#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো
(৪৪)
লাবিবার সামনে অপরাধী হয়ে বসে থাকার কথা নাকিব এবং উর্মিলার। কিন্তু তাদের মধ্যে অপরাধীর কোনো ভাব নেই। দুজনেই লাবিবার দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসছে। নাকিব লাবিবাকে একটু মানানোর চেষ্টা করলো। আদুরে গলায় ডাকলো,
” দোস্ত!”
” চুপ।”
” আমার গুলুমুলু দোস্ত। তুই ভালো।”
” সেট আপ।”
ধমক খেয়ে নাকিব চুপ করে গেলো। উর্মিলা লাবিবার হাত ধরে টানলো।
” দোস্ত শোননা রাগ করছিস কেন? আমরা আমরাই তো। ”
” তোরা বন্ধু নামের কলঙ্ক। ছাড় আমার হাত বলছি। সাহস তো বহুদূর তোর। দুলাভাইয়ের কলিজা নিয়ে ঘুরতে শুরু করেছিস! হারামীর দল।”
“তোর জন্য ই তো সব। ”
” তাই বলে এতো বড়ো ধোকা দিবি? আমার বন্ধু হয়ে আমার অগোচরে স্যারের সাথে হাত মেলাবি? কি করে পারলিরে তোরা এমন করতে?”
” যা করেছি তোর ভালোর জন্যই করেছি। সে সময় এছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। আমরা কি আর জানতাম তলে তলে এতো দূর? সাহায্যের নাম করে বিয়ে করার পরিকল্পনা?”
” যখন জানলি তখনও কি আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না?”
” দেখ বোইন। ছেলেদের হৃদয় হয় খুব সফট আর সাদামাটা। তোদের মতো মেকাপ নিয়ে ঘুরে না। প্রিন্সিপাল তোকে দেখেই ক্রাস খেয়ে ফেলছে। তোকে ছাড়া রাতে ঘুমাতে পারতো না। ছটফট করতো। টেনশনে চুল উঠে যাচ্ছিলো। গম্ভীর মানুষটা হাসতে জানলেও তোকে দেখার পর থেকে হাসি ভুলে গেলো। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়াও ভুলে গেলো। তোর পিছু লাগলো। তুই বল স্যার তোর আশেপাশে ঘুর ঘুর করতো না?”
” কবে?”
” আরে বইন মনে কর মনে কর। তুই বুঝতে পারতিস না? তুই নাকি স্যারকে ফিল করতে পারিস?”
” হ্যা। তো?”
” তো মানে? স্যার তোকে ফলো করতো। এতো কিছু দেখে আমরা কি একটা প্রেমিক কে কষ্ট পেতে দিতে পারি? স্যারের বুদ্ধিতে কাজ করে বুঝতে পারি যখন এই প্ল্যান টা করা ছিলো তখন আমি বা আমরা কেউ পারিনি স্যারের পথে কাটা দিতে। একজন প্রেমিককে সফল করার চেষ্টা করেছি। এখন বল আমরা কি কোনো দোষ করেছি? তোকে বললে যদি রেগে যাস তাই বলিনি। এইযে এখন জেনেছিস দেখ তুই রেগে গেছিস। ”
লাবিবা চুপ করে থাকলো। গভীর চিন্তা করলো। ভাবলো আর ভাবলো। তাও কনফিউশন নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
” আসলেই?”
” এখনও কনফিউশনে আছিস?”
” না । আসলেই স্যার আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু তোরা ভালোবাসিস না। তোরা স্যারকে ভালোবাসিস। আমার কষ্টটা তোদের চোখে পড়েনা। স্যারের কষ্ট তোদের সহ্য হয়না। ”
উর্মিলা চোখ বড় বড় করে ফেললো।
“দিব্যি তো আছিস। তোর আবার কিসের কষ্ট? বাসর করিস নি এখনও?”
দাঁত চিবিয়ে ভয়ানক চাহনি দেয় লাবিবা। গট গট করে বন্ধুদের রেখে চলে যায়। এই হলো বন্ধুমহল। বাসর ছাড়া এদের মাথায় আর কিচ্ছু নেই। আবেগপ্রবণ কোন কম বয়সী যুবককে বিয়ে করেনি। করেছে এক তাগড়া পুরুষ কে। এক চুল ছাড় দেয়াতে তিনি নাই।
বাদ জুম্মা ইসমাইল, সাবিনা লাবিবা রেডি হয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। তামিমরা এখান থেকেই পিক করবেন তাঁদের কে। লাবিবা ঠিক ঠাক হাঁটতে পারছেনা হাই হিল পড়ে। কিন্তু খুলেও রাখছেনা। ইচ্ছেও নেই। তাকে দেখে মনে হচ্ছে আজ তার রিসিপসন। আকাশী রঙের কাঞ্জি শাড়ীতে এই পর্যন্ত শ্বশুড়বাড়ি থেকে পাওয়া সব গহনা পড়ে ভারী মেকাপ করেছে। তার দিক থেকে চোখ ই সরানো যাচ্ছে না। ভাবীর কাছ থেকে সাজার পর থেকে কতবার যে ভাবী কাকী সাবিনা এসে কানের পাশে কাজল লাগিয়ে গিয়েছে হিসাব ছাড়া। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতেও লাবিবার বিরক্ত লাগছে না। কন্ফিডেন্সে ভরপুর। আজ তাকে খান বাড়ির ছোট বউ মনে হচ্ছে। পাত্রীকে তাক লাগিয়ে দিবে। সবার আগে লাগাবে তানভীরকে। তার জন্য ই অপেক্ষা। ইসমাইল সাবিনার জন্য আলাদা গাড়ি এসেছে। তারা উঠে বসেছে। লাবিবা যাবে তানভীরের গাড়িতে। লাবিবা গাড়ির দরজার সামনে দাড়াতেই তানভীর ভ্রু কুঁচকে ফেলে। গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করে,
” কিছু বলবেন?”
” ডোর খুলুন। আমি উঠবো। ”
” সরি আপনাকে চিনতে পারছিনা। ”
” আমি লাব্বু। খান সাহেব আপনার বউ।”
” সরি। আপনি মেকাপ সুন্দরী । আমার বউ মোটেই মেকাপ সুন্দরী নয়। আপনি প্লিজ আমার বউকে নিয়ে আসুন। ”
” আরে? মানে কি? ”
” মানে আমার তাড়া আছে। আমার বউকে নিয়ে আসুন।”
” আপনার গাড়িতে নিবেন না?”
” বউকে নিবো।”
লাবিবা ভেবেছিলো কি আর হলোটা কি? কই বলবে বউ তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে কাছে এসে বসো। তা নয় গাড়িতেই তুলতে চাইছে না। সে সামনের দিকে ছুট দিলো। ইসমাইলদের গাড়ি স্টার্ট দিয়েছে। একটু সামনেই। ডাকলো,
” আব্বু আমাকে নিয়ে যাও। দাঁড়াও। ”
তানভীর গাড়ি থেকে নেমে লাবিবার পিছু দৌড় দিলো। ধরেও ফেললো। কোমড় জড়িয়ে ধরে গতিরোধ করলো। বুকের উপর জড়িয়ে ধরে করুন গলায় বলল,
” আল্লাহর দোহায় লাগে বউ তোমার এই শাড়ি পড়া রুপ আমি কাউকে দেখতে দিবো না । ”
” কেন? ঠিক ঠাক পিন আপ করেছি। আমার তো প্রব্লেম হচ্ছেনা। ”
” চেঞ্জ করে আসো। নয়তো তোমাকে নিবো না। ”
” কেন? আমাকে সুন্দর লাগছে না? মনে হচ্ছে না আমি আপনার বউ?”
” তুমি সুন্দর হলেও, আমার বউ না হলেও আমার বউ।”
” আমি এতো সুন্দর করে সেজেছি। চেঞ্জ করবো না।”
” তাহলে আমরাও যাচ্ছি না।”
মেয়ের বাবা কোন ঢাকঢুক রাখলেন না। সত্যটা সরাসরি বলে দিলেন , ” আমার মেয়ের বয়স এই পঁচিশে পড়লো। বয়স আঠারো হতেই বিয়ে দিয়েছিলাম। মেয়েটাকে ওরা প্রায় মেরে ফেলছিলো। একটুখানি সুখের মুখ দেখতে পায়নি। এতোবছর পর জানতে পারলো তার স্বামীর আরেক সম্পর্কের কথা। মাস দশেক আগে মেয়েটা আমার অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি এলো। তারপর আর ছেড়ে দিই নি। মাস ছয়েক হলো ডিভোর্স হয়েছে। মেয়ে আমার দেখলেই বুঝতে পারবেন। বড়ো লক্ষী। রোজীর মা রোজীকে নিয়ে আসো। ”
রোজীকে দেখে সকলেরই বড্ড পছন্দ হয়। তামিমকে জিজ্ঞেস করলে তামিম কিছুক্ষন চুপচাপ রোজীর দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটার শরীরে স্বাস্থ্য বলতে নেই। শুকিয়ে কাঠ। ফুটফুটে প্রায় গোল চেহারা। একবার তাকালে দ্বিতীয়বার তাকাতে যে কেউ বাধ্য হবে। রোজীর গায়ে নীল রঙের আনারকলি। কানে সোনার দুল। ফুটফুটে মুখে কোনো অকৃত্রিমতার ছোয়া নেই। চেহারায় কোনো ভাবালেশ নেই। যেন এমনি বসে আছে। পরিচিত মানুষের সামনেই। ইউজ টু হয়ে গেছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তামিম কিছুক্ষন রোজীকে পরখ করে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। বিসমিল্লাহ বলে সোহানা তামিমের হাত থেকে রোজীর হাতে আংটি পড়াতে বললো। আংটি হাতে পড়ে রোজী চুপচাপ বসে রইলো। বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হলো। মেহমানরা চলেও গেলো। রোজী গেইটের আড়ালে এসে অবাক চোখে দেখতে লাগলো। কি অদ্ভুত! অনান্য পাত্ররা সবাই রোজীর সাথে আলাদাভাবে কথা বলার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এই লোক সামান্য প্রয়োজন বোধ টুকুও করলোনা।
লাবিবার রাগ পড়েনি। বরং আরো আরো রাগ বেড়েছে। সমস্ত রাগ তানভীরকে ঘিরে। রাগে রাগে লাবিবা মন মতো সেজেছে। টকটকা লাল লিপিষ্টিক দিয়েছে। গালে পাউডার মেখে ধবধবে সাদা করে ফেলেছে। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি। গোলাপী ব্লাসন ও লাগিয়েছে। আর বেশি সাজা যাবেনা। কলেজে এতো বেশী সাজলে ঐ কাতারের মেয়ের সাথে তুলনা দিবে যারা ছেলেদের মাথা ঘুরাতে আসে। তাহলে লাবিবা কোন কাতারে পড়ে? সেও তো মাথা ঘুরাতে যাচ্ছে। যেমন তেমন ছেলের না। স্বয়ং তানভীর খানের।
কলেজে পা রাখতেই উর্মিলা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো।
” দোস্ত_ কনগ্ৰাচুলেশনস। ”
” কেন?”
” শুনলাম পাগলের ডাক্তারের বিয়ে ঠিক হয়েছে?”
” তো তাকে গিয়ে কনগ্ৰাচুলেট করনা।”
” এই বুইড়া বেটা এতো দিনে বিয়ে করে! কি লজ্জার কি লজ্জার!”
” দ্বিতীয়বার।”
” কি বলিস? এই ডাক্তারের তো আসলেই রাজ কপাল। রাজ প্রাসাদে জম্ম। এতো এতো প্রতিপত্তি। তার উপর ডাক্তার। দু দুটো বউ! মানুষ তো একটা বউই পায় না। এই বেটা দু দুটো ফুলের মধু পান করবে। আগের পিস কই রে? মারা গেছে?”
” না। আছে। ”
” ডিভোর্স! কই রে?”
” ফ্লোরা আছে না? মডেল।”
” তোর আইডল। ”
” উনি আমার এক্স জা। ”
” রিয়েলি? আর দ্বিতীয় জা?”
” রোজি আপু।”
” তুই ঘটিয়েছিস ঘটনাটা তাই না? কিন্তু উনি তো ম্যারিড।”
” ডিভোর্স হয়ে গেছে। ”
” সাবাশ! আপুটা বেঁচে গেছে। ”
” তামিম ভাই অনেক ভালো জানিস? উনি আপুকে অনেক হ্যাপি করবেন। আপু যে ইনোসেন্ট! তামিম ভাই আপুর দিকে তাকাবেনই।”
অনেকেই তাকাচ্ছে লাবিবার দিকে। সাদামাটা মেয়েটাকে ভীষন সুন্দর লাগছে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও নজর দিচ্ছে। মাস্টার্সের আপুরা তো হেঁটে যেতেই গাল টেনে দিচ্ছে । লাবিবা নিরুপায় হয়ে দুহাতে গাল চেপে রেখেছে। সেটা দেখে সিনিয়র আপুরা হেসেই দিচ্ছে। তাতে কি? গাল টানা যাবে না। এই গাল লাবিবার না। অন্যের সম্পদে হস্তক্ষেপ মালিক পক্ষ মেনে নিবে? কখনোই না। ক্লাস চলাকালীন সময়ে তানভীর সহ আরো কয়েকজন স্যারের ক্লাস প্রবেশ হলো। নতুন দের বরণ করে নেবার জন্য স্টুডেন্টস দের বলা হলো। নবীন বরণের সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যোগ হবে। সিনিয়র হিসেবে সবটুকু দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে বলা হলো। পুরোটা ভাষন দিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল। তানভীর ভাষন দিতে গিয়েও ভাইস প্রিন্সিপাল কে ইশারা করেছেন। নজর তানভীরের লাবিবার উপর। লাবিবাও সারা বছর ব্যাকবেঞ্চার হলেও আজ ফার্স্ট বেঞ্চে বসেছে। যেন দরজা দিয়ে যে প্রবেশ করবে তাকেই প্রথমে নজরে পড়ে। সেই চার পাঁচ মিনিট সময় তানভীর লাবিবার দিকেই তাকিয়ে রইলো। আর লাবিবা তানভীরের দিকে। চোখে চোখ মিলন হলো। তানভীর এতোক্ষণ ধরে যা আবিষ্কার করলো তা হলো লাবিবার রাগ পড়েনি। বউ তার এখনো রেগে আছে। একটু আদর না দিলে বউয়ের রাগ পড়বেনা। বেরিয়ে যাবার সময় চোখে ইশারা করলো,
” ক্লাস শেষে বাহিরে আসো।”
লাবিবা মুখে ভেংচি কাটলো। কিন্তু অমান্য করলো না। স্যার বেরিয়ে যেতে যেতেই সিঁড়ির দিকে তানভীরকে দেখতে পেলো। লাবিবা কাছাকাছি যেতেই তানভীর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো। পিছু পিছু লাবিবাও উঠতে লাগলো। ফাঁকা সিঁড়ি পেয়েই তানভীর সোজা লাবিবার হাত টেনে ধরে দেয়ালে চেপে ধরলো। কপালে ঠোঁট চেপে ধরেই ধমকালো
“এতো জেদ কেন তোমার? গালে কেন রং মেখেছো?”
” আরো মাখবো।”
” মাখো। ঠোঁট রাঙাবে না। বড্ড চোখে লাগে।”
” সেজেছি সুন্দর লাগছে না? জানেন কতগুলো ছেলে আজ তাকিয়েছে? আপনি আজ আমার মন ভাঙতে পারলেন না। ”
” আমি তোমার মন ভাঙি?”
”জানেন না মেয়েদের সাজ নষ্ট করলে মন ভেঙে যায়?”
“তাহলে তোমার মন আমি প্রতিদিন ভাঙতে চাই। তোমার সাজ শুধু আমি দেখবো আর কেউ না। আমার জিনিসে বদনজর না লাগুক। ”
” আপনার নজর থেকেই তো আড়াল হতে পারছিনা। কেমন শয়তানি করে আমাকে বিয়ে করলেন আপনি।”
“খারাপ কিছু করেছি?”
“অবশ্যই। আমার ফ্রেন্ড দেরকে নিয়ে ঝড়যন্ত্র করেছেন আপনি। ”
” কি করবো বলো? তোমার অসহায়ত্ব দেখে আমার তোমাকে খুব হেল্প করতে ইচ্ছে করলো। তোমার বোকা মাথায় ঝামেলা ব্যতিত আর কিছু আসবে না বুঝতে পেরে সাহায্য টা করেই ফেললাম। প্রমিজ করেছিলাম তো গিফট দিবো। নিজেকেই দিয়ে দিলাম।”
” ভোগান্তি লাগবেনা। ”
” গিফট দিলাম তোমার ভোগান্তি মনে হচ্ছে? জান তুমি কি আমার কাছে হ্যাপি না?”
“কেনো বিয়ে করলেন আমায়?”
” এই লাল ঠোঁট জোড়ার দাবীদার হতে চেয়েছিলাম তাই। একটু খাই?”
” না। আমার লিপস্টিক_ উমমম ।”
ম্যাট ছাড়া লিপস্টিক দিলে যা হয়। তানভীর একেবারে ঘেঁটে দিয়ে তবেই ছাড়লো। তার ঠোঁটেও লেগে রয়েছে কিছুটা। লাবিবার থুতনি অব্দি লিপস্টিক লেগে গেলো। দীর্ঘ এক সময় অতিবাহিত হবার পর দুজনেই কপালে কপালে ঠেকিয়ে হাঁপাতে লাগলো। লাবিবা চোখ বন্ধ রেখেই বললো,
” কি করলেন এটা? ছড়িয়ে গেলো তো।”
” আমার তো সব কিছু ছড়িয়ে ফেলতে মন চাইছে বউ।”
” ছাড়ুন।কেউ দেখে নিবে।”
” তুমি জানো এই কলেজে আনাচে কানাচে কতো কতো প্রেমিক প্রেমিকা আমাদের মতো টাইম স্পেন্ড করে?”
” তাঁরা আর আমরা কি এক হলাম?”
তানভীর লাবিবাকে ঘুরিয়ে দেয়। দেয়ালের দিকে তাকাতেই তানভীর পকেট থেকে মার্কার বের করে লাবিবার হাতে ধরিয়ে দেয়। মুচকি হেসে হাতের উপর হাত রেখে দেয়ালে বড় বড় অক্ষরে লিখে
” এই কলেজের প্রত্যেকটি দেয়ালে দেয়ালে লিপিবদ্ধ হোক তোমার আমার প্রেম গাঁথা। ”
চলবে __

