ফ্লুজি #অনুপ্রভা_মেহেরিন [পর্ব ১৭ প্রাপ্তমনস্কদের জন্য

0
1384

#ফ্লুজি
#অনুপ্রভা_মেহেরিন
[পর্ব ১৭ প্রাপ্তমনস্কদের জন্য]

সোফায় পা গুটিয়ে বসে আছে খুশবু।তার পরনে লং শার্ট চুলগুলো ছড়িয়ে আছে পিঠ জুড়ে।আরশাদ আয়নায় দাঁড়িয়ে আড় চোখে দেখলো মেয়েটাকে।তার ফ্লুজির ডাগর ডাগর চাহনি তাকে বরাবরি আকৃষ্ট করে।

” ফ্লুজি এভাবে বসে না থেকে যা বলছি তাই করো।”

” আমি যাব না আরশাদ।”

” জান তোমার কথা আমি শুনতে চাইছি না।যা বলছি করো।”

” আমি নতুন জায়গায় সহজে এডজাস্ট হতে পারিনা।আমার ঘর থেকে বের হতে কেমন কেমন জানি লাগে।গ্র‍্যানি,গ্লোরিয়া ফুপ্পি,এলিনা এরা আমার সাথে মেশার জন্য পা গ ল তারা কথা বলতে চায় কিন্তু আমি তাদের কথা আয়ত্তে আনতে পারছি না।”

” একটা সময়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।তোমাদের বাংলাও কিন্তু কম কঠিন নয়।”

” আপনি যান আরশাদ আমি যাব না।”

আরশার কিছুই বলে না।গায়ের শার্টটা ঠিকঠাক করে খুশবুর কাছে এগিয়ে যায় এবংমেয়েটাকে সোফা থেকে কোলে তুলে নেয়।খুশবুর দু’পা বেঁধে যায় আরশাদের পিঠে।নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আরশাদের গলা জড়িয়ে ধরে সহসা।

” যদি এখন বাইরে না যাও আমিও যাব না।যেহেতু আমার কোন কাজ নেই সেহেতু এখন অন্যকিছু হবে।”

” অন্যকিছু কি আরশাদ?”

আরশাদ হাসে।ফ্লুজির উন্মুক্ত গলায় নাক ঘষে হালকা কামড় বসায়।খুশবু শিউরে উঠে আরশাদের ঘাড় খামচে ধরে চোখ পাকায় সে।

” এইই।”

“এইইই কি হুম?শার্টের উপরের বোতাম দু’টো খোলা কেন?আমাকে সিডিউস করছো?”

” আমি…”

” হানি তোমাকে দেখলেই আমি সিডিউজ হয়ে যাই।”

” নিয়ন্ত্রণহীন যুবক।

” নিয়ন্ত্রণে আছি বলেই বিয়ের বছর ঘুরে আসছে অথচ তুমি আমি ভার্জিনের তকমা লাগিয়ে চলছি।দিস ইজ আনফেয়ার জান।

আরশার ফ্লুজিকে কোল থেকে নামিয়ে বিছানায় বসায়।নিজের শার্টের বোতাম খুলে ফ্লুজির শার্টের বোতামে হাত দিতে হাত আটকে ধরে মেয়েটা।চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে সে বলে,

” আরশাদ কি করছেন?”

” তুমি যাবে না তাই তো অন্যকিছু করতে চাইছি।”

ফ্লুজি ঢোক গিলে দ্রুত নিজের শার্টের বোতাম লাগিয়ে উঠে দাঁড়ায়।চুল আঁচড়ে মাথায় জড়িয়ে নেয় হিজাব ওড়না।আরশাদ হাসে।খুশবু ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে আরশাদকে বলে,

” আমি তৈরি এবার চলুন।”

” আমি তো তৈরি নই জান।”

” এই তো সব ঠিক ছিল এখন আবার কী হলো?”

” কাছে আসো জান।”

খুশবু সহসা কাছে আসে আরশাদ তাকে আদেশ করে বলল,

” হানি শার্টের বোতাম লাগিয়ে দাও।”

” নিজে খুলেছেন নিজে লাগাবেন।আমাকে বলছেন কেন?”

” একটুতো রোমান্টিক হও জান।সব কি আমাকে শিখিয়ে পড়িয়ে দিতে হবে?”

” সেদিন কি বলেছেন মনে নেই?সামলে যাও জান,তুমি নিজেকে কন্ট্রোলে না আনলে এখন আমার কি হবে।তবে এখন এসব বলছেন কেন?”

” এখন কোন বাঁধা আছে?এখন চাইলে হ্যাঁ না চাইলেও হ্যাঁ।”

খুশবু ঠোঁট বাঁকায়।আরশাদের শার্টের বোতামে হাত রাখতে আরশাদ বলে,

” কিস মাই চেস্ট জান।”

” কি!”

” ঠিকটাই শুনেছো যা বলছি করো জান।”

” আপনি ভীষণ বাজে লোক।”

” জানি তো হানি।”

খুশবু সরে যায় আরশাদ তাকে বাঁধা দিয়ে আরো কাছে টানে।খুশবুর পালটে যাওয়া স্বরটা আরশাদের ধরে ফেলতে সময় লাগে না।ছেলেটা কিঞ্চিৎ হেসে তার ফ্লুজির গালে চুমু খেয়ে বলে,

” ছেড়ে দিলাম জান।তবে সুদ আসল দু’টোই আদায় করে নেব।”

.
একটি সুপার শপে ঘুরে ঘুরে খাবার দেখছে আরশাদ।তার প্রয়োজনীয় সব ঝুড়িতে তুলে খুশবুকে বলে,

” হানি আমার প্রয়োজনীয় সব নেওয়া শেষ।তোমার কি কি লাগবে নিয়ে নাও।এটা বাঙালি দোকান হালাল হারামের ঝামেলা পোহাতে হবে না।সবটাই হালাল যা ইচ্ছা নাও।”

” আমি আবার কি নেব।আমার কিছু চাই না।”

” তা বললে তো হবে না।চিপস চকলেট কি লাগবে বলো?”

” আরশাদ আমি বাচ্চা নই।”

” এসব খেতে হলে বাচ্চা হতে হয় নাকি?”

ফ্লুজি প্রত্যুত্তর করে না।তার চোখ যায় চকলেটের দিকে একটি চকলেট হাতে তুলে আরশাদকে দেখিয়ে বলে,

” এই একটা হলেই চলবে।”

আরশাদ ভ্রু বাঁকায়।দেরি না করে তাকে থাকা সব চকলেট নিজের ঝুড়িয়ে নিয়ে নেয়।শুধু এক ধরনের চকলেট নয় যত প্রকার চকলেট চিপস ছিল সবটাই নিজের ঝুড়িতে রাখে।খুশবু অবাক হয় আরশাদকে বাঁধা দিতে গেলে ছেলেটা তার মাথায় টোকা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়।

শপে থাকা সবার চোখ তখন কপালে এমন ক্রেতা তাদের দোকানে আছে ঠিকি তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া এভাবে কেনে কয়জন?

কেনাকাটা শেষে আরশাদ খুশবুর হাত ধরে বেরিয়ে এলো।সব প্যাকেট গাড়িতে রেখে দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিল।

” বিকাল হয়ে গেছে কি খাবে জান?”

” যে চমক আপনি খাইয়ে ছাড়ছেন এরপর আমার পেটে আর কিছু ধরবে না।”

আরশাদ হাসে।কিছুক্ষণ পর তার গাড়ি এসে থামে বাঙালি একটি রেস্টুরেন্টের সামনে।খুশবু বুঝতে পারি এটি নিশ্চয়ই আরশাদের রেস্টুরেন্ট।

” এটা আপনার?”

” না তোমার।আমার সব তোমার ফ্লুজি।ইয়ু ওন ইট।”

আরশাদ তার ফ্লুজির হাত ধরে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে।ইতালির পরিবেশের মাঝে এক টুকরো নিজের দেশীয় ছোঁয়া পেয়ে পুলকিত হলো খুশবুর মন।আশেপাশে মাটির ফুলদানি দিয়ে সজ্জিত।দেয়াল জুড়ে আছে হরেক রকম পেইন্টিং।প্রত্যেকটি পেইন্টিং দেশীয় ছোঁয়ায় আবদ্ধ।দেয়ালের এক কোণে আকা হয়েছে শিমুল গাছ।অন্য কোণে বাগান বিলাশ।বিশাল দেয়াল জুড়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশের ছবি।আরেকটি দেয়ালে নারীদের ধান ঝারার দৃশ্য।
খুশবু যখন সবটা অবাক পানে দেখছিল তখনি তার সামনে ভিড় জমায় একদল বাঙালি ছেলে মেয়ে।

আরশাদ সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় খুশবুকে।রিমি খুশবুর হাতে ধরিয়ে দেয় একটি লিলি ফুল।

” মেম আপনি লিলি ফুলের মতো সুন্দর।”

খুশবু কিঞ্চিৎ হাসে।এতক্ষণ পর কারো মুখে নিজের বাংলা কথা শুনে ছলকে উঠে তার মন।

আরশাদ তার ফ্লুজিকে বসায় একটি চেয়ারে।আশপাশটায় নজর ঘুরিয়ে সে বলে,

” রেস্টুরেন্ট ফাঁকা কেন?”

” এখানে সবাই ধরা বাঁধা নিয়ে চলে।সকালের নাস্তা তারা সকালেই কপ্লিট করবে।এবং দুপুরেরটা দুপুরেই শেষ হবে।সবটা একটা নির্দিষ্ট সময় পর ক্লোজ হয়ে যায়।এবার তুমি বলো কি খাবে?”

” আপনি যা নেবেন।”

আর‍শাদ খুশবুকে মেন্যু কার্ড দেখায়।এটা ওটা কত খাবার।খুশবু নিজের নির্দিষ্ট কোন পছন্দের খাবারের নাম বলেনি।আরশাদ অসন্তুষ্ট হয়।মেন্যু কার্ড বন্ধ করে বলে,

” ইন্ডিয়ান ফুড চলবে?”

” শিউর।”

” বাসন্তি পোলাও,মাটন,ডাব চিংড়ি,ভেটকির পাতুরি,ভাত,মুগের ডাল, ঝুরি আলুভাজা,দই,মিষ্টি,পায়েস…”

” এই থামুন থামুন এত খাবার কে খাবে?আমি কিন্তু ভোজন রসিক না।”

আরশাদ হাসে।অর্ডার পেয়ে প্রত্যেকটা স্টাফ লেগে পড়ে তাদের কাজে।

আরশাদের সাথে একটা সুন্দর সময় কাটলো তার।রাতে পরিবারের সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলো।যদিও সেখানে উপস্থিত নেই ইমরান এবং আরশাদ। এলিনা ভীষণ ছটফটে মেয়ে খুশবুকে নানান কথা বলে অস্থির করে তুলছে।গ্লোরিয়া গরম গরম পাকোড়া ভেজে বসলো তাদের সাথে।আফরোজ অফিস শেষে বাড়ি এসে বিশ্রাম নিচ্ছেলিন হঠাৎ খুশবুর খিলখিল হাসির শব্দে বেরিয়ে এলেন রুম থেকে।কপট রাগ দেখিয়ে বলে,

“এই হাসে কে?”

খুশবু ভড়কে যায় আমতা আমতা করে বলে,

” আমি আম্মু।’

” এই সুন্দর হাসিখানা কি আমার বেয়াই বেয়ানের সামনে দেওয়া যায় না?তারা যে আপনার চিন্তায় অস্থির আপনি কি জানেন?”

খুশবু লজ্জা পায়।আফরোজ মেয়েটার কপালে চুমু খেলেন।পালটা চুমু খেল গ্র‍্যানি।গ্লোরিয়া তখন ছুটে এসে বলে, “আমি বাদ যাব কেন?” গ্লোরিয়া চুমু খেল খুশবুর কপালে।এলিনা এসে সেও একই কাজ করলো।আরিব তখন সরু চোখে তাকিয়ে ছিল,

” আমি বাদ যাব কেন?”

আরিবের মুখে এমন কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠে।ছেলেটার মুখ ভঙ্গি বদলালো না।মাছি তাড়ানোর মতো বলে,

” ভাইয়ার প্রোপাটিতে যে এমন করছো ভাই জানলে শূলে চড়াবে।”
.
রাত বেশি নয় খুশবু বাবা মায়ের সাথে কথা সেরে আরশাদের ভিলায় ফিরে আসে।নিচ তলায় স্লো সাউন্ডে গান চলছে।রান্নাঘর থেকে শোনা যাচ্ছে খটখট চাকু চালানোর শব্দ।খুশবু এগিয়ে গেল, আরশাদ দক্ষ হাতে এভোকাডো স্লাইস করছে পাশের বাটিতে দেখা যাচ্ছে কিছু স্টবেরি কাটা।

” আরশাদ কি করছেন?”

” হানি এসেছো।কাম।”

খুশবু এগিয়ে এলো আরশাদের পাশে দাঁড়াতে দেখতে পেল, কিউই,রাসবেরি,আপেল রাখা।

” আমি কেটে দিব?”

” তুমি পারো?”

খুশবু দ্বিধায় পড়লো, কি বলবে সে?কাটাকুটির কাজে সে কখনো হাত লাগায়নি।অনিমা তাকে রেখেছে মোমের পুতুলের মতো।খুশবুর নিরবতা দেখে হাসে আরশাদ।মেয়েটার কোমড়ে হাত রেখে বসিয়ে দেয় উপরে।

” বসে থাকো।আমায় দেখো।”

” আপনি কি করছেন?”

” ফ্রুটস সালাদ করছি।তোমার নাকি ক্ষুধা নেই একটু কিছু তো খেতেই হবে জান।”

পাশের চুলোয় ডিম সিদ্ধ হচ্ছে।ডিমের পাতিল নামিয়ে খুশবুর মুখে একটি আপেলের স্লাইস দিয়ে আরশাদ বলে,

” খাও।”
.
ডিনার শেষে নিজের রুমে ফিরে আসে খুশবু।দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে নাকে লাগে এক মিষ্টি সুভাস।খুশবু ভয় পেয়ে যায় অন্ধকার রুমে এত সুভাস কিসের?মেয়েটা ঢোক গিলে পেছনে ছুটতে নিলে আরশাদের চওড়া বুকের সহিত ধাক্কা খায়।

” কি হয়েছে হানি?”

” আরশাদ কিসের ঘ্রাণ?”

আরশার খুশবুকে কোলে তুলে নেয়।রুমে প্রবেশ করে খুশবুকে বসিয়ে দেয় বিছানায়।বিছানায় হাত রাখতে হাতের ভাজে উপস্থিত হয় নরম পাপড়ি।আরশাদ লাইট অন করতে চমকে যায় খুশবু বিছানায় সব গোলাপের পাপড়ি।সারাটা রুম জুড়ে নানান ফুল ফুলদানিতে সাজানো।

” আরশাদ এসব কী?”

“তোমার জন্য কত কি ভেবে রেখেছিলাম কিছুই হলো না তাই ছোট্ট সারপ্রাইজ।”

আরশাদ উঠে যায় রুমের বাতি নিভিয়ে একে একে কয়েকটা প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়।

খুশবু উঠে গিয়ে দাঁড়ায় আরশাদের সামনে।জানলার দ্বার খুলে এই মুহূর্তে তার দেখতে ইচ্ছে করছে এই রাতটা কতটা সুন্দর।জানলার দ্বার খুলতে শীতল বাতাসে শিউরে উঠে খুশবু।আরশাদ পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার ফ্লুজিকে।অন্ধকার আবছা আলোয় সুযোগ বুঝে ফ্লুজির ঠোঁটে ঠোঁট মেশায়।দু’ঠোঁটের ছোয়া ক্রমশ গভীর যায়।ফ্লুজি যখনি নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে চাইলো তখনি আরশাদ সরে দাঁড়ালো।মেয়েটাকে বাজিয়ে দেখতে বলে,

” আ’ম সরি হানি।এভাবে কিস করা ঠিক হয়নি।আমি একবার কাছে এলে ফিরতে পারবো না।তুমি হয়তো প্রস্তুত নও আমার উচিত ছিল তোমার পার্মিশন নেওয়া।”

ফ্লুজি হতবাক।মেয়েটার অনুভূতি ছলকে দিয়ে আরশাদ দূরে সরতে চাইছে?তার চোখের ভাষা কি আরশার বুঝে না?সে তো প্রস্তুত, এবার কি মুখেই বলতে হবে!আরশাদ দু’কদম আগাতে তার শার্টের কলার চেপে ধরে ফ্লুজি।তীব্র রাগ নিয়ে আঁচড় কাটে ছেলেটার বুকে।আরশাদকে সে নাগাল পায় না তাই তো ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ার তীব্র বাসনা পূরণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।আরশাদের পায়ে পা তুলে দাঁড়ায় খুশবু।গলা জড়িয়ে আরশাদের কাছে আকুতির স্বরে বলে,

” আরশাদ প্লিজ।”

” হুম বলো।”

” আরশাদ….।”

” বলো জান।মুখে বলো।”

খুশবু রেগে যায়।রাগে দুঃখে তার কান্না পেয়ে যাচ্ছে।তাকে উষ্কে দিয়ে ছেলেটা মজা নিচ্ছে?তীব্র অভিমানে আরশাদকে ছেড়ে দূরে সরে খুশবু।মেয়েটার ছলছলে চোখ প্রদীপের আলোয় চিকচিক করছে।খুশবু দাঁড়ালো না অভিমান নিয়ে চলে গেল রুমের বাইরে।আরশাদ বুঝতে পেরে ঠোঁট কামড়ে হাসে।অনেক জ্বালিয়েছে মেয়েটাকে তবে আর নয়।খুশবুকে কোলে তুলে রুমে ফেরে সে।মেয়েটাকে বিছানায় পাপড়ির চাদরে বসিয়ে উন্মাদনায় ঠোঁটে ঠোঁট মেশায়।প্রতিটি উষ্ণ ছোয়া কখন যে কামড়ে রূপান্তর হয় খুশবু টের পেল না।প্রতিটি ব্যথায় পিলে চমকে উঠলো সে।আরশাদ মেয়েটাকে ছেড়ে ছিটকে বসে বিছানায়।

হাঁপাতে হাঁপাতে।তাকায় তার ফ্লুজির পানে।মেয়েটার দু’ঠোঁট তিরতির করে কাঁপছে।
আরশাদ দ্রুত হাতে শার্টের বোতাম ছাড়িয়ে মেঝেতে ছুড়ে দেয় শার্ট।বাঁকা হেসে তাকায় ফ্লুজির পানে।মেয়েটাকে হেঁচকা টেনে বিছানার ফেলে নিজের বুকের আদলে মিশিয়ে নেয় ।আরশাদের অন্যরকম মোহে খুশবু নিজেকে প্রস্তুত করে।প্রলয়ের ভয়ে নিজেকে বারবার গুটিয়ে রাখতে চাইলেও চিন্তা চেতনা দেহ আজ অন্য কথা বলছে।

আরশাদ এক চিলতে হাসে।ফ্লুজিকে কাছে টেনে গালে হাত বুলায়।

” জান।”

” হুম।”

” সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোয় যদি বেদনা পাশ কাটিয়ে যায় তুমি সামলাতে পারবে?”

খুশবু ঘোরে পড়ে যায়।তবুও যন্ত্র মানবের ন্যায় আরশাদের প্রশ্নের সাড়া দিয়ে সম্মতি জানায়।আরশার হাসে।শক্ত হাতের বন্ধনীতে জড়িয়ে নেয় তার ফ্লুজিকে।আরশাদের বলিষ্ঠ দেহের নিচে চাপা পড়েযায় ফ্লুজির ছোট্ট দেহখানি।এলোমেলো হয় খুশবুর ছোঁয়া।মেয়েটা আরশাদের পিঠে,ঘাড়ে, বুকে আঁচর বসিয়ে দেয় উন্মাদনায়।আরশাদ যতটা আক্রমণাত্মক হয় ফ্লুজি ততটা হাঁপিয়ে উঠে।প্রদীপের আলোয় প্রজ্জ্বলিত রুমটায় ভেসে যায় শীৎকার ধ্বনি।আরশাদ নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারায়।সময় যত গড়িয়ে যায় আরশাদ ততটাই ফ্লুজির বশের বাইরে চলে যায়।চাদরে ছড়িয়ে থাকা ফুলের পাপড়িরা দুমড়ে মুচড়ে নেতিয়ে যায়।আরশাদ তার ফ্লুজির দেহের প্রতিটা খাঁজে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়।ফ্লুজির দু’চোখের কার্নিশ বেয়ে অশ্রুপাত ঘটে।আরশাদ তার বৃদ্ধা আঙুলের সাহায্যে মুছে দেয় অশ্রুকণা।দু’চোখে চুমু দেয় উষ্ণ আবেশে।
আনন্দ সুখ বেদনা সবটাই মিশে একাকার মেয়েটার কাছে।ফ্লুজি বারবার হারিয়ে যায় তমসাচ্ছন্ন আরশাদের বাদামী চোখে।আরশাদ চোখে হাসে।খুশবুকে হাতে নিজের হাতের ভাজে নিয়ে বলে,

” লুক এট মাই আইস জান,আ’ম ফুল অফ ইয়ু।”

চলবে….

দিলাম আপনাদের ফ্লুজি আর আরশাদকে মিলিয়ে।এবার খুশিতো?

.

ফ্রি তে বই পেতে চান?ভাগ্যের জোরে আপনিও পেয়ে যেতে পারেন বই।চলছে গিভওয়ে… বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন →https://www.facebook.com/61555850605353/posts/122120559896195020/?app=fbl

আসসালামু আলাইকুম পাঠক।গল্পের ছোট্ট গ্রুপে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ..
🔺গ্রুপ লিংক-https://facebook.com/groups/764407025608497/
🔺আইডির লিংক-https://www.facebook.com/profile.php?id=61555546431041

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here