#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো
(৬১)
লাবিবার হিক তুলা দেখে সবাই আহা উহু করতে লাগলো। কেউ কেউ হাসতে হাসতে এগিয়েই এলো।
” আহারে বউ ! এবার তো চুপ যাও। তোমার বাপের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে এসেছি নাকি আমরা? হু? বাপের মেয়ে বাপেরই থাকবে। এতো কাছাকাছি ইচ্ছে করলেই তোমার বাপ দিনে দশবার আসা যাওয়া করতে পারবে। চোখ ফুলিয়ে কি করছে দেখ বোকা মেয়ে। ”
“আমরা নয় তোমার বাপ-মাকে বলে দিব যখন তখন ডাকলেই চলে আসবে। মেয়ের তাঁদের জন্য মন পুড়ে।”
” আহ! ভাবী সরেন তো। ওসব কিছু না। এখন কাঁদবেই। স্বামীর সোহাগ পেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।”
” সরোতো তোমরা। বউয়ের মুখ দেখতে দাও।”
তানভীর আগেই নেমে দাঁড়িয়েছে। লাবিবাকে বরণ করা শেষ হলে তানভীর এসে কোলে করে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। লাবিবার পায়ের জুতো জোড়া এই ফাঁকে এনা খুলে নেয়। তানভীরকে বলে , “আগেই রুমে নিস না। লাবিবার মাথায় একটু পানি ঢালতে হবে। মুখ চোখের কি অবস্থা করেছে।”
” আমি দেখছি আপু। টেনশন নিও না।”
” গোছল করে চুল শুকিয়ে দিস নয়তো ঠান্ডা লেগে যাবে রাতে।”
” ঠিক আছে।”
লাবিবা তানভীরের ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিয়েছে গলা জড়িয়ে ধরে। তানভীর মুচকি হেসে কানের লতিতে ঝুমকোর উপর চুমু দেয়।
” ওয়েলকাম টু আউয়ার বেডরুম জান। ”
লাবিবা চোখ তুলে পিটপিট করে তাকায়। মাথা ঘুরিয়ে এদিক ওদিক চোখ বুলায়। এই মুহূর্তে সে বেডরুমের ঠিক মাঝখানে উপস্থিত আছে তার স্বামীর কোলে। পুরো রুম বাহারী তাজা ফুলে সুন্দর করে ডেকোরেট করা হয়েছে। বিছানায় সাদা চাদরের উপর গোলাপের পাপড়ি দিয়ে লেখা {তানভীর+লাবিবা} এটা দেখেই লাবিবা কুঁকড়ে গেলো। খামচে ধরলো তানভীরকে যতটুকু নিজেকে আড়াল করা যায় তানভীরের বুকে মুখ গুঁজে দিলো। তানভীর ছাড়ার পাত্র না। লাবিবার কানে ফিসফিসিয়ে বললো, ” লাব্বু জানো তোমার সাথে পরিচয় হবার পর আমার সব থেকে মেমোরাবল মমেন্ট কখন পাস করেছি ? হাজার ভালো মমেন্ট এলেও যা ঐ মমেন্টকে ছুঁতে পারবে না।”
” কখন?”
” আমাদের ফাস্ট নাইটে। ”
” খান সাহেব!”
” সরি ডারলিং বাট ইটস ট্রু। এ যুগে এসে বড্ড কপাল করে জম্মালে এটা অর্জন করা যায়।”
” আমার সব থেকে বিভীষিকাময় রাত।”
” ভাগ্যিস কড়া একটা শ্বশুর পেয়েছিলাম। আমার শ্বশুড় আমাকে যা ইচ্ছা তা করলেও একমাত্র তার মেয়ের কারণে আমি তার পা ধরে থাকবো সারাজীবন। উনার থেকে আমার অনেক শিক্ষা নেওয়ার বাকি আমার ভবিষ্যৎ এর জন্য। জয় আমার কড়া শ্বশুরের জয়। ”
” কি শুরু করলেন? ”
তানভীর হাসে। লাবিবাও অন্যদিকে মুখ করে হেসে ফেলে। তানভীর গালে আলতো চুমু দেয়। নিচুস্বরে জানায়, “তোমাকে প্রচুর কষ্ট দিবো আমি তার থেকেও একশগুণ বেশি দিবো সুখ। তোমাকে কষ্ট দিয়ে আদর করতে আমার বেশ লাগে জান। এরজন্য আমি একটুও দুঃখিত না।”
” নামান।”
” একটা চুমু দাও। ”
” পারবোনা।”
” এতোটা পথ কোলে নিয়ে এলাম একটা চুমু দিবে না?”
” আপনার কষ্ট হলে ড্রাইভারকে বলতেন। উনি যদি আমাকে কোলে নিয়ে আসতেন একদমই খুটা দিতেন না।”
“ড্রাইভারের কোলে উঠতে মন চায় না? একদম গলা টিপে মেরে ফেলবো।”
লাবিবা খিল খিল করে হেসে উঠে। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলে, ” আপনি খুব খারাপ স্বামী। ”
“কেন?”
“আমার শরীরটা খারাপ আপনি জানেন। কিন্তু এখনও এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেনো আপনি কিছুই জানেন না।”
” রাতে ঘুমাও না কেন?”
” আপনার চিন্তায় বিভোর থাকি। ”
” কেন এতো চিন্তা?”
” কারণ আমি আপনাকে ছাড়া থাকি। ”
” বড্ড বোকামোটা করে ফেলেছো। এতো মাথামোটা বউ হলেতো সমস্যা। বুদ্ধিমান বউ হলে চব্বিশ ঘন্টার মাঝে বাইশ ঘন্টাই ঘুমিয়ে নিতো। এরপর আবার টানা সাত আটঘন্টা কবে ঘুমাবে তার কোন সিউরিটি নেই।”
“এমনভাবে বলছেন! হ্যা! আপনাকে তো আমি খুঁজেই পাই না। ”
তানভীর নাকে নাক ঘষে বলে, “পিছে পিছে দেখ হতাহে ক্যা!”
_____________
” আমাকে বিয়ে করে কেমন ফিল করছো রোজ?”
” কেমন?”
“বলতে চাইছি তোমার ফিলিংস কেমন? কি এক্সেপ্ট করছো আমার থেকে?”
রোজী মাথা নাড়ায়। ” কিছু না। যা পেয়েছি তা আমার কাছে সপ্ন ছাড়া কিছুই না। ”
“তোমার থেকে আমার অনেক এক্সপেক্টেশন।”
” কি?”
” কিছু চাওয়ার আছে তোমার থেকে।” বলে তামিম এসে সরাসরি চোখ রাখে রোজীর চোখে। রোজী ঘাবড়ে যায়। আমতা আমতা করে বলে, “আমার কাছে কিছু নেই আপনাকে দেওয়ার। আপনার তো অনেক আছে। আমি মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। ”
“তোমার কাছে কি মনে হয় আমি টাকা চাইবো? সিরিয়াসলি?”
রোজী ঝটপট মাথা নাড়ায়। কিছুক্ষন চিন্তা করে বলে,
“এটা আমার সেকেন্ড ম্যারেজ। আপনাকে দেওয়ার মতো নতুন কিছু নেই আমার। ”
“তোমার মস্তিষ্ক এটাই জানান দিলো? রোজ এমন কিছু ভাবো যেটা একজন স্বামী তার স্ত্রীর থেকে চাইতে পারে। থিংক বি পজেটিভ। ”
রোজ ভীষন চিন্তায় পড়ে গেল। তামিম ওকে আরেকটু নাড়িয়ে দেবার জন্য বললো,
” রোজ আজ আমাদের বাসর রাত। তুমি আমার নতুন বিয়ে করা বউ। কিন্তু সত্যি বলতে আমি একদমই তোমার প্রতি এই মুহূর্তে মন থেকে এট্যাকটিভ না । এমন কিছু করো যাতে আমাদের ফাস্ট নাইট সুন্দর হয়। প্লিজ গো। ”
রোজী এবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো । কান্নাস্বরে বলে উঠলো, “ডাক্তারসাহেব। আম ইন পিরিয়ড। সরি। ”
এবার তামিম ধৈয্যের কুল ভেঙে রোজীর সামনে থেকে সরে গেলো। মেয়েটার সাথে মন খুলে কথা বলার সময় না এটা বুঝতে পারলো। সে তো নিজেই ডিস্টার্ব। মনকে শান্ত করার জন্য গিয়েছিলো রোজীর সাথে টাইম স্পেন্ড করতে। নতুন বউ একটু সময় দিলে তারও ভালো লাগবে তামিম ও নিজেকে সামলে উঠবে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে তামিম হা নিশ্বাস ফেলে। সময় অনেক দূরে চলে গেলেও তামিমের চোখে সে স্মৃতি একদমই তাজা। দিনের স্বচ্ছ আলোর মতো পরিষ্কার। বাসর রাত! সে রাতে কতই না এক্সাইটেড ছিলো দুজনে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কত সময় কাটিয়েছে জানা নেই। আর আজ বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই এই রাত নিয়ে। তবে এটা সত্য রোজীর প্রতি তামিমের একটা মায়া পড়ে গেছে। আবার মনে হয় এই মেয়েটাকে অনেক কিছু সে দিবে। সচ্ছ মনের মেয়েকে দিতে ভয় নেই। তারা জানে কিভাবে কৃতজ্ঞ থাকতে হয় । তবুও ভয় হয়। এই ভয়কেই তামিমকে জয় করতে হবে। ছাড় নেই। নেই অন্ধ বিশ্বাস। দ্বিতীয় বার আর এক ভুল করবে না। নিজের সাথে বোঝাপড়া করে নেয়। রোজীর জীবন হবে তামিমময়। ক্ষমতা থাকবে তামিমের হাতে। বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে সে প্রস্তুত নয়। তামিম ডাকলো রোজীকে। সাড়া পেলো না। তাই সে নিজেই রুমে এলো। রোজী উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। কাঁধে হাত দিতেই বুঝলো মেয়েটা কাঁপছে। তামিম রোজীকে টেনে তার মুখোমুখি করলো। ঠিকই ধরেছে। রোজী কাঁদছে।
“কাঁদছো কেন?”
কথা বলে না।
“কি হলো কাঁদছো কেন? আমি বকেছি তোমাকে? ”
” না। ”
” তাহলে?”
রোজী বলতে পারেনা তামিমকে সে কি জন্য কাঁদছে। বড্ড লজ্জার ব্যপার এটা তার জন্য। বাসর রাতে স্বামী তাকে চাইলো আর সে সাড়া দিতে পারলোনা। আরও জানলো তাকে নিয়ে একটুও ইন্টারেস্ট নেই স্বামীর। রোজীর কষ্ট হচ্ছে তার আগের জীবনের জন্য। সবার মুখে মুখে গোলাপের মতো ফুটে থাকা সুন্দরী মেয়েটার এতো অধঃপতন যে তার দ্বিতীয় স্বামী বলছে সে একটুও এট্যাকটিভ না। কথাটা একটা মেয়ের জন্য কতটা অপমানজনক হতে পারে তা একটা মেয়েই জানে অন্যকেউ না। রোজীর এই মুহূর্তে তার আগের স্বামীকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে। ধ্বংস করে দিয়েছে তার জীবনটা। একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। সে স্বাভাবিক জীবনটাই খুঁজে পাচ্ছে না। পেলেও ভাগ্য তার হাতে ধরা দিচ্ছেনা। আর পাঁচটা মেয়ের মতো রোজী স্বাভাবিক জীবন চায়। স্বামী সন্তান নিয়ে বাকিটা জীবন ডাল ভাত খেয়ে হলেও পার করতে চায়। তার কোনো চাহিদা নেই এছাড়া। রোজীর এখন মনে হচ্ছে তামিম তাকে বিয়ে করে ঠকে গেছে। রোজী তার একটুও যোগ্য না। একটুও না। তামিম রোজীর বাহু টেনে ধরলো,
” উঠো। কান্না থামাও। আমার সাথে এসো। ”
রোজী চোখ মুছে বারান্দায় এসে বসে। এখানে দুটো বসার টুল পাতা রয়েছে। বুঝা যায় প্রতি সকালে এখানে সেন্টার টেবিলে তামিমের চা/কফি চলে। তামিম পকেট থেকে একটা লাইটার আরেকটা সিগারেটের প্যাকেট বের করে রাখলো। একটা সিগারেট ধরিয়ে বললো,
” রোজ! তুমি কি আজ আমার সাথে একটা সিগারেট শেয়ার করবে?”
” আপনি কি আমার পরিক্ষা নিচ্ছেন?”
” আমি ভেতর থেকে বিক্ষিপ্ত রোজ। তাই ভেবেছি আজ সিগারেটের ধোঁয়ায় কষ্ট উড়াবো। ”
“আর আমি?”
” তুমি আমার কষ্ট বুঝবে না। সময় নাও। একদিন ঠিকই বুঝবে।”
” সিগারেট খাবেন না। আমার সিগারেট পছন্দ না। ”
” কি পছন্দ তোমার?”
” আপনাকে পছন্দ।”
” তুমি তো আমার কথা বুঝো না। মনের কথা বুঝো। মন যা বলে সেটাই মাথায় ঘুরপাক খাওয়াও আর ভাবো আমি তোমাকে সময় দিবোনা। এক্ষুনি আমার ডিমান্ড পূরণ করতে পারছোনা তাই কান্নাকাটি করা শুরু করেছো।”
রোজী মাথা নিচু করে ফেলে। তামিম রোজীর টুল টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। থুতনিতে হাত রেখে বলে,
” রোজ আমার দিকে তাকাও। আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দাও। ”
” তুমি আমাকে নিয়ে বাকি জীবন টা কাটাতে চাও?”
” হ্যা।”
” তুমি কি তোমার আগের স্বামীর জন্য কিছু অনুভব করছো?”
রোজীর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে। গো ধরে বলে,
” একদমই না। ”
” এই ব্যাপারে আমি হেরে বসে আছি রোজ। আমি আমার এক্স ওয়াইফের জন্য অনেক কিছুই অনুভব করছি। যার মাঝে তীব্র হলো কষ্ট। রোজ তুমি সমাজের দিক থেকে হেরে যাওয়া মানুষ হলেও মনের দিক থেকে একটুও বেঁকে যাওনি। কিন্তু আমি সমাজ এবং নিজ মনের দিক থেকে বিদ্ধস্ত । তুমি যদি আমাকেই চাও নিজের করে তাহলে আমাকে হেল্প করো। আমার ভাঙাচোরা মনটাকে সারিয়ে তুলো। আমি নিজের দিক থেকে আমার বেষ্টটা দিবো। মানুষের জীবনে কিছু কিছু ভুল থাকে। ফ্লোরা আমার জীবনের সেই ভুল। তাকে আমি আমার পাজরে তৈরী মনে করিনা। সে আমার জীবনের একটা ভুল ছাড়া কিছুই না। এই মুহূর্তে তোমাকেই সত্য মনে করছি। আমার ধারণা কখনো যেনো পাল্টে না যায়। তুমি কখনো নিজেকে হেয় ভাববে না। রোজ আমি অভিজ্ঞ মনের ডাক্তার। তোমার মনে কি চলে তা ধরতে আমার সময় লাগবেনা। ফ্লোরা ফুলের মতো সুন্দর। কিন্তু কাটা যুক্ত। তুমি সাধারণ ফুল হয়েই থাকো। সব দিক সর্বোচ্চ থাকলেই যে সুন্দর হবে তেমন কিন্তু না। যদি তাই হতো আমার ভাই শ্যামসুন্দরীর জন্য পাগলামী করতো না। তুমি একজন ফর্সা সুন্দরী ষকে দাড় করাবে আরেকপাশে ছোট বউকে। চোখ ছোট বউয়ের দিকেই পড়বে। সে এক আলাদা মায়া। আমি তোমাকে কেন পছন্দ করেছি জানো? তোমার মুখের আদলে একটা আলাদা মায়া আছে। আমি সেই মায়ায় পড়েছি। তুমি সুন্দর। মায়াবী সুন্দর। তোমার কোন দিক থেকে কোনো কমতি নেই। শুধু নিজের যত্নটারই অভাব। সেই দায়িত্ব স্বামী হিসেবে আমার। তোমার এখানে খাপ খাওয়াতে অনেক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু শিখে নিবে। লাবিবা প্রচুর বুদ্ধিমতি। দুই জায়ের ভেতর কোনো রেষারেষি, অহংবোধ , হিংসাত্মক মনোভাব আমি সহ্য করবোনা। তাকে ছোট বোনের চোখে দেখবে। স্নেহ করবে। সে তোমাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিবে। ভালো থাকার পথ খুঁজবে বড় হবার নয়। যেটাতে সামান্যতম সুখ আসবে সেই কাজটাই করবে। বৃহৎ সুখ তোমার ছোট্ট চাওয়াতেই ধরা দিবে। পারিপার্শ্বিক বিষয়ে অধিক লোভ করোনা সেই সামান্যতম সুখটাও হারাবে। তোমার যত লোভ আমার উপর হোক। আমি বিরক্ত হলেও বাঁধা দেবো না। ফ্লোরার জায়গা তোমাকে দিতে পারবোনা কিন্তু তোমার জায়গাটা তোমাকে ঠিকই দিবো। নিজেরটা ভালোভাবে বুঝে নাও আমি খুশিই হবো। আমাকে সময় দিবে। আমার দিন রাত্রির সঙ্গী হবে। আমি সঙ্গী বিহীন তৃষ্ণার্ত। প্রচুর তৃষ্ণার্ত। আমাদের সম্পর্কটা স্বাভাবিক রাখবে। কখনোই আমার কথার অবাধ্য হবেনা। আমি যা বলবো তাই করবে। পারবেনা? পারবেতো।”
” পারবো।”
” আমার ঘুম হবেনা। তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।”
” এখানেই ঘুমাবো।”
“বসে বসে!”
” আমাকে আপনার বুকে নিবেন? সকাল অব্দি আপনাকে জডিয়ে ঘুমাবো।”
” আমি পুরুষ মানুষ রোজ। ”
” আমারই তো। ”
লাবিবার লাগেজ আনতে গিয়ে তানভীরের মোটামুটি দেড়িই হয়। কাজিনরা চেপে ধরে। ঘরে তো বউ নিয়ে গটগট করে চলে গেলে কিন্তু আমাদের টাকা তো দিয়ে গেলে না। এখন তাদের টাকা চাই। না দিয়ে পার পাবে না। ট্রিট দেবে বলে তানভীর রাজি করিয়ে যখন লাগেজ নিয়ে ফিরলো তখন দেখে লাবিবা উল্টোদিক হয়ে বসে কুটকুট করে কি জানি খাচ্ছে। তানভীরকে দেখে সোজা মুখ হয়ে বসলো। হাতে প্লেটে কিছু ফ্রুটস। তানভীরকে সাধলো, “খাবেন?”
” না। আমি খেয়েই আসছি হল থেকে। ”
” আচ্ছা। আমি খাই। ক্ষুধা লেগেছে। ”
” কে দিয়ে গেলো?”
” এনাপু।”
” গোছল দিবে?”
“না। ”
” এদিকে এসে বসো। আমি অনার্মেন্টস খুলে দিচ্ছি।”
তানভীর লাবিবার এক হাত ধরে যত্নের সাথে চুর আংটি খুলে দিচ্ছে। পাছে না আবার ব্যাথা লেগে যায়। ডান হাতের সময় লাবিবার খাওয়া অফ হয়ে যায়। বুঝতে পেরে তানভীর একটু একটু করে ফ্রুটরের স্লাইস মুখে তুলে দেয়। লাবিবাকে আর হাত দিতে হয়না। মাঝে মাঝে দুষ্টুমি চেপে যায়। লাবিবার ঠোঁট থেকে নিজের ঠোঁট দ্বারা আঙুর তুলে নেয়। লাবিবাকে জ্বালাতেও বাদ রাখে না। স্পর্শকাতর সব জায়গায় হুট হাট ছুঁয়ে দেয়। প্রতিটা স্পর্শে লাবিবা থর থর করে কেঁপে উঠে। এ এক অদ্ভুত সুখ জাগায় মনে। গলার হার গুলো খুলে নেবার পরে লাবিবা গা ছেড়ে দেয় তানভীরের উপরে। তানভীর কোলে নিয়ে বসিয়ে দেয় ফ্লোরে। জুলফির নিচে খেলা করছে তার ঠোঁট।
” জান! বেশী খারাপ লাগছে।”
” খাওয়ার পর একটু ভালো লাগছে। চুলগুলো ছাড়িয়ে নিলে ভালো লাগবে।”
” কিভাবে ছাড়াবো?”
” তেল দিয়ে।”
তেলের বোতল থেকে তেল ঢেলে তানভীর দুহাতে ঘষে নেয়। তারপর হাত লাগায় লাবিবার চুলে। সুবিধা করতে গিয়ে দুপায়ের বেষ্টনী তৈরি করে। একটার পর একটা স্তর ছাড়িয়ে নিচ্ছে চুলে। এতো এতো ভাজ কেনো ফেলতে হবে? তানভীরের বিরক্ত ধরে গেছে।
” আগে জানলে কখনোই এভাবে চুল বাঁধতে দিতাম না। কি একটা ঝামেলা!”
এদিকে লাবিবা আরামে চোখ বুজে ঝিমুচ্ছে। চুলে হাত বুলালে এমনিতেই ঘুম চলে আসে চোখে। তার উপর তানভীর আনাড়ি হাতে এতো যত্ন নিয়ে তেল দিয়ে দিচ্ছে ক্লান্ত দেহে আর বাধ মানলো না। ঘুমে ঢলে পড়লো তানভীরের কোলে।
সকালে যখন ঘুম ভাঙলো নিজেকে বিছানায় দেখলো। তানভীর কে কোথাও খুঁজে পেলো না। ঝটপট নেমে ফ্রেস হয়ে এলো। ফোন খুঁজে পেলো বালিশের নিচে। স্কিনে টাইম ওঠা ১১.১৪ । লাবিবা দৌড় দিলো জানালার দিকে। পর্দা টেনে দেখে বাঈরে ফকফকা রোদ। মাথায় এবার হাত পড়লো। এতো ঘুমালো! রাতেই বা কখন ঘুমালো? আর তানভীর? মানুষ টা এতো তাকে চাইছিলো আর সে? সারাদিনে দুইবার তানভীর কে চোখে পড়লো। কিন্তু তানভীর তাকে টোটালি ইগনোর করে গেলো। তবে কি তানভীর সত্যি সত্যি রাগ করে বসলো? লাবিবা যেচে কথা বলতে গেলো কিন্তু তানভীর আছে দৌড়ের উপর। কথা বলার সময় টাও পায়নি। একবার শুধু জিজ্ঞেস করতে পেরেছে ,
” আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?”
তানভীর উল্টো প্রশ্ন করলো, “এখন ঠিকাছো?”
লাবিবা মাথা নাড়ালো সে ঠিক আছে। কিন্তু কতক্ষন ঠিক থাকবে জানেনা। তানভীর যদি এভাবে ইগনোর করে চলে তাহলে মুহুর্তেই সে গতি হারিয়ে ফেলবে। মস্তিষ্কে চাপ পড়বে। বুকের উপর পাথ্য জমা পড়বে। রিসিপশনের জন্য সুন্দর পেঁয়াজ কালার লেহেংগা টা পড়ে নিলো। পার্টি মেকাপ করে সোহানার সাথে বেরিয়ে এলো হলে যাবার উদ্দেশ্যে। তানভীরের গাড়িতে তানভীরের পাশেই বসলো। কিন্তু সে মানুষটার কোন রিয়েকশন নাই। লাবিবা ফ্রন্ট মিররে বার বার উঁকি দিয়ে নিজেকে দেখলো তাকে কেমন লাগছে। নিজের কাছে তো নিজেকে ভীষন সুন্দর লাগছে কিন্তু তানভীর কেন কোন রিয়েক্ট করছে না? লাবিবা হাঁসফাঁস করতে লাগলো। নিজে থেকেই হাত বাড়িয়ে তানভীরের উরুর উপর রাখলো। তার সপ্ন পুরুষটার উপর বেহায়া দৃষ্টি ফেললো। অফ হোয়াইট সুট কোটে একদম পার্টি গোয়িং মেকাপ। বুকপকেটে রোজের ব্রোজ এর উপর লাবিবার চোখ আটকালো। ভীষন সুন্দর একটা ব্রোজ দারুন মানিয়েছে তাকে। উরু থেকে হাতটা বুকের উপর উঠে আসতেই তানভীর নিজের হাত উপরে রেখে আটকে দিলো। চমকে উঠলো লাবিবা। ড্রাইভারকে বললো, ” গাড়ি থামাও। ”
রাস্তার পাশে পার্ক করতেই তানভীর নেমে পড়লো। ড্রাইভারকে ওয়ালেট থেকে কিছু টাকা বের করে দিয়ে বললো , ” রিসিপসনে চলে যেও।”
লাবিবাও নেমে পড়লো তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে। তানভীর কি করছে বুঝতে পারছে না। রাগের মাথায় উল্টোপাল্টা কিছু না করলেই হলো। লাবিবাকে অবাক করে দিয়ে তানভীর নিজেই ড্রাইভিং সিটে উঠে বসলো। লাবিবাও পাশের ডোর খুলে ফ্রন্ট সিটে তাড়াহুড়ো করে বসলো। তানভীর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে উল্টো রাস্তা ধরলেই লাবিবার দম বন্ধ হয়ে এলো। কাঁপা স্বরে বললো ,
” হলের রাস্তা ঐদিকে। ”
তানভীর কিছু বললোনা। লাবিবা ঢুক গিললো। করুন গলায় বললো, “খান সাহেব! আমাদের রিসিপশনে যেতে হবে। ”
এবার লাবিবা আশে পাশে তাকিয়ে ঢাকা ময়মনসিংহের রাস্তা দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠলো। জানতে চাইলো,
” খান সাহেব! আমরা যাচ্ছি কোথায় ?”
তানভীরের ছোট্ট উত্তর , “হানিমুনে।”
চলবে ____

