ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো (৪৫)

0
1256

#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো

(৪৫)
সোহানা ইসলাম তামিমের পিছু নিয়েছে। ছেলেটা কোনো ভাবেই কথা শুনছে না। সকাল থেকে ঘুরেও কাজ হচ্ছে না। তামিম বাড়ি থেকে বেরোতেও পারছিলো না। কোনো ভাবে বেরিয়েছে এখন আর বাসায় ঢুকছে না। রাত গভীর হতে থাকলে ফিরোজ খান ফোন‌ দেয় তামিমকে।
” কোথায় তুমি?”

তামিম বাড়িতেই আছে। পেছন দরজা দিয়ে ঢুকেছে। নিজের রুমে যায়নি। তানভীরের রুমে আছে। এখন যদি বলে তানভীরের রুমে তাহলে এসে আবার হানা দিবে। কি বলবে? মিথ্যা তো বলতে পারছেনা। তামিমের সিচুয়েশন বুঝে তানভীর নিজেই ফোনটা কান থেকে নিয়ে নেয় ‌।
” আমার রুমে আছে পাপা। ”

” তোমার মম টেনশনে টেনশনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর তোমরা আড্ডা দিচ্ছো? ”

” না পাপা। ঘুমুচ্ছি। ঘুমতে দাও। গুড নাইট। ”

ফোন রেখে দিতেই তামিম চোখ গরম করে,
” এবার যদি মম এসে আমার মাথা খারাপ করে দেয় তোর খবর আছে। ”

” আসবেনা ঘুমাও। এতোক্ষণে বোধহয় তোমার বাগদত্তা জেগে নেই।”

” ঘুমিয়েও নেই। ”

“কি করে জানলে?”

” ডিপ্রেশনে থাকা মানুষের চোখে এতো তাড়াতাড়ি ঘুম আসে না। মিস রোজির সাথে যা হয়েছে তা নিয়ে উনি টোটালি ডিপ্রেসড। তিনি অবশ্যই ঘুমের মেডিসিন নিয়ে ঘুমান। শরীরের জন্য মোটেও ঠিক নয়।”

তানভীর মৃদু হাসে। ঘুমোতে বলে নিজেও ঘুমানোর ট্রাই করে। সে পর্যন্তই। কিন্তু ঘুমাতে পারেনা। অতিরিক্ত ক্লান্ত না হলে ঘুম আসে না। ফ্রমের বিছানাটা আজকাল শক্ত মনে হয়। বড্ড নিষ্প্রান। বালিশে মাথা রাখলে শুনতে পায় না হৃদস্পন্দন। মাথায় বিচরণ করে না একটা তুলতুলে নরম হাত। তানভীরের ছটফটানি তামিম খেয়াল করে। লম্বা শ্বাস ফেলে।
” তোর হয়ে পাপাকে রিকুয়েস্ট করবো অনুষ্ঠান ছাড়াই লাবিবাকে নিয়ে আসতে। পরে না হয় রিসিপশন করা যাবে। ”

” পাপার এনস্যার হবে আগে বড় বউকে ঘরে তুলবো তারপর বড় বউ ছোট বউকে ঘরে তুলবে। ”

তামিম বালিশ ছেড়ে উঠে বসে। তানভীর ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
” এনি প্রবলেম?”

” তোদের কি মনে হচ্ছে না তোরা আমাকে ট্রাপে ফেলে বিয়েটা করিয়ে নিচ্ছিস?”

” তার আগে তুমি সিরিয়াস হও। বলো ফ্লোরাকে এখনও চাও? বিলিভ মি। আমি ব্যবস্থা করব।”

তামিম মাথা নাড়ালো। সে চায় না। আবার শুয়ে পড়লো। পাশ ফিরে উল্টো দিক হলো। বিরক্তিমাখা কন্ঠে জানালো, ” তোর জন্য হলেও আমাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করতেই হবে।”

” রোজী। না?”

” হুম। ”

ঘর জুরে নেমে এলো নিরবতা। ঘুমোতে চাইলেও ঘুম এলো না তামিমের চোখে। প্রথমে ফ্লোরা তারপর রোজী । দুই নারীকে নিয়ে ধাঁধা সৃষ্টি করতে করতে রাত টুকু কেটে গেলো।

সকালে ছাড় পেলোনা তামিম। সোহানা শার্টের কাপড় সহ হাত ধরে রেখেছে। তামিম বিরক্ত হলো।
” আহ! মম। কি শুরু করেছো বলতো? কিছুদিন দেখলাম তানভীরের পিছু ছুটেছো আর এখন আবার আমি কেন? ”

” কিছু দিন আগে তানভীরটা দুধের বাচ্চা ছিল এখন তুমি দুধের বাচ্চা হয়ে গেছো বাবা। প্লিজ রোজীকে কলটা করো।আমি গতকাল বলে রেখেছিলাম তুমি কল করবে। মেয়েটা কি ভাবলো বলোতো?কথা যদি না বলো বনিবনা হবে? চিনবে কিভাবে দুজন দুজনাকে? এসব তো আমি মেনে নিবো না। আমার দুই ছেলে ছেলেবউকে আমি বেস্ট কাপল ক্যাটাগরিতে দেখতে চাই। ”

তামিম বুঝলো ফোনটা করতেই হবে। তাছাড়া সারারাত ভেবে দেখেছে নিজেকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া উচিত। আগে যা ছিলো তা ভুল। এখন শুধরে নেবার সময়। তাই ফোন নাম্বার নিয়ে নিজের ফোন থেকেই কল করলো।

রোজী জানালার বাইরে মুখ দিয়ে বসে আসে। সকালের মৃদু রোদ মুখের উপর পড়ছে। চকমক করছে স্কিন। রাতে কখন ঘুমিয়েছিলো মনে নেই। ঘুম থেকে উঠে এভাবেই বসে আছে। ফোনে কল আসাতে জানালা থেকে সরে আসে। আননোন নাম্বার। আন্দাজ করে তামিমই হবে। গতকাল ফোন দেবার কথা ছিলো উনার। ফোন রিসিভ করে আবার জানালার পাশে এসে দাঁড়ায়। এখান থেকে 4G নেট পাওয়া যায়।
” আসসালামুয়ালাইকুম। ”

” উহুম। ওয়ালাইকুমুস সালাম। আমি তামিম খান বলছি। আপনার__”

” জি চিনতে পেরেছি। বলুন। কেমন আছেন?”

” আলহামদুলিল্লাহ। আপনার শরীর ভালো?”

” জি ভালো।”

” রাতে ঘুমান না কেন? ”

” জি? আমি_ আমি রাতে ঘুমাই। ”

” ঘুমের মেডিসিন নিয়ে ঘুমান।আচ্ছা আপনার কি মাতালের মতো লাগে? মাথা ঘোরায় ? কথা বার্তা কম বলেন কেন? একদম চুপচাপ থাকেন।”

” না না তা হবে কেন?”

” আমার কত বছর ডাক্তারির এক্সপেরিয়েন্স জানেন? আই থিংক আপনার একবার আমার চেম্বারে আসা উচিত। হযরত শাহজালাল হসপিটাল ফিফথ ফ্লোরে বসি। রিসিপশনে গিয়ে আমার নাম বললেই রুমটা দেখিয়ে দিবে। কবে আসছেন আসার আগে আমাকে ইনফর্ম করবেন। ”

” আপনি কি আমার ট্রিটমেন্ট করতে চাইছেন? লিসেন আমি কিন্তু মোটেই সিক নয়। সুস্থ স্বাভাবিক একটা মানুষ।”

” আপনি আগে আসুন। আপনাকে দেখি। আমি এক্সপেরিয়েন্সড ডক্টর। মানুষকে ভালোভাবে দেখলেই বলে দিতে পারি সে কোন রোগ কন্টিনিউ করছে। আসার আগে জানিয়ে আসবেন। আমি হসপিটালে নাও থাকতে পারি কিনা! আল্লাহ হাফেজ। ”

কট করে ফোনটা কেটে শ্বাস ছাড়লো তামিম। একবারই রোজীকে দেখেছে। অতটা ভালো করেও দেখতে পারেনি সবার মাঝে। আলাদা কথা বলা উচিত। রোজী অনেকক্ষন ফোনের স্কিনের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো। দেখা করবে সরাসরি বললেই হতো। এতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলবে? লাবিবা সত্যিই বলেছিল পাগলের ডাক্তার। কিন্তু একা যাবে কিভাবে? সম্পূর্ণ অচেনা একটা মানুষের কাছে কিভাবে একা একা দেখা করবে? বাবা মাকে বললে না করবে না। কিন্তু রোজীর ভীষণ আনইজি লাগবে। যতই হোক দ্বিতীয়বার তার ইন্টারেস্ট দেখানো সবার চোখে লাগবে। রোজী লাবিবাকে টেক্সট করে দিলো। একটা চোরা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।

রোজী জানালো সে আসছে। কিন্তু সত্যি সত্যিই তামিম হসপিটালে নেই। সে বাসায় আছে। আছে পরিবারের প্রত্যেকটি পারসন। তামিম তড়িখড়ি করে বেরিয়ে যাচ্ছিলো। পথ আটকে দাঁড়ালো সোহানা ইসলাম। তার মতে হসপিটালে বা বাইরে দেখা না করে রোজীকে তার বাড়িতে নিয়ে আসা উচিত। এতে বাড়ির প্রত্যেকের সাথে দেখা হবে। বাড়িটাও দেখা হবে। ইচ্ছামতো দুজনে উইদাউট ডির্টার্ব টাইম স্পেন্ড করতে পারবে। একপ্রকার জোর করেই তামিমকে রাজি করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তানভীর হাসতে হাসতে বললো,
” ভাইয়া কি নার্ভাস ফিল করছো? দেখো তুমি কিন্তু নিজে থেকেই দেখা করতে চাইছো। ”

” রোজী মেয়েটা কেমন হবে রে? নরম সরম মেয়ে? নাকি রণচন্ডী? কিছুই তো জানি না। ”

” নিশ্চয় উল্টোপাল্টা কিছু বলেছো। ”

তামিম আর বললো না যে রোজীকে চিকিৎসা করতে চেয়েছে। মেয়েটা নিশ্চয় রেগে আছে। তানভীর ব্যপারটা বুঝে বললো,
” ওকে চলো আমিও যাচ্ছি। একদম বাড়ি থেকেই গিয়ে নিয়ে আসবো। বাইরে কোথাও ওয়েট করানোর কোন মানে হয়না।”

” ওর ফ্যামিলি কিছু বলবে না?”

” আরে ব্যপার না। চলো দেখছি ভাবীকে কিভাবে তুলে এনে আরেকটু রাগিয়ে দেওয়া যায়। ”
তামিম বাঁকা চোখে তাকায়। তানভীর ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে গাড়ির চাবি হাতে বেরিয়ে যায়।

কাল থেকে রেগুলার পাবেন ইনশাআল্লাহ। আমি ডিস্টার্ব থাকি প্রায় তাই আপনারা রেগুলার গল্প পাচ্ছেন না। ধৈর্য্য ধরার জন্য ধন্যবাদ।গল্প সম্পর্কে সকল আলোচনায় অংশ গ্ৰহন করতে জয়েন করুন আমার ছোট্ট গ্ৰুপে Labiba’s Tale🧚‍♀
চলবে ____

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here