মায়ার_যাতনা #পর্ব_২৩ #অরুনিতা_আঁখি

0
227

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_২৩
#অরুনিতা_আঁখি
………….

“কেঁদেছো কেন তুমি? ”

রুদ্রের এমন প্রশ্নে মায়া অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। অজান্তেই দ্রুত তার হাত দিয়ে চোখ মুখ মুছতে লাগলো—“ ক..কই? ”

রুদ্র ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো-
“ কাঁদো নি তুমি! ”

“ ন..নাআহ! কাঁদবো কেন আমি? ”

“মিথ্যে বলবে না একদম… তুমি অবশ্যই কেঁদেছিলে। ”

“কক্ কি সব ফালতু বকছেন? আমি অকারনে কেন কাঁদতে যাবো? ”

রুদ্র ঠোঁট কামড়ে ভ্রু উচিয়ে কিছুক্ষণ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো মায়ার দিকে।
“কিন্তু তোমার চোখ মুখ ভিন্ন কথা বলছে কেন বেবি ডল? ”

মায়ার এবার চরম মাত্রার বিরক্ত লাগছে, সেই সাথে অস্বস্তি—এই লোকের প্রবলেমটা কোথায়? আগে তো গালি ছাড়া কথাই বলতো না। আর ইদানিং কি সব অদ্ভুত বাজে নামে ডাকছে তাকে..যেন মায়া তার প্রেমিকা লাগে!
ইদানিং মনে হচ্ছে মায়ার সহ্য শক্তি কমে আসছে—লোকটা রীতিমতো তার ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করে,, মায়া সহ্য করতে পারে না, আবার কিছু বলাও যায় না। কিছু বললেই নতুন ঝামেলা শুরু হয়।
মায়া নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দেয়,, তাকে ধৈর্য ধরতে হবে..কারণ ধৈর্য্যের ফল মিষ্টি হয়।

“এইই মেয়ে! কথা বলছো না কেন? ”

“ কি বলবো? তাছাড়া আমি যদি সত্যিই কেঁদেও থাকি, তাতে সমস্যা কোথায় আপনার? ”

“কেন কেঁদে ছিলে? ”

“ অদ্ভুত তো! এখন কি আমি কাঁদতেও পারবো না?

রুদ্র কাছে এগিয়ে আসলো, মায়া দরজার সামনেই ছিল। রুদ্রকে সামনে এগোতে দেখে ঘাবড়ে দু’পা পিছিয়ে ঘরে ঢুকে গেল পুরোপুরি, মায়ের সাথে সাথে রুদ্র’ও ঘরে ঢুকলো।

রুদ্র মায়ার দিকে ঝুকে এলো, তারপর শান্ত শীতল কন্ঠে আওড়ালো,
“ নাহহ, পারবে না তুমি।আমার পারমিশন ছাড়া চোখ থেকে এক ফোটা’ও পানি ঝরানো যাবে না। তুমি কেবল তখনই কাঁদতে পারবে–যখন আমি চাইবো..এবং যখন তোমার কান্না শুনতে আমার ভালো লাগবে ! ”

মায়া বুঝলো না রুদ্রের কথা, চোখ সংকুচিত করে জিজ্ঞাসা করলো,
“ মানেহহ্ !.. কি বুঝাতে চাইছেন আপনি? আমার চোখের জল’ও কি আপনি কিনে রেখেছেন?যে সে প্রতিবার ঝরার আগে আপনার থেকে অনুমতি নিবে!

রুদ্র চোখে হাসলো, কিন্তু মুখে তার ছাপ পড়লো না! তার জোরালো ভারি কন্ঠে হাস্কিস্বরে মুখ নিঃসৃত হলো অদ্ভুত কন্ঠবাণী,
“ শুধু চোখের জল নয়…চোখ,নাক,ঠোঁট, গাল… ইভেন,পায়ের নখ থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত এইচ এন্ড এভরিথিং সবকিছুই আমি কিনে রেখেছি।
শরীরটা তোমার হলেও সেখানে আধিপত্য শুধুই আমার এবং আমার —ওয়ান এন্ড অনলি ‘রুদ্র কাইনাথ মির্জার’।”

রুদ্রের কথাগুলো সব মায়ার মাথার উপর দিয়ে গেল যেন!
“ কি সব পাগলের প্রলাপ বকছেন আপনি? ”,মায়ার ঝাঁজালো কণ্ঠস্বর।

“তুমি…..!” কিছু একটা লক্ষ্য করে মাঝপথে কথা থামিয়ে ওড়না দিয়ে মায়ার মাথার অর্ধেক ঢেকে রাখা ঘোমটা আচমকাই একটানে সরিয়ে ফেলল রুদ্র। পর মুহূর্তেই হতবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো,

“ ওয়ান সেকেন্ড..! তোমার কানের দুল গুলো কোথায়? ওগুলো কখন খুলেছো!…..

মায়া নিজেও হতবিহবল হয়ে কানে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে–মায়া কখন কানের দুল পড়েছে কিংবা কখন খুলেছে,, তা রুদ্রের মত মানুষের খেয়ালে থাকার কথা না! মায়ার ব্যাপার নিয়ে এত মাথা ঘামানোর মানুষ তো কোনোকালেই রুদ্র ছিল না! প্রথমদিকের রুদ্রের সাথে তুলনা করলে বলা যায় এসব ব্যাপার রুদ্রের সাথে মানায়ই না!
তাহলে কেন এই লোক তার সব ব্যাপারে এত মাথা ঘামাচ্ছে..!

“ এই মেয়ে.. বলছো না কেন কিছু? ”

মায়ার চোখমুখ শক্ত হয়ে উঠলো, সে কড়া গলায় জবাব দিলো,

“ আপনার কি হয়েছে, বলুন তো স্যার? আমার জানামতে, বাসার কাজের লোক অথবা ভাড়াটিয়া কখন কোন অলংকার ব্যবহার করছে বা না করছে, কিংবা তারা কখন কি জন্য হাসছে বা কান্না করছে, সেসব বিষয়ে বাড়ির মালিকদের আগ্রহ থাকার কথা নয়,, এমনকি এসব বিষয় জানা সম্ভবত তাদের অধিকারের মধ্যেও পড়ে না। তাহলে আপনি কেন এত কৌতুহলী আমার…..”

“ জাস্ট শাটট্ আপ্..!তোমার এই ফালতু রুলস আমার কাছে খাটাতে আসবে না।
আই অ্যা’ম ‘ R.K ’ , আমি রুলস্ ফলো করি না বরং তৈরি করি।
এন্ড ফর ইউর কাইন্ড ইনফর্মেশন,, এই প্যালেসে থাকতে হলে কিংবা কাজ করতে হলে আমার দেওয়া রুলস মেনেই থাকতে হবে। ”

‘লোকটা কি কোনো ভাবে তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার জন্য খোঁটা দিচ্ছে? কিন্তু এইভাবে খোঁটা দেওয়া কি সাজে! সে তো আর এমনি এমনি থাকছে না –এর বিনিময়ে সে বাসার সব কাজ করে দিচ্ছে, সেই সাথে প্রতিমাসের সাধ্যমত টাকাও দিবে বলেছে…বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার প্রতিদান হিসেবে এটা কি কম হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য। মায়া না থাকলে তো ঠিকই মোটা অংকের টাকা দিয়ে শুধু শুধুই ১০-১২ জন সারভেন্ট রাখতো!
আর যদি আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ আসেই, তাহলেও এই ব্যক্তির সামান্যতম’ও কর্তব্য থাকে না এখানে?
আজ যদি উনি সাহস দেখিয়ে বাবাকে মানিয়ে উনার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করতো,,তাহলে কি মায়া এরকম আশ্রয়হীন হতো?
উনার সাথে বিয়েটা না হলে তার থাকার জন্য অন্তত একটা জায়গা থাকতো!তাহলে তার আশ্রয়হীন হওয়ার মূল কারণ কি উনি নন? ’,,,কথাগুলো ভেবেই মায়া তাচ্ছিল্য হাসলো।

“ তাহলে বলছেন,আপনাদের বাসায় থাকার জন্য আমাকে আপনার শর্ত মানতে হবে?”

রুদ্র কিছু বলল না। পকেটে দুহাত গুজে দাম্ভিক ভাবে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো কেবল..

মায়া পুনরায় নিজেই জিজ্ঞাসা করলো,
“ আচ্ছা শুনি তাহলে,, আমাকে থাকতে দেওয়ার বদৌলতে আপনার কি কি শর্ত পালন করতে হবে? ”

রুদ্র নিজের কপালের উপর পড়ে থাকা এক ঝাঁকড়া চুল বাম হাত দিয়ে পেছনে ঠেলে ভাবলেশহীন কণ্ঠে জবাব দিলো,,
“ ফার্স্ট অফ অল, কোথাও যাওয়ার আগে আমার পারমিশন নিতে হবে।

অ্যান্ড সেকেন্ড, আমার প্রতিটা কোশ্চেন এর সুন্দর আর ঠিকঠাক জবাব দিতে হবে –উইদাউট এনি এক্সকিউজ!

আপাতত এ দুটোই বরাদ্দ তোমার জন্য… পরে আমার ইচ্ছা অনুযায়ী নতুন কোনো শর্ত অ্যাড হলে জানিয়ে দেবো তোমাকে। ”

মায়া মনোযোগ দিয়ে শুনলো রুদ্রের পুরো কথা। পরে দীর্ঘ এক মিনিট মৌনতা পালন করে, শান্ত স্বরে ছোট্ট করে জবাব দিলো,

“আচ্ছা…। ”

‘ঘারত্যাড়া মেয়েটা এত সহজে মেনে নিয়েছে! ’রুদ্রের বিশ্বাস হলো না। তাই শিওর হওয়ার জন্য পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো,

“ শর্ত মেনে নিয়েছো তুমি? ”

মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে আস্তে ধীরে বললো,

“ বাসার মালিক যদি থাকতে দেয়ার বদলে নির্দিষ্ট কোন শর্ত দেয় –সেখানে অবশ্যই আমার কিছু করার নেই!
তাই যতদিন এখানে থাকছি, তত দিনের জন্য মেনে নিলাম আপনার শর্ত। ”

মায়ার জবাব শুনে রুদ্রের কুটিল মস্তিষ্ক প্রসন্ন হল।
সে একটু নড়েচড়ে গলা ঝেড়ে পুনরায় জানতে চাইলো,
“ তো বলো, তোমার ইয়ারিং কোথায়? ”

“পড়তে ভালো লাগছিল না…তাই রেখে দিয়েছি। ”

“ হাহ্!! আই সি! তো এঞ্জেল, আজ জুয়েলারি দোকানে কি করছিলে তুমি? ”

“ আ..আমার ক..কাজ আছে, স্যার!কিচেনে যেতে হবে এখন, আপনার সাথে পরে কথা বলবো… ”,,,
কথাটি বলে মায়া রুদ্রকে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে,রুদ্র শক্ত হাতে মায়ার কোমর পর্যন্ত ঝুলে থাকা সুদীঘল কালো রেশমী চুলের বেনুনি হাতের মুঠোয় পেঁচিয়ে ধরলো পিছন থেকে….!

…চলবে?

(কথা দিয়েছিলাম বলে,, সব ফেলে রেখে প্রায় তিন ঘণ্টা বসে বসে এই পার্ট টুকু লিখলাম!
কিন্তু নিজের মন মতো কাহিনী আঘাতে পারলাম না,,, দুই খবিশের কথোপকথনেই আটকে গেলাম 🤦‍♀️)

https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!
#গল্প_ঘর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here