ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো (৪৯)

0
1276

#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো

(৪৯)
সকাল সকাল রেডি হয়ে রোজীকে বের হতে কেনো বললো ঠিক বুঝলো না। ব্রেকফাস্ট করে নিয়েছে মাত্র।‌তামিম রোজীর বাসার সামনে এসে রোজীকে কল করলো। রোজী কল ধরতেই বললো,
” বেরিয়ে এসো। ”

” আপনি ভেতরে আসুন না। ”

” যাচ্ছি না।”

” ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়েছেন? মা আপনার জন্য ব্রেকফাস্ট বানিয়েছেন। ভেতরে আসুন।”

” ব্রেকফাস্ট তুমি করে তারপর বেরিয়ে আসো।”

” মা কতো করে বলেছে। প্লিজ ভেতরে আসুন। ব্রেকফাস্ট করে যান।”

” তুমি হটাৎ আমার ব্রেকফাস্টের পেছনে পড়লে কেন?”

রোজী কোনো উত্তর দিতে পারলো না। বুকটা দুরুদুরু করছে। বক্সে করে কি খাবার সঙ্গে নিয়ে যাবে? যদি বকে? ফেলে দেয়? এখনো ভালোকরে তো চিনেই উঠতে পারেনি মানুষটাকে।
” আন্টিকে আমার সালাম দিও।”
বলে তামিম ফোন রেখে দেয়।

রোজী এসে বসে গাড়িতে। হাতে ছোট্ট একটা পার্স আর ফোন। বাঙি কালার জর্জেটের সালোয়ার কামিজে সকালের স্নিগ্ধ চেহারায় রোজীকে অন্যরকম লাগছে। মাথায় কাপড় দেয়া থাকলেও জুলফির ছোট চুল গুলো বেরিয়ে আছে। তামিম নিজের সিটে বসেই রোজীর গালে হাত দিলো। রোজী চমকে উঠলো। লজ্জায় গুটিয়ে গেলো। ছোট চুল গুলো কানের পাশে গুঁজে দিয়ে তামিম বললো,
” হিজাব করবে তাহলে চুল বের হবেনা। স্মার্ট লাগবে।”

রোজী ডান দিকে মাথা নুয়ায়। ছোট্ট করে উত্তর দেয়
” আচ্ছা।”

রোজী কখনও স্মার্ট হতে চায়নি। সরল প্রকৃতির একটা মেয়ে। নিজে যেমন তেমনই থেকেছে। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছছ তাকে ইমপ্রুভ হতে হবে। এতো হ্যান্ডসাম একজন ডাক্তার তার পাশে সে নিঃসন্দেহে বেমানান। এইসব কারণে যদি বিয়েটা না করে দেয়? রোজী মনে ক্ষনিকে ক্ষনিকে ছোট ছোট বিষয়ে ভয় ঢুকে থাকে। ঐ যে বলেনা? গোয়াল পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখেও ভয় পায়। তামিম রাস্তায় রোজীকে প্রশ্ন করে,
” পড়াশোনা শেষ তোমার?”

রোজী উত্তর দিতে পারে না। লজ্জায় বুকের সাথে থুতনি লাগিয়ে রয়। তামিমের যা বোঝার বোঝা হয়ে যায়। বিরক্তি ভেতর থেকে ঠেলে আসে।
” কোথায় এডমিশন নিতে হবে? স্কুলে নাকি কলেজে?”

রোজী এমন প্রশ্ন আশা করেনি। ভেবেছিল সে ঠোট হচ্ছে সেজন্য এই বিষয়ে আর কথাই বলবেনা। মানুষটা খুব ম্যানেজেবল। কিন্তু আজ এইমানুষটা ঠিক নেই। একদমি ঠিক নেই। নিজে থেকে গালে হাত দিচ্ছে। কিভাবে থাকতে হবে সেটা বলে দিচ্ছে লাইক এ টিচার!
” কলেজে। ”

” তাও আমার ভাগ্য। যে বয়সে ছেলেমেয়ে স্কুলে নিয়ে যাবো সেই বয়সে তোমাকে স্কুলে পড়তে নিয়ে যেতে হবেনা। ”

” আপনার বয়স কতো?”

” চল্লিশের কাছাকাছি।”

” এতো?”

রোজী অবাক হয়ে বললো, “অনেক বড়ো।”

” তারপরেও তো মুখে মুখে কথা বলছো। ম্যানারস জানলে পুরো রাস্তা চুপ করে থাকতে। চোখ থাকতো কোলের উপর। সঠিক বয়সে বিয়ে করলে তোমার বয়সী আমার একটা মেয়ে থাকতো।”

রোজী নড়েচড়ে বসলো। মিনমিনিয়ে বললো,
” এতো না।আপনাকে দেখে ত্রিশের বেশী লাগে না। ”

তামিম জোরপূর্বক হাসলো, ” ভালো বলেছো। গভীর রাতে বাসায় ফিরলে প্রবলেম হবে? বা না ফিরলে? ”

” কোথায় যাচ্ছি আমরা?”

” ঢাকায়।”

” অসম্ভব। এতো দূর!”

” অসম্ভব? নেমে যাবে? সাইড করছি নেমে যাও। ”

রোজী গাড়ির বাইরে তাকিয়ে ছটফট করে উঠলো। তামিমের দিকে এগিয়ে এসে বললো,
” আমি কিছু চিনিনা। ”

” ইচ্ছে করলেই চেনা যায়। ”

রোজী করুন চোখে তাকালো। ডানে বামে অনর্গল মাথা নাড়ালো। চুপটি করে রইলো। তামিম সিট বেল্ট লাগিয়ে নিতে বললো। এরপর একশো বিশের উপর গাড়ি চলবে। তাড়াতাড়ি পৌঁছানো চাই। সল্পপরিচিত তামিমকে রোজী বেশ ভয় পেলো। হুট করে একা তামিমের সাথে এতো দূর। তাকে বেঁচে দিলেও তো কেউ জানতে পারবেনা। অন্য মতলব নেই তো?

বসুন্ধরা সিটি মলে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছে তামিম। শক্ত করে মুঠোয় করে আছে রোজীর কব্জি। দক্ষিন এশিয়ার হাইস্ট মল এতো বড় এরিয়া! এতো এতো শপ দেখে রোজীর মাথা ঘুরছে। নিচের দিকে না তাকিয়ে তার চোখ উপরে ঘুর ঘুর করছে। তামিম স্টিলেটো দেখছে রোজীর জন্যে। বাছাই শেষে তিনজোড়া পছন্দ হয়েছে। রোজীকে পায়ে দিয়ে হাঁটতে বলতেই রোজী ঢুক গিলে। তামিম ভ্রু কুচকায়।
” কি প্রবলেম? ”

” উঁচু জোতা পড়ে হাঁটতে পারিনা। পড়ে যাই শুধু। ”

” হালকার উপর একটা ধাক্কা লাগলেই আপনি পড়ে যাবেন। পায়ে লাগিয়ে দেখুন। বিয়ের পর আপনার ব্যবস্থা করছি। ”

” কি করবেন?”

” বাঁশের কঞ্চি থেকে মানুষ বানাবো।”

” কিভাবে?”

রোজীর বোকা প্রশ্নে তামিম শয়তানি হাসে। মাথা নাড়ায়।
” কাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি এখনও বুঝতে পারছি না। ”

রোজী গুটিয়ে যায়। এটাই যেন শোনার বাকি ছিল তার।
কয়েক বান্ডিল লেহেংগা বাছাই করে চারটা লেহেংগা পছন্দ হয়। এর মধ্যেই একটা নিতে হবে। তামিম চারটায় প্যাক করে দিতে বলতেই রোজী বাঁধা দেয়।
” চারটা পছন্দ করেছি এর মধ্যে একটা নিবো। চারটাই দিতে বলছেন কেন? ”

” পছন্দ হয়েছে নিয়ে নাও। ”

” এতো দিয়ে আমি কি করবো? অনেক দাম।”

” সো হুয়াট? বিলাসীতা জীবন উপভোগ করো। দামী দামী যা আছে সব নাও। রেখে যাবে কেন?”

রোজী গোল্ডের গহনা টাচ করলে তামিম নিজেই ডায়মন্ডের নেকলেস বের করতে বলে। রোজী নিষেধ করে, ”
দেখুন আমার বাসা থেকে এমনিতেই গহনা দিবে। আপনি নিয়ে এসছেন জন্য আমি কিছুটা নিচ্ছি। তাই বলে আপনি ফুললি নিতে বলবেন না। ”

” মানুষের মধ্যে উপরের স্তর ছোঁয়ার একটা প্রবণতা থাকে। তোমার কেন নেই। ”

” আমার কিছু লাগবেনা। ”

” প্রথমে সবাই বলে পরে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরিয়ে আসে।”

রোজী আর কথা বলেনা। তামিম তাকে কি ভাবে ট্রিট করছে বুঝতে পারছেনা। থমথমে মুখটার দিকে তাকালেই কেমন যেন লাগছে। হুট করে উনার বিয়ের শপিং করার মুড কেন হলো কে জানে? ঘরোয়া বিয়েতে এতো কিসের সাঝঁ?রোজী দুঃখ পেয়ে জায়গামতো কথাটা বলে দেয়,
” আমাকে যতো সাজুগুজু কারুকাজ খচিত ড্রেসেই আনুন না কেনো আমি সাধারণ মানুষ সাধারণই থাকবো। আমি অন্যদের মতো গ্লামারেস হবো না।”

তামিম বুঝতে পারলো রোজীর আড়ালে পিন্চ মারা কথাটা। মৃদু গলায় জানালো, ” চাই না।”

রোজী একটু সুযোগ পেলো,
” পাঁচ ঘন্টা ড্রাইভ করতে হবে। না খেয়ে গাড়িতে উঠবেন না। ”

” আদেশ করছো?”

” অনুরোধ।”
তামিমের অস্বাভাবিকতা বেশ খেয়াল করছে রোজী। খাবার মুখে দেবার বদলে পানি মুখে নিচ্ছে একটু পর পর। গত সময় যে কাজটা তামিম করেছে আজ সেটা রোজী করলো। চামচ রেখে দিলো। নিজ হাতে তামিমের মুখে রাইস তুলে দিলো। তামিম নিলো না। রোজী ছেড়ে দিলো না। হাত চেপে ধরে বললো,
” এতো গুমরে গুমরে মরার কিছু হয়নি। স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করুন। আপনি চাইলে আমি আপনার থেকে সরে যাচ্ছি। সময় নিন নিজেকে শান্ত করুন।”

” এই মেয়ে এই! তোমার কি কোন ভালো মেমোরিস নেই? এতো নিল কিভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে পারো?”

” আমারো ভালো সময় ছিল কিন্তু আমি ছিলাম আতঙ্কে। উপভোগ করতে পারিনি। যেদিন জেনেছি আমার সাথে চিট করা হয়েছে সেদিনই মনের ভেতর তাকে কবর দিয়ে দিয়েছি। নিমুকহারাম মানুষকে আপনার মতো পোষে রাখিনি যে তার একটা নিউজেই নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে দিবো। ”

” ভিডিও দেখা হয়ে গেছে?”

” ওপেন করিনি। আমার এতে ইন্টারেস্ট নেই। আপনি করেছেন? সেই সাহস মনে হয় হয়নি। লিংক মানুষের ফোনে ফোনে পৌঁছে গেছে। আপনি চাইলে এটা বন্ধ ও করতে পারবেন না। তাছাড়া আমার মনে হয়না সেই হিরোইন এর অদেখা কিছু আছে। মডেলিং করতে গিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের ফ্যাশন আয়ত্ব করেছে অনেক আগেই। এর জন্য আপনি ভেঙে পড়বেন?”

” এতো নিউজ কে দেয় তোমাকে?”

” নেটওয়ার্ক এভেইলেভেল। আপনার কি একটা হাগ প্রয়োজন?”

তামিম যেন এটাই চেয়েছিলো। হাতের নিচে দুহাত গলিয়ে নিজেকে পুরোপুরি সেঠিয়ে দিলো রোজীর বুকে। শরীরটা কেঁপে উঠলো রোজীর। দুহাতে তামিমের পিঠ আঁকড়ে ধরলো। তামিম কাঁদছে রোজী বুঝতে পারছে। ছেলেদের কান্না একটু আড়ালেই থাকা উচিৎ। তাই যথাসম্ভব আড়ালেই রাখলো। তামিম ফুঁপিয়ে উঠলো,
” যে নারী নিজের সব থেকে বড় সম্পদ টাকার জন্য ইজ্জতকেই বিলিয়ে দেয় সে কিভাবে আমাকে আগলে রাখার প্রয়াস জানায়? এতো গুলো বছর আমার টাকায় তার কোনো প্রবলেম ছিলোনা। যেই দেখলো শেষ চেষ্টা বিফলে সেই চলে গেল নিজের আসল রুপ দেখাতে। সংসার চাইলেই পাওয়া যায়না। তার জন্য যোগ্যতা লাগে। ক্ষমতা লাগে। ইচ্ছা লাগে। যে নিজে নিজেকে রক্ষা করতে চায়না আমি চেষ্টা করে কি করলাম?কেউ চেয়েও পায়না কেউ পেয়েও চায়না।”

রোজী অস্থির হয়ে উঠলো।তামিমকে শক্ত করে জড়িয়ে বললো, ” ডাক্তারসাহেব আপনি যদি সত্যিই সংসার করতে চান তাহলে আমি ব্যতীত প্লিজ কাউকে বিয়ে করবেন না। বৈঠা ছাড়া নৌকা দুজন। আমার মতো আপনার ব্যথা কেউ এলাও করবে না। ”

রাত তিনটা নাগাদ বাড়িতে পা রাখলো রোজী। হাতে বড় সড় ট্রলি ব্যাগ। রোজীর বাবা মা জেগেই ছিলো। বিয়ের আগে মেয়ে এখন পর্যন্ত বাড়ি ফেরেনি যতই হবু স্বামীর সাথে যাক! বিপদ তো বলে কয়ে আসেনা। রোজীকে বাবা মার হাতে বুঝিয়ে দিতে তামিমও এসে দাঁড়িয়েছে পিছু পিছু। রোজীর মা জিজ্ঞেস করলো
” ব্যাগে কি? ”

” বিয়ের জিনিসপত্র মা।”

” ভেতরে আয়। ”

তামিম বললো, ” আমি তাহলে আসি আন্টি।”

” নাস্তা করে যাও বাবা। এতো রাতে তোমাকে তো থেকে যেতেও বলতে পারছিনা। ”

” ইটস ওকে। এখন কিছু খাবোনা। ”

” বাসায় পৌঁছে রোজীকে জানিও কেমন বাবা?”

তামিম হাসলো। ” আচ্ছা। ”

ফিরোজ খানের সামনে আর্জি পেশ করেছে তামিম। বিয়েটা সে ধুমধাম করে করতে চায়। সবাইকে জানিয়ে বউ ঘরে তুলতে চায়। ফিরোজ খান খুশি হোন।
” আমি তোমার কথা ভেবেই বিয়েটা পরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তুমি পছন্দ করবেনা ধুমধাম করে বিয়ে করাটা। আমি বেশ খুশি হয়েছি। আসলে বড় ছেলের বিয়ে এভাবে কম আয়োজনে দিলে আমার মান টাও খুব একটা থাকতো না। ”

” অনেক বড় আয়োজন হবে আব্বু। সবাই তাক লেগে যাবে। এমপি মন্ত্রী সবাইকে ইনভাইটেশন পাঠিয়ে দাও।লুকিয়ে বিয়ে আর না। আমি কনভেনশন হল বুকিং দিয়ে দিচ্ছি । সবাইকে জানিয়ে দাও। ঐ ডেটেই বিয়ে হবে।”

ফিরোজ খান সোহানা ইসলাম একসাথে ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো। ছেলের খারাপ মুহুর্ত গুলো স্বচক্ষে দিনের পর দিন দেখে গেছে। কোন বাবা মা সহ্য করতে পারে? আজ ছেলে নিজে থেকেই নিজেকে ভালো রাখতে চাইছে এটা যেনো তাঁদের কাছে সব থেকে বড় পাওনা। সোহানা জিজ্ঞেস করে,
” তুমি মন থেকে রোজীকে বউ হিসেবে মেনে নিচ্ছো বাবা?”

” হুম। ”

এর পর আর কোনো কথাই থাকে না। সোহানা ইসলাম নিজে দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক আত্বীয় স্বজনদের ইনভাইট করছেন। ইসমাইল কথা বলে বাসায় এসে জানাতেই লাবিবা পুরো এক্সাইডেট হয়ে যায়। বই খাতা সব গুছিয়ে রেখে ঝটপট তানভীরকে ফোন লাগায়।
” খান সাহেব? ইমার্জেন্সি। ”

” হুয়াট হ্যাপেন?”

” ভাইয়ার বিয়ে ধুমধাম করে হবে। মামুনী এইমাত্র জানালো পাপাকে। বুঝতে পারছেন কত মজা হবে? তাড়াতাড়ি আসুন আমাকে মার্কেটে নিয়ে যাবেন। বিয়ের আর মাত্র ছয়দিন বাকি আছে।”

” অনেক দিন লাব্বু। কাল প্রোগ্ৰাম আছে পরশু নিয়ে যাই তোমাকে। ”

” আরে টেইলার্সে বলতে হবে তো। হলুদে আমরা কাপল ড্রেস পড়বো। লেট হয়ে যাবে। ”

” আমি বিজি আছি এখন।”

” খান সাহেব আমি কিন্তু রেডি হয়ে বসে আছি।”

” রাতে ঘুরতে নিয়ে যাবো।”

” আমি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিবো।”

” আম্মু খাওয়াবে।”

” আমার আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।”

” ভিডিও কল দাও।”

” আমার আপনাকে কিসি দিতে মন চাইছে।”

” আমার ছবির উপরে দাও।”

” শুনুন না। ”

” ফোন রাখো বলছি।”

তানভীর ফোন কেটে দিলে লাবিবার মন ভার হয়। চুপচাপ বসে থাকে। পরক্ষনেই নিজেকে সামলে নেয়। মন কে বোঝায় একটুও কষ্ট পাওয়ার যাবে না। খান সাহেব এখন সত্যিই কাজের মধ্যে আছে। লাবিবাও ছিলো দুটো নাগাদ। তারপর চলে এসেছে। এখন যারা আর সব ছেলে। ওরাই বাকি কাজ গুলো সারবে। লাবিবা পারফর্ম করতে চেয়েছিলো কিন্তু তানভীর দেয়নি।

দেড় ঘণ্টা পর তানভীর এসে হাজির। ঝটপট রেডি হয়ে লাবিবা বেরিয়ে আসে।গাল দুটো ফুলিয়ে গোল আলু বানিয়ে রেখেছে। তানভীর মুচকি হেসে আঙুল দিয়ে প্রেস করলো গালে। তাতেই লাবিবার ফুলো গাল টুস হয়ে গেলো। তানভীর যেনো মজা পেলো। হা হা করে হেসে উঠলো। লাবিবা কপট রাগ দেখালো,
” আপনি নাকি বিজি?”

” আই লাভ য়্যু।”

” এটা আমার উত্তর নয়।”

” আই লাভ য়্যু মানে কি জানো ? যে পরিস্থিতিতে ই থাকি না কেনো তোমার জন্য আমি সব সময় এ্যাভেইলেভল। ”

লাবিবা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো। তানভীর আরো হেসে হেসে বললো, ” নাও কি কি যেনো করতে চেয়েছিলে করো। ”
গাড়ি মাঝরাস্তায় উঠে গেছে। লাবিবা চুপচাপ তানভীরের গা ঘেঁষে বসলো। দু হাতে গলা জড়িয়ে ধরে সময় নিয়ে গালে চুমু দিলো। গলা ছেড়ে সরে বসতে চাইলো পারলো না। তানভীর একহাতে জড়িয়ে ধরে আরেকহাত দিয়ে ধীরে ড্রাইভ করতে লাগলো।

টেইলার্সের ভেতর তানভীর ঢুকতে পারলো না। লাবিবাই দিলো না। তার মতে ড্রেস তৈরীর আগে দেখা যাবেনা। আরও দশ হাজার টাকা তানভীরের পকেট থেকে গেলো। লাবিবা আর্জেন্ট ড্রেস মেক করে দিতে বলে পাওনা টাকা দিয়ে দিল। সাথে লেজ, ঝুমকা এসবের জন্য যে টাকা বকেয়া রেখে গিয়েছিলো সেটাও পরিশোধ করলো। তানভীর জিজ্ঞেস করলো,
” এটা কি হলো? আমার ড্রেস মেক করছো মাপ টাতো নিতে দিবে ঠিকমতো। সেটাও তো দিচ্ছো না। ”

” হয়ে যাবে কোনো ব্যপার না।”

” আমাকে কেন দেখতে দিচ্ছো না? ”

” সারপ্রাইজ তো। নষ্ট হয়ে যাবে না?”

” এটা কেমন যুক্তি?”

” খান সাহেব আমাকে বউ সাজে দেখেছেন কখনও?”

” না। দেখতেও চাইনা।”

” কিহ? কেন?”

” অসুস্থ হয়ে যেতে পারি। আগেই সাবধান। সামান্য লিপস্টিক আমার সহ্য হয়না আরো নাকি বউ সাজ! পাগল করে দেবার প্রসেস সব।”

” কিসব বলছেন?”

” এইযে দাঁড়িয়ে আছো সেটাও আমার সহ্য হচ্ছে না।”

” হায় আল্লাহ! কি সাংঘাতিক!”

” বাংলায় একটা প্রবাদ আছে বলবো?”

” কইয়ের তেলে কৈ ভাজা।”

চলবে ___

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here