কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ১৮.

0
419

#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

১৮.

তাথৈ কোর্টের এককোণে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে আছে। মুলত নিজেকে সামলাচ্ছে ও। ওর মন আজ অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বারবার তাশদীদের অবস্থা কেমন তা দেখতে চাইছে। কিন্তু মস্তিষ্ক তা মানতে নারাজ। জেদ করেই নিজেকে স্থির রাখলো তাথৈ। শার্লিও ওর পাশে দাড়িয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। কোর্টের অপরপ্রান্তে কি হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করছে৷ তবে রুমন ওদের ধারেকাছেও নেই। তাশদীদ নিচে পরে যাবার পরপরই বুকে হাত দিয়ে ছুট লাগিয়েছে ও। দশ বারোজন মিলে তাশদীদকে ঘিরে রেখেছে। মেডিকেল সেন্টার থেকে ডাক্তার এসে ওর বাম পায়ে ব্যান্ডেজ পরাচ্ছে। তুল্য কিছুটা দুরে কোমড়ে হাত দিয়ে দাড়ানো। ওর কপালেও চিন্তার ভাজ। ঘটনাটা ওর ইচ্ছাকৃত ছিলো না৷ ওর তো খেলার ধরনই এমন। আর সেটা বুঝেই বিপরীত-পক্ষ গা বাচিয়ে চলে। আফিফ ভিড়ের দিক তাকিয়ে বাহাতে চোয়াল মুছলো। তুল্যকে বললো,

– একদম ঠিকঠাক লাগিয়েছিস তুল্য। এটা একটা রেড ফ্লাগ। একা অনেকগুলো বাস্কেট করেছে। ইন্জুরিতে ঠেকে গেলে…

তুল্য আফিফের দিকে রোষদৃষ্টিতে তাকালো। কিছুটা ভয় পেয়ে আফিফ থেমে যায়। তুল্য দৃষ্টি সরিয়ে বিরবিরিয়ে বললো,

– ইচ্ছে করে করিনি।

তাশদীদ নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে ব্যথা সামাল দিচ্ছিলো। ব্যান্ডেজ শেষে পা ছাড়লো ডাক্তার। টিটু নোয়ানো স্বরে জিজ্ঞেস করলো,

– ভেঙেছে?

– না না। ফ্র্যাকচার নেই। দৌড়ঝাঁপ না করলেই ঠিক হয়ে যাবে।

স্বস্তির শ্বাস ছাড়লো টিটু। শান্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ছুটলো তুল্যর দিকে। হনহনিয়ে গিয়ে, ওর গলার নিচের গেন্জি খামচে ধরলো শান্ত। চেচিয়ে বললো,

– ইচ্ছে করে করেছিস এমন তাইনা?

তুল্য চুপ ছিলো। ও জানতো কথা ওকে শুনতেই হবে। তাছাড়া তাশদীদ আঘাত পেয়েছে, ব্যাপারটা ওরও ভালো লাগছে না। কিন্তু শান্ত ওর গায়ে হাত দিয়েছে দেখে ওর রক্ত গরম হয়ে যায়। হাত মুঠো হয়ে আসে। তুল্য নিজেও উদ্যত শান্তর গায়ে হাত তুলবে বলে। এরইমাঝে তাশদীদের গলা কানে আসে ওদের। টিটুর কাধে ভর করে উঠে দাড়িয়েছে তাশদীদ। টিটুকে ছেড়ে খুড়িয়ে এগোলো ও। শান্তর কাধে হাত রেখে বললো,

– আমি ঠিকাছি। রিল্যাক্স।

– তাশদীদ…

– রেজাল্ট কি?

– একমিনিট পয়তাল্লিশ সেকেন্ড বাকি। বাস্কেট ১৬-১৮.

তাশদীদের প্রশ্নে তুল্য জবাব দেয়। মুচকি হাসলো তাশদীদ। মুঠো করা ডানহাত তুল্যর দিলে বাড়িয়ে বললো,

– গ্রেইট! গেইম ইজ অন!

টিটু, শান্তসহ সবাই বিস্ফোরিত চোখে তাকালো। তুল্যও অবাক হয়। আবারো তাশদীদের ব্যান্ডেজ করা পা দেখে নিয়ে বলে,

– আপনি খেলবেন?

– না! তুই খেলবি না! ডক্টর দৌড়াতে মানা করলো তোকে। তাছাড়া এই পা নিয়ে তুই ছুটবি কিকরে? খেলা লাগবে না তোর। টিটু? ওকে কোর্টের বাইরে যা!

স্পষ্টভাবে বললো শান্ত। তাশদীদ কিছু বলতে যাবে, এরমাঝে রেফারি এসে বললো,

– তাশদীদ খেললেও, তুমি খেলছো না তুল্য। ফাউল করেছো। এন্ড ইউ আর ব্যানড ফ্রম ফিনালে।

তুল্য স্থির রইলো। কিন্তু ওর দল রেফারির কথায় উত্তেজিত হয়ে পরতে যাচ্ছিলো। তুল্য ফাউল করেছে, ওরা মানতে নারাজ। শান্ত টিটুও এবার উদ্যত হয় আফিফসহ বাকিদের গায়ে হাত তুলবে বলে। কিন্তু তাশদীদ আটকে দিলো শান্তকে। অতিকষ্টে পরিস্থিতি সামাল দেয় ও। ওর কথা ছিলো, ও ইন্জুরি নিয়েই খেলবে। আর ও যেহেতু খেলার মতো অবস্থায় আছে, তারমানে তুল্য ব্যান হওয়ার মতো কোনো ফাউল করেনি। যা হয়েছে তা পুরোটাই অনিচ্ছাকৃত। রেফারি, দুজন টিচার বারবার বারন করা সত্ত্বেও তাশদীদ মানলো না। শেষ পর্যন্ত ওর যুক্তিই থাকে। বাকি একমিনিট পয়তাল্লিশ সেকেন্ডের খেলা শুরুর জন্য কোর্টে অবস্থান নেয় দশজনই।
কোর্টের বাইরে থেকে পুরোটা দেখলো তাথৈ।
ওপরপ্রান্তে তাশদীদ কোনোমতে পা ফেলছে। রেফারি বাঁশি দিলে, তুল্য মাঝখান থেকে বল ড্রিবলিং করানো শুরু দিলো। তাশদীদের দল প্রাণপণে চেষ্টা করলো বল কাড়ার। জিততে হলে, এই দেড়মিনিটে দুটো বল বাস্কেট করতে হবে ওদের। একটা বল কোনোমতে তাশদীদের দলের হাতে আসে। সেটা তৎক্ষণাৎ তাশদীদের দিকে ছুড়ে মারে ছেলেটা৷ আর তাশদীদ কোর্টের মাঝমাঝি থেকে বাস্কেট করে। আরো একটা পয়েন্ট হয় ওদের। ওর খেলা দেখে তাথৈ নিজেনিজেই বললো, ‘ভাঙবে, তবু মচকাবে না।’ রুমন ততোক্ষণে আবারো ওর পাশে এসে দাড়িয়েছে। তাথৈয়ের কথাটা শুনে ও বললো,

– নারে। তুই উল্টো বুঝছিস। ডক্টর বললো হ্যান্ডসামের পা ভাঙেনি। মচকেছে।

নিজেকে সংবরন করলো তাথৈ। রুমনকে আর মারতে ইচ্ছে করছে না ওর। শার্লি বললো,

– হি ইজ সামথিং এলস। ইন্জুরি নিয়েও খেলছে। জেতাটা এতে জরুরি?

– তাশদীদের কাছে জেতাটা জরুরি না। ও খেলছে যাতে তুল্য খেলা থেকে ব্যান না হয়, এজন্য। শান্ত যেভাবে ক্ষেপেছিলো, আজকে তুল্য ব্যান হলে, ওকে নেক্সট দু বছরের জন্যও ব্যান করে রাখার ব্যবস্থা করতো ও।

টিটুর কথায় পাশ ফিরলো তাথৈরা তিনজন। টিটু ওদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে যেতে বললো,

– সবজায়গায় উদারতা দেখানো ওর অভ্যাস। এটাই তাশদীদ ওয়াসীর।

টিটুর কথা শুনে তাথৈ একপা দুপা করে পেছোতে থাকে। পরপরই ঘুরে উঠে পা বাড়ায় ক্লাসের দিকে। পেছন থেকে শার্লি ওকে ডাকতে থাকে। কানে নেয়না তাথৈ। দ্রুতপদে চলে যায়। যেনো ওখান থেকে যেতে পারলে ওর রক্ষা৷ ও কয়েকপা এগোতেই পেছন থেকে হুল্লোড়ের আওয়াজ আসে। মানে খেলা শেষ। কোনো এক দল জিতেছে। একমুহূর্তের জন্য দাড়ায় তাথৈ। চোখ বন্ধ করতেই ওর কর্ণকুহরে ধ্বনিত হয়, ‘তাশদীদ! তাশদীদ!’

তাথৈ ব্যাগের ফিতা ধরে করিডরে হাটছিলো। ওর পেছনপেছন শার্লিও ছিলো। কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিলো ও। তুল্যর হারার খুশিতে মন ভালে ওর। মোবাইল দেখতে দেখতে সাইড দিয়েই এগোচ্ছিলো ও। অকস্মাৎ কারো সাথে ধাক্কা লাগে। শার্লি চোখ তুলে চাইতেই তুল্য ওর হাত মুচড়ে পেছনে কোমড়ের সাথে চেপে ধরে। তুল্যর আরেকহাত থেকে বুজো ছাড় পেয়ে ছুট লাগায়। ও কিছু বলতে যাবে, শার্লি খালি হাতে নিজের কানের হেডফোন খুলে দিলো। বললো,

– আজ সব দোষ তোর! আমি সাইড দিয়েই যাচ্ছিলাম!

– টুর্নামেন্টের পর এতো খুশি হচ্ছিলি কেনো তুই? হু? আমি হারলে খুব খুশি লাগে তোর? খুব খুশি লাগে?

তুল্য শক্তপোক্ত কন্ঠে শুধালো। আর শার্লি কপাল কুচকালো। তুল্যর হার নিয়ে সত্যিই ও বেশি উত্তেজনা দেখিয়েছে। কিন্তু সেটা তুল্যের নজরে আসবে, এটা ভাবেনি। একহাতে তুল্যর বুক ঠেলে, নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো শার্লি। বললো,

– আমার প্রতি তোর যা বিহেভিয়ার, তুই হারলে আমার ইদ লাগবে, এটাই স্বাভাবিক নয়কি? হাত ছাড় আমার! ছাড়!

– বিহেভিয়ার? আমার কাছ থেকে কেমন বিহেভিয়ার এক্সপেক্ট করিস তুই? হু? কেমন? প্রেমিকা হস আমার? তোর সাথে বাবু জানু বলেবলে বিহেভ করতে হবে আমাকে? আন্সার মি!

আরো শক্তিতে শার্লির হাত মুচড়ালো তুল্য। এবার ব্যথায় আওয়াজ করে ওঠে শার্লি। তুল্যর হুশ হয়, কোথাকার রাগ কোথায় এসে খাটাচ্ছে ও। তৎক্ষনাৎ শার্লির হাত ঝারা মেরে ছেড়ে দেয় ও। এতোটাই জোরে যে, কয়েকপা পিছিয়ে যায় শার্লি। তুল্য জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো। সিগারেট খাওয়া দরকার এখন ওর। তাকিয়ে দেখে, ছাড় পেয়ে বুজো করিডোরের অপর প্রান্তে পৌছে গেছে। তুল্য চলে আসছিলো। কি ভেবে আবারো শার্লির দিক আঙুল উচিয়ে বললো,

– আমার দেখে দুরে থাক!

হনহনিয়ে চলে গেলো তুল্য। শার্লি আহম্মকের মতো ওর চলে যাওয়া দেখলো। নিজেনিজেই বললো, ‘আমি কখন তোর কাছে আসলাম?’
তাথৈয়ের কোনোদিকে খেয়াল নেই। আপাতত এক্সট্রা ক্লাসের জন্য ক্লাসে এগোচ্ছে ও। যেহেতু ক্লাসটা শিডিউলের বাইরে, বিভাগের যে ক্লাস ফাঁকা থাকে সেখানেই ক্লাসটা হবে। সেমিনারে আলো ওকে বলেছিলো, করিডোরের প্রথম রুমটাই নাকি ফাঁকা। তাই বাড়তি না ভেবে, তাথৈ নিচদিক তাকিয়ে ঢুকে যায় ক্লাসে। তিনসারির সর্ববামের ফার্স্ট হাইবেঞ্চে বসে একটা ক্ষুদ্র শ্বাস ফেলে। কিন্তু হুট করেই ওর মনে হয়, একজোড়া চোখ ওর দিকে আগ্রহে তাকিয়ে আছে। তাথৈ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। চক্ষুসম্মুখে ভ্রুকুচকে থাকা মানুষটা দেখে কপাল শিথিল হলো ওর। একেবারে ডানের দ্বিতীয় বেঞ্চটাতে তাশদীদ বসে। ওর ব্যান্ডেজ করা পা সামনের বেঞ্চের ওপর তোলা। তাথৈ নিজেকে সামলে বললো,

– এখানে এখন আমাদের ক্লাস হবার কথা।

তাশদীদ বেঞ্চ থেকে আস্তেধীরে পা নামালো। পায়ের ব্যথাটা অনেক বেশি। এটা নিয়ে যদিও ও দৌড়ায়নি, কিন্তু দাড়িয়ে থাকতে তো হয়েছিলো। ওদের আজ কোনো ক্লাস নেই৷ খেলা জেতার হৈ-হুল্লোড় শেষে শান্ত-টিটুসহ বাকিসব হলে চলে গেছে। ও তাই ক্লাসে এসে বসেছিলো। একেবারে ভার্সিটির বাসে যাবে বলে। পাশের বেঞ্চে হেলান দিয়ে রাখা এলবো সাপোর্ট ওয়াকিং স্টিকটা হাতে লাগিয়ে উঠে দাড়ালো তাশদীদ। টুর্নামেন্টের পরপরই টিটু কিনে এনেছে এটা। তাশদীদ খুড়িয়ে পা বাড়ালো। সবসময় উচ্ছ্বল থাকা মানুষটাকে লাঠির সাপোর্টে হাটতে দেখাটা, কোনো অজানা কারনে সহ্য হলো না তাথৈয়ের। দৃষ্টি সরিয়ে নিলো ও। তাশদীদ তাথৈয়ের সামনে এসে দাড়ালো। বললো,

– কিন্তু এটা তো আমাদের ক্লাসরুম।

চোখ তুলে চাইলো তাথৈ। ওর মনোযোগ নেই কিছুতে। কোনটা কাদের ক্লাস, ক্লাসে ঢোকার সময় সে বিষয়ে খেয়াল হয়নি। তাথৈ দেখলো তাশদীদ ঠোঁট চেপে হাসি আটকাচ্ছে। হাইবেঞ্চ থেকে, নিচে নেমে দাড়ালো ও। বললো,

– কিন্তু আপনাদের এই আওয়ারে ক্লাস নেই। এজন্য ম্যাম আমাদের পেন্ডিং ক্লাস এখানে নেবেন বলেছেন।

– ক্লাস আছে আমাদের। তুমি ভুল শুনেছো।

বেশ স্বাভাবিক গলায় বললো তাশদীদ। তাথৈ দু দন্ড তীক্ষ্ণচোখে ওর দিকে চেয়ে রইলো। তারপর তাশদীদদের ক্লাসরুটিন দেখবে বলে, পা বাড়ালো হোয়াইটবোর্ডের দিকে। কিন্তু একপা এগোতেই পেছন থেকে ব্যাগে টান পরে ওর। তাথৈ পেছন ফেরার আগেই তাশদীদ ওর ব্যাগ ধরে টান লাগায়। মুহুর্তের ব্যবধানে দেয়ালে পিঠ ঠেকে তাথৈয়ের। তাশদীদ ডানহাতে তাথৈয়ের ব্যাগ দেয়ালে চেপে ধরেছে। ওকে এতোটা কাছে দেখে তাথৈ বড়বড় চোখে তাকালো। নড়েচড়ে উঠে, চেচিয়ে বললো,

– হোয়াট দ্যা…

– আহ…

মৃদ্যু আওয়াজে আর্তনাদ করে ওঠে তাশদীদ। তৎক্ষনাৎ নড়চড় থেমে যায় তাথৈয়ের। ওকে স্থির হতে দেখে, তাশদীদ ওরদিক উঁকি দিয়ে তাকালো। বললো,

– আমার ব্যথায় তোমার কষ্ট হয় তাথৈ আলফেজ?

তাথৈ দাঁতে দাঁত চেপে গেলো। মুচকি হেসে ওকে ঘুরিয়ে দিলো তাশদীদ। তারপর ওর ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে, একপা পিছিয়ে দাড়ালো। তাথৈ নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। তাশদীদ একহাতে বই উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে বললো,

– বইটা ইমারজেন্সি লাগবে। সেমিনারে ছিলো না। তবে লাস্ট এন্ট্রিতে তোমার নাম ছিলো। এখন দেখা যখন হলোই, ভাবলাম তোমার কাছ থেকেই নিয়ে নেই।

বলাশেষে চোখ তুলে তাকায় তাশদীদ। তাথৈ হাত মুঠো করে নিলো নিজের। তাশদীদ উকি দিয়ে ওর মুঠো করা হাত দেখলো। বললো,

– এক্সাক্টলি। আমি জানি আমার সোজা কথায় বই দেবার মেয়ে তুমি নও। তুমি আমার ইমার্জেন্সীও বুঝবে না, উল্টো রাগ দেখিয়ে, ভস্ম করে দেবে। তাই…

– ইউ…

– হ্যাঁ। যতো খুশি রাগ করো। বই নিয়েছি তো কি? রাগের সমাহার মনটা তো নেইনি।

তাথৈকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় তাশদীদ। যাওয়ার আগে তাথৈয়ের উচিয়ে রাখা আঙুল বই দিয়ে ঠেলে নামিয়েও দিয়েছে ও। তাথৈ পিছু ফিরে হতভম্ব চোখে ওকে চলে যেতে দেখে। হালকা নীল রঙের শার্ট পরিহিত মানব, খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে। তাথৈয়ের আজ রাগ হয় না। রক্তের উষ্ণতা বাড়ে না। বরং ওর শীতল মস্তিষ্ক আরো একবার ওকে জানান দেয়, মন না নিলেও, এই লোক ওর রাগকে বশ করে নিতে শুরু করেছে।

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here