মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [পর্ব-০৩] #মেহুলিনা_প্রাপ্তি

0
2

#মনটা_তারই_সুরে_অনুরাগিনী [পর্ব-০৩]
#মেহুলিনা_প্রাপ্তি

” যাও।এক্ষুনি বেরিয়ে যাও এই রুম থেকে। আর কখনো আসবে না এখানে । ”

আহিয়ানের মুখে এরকম তুচ্ছতাচ্ছিল্য মাখা ধমকানিতে রোদেলা তরাক করে মাথা তুলে তাকালো আহিয়ানের দিকে।আহিয়ান রক্তলাল চোখে কটমটিয়ে শক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রোদেলার দিকে।রোদেলার সাথে আহিয়ানের চোখাচোখি হতেই রোদেলার বুকটা ধড়ফড় করে উঠলো।রোদেলার চোখে পানি চিকচিক করছে। রোদেলা চোখের আটকে রাখা পানিটুকু ছেড়ে দিয়ে,কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এক ছুটে দরজা খুলে দৌড়ে বেরিয়ে গেল।রোদেলাকে যতক্ষণ দেখা গেল আহিয়ান ততোক্ষণ পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে,ভ্রু যুগল কুঁচকে শক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রোদেলার দিকে।রোদেলা দরজা পাড় হতেই আহিয়ান বিরক্তিতে উচ্চারণ করলো,
” পিচ্চি হলে কি হবে? ড্রামাবাজ মেয়ে মানুষ দেখি।একটা সোজা কোথায় এভাবে কেঁদে ভাসানোর কি আছে? ধ‍্যাৎ! যতসব বিরক্তকর আবদ, বিপদ আমার ঘাঢ়েই ওঠার ছিল। ”
আহিয়ান কথাগুলো শেষে বিরক্তিতে কপালে দুই আঙুল ঘোঁষলো।তারপর আলমারি থেকে পরিধানের জন‍্য পোশাক বের করে ওয়াশরুমে চলে গেল।

___

রোদেলা সিড়ি দিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে নামতে গিয়ে পায়ে ব‍্যথা পেয়েছে।পায়ে ব‍্যাথা পেয়ে সে ওভাবেই সিড়ির উপর বসে বসে কেঁদে যাচ্ছে।এক দিকে আহিয়ানের ঝাঝালো তিক্ততা মাখা কথাগুলো অন‍্যদিকে পায়ের ব‍্যথায় মেয়েটা এক রকম কাবু হয়ে পরেছে যেন।রোদেলা নাক টেনে চোখ মুছে নিল।আস্তে আস্তে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করলো।রোদেলা কোনো রকম দাড়াতেই সিড়ির ধরে ধলে বাকি তিনটা সিড়ি পেরিয়ে নিচে নেমে পরলো।
রোদেলা নিজের পা টা টেনে টেনে লিভিং রুমে পৌঁছে, শরীরটা এলিয়ে দিল একটা ছোফার উপর।অতিরিকত পায়ের ব‍্যথায় রোদেলার মনে হচ্ছে তার পা টা ভেঙে গিয়েছে।খুব যন্ত্রণা হচ্ছে তার।রোদেলা আর সহ‍্য করতে না পেরে, পায়ের ব‍্যথায় ছোফায় জোরোসরো হয়ে শুয়েপরলো। যন্ত্রণায় ছটফট করে সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে।তার ছোট বুকটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে।রোদেলার মনে তার পায়ের ব‍্যথার চেয়ে, তার সদ‍্য হওয়া স্বামীর কথাগুলো বেশি ব‍্যথার সৃষ্টি করছে।রোদেলা অস্ফুষ্ট গুঙিয়ে বলতে লাগলো,
” একটু তার রুমে শুয়েছি বলে এরকম করা লাগে।বাজে লোক একটা। আমার শাশুড়ি মা আমাকে ওই রুমে থাকতে বলেছিল বলেই তো ছিলাম নাকি।নয়তো ওই খাম্বামার্কা বদমেজাজি মেজর এর রুমে আমার ঘুমাতে বয়েই গেছে।শালা হারামী, আমার মতো সহজ সরল বউ পেয়ে রাগ দেখাস। দেখিস তোরে অভিশাপ দিলাম তুই হালি হালি বাচ্চার বাপ হবি।তোর আন্ডা বাচ্চারা তোর জীবন পুড়িয়ে ছাই করবে, দেখিস খাটাশ।কিছু বলি না বলে আমাকে হাবা পেয়েছিস। ”

রোদেলার মাথার তার ছিড়ে গেলে সে সম্মূর্ণ ভিন্ন ধর্মী মানবীতে রূপান্তর হয়।যেটা এখন হয়েছ।সে যেই মেজর সাহেবকে এতোক্ষণ বাঘের মতো ভয় পেল।সেই স্বামী নামের পুরুষকে তার অগচরে কি ঝাঝালো কথা গুলোই না শুনালো।রোদেলার এবার একটু শান্তি লাগছে।তবে পায়ে ব‍্যথা থাকায় গুন গুনানি কান্নার আওয়াজ এখনো শুনা যাচ্ছে।রোদেলা শুয়া থেকে আস্তে আস্তে ছোফায় উঠে বসলো।এরপর নিজের লম্বা ঘন কেশরাশি গুলো হাত খোপা করে নিল। তারপর শাড়িটা শরীরে ভালো করে টেনে নিয়ে আবার ছোফার উপর জরসর হয়ে শুয়ে পরলো।

আহিয়ানের বোন আর তাদের স্বামীরা আজকে থেকে যাওয়ায় একটা রুমও খালি নেই।রোদেলাকে প্রথমে নিচতালায় যে রুমটা দেওয়া হয়েছিল সেটায় আফিয়া খানম শুয়েছে। রুমটায় ছোট একটা সিঙ্গেল বেড।একজন কোনো রকম শুয়ে থাকতে পারে।তাই রোদেলার আর ইচ্ছে করলো না নানি শাশুড়িকে গিয়ে ডাকতে।এভাবেই লিভিং রুমে গুটিশুটি মেরে পরে রইলো।তাছাড়া তার আর সারা রাত ঘুম আসবেও না হয়তো।আহিয়ানের তীক্ষ্ণ চোখের চাহনি এখনো তার চোখে লেগে আছে। আর এতো রাতে নানি শাশুড়িকে ডেকে সে কি বলতো,
” যে তার স্বামী তাকে মাঝরাতে রুম থেকে বের করে দিয়েছে। ”
এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে তাই রোদেলা আর কাউকে বিরক্ত করতে চাইলো না।

___

আহিয়ান গোসল করে ফ্রেশ হয়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলো । ফ্রিজের দিকে খাবার এর জন‍‍্য যাওয়ার সময় লিভিং রুমের কাছে আসতেই,আহিয়ান মেয়েলি করুণ কন্ঠে রিনরিনে কান্নার আওয়াজ পেয়ে থমকে দাড়িয়ে পরলো।রিনরিনে অস্ফুষ্ট কান্নার আওয়াজের সাথে সাথে ফুঁপিয়ে ওঠার শব্দ শোনা যাচ্ছে।আহিয়ান শ্রবণশক্তি আরও সজাগ করে সেই রিনরিনে কান্নার সুরটা আরও কিয়তক্ষণ শুনে নিল।এই রিনেরিনে কান্নার মালিক কে তা বুঝতে সময় লাগলো না আহিয়ানের।আহিয়ান বিরক্তিতে দাঁত কিরমির করে ফ্রিজের দিকে এগোতে নিয়ে আবার ফুঁপিয়ে ওঠার শব্দ পেল।তাতেই আহিয়ানের চোয়ালে রাগ আর বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ হতে দেরি হলো না।আহিয়ান নিজের পকেট হাতরে ফোনটা বের করে ফ্ল‍্যাশ অন করে এগিয়ে গেল,সেই গুঙিয়ে গুঙিয়ে কান্নার আওয়াজের দিকে।আহিয়ান রোদেলার শুয়ে থাকা ছোফার সামনে এসে দাড়ালো।তারপর নিজের হাতে থাকা ফোনের ফ্ল‍্যাশ লাইটের আলো ফেললো রোদেলার চোখে মুখে।আহিয়ানের তীক্ষ্ণ ধারালো চোয়ালে এখনো বিরক্তি আর চোখে মুখে খেলা করছে এক অবিশ্বাস‍্য দৃষ্টি খেলে যাচ্ছে।

হঠাৎ ফ্ল‍্যাশের আলো চোখে মুখে পরতেই রোদেলা কান্না থামিয়ে নাক টেনে চোখ খিচে বন্ধ করে আবার তাকালো সামনের দিকে।রোদেলা তৎক্ষণাৎ ব‍্যথা নিয়েই শুয়া থেকে ছোফায় উঠে বসলো।ফ্ল‍্যাশের আলো রোদেলার দিকে থাকায় বিপরীত পাশের মানুষটার মুখ দেখা না গেলেও রোদেলা লোকটার অবয়ব ঠিকি দেখতে পারলো।আর এতে যা বুঝার সে বুঝে নিয়েছে।তার একটুও বুঝতে বাকি রইল না এটা তার জল্লাদ স্বামী।তাছাড়া এই পুরো বাড়িতে এরকম লম্বা,বলিষ্ট প্রশস্থ কাঁধের অধিকারী তো কেবল রোদেলার পাষাণ মেজর স্বামী আহিয়ান অভ্রই।

রোদেলা একটু আগেও আহিয়ানের অগচরে আহিয়ানকে বড় বড় কথা বললেও এখন এই জল্লাদ রূপি সুদর্শন মেজরকে দেখে তার দম ফুরিয়ে গিয়েছে।রোদেলার চোখে এখনও চিকচিক করছে পানি।মুখেও একটা করুণ ব‍্যথা লেগে আছে।আহিয়ান তার ফোনের ফ্ল‍্যাশ লাইটটা এখনও রোদেলার মুখের উপর ধরে রেখেছে।রোদেলা মুখে কিছু বলতে না পারলেও চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে বসে আছে।আহিয়ান তীক্ষ্ণ চোয়াল এবার যেন বিষ্ময়ে ঝুলে পরলো।আহিয়ান প্রায় দুই মিনিট নিজের ফোনের ফ্ল‍্যাশ লাইটের আলো ফেলে রোদেলার কান্নায় ভেজা মুখমন্ডল আর চোখযুগল দেখে নিল।রোদেলা এবার না পেরে পায়ের ব‍্যথায় অসহ‍্য হয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো।তারপর নাক টেনে বাচ্চাদের মতো মুখ বানিয়ে আহিয়ানের সাথে প্রথমবার কথা বলল,
” আমি তো আপনার রুম থেকে চলেই এসেছি।তাহলে এখন আমার মুখে লাইট ধরে রেখেছেন কেন?আর আপনার মম মানে আমার শাশুড়ি মা,আমাকে ওই রুমে থাকতে বলেছিল।নয়তো আপনার মতো অহংকারী লোকের ঘরে জীবনেও যেতাম না আমি। ”

অতিরিক্ত কান্নার কারণে রোদেলার নাক মুখ লাল হয়ে উঠেছে।আহিয়ান সেটায় এতোক্ষণ দেখছিল।তবে রোদেলার মুখে শেষের কথাটা শুটে দাঁত কটমটিয়ে রোদেলার দিকে তাকালো।
” এই মেয়ে তুমি আমাকে দেমাগ দেখাচ্ছো? তুমি জানো আমি কে? আর আমার ঘরে যাওয়ার যদি ইচ্ছা নাই থাকে,তবে তোমাকে আমার রুম থেকে বের করে দিয়েছি বলে এখনো কেঁদে ভাসাচ্ছো কেন? ”

আহিয়ানের কথায় রোদেলা নাক টেনে বলল,
” আমি মোটেও আপনার রুমে থাকার জন‍্য কাঁদছি না। ”

আহিয়ান এবার বিরক্তিতে দাঁতে দাঁত পিষে নিজের ঘাঢ়ের দুই পাশে মাস‍্যাজ করে বলল,
” মিথ‍্যে বলবে না একদম, ড্রামাবাজ মেয়ে।বয়স কত তোমার, যে এখনি স্বামীর জন‍্য মরিয়া হয়ে যাচ্ছো।স্বামীর সাথে বেড শেয়ার করতে চাচ্ছো? আমার মাকে নিজের সরলতায় বশ করে নিয়েছো তো কি হয়েছে?আমাকে বশ করা এতো সোজা নয় মেয়ে। ”

রোদেলা আহিয়ানের কথায় লজ্জায় অপমানে মাথা নুইয়ে নিল।যাও একটু সাহস দেখিয়ে ছিল, এই লোকটার মুখের কথায় তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।রোদেলা লজ্জায় অপমানে মুখ নামিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে খালি বলল,
” ছিঃ! এতোটা নিচু করবেন না। দরকার হলে তাড়িয়ে দিন তবুও অপবাদ দিবেন না। ”

রোদেলার বলা ” ছিঃ! ” কথাটা আহিয়ানের গায়ে বেশ লাগলো।সেই সাথে মনে পরে গেল আজকে এই মেয়ের জন‍্য তাকে অপমানিত হতে হয়েছিল। তাকে সাসপেন্ড হতে হয়েছে ছয় মাসের জন‍্য।আহিয়ানের দমিয়ে রাখা রাগটা এবার তরাক করে বেড়ে গেল।আহিয়ান রোদেলাকে এক হাতে থাবা দিয়ে টেনে দাড় করিয়ে দিল।হঠাৎ আক্রমনে রোদেলা ব‍্যথা পাওয়া পায়ে আরও ব‍্যথা পেতেই ধরফরিয়ে উঠেল,
” আহহহ..ব‍্যথা! ”
রোদেলা ব‍্যথা পেয়ে ফুঁপিয়ে নাক টানতেই আহিয়ান রোদেলার কাছাকাছি থাকাতে অসাবধানতায় পানির মতো সর্দি কিছুটা ছিটকে আহিয়ানের শার্টের উপর ঠিক বুকের কাছে গিয়ে পরলো।

ব‍্যাস এতেই আহিয়ান নাক মুখ ছিটকে রোদেলাকে এক হাতে ধাক্কা দিয়ে আবার ছোফায় বসিয়ে দিল।ঘটনা কি ঘটেছে ব‍্যপারটা বুঝতেই রোদেলা তার শাড়ির আঁচলে নাক মুছতে মুছতে লজ্জায় আড় চোখে তাকাতেই দেখলো আহিয়ান অতিরিক্ত রাগে হাত মুষ্টি বদ্ধ করে তার দিকে তাকিয়ে ফুঁসছে।আহিয়ানের এরকম রাগী গম্ভীর রূপ দেখেই রোদেলা ভয়ে আরও জোরে কেঁদে দিল,
” আমাকে মারবেন না প্লিজ।আমি শার্ট পরিষ্কার করে দিব কাল।তবুও এভাবে আর তাকাবেন না প্লিজ।আপনাকে দেখেই এই দেখেন আমার বা চোখটা কেমন লাফাচ্ছে। ”

আহিয়ানের আর সহ‍্য হলো না।সে রোদেলাকে এক ঝটকায় নিজের কোলে তুলে নিল।রোদেলা আহিয়ানের কোলে হাত পা ছুড়ে চিৎকার করতে লাগলো,
” সত‍্যি বলছি, আপনার কাছে আমি আর আসবো না।আপনাকে আর বিরক্ত করবো না।তবুও আমাকে ছাদ থেকে ফেলে দিবেন না। ”

রোদেলার উল্টা পাল্টা আহাজারিতে আহিয়ানের মাথা ফেটে যাচ্ছে।গতকাল ভোর রাতে মিশনে থাকায় সে গতকাল একটুও ঘুমাতে পারেনি।আজকের সারাটা দিনও শরীরটাকে বিছানার সাথে এক করতে পারেনি।তার উপর এই মেয়ের এসব কথাবার্তা তার আর সহ‍্য হচ্ছে না। আহিয়ানের সত‍্যি সত‍্যি মনে হলো এটাকে ছাদে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলেই বোধহয় সবচেয়ে বেশি ভালো হতো।আহিয়ানকে তার ৩২ বছরের জীবনে এই প্রথম এতো ভোগান্তিতে পরতে হলো। এর চেয়ে আর্মিতে ঢুকার পর কঠিন কঠিন ট্রেনিং গুলোও তার কাছে হাজার গুণ সহজ মনে হলো ।সাধে কি আর এতকাল মেয়ে জাতি থেকে দূরে ছিল সে।কয়েক ঘন্টায় তার চরম শিক্ষা হয়ছে।

রোদেলা কাচুমুচু কর আহিয়ানের নেভি ব্লু কালার শার্টটার কলার চেপে ধরলো শক্ত করে।আহিয়ান নিজের রুমে ঢুকেই রোদেলাকে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াতে নিলে রোদেলা ভয়ে চিৎকার করে আহিয়ানের শার্টের হাতা খামচে ধরে কেঁদে দিয়ে বলল,
” প্লিজ প্লিজ প্লিজ আমাকে পানিতে চুবাবেন না প্লিজ। ”

আহিয়ান এইবার বিরক্ত হয়ে রোদেলার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালো।রোদেলা আহিয়ানের রক্তিম চোখ গুলো এতোটা কাছ থেকে দেখেই ভয়ে জমে গিয়ে সাথে সাথে চোখ খিঁচে বন্ধ কর্র নিল।

আহিয়ান রোদেলাকে কাঁধ থেকে ঠাস করে ওয়াশরুমে দাড় করিয়ে দিতেই, রোদেলা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো। আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো আহিয়ান তার নেভি ব্লু কারার শার্টার একটা করে বোতাম খুলছে।এই দৃশ‍্য দৃখেই রোদেলার ছোট মাথায় কিসব উল্টা পাল্টা চিন্তা আসতে লাগলো। রোদেলা নিজের পায়ের ব‍্যথা ভুলে,আহিয়ানের থেকে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে লাগলো ভয়ে।

আহিয়ান নিজের গায়ের শার্ট খুলে,রোদেলার দিকে তাকিয়ে দেখলো রোদেলা ভয়ে ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে।রোদালার মনোভাব আহিয়ানের বোধগম‍্য হতেই সে রাগে চোয়াল শক্ত করে চোখ বুজে নিল।আহিয়ানের তীক্ষ্ণ চোয়াল আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো এ ঘঠনা দেখে।

আহিয়ান দাঁতে দিয়ে ঠোঁট কামড়ে মনে মনে আওড়ালো,
এই মেয়ে কি ভাবে তাকে? এই মেজর আহিয়ান অভ্রর চরিত্র কি এতটাই ঠুনকো? আহিয়ান বিরক্তিতে নিজের বলিষ্ঠ হাতে শার্টটা ফ্লোরে ছুড়ে ফেলল।তারপর গমগমে আওয়াজে মুখ খুললো,
” তোমার এই টুকুনি শরীরে আমি সম্মোহিত হবো?সিরিয়াসলি?তাহলে তুমি আহিয়ান অভ্রর সম্পর্কে এখনও কিছুই জানো নাদান মেয়ে। আমার শার্টটা জলদি ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও। তুমি যেহুতু নষ্ট করেছ তুমিই ধুয়ে দিবে।আর আমি সময়ের কাজ সময়ে সারতে পছন্দ করি।আগামীকাল বলে কোনো শব্দ নেই
আমার কাছে। ”

আহিয়ান রোদেলার দিকে আদেশ ছুড়ে দিয়েই গটগট করে ওয়াশরুমের বাইরে বেরিয়ে এলো।
আহিয়ানের কথায় প্রাপ্তি লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিয়েছিল।অতিরিক্ত ভয়ে সে কিসব ভেবে বসেছিল এসব ভাবতেই তার মাটির নিচে চলে যেতে মন চাইছ।রোদেলা মনে মনে বিড়বিড়ালো,
” লোকটা একটু,না না অতি চালাক। ”

রোদেলা নিজের পায়ের ব‍্যথা নিয়েই আহিয়ানের শার্ট ধুয়ে দিল।রোদেলা ধোয়া শার্টটা হাতে নিয়ে নিজের পা টা টেনে টেনে হেটে বেরিয়ে দেখলো আহিয়ান বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে আছে।আহিয়ানের পরনে শুধু একটা প‍্যান্ট,শার্ট রোদেলাকে ধুতে দিয়ে এসে সে এভাবে শুইয়ে পরেছিল।আহিয়ানের বলিষ্ট পেশি বহুল শরীরে অলিব কালার গায়ের রংটা বেশ মানিয়েছে।রোদেলারর কিশোরি মনে মুহুর্তেই ভালো লাগা ছেয়ে গেল।তবে তার মনটা বেশি কিছু ভাবার আগেই অপর পাশ থেকে এক রাশভারী আওয়াজ এলো,
” এভাবে দাড়িয়ে ড‍্যাব ড‍্যাব করে আমাকে গিলে না খেয়ে, হাতের শার্টটা বেলকনিতে মেলে দিয়ে আসা হোক।

আহিয়ানের কথায় রোদেলা দ্রুত চোখ নামিয়ে দৌড়ে চলে গেল বেলকনিতে।বেলকনির দরজা খোলায় ছিল।রোদেলার এতো লজ্জা লাগলো যে, সে শার্ট দড়িতে মেলে দেবার পরও বেলকনি থেকে রুমে আসার সাহস করতে পারছে না।রোদেলা মনে মনে আওড়ালো,
” সাধে একে ডেঞ্জেরাস মেজর বলি না।একটু তাকিয়েছি বলে কি এমন হয়েছে? নিজের স্বামীর দিকে তাকাবো না? ইতর পুরুষ। উপুর হয়ে পরে থেকেও আমাকে শাষানি দিল।মানেটাকি পিছনেও অদৃশ‍্য চোখ নিয়ে ঘুরে নাকি লোকটা।

রোদেলার এসব আজগুবি চিন্তার মাঝেই আহিয়ানের কন্ঠে রাশভারী আওয়াজ ভেসে এলো,
” এই মেয়ে তাড়াতাড়ি রুমে এসো। নয়তো শ‍্যাওড়া গাছের পেত্নী এসে ঘাঢ় মটকে দিবে। ”

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here