#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো
৩৫(ক)
সকাল সকাল ইসমাইল বেরিয়ে গিয়েও খান বাড়িতে পৌঁছতে পারেনি। তার ডাক পড়েছে হসপিটালে। প্রচন্ড ক্রোধের সহিত তাকে শাসানো হয়েছে। এমনিতেই তানভীরের কাজকর্মে মাথায় রক্ত উঠে আছে তারমধ্যে আবার অনাকাঙ্ক্ষিত ফোনে অপমানিত হওয়া! রক্ত মাথায় নিয়ে বাইকের গতি বাড়িয়ে সদর হসপিটালে উপস্থিত হয় ইসমাইল। মাঝ রাস্তায় বাধা যখন পড়েছে রয়ে সয়েই যাওয়া উচিত মেয়ের কাছে। ইসমাইলকে দেখে ফাহাদের বাবা যা নয় তাই বলে অপমান করতে থাকে। এমনিতেই মাথা গরম তার উপর এই ফাহাদের বাবা যে কিনা তার মেয়েকে অপমান করেছে! চুপ থাকেনা ইসমাইল। রাগটা সে এখানেই সব ঝাড়ে। ফাহাদের বাবাকে তিনগুণ বেশি অপমান করে। ওয়ার্ডে শুয়ে থাকা ফাহাদ কে দেখে আঙুল তুলে শাসায়,
” আর কোনদিন যদি এই হারামজাদার ছায়া আমার এলাকায় বা আমার মেয়ের আশেপাশে দেখি আজতো আমার মেয়েজামাই ওর হাত মুখ ভেঙেছে আমি ওর কোমড় ভেঙে ডাস্টবিনে ফেলে রাখবো।”
রিসিপসনে গিয়ে মোটা অংকের চেক ছেড়ে আসে।
” যেহেতু আমার মেয়েজামাই এই অবস্থা করেছে সেহেতু ওর চিকিৎসার দায়িত্ব আমার। আর এটাই লাস্ট। ”
রাগটা একেবারেই পড়ে গেছে ইসমাইলের। তানভীর তাহলে ঠিকই বলেছিল। ব্যপারটা ভালোভাবে জানতে হবে। দুপুরের আগেই ইসমাইল বেয়াই বাড়ি আসে। আসার সময় দই মিষ্টি আনতে ভুলে না। মেয়ের শ্বশুড়বাড়ি যে অবস্থাতেই যাওয়া হোক না কেন খালি হাতে গেলে সম্মান থাকেনা।
বাবার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে লাবিবা। ইসমাইলের আসার খবর জেনে নিতু ইসলামও আজ এ বাড়িতেই আছে। লাবিবার মাথায় বড় করে ওড়না দিয়ে ঘুমটা দেওয়া। মেয়েটা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে ভীষণ অসুস্থ লাগছে। ঘুম যে হয়নি এটাও বুঝতে পেরেছে। সেজন্য ওকে আর ডাকছে না। কিন্তু ড্রয়িং রুমে আড্ডা বসেছে। গল্পে মশগুল সবাই। আওয়াজও হচ্ছে। সবকিছুই যেন নরমাল। কিন্তু ইসমাইলের বুকে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কানের পাশে লাল হয়ে ছিলো নজরে এসেছে। লাবিবা অবশ্য বুঝতে পেরেই ঢেকে নিয়েছে । কিন্তু বাবার মন ঠিকই বুঝতে পেরেছে। লাবিবার শরীরের তাপমাত্রাও একটু যেনো বেড়ে গেছে। আত্বীয়দের সামনে ইসমাইল জিজ্ঞেস করতে পারলো না,
“লাবি মা জামাই কি তোকে মেরেছে?”
আড়ালেও জিজ্ঞেস করতে পারবেনা। বিবাহিত মেয়েকে এসব জিজ্ঞেসা করা যায়না। কিন্তু মেয়ের শরীরের মতি গতি বুঝতে বেগ নিলো না। তানভীর ঘুমুচ্ছে। বাবার কথা শুনে লাবিবা আর ঘুমুতে পারেনি। গতকালকের পরা আনারকলিটাই পরে বাইরে চলে এসেছে।
বেয়াই আসার খবর পেয়ে ফিরোজ খানও লাঞ্চ টাইমে বাসায় ফিরেছে। ডাইনিং এ সবাই একত্র হয়েছে। লাবিবাও বসেছে বাবার সাথে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে হাজির হয় ফিরোজ খান। লাবিবাকে দেখে একগাল হেসে নেয়। মাথায় হাত রেখে জানতে চায়,
” আমার মা ভালো আছে?”
লাবিবা সৌজন্য হাসে,
” হ্যা পাপা। ”
” রাগ পরেছে?”
” হ্যা পাপা। ”
“তুমি তো টেনশন ধরিয়ে দিয়েছিলে। আমার বাদরটাকে সিরিয়াসলি বলে দিলাম রাগ না পড়লে প্রয়োজনে পা ধরে বসে থাকবে।”
লাবিবা গাল ফুলিয়ে বললো,
“আপনি কি আমাকে পাপের ভাগিদার করতে চান পাপা?”
“একদমি না। তুমি তো আমার মা। ”
আশেপাশে তাকিয়ে নিতু ইসলামকে জিজ্ঞেস করলো ,
“তানভীর কোথায়?”
“পরে আসছে দুলাভাই। খাওয়া শুরু করুন।”
সোহানা ইসলাম সার্ভ করে দেয় নতুন বেয়াইকে। তানভীর একবার নিচে এসেই ইসমাইল কে দেখে ঘুরে যায়। লাবিবার অবশ্য চোখ এড়ায় না। নির্লজ্জ লোক! উদোম গায়েই চলে আসছে। লাবিবা ভেবেছিলো শার্ট আনতে গিয়েছে। কিন্তু খাবার শেষ করে সবাই রেস্ট করছে তখনও তানভীর আসেনা। লাবিবাও উপরে যায়না। তার শরীরটা একদমই ভালো নেই। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে নামতেও কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া তানভীরকে ফেস করতেও অস্বস্থি হচ্ছে।এতোটা অস্বস্থি রাতেও হয়নি। সেতো এমনিতেই স্ট্রং ছিলো না। তার উপর যদি লোকটা এমন পাগলামী করে তাহলে কিভাবে ব্যালেন্স রাখবে? সারাটা রাত একটুও ছাড় দেয়নি। চেঞ্জ করার সময় চোখ দুটো বুঝে চেঞ্জ করেছে। নিজের দিকে তাকানোর সাহস অব্দি পায়নি।
গল্প করতে করতে বাগানে সবাই এসে বসেছে। লাবিবা যায়নি তাদের সাথে। সে সেখানেই চুপটি করে বসে আছে। মাঝে মাঝে চোখ ঘুরিয়ে এটা ওটা ড্রয়িং এরিয়াটা দেখছে। এই প্রথম সে শ্বশুরবাড়িতে। যেখানে আসার জন্য কত অপেক্ষাই না করেছে। আজ সে তার কাঙ্খিত জায়গায়। কিন্তু তার শরীর ভালো নেই। কিচ্ছু ভালো লাগছে না। সোফায় কি একটু শোয়া যাবে? কেউ কিছু বলবে না তো? রুমেও তো তানভীর আছে। তানভীরের সামনে যেতে ইচ্ছে করছে না। লাবিবা কেমন যেন অনুভূতি শূন্য হয়ে আছে। পিঠে মাজায় ভীষণ ব্যথা করছে। বসেও থাকতে যেন পারছেনা। বাড়িতে থাকলে মায়ের সাথে এতোক্ষনে প্যানপ্যানানী ঘ্যানঘ্যানানী শুরু হতো। শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ শরীরটা নিয়েও সুস্থ থাকার অভিনয় করে যাচ্ছে।
এতোক্ষণে তানভীরের দেখা মেললো। থ্রী কোয়ার্টার প্যান্টের পকেটে দু হাত দিয়ে শীষ বাজাতে বাজাতে আসছে। আবার উদোম গায়ে ফিরেছে। লাবিবা মুখ ঘুরিয়ে তাকায়। মানুষটাকি বাসায় সব সময় শার্টলেস হয়েই ঘুরঘুর করে? লাবিবার মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া তানভীরের পছন্দ হয়না। একদম সামনে দাঁড়িয়ে একহাতে থুতনি ধরে আরেক হাতে পেটের সাথে মিশিয়ে নেয়। লাবিবার নাক ঠেকে একদম নাভি বরাবর। গতকাল রাতেই লাবিবা তার নতুন এক দুর্বলতার সহিত পরিচয় লাভ করেছে। লোমে আবৃত লম্বা শিরদাঁড়া হয়ে এসে সুগভীর এই নাভীতে মিলেছে। দু তিনবারের বেশি দেখতে পারেনি এখন নাক গুঁজে দিয়েছে। অন্যরকম একটা স্মেল আসছে। কাল থেকে এই স্মেলটাই তানভীরের গা থেকে লাবিবা পাচ্ছে। গালে লোমের ছোঁয়ায় লাবিবার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে আসে। তানভীর পকেট থেকে দুটো ট্যাবলেট বের করে। লাবিবার গাল চেপে ধরতেই হা করে। ট্যাবলেট দুটো মুখের ভেতর পুরে দিয়ে কাছেই টেবিল থেকে পানির গ্লাস হাতে তুলে মুখে পানি ঢেলে দেয়। ভাবলেশহীন ভাবে বলে, ” শ্বশুরআব্বুকে গিয়ে বলে দাও তুমি যাচ্ছোনা। উনি চলে যাক। তারপর যত ইচ্ছা ততো প্রাণ ভরে আমার নেভেলস এর স্মেল নিও। শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ”
মুখ ভর্তি পানি নাকে মুখে উঠে লাবিবা কাঁশতে থাকে। ট্যাবলেট পেটের মধ্যে চলে গেছে। লাবিবার মাথায় হাত দিয়ে আলতো করে কয়েকবার চড় দেয়।
” বাট্টি বাট্টি। সাবধানে পান করো। আমারটা থেকে তোমার নেভেলস এর স্মেল আরো কড়া। ঐটা আমার জন্যই সোনা। আফসোস নিজের টা নিজে নিতে পারবেনা। ”
লাবিবা কি প্রতিউত্তর করবে ভেবে পায়না। আহাম্মকের মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকাই যেনো তার প্রধান কাজ।
চলবে __
অসুস্থ বোধ করছি। তাই ৩৫ তম পর্ব দুই স্তরে শেষ করবো ইনশাআল্লাহ। আপনাদের রেসপন্স বাড়লেও কমেন্টে আশাকৃত রেসপন্স পাচ্ছিনা। পেইজের রিচ আবার কমতে শুরু করছে। আশাহত করবেন না। প্রত্যেকেই কমেন্ট করার চেষ্টা করবেন। ছোট একটা অনুভুতি প্রকাশে মনে করি বিশেষ কিছু সময় যাবে না। পেইজের রিচ বাড়াতে সাহায্য করুন। আপনাদের রেসপন্স বাড়লে লেখার তাগিদটা ও বাড়ে।

