মেজর_ওয়াসিফ #লেখনীতে_ঐশী_রহমান #পর্ব_০৮

0
2

#মেজর_ওয়াসিফ
#লেখনীতে_ঐশী_রহমান
#পর্ব_০৮

সেদিনের ঐ ভয়াবহ দূর্ঘটনাটার পর কেটে গেছে সপ্তাহ খানেক। শারিরীক দুর্বলতা পুরোপুরি না কাটলেও কারো বেশি বোঝার উপায় নেই যে এই লোকটার গায়ে সপ্তাহ খানেক আগে বুলেট গেঁথেছিলো। অসম্ভব রক্তপাত ঘটার পরও তার চেহারায় অসুস্থতার লেশমাত্র নেই। দিব্যি সে নিজের অসুস্থতাকে ছাপিয়ে তিনদিনের মাথায় হসপিটাল থেকে রিলিজ করে কটেজে ফিরেছে। এই তো মাত্র হেডঅফিস থেকে ফিরেই তোরজোর শুরু করেছে বাড়িতে ফেরার। হেড অফিস থেকে ওয়াসিফের সঙ্গে সঙ্গে সামির আর আরিয়ান ও এলো।
ওয়াসিফ যখন একে একে ওর প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো এক হাতে প্যাকিং করছিলো তখন আরিয়ান আর সামির স্যারের পেছনে দাড়িয়ে ছিলো। ওয়াসিফ নিজের কাজ করতে করতে ওদের দেখে একবার, বলে।

“ ডিউটি ছেড়ে আমার পেছনে হাত বেঁধে দাড়িয়ে থাকাটা তোমাদের কাজ নয়।”

সামির বলে_

“ স্যার আপনি অসুস্থ”

ওয়াসিফ এবার ঝুঁকে দাঁড়ানোর থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ায়, বলে।

“ আমাকে দেখে কোনদিক থেকে তোমাদের অসুস্থ বলে মনে হচ্ছে”?

আরিয়ান বলে_

“ আপনাকে দেখে বোঝার উপায় নেই একথা সত্য তবে স্যার, আমরা তো জানি আপনি কতটা অসুস্থ”

ওয়াসিফ সামান্য হেঁসে বসে চেয়ারে, বাম হাতটা ব্যানডেজ করে বুকের সঙ্গে লেপ্টে রাখা তার। ডান হাতের সাহায্যে একটা পা আরেকটা পায়ের উপর তুলে মোজা খোলার চেষ্টা করতেই সামির, আরিয়ান দু’জনে এগিয়ে এসে বলে।

“ স্যার আমরা হেল্প করি”?

ওয়াসিফ নিজের কাজ থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকায় ওদের দিকে। একদম ওর প্রথম অসুস্থতার দিন থেকে এই ছেলে দুটো ওর পেছনে খেটেছে অনেক। কখনো রাত জেগেছে, কখনো ডাক্তারের পেছন পেছন ছুটেছে। কখনো কখনো ওয়াসিফের মাথার কাছে ঠায় বসে থেকেছে। আবার সময় মতো তারা ডিউটি ও করেছে। অথচ তাদের কর্ম জীবনে এমন কোনো দায়বদ্ধতা ছিলোনা যে তাদের ডিপার্টমেন্টের কোনো মেজর গুলি খেয়ে হসপিটালে থাকলে সীমার বাইরেও খেদমত করতে হবে তাকে।ওরা যা করেছে বা এখনো করছে পুরোটাই কোনো এক অদৃশ্য টানে, বিবেকের তাড়নায়। ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে ওয়াসিফ বলে।

“ একহাত এখনো ভালো আছে আমার, আমি পারবো”

আরিয়ান বলে_

“ তবুও স্যার, আমরা তো আছি হেল্প করি”?

ওয়াসিফ ওদের এধরণের আচারণে হেঁসে বলে।

“ যার যার ডিউটি মন দিয়ে করো, আমাকে নিয়ে এতো অস্থির হতে হবেনা”

ওয়াসিফ সু পড়ে, ব্যাগটা তুলে নিতে গেলেই সামির ছো মেরে সেই ব্যাগটা হাতে তুলে নেয়।

“ স্যার,এইটুকু আমরা করি”

“ আচ্ছা করো তবে”

একেবারে কটেজের নির্দিষ্ট জায়গাতে ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর জলছাপার জিপগাড়িটি এসে থেমেছে। এতে করেই মেজর শাহেদ ওয়াসিফকে পৌঁছে দেওয়া হবে তার বাড়িতে। যেখানে তিনি একমাস অথবা একমাসেরও বেশি সময় কাটিয়ে পুনরায় আবার ফিরবে এই নিয়মশৃঙ্খলা পূর্ণ কর্ম জীবনে। গাড়িতে ওঠার আগে ওয়াসিফ ওদের দুজনের সঙ্গে অফিশিয়াল অনেক কথাবার্তা বললো। ওরা দু’জন স্যারের সেসব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলো। কথা শেষে ওয়াসিফ যখন গাড়িতে উঠবে, পেছন থেকে সামির ডেকে বলে_

“ স্যার, আগামী একমাস আমারা আপনাকে খুব মিস করবো”
সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ান ও বলে_

“ অনেক মিস করবো স্যার আপনাকে”

ওয়াসিফ ও কথা শুনে পেছনে ঘুরে, আজ ওয়াসিফের গায়ে নেই কোনো ইউনিফর্ম। অফ হোয়াইট একটা চেক শার্ট সঙ্গে ফর্মাল প্যান্ট, পায়ে সু। অথচ তার পুরো গেটআপে ফুটে উঠেছে এক দায়িত্ববান কর্মকর্তার অবয়ব। ওয়াসিফ ওদের দিকে সেকেন্ড কয়েক তাকিয়ে থেকে সামান্য হেঁসে বলে।

“ দেখতে দেখতে একটা মাস খুব দ্রুতই কেটে যাবে, তোমরা তোমাদের কাজগুলো মন দিয়ে করো। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে কল করবে। কখনো এটা ভাববেনা, স্যার ছুটিতে মানে তাকে কল দেওয়া যাবেনা। এ্যানি টাইম, কল মি। ওকে”?

“ জি স্যার”

“ তোমাদের এবং পুরো ডিপার্টমেন্ট টাকে আমিও আগামী একমাস ভীষণ মিস করবো। সাবধানে থাকবে, আসি, আবার দেখা হবে”

“ জি স্যার”

ওদের বিদায় জানিয়ে ওয়াসিফ গাড়িতে ওঠে, গাড়ির জানালা থেকে ওয়াসিফ দেখে তখনো ওরা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ওয়াসিফ গাড়িতে উঠতেই মিনিটের মাথায় জিপ গাড়িটি তার নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করে। চলন্ত গাড়িটির সিটে গা এলিয়ে দেয় ওয়াসিফ। বেশ বৈচিত্র্যময় জীবন তার। অফিশিয়াল ছুটি হলে এখান থেকে ওর ডিপার্টমেন্টের মানুষগুলোকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগে আবার যখন ছুটি শেষে এখানে ফিরে আসার তাড়া থাকে তখন পরিবারের মানুষগুলো ছেড়ে আসতে খারাপ লাগে। তবুও ছেড়ে আসতে হয়, আবার ছুটি হলেও নিজ ঠিকানায় পৌঁছাতে হয়।

__________

সকাল সকাল ঘুম ভেঙে ধারা যখন নিচে গেলো তখন মা-চাচীদের তোরজোর করতে দেখে ওর মস্তিষ্ক ওকে মনে করিয়ে দিলো পুরো একটা সপ্তাহ ঘুরে আজ বারে সোমবার। গত সোমবারে কলে ওয়াসিফের বলা কথাটা মনে পড়লো ততক্ষণে “ আমরা ঘরটা গুছিয়ে রাখবি”। ধারা যদিও ওকথার বিপরীতে বলে দিয়েছিলো “ পারবোনা”। ধারাকে ওভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রান্না ঘর থেকে ওর মা সামিরা বেগম চেচিয়ে বলে।

“ ও ঘর থেকে লবনের প্যাকেটটা নিয়ে আয় তো”

মায়ের ডাকে ধারার ধ্যান ভাঙতেই ও ছুটে গিয়ে লবনের প্যাকেট দিয়ে আসে। ধারা চলে আসতে গেলেই সামিরা ফের বলে।

“ ওয়াসিফের দুটো শার্ট আছে, ঐ দুটো আয়রন করে রেখে আসিস তো ওর ঘরে। বাড়িতে এলে পড়বে”

ধারা চুপচাপ মায়ের কথা শুনলো তবে জবাবে কিছু ই বললোনা। এই ভদ্রমহিলা যখন ওয়াসিফ সম্পর্কে কোনো কথা তাকে বলে ধারা বিপরীতে কোনো শব্দের শেষে না যোগ করলে শ’খানেক কথা ধারাকে শুনতে হবে। তাই চুপ থেকে ও বেরিয়ে আসে রান্না ঘর থেকে।

____

লুইপা ঘরে ঢুকেই দেখে ধারা গড়িমসি করছে, কলেজ ড্রেস হাতে নেড়েচেড়ে দেখেও পড়ছেনা। লুইপা গিয়ে বসে চেয়ারে নিরবে। কতক্ষণ ধারাকে দেখে বলে।

“ কি সমস্যা? কলেজে যাবিনা”?

ধারা আচমকা একটু চমকে ওঠে, কারণ ও টের পায়নি এ ঘরে লুইপা এসেছে।

“ যাবো, আবার যাবোনা”

“ এ আবার কেমন ধরনের কথা? যাবি, যাবিনা মানে কি”?

“ মানে হলো আমি ম্যাথ বাড়ির কাজ করিনি, করিনি বললে ভুল হবে, পারিনি, গতকাল টিউশন পড়ায়নি স্যার সুমন স্যার। আজ সোমবার, রমেশ স্যারের উচ্চতর গনিত ক্লাস, বাড়ির কাজ জমা না করলে বেতের ঘা পড়বে”

“ এই জন্য যাবিনা”?

“ ভাবছি”

“ তোর ভাবতে ভাবতেই ভাইজান এসে পড়বে”

ধারা বিছানায় দুই পা ঝুলিয়ে বসে থাকে কতসময়। এরপর বিছানা ছেড়ে উঠেই হেলেদুলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। লুইপা পেছন থেকে ডেকে বলে।

“ ঐ ছ্যামরি কই যাস”?

ধারা খামখেয়ালি উত্তর দেয়।

“ যেদিকে দুচোখ যায়”

“ যা”

মিনিট দুই পরই আবার ধারা ফিরে এসে দরজা থেকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে ভেতরে থাকা লুইপার কাছে জিজ্ঞেস করে।

“ তোদের ভাইজান কতদূর আপা?”

লুুইপার মনোযোগ ফোনে ছিলো, ধারার প্রশ্নে মাথা তুলে চাইলো একবার। বললো।

“ তোর পতির খবর আমি কিভাবে জানবো? সে কতদূর সে খবর তো তুই ই ভালো জানবি”

আপার জবাবে মোটেও খুশি হতে পারলোনা ধারা। মুখে ভেঙছি কেটে সরে গেলো দরজা থেকে। লুইপা আবার আড়চোখে তা দেখে ফেলে হাসে। ওপাশে তখন মুনিব কলে ছিলো। ও নিরবে চুপচাপ শুনছিলো দুবোনের কথা। ধারা চলে যেতেই লুইপা ফোন কানে ধরে বলে।

“ হ্যালো! আছো তুমি”?
ওপাশ থেকে নিরবতা ভেঙে মুনিব বলে।

“ হ্যা আছি, শুনছিলাম তোমাদের কথা”

“ তা কি শুনলে শুনি”?

“ আচ্ছা তার আগে একটা কথা বলোত এই জোড়া শালিকের রোগ কি? মানে একজন কওয়া নেই বলা নেই ধুম করে মাঝরাতে বিয়ে করে নিলো আরেকজন বিয়ে করবে না বলেও জেদ ধরে থাকলো তবুও এক প্রকার হেরে বিয়ে হলো তাদের। এদের মধ্যকার কাহিনি কি”?

লুইপা একটা ভারী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে খাটে হেলান দিয়ে বসে বলে।

“ তাদের মধ্যকার কাহিনি বিস্তার, এতো কথা ফোনে বলা যায়না। শুধু এতটুকু শুনো, কেউ যদি প্রথমবারের মতো কাউকে পছন্দ করে সে কথা জানিয়ে অপমানিত হয় তবে সেই সম্পর্কে তার তিক্ততা চলে আসে, কিন্তু ভালোবাসা বা টান কমেনা। অনুভূতি ঠিকই থাকে তবে তা প্রসারিত হয়না। ধারার ব্যাপারটা এখানে তেমন। আর ভাইজানের কথা জানি না, ঐ মানুষটার ভেতর বাহির বোঝার ক্ষমতা আমার মতো লুইপার নেই।”

#চলবে

আমি সে-সকল পেজ এবং পেজের মালিকানায় যারা রয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি। আমার নাম সহ আমার লেখা গল্পটা নিজস্ব পেজে দিচ্ছেন ঠিক আছে । তবে পরবর্তী পর্ব দয়া করে চ্যাটজিপিটি দিয়ে লিখবেন না। এতে গল্পের সৌন্দর্য হারায়, আর সেই চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা গল্পটাতে আমার নাম দিয়ে বিষয়টা আরো বিরক্তিকর করছেন। এসব অপকর্ম কইরেন না। এভাবে উপরে ওঠা যায়না। অপেক্ষা করুন ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না আমি নতুন পর্ব লিখছি। আশা করি কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই আপনাদের এতটুকু বিবেক হবে বলে আশা রাখি। একটু বিবেকবোধ রেখে জীবনে চলতে হয় যেহেতু আমারা সৃষ্টির সেরা জীব।
আজকের পর আমি শুধু দেখবো আপনাদের বিবেকবোধ কতটুকু হলো। এই বিষয় আর কোনো পোস্ট আমার তরফ থেকে আসবেনা। একটা সময় পর আপনারা ও একদিন থেমে যাবেন কিন্তু এই বর্তমান সময়ে আমাদের হয়রানি না করলেও পারতেন।

[ প্রিয় পাঠক, গল্প পড়ে অবশ্যই রেসপন্স করে যাবেন, ২ হাজার রেসপন্স উঠলেই পরবর্তী পর্ব ততক্ষণাত পোস্ট করা হবে। চুপচাপ গল্প পড়ে শুধু চলে যাবেন না। আর অবশ্যই পেজ ফলো করবেন]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here