ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো (৫৫)

0
1228

#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো

(৫৫)
গাড়ির বনেটের উপর লাবিবাকে শক্ত করে জড়িয়ে তানভীর শুয়ে আছে। লাবিবার কান্না বন্ধ হয়েছে। একটু পর পর নাক টানছে। পূর্বাকাশে তখন আলোর মেলা। ডিমের কুসুমের মতো ছত্রভঙ্গ হয়ে আছে। তানভীর চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। লাবিবাও চোখ উপড় করে আকাশে সূর্য উঠা দেখছে। রাস্তার পাশের গাছের সারি। পাখিরা কিচিরমিচির করতে করতে এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে যাচ্ছে। নদীর শান্ত জল টলমল করছে। জলের উপর পূর্বাকাশের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়েছে। ভোরের মৃদু মন্দ বাতাস শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির মাঝে দুজন দুজনকে জড়িয়ে আছে। দুজনেই দুজনের হার্টবিট অনুভব করতে পারছে। আজকের ভোরটা জীবনের শ্রেষ্ঠ ভোর হিসেবে স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। লাবিবা একটু পর পর মাথা তুলে তানভীরের গালে টুপ করে চুমু দিয়ে আবার বুকে নেমে আসছে। ভোরের আলো চোখে মুখে পড়তেই লাবিবা মাথা তুলে তানভীরের মুখের উপর চলে এসেছে। দুই গালে, নাকের ডগায় চুমু খেয়ে আবার বুকে নেমে আসছে। অতিরিক্ত কান্না করার পর মেয়েরা বাচ্চার মতো বিহেভ করে। তানভীর মোটেই বিরক্ত হচ্ছে না। বরং লাবিবার যে কোনভাবেই শান্তি পাচ্ছে না এটা বুঝতে পেরেছে। লাবিবা নাক ঘষে তানভীরের সাদা শার্ট টা ময়লা করে দিয়েছে। তানভীর মাথা তুলে একবার দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিলো। সে চায়না ঘৃণা লাগুক। বউয়ের কোন কিছুই ঘৃণা লাগা উচিত না। একমাত্র বউ তার যা ইচ্ছা তাই করুক। সে বাঁধা দিবে না। প্রচুর ধৈর্য্যশীল হতে হবে তাকে মনে মনে প্রে করলো। লাবিবা এবার মাথা তুলে সারা মুখ চুমু দিলো। গালে গাল ঘষে দিতেই “আহহ” করে মুখ তুলে নিলো। কয়েকদিনে দাড়ি বেড়েছে তানভীরের। তানভীর লাবিবার গালে হাত রাখলো। গাল ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
” ব্যাথা পেলে?”

“একটু।”

“সেভ করে নিবো?”

“কিছুটা।”

“আচ্ছা। বুকে আসো।”
তানভীর শার্টটা খুলে গাড়ির সিটে ফিক্কা মারলো। সাদা গেঞ্জি গায়ে সুঠাম দেহের মাসল গুলো ফুলে উঠলো। লাবিবাকে টেনে আবার বুকের উপর নিলো। লাবিবা চুপচাপ তানভীরকে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ গুঁজে পড়ে রইলো। তানভীর মাথায় আলতোভাবে হাত বুলাতে বুলাতে বললো, ” এভাবে কাঁদলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। তুমি কি চাও না আমাদের বিয়েটা ইনজয় করি আমরা?”

” আমি আরো কাঁদবো। বাড়ি গেলেই আমার কান্না পাবে। আম্মু আব্বুকে দেখলেই আমার কান্না পাচ্ছে । এই বাড়িটা ছেড়ে যাবো ভাবলেই আমার কান্না পায়। বাড়ির আনাচে কানাচে তাকালেই আমার কান্না পায়। আমি কি করবো?সকাল হয়ে গেছে। বাড়ি যাবো।”

লাবিবা উঠে বসলো। সত্যি সত্যিই নেমে গেলো। তানভীর খপ করে লাবিবার হাত টেনে ধরলো,
” বাড়ি না গেলে হয়না?”

“কোথায় যাবো?”

” চলো কোথাও চলে যাই। আমার তো তেমন ছুটি নেই। তাই বিয়ের সময়টা আমরা আমরাই কাটাবো। বিয়ে তো আমাদের একবার হয়েই গেছে। আর কি দরকার? ভাইয়ার টা ভাইয়া করে নিক না।”

” ঐটা বিয়ে ছিলো? আমার গায়ে হলুদ হয়নি। মেহেন্দি হয়নি। আমি বউ সাজিনি। আলামতারা ধরেনি।বাসর হয়নি, বউভাত হয়নি।”

” ওসব কিছুই লাগেনা। কবুল বলেছো এটাই এনাফ। এবার চলো। ”

” কাভি নেহি। আমি বিয়ে করবো।”

” আমি এখনি তোমাকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবো।”

” না আমি বিয়ে করবো। ছাড়ুন।”

” বিয়ে অযথা প্যারা। এসব কিছু লাগবেনা। চলো।”

” না তবুও আমি বিয়ে করবো। ছাড়ুন। আব্বু!আব্বু আমি বিয়ে করবো।”

” লাব্বু প্লিজ চলো।”

” না আমি আগে বিয়ে করবো।”

” আহ! কামড়াচ্ছো কেনো?”

” না ছাড়লে তো কামড়াবোই। আপনার মাথায় এই ভুত চাপলো কেন? ”

” বলতে পারবো না।”
লাবিবা অনুসন্ধানী চোখে তাকালো। ভালোভাবে তানভীরকে পরখ করলো। তানভীর রাগ দেখিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। লাবিবা ফিক করে হেসে দিলো। মুখ চেপে ধরে বললো,
” আপনার হাত ধরে আমি অবশ্যই পালাবো। তার আগে মানুষ হয়ে আসেন। চুল দাঁড়িতে এমন চেহারা বানিয়ে রাখলে আমি মানুষকে কি জবাব দিবো? লোকে বলবে লাব্বু তুই আর ছেলে পেলি না। এই পাগলটাকে নিয়েই পালাতে গেলি? আগে সেলুনে গিয়ে মানুষ হয়ে আসুন।”

” চলো।”

“কোথায়?”

“সেলুনে।”

” জেন্টস সেলুনে গিয়ে আমি কি করবো?”

” কিভাবে কাটলে তোমার মানুষের মতো দেখাবে সেটা বলে দিবে। আসো।”

মেয়েরা পার্লারে গেলে নাকি সারাদিনে বের হতে চায়না এরকম নানা রকম বুল্লি শুনতে হয় ছেলেদের মুখ থেকে। কিন্তু আজ জেন্টস পার্লারে এসে লাবিবা পুরোই বোকা বনে গেলো। ছেলেরাও পিছিয়ে নেই এদিক থেকে। এজন্যই বলে নারী পুরুষ সমান সমান। পুরোদমে উৎসুক হয়ে উঠলো দেখতে লাগলো লাবিবা। চুল কাটার সময় নিজেই কাট চুজ করলো। নির্দেশনা দিলো কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে। দাড়ির কাট টাও তার পছন্দে হলো। আফটার সেভিং জেল লাগিয়ে দিতে বললো। কিন্তু তা না করে ফেসিয়াল করে দেওয়া হলো। গুনে গুনে পাঁচ রকমের ক্রিমে ফেসিয়াল করলো মুখে। হাইড্রা ফেসিয়াল ও বাদ গেলো না। ফেস মাস্ক লাগিয়ে হাত পড়লো হেয়ারে। স্পা করে দিলো সুন্দর ভাবে। লাবিবা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা লেগে গেছে। তবুও সে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। এতো ফেসিয়াল তো সে নিজেও করেনি কোনদিন। ভাবী ছোট কাকী রেগুলার পার্লারে যাতায়াত। তারা কি কখনো করেছে? লাবিবা অস্থির হয়ে উঠলো। তানভীরকে তাড়া দিলো,
” শেষ? উঠুন তবে। ”

তানভীর মুচকি হাসলো। আঙুলে ইশারায় সোফার দিকে তাক করে বললো, “বসো।”

প্যাডিকিউর ম্যানিকিউর করে দিলো হাতে পায়ে। সেই পানিতে আবার গোলাপের পাপড়ির ছড়াছড়ি। তানভীর লাবিবাকে বললো, ” দুদিন ছিলাম শিপে। টেনশনে একদমই নিজের প্রতি যত্ন করা হয়নি। আঙুলগুলো অপরিষ্কার হয়ে গেছে কেমন!”

“ওহ।”

লাবিবা তানভীরের হাতে পায়ে আগেই খেয়াল করেছিলো। কোথায় অপরিষ্কার? সব সময় তো চকচক ই করে। লাবিবা গ্লাসের বাইরে তাকালো। দুপুরের কড়া রোদ! ফোনে সময় দেখলো ১২.০৫। পেট চো চো করছে ক্ষুধায়। যুহরের আজান দেওয়ার কিছুক্ষন পরে তানভীর বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালো। লাবিবা ভাবলো এইতো শেষ। এবার খাবে তারপর বাড়ি যাবে।‌ কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে তানভীর বললো,
” তুমি কি নামাজে যাবে?”

লাবিবা মাথা নাড়ালো। না। সে যাবেনা। তার ছুটি চলছে।
” আচ্ছা তাহলে বসো আমি নামাজটা পড়ে আসি। ”

পার্লারের একজন সাথে সাথে বললো, ” ভাবী তাহলে বসেন। আমরা নামাজ শেষ করে আসছি। একা থাকতে পারবেন তো? আমার পার্লারে কোন প্রব্লেম হবে না। ”

লাবিবা জিজ্ঞেস করলো, “বাসায় যাবো না?”

“একটু লেট হবে।”

লাবিবাকে অবাক করে দিয়ে দ্বিতীয় দফায় তানভীর গিয়ে বসলো। ফুল বডি ম্যাসাজ করবে আজ। লাবিবা ভীষন ক্ষুধার্ত। তার হাতে বিরিয়ানি প্যাকেট। সামনে আরেকটা প্যাকেট রাখা। লাবিবার গলা দিয়ে আর খাবার নামলো না। তানভীর বললো খাইয়ে দিতে। লাবিবা দুই ঢুক পানি মুখে দিয়ে তার প্যাকেট থেকেই তানভীরকে খাইয়ে দিলো। খাইয়ে দেবার সময় প্রথমে অস্বস্তি হচ্ছিলো। কিন্তু লোকগুলোর মুখে কোন এক্সপ্রেশনই খুজে পেলো না । বুঝলো তারা এসবে অভ্যস্ত। বিকাল চারটায় তানভীরের স্কিন ট্রিটমেন্ট শেষ হলো। বিল্ডিং এর চার তলায় মল। তানভীর একজনকে দিয়ে শার্ট প্যান্ট নিয়ে এলো। চেঞ্জ করে ফ্রেস একটা লুকে যখন পেমেন্ট করে লাবিবার সামনে এলো লাবিবার মনে হলো তার চোখের পাওয়ার বেড়ে গেছে। এতো চকচকে করছে কেন? চেহারায় কি আয়না লাগিয়ে দিয়েছে? ভাগ্যক্রমে লাবিবার এর আগে কয়েকবার চোখে পড়েছিলো। এতো ড্যাসিং লুক! লাবিবা শুকনো গলায় ঢুক গিললো। জানতে চাইলো,
” আপনি কি প্রায়ই এমন ট্রিটমেন্ট নেন?”

” হুম। কেনো?”

লাবিবা দাঁড়িয়ে গেলো। চোখ বড় বড় করে ফেললো।
” কি সাংঘাতিক !”

“কেন?”

“আমি ভুল ছিলাম। বিয়েটা আপনার জন্যই খান সাহেব, আমার জন্য নয়। ”

“কি বলছো?”

“ঠিকি বলছি। এরজন্যই তো বলি এতো চকচক করে কেন?”

” কিসব কথা বলছো? চলো।”

বাড়িতে ফিরতেই সাবিনা জানালা দিয়ে উঁকি দিলো। তানভীরের গাড়ি দেখে কিছু বললোনা। কিন্তু লাবিবাকে তাড়া দিলো। জলদি রেডি হতে। লেহেংগা চাপিয়ে আনতে যাবে উর্মিলার সাথে। রাত নাগাদ ফিরে এসেই ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে রওনা দিলো সবাই মিলে হলের দিকে। একদিনেই পর পর দুটো অনুষ্ঠান। সকালে মেহেন্দি বিকালেই গায়ে হলুদ। বেশী সময় নেওয়া হয়নি। নিতু ইসলামের ছেলে মেয়ে এসেছে আমেরিকা থেকে হাতে তিনদিন সময় নিয়ে। তাঁদের জন্যই আরও তাড়াহুড়ো। এদিকে আত্মীয় স্বজন প্রায় সবাই চাকুরীজীবি। কোনভাবে ছুটি ম্যানেজ করে আসছে।

লাবিবারা পৌঁছে দেখলো রোজীরা আগেই চলে এসেছে। লাবিবাকে নিতে রোজী তখনই নিচে নেমে এলো। ব্যাগ ট্যাগ বুঝিয়ে দিয়ে ছুটলো লাবিবাকে নিয়ে হাত ধরে। ছাদের এক কোনায় নিয়ে গিয়ে থামলো। লাবিবা জিজ্ঞেস করলো,
“আপু কি হয়েছে?”

” তোমার ভাসুরের সাথে একটু কথা বলিয়ে দাও। ”

“ফোন দাও।”

” আমার হাতে ফোন নেই। আর ছেলের বাড়ির সেক্টর ঐ দিকে থাকবে আর মেয়ের বাড়ির এই দিকে। সবাই বলে দিয়েছে বিয়ের আগে ছেলে মেয়ে আর নো দেখা।”

” এই আইন কখন পাস হলো?”

” তুমি আসার একটু আগে।”

” তাহলে এখন উপায়?”

” নাকিবকে বলো একটু ডেকে দিতে। আমি পেছনের ঐ রাস্তার দিকে যাচ্ছি হে? ব্যবস্থা করো একটু বোন।”

” তুমি যাও। আমি ভাইয়াকে পাঠাচ্ছি।‌”

” হুম।”

তামিম একটু রেগেই আছে রোজীর কান্ডে। শুনশান এদিকটায় গাছগাছালির বাগানে গা ছম ছম করে। নির্বোধ মেয়ে কিভাবে এখানে একা একা এসে দাঁড়িয়ে থাকে? ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো তামিম। ঐতো সামনে রোজীর ছায়া দেখা যাচ্ছে। তামিম আর সেদিকে গেলো না। এখানেই দাঁড়িয়ে ডাকলো, ” রোজ। ”
রোজী শুনতে পেলো। পা চালিয়ে সে তামিমের সামনে উপস্থিত হলো। তামিম পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে পা যাথাসম্ভব দূরত্বে রেখে দাঁড়ালো। শান্ত গলায় জানতে চাইলো, “রোজ। ডেকেছো কেন?”

রোজী তখনই উত্তর করলো না। কি উত্তর দিবে সে জানে। কিন্তু সংকোচ বোধ করছে। তামিম আবার বললো, “রোজ। তুমি এখনও আমার সাথে ফ্রি হতে পারনি তাইনা?”

রোজ এবার সাহস সঞ্চয় করে প্রশ্ন করলো,
” আমি কি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারি? পার্সোনাল। আমার জানার খুব দরকার।”

“বলো।”

” ডাক্তারসাহেব। আপনাকে আমার ভীষণ ভালো মানুষ মনে হয়। আমার মনে হয় আপনার সাথে নির্দ্বিধায় আমি শেষ বয়স পর্যন্ত পার করতে পারবো। আপনাকে আমি আমার মনে অতিশয় জায়গাও দিবো। আপনার সাথে পরিচয় হবার দিন থেকে এখন পর্যন্ত আমার এসবই মনে হয়েছে। আমি কোন বিশ্বাস ঘাতককে মনে রাখবো না। আপনাকে গ্ৰহণ করতে আমি অনেক দিন থেকে মনের উপর জোর খাটিয়ে বুঝিয়ে প্রায় প্রস্তুত হয়েছি। আপনি কি আমাকে গ্ৰহণ করতে প্রস্তুত?”

তামিম স্বীকার করলো, “হ্যা আমি প্রস্তুত।”

রোজী যেন একটু হাসলো। অস্থিরতা কমে শান্ত হয়ে গেলো। তামিমের চোখে চোখ রেখে বললো,
” হিরোইন ফ্লোরা যে বিদেশে অবস্থান করছে এখন আপনি জানেন?”

“আমিই তাকে ব্যবস্থা করিয়ে দিয়েছি।”

রোজী ফিকে হাসলো। এদিক ওদিক তাকালো। তামিম বললো, ” আমি ফ্লোরাকে ভালোবাসি রোজ। এ কথা আমি অস্বীকার করতে পারবোনা কখনো। তোমাকেও আমি আমার জীবনের একটা অংশ হিসেবে গ্ৰহণ করতে চাই। আমার ভবিষ্যৎ সঙ্গী হিসেবে পেতে চাই এটাও সত্যি। আমি হয়তো ফ্লোরার জায়গাটা তোমাকে দিতে পারবোনা। কিন্তু তোমার জায়গাটা তোমাকে ঠিকই দিতে পারবো। ”

” আমার জায়গা কোথায় ডাক্তারসাহেব?”

” আমার পাশে। ”

রোজী মুগ্ধ চোখে তামিমের দিকে তাকিয়ে রইলো। এটুকুই তো সে শুনতে চেয়েছিলো। একটা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসছে সে। আবার একটা সম্পর্কে অবহেলিত হতে চায় না। তামিম আচমকা রোজীর হাত টেনে তাকে বুকের উপর ফেললো। দুহাতে শীর্ণ দেহটাকে জড়িয়ে ধরলো। কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললো,
” আমাকে হেল্প করো রোজ। নিজের দিকে আমাকে টেনে নাও। আমি মনের বিরুদ্ধে আর কতো একা একা লড়ে যাবো? আমার সঙ্গী হও। অনুপ্রেরণা দাও। সুখের পথ দেখাও। তোমাকে ভালোবাসতে শেখাও। নিজের মায়ায় আবৃত করে নাও।”

চলবে ____

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here