#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [ পর্ব-১০ ]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি
আহিয়ানের বাইকটা এই মাত্র বাসায় প্রবেশ করতে না করতেই অন্ত,অনন্যা আর জয় তাদের মামা-মামিকে দেখে ছুটে এলো।মুখে তিনজনের অমায়িক হাসির ঝিলিক। আহিয়ান তিন ভাগ্নে ভাগ্নিকে দেখে হালকা হাসলো।
জয় তার মামাকে দেখেই ফিচেল হেসে দুই হাত বাড়িয়ে দিল বাইকে ওঠার জন্য।আহিয়ানের হাসিটা এবার আরেকটু বৃস্তিত হলো।আহিয়ান বাইকে বসেই দুই হাত বাড়িয়ে জয়কে শূণ্যে তুলে নিল।তারপর নিজে বাইকের সামনে থেকে একটু সরে বসে, জয়কে নিজের সামনে বসিয়ে দিল।জয় বাইকে চড়েই বেশ খুশি হলো।খুশির ঠেলায় সে দুই হাত ভাঁজ করে বাইকের ফুয়েল ট্যাংকে দুইটা থাপড়া দিয়ে বলল,
” ভুমম ভুমমম পিপিপ… ”
অন্তও দাড়িয়ে নেই।সে একটু বড় হওয়াতে সুবিধা।সে আহিয়ানের শার্ট খামচে ঠাস করে বাইকের উপরে উঠে গেল। আহিয়ান নিজের এক হাত পিছনে নিয়ে অন্তকে বসতে সাহায্য করলো।আহিয়ান অন্তর পিঠে হাত রেখে বলল- ” বসো ভালো করে। ”
অন্ত উঠে বসতেই,আহিয়ান জয়ের চুলের ভাঁজে হাত ঢুকিয়ে চুল গুলো উপরে তুলে দিতে বলল,
” মামা বাইকে চড়তে ভালো লাগে তোমার? ”
জয় মাথা নাড়িয়ে বলল,
” উমম…,তোমাল হুন্ডালটা আমাতে দিয়ে দাও। ”
আহিয়ান ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাসি আটকে অনন্যার দিকে তাকালো। অনন্যাও ওঠার জন্য তাকিতুকি করছে।আহিয়ানের অধর আবার ফাঁক হলো,
” কি? আম্মাজান,আপনি উঠবেন না? ”
অনন্যা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল,
” আমিও উঠবো মামা ”
অনন্যা রোদেলার দিকে তাকিয়ে রোদেলার হাত ঝাঁকাতে লাগলো তাকে বাইকে তুলে দেওয়ার জন্য। রোদেলর হুঁশ নেই।কোথায় যেন হারিয়েছে সে।আহিয়ানও তা লক্ষ্য ভ্রু কুঁচকে নিল।
রোদেলা বাইক থেকে নামতে নামতে আহিয়ানের হাসিটুকু দেখে ভীষণ তখন ভীষণ চমকে ছিল। বাচ্ছাদের দেখে আহিয়ান তখন অমায়িক হাসছিল। লোকটার হাসি এতো সুন্দর তার আগে জানা ছিল না।হঠাৎ বুকটা বিনা কারণে লাফিয়ে উঠেছিল রোদেলার। রোদেলা নিজের অনুভূতিকে ঠিক মতো বিস্তার করে উঠার আগেই হাতে টান অনুভব করে নিজের কল্পরাজ্য থেকে বেরিয়ে এলো।রোদেলার একটা হাত অনন্যা ধরে টানাটানি করছে।রোদেলা স্বাভাবিক হতেই শ্রবণ ইন্দ্রিয়তে হানা দিল পিচ্চি রিনরিনে কন্ঠ,
” ও মামি আমাকে উঠিয়ে দাও না বাইকে। ”
রোদেলা থমথম খেয়ে অনন্যাকে দেখে নিয়ে সামনে তাকিয়ে চমকে গেল।আহিয়ান তার দিকে কেমন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। দৃষ্টিতে কেমন যেন একটা রহস্যতা খেলা করছে তার।মুখটা আগের ন্যায় শক্ত না হলেও আহিয়ানের মুখো ভঙিমা দেখে রোদেলা কিছুই আন্দাজ করতে পারলো না।রোদেলা দৃষ্টি ঘুরিয়ে আহিয়ানের সামনে আর পিছনে দুই ভাগ্নেকে বসে থাকতে দেখে মুচকি হাসলো।রোদেলাকে দেখে জয় লুকোচুরি খেলার মতো উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল। রোদেলা তাকাতেই সে আহিয়ানের বলিষ্ঠ বুকের ভিতরে ঢুকে যেতে চাইলো। অনন্যার কথা স্মরণে আসতেই রোদেলা অনন্যাকে দুই হাতে উপরে তুলে অন্তর সামনে আর আহিয়ানের পিছনে বসিয়ে দিল।অন্ত আগে থেকে পিছনে সরে গিয়ে নিজের বোনের জন্য জায়গা করে রেখেছিল।অনন্যা উঠে বসতেই আহিয়ানকে শক্ত করে ধরে বসলো। সবাই আহিয়ানকে তাড়া দিয়ে এক সাথে বলতে লাগলো,
” মামা তুমি গাড়ি চালাও এবার। ”
অনন্যা তার হাতে রাখা একটা লাল গোলাপ রোদেলার দিকে এগিয়ে দিল।
” মামি এটা তুমি নিয়ে যাও। ”
রোদেলা হাত বাড়িয়ে গোলাপটা নিল।এটা অনন্যা একটু আগেই বাগান থেকে ছিড়েছিল।আহিয়ান ভাগ্নে ভাগ্নির ইচ্ছা পূরণে, গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছিল তখন।রোদেলা ভেতরে চলে যাবার জন্য পিছনে ঘুরতেই হাতের চুড়িতে টান অনুভব করলো। রোদেলা পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখলো আহিয়ান তার চুড়ির ভিতরে তর্জণী আঙুল ঢুকিয়ে তাকে আটকে রেখেছে।রোদেলা থতথম খেয়ে আহিয়ানের দিকে তাকাতেই একজোড়া শূণ্য দৃষ্টির চোখের মালিকের সাথে তার চোখ মিলিত হলো।
রোদেলার বুকটা খচখচ করে উঠলো। মুখে তার লাজুকতা নেমে এলো তবে তা প্রশয় না দিয়ে, রোদেলা আহিয়ানের দিকে আবারও তাকালো।
আহিয়ান রোদেলার চুড়িতে নিজের তর্জনী আবদ্ব রেখেই সম্মোহনী অথচ গম্ভীর কন্ঠে বললো,
” বউ মানি না বলেছি। তাই বলে যে দায়িত্ব পালনে কার্পণ্য করবো, এমনটা ভেবে নিও না।
তাই আবারও বলে দিচ্ছি, সাবধান!
আমার বাড়িতে থেকে বেশি উড়া উড়ি করো না মেয়ে। ”
রোদেলাকে কথা গুলো বলেই আহিয়ান রোদেলার চুড়ির ভেতর থেকে তর্জনী আঙুল সরিয়ে নিল।রোদেলা আহিয়ানের কথা গুলো শুনে আর এক মুহুর্তও দাড়ালো না দৌড়ে ভেতরে চলে গেল। আহিয়ান সেদিকে দেখার প্রয়োজন টুকুও মনে করলো না।না অনুভব করলো কোনো অনুভূতি।সবটাই যেন রোবটিক ভঙিমায় শেষ করেছে সে।
রোদেলা চলে যাওয়ার পরপর আহিয়ান বাইক স্টার্ট দিয়ে চালাতে শুরু করতেই অন্ত,অনন্যা আর জয় মিলে হাত তালি দিল। জয় গাড়িতে চড়তে চড়তে মুখ দিয়ে শব্দ করছে,
” ভুমমম..ভুমমমম,,,,পিপিপ…..”
আহিয়ান তিন ভাগ্নে ভাগ্নির খুশি দেখে নিজেও আজ প্রাণ খুলে হাসলো। এই তিন জনকেই সে ভীষণ স্নেহ করে, ভালোবাসে।
___________
অন্বেষা,অবন্তি বাড়িতে নেই।তারা দুইজনেই ভার্সিটির লেকচারার। তাদের স্বামীরাও গতকাল চলে গিয়েছিল নিজেদের বাসায়, কাজের চাপের জন্য। মাশরিফাও বাড়িতে নেই স্কুলে গিয়েছে। জাবির সাহেবও বাসায় নেই নিজের কলেজে গিয়েছে। সবাই নিজেদের কর্মসংস্থানে কাজে ব্যস্ত নিত্যদিনের মতো।আহিয়ান সাময়িক সাসপেন্ড না হলে হয়তো আজ সেও কর্মস্থানে ব্যস্ত থাকতো।
রোদেলার খুব ভালো লাগে,কারণ তার শশুড় বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্য উচ্চ শিক্ষিত। সবাই নিজেদের জীবনে সফল। সবাই কি সুন্দর নিজেদের ক্যারিয়ার গড়েছে।রোদেলার ভীষণ ভালো লাগে সবাইকে।এই পরিবারের সবাই টিচার পেশার সাথে যুক্ত। শুধু আহিয়ান বাদে।রোদেলার আবার হাসি পেল বিষয়টা চিন্তা করে।বারান্দায় বসে এসব ভাবনায় ব্যস্ত ছিল রোদেলা।
আফিয়াও বাসায় নেই, এখানে তার নাকি কোন বান্ধবীর বাসা আছে। সেখানেই এক বুড়ি তার আরেক বুড়ি বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে গিয়েছে।
বাইকে চড়ে ইচ্ছা মতো আনন্দ করে অন্ত,অনন্যা আর জয় রোদেলার কাছে এলো।আহিয়ান এদের নামিয়ে দিয়ে নিজের রুমে ঢুকে গোসলে গিয়েছে।রোদেলা মাত্রই গোসল করে চুল ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে বসে ছিল। তখনি অন্ত,অনন্যা আর জয় ছুটে তার রুমে ঢুকেছে।
রোদেলাকে বসে থাকতে দেখে জয় রোদলায় সালোয়ারে মুঠো করে ধরে কোলে উঠে বসলো।অন্ত আর অনন্যা রোদেলার দুই পাশে গিয়ে বসলো।রোদেলা জয়ের ফুলো ফুলো গালে ঠোঁট ছুইয়ে বলল,
” খেয়েছো তোমরা? ”
অন্ত জানালো খাইনি তারা।লতিফা তাদের খাওয়ার জন্য জোর করলেও খাইনি তারা।
রোদেলা জিজ্ঞেস করলো,
” কেন খাওনি? ক্ষিদে পায় নি? ”
অনন্যা বলল,
” মামি তোমার হাতে খাবো। ”
রোদেলা বলল,
” আচ্ছা সবাই চল আমার সাথে।
আমি খাইয়ে দিব।আসো। ”
রোদেলা জয়কে কোলে নিয়েই বেরুলো।তার পিছনে অনন্যা আর অন্ত এলো।রোদেলা একটা প্লেটে জয়ের জন্য খিচুড়ি নিয়েছে,সাথে মুরগির কলিজা। অন্তকে মুরগির মাংস দিয়ে ভাত মাখিয়ে দিয়েছে সে লক্ষ্ণী ছেলের মতো খেতে শুরু করেছে।রোদেলা জয়কে খাইয়ে দিবে বলে বিরক্ত করলো না। রোদেলা অনন্যাকে ভাত মাখিয়ে দিতেই, অনন্যাও তার ভাইয়ের দেখাদেখি খেতে শুরু করেছে। জয় ডাইনিং টেবিলের বসে আছে।রোদেলা তার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে।জয় চোখ ঘুরিয়ে দুই -ভাই বোনকে দেখছে আবার রোদেলাকে দেখছে আর খাচ্ছে। রোদেলা বুঝতে পারলো বাচ্চা তিনটার খুব ক্ষুধা লেগেছিল হয়তো ।
রোদেলা জয়কে পানি খাওয়াচ্ছিল তখনি আহিয়ান গটগট করে নিচে নেমে এলো।আহিয়ানের পরনে একটা কালো সাদায় চেকচক লুঙ্গি আর বাদামি রঙের টিশার্ট। তাকে দেখতে পুরো দস্তর বাঙালি ছেলের মতো লাগছে।রোদেলা আজই আহিয়ানকে লুঙ্গি পরনে দেখলো। অবশ্য আহিয়ানকে সে দেখছেই বা ক’দিন।হয়তো লোকটা লুঙ্গি পরে অভ্যস্ত আছে, পরনের স্টাইল আর হাটার ভাব ভঙিমা দেখেই রোদেলা বুঝতে পারলো তা।
মাত্রই গোসল করে আসার কারণে আহিয়িনের চুল গুলো এখনো ভেঁজা। ডাইনিং এর সামনে আসতেই আহিয়ান আর রোদেলার চোখাচোখি হলো। আহিয়ানের তীক্ষ্ণ চাহনিতে রোদেলা টিকে থাকতে না পেরে চোখ নামিয়ে নিল। আহিয়ান তিন ভাগ্নে ভাগ্নিকে খেতে দেখে কাছে এগুলো।জয় তার মামাকে দেখেই ডাকলো,
” মামা কোলে..”
আহিয়ান জয়ের কাছে এলো জয়কে কোলে তুলে নিতে।জয় একটু আগে আর খাবে না বলে উঠে যাচ্ছিল।রোদেলা জোর করে খাওয়ানোর জন্য জয়কে কোলে তুলে নিয়েছিল। এখন খাবার না খাওয়ার বাহানায় আহিয়ানের কোলে চলে যেতে চাইছে।
জয় কোল থেকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে। জয়কে কোলে তোলার সময় আহিয়ানের হাত নিজের অজান্তেই রোদেলার কোমল বক্ষ স্পর্শ করতেই রোদেলা তার জায়গায় জমে গেল একদম।আহিয়ানের মতো শক্ত কাটখট্টা পুরুষও সেই স্পর্শে কেঁপে উঠলো। রোদেলা মাথা নুইয়ে ছিটকে সরে গেল। কি হলো ব্যপারটা আহিয়ানের বুঝে আসার পর,তার নিজেরও কেমন অস্বস্থি হচ্ছে।মুহুর্তেই সব কিছু যেন কেমন নীরবতায় ছেয়ে গিয়েছে।রোদেলার চোখে পানি চলে এসেছে।এরকম ঘটনার জন্য সে একদমি প্রস্তুত ছিল না।অতিরিক্ত লজ্জায় আর জড়তায় মেয়েটার হাত পা থরথর করে কাঁপছে। আহিয়ান ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রোদেলাকে একপলক দেখে নিয়ে নিজেই নিজের প্রতি রেগে গেল।আহিয়ান এরকম একটা ঘটনায় অস্বস্তিতে পরে গিয়েছে ভীষণ।মেয়েটা তাকে পাছে খারপ ভেবে বসলো না তো এই চিন্তা করে তার মতো একজন বলিষ্ঠ,কাটখোট্টা স্বভাবের আর্মি মেজরেরও দরদর করে ঘাম ছুটে যাচ্ছে।
আহিয়ান রোদেলাকে কিছু বলতে নিচ্ছিল কিন্তু তার আগেই রোদেলা এক ছুটে নিজের রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিল। আহিয়ান রোদেলাকে এভাবে চলে যেতে দেখে আরও অস্বস্থি বোধ করলো। জয়,আহিয়ানের কোলে থেকেই ভ্রু কুঁচকে তার মামির হাব ভাব দেখলো।অন্ত,অনন্যা আর জয় কেউ বুঝতে পারছে না রোদেলা এভাবে চলে গেল কেন?
অনন্যা তার মামার দিকে তাকিয়ে বলল,
” মামা,মামি দৌড়ে চলে গেল কেন? তুমি কি মামীকে মেরেছো? ”
আহিয়ান অস্বস্তিতে দাঁতে ঠোঁট কামড়ে ধরলো।তারপর গলা খাঁকাড়ি দিয়ে বল,
” তোমাদের মামী এমনিতেই চলে গিয়েছে।তোমরা এখন ঝটপট খাবার শেষ করো। ”
কথাটা বলে আহিয়ান জয়কে কলো নিয়েই একটা চেয়ার টেনে বসলো।তারপর প্লেটে অল্প ভাত তরকারি বেরে নিয়ে খেতে শুরু করলো।
__________
বিকেল চারটা। বাসার সবাই যার যার কর্মস্থল থেকে ফিরেছে অনেক আগেই। জয় আহিয়ানের বুকের উপর ঘুমিয়ে আছে।আহিয়ানের ডান পাশে অনন্যা,আর বাম পাশে অন্ত শুয়ে আছে।
অন্বেষা বিকাল তিনটায় বাসায় ফিরেই ভাইয়ের রুমে বাচ্চাদের আর আহিয়ানকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছিল। তারপর কাউকে না জাগিয়ে চুপচাপ নিচে চলে গিয়েছিল।
আচমকা কলের তীব্র শব্দে ঘুমের ব্যঘাত ঘটতেই আহিয়ান বিরক্তিতে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলো।ফোনের বিপরীত পাশ থেকে ক্যাপটেন জাহিদ জায়ানের কন্ঠ ভেসে এলো,
” হ্যালো! স্যার। …………………….. ”
আহিয়ান আর জায়ানের মাঝে কিছু একটা নিয়ে অনেকক্ষণ আলোচনা চললো।আহিয়ানের চোয়াল জুড়ে এক কাঠিন্যতার ছায়া নেমে এলো তারপর পরই।
সারাদিন আর রোদেলার আনাগোনা চোখে পরলো না আহিয়ানের। আহিয়ানের নিজেরও খুব অস্বস্তি হচ্ছে বিষয়টা নিয়ে।বাচ্চাদের ঘুমে রেখেই আহিয়ান ফ্রেশ হয়ে হয়ে রেডি হয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।
______________
রাত ৮:৩০।
ডাইনিং টেবিলে সবাই খেতে বসেছে।মাশরিফা আহিয়ানকে ডেকে নিচে নামিয়েছে।বিকেলে কোথাও একটা গিয়েছিল আহিয়ান।একটু আগেই বাড়িতে ফিরেছে সে।
সবাই খেতে বসে লক্ষ্য করলো রোদেলা নেই এখানে।
মাশরিফা খবার বারতে বারতে আফিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
” রোদেলাটা কোথায় মা?আজ তার দর্শন পেলাম না আসার পর থেকে।ভেবেছি বাচ্চাদের সাথে খেলছে। এখন দেখি বাচ্চারাও এখানে? ”
আহিয়ান চেয়ার টেনে বসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
মাশরিফার কথায় না চাইতেও আহিয়ানের হাত থেমে গেল।আহিয়ানের দৃষ্টিও আফিয়ার দিকে চলে গেল। যেন সেও জানতে চাইছে ” রোদেলা কোথায় আছে ?”
আফিয়া বলল,
” সন্ধ্যার আগে থেকে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।কি হয়েছে বুঝতে পারছি না। এখনো তো উঠলো না । কয়েকবার ডেকেছিলাম আমি। বলল, বুড়ি ডেকো না আমায়। ”
আহিয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেল আফিয়ার কথা শুনে।তবে সে কোনো কথা না বলে নিজের মতো চেয়ার টেনে বসলো।আফিয়া চিন্তিত মুখ করে এগিয়ে গেল রোদেলার রুমের দিকে।
মাশরিফা রোদেলার রুমে গিয়ে লাইট অন করে দেখলো মেয়েটা কেমন কুঁচকে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।মাশরিফা কয়েক বার ডাক দিল,
” এই রোদেলা, কি হয়েছে তোর ? ওঠতো দেখি? ”
কোনো সারা শব্দ পাওয়া গেল না।শুধু মৃদু অদ্ভুত গোঙানি শুনতে পেল মাশরিফা।মাশরিফা কম্বলটা সরিয়ে রোদেলার গা স্পর্শ করতেই চমকালেন।রোদেলার গা অতিরিক্ত গরম হয়ে আছে।মাশরিফা কপাল হাত ঠেকিয়ে চেক করে বুঝলো বেশ ভালোই জ্বর এসেছে।এই জন্যই বিকেল থেকে বাসায় আসার পর তিনি রোদেলার পাত্তা পাচ্ছিলেন না বুঝতে পারলেন। একই সঙ্গে খারাপও লাগলো তার,মেয়েটার খেয়াল রাখতে না পারায়।মাশরিফা রোদেলার এলোমেলো চুলগুলো কানের পিছনে গুজে দিতে দিতে বললেন,
” জ্বর এসেছে আমাকে বলা যেত না? মাকে বললি না কেন গায়ে জ্বর আসছে তোর। তাহলেই তো মা আমাকে বলে দিত। ”
রোদেলা অস্ফুষ্ট কি যেন বললো। মাশরিফা বুঝলো না। মাশরিফা একটা তোয়ালে ভিজিয়ে এনে রোদেলার গাটা মুছিয়ে দিল। মাথায় জলপট্টি দিতে দিতে রোদেলার পাশেই হেলান দিয়ে চোখ বুজে ফেলল।
_____________
রাত ১০ টা।
মেজর সায়ান শিবলী রাজশাহী সেনানিবাস থেকে বাইক চালিয়ে আহিয়ানদের বাসাল উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছে।পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আজ ছুটি পেয়েছে সে। শিবলী ভাবলো বাসায় যাওয়ার আগে আজ আহিয়ানকে জ্বালিয়ে নিবে, নয়তো তার শরীরের হাড্ডিসারে শান্তি নামবে না। আগে আহিয়ানদের বাসায় যাবে,পরে বাড়িতে ফিরবে সে।আহিয়ানরা গ্রামের বাড়িতে ঈদের আগের দিন যাবে।শিবলী ভাবলো আজকে আর কালকে ভালো সময় পাবে সে আহিয়ানের পিছনে লাগার।এইটুকু সময় বরবাদ করার কোনো মানে হয় না।
শিবলী মনে খুশিতে হেলেদুলে বাইক চালাচ্ছে।খুশির চোটে সে ভুলেই যাচ্ছে সে এখন বাইকে বসে আছে। শিবলীর সামনে আহিয়ানের রাগি রাগি চেহারাটা ভাসছে। শিবলী দাঁতে ঠোঁট কামড়ে শয়তানি হাসি দিল। দুই ভাইয়ে ভাইয়ে যতই রেশারেশি থাকুক না কেন,পরিবারের কেউ এসব জানে না।আহিয়ান আর শিবলী দুইজনই নিজেদের শত্রুতা নিজেদের মধ্যে গচ্ছিত রেখেছে।মাশরিফা সহ সকলেই শিবলীকে খুব আদর করে।ঠিক তেমনি আহিয়ান তার পুরো গোষ্ঠীতে সবার চোখের মণি।
শিবলীর খুশিতে বাইক রেখেই নাচতে ইচ্ছে করছে।তার কাজ কর্ম ভীষণ অদ্ভুত। তার এই উদ্ভট কাজ কারবার মাঝে মাঝেই মানুষকে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য করে। তখন বিষ্ময় মাখা সামনের মানুষের মুখ থেকে একটি কথায় বের হয়,
” এ আসলেই আর্মির মেজর তো? নাকি রাস্তার রং বাজ, সস্তা মাস্তান? ”
শিবলীর অধর যুগল থেকে হাসি সরছেই না।আশেপাশে রাস্তায় চোখ বুলিয়ে দেখলো রাস্তা অনেকটা ফাঁকায় আছে। ব্যস এতেই হবে। আপাদত সামন্য হলেও সে সেলিব্রেট করে নিতে পারবে।শিবলী তার Yamaha R15 V4 মডেলর বাইকটার গতি আরও বাড়িয়ে দিল। মোবাইলের সাথে ব্লুটুথ কানেক্ট করে তাতে আতিফ আসলামের একটা গান ছাড়লো-
Jaagi jaagi soyi na main saari raat…
tere liye
Bheegi bheegi palkein meri udaas…
tere liye
Jaagi jaagi soyi na main saari raat…
tere liye
Bheegi bheegi palkein meri udaas…
tere liye
এবার শিবলীও নিজের গলা মিলালো। চিল্লিয়ে বাইক চালাতে চালাতে গানের সুর তুললো –
Akhiyan beechayi maine… tere liye
Duniya bhulayi maine… tere liye
Jannate sajayi maine tere liye
Chod di khudai maine tere liye
Jannate sajayi maine tere liye
Chod di khudaiiii.oooo…
Tere liye
jhoomoon deewana banke tere liye
Vaada hai mera main hoon tere liye
Hona kabhi tu judaaaaa ..
Tere liye
jhoomoon deewana banke tere liye
Vaada hai mera main hoon tere liye
Hona kabhi tu judaaaa ..
Hoo bheegi bheegi raat mein
lekar ke tujhko saath mein
Madhosh hue jaayein hum,
aa faasle karne de kum
Zara paas tu aa mere,
dheere se chu ja mujhe
Kho jaaun tere pyaar mein,
baahon mein bhar le mujhe
Ooooo ooooo..
Tere liye
jhoomoon deewana banke tere liye
Vaada hai mera main hoon tere liye
Hona kabhi tu judaaaaa..
Tere liye
jhoomoon deewana banke tere liye
Vaada hai mera main hoon tere liye
Hona kabhi tu judaaaaa ..
Hoo bhikari teri khushbuyein
meri zindagi ki talaash mein
Doobe lamhe mere har
pal tere ehsaas mein
Mere khwab kehne lage,
palkon mein rakhle inhein
Thoda chain mil jaaye ga,
tu ishaara kar de inhein
Ooooooo
শায়ান যখন উৎদ্ভট ভাবে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে চিল্লিয়ে গানের সুর তুলছিল তখন পাশ কেটে চলে যাওয়া গাড়ির যাত্রীরা তাকে অদ্ভুত ভাবে দেখছিল।সে অবশ্য কারো তাকানোর পরোয়া করেনি নিজেই নিজের মতো প্রাণ খুলে গাইতে থাকলো-
Tere liye
jhoomoon deewana banke tere liye
Vaada hai mera main hoon tere liye
Hona kabhi tu judaaaaa ..
Tere liye aaaaa
jhoomoon deewana banke tere liye ooooo
Vaada hai mera main hoon tere liye
Hona kabhi tu judaaaaa ..
Jaagi jaagi soyi na main saari raat…
tere liye
Bheegi bheegi palkein meri udaas
tere liye
Akhiyan beechayi maine… tere liye
Duniya bhulayi maine… tere liye
সায়ান পুরোটা গানে কখনো বেসুরো কন্ঠে,কখনো এলোমেলো, কখনো অযথায় চিল্লিয়ে গলা মিলিয়ে বাইক চালাতে চালাতে গান শেষ করলো।আশেপাশের লোকজন অদ্ভুত ভাবে তাকে দেখছিল।শিবলী অবশ্য কারো তাকানোর পরোয়া করেনি। অবশ্য এসব তার ধাচেও নেই।
চলবে…..
( সবাই মতামত জানাবেন )
#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী লিংক –
https://www.facebook.com/61581445095817/posts/122135154681048169/
সবাই গ্রুপে জয়েন হয়ে, গল্প সম্পর্কে মতামত জানাবেন।
গ্রুপ লিংক- https://facebook.com/groups/2493488501095403/

