মেঘের মুলুকে চল’ আয়রা তাবাস্সুম পর্ব ২৩

0
3

‘মেঘের মুলুকে চল’
আয়রা তাবাস্সুম
পর্ব ২৩
____________________________

রাদ তার সামনে দাঁড়ানো হাসাহাসি মুখ বানিয়ে রাখা মেয়েটাকে দেখলো। এই মেয়েটার হাসির একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে। হাসিটা দেখলেই রাদের মেজাজের রফাদফা হয়। সে নিজেও মাঝে মাঝে ভেবে কুল পায় না ওয়াজিফা মেহনাজ অথৈ এমন কি জাদু জানে যে রাদ তেহযীব চৌধুরীর মতন একজন আপাতদৃষ্টিতে চুপচাপ নির্বিকার ভদ্রলোক নিজের খোলসের বাইরে যেতে বাধ্য হয়। স্বভাববিরুদ্ধ সব আচরণ করে বসে।

এই যেমন সকাল থেকে রাদের মেজাজ বেশ ফুরফুরে ছিল। কারণ অফিসে মিটিং কাজের প্রেশারও আজ কম। কিন্তু সেই ফুরফুরে মেজাজ বিগড়াতেই হয়তো মেয়েটার আবির্ভাব ঘটল। সোজা এসে রাদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে অ্যাপ্লিকেশন ফর লিভ। যেন বুঝিয়ে দিল মেয়েটা কয়েকদিন অফিসে আসবে না রাদ চোখের দেখাও দেখতে পারবে না তাকে। রাদের আবেদনপত্র টা পড়েই মেজাজ টা বিগড়ালো। এ কদিন মেয়েটা রাদ কে বিরক্ত করবে না, একশটা ভুলচুক করে তার ধ্যানমন জুড়ে থাকবে না। এটা সম্ভব! রাদ মনস্থির করে ফেলল কোনো ছুটি ফুটি দেয়া হবে না!

বিরক্তিটুকু লুকিয়ে সে চোখমুখ বিরস বানিয়ে প্রশ্ন করল মেয়েটাকে।
‘মিস অথৈ! আপনি লিখেছেন ফ্যামিলি অকেশন এর জন্য বন্ধ টা চাচ্ছেন। এমন কি ফ্যামিলি অকেশন যে আপনার চার দিনের ছুটি লাগবে। আমাকেও একটু বলুন এমন কি রাজকার্য আপনি উদ্ধার করবেন এ কদিন অফিসে না এসে।’

অথৈ এসব টিটকারি গায়ে মাখাল না। সেদিনের পর সে রাদ কে নিপাট ভদ্রলোক হিসেবে ধরে নিয়েছে। তাই একটু খারাপ আচরণ করলে করুক মানুষটার মন ত ভালো, এই ভাবনা মেয়েটার। সেই ভাবনার সুবাদে মেয়েটা রাদ কে মনে মনে বকল না আর৷ বরং মুখটা নামিয়ে সংকোচ নিয়ে মিহি স্বরে বলল,
‘স্যার৷ আসলে আমার বিয়ে৷’

রাদ দু মিনিট স্থির চেয়ে রইল মেয়েটার মুখপানে। কথাটা ঠিকই শুনেছে। মেয়েটার গলার আওয়াজ ছোট না, বেশ উচ্চস্বরে ই কথা বলে সে। তাই যেটা বলেছে সেটা রাদের শুনতে অসুবিধা হলো না৷ কিন্তু তার বিশ্বাস হচ্ছিল না কথাটা। মেয়েটার কোনোদিন বিয়ে করতে হবে এমন ভাবনা কখনো রাদের মাথায় আসেনি। তার সবসময় মনে হয়েছে মেয়েটা সবসময় এরকম দেরিতেই অফিসে আসবে, একশটা ভুল করবে কোনো কাজ দিলে তবুও হাসিমুখ বানিয়ে রাদের সামনে ই এসে উপস্থিত হবে৷ এভাবেই তাদের দুজনের জীবন চলে যাবে নির্দ্বিধায়। অথচ আজ রাদ তেহযীব চৌধুরী র মনে হলো, তার অফিসের কর্মচারী বাদেও ওয়াজিফা মেহনাজ অথৈ র আলাদা একটা জগৎ আছে৷ যে জগৎে ক্যারিয়ার বাদে বিয়ে সংসার লাইফ পার্টনার এসবেরও দরকার আছে।

প্রথমবার রাদ তেহযীব চৌধুরী নিজের মনস্তাত্ত্বিক ভাবনাগুলো গুছিয়ে উঠতে পারছিল না। মন বলছিল মেয়েটা বিয়ের সিলমোহর লাগা মাত্র অন্য কারোর হয়ে যাবে৷ অন্যদিকে মস্তিষ্ক ক্রমাগত বলে যাচ্ছিল নিছক ভালোলাগা এসব সময়ের সাথে উবে যাবে, এত হাইপার হওয়ার দরকার নেই। অথচ ছেলেটার মন ত জানে মেয়েটার প্রতি তৈরি হওয়া অনুভূতি গুলো নিছক ভালোলাগা নয়। কারো প্রতি স্রেফ ভালোলাগা তৈরি হলে তার কষ্টে নিশ্চয়ই দুনিয়া ছারখার করে ফেলতে ইচ্ছে হয় না যেমনটা অথৈ র চোখের জল দেখে তার হয়েছিল।

রাদ সমস্ত ভাবনার লাগাম টেনে প্রফেশনালিজমের মুখোশ পরল আবার। মেয়েটা কে স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞাসা করল ,বিয়ে মানে? কখন ঠিক হয়েছে আপনার বিয়ে। ভিতরে ভিতরে যদিও অস্থির লাগছিল তার৷ খুউব আশা করেছিল মেয়েটা কোনোভাবে বলে উঠুক, স্যার প্র্যাংক করেছি আমি। আপনি হেসে ফেলুন দেখি। কিন্তু এমন কিছু হলো না। মেয়েটা রাজ্যের জড়তা নিয়ে ধীমি গলায় বলল, ‘স্যার, পারিবারিকভাবে বিয়েটা ঠিক হয়েছে। পাত্রপক্ষ গতকাল দেখতে এসেছিল। তাদের পছন্দ হওয়ায় আকদ র ডেইট ফিক্স করা হয়েছে আপকামিং ফ্রাইডে৷ এজন্য তিন চার দিনের ছুটিটা চাচ্ছি,’

রাদ বুকের ভেতর থেকে গলগলিয়ে বের হতে চাওয়া দীর্ঘশ্বাসটুকু বহু কষ্টে আড়াল করল। চোখমুখ স্বাভাবিক রাখার অদম্য চেষ্টা নিয়েই শেষ আরেকটা প্রশ্ন করে বসল।
‘বেশ। বিয়েতে আপনার মত আছে? যাকে বিয়ে টা করছেন তাকে পছন্দ হয়েছে?’
মেয়েটা এবার বেশ অবাক হলো। লোকটা ত এত কথা বলে না সচরাচর। গম্ভীরমুখে থাকে সবসময়, তবে আজ হঠাৎ এত প্রশ্ন! ছুটির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার জন্য মেয়েটা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া উচিত মনে করল।
‘পারিবারিকভাবে ঠিক হওয়া বিয়েতে এত পছন্দ অপছন্দের অপশন থাকে না স্যার। পাত্রকে আমাদের ফ্যামিলি তে যেহেতু পছন্দ হয়েছে আমারও সায় আছে তাতে।’

রাদ আর কিছু বলল না মেয়েটাকে৷ শুকনো গলায় জানাল তার ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। পাশাপাশি তাকে তার নতুন জীবনের জন্য অভিনন্দন জানাতে ভুলল না। ফর্মালিটি টুকু মেইনটেইন করল বহুকষ্টে।
রাদ তেহযীব চৌধুরী র প্রথমবার খুউব কষ্ট হলো এরকম বুকে হাহাকার তোলপাড় নিয়ে মুখে মৃদু হাসি রেখে শুভকামনা জানাতে। ছেলেটা এটাও বুঝল, কি অদ্ভুত মানুষের মন! কাউকে পুরোপুরি হারিয়ে না ফেলা পর্যন্ত ঠাহর করা যায় না সে মনের কতটা কাছের!

_________________

নাজিয়ার বিকেল থেকে বড্ড মনখারাপ। মেন্সট্রুয়াল সাইকেল শুরু হবার কয়েকদিন আগে এমন ঘন ঘন মুড সুয়িং হয় তার। তাই মনখারাপ করে রইল সারাদিন, আবার অহেতুক কান্নাও করল কিছুক্ষণ ছাড়া ছাড়া বিষয়বস্তু নিয়ে। ডিনার শেষে আযান রেস্ট নিতে বসতেই মেয়েটা তার গা ঘেঁষে বসল এটাওটা অভিযোগের ঝাঁপি খুলে। আযান নির্বিকারভাবে শুনে গেল সেসব।
‘আপনার কি কখনো অফিসে থেকে আমাকে একটা কল মেসেজ কিচ্ছু দিতে ইচ্ছে করে না? মানুষ নিজেদের বউ দের কতকিছু বলে খেয়েছ কিনা এটাসেটা। অথচ আপনি! কখনো খবর নিয়েছেন আমার! চিন্তাও বোধহয় হয় না আপনার আমার জন্য! তাই তো!’

আযান বেক্কলবনে গেল৷ ডিনার করে ল্যাপটপ নিয়ে বেডে হেলান দিয়ে বসেছে সে তখন আর কাজের মধ্যেই বেকুব অনর্থক সব কথাবার্তা বলে যাচ্ছে। তার কাছে তার বিষয়েই নালিশ জানাচ্ছে! আরও বলছে আযান নাকি তার জন্য চিন্তা করে না! বাহ। আযানের তখন ইচ্ছে হচ্ছিল কোনো জাদুবলে মেয়েটাকে তার মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে৷ তারপর বেকুব দেখুক সারাক্ষণ আযানের মনজুড়ে কাকে নিয়ে এত দুশ্চিন্তা ঘুরে!

আযানের এমন প্রশ্ন খুউব বিরক্ত লাগল। ছেলেটা রাগও করল মেয়েটার ভাবনায়। আযান নাকি তাকে নিয়ে ভাবে না অথচ বেকুবের চিন্তায় আযান অন্যান্য দরকারি ভাবনা ভাবারও সময় পায় না ইদানীং! রাগ বিরক্তি থেকে সে বিরস গলায় বলল, ‘আমি মেসেজ কল না দিলে তুমি দুপুরের খাবার না খেয়ে বসে থাকবে? আমার কথার এত দাম! আমি কোথাকার মন্ত্রী মিনিস্টার এমন! এমন বোকা বোকা আদর আহলাদ আমি আযান ইয়াসীর ভুইঁয়া দেখাতে পারব না বুঝলে!’

নাজিয়ার বড় অভিমান হলো৷ ঠিক ই ত। এই লোক ত ভালোই বাসে না তাকে। চিন্তা কেন করবে! যত্নআত্তি যা করে হয়ত দায়িত্বের খাতিরে করে। কিন্তু নাজিয়া ত এরকম স্রেফ দায়িত্ব র সম্পর্ক চায় না। আজ সে জানবেই লোকটা তাকে কেবল দায়িত্ব বাদে আর কিছু মানে কিনা। যদি বর্বর টার কাছে নাজিয়া কেবল বউ নামের একটা দায়িত্ব ই হয় তাহলে নাজিয়া আর রাখবে না ভালবাসার আশা৷ মেনে নিবে তার কপালে এসব নেই৷ পরক্ষণেই মেয়েটার আফসোস হলো, এত খারাপ কপাল তার! এমন চমৎকার একটা মানুষের ভালবাসা পাবে না সে! সেটা পাবার জন্য তার মুখিয়ে থাকতে হবে আজীবন! আহারে। নিজের জন্য মেয়েটার এত কষ্ট লাগল অনায়াসে চোখে জল এলো তার। আজ সারাদিন তার চোখদুটো যেন নহর হয়ে আছে৷ কিছু হলেই চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে অনবরত।

আযান হতবিহ্বল হয়ে দেখল মেয়েটাকে। চোখ মুছতে মুছতে নাক টানছে বেকুব টা। অথচ আযান কান্না করার মতন কিছু ই বলে নি তাকে। অন্যসময় আরো গুরুতর টিটকারি মশকরা করে সে তখন মেয়েটা স্রেফ গাল ফুলিয়ে থাকে। অথচ আজ এভাবে কাঁদছে। বেকুবের কি খুউব মনখারাপ আজ! একা বাসায় থেকে কি মুড সুয়িং হচ্ছে মেয়েটার! আযানের বড় অসহায় লাগল৷ সে মৃদু গলায় মেয়েটাকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই কানে বাজল মেয়েটার আচমকা করা প্রশ্ন,
‘আপনি ভালোবাসেন আমায়?একটু ও বাসেন না?’

এমন প্রশ্নে ছেলেটা থম মেরে রইল৷ এই প্রশ্নের উত্তর ত সে নিজেও খুঁজে বেড়াচ্ছে। প্রায়ই এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরে তার৷ মেয়েটার জন্য যে এত চিন্তা তার সেসব কি কেবল মেয়েটা তার বউ বলে নাকি আযান তাকে ভালবেসে ফেলেছে বলে! অথচ আযান জানত ভালবাসার অনুভূতি টা বহুবছর আগে অকেজো হয়ে পড়েছিল তার! মন এত জটিল সব ভাবনা ভাবার অবসর পেলো না৷ আযান কেবল চাইল কোনো একটা উত্তর দিয়ে মেয়েটার কৌতূহল নিবারণ হোক। কান্নাকাটি বন্ধ হোক তার৷
তাই মৃদু গলায় মেয়েটাকে শাসিয়ে বলল, ‘কি সব আউলফাউল প্রশ্ন! বউ কে ভালো না বেসে আর কোন মেয়েকে আমি ভালোবাসব আজব!’

এমন উত্তরে মেয়েটা মোটেও সন্তুষ্ট হলো না৷ এটা কেমন কথা! নাজিয়ার জায়গায় যে কেউ ই থাকলে ভালবেসে ফেলত বদ টা! নাজিয়া তার কাছে বিশেষ কেউ না! বিষিয়ে উঠল রমণী মন৷ আজ ক্ষণে ক্ষণে কান্নার ঝোঁক উঠেছে তার। তাই জল টলমল চোখে ই বুকভরা অভিমান নিয়ে জানতে চাইল,’আমার জায়গায় অন্য মেয়ে আপনার বউ হলে তাকেও ভালোবাসতেন?’

আযান এবারে দ্বিগুণ হতভম্ব হয়ে একেবারে মূর্তিবনে গেল। নারীমন এমন প্রশ্নের উত্তরে যেমন জবাব আশা করে তেমনটা তাৎক্ষণিক মাথায় এলো না তার।
তাই বেক্কলের মতন বলল, ‘কিন্তু বউ ত এখন তুমি! অন্য মেয়ে বউ হলে কোন ছাতার মাথা হতো সে প্রসংগ আসবে ই বা কেনো! অ্যাই যথেষ্ট হয়েছে তোমার কুইজ খেলা। রেস্ট নাও এখন। মাথা ঠিক নেই তোমার। যতসব আউলফাউল প্র…..’
আযান আরো কিছু বকাঝকা দেবে এমন অবস্থায় দেখলো সামনের বেকুব টার দু চোখ বেয়ে নিঃশব্দে জল গড়িয়ে পড়ছে৷ সাথে তিরতির করে কাঁপছে সরু নাকের পাটা৷ মেয়েটার রাগ আর কান্নার এমন মিলমিশ বিয়ের এতদিনে প্রথমবার দেখল আযান। তাই খানিকটা অপ্রস্তুত হলো যেন৷

মেয়েটার এমন কান্নায় নরম হলো পাষাণটার মন। কেন জানি বিয়ের একদম প্রথমদিন থেকে ই মেয়েটার কান্না সহ্য করতে পারে না সে৷ অস্থির লাগে শরীর মন জুড়ে। মনে হয় মেয়েটা যা চাবে সেটা এনে দিবে সে, চাঁদ চাইলে চাঁদ তবুও কান্না বন্ধ হওয়া চাই তার! তাই আযান গলার স্বর এবার একেবারে তুলোর মতন নরম করে খুব আদর নিয়ে ডাকল তাকে।
‘আরমিইইন! অ্যাই ছিচকাদুনেঁ। এভাবে কান্না করার মানে কি? আজ কি খুউব মনখারাপ তোমার!’

‘মনখারাপ নিয়ে আপনার কি! আপনি ত আমি ভুলক্রমে আপনার বউ হয়ে গেছি বলে ভালোবাসেন আমাকে। যেটা অন্য যে কাউকে বাসতেন৷ আমি ত বিশেষ কেউ না আপনার! বউ নামের একটা দায়িত্ব ব্যস! এজন্যই ত আমার যত্নআত্তি করে খেয়াল রেখেই ক্ষান্ত হয়ে যান আপনি! কখনো আদর করেছেন আমায়, মিষ্টি কথা বলেছেন, ভালবেসে কাছে টেনে…. ‘
একনাগাড়ে কান্নার তোড়ে হেঁচকি তুলতে তুলতে মেয়েটা কি থেকে কি বলে বসল তার নিজেরও অজানা। শুধু দেখল বদ টা অনড় দৃষ্টিতে দেখছে তাকে যেন হজম করতে পারছে না তার কথাগুলো। তখন নাজিয়ার খেয়াল এলো সে শেষে কি বলে ফেলেছে! ব্যাপারটা টের পেতেই মেয়েটা চোখমুখ হাত দুটো দিয়ে ঢেকে উল্কার গতিতে চেষ্টা করল বেড থেকে নামার, ছুটে অন্য রুমে যাওয়ার।
এরকম কথাবার্তা বলে ফেলার পর আযানের সামনে থাকার সাহস হারাল সে। ভাবল বদ টা নিশ্চয়ই বাজে গায়েপড়া মেয়ে ভাবছে তাকে!

মেয়েটার সরে পড়ার এমন চেষ্টা অবশ্য সফল হলো না। চটজলদি বেড থেকে পা দুটো নামিয়ে দৌঁড় লাগাবে তার আগেই আযানের এক হ্যাচঁকা টানে মেয়েটা পুনরায় বেডে এসে পড়ল৷ উঠে বসার চেষ্টা করতেই আযান নিজের ভারী শক্তপোক্ত শরীরটা নিয়ে চেপে ধরল তাকে। মেয়েটার মিনিটখানিক সময় লাগল পুরো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে।

কিছু বলবে তার আগেই টের পেলো একটা শক্ত ধারালো চোয়াল ডুবে আছে তার গলদেশে, খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির ঘর্ষণ লাগছে তার থুতনিতে। মেয়েটা ঠাহর করল শক্তগরম বদ টা তক্ষুণি পৃথিবীর সবচেয়ে নরম মোলায়েম চুমু টা বসিয়েছে তার গলার একপাশে। ব্যাপারটা বুঝে আসতেই শরীরের কাঁপনে লজ্জায় মরিমরি অবস্থা মেয়েটার। তবুও বহুকষ্টে ঠোঁট দুটো নাড়িয়ে শব্দ জড়ো করে মেয়েটা বলল, ‘ক কি করছেন আপনি’
সেকেন্ডের মাথায় নির্লজ্জ উত্তরটা আসলো।
‘বাঁদর কে আদর করছি।’

[ ত্রিশ তারিখ থেকে সেমিস্টার ফাইনাল শুরু আমার। আমাদের ডিপার্টমেন্টে আবার প্রিপারেশন লিভ দেয় না। তাই ল্যাব রিপোর্ট প্র্যাকটিকাল খাতা অ্যাসাইনমেন্ট সাবমিশন সবকিছু নিয়ে খুউব প্যারায় আছি। গল্পে বানান ভুল কিংবা এলোমেলো সংলাপ এসব পেলে একটু ম্যানেজ করে নিবেন সবাই৷ আর এত ব্যস্ততার মধ্যে যেহেতু লিখছি, আপনাদের সবার রেসপন্স ফিডব্যাক পেলে খুশি হবো। ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here