চোরাবালির_পিছুটানে (২৫)—স্পেশাল পর্ব #জেরিন_আক্তার

0
2

#চোরাবালির_পিছুটানে (২৫)—স্পেশাল পর্ব
#জেরিন_আক্তার

মিষ্টি লাজুক হেসে বলে,

“দাদিজান তুমি সেই আগের যুগে পড়ে আছো।”

“নারে পাগলী মাইয়া, আমি ঠিকই কইতাছি।”

মিষ্টি উঠে দাড়িয়ে বলে,

“তুমি এখন হাত মুখ ধুয়ে একটু রেস্ট নাও। তোমার পরাণের পরাণ রাদিফ এলে দেখা করতে বলবো।”

“ঠিক আছে। কইয়ো কিন্তু মনে কইরা।”

“হুম।”

মিষ্টি চলে যায় রুম থেকে। ড্রইং রুমে এসে বসে পড়ে। ঠিক তখনই সায়মা চৌধুরী কিচেনে থেকে মিষ্টিকে ডেকে উঠেন,

“মিষ্টি এদিকে আয় তো!”

মিষ্টি উঠে চলে যায় কিচেনে।

“হ্যা বলো!”

“মিষ্টি, একটু পায়েসটা রান্না করে দেনা মা!”

“তুমি করো না!”

“না তু্ই কর! রাজ তোর হাতের রান্না করা পায়েস খুব পছন্দ করে। তাইতো তোকে বলা।”

মিষ্টি চুলায় হাঁড়ি বসিয়ে দিয়ে দুধ ঢালতে ঢালতে মনে মনে বলে উঠে,,, সবাই দেখি সবার ব্যাস্তে। একজন আছে তার রাদিফকে নিয়ে। আরেকজন আছে তার ছেলে আসার আনন্দে।

এদিকে রাজ আর রাহাকে রিসিভ করে নিজেই ড্রাইভ করে ওদের নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে আসছে। মাঝপথে এসে রাদিফের ফোন আসে। তার বন্ধু কল দিয়েছে। একটা কাজ পড়ে গিয়েছে তাই তাকে যেতে বলেছে। রাদিফ গাড়ি থামিয়ে রাজকে ড্রাইভ করে বাড়ি চলে যেতে বলে। রাজও চলে আসে। রাজ চলে আসার পরই রোহান নিজের গাড়ি নিয়ে আসে রাদিফের সামনে। রাদিফ উঠে পড়ে সেই গাড়িতে।

বাড়িতে সব গোছগাছ শেষ। সবাই অপেক্ষায় রয়েছে কখন রাহা আর রাজকে দেখতে পাবে। রুবেল চৌধুরী নিজের ঘরে বসে আছেন। তার সেই ছোট্ট মেয়েটা সেদিন অভিমান করেই চলে গিয়েছিলো। সেও অভিমান করে বসে রয়েছেন। যে পর্যন্ত মেয়ে নিজে এসে কথা না বলবে সেই পর্যন্ত রুমেই থাকবেন। বের হবেন না।

রাদিফ কল দেয় সায়মা চৌধুরীর ফোনে।

“হ্যালো বড় আম্মু?”

“হ্যা, বল! কতদূর তোরা?”

“আমি ওদের সাথে না। আমি আমার বন্ধুর সাথে একটু অন্য জায়গায় এসেছি। ওদের দুজনকে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওরা আর দশ মিনিটের মধ্যেই চলে যাবে বাড়িতে।”

“ঠিক আছে। আর তু্ই কখন আসবি?”

“একটু রাত হবে। আর শোনো যার জন্য কল দেয়া, ওরা গেলে ওদের কিন্তু কেউ বকাঝকা বা কিছু বলো না।”

রুমানা চৌধুরী হেসে বলেন,

“তোর যা কথা! ওদের বকবো কেনো? শুধু ওদের আসতে দে, ওদের এতো অভিমান করে চলে যাওয়া কই থেকে আসে আজ বের করবো।”

“ঠিক আছে। যা ইচ্ছে করো। এখন আমি রাখছি।”

“আচ্ছা। আর হ্যা সাবধানে থাকিস!”

“ঠিক আছে।”

রাজ গাড়ি থামালো চৌধুরী বাড়ির সামনে। নিজে গাড়িতে থেকে আগে নেমে রাহার কাছে এসে দরজা খুলে দেয়। রাহা নেমে যায়। মনে মনে ভয়ও কাজ করছে। ভিতরে ঢুকলে কি বাড়ির কেউ তাকে বকবে?

কথাটা মনে মনে আওড়িয়ে রাজকে বলে,

“শোনো না, ভিতরে গেলে কি বকবে আমাকে?”

রাজ রাহার দিকে তাকিয়ে বলে,

“কি নিয়ে বকবে? আমরা আসছি বলে বাড়ির সবাই খুশি। আর সবাই বাচ্চাটাকেউ নিয়ে খুশি। যদি বকে তাহলে তুমি যে চলে গিয়েছিলে সেটা নিয়ে বকতে পারে তাছাড়া বকার কোনো কারণ নেই।”

রাহা রাজের হাত আঁকড়ে ধরে। রাজ ওর হাত ছাড়িয়ে মুচকি হেসে বলে,

“তাহলে চলুন! স্বামীর বাড়ির।”

বলেই রাহাকে পাঁজা কোলে তুলে নেয়। রাহা রাজের শার্ট খামচে ধরে বলে উঠে,

“কি করছো, নামাও! বাড়ির লোক দেখলে কি মনে করবে?”

রাজ গভীর গলায় বলে,

“তোমায় বলেছিলাম না যেই বাড়িতে থেকে তুমি আমার কথায় চলে গিয়েছো সেই বাড়িতে তোমায় আমি পাঁজা কোলে নিয়েই ঢুকবো।”

“ইশ, তাই বলে সবার সামনে কি করে কোলে নিয়ে যাবে। আমার লজ্জা লাগছে। নামাও, আমাকে! আমি হেটে হেঁটেই যাবো।”

রাজ রাহাকে নামিয়ে দেয় না। পাঁজা কোলে নিয়েই বাড়িতে ঢুকে সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। রাদিফের ফোনের পরে সবাই সদর দরজার সামনেই দাড়িয়ে ছিলো। রাহা লজ্জায় রাজের বুকের সাথে মিশে আছে। ইশ, এভাবে কেউ বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়ায়।

রাজ তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“আম্মু, বউ নিয়ে কি ভিতরে আসবো?”

সায়মা চৌধুরী ছেলের কথা শুনে হেসে উঠে বলেন,

“এসো, বউ নিয়ে ভিতরে এসো।”

সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠে। রাজ ড্রইং রুমে এসে রাহাকে নামিয়ে দেয়। রুমানা চৌধুরী মেয়েকে দেখে কেঁদে উঠলেন। এগিয়ে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলেন। রাহা কান্নাজড়িত গলায় বলে,

“আম্মু কেমন আছো?”

“তোকে ছাড়া ভালো থাকি কি করে? তবে এখন তোকে দেখে বেশ ভালো লাগছে।”

রুমানা চৌধুরী মেয়েকে ছাড়িয়ে মেয়ের মুখখানা মনভরে দেখতে লাগলেন। কতদিন দেখেননি। রাহা বলে,

“আম্মু বাবা কই?”

“উপরে!”

রাহা সায়মা চৌধুরী, মিষ্টি আর আনোয়ারা বেগমের সাথে কথা বলে, সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো। বাবার রুমে এসে থামলো। কয়েকটা বড় বড় শ্বাস ছেড়ে ভিতরে ঢুকে দেখে তার বাবা বেলকনিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

রাহা সোজা তার বাবার কাছে গিয়ে হাটু গেরে বসে মাথা রাখলো তার কোলে। রুবেল চৌধুরী মেয়ের চোখের আড়ালে মুচকি হাসলেন কিন্তু বুঝতে দিলেন না। গম্ভীর কণ্ঠে বলেন,

“এই বাবাকে আজ মনে পড়লো?”

রাহা কেঁদে উঠে বলে,

“বাবা বিশ্বাস করো আমার কাছে কিচ্ছু করার ছিলো না সেদিন। আমায় তুমি ক্ষমা করে দাও!”

“আমার দিকে তাকাও!”

রাহা মাথা তুলে তার বাবার দিকে তাকালো। রুবেল চৌধুরী মেয়ের দুগালে হাত ছুঁইয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে শুধানো গলায় বলে উঠেন,

“এই বাবাকে বিশ্বাস করো তো। তাহলে এই বাবাকে সব সমস্যার কথা বলতে পারতে। এভাবে চলে গিয়ে আর কাউকে না হোক আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছো। প্রতিটা মুহূর্ত আমার যে কেমন করে গিয়েছে তা শুধু আমার আল্লাহ আর আমি জানি।”

রাহা কাদতে কাদতে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

“বাবা, তুমি আমার উপরে রেগে আছো তাইনা!”

রুবেল চৌধুরী পরম যত্নে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন,

“তোমার উপরে আগে কক্ষনো রেগে যাইনি এখনও রেগে নেই।”

___________

রাত এগারোটা,,,
সবাই খেয়ে-দেয়ে শুয়ে পড়েছে। শুধু মিষ্টি জেগে আছে ওই বজ্জাতটার জন্য। এখনও বাড়ি ফেরার নাম নেই। আল্লাহ জানে এই ছেলের কি এতো কাজ। মিষ্টি সোফায় বসে বিড়বিড় করে কথাগুলো বলছে আর টিভি দেখছে।

আরও মিনিট দশ পরে, রাদিফ এসে কলিং বেল বাজায়। মিষ্টি উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলে,,, বজ্জাতটা এসেছে। নিশ্চই এখন এসে রাগ ছাড়া কোনো ভালো রূপ দেখাবে না।

মিষ্টি দরজা খুলে দিয়ে দাঁড়ায়। রাদিফ স্বাভাবিক ভাবে কোনো কথা না বলে ভিতরে ঢুকলো। মিষ্টি দরজা লাগিয়ে দিলো। রাদিফ ততক্ষনে সোফায় গিয়ে বসে,

মিষ্টি এগিয়ে আসতেই রাদিফ জিজ্ঞাসা করে,

“খেয়েছিস?”

“না!”

“খাসনি কেনো?”

“ভেবেছি তুমি এলে খাবো।”

“খাবার বাড়!”

মিষ্টি গায়ে জড়ানো চাদর খুলে রাদিফের পাশে রেখে ডাইনিং টেবিলের কাছে এলো। শাড়ির আঁচল কোমরে গুজলো। সকালে একটা শাড়ি নষ্ট হয়েছিলো তরকারি লেগে তাই এবার আর শাড়ি নষ্ট হোক এমন কিছুই করবে না।

মিষ্টি পানির জগ নিয়ে কিচেনে ঢুকে তাতে পানি ভরে নিয়ে এলো। রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে ওর কাজ দেখছে। হঠাৎ করে চোখ যায় মিষ্টির পেটের দিকে। কাপড়ের আঁচল গুজে রাখার জন্য পেটের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে। রাদিফ চোখ সরিয়ে নিয়ে আবার তাকায়।

মিষ্টি যেই খাবার বাড়তে যাবে ঠিক তখন রাদিফ ওকে ডেকে উঠে,

“মিষ্টি শোন!”

মিষ্টি রাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে,

“বলো!”

“খাবার বাড়িস না!”

মিষ্টি কপাল কুঁচকে বলে উঠে,

“কেনো খাবে না?”

“খাবো।”

“তাহলে না করছো কেনো? দেখো অনেক ক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি। তোমার খিদে না পেলেও আমার পেয়েছে। এরকম কথা ঘুরিও না!”

রাদিফ উঠে দাড়িয়ে বাকা হেসে বলে উঠে,

“আরে খিদে আমারও পেয়েছে। তবে আরও খিদে লাগিয়ে তখন খাবো।”

“মানে?”

“রুমে চল!”

“না, আমি যাবো না। আমি খেয়ে তারপরই যাবো!”

রাদিফ মুখে খানিকটা অদ্ভুত হাসি এনে বলে উঠে,

“আরে শোন না, একটা সারপ্রাইস আছে।”

মিষ্টি বুকে হাত গুজে অন্য দিকে তাকিয়ে বলে,

“লাগবে না সারপ্রাইস!”

রাদিফ রাগ করলো না বরং ঠান্ডা গলায় বলে উঠে,

“জেদ করিস না! সত্যি সত্যি সারপ্রাইস আছে চল না!”

মিষ্টি আর না করলো না। রাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“ঠিক আছে। চলো!”

“তু্ই আগে যা। আমি পেছনে আসছি!”

“তাড়াতাড়ি যাবে!”

“ঠিক আছে। যা!”

মিষ্টি উপরে চলে আসে। রাদিফের রুমে ঢুকে দুই কদম এগোতেই রাদিফও রুমে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয়। মিষ্টি মনে করে হয়তো সারপ্রাইস দিবে তাই দরজা বন্ধ করে দিলো।

মিষ্টি বিছানায় বসলো। রাদিফ নিজের ব্লেজার খুলে মিষ্টির পাশেই রাখলো। টি-শার্টও খুলে ফেললো। মিষ্টি ওর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“তুমি কি এখন শাওয়ার নিতে জামা-কাপড় খুলছো?”

রাদিফ বাঁকা হেসে বলে,

“ঠিক বলেছিস তবে আমি একা না তু্ইও সাথে যাবি!”

“কিহ!”

রাদিফ রুমের লাইট নিভিয়ে দিয়ে ডিম লাইট জ্বালিয়ে মিষ্টির দিকে এগিয়ে আসে। মিষ্টি ঘাবড়ে গিয়ে বলে,

“তুমি কি শুয়ে পড়ার চিন্তা-ভাবনা করছো?”

রাদিফ সোজা গলায় বলে,

“না, বাসর করার চিন্তা ভাবনা করছি।”

রাদিফ মিষ্টির দিকে এগিয়ে আসতেই মিষ্টি বিছানায় পা তুলে পিছাতে থাকে। আর আমতা আমতা করে বলে,

“ক কি বলছো! সরো!”

রাত দুইটার কাছাকাছি। মিষ্টি বিছানায় কমফোর্টার মুড়ি দিয়ে বসে আছে। রাদিফ ওয়াশরুম থেকে বের হয়। এরপরে জামাকাপড় পড়তে থাকে। আর মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে,

“রাতে গোসল করে অনুভূতি কেমন রে?”

মিষ্টি বিড়বিড় করে বকতে থাকে,,, শয়তান, বজ্জাত বলে সারপ্রাইস দিবো। আর কি করলো গোসল সারপ্রাইস দিলো। বজ্জাতের হাড্ডি।

রাদিফ মিষ্টির কাছে এসে বলে,

“এই কি ভাবছিস! খিদে পেয়েছে। খাবার নিয়ে আয়!”

মিষ্টি বলে,

“আমি একা যাবো না নিচে। কেউ এই অবস্থায় দেখতে পেলে কি মনে করবে!”

“কিচ্ছু মনে করবে না। নতুন নতুন বিয়ে হলে এমন হয়। আর আমি কি চুরি করে তোর সাথে কিছু করেছি? সব অধিকার নিয়েই করেছি। যা এখন!”

“আমি যাবো না। আমার সাথে চলো!”

রাদিফ কোনো উপায় না পেয়ে বলে,

“চল! তোর সাথেই যাবো!”

মিষ্টি উঠে দাঁড়িয়ে চুলগুলো বেধে নেয়। এই দেখে রাদিফ বলে,

“ভেজা চুল বাঁধছিস কেনো? বললাম না নতুন নতুন বিয়ের পরে এগুলো স্বাভাবিক চোখেই দেখবে সবাই। আর এই এতো রাতে তোর ভেজা চুল দেখতে কে জেগে থাকবে!”

“যদি কেউ উঠে আসে তখন! ইশ, লজ্জা পেয়ে যাবো!”

“এই চল তো! যে আসার আসবে আমার মাথা ব্যাথা নেই। বিয়ে করেছি কি বউকে আলমারিতে রাখার জন্য।”

রাদিফ কথা বলতে বলতে মিষ্টিকে নিয়ে নিচে আসে। মিষ্টি খাবার টেবিলে এসে খাবার বাড়তে থাকে। রাদিফ বসে পড়ে। মিষ্টিও বসে পড়ে। দুজনে মুখোমুখি বসে খাচ্ছে। এমন সময় ভিতরে থেকে ধীর পায়ে এগিয়ে আসে আনোয়ারা বেগম। তিনি কোনো শব্দ না করে চুপচাপ এসে রাদিফের পেছনে দাঁড়ান। মিষ্টি উনার দিকে তাকায়। সাথে সাথে মাথার ঘোমটা টেনে গলা পর্যন্ত আনে। রাদিফ আড়চোখে মিষ্টির দিকে তাকায়। রাদিফ মনে হয় এখনও বুঝতে পারেনি ওর পেছনে কেউ আছে। রাদিফ খাবার খেতে খেতে বলে উঠে,

“দাদিজান, তুমি ঘুমাওনি?”

আনোয়ারা বেগম হেসে রাদিফের পাশে এসে দাড়িয়ে বলেন,

“দাদুভাই তুমি বুঝলা কেমনে যে আমি তোমার পিছনে দাঁড়ায় আছি?”

“তোমার সাথে আলাদা আত্মার সম্পর্ক আছে তাই বুঝতে পারি।”

“তো, তুমি এতো দেরি কইরা ফিরলা কেন? তোমাকে দেখবার জন্য অনেক সময় বইসা আছিলাম।”

এই শুনে মিষ্টি মনে মনে বলে,,, আমি ওর বউ আমাকেই বলে না আর তোমাকে বলবে ও কোথায় গিয়েছিলো। কই আমিও তো বসে ছিলাম আমার সাথে কি করলো।

রাদিফ হেয়ালি করে বলে,

“কাজ ছিলো তাই দেরি হয়েছে আসতে। আর এসেও আমার অফিসের কিছু কাজ ছিলো। তাই তোমার সাথে দেখা করতে যেতে পারিনি। আর আমি যখন বাড়ি ফিরি তখন এগারোটা বেজেছিলো। পরে ভাবলাম তুমি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছো। তাই ডাকিনি।”

পরক্ষনেই আনোয়ারা চৌধুরী রাদিফের মাথায় হাত রেখে বলেন,

“আহারে দাদুভাইরা এই জন্যই বুঝি এহন খাইতাছো দুইজনে?”

রাদিফ কিছু বলার আগেই আনোয়ারা চৌধুরী বলে উঠেন,

“দাদুভাই তোমার চুল দেহি ভিজা। কি কইরা ভিজলো?”

এই বলে তিনি নিজের শাড়ির আঁচল বের করে মুছে দিতে লাগলেন। পাশে থেকে মিষ্টি বলে,

“দাদিজান আর বলো না, তোমার নাতি ফিরেছে থেকে বলে যাচ্ছে আমার কাজ আছে, কাজ আছে। খায়ওনি। আর ওর জন্য বসে থাকতে থাকতে খিদে লেগে আমার অবস্থা ১২ টা বেজে যাচ্ছিলো। পরে পানি ঢেলে দিয়েছি ওর মাথায়!”

“এই শীতের মধ্যে পানি ঢাইলা দিলা এই পোলাডার উপরে। এহন যদি ঠান্ডা লাইগা যায় তহন?”

মিষ্টি বলে,

“তোমার নাতির কি টাকার অভাব? ওষুধ কিনে ওষুধ খাবে। পট করে সেরে যাবে।”

রাদিফ মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বাকা হাসলো। মিষ্টি এতে ভেঙচি কেটে খাবার মুখে দিলো। আনোয়ারা চৌধুরী রাদিফের মাথার চুল মুছে দিয়ে বলেন,

“দুইজনে খাইয়া শুয়া পইড়ো। অনেক রাইত হইছে।”

রাদিফ বলে,

“ঠিক আছে। তুমি এখন রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ো। অনেক রাত হয়েছে। সকালে আড্ডা দিবো।”

“হুম। যাইতাছি!”

এই বলে তিনি চলে যান।

এদিকে মিষ্টি রাদিফের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে,,, উম মনে হয় বউ হয়। সুন্দর করে বুঝিয়ে বুঝিয়ে কথা বলা লাগে। কেনো আমি যে সামনে বসে আছি, আমি যে অপেক্ষা করেছি তার জন্য তো কিচ্ছু বলতে দেখলাম না।

রাদিফ হালকা ধমকে উঠে বলে,

“এই খাবি চুপচাপ!”

মিষ্টি তবুও বিড়বিড় করে বকতে বকতে খাবার খায়। রাদিফ খাওয়া শেষ করে উঠে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরে মিষ্টির খাবার খাওয়া শেষ হয়। এরপরে উপরে রাদিফের রুমে চলে আসে। রাদিফ ততক্ষনে লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়েছে। মিষ্টি রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ে রাদিফের পাশে।

রাদিফ নীরবতা ভেঙে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে,

“কালকে বিকেলে ঘুরতে যাবো রেডি হয়ে থাকিস!”

মিষ্টি কথাটা শুনতেই খুশি হয়ে যায়। সাথে সাথে জবাব দেয়,

“ঠিক আছে!”

কথাটা বলেই রাদিফকে ঘেঁষে শুলো। রাদিফ শ্বাস ছেড়ে বলে,

“ঘুরে-ফিরে আবার হসপিটালে যেতে হবে!”

“কেনো?”

“কাজ আছে!”

মিষ্টি আর কোনো প্রশ্ন করলো না। কালকে গিয়েই দেখবে হসপিটালে কি কাজ। এর একটু পরে রাদিফ তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে,

“ওই তুহিন তোকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেলেছিলো রে!”

চলবে….

একটু স্পেশাল করলাম এই পর্বে। কেমন হয়েছে জানাবেন। আর পরবর্তী পর্ব কালকে সন্ধ্যার পরেই আসবে।

ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না। আর এই পার্টটা ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন!!!!!!

[হেশট্যাগ ব্যবহার ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here