কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ২০.

0
378

#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

২০.

রিংকি বইখাতা সামনে নিয়ে চুপচাপ বসে আছে। ওর দৃষ্টি তাশদীদের পায়ের দিকে। ও পড়ছেও না, লিখছেও না। পড়া বুঝিয়ে দিয়ে দু মিনিট হলো ওর মৌনতা পর্যবেক্ষণ করছে তাশদীদ। তিনদিন পর রিংকিকে পড়াতে এসেছে ও। এ তিনদিনের একদিন ক্লাস থাকলেও ক্যাম্পাসে যায়নি। পায়ের ব্যথাটা এখন আর নেই। তাই পড়াতে এসেছে ও। রিংকির হেলদোল নেই দেখে এবারে মুখ খুললো তাশদীদ। একটা কলম হাতে নিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো ও। বললো,

– তুমি কি পড়বে না আজ?

– আপনার পায়ে অনেকটা জখম হয়ে আছে তাশদীদ ভাই। অনেকটাজোরে চোঁট পেয়েছিলেন আপনি।

জবাব দিয়ে রিংকি তাশদীদের দিকে তাকালো। তাশদীদ নিজের পায়ের দিক তাকিয়ে পা কিছুটা গুঁটিয়ে নিলো। তামজীদের মতো ওউ ভেবেছিলো, তিনদিনে একদিন না একদিন রিংকি প্রীতিকার্নিশ যাবে ওকে দেখতে। আর সেটাকে ইস্যু করে আরেকদফায় রিংকির বাবার সাথে কথা বলবে ও। কিন্তু ওকে ভুল প্রমাণ করে তিনদিন বাধ্য মেয়ের মতো অনলাইনে পড়েছে রিংকি। মনেমনে খুশি হয়েছিলো তাশদীদ। ভেবেছিলো রিংকি সত্যিই হয়তো নিজেকে সামলে নিয়েছে। কিন্তু এ বাসায় আসার পর আবারো ওর ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। তাশদীদ বললো,

– এখন ঠিক আছি আমি।

– কিন্তু এ তিনদিন ঠিক ছিলেন না আপনি।

অতি ধীরে বললো রিংকি। তাশদীদ শুনলো কেবল। কিছু বললো না। সামনেই রিংকির এডমিশন। অযাচিত ঝামেলা চাইছে না ও। আবার না পারছে এসপার ওসপার করতে। সেসময় দরজায় নক করে মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘরে ঢুকলো রোজি। ওর পেছনে এক সহকারী খাবাটের ট্রে নিয়ে ঢুকলো। রিংকি অংক করতে লাগলো। তাশদীদ উঠে দাড়িয়ে রোজির মেয়েকে কোলে নিলো। ওর সাথে দুষ্টুমি করতে করতে বললো,

– আরে! তুমিতো দেখতে দেখতেই বড় হয়ে যাচ্ছো লি’ল গার্ল! বাট আম্মুর মতো হওনি। ও দেখতে একদমই তোমার মতো হয়নি দেখতে রোজি।

– ঠিকি বলেছো। আমার ননাসও বলছিলো, ও আমার মতো হয়নি। ও নাকি দেখতে ওর দাদীর মতো হয়েছে। দাদীর নামের প্রথমঅক্ষরে মিল রেখে নামও রেখে গেছে সে।

– তাই নাকি? কি নাম রেখেছে ওর? কি নাম তোমার হুম?

– তাথৈ।

রোজির জবাব শুনে, বাচ্চাটাকে দুলাতে দুলাতে হঠাৎই আটকে গেলো তাশদীদ। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে রোজির দিকে তাকালো ও। জোরালো হেসে বললো,

– কিহ্?

– তাথৈ। তাথৈ শবনম। ওর দাদীর নাম ছিলো তহুরা শবনম, ওটাতে মিল রেখে ওর ফুপু রেখেছে নামটা। সুন্দর না?

তাশদীদ আবারো বাচ্চাটার দিকে তাকালো। হাত নাড়াচাড়া করে বাচ্চাটা খেলছে ওর কোলে। অজান্তেই চেনা নামটার সাথে ওকে মেলানোর চেষ্টা করতে লাগলো তাশদীদ। খেলতে খেলতে ওর শার্টের কলারের কাছের বোতাম আঁকড়ে ধরলো বাচ্চাটা। ছোট্ট মুঠোটাতে কলারের বোতাম দেখে তাশদীদ শব্দ করে হেসে ফেললো। আপনমনেই বলে উঠলো, ‘এই না হলে তাথৈ! নামের সম্মান রেখেছো বটে!’

টেবিলে থাকা নিজের পানির বোতলটা ঠেলে ফেলে দিয়ে, টুলে বসা থেকে দাড়িয়ে গেলো তাথৈ। উচু থেকে শব্দ করে ফ্লোরে পরলো বোতলটা৷ চমকে উঠে পুরো ক্লাস তাথৈয়ের দিকে তাকালো৷ তুল্য বাদে। বেশ স্বাভাবিকভাবে বইয়ে মুখ গুজে রইলো ও। ল্যাবে আধঘন্টা হলো অপেক্ষা করছে ওরা। তুল্য জানে, এই আধঘন্টা অপেক্ষার বিনিময়ে, কিছু তো ভাঙচুর করা জায়েজ ছিলো তাথৈয়ের। তাই বিন্দুমাত্র অবাক হলো না ও। আওয়াজ শুনে ল্যাব সহকারী আঁৎকে উঠলেন। হাঁক ছেড়ে বললেন,

– এই ছেলেমেয়েরা! কে কি ভাঙলে? এই ল্যাব ক্যাম্পাসের সবচেয়ে এনরিচড ল্যাবগুলোর একটা। তোমরা কি…

– আমার ফ্রেন্ডের বোতল ফ্লোরে পরেছে। কারো টাকের ওপর পরেনি!

খিচানো স্বরে জবাব দিলো শার্লি। সহকারী চুপ করে গেলেন। এবারে বই থেকে চোখ তুলে তাকালো তুল্য। শার্লি এপ্রোন গায়ে পরা বাদ দিয়ে কোমড়ের সাথে বেধে রেখেছে৷ টুলে বসেবসে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে। তুল্যর কপালে ভাজ পরে। মনেমনে বলে ওঠে, ‘বেয়াদব মেয়ে একটা! অবশ্য মেয়ে বলছি কেনো? মেয়ের ম টাও নেই ওর মাঝে!’ একবার মোবাইলের ক্যামেরায় বুজোকে দেখে নিয়ে, নিজের পড়ায় আবারো মনোযোগ দেয় তুল্য। তাথৈ দেখলো আশপাশের সবাই ওরদিকে তাকিয়ে আছে। স্পষ্টভাবে বললো,

– ইয়াহ। এইভাবে বেকুবের মতো দেখা আর অপেক্ষা করা ছাড়া তো তোমাদের আর কোনো কাজ নেই রাইট?

– আমিতো ভাবলাম আপনারই কোনো কাজ নেই। এজন্যই আপনি বোতলটা ফেলে দিলেন, যাতে কাজ করতে পারেন। ফ্লোরে বোতল ফেলাটা একটা কাজ, ফ্লোর থেকে বোতল তোলাটাও একটা কাজ।

পাল্টা জবাব শুনে সামনে তাকায় তাথৈ। সেইসাথে বাকিসবারও নজর কারে মাস্ক, এপ্রোন, গ্লাভস পরিহিত যুবক। যুবক হাতের ফাইল কাগজপত্র ডাইসের সামনের টেবিলটায় রাখলো। তাথৈ সব ভুলে তার আশপাশে তাকিয়ে লাঠি খুজলো। পেলোনা। অবশ্য না থাকারই কথা। টুর্নামেন্টের পর বেশ কদিন পেরিয়েছে। আরো একবার যুবকের চোখে তাকায় ও। তার উজ্জ্বল চোখের তারারা যেনো ওকে বলে দেয়, মাস্কের আড়াল থেকে ওকে প্রতিত্তোরকারী অন্য কেউ নয়, তাশদীদ। এমন জবাব তাশদীদ ছাড়া আর কেই বা দেবে ওকে? তাশদীদ ক্লাসের সবার উদ্দেশ্যে বললো,

– প্রজেক্টের জন্য ম্যাম কেবিনে ডেকেছিলেন। এটাই আমার লেইট করার কারন। ওনার সাথে কথাবলার সময় সুযোগ ছিলো না আপনাদের সিআরকে এ বিষয়ে জানানোর। সরি ফর দ্যাট। যদি আপনাদের আরকোনো সমস্যা না থাকে, মে উই?

সবাই ঠিকঠাকমতো নিজেদের গ্রুপ নিয়ে দাড়িয়ে যেতে লাগলো। তাশদীদ প্রতিটা দলকে কাগজ দিলো একটা করে। তাথৈ বোতল তুলে কাজে মনোযোগ দিলো। আড়চোখে কয়েকবার দেখলো, তাশদীদ হাতে ধরে সবাইকে দেখাচ্ছে, শেখাচ্ছে। কিছুকিছু জিনিস নিজের খাতায়ও নোট করছে। শার্লি গা ছাড়াভাবে টেস্টটিউব ঝাকাছিলো। তাশদীদের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,

– এইভাবে হাতেকলমে ল্যাব করালে, অনার্সশেষে নিজেকে হ্যামিল্টন স্মিথের বংশধর বলে পরিচয় দিতে আমার একটুও বুক কাপবে না।

– ম্যাম যখন এনাকে প্রজেক্টের ইনচার্জে রাখছে, তারমানে এই ভাই নিসন্দেহে একজন ভালো স্টুডেন্ট। শুধু একটা জিনিস বুঝলাম না। উনি এখনো নিজের পরিচয়টা দিলো না কেনো? মুখও লুকিয়ে রেখেছে। পরিচয় দিলে কি সমস্যা?

দুদন্ডের জন্য তাথৈয়ের হাত থামে। পুনরায় কাজে মনোযোগ দিলো ও। শার্লির দিকে না তাকিয়েই বললো,

– এধরনের চিন্তা করার জন্য এক্সট্রা মার্কস আছে শার্লি। কিপ ইট আপ।

শার্লি থতমত খেয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দেয়। কাজ করতে করতে হঠাৎই কিছু গরমিল লক্ষ করলো তাথৈ। ওর হুট করেই মনে হলো, ওকে দেওয়া এক্সপেরিমেন্টের সাথে প্রজেক্টের ফাইনাল লাইন মিলবে না। কাজ থামিয়ে, শুরু থেকে সবটা আবারো পড়তে থাকে ও। আর সবটা পড়ে আনমনেই বলে ওঠে, ‘মিলছে না।’
এটুকো শুনে শার্লিসহ ওর দলের বাকিরা কিছুটা অবাক হলো। তাথৈয়ের করা এক্সপেরিমেন্টে ফাইনাল রেজাল্ট আসবে না, এমনটা আশাতীত ছিলো ওদের। কারন তাথৈয়ের হাত পরীক্ষণে এতোটাই পাকা যে, আগের সেমিস্টারগুলোতে যেখানে আলো, তুল্যরও মেলাতে দুই থেকে তিনবার পরীক্ষণ দেখাতে হয়েছে, তাথৈয়ের সেটা প্রথমবারেই মিলে গেছে। কিন্তু এবার সেই তাথৈয়েরই মিলছে না। শার্লি বললো,

– মিলছে না মানে? তোর ভুল হয়েছে?

– না। আমাদের ফেইল করাতে ইনচার্জ ইচ্ছে করে হেডলাইনে উনিশবিশ করেছে।

শান্তশিষ্ট জবাব দিলো তাথৈ। শার্লির চোখ কপালে ওঠে। বড়বড় চোখ করে আশেপাশে তাকায় ও। বাকি দলগুলো বেশ মজায় মজায় নিজেদের কাজ করছে। ইনচার্জ আলোর দলকে কিছুএকটা শেখাতে ব্যস্ত। তাথৈ কিছুক্ষণ চুপ থেকে পেছন ফিরলো। আলোর কলম পরে গিয়েছে নিচে। ওটা তোলার জন্য নিচু হয়েছে ও। ওঠার সময় টেবিলের কোনায় মাথা লেগে যায় ওর। কিন্তু সৌভাগ্যবশত চোট লাগে না। কেননা তাশদীদ আগে থেকেই টেবিলের কোনে হাত রেখে কথা বলছিলো। শার্লি বিস্ময়ে বললো,

– এত্তো কেয়ারিং একটা মানুষ ইচ্ছে করে আমাদের ফেইল করাবে?

– এই এক্সপেরিমেন্ট আমি করবো না!

শার্লিকে জবাব না দিয়ে নিজের মত জানালো তাথৈ। উচ্চস্বর শুনে পুরো ক্লাস আরো একবার ওর দিকে তাকায়। এবারেও তুল্য হতাশ। বিরক্তি নিয়ে ঘাড় ডলতে ডলতে জবাব দিলো,

– তো বের হয়ে যা না ল্যাব থেকে! তোকে কে জোর করেছে?

তাথৈ হাত মুঠো করে দাড়ায়। তাশদীদ তুল্যকে নিজের কাজ করতে বলে তাথৈদের টেবিলে এগোলো। ল্যাবের এককোনে আফিফ আর ওর সাথের ছেলেগুলো মনেপ্রাণে চাইতে থাকে, এই তেজ দেখানোর জন্য ইনচার্জ ওকে বার করে দিক। তাশদীদ দেখলো তাথৈ পরীক্ষণের সবটা ঠিকঠাকই রেখেছে। বুকে হাত গুজে অতি নম্র গলায় বললো,

– ইয়েস? কি সমস্যা?

– গতসপ্তাহে ডিএনএ ইলেকট্রোফোরেসিস করিয়ে এ সপ্তাহে আমাদের আরএনএ ইলেকট্রোফোরেসিস টাস্ক দেওয়ার কি মানে?

তাথৈ টের পেলো, মাস্কের আড়ালে তাশদীদ হাসছে। তবে স্বাভাবিক ভঙিতে মুখে বললো,

– আপনাদের ফেইল করানের জন্য।

– আই নো দ্যাট। কিন্তু এমনটা আমি হতে দিচ্ছি না। আপনার এগেইনিস্টে ম্যামকে কম্প্লেইন করবো আমি। এই দশটা মার্কের দাম আপনার কাছে না থাকলেও আমার কাছে আছে।

– হ্যাঁ যান সমস্যা নেই। যাকে খুশি তাকে গিয়ে কম্প্লেইন করুন আপনি।

তাথৈ মুখের মাস্ক, গায়ের এপ্রোন খুলে ফেললো। বড়সর দম নিয়ে পা বাড়ালো ল্যাবের বাইরে আসবে বলে। তাশদীদ পেছন থেকে গলা উচিয়ে বললো,

– বাট ম্যাডাম, আপনি যাকে কম্প্লেইন করতে যাচ্ছেন, সেই আমাকে বলেছে আপনাদের হুবহু টাস্ক না দিতে। আপনার কম্প্লেইন কি তিনি আদৌও গ্রহন করবেন?

তাথৈ থামলো। পেছন ফিরে বললো,

– ম্যাম এটা বলতে পারেন না! এটা সিলেবাসে নেই! টোটাল ওয়েস্ট অফ টাইম!

– ম্যাম সবই পারেন। তাছাড়া এটাকে ওয়েস্ট অফ টাইম বলছেন কেনো? এটার দাম তো সেই দশ নম্বর, কিছুক্ষণ আগে যেটাকে আপনি মহামুল্যবান বলছিলেন।

তাথৈয়ের যুক্তি ফুরায়। তাশদীদ নিশব্দে হেসে আবারো বললো,

– ডিপার্টমেন্ট জানে, আপনারা শুধু নম্বরের লোভে মুখস্ত করছেন। শেখার উদ্দেশ্যে না৷ এতো ইজিলি আপনারা মুখস্তবিদ্যা চালিয়ে নম্বর পেয়ে যাবেন, ডিপার্টমেন্ট তো আর সেটা হতে দিতে পারেনা বলুন? সো দিস ওয়াজ কাহানী মে টুইস্ট। আমি এক্সপেরিমেন্ট করাবো একটা, আর টাস্কে দিবো রিলেটেবল আরেকটা। যদি মেইন থিওরিতে কোনো সমস্যা হয়, আই’ল বি দেয়ার। কিন্তু এই রিলেট করার প্রসিডির আপনারা নিজেরা আবিষ্কার করবেন। নাও কাম, এন্ড ফিনিশ দ্যা টাস্ক। আমার দেওয়া পেপারে মেইন থিওরি দেওয়া আছে।

তাথৈয়ের ম্যামের ওপর রাগ হলো। যে টাস্ক তাশদীদ করিয়েছিলো, তা করতে ওর তাশদীদের পেপারও লাগতো না। ওটা তো আগেই মুখস্ত করে এসেছে ও। কিন্তু নতুন টাস্ক করতে আলাদাকরে মাথা খাটাতে হবে। আর সেটা ফাইনালে আসবে না। এটুক ভেবেই রাগ হলো ওর। টেবিলের সামনে এসে দাড়ালো তাথৈ। পুরো পরীক্ষণটা পুনরায় করতে হবে ওর। দলের বাকিদের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে, পরীক্ষণযন্ত্রটা খোলার জন্য রাগ নিয়ে হুঁক টানতে লাগলো ও। কিন্তু খুলতে পারছে না। বেশ জোরে টানাটানি করার পরেও হুক খুলছে না। হঠাৎই ওর ডানপাশ দিয়ে একটা হাত হুকটা ধরে৷ কেপে উঠে ঘাড় ঘুরায় তাথৈ। হাতের মালিক একদম ওর ডানকাধের ওপর মাথা এগিয়েছে। তাথৈ বিস্ফোরিত চোখে চেয়ে রইলো তার দিকে। তাশদীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সামনের যন্ত্রটায়। হুকটা দক্ষ হাতে খুলে দিয়ে তাথৈয়ের দিকে তাকালো ও। বললো,

– রাগ নামক এই অপ্রয়োজনীয় আবেগকে কন্ট্রোল করুন ম্যাডাম। অহেতুক রাগ দেখালে আমি আপনার নম্বর কাটতে বাধ্য হবো।

শান্ত ভঙিমায় রীতিমতো ধমকি দিয়ে সরে যায় তাশদীদ। তাথৈ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ওর চলে যাওয়ার দিকে। আজ প্রথমবারের মতো কারো ধমকি শুনে ওর রাগ হলো না। বরং রাগে উষ্ণ হয়ে থাকা রক্তস্রোত যেনো শীতলতা অনুভব করলো। প্রথমবারে প্রতিক্রিয়া করার সুযোগ পেয়েও ও প্রতিক্রিয়া দেখালো না। দমকা হওয়ার মতো উড়ে এসে মনজুড়ে ভর করলো স্থিরতা। প্রথমবারের মতো ওর মনে হলো, সত্যিই রাগ অপ্রয়োজনীয় আবেগ। অজান্তেই নিজেকে স্থির রাখা, অকারন রাগ দমন করতে শেখা, নিজের সবটা পরিবর্তন অনুভব করলো তাথৈ। তাশদীদ ওকে রাগানোর জন্যই কথাটা বলেছে সেটাও বুঝলো। কেবল বুঝে উঠতে পারলো না, এই অপ্রয়োজনীয় আবেগকে দমন করতে জানা প্রয়োজনীয় আবেগ ও কবে আয়ত্ত করছে। কার জন্য সেই প্রয়োজনীয় আবেগ ওর কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিণতি কি সে আবেগের। তার শেষই কোথায়। সবচেয়ে বড় কথা, তাথৈ আলফেজকে দমিয়ে দেওয়া সে প্রয়োজনীয় আবেগের, নামই বা কি?

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here