প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_৫২

0
2

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৫২
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

নাওয়াজ আলতো হাতে আভিরার থুতনি ধরে বলল,
– কী হয়েছে? মন খারাপ?

আভিরা খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠল,
– আপনি শুধু আমার।

নাওয়াজ হাসল, বাচ্চামি ভেবে উড়িয়ে দিল মেয়েটার কথা। আজকাল মেয়েটা হুটহাট অদ্ভুত সব কথা বলে বসে। সে তখন হসপিটাল থেকে ফিরেছিল কেবল। হঠাৎ ভিড়ানো দরজা ঠেলে রুমে এলো কেউ। পিছন না ফিরেও অনুভব করেছিল কেউ তার দিকে চেয়ে আছে। তাতেই ক্ষ্যান্ত নেই সে। তার গা ঘেঁষে বুকের মাঝে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে। দু হাতে পেঁচিয়ে ধরতেই নাওয়াজ সচেতন দৃষ্টি ফেলে। বুকের মধ্যে মিশে থাকা রমণীকে দেখে অবাক হয়েছিল অনেকটা। গায়ে তার ঘামে ভেজা শার্ট। উপরের তিন চারটে বোতাম খুলে ছিল কেবল। সে হসপিটাল থেকে ফিরলে সাথে সাথে এই মেয়ে রুমে আসে না। সে ফ্রেশ হওয়ার পর এ ঘরে পা রাখবে। আভিরার অস্বস্তি বুঝতে পারে নাওয়াজ। সেজন্য সেও ডাকে না। ফ্রেশ হয়ে ডাকবে। আজ ডাকতে হয়নি। এসে একেবারে বুকের সাথে মিশে গেল কেন?

অথচ নাওয়াজ একটু ভালো করে তাকালে বুঝতে পারত মেয়েটা কিছু বলতে না পেরে ভিতরে ভিতরে কতটা ছটফট করছে।

আভিরা যেন ভুলতে পারছে না নাওয়াজের এঁটো খাবার লাবণ্য খাচ্ছে। ভার্সিটি থেকে ফিরেছিল আভিরা। আজ দুটো ক্লাস করেই বাড়ি ফিরে আসে। ক্লান্ত শরীর টেনে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার সময় নজর গেল রান্নাঘরে। লাবণ্য কী যেন খাচ্ছে। একটু ভালো করে তাকাতেই আভিরা থমকে দাঁড়ায়। সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে নাওয়াজের খাওয়া হয়নি। কোনোমতে অল্প একটু মুখে দিয়ে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে গিয়েছিল। তার রেখে যাওয়া সে খাবারই লাবণ্য খাচ্ছে। আভিরা হতভম্ব হয়ে সিঁড়িতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। কিছু বুঝে এলো না তার। মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। মেয়েটা কতক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে থেকে দৌড়ে উপরে ওঠে। লাবণ্যর চোখে পড়ার আগেই। সারাটা দিন ছটফট করে কেটেছে তার। লোকটাকে দেখেই তার বুকে ঠাঁই নিল। এবার যদি অস্থিরতা কমে আসে। নয়তো পাগল হয়ে যাবে সে।

আভিরা ভাবছে সে এ কথা বললে যদি লোকটা তাকে ভুল বুঝে। যদি ভাবে আভিরা তাকে অবিশ্বাস করছে। তার আর লাবণ্যর সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যা আরোপ দিচ্ছে। এ লোক তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে সে মরে যাবে। আভিরা বুঝতে পারছে সে এ লোকের প্রেমে পড়েছে, ভয়ঙ্কর এক প্রেমরোগ বাসা বেঁধেছে বা পাশে থাকা হৃদযন্ত্রে!

আভিরা নাওয়াজকে কিছু বলতে পারেনি। কিন্তু মাথায় তার এ কথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। লাবণ্য কেন নাওয়াজের এঁটো খাবার খাবে। এই ভেবেই মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে আভিরার। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে নাওয়াজের সামনে বলে ফেলেছিল লাবণ্য তার সংসার দখল করে রেখেছে। নাওয়াজ এমন কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এ মেয়ে এমন ধারণা নিয়ে রেখেছে লাবণ্যকে নিয়ে। ভেবেই নাওয়াজের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।‌ নাওয়াজ দেখেছে এই মেয়ের কর্মকাণ্ড। শুরু থেকেই সংসার নিয়ে কতটা পসেসিভ এ মেয়ে। কিন্তু তাই বলে এমন বদ্ধ ধারণা পোষণ করবে। সংসার সংসার করতে গিয়ে মেডিকেলে অবধি চান্স পেল না। আবার ঘুরেফিরে সেই সংসার। তবুও মাথা ঠান্ডা রেখে মেয়েটাকে বুঝিয়ে ছিল, এমন কিছু নয়। এ সংসার শুধু আভিরার। এখানে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এটা নিতান্তই তার ভুল ধারণা।
আভিরা শুনেনি, বুঝার প্রচেষ্টা করেনি নাওয়াজের কথা।সেই নিয়েই কথা কাটাকাটি হয় দুজনের। রাগে দুঃখে মাকে কল দিয়ে বলেছিল, বাবাকে বলতে তাকে যেন এসে নিয়ে যায়। মেয়ের কলেই তোফায়েল আহমেদ আসে আভিরাকে নিতে। নাওয়াজ তোফায়েল আহমেদকে দেখেই যেন বুঝল ওনার এখানে আসার কারণ। কোনো প্রশ্ন করেনি। আর না বাধা দিয়েছে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছিল আভিরার চলে যাওয়া। মেয়েটাকে জোর করে আটকে রাখার প্রয়াস অবধি করেনি। নাওয়াজ চাইলে তার অনুমতি ছাড়া তারই সামনে দিয়ে এক পা ও বাড়ির বাইরে রাখার দুঃসাহস দেখাতে পারত না আভিরা। কিন্তু এমন কিছুই করেনি নাওয়াজ। সবসময় এত ছাড় দেওয়া উচিত না। এই মেয়ে সামান্য বিষয়ে বাড়াবাড়ি করছে। তার উপর আবার রাগ দেখিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার সাহস দেখিয়েছে। সে এই মেয়েকে কেন আটকাবে। সব বিষয়ে জেদ দেখাতে নেই। তাও এমন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে। কতদিন থাক বাবার বাড়ি। যদি নিজের ভুল বুঝে। কিন্তু হলো উল্টোটা। দুদিন যেতেই অস্থিরতা ঘিরে ধরে তাকে। মনে হচ্ছিল এই মুহূর্তে মেয়েটার দেখা না পেলে কিছু একটা হয়ে যাবে। সেজন্য ছুটে এলো মেয়েটার কাছে।

নাওয়াজকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে তোফায়েল আহমেদ বললেন,
– কী হলো খাচ্ছ না কেন?

নাওয়াজ এক পলক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,
– খাওয়া শেষ আমার।

ওকে উঠতে দেখে আনেসা বাধ সাজলেন।

– খাওয়া শেষ মানে? কিছুই তো খেলে না। মুরগির মাংস তো নিলেই না দেখছি।

মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,
– তুই এমন দাঁড়িয়ে আছিস কেন? নাওয়াজকে মুরগির মাংস দে।

– দিচ্ছি।

– লাগবে না। খাওয়া শেষ আমার। আমি উঠছি। আপনি খেয়ে রুমে আসুন।

তোফায়েল আহমেদ নাওয়াজকে উঠে যেতে দেখে বললেন,
– আমার রুমে এসো।

– আসব।

– আসো।

– তোমাদের মধ্যে কী কিছু হয়েছে?

তোফায়েল আহমেদ সরাসরি প্রশ্ন করল। মেয়ের হাবভাব মোটেও ঠিক লাগছে না তার কাছে। আনেসা যখন বলল, আভিরা কল দিয়ে বলেছে এ বাড়ি আসবে। তাকে গিয়ে আনতে। শুনে তখন খুশি হয়েছিলেন। নাওয়াজ তো তার মেয়েকে একা ছাড়তেই চায় না। কিন্তু মেয়েটা বাড়ি আসার পর থেকেই কেমন মনমরা হয়ে রুমে পড়ে থাকত। আবার নাওয়াজ আজ হুট করে না বলে চলে এসেছে। সব দেখে যা বুঝলেন কিছু একটা হয়েছে এদের মধ্যে। যা তাদের অজানা। সেজন্য না ঘুরিয়ে সরাসরি নাওয়াজের কাছে জানতে চাইলেন।

– না।

– আচ্ছা, যাও। ক্লান্ত দেখাচ্ছে তোমাকে। রুমে গিয়ে রেস্ট করো।

ভদ্রলোক কথা বাড়ালেন না। নাওয়াজ যে বিষয়টা এড়িয়ে গেল তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি ওনার। তবুও প্রশ্ন করলেন না। বলতে যেহেতু চাইছে না আর কিছু বলাটা ঠিক হবে না। নাওয়াজ তার ছাত্র নেই আর। এখন মেয়ের জামাই। তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করাটা তাকে মানায় না। মেয়েও তেমন কিছু বলেনি। ব্যাপারটা যেহেতু তারা নিজেদের মধ্যে রাখতে চাচ্ছে তার জানতে চাওয়াটা ঠিক হবে না।

আভিরাকে নাওয়াজের প্লেট থেকে খেতে দেখে আনেসা বলল,
– দাঁড়া, অন্য প্লেটে বেড়ে দিচ্ছি।

– লাগবে না। এটাতেই খাব আমি।

– আচ্ছা, লেগ পিস দিব তোকে? ছেলেটা তো কিছুই খেল না।

– দাও।

– প্লেট দে এদিকে।

আনেসাও মেয়ের সাথে খেতে বসল। খেতে খেতে মেয়েকেও পরখ করে নিলেন দু একবার। সামান্য কোনো বিষয় নিয়ে যে এদের মধ্যে ঝামেলা হয়নি তা তিনি নিশ্চিত। তবুও কোনো প্রশ্ন করলেন না। চুপচাপ খেয়ে উঠে দাঁড়ালেন। রান্নাঘরে যেতে যেতে মেয়েকে তাড়া দিলেন তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করার জন্য। প্লেটের সব ভাত পড়ে আছে। এ মেয়ে কিছু মুখেই তুলেনি। মায়ের কথায় আভিরা ভাতের লোকমা মুখে তুলে।

নাওয়াজ কপালে হাত রেখে শুয়ে আছে। আভিরা চুপচাপ এসে নাওয়াজের পাশে কিছুটা দূরত্ব রেখে শুয়ে পড়ল। অনেকক্ষণ ধরে এপাশ ওপাশ করেও ঘুম এলো না চোখে। আভিরা নাওয়াজের দিকে ফিরে চাইল। নাওয়াজের কোনো নড়চড় নেই। সোজা হয়ে কপালে হাত রেখেই শুয়ে আছে সে। আভিরা দূরত্ব কমিয়ে নাওয়াজের বুকে মাথা রাখে। এবারও নাওয়াজকে প্রতিক্রিয়াহীন একইভাবে শুয়ে থাকতে দেখে রাগ হলো আভিরার।

টি-শার্টে ভেজা অনুভব করে চোখ মেলে তাকায় নাওয়াজ। কারো চোখের পানি তার টি-শার্ট ভেদ করে বুকের কাছটা ভিজিয়ে চলেছে। নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে আভিরা। তার কান্নায় কোনো শব্দ নেই। কেউ দেখলে বুঝবে না সে যে কাঁদছে।

– কী সমস্যা?

আভিরা নিশ্চুপ।‌ মেয়েটাকে এমন নিশ্চুপ থাকতে দেখে নাওয়াজ মেয়েটার মাথায় হাত রাখে। রাশভারী কণ্ঠে বলল,
– কথা বলছেন না কেন? কান্না থামান, বিরক্ত লাগছে এবার।

অদ্ভুতভাবে মেয়েটার কান্না থেমে যায়। এমন কথায় আভিরা অবাক হলেও মুখ তুলে চাইল না। আর না বুক থেকে মাথা সরায়। তবে ভিতরে ভিতরে ছটফটে ভাব। তার কান্না এ লোকের কাছে বিরক্ত লাগছে। শুধু কী কান্না? না কি সে নিজেও? কেমন বিতৃষ্ণা অনুভব করল নিজেই নিজের প্রতি। আভিরা অস্থির হয়ে উঠে সহসাই। তার অস্থিরতা স্পষ্ট টের পেল চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকা মানব। তবুও সে নিরুত্তর, প্রতিক্রিয়াহীন।

মেয়েটার উষ্ণ নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে বুকের বা পাশে। নাওয়াজের বুঝতে অসুবিধা হয়নি আভিরা গভীর ঘুমে। মেয়েটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুঁজে। ধীমি আওয়াজে আওড়ায়,
– এত যন্ত্রণা কেন দেন।

_

আব্দুল্লাহকে এমন তড়িঘড়ি করে উঠতে দেখে জিদান পিছু ডাকল।

– কিরে কোথায় যাচ্ছিস?

আব্দুল্লাহ পিছন ফিরে না। একটা রিকশা ডেকে তাতে চড়ে বসে উচ্চস্বরে বলে উঠল,
– কাজ আছে আমার। আসছি।

মুহূর্তেই প্যাডেল চালিত রিকশা সম্মুখে অগ্রসর হতে থাকে। পথিমধ্যে রিকশা থামিয়ে আব্দুল্লাহ গম্ভীর স্বরে বলে উঠল,
– ওঠো।

মেয়েটার রিকশায় চড়ার অভ্যাস নেই। সামান্য পা উঁচু করে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে। আব্দুল্লাহ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
– ধনীর দুলালি আসছে আমার সাথে রিকশায় করে শহর ঘুরতে।

– হাত ধরে উঠে এসো।

আব্দুল্লাহ হাত বাড়িয়ে দেয়। ষোড়শী কন্যা অবলিলায় তার হাত আঁকড়ে ধরে রিকশায় ওঠে।

– কোচিং থেকে এসেছ?

– হু।

– আজ তো তোমার কোচিং ছিল না।

– জি।

– কোচিং এর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছ?

– হু।

– এমন কেন করলে? বাড়ির কেউ যদি জানে তুমি মিথ্যা কথা বলে বেরিয়েছ, তখন কী হবে ভাবতে পারছ?

– ভাবতে চাইছি না।

মেয়েটার কাটকাট জবাব। এই মেয়ে এতক্ষণ ধরে নমনীয় হয়ে জবাব দিচ্ছিল। এখন কণ্ঠস্বর কেমন বদলে গেল, তার কণ্ঠে কেমন অদ্ভুত দৃঢ়তা।

– এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।

– জানি।

– জেনেও কেন ভুল করছ? আমি তোমার জন্য ঠিক না।

– আপনি ছাড়া সঠিক কেউ নেই আমার জন্য।

– পাগলামি করো না। আমার মতো চাল চুলোহীন বখাটের জন্য পাগলামি করা মানায় না।

ষোড়শী কন্যা জবাব দেয় না। বাহু আঁকড়ে মাথা রাখে আব্দুল্লাহর কাঁধে। আব্দুল্লাহ এক নজর তাকিয়ে সামানে দৃষ্টি দেয়। তার চোখের চাহনি নিষ্প্রভ।

– আপনি প্রশ্রয় দিচ্ছেন কেন?

_

– কফির বয়াম কোথায়? মা উপরের তাক এ কেন কফি রেখেছে?

– কী হয়েছে?

– আম্মু কফির বয়াম উপরে রেখেছে। নামিয়ে দিন।

– নিজের কাজ নিজে করুন। আমি পারব না।

নাওয়াজের এমন কথায় রাগে জিদে আভিরা ফুঁসে ওঠে। এ লোক ভালো করেই জানে এত উপর থেকে কফির বয়াম নামানো তার পক্ষে সম্ভব না। নাওয়াজ ঠোঁট কামড়ে হাসছে। আভিরার ইচ্ছে করল এই অসভ্য লোকের মাথার সব চুল ছিঁড়ে ফেলতে। নাওয়াজ এগিয়ে আসে। হুট করে কোমর জড়িয়ে উপরে তুলে নেয় রমণীকে। আভিরা কঠিন চোখে তাকায়। যেন চোখ দিয়েই ভস্ম করে দিবে।
নাওয়াজ ঠোঁট কামড়ে মাথা নুইয়ে ফের হাসল। আভিরার রাগ তরতর করে বাড়ছে। ক্রোধে শরীর জ্বলে যাচ্ছে তার। নাওয়াজের এ হাসি যেন সহ্য হচ্ছে না একেবারে। দু হাত নাওয়াজের বুকে ঠেকিয়ে তার থেকে ছাড়া পাওয়ার প্রয়াস চালায়। কিন্তু বরাবরের মতোই ব্যর্থ হলো।

নাওয়াজ খানিকটা মুখ উঁচুতে তুলে। চোখে চোখ পড়তেই আভিরা শান্ত হয়ে যায়। অদ্ভুতভাবে তার শরীর কেঁপে উঠল। অজানা আশঙ্কায় চোখে মুখে কেমন নিদারুণ অস্থিরতা। নাওয়াজ সামান্য ঝুঁকে রমণীর ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায়। আভিরা দু হাতে মুখ চেপে ধরে। নাওয়াজ এবার উচ্চস্বরে হেসে উঠল। শীতল দৃষ্টিতে চায় আভিরার পানে। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

– মিসেস ইয়াজিদ, চুমু খাওয়ার জন্য আমি মোটেও সরি বলব না। এটা তো কিছুই না। অপেক্ষা করুন। সামনে এই ইয়াজিদের ছোঁয়ায় আপনার কোমল ঠোঁট দুটো ক্ষত বিক্ষত হবে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here