিলো, বাবার আদুরে মেয়েটা কোনোমতে তার দেহে প্রাণবায়ুটা অবশিষ্ট রেখেছে। আমি এগিয়ে গিয়ে ওকে ডাকলাম, ‘টুকি? চোখ খোল। এই দেখ ভাইয়া এসেছে৷ টুকি?’

টুকি তখন জবাব দেয়নি। তার আরো দুদিন পর আমার কথায় সাড়া দিলো ও। চোখ খুললো। ঘাড় ঘুরাতে না পেরে কেবল চেখ ঘুরিয়ে তাকালো আমার দিকে। আনন্দে টুইটুম্বর হয়ে থাকা উচ্ছ্বল সে চোখজোড়া যন্ত্রণার অশ্রুতে লালচে হয়ে উঠলো। কোনা বেয়ে জল গরালো টুকির। বড়বড় শ্বাস ফেলে ও অতিকষ্টে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘বাবা কোথায় ভাইয়া? মা কোথায়?’ আমি তখন জবাব দিতে পারিনি ওকে। শুধু বলেছিলাম, ‘তুই সুস্থ হয়ে যা টুকি। তারা ভালো আছে।’
টুকি বিশ্বাস করলো আমাকে। চিকিৎসায় উন্নতি হলো ওর কিছুটা। আমিও এরমাঝে সেরে উঠলাম। তবে এ কয়েকদিনেও বাবা মাকে দেখতে না পেরে টুকি সত্যিটা জেনে যায়। বুঝতে পারে, বাবা মা আর নেই।
আর সবটার শুরু হয় তখনই। টুকির মানসিক স্বাস্থ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এক্সিডেন্টের জন্য ও পুরোপুরিভাবে নিজেকে দায়ী করতে থাকে। নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখতে থাকে। র*ক্ত, খু*ন, ভায়ো*লেন্স সবকিছুকে রিলেট করতে থাকে ওই এক্সিডেন্টের সাথে। সে ঘটনার কয়েকমাস সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো ও। যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলো সবার সাথে। ঘরের এককোনে গুটিয়ে থাকতে শুরু করো আমার বোনটা। বাবার আদরে, মায়ের আচলে মানুষ হওয়া আমার নির্মল বোনটা ক্ষয়ে যেতে থাকে ক্রমশ। ওই ভয়ংকর দিনগুলোর কথা আমি ভাবতেও চাইনা শারাফ। অসহ্য যন্ত্রনা অনুভব হয় মনে পরলে।

অগ্নিলা মুখ খুললো। বললো,

– কনসালটেন্সের ব্যবস্থা করোনি কেনো?

– করেছিলাম। একজন বিদেশী কনসালট্যান্টের পরামর্শে পুরোনো বিষয়গুলো থেকে সরিয়ে আনতে থাকি ওকে। মা বাবার অভাব না মনে করুক, এজন্য নিয়মিত আশ্রমে যেতাম ওকে নিয়ে। ভার্সিটিতে নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসা থেকে শুরু করে, সবরকমের ভায়োলেন্স থেকে ওকে দুরে রেখেছি। কাজেও দিয়েছে সেসব। কখনো পুরোনো কথা মনে পরলে টুকি এখনো নিজেকে দোষ দেয়, তবে মানানো যায় ওকে এখন। আমি মানিয়ে নেই ওকে। শুধু ফোবিয়াটা যায়নি। আর এজন্যই এখনো…

সাইফ নিচের ঠোট কামড়ে ধরে উবু হয়ে সোফায় বসে রইলো। কিছুসময় নিরবতার পর ওরদিক এগোলো শারাফ। বললো,

– আর সেই অজ্ঞাত মেয়েটি? তার খোজ নেননি মিস্টার এহমাদ?

– নিয়েছিলাম। উঠে দাড়ানোর মতো সুস্থ হতেই আমি খোজ লাগাই তার বিষয়ে। আর পাওয়ার মধ্যে কেবল পাই, ওর ডেথ সার্টিফিকেট। মেয়েটা নরওয়েজিয়ান ট্যুরিস্ট। নাম, য়্যুমু।

সাইফ ক্ষীণস্বরে বললেও নামটা বজ্রধ্বনির মতো শোনালো শারাফের কাছে। তা যেনো উচ্চ আওয়াজে প্রতিধ্বনি হতে লাগলো ওর। অগ্নিলার যেনো কিছু একটা মনে পরে গেছে। কপালে হাত দিয়ে হতবিহ্বলের মতো করে এদিকওদিক তাকাতে লাগলো ও। সবশেষে যা দাড়ালো, সেখানেই স্থির হয়ে রইলো ওর মস্তিষ্ক। সাইফ বললো,

– আমি চেয়েছিলাম ওর ফ্যামিলির সাথে দেখা করতে। কিন্তু ওর মা তার সাথে কোনোরুপ যোগাযোগের সুযোগ দেননি। তাই আর…

হাতের পিঠে নাক ডললো সাইফ। ঠিক সেসময়েই স্নিগ্ধতার ঘর থেকে আওয়াজ আসে। উৎকন্ঠা নিয়ে সাইফ-অগ্নিলা তাকালো সেদিকে। শারাফও একপলক তাকালো সে ঘরের দিকে। সাইফ এগোতে যাবে, শারাফ ওর পথ আগলে দাড়ায়। স্পষ্টগলায় বললো,

– আমি স্নিগ্ধতাকে বিয়ে করতে চাই মিস্টার এহমাদ। এজ সুন, এজ পসিবল!

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here