মায়ার_যাতনা #পর্ব_২৪ #অরুনিতা_আঁখি

0
312

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_২৪
#অরুনিতা_আঁখি
……….
মায়া কিচেনে রাতের খাবার গরম করছে,আর রুদ্র সব সময়ের মতো সোফায় বসে আড়চোখে নিবিড় দৃষ্টিতে দেখছে মায়াকে।এটা নতুন কিছু নয়,বিগত দিনগুলোতে বাসায় যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ তার জন্য এই একটি কাজ’ই বরাদ্দ।
রুদ্র জানেনা এটা সে কেন করে!মেয়ে সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে জড়ানো ঠিক তার সাথে শোভা পায় না, যেখানে নারী মানেই তার কাছে নোংরা আর খেলনার বস্তু!কিন্তু তবুও রুদ্র নিজেকে সংবরণ করতে পারে না। ব্যাপারটা তার নিজের কাছেও এখন বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে,, সে কেন এই মেয়েটার ব্যাপারে এত ভাবছে!
রুদ্র বরাবরই তার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়,, ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে কোন কিছুই তার কাছে মূল্যহীন। তাই এই নারী কেন তার মাথাতে ঝেঁকে বসে আছে,, সেটার বিশ্লেষণ করা তার কাছে ইউজলেস চিন্তা ছাড়া আর কিছুই না । সে শুধু জানে–মেয়েটাকে দেখতে তার ভালো লাগছে, তাকে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগছে, মেয়েটাকে সম্পূর্ণভাবে জানতে ও চিনতে ইচ্ছা করছে..!

মায়া কে পর্যবেক্ষণ করতে করতেই রুদ্রের কপাল সামান্য কুঞ্চিত হলো। কাজ করতে করতেও মেয়েটাকে কতটা শান্ত আর নির্মল দেখাচ্ছে, কেউ দেখলে বুঝতেই পারবে না কিছুক্ষণ আগেও এই শান্ত মেয়েটাই সামান্য চুল ধরার অপরাধে রুদ্রের উপর এক প্রকার আগুনের লাভা ঝড়িয়েছে!
ভাবা যায়! যেখানে রুদ্রের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতেও ভয় পায়, সেখানে এই ছোট্ট শরীরের মেয়েটা কিনা চোখে চোখ রেখে তার দিকে আঙুল তুলে কথা বলে!
আর রুদ্রেরও যেন কি হয়েছে!মেয়েটা তাকে উল্টাপাল্টা কথা বলে,ঝগড়া করে,তর্ক করে…কিন্তু তাতেও রুদ্রের খুব একটা রাগ হয় না এখন। উল্টো রাগে যখন মেয়েটা চোখ বড় বড় করে তাকায়, তোতা পাখির মতো ঠোট গুলো দিয়ে ননস্টপ রুদ্রের বিরুদ্ধে বুলি আওড়ায়, হলদে শ্যামা বরণ মুখটা লাল হয়ে যায়, সরু নাকের ফাটা কিছুক্ষণ পরপর ফুলে উঠে —তখন রুদ্রের মনে হয়, ‘মেয়েটা ঝগড়া তো করছে না, বরং তার হৃদয়ের কম্পন বাড়িয়ে একেবারে মেরে ফেলার ফন্দি আঁকছে।
মাঝে মাঝে বিষয়টা রুদ্রের নিজের কাছেও উদ্ভট লাগে— মানে একটা পিচ্চি এইটুকুন শরীরের মেয়ে, ‘দ্য গ্রেট রুদ্র মির্জার’ চোখে চোখ রেখে তাকে শাসাচ্ছে, আর সে কিনা তা এনজয় করছে!
“সিরিয়াসলি? What a joke! মেয়েটার জায়গায় অন্য কেউ হলে নিশ্চিত রুদ্র থাপরে তার দাঁত ফেলে দিত..। ”

এতক্ষণ লুকিয়ে লুকিয়ে আড়চোখে দেখলেও, রুদ্রের তীর ফলার মতো দৃষ্টি এখন সরাসরি গিয়ে মায়াকে বিদ্ধ করছে। এর মাঝেই মায়া’ও মাথা তুলে হঠাৎ করেই রুদ্রের দিকে তাকালো…এক মুহূর্তের জন্য তাদের দৃষ্টি মিলিত হয়ে মিশে গেল। সেই সাথে রুদ্রের কয়েকটা হার্টবিট মিস হয়ে গেল যেন!তবে দুজনের চাহনির ধারা ভিন্ন —একজনের চাহনিতে মিশে আছে কোমলতা,মুগ্ধতা, আর জানার আগ্রহ… তবে এই মুহূর্তে অপরজনের চাহনিতে আছে শুধুই অবাকতার রেশ!
কিন্তু কিছুমুহূর্ত অতিক্রান্ত হওয়ার পর, সেই অবাকতার রেশ বদলে রূপ নিলো উপেক্ষা,ক্ষোভ, আর ঘৃণায়…!

রুদ্র দেখলো সেই পরিবর্তন… মেয়েটার নিষ্পাপ আদলে তার মনের কথাগুলোর ছাপ ফুটে উঠে। আর রুদ্রের মনে হয়, ও হয়তো সেই কথাগুলো পড়তে জানে!
“হ্যাঁ… এই মেয়েটিকে পড়তে জানে! তার চোখের ভাষাকে পড়তে জানে সে…।তবে… তবে না পারলেই হয়তো ভালো হতো– এই যে রুদ্রের মতো স্বার্থপর আর কঠিন হৃদয়ের মানবটি এই মুহূর্তে ভিতর থেকে ছটফট করছে …অজানা অন্তর্দহনে পুড়ছে! এটা কিসের জন্য?….. মেয়েটির রহস্যময়ী চোখের ভাষা আর তার নিষ্পাপ আদল টুকু পড়তে পারার দায়েই তো!?”

রুদ্র ছটফট করে উঠে চোখ নামিয়ে নেয়,দুহাত শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে নিজেকে নিজে বুঝায়,
“ রুদ্র মির্জা শুধু নিজের কথাই ভাবে, সে নিজেকে নিজে ভালো রাখতে জানে – ত..তাই অন্য কারো অনুভূতি তার উপর প্রভাব ফেলতে পারবে না কখনোই। আর এই মেয়েটি…মেয়েটি তাকে ঘৃণা করলেও, তাতে তার কিচ্ছু যায় আসে না —কিচ্ছু না!”

কিন্তু নিজের এই অজুহাত মূলক বানী’ও রুদ্রকে ভিতর থেকে শান্ত করতে পারেনা। সে কেমন অস্থির চিত্তে ছটফট পায়ে উঠে দাঁড়ায়, তারপর আর একবারও মায়ার দিকে তাকায় না, গট গট পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের রুমে চলে যায়…।
………

এদিকে ডিনার রেডি করে এনে, টেবিলে রুদ্রকে দেখতে না পেয়ে মায়া বিভ্রান্ত হলো।
“ধুরর্ কচু পোড়া! খাবার গরম করলাম, এ আবার কোথায় গেল? ”

মায়া বিরক্তি নিয়ে চেয়ার টেনে বসলো, তারও খিদে পেয়েছে। রুদ্রকে খাবার সার্ভ করার পর, তার খাবার নিয়ে সে রুমে চলে যাবে। তারপর পড়া আছে কিছু, পড়ে শেষ করা দরকার। ঘরের কাজ, টিউশন সবকিছু সামলিয়ে যতটুকু সময় পায় ততটুকু সময়ের এক মুহূর্ত’ও সে নষ্ট করতে চায় না। কাল তো কোচিংয়ে ভর্তি হবে আবার, তারপর কোচিং শুরু হলে বাসায় নিজে পড়া তৈরি করার সময় আরো কমে যাবে। মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে আরো মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করলো।

“উফফ.. বিরক্তিকার লোকটা সারাক্ষণ এখানে বসে থাকে, আর দরকারের সময় হাওয়া হয়ে যায়! ”

মায়া চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। তারপর রুদ্রের জন্য টেবিলে খাবার বেড়ে সাজিয়ে রাখলো,সাথে নিজের জন্য’ও বাড়লো।
“ব্যাস..! আমার কাজ আমি করে দিয়েছি।এবার লোকটা এসে খেলে খাবে, আর না খেলে আমার কিছু করার নেই।
এতো আজাইরা সময় নিয়ে বসে থাকি না আমি , যে তাকে না খাওয়ানো পর্যন্ত এখানে বসে বসে অপেক্ষা করবো..।”
মায়া নিজের খাবার নিয়ে ঘরে চলে গেল।
…….

খাওয়া শেষ হলে, এঁটো বাসন নিয়ে কিচেনে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।কিন্তু ড্রয়িং রুমে এসে দেখলো,রুদ্র এখনো আসেনি ডিনারের জন্য।খাবার যেভাবে রেখে গিয়েছে সেভাবেই পড়ে আছে এখনো।
এতে অবশ্য মায়ার কোনো ভাবাবেগ হয়নি,সে কিচেনে গিয়ে এঁটো বাসন ধুঁলো।তারপর ডাইনিং টেবিলে রাখা জগ থেকে গ্লাসে পানি নিলো খাওয়ার জন্য।
মায়ার পানি খাওয়ার মাঝেই হঠাৎ বাসার কলিং বেল বেজে উঠলো।

“এগারোটা বাজতে চললো,,রাত তো কম হয়নি! এত রাতে কে আসবে বাসায়? ”

টেবিলে গ্লাস রেখে দরজার কাছে গেল সে। কিন্তু দরজা খুললো না প্রথমেই।মায়া দরজার হোল দিয়ে কে এসেছে তা দেখার চেষ্টা করছে, কিন্তু দরজার ওপাশ থেকে একজন নারীর প্রতিবিম্ব দেখা গেলেও, চেহারাটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।
ব্যর্থ হয়ে হোল থেকে চোখ সরিয়ে মায়া নম্র কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,

“ জ্বি.. কে বলছেন? ”

কিন্তু অপর পাশে থাকা ব্যক্তিটি কোন প্রত্যিত্তুর করছে না। মায়া অবাক হলো।
সে আর’ও কয়েকবার জিজ্ঞাসা করলো।অবশেষে দরজার ওপার থেকে একটি মেয়ের কণ্ঠ ভেসে আসলো,
“ওপেন দ্যা ডোর,, আই অ্যা’ম লিজা.. ”,মেয়েটির কন্ঠে স্পষ্ট বিরক্তির সুর।

“ লিজা! …লিজা যেন কে!? ”,মাথায় হালকা চাপ প্রয়োগ করতেই মায়ার মনে পড়লো,

“ ওও হ্যাঁ..! লিজা তো রুদ্র স্যারের গার্লফ্রেন্ডের নাম.. ”,
মায়া দ্রুত দরজা খুলে দিয়ে একপাশে দাঁড়ালো।
কিন্তু লিজা ঘরে প্রবেশ করার সময় তার কাঁধের প্রচণ্ড ধাক্কায় মায়া দূরে ছিটকে গেল। তবে পড়ে যাওয়ার আগেই সে নিজেকে সামলে নিয়েছে।

মায়া জানে,‘লিজা তাকে ইচ্ছে করেই ধাক্কা দিয়েছে।কারণ দরজা থেকে যথেষ্ট দূরে সরে দাঁড়িয়ে ছিল সে।তাই জায়গার ঘাটতিতে ধাক্কা লাগার প্রশ্নই উঠে না, বরংচ দরজা থেকে সম্পূর্ণ পথ’ই উন্মুক্ত ছিল–মায়া তো শুধু এক কোনায় দাঁড়িয়েছিল।
আর তার থেকেও বড় কারণ, এর আগে যতবার রুদ্র লিজা কে নিয়ে বাসায় এসেছে, তন্মধ্যে প্রায় সময়ই লিজা মায়াকে প্রতিঘাতের মতো ঠিক এভাবেই সরিয়ে দিয়েছে।
….
লিজা একটি লাল গাউন পড়ে আছে, গাউন’টি তার শরীরের সাথে একদম টাইট-ফিটিং ভাবে জড়িয়ে আছে, সেই সাথে স্লিভলেস আর হাঁটু সমান লম্বা হওয়ায়..মেয়েটার ফর্সা হাত, আর হাঁটু থেকে ফর্সা পা দুটো বের হয়ে আছে। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, মুখে প্রসাধনীর ব্যবহার, কালার করা কার্লি চুল সব মিলিয়ে মেয়েটাকে বেশ আবেদনময়ী করে তুলেছে।

মায়া লিজার সাজসজ্জা পরোখ করলো না চাইতেও,আর প্রতিবারের মতো লিজার এই পোশাক দেখে মেয়ে হয়ে তার নিজেরই লজ্জা লাগছে।

“আচ্ছা এভাবে চলাফেরা করতে কি লিজা ম্যাডাম আনকম্ফোর্টেবল ফিল করে না?…অবশ্য এটা বড়লোকদের বিশাল বড় বড় ব্যাপার-স্যাপার… তারা নিশ্চয়ই এসব পোশাক-আশাকে অভ্যস্ত!”

তাচ্ছিল্য হাসলো সে, ‘লিজার ভাষায় সে ক্ষেত, আনস্মার্ট!… মায়া নিজেও বিশ্বাস করে, সে সত্যিই আনস্মার্ট। তবে সে আনস্মার্ট হওয়ার কারণে লজ্জা বোধ করে না। “ভাগ্যিস আমি গরিব হয়ে জন্মেছি । ক্ষেত আর আনস্মার্ট হয়েও আমার গর্ববোধ হচ্ছে। ”

চোখে থাকা কালো সানগ্লাস মাথায় তুলে রেখে, লিজা বিরক্তি আর রোষপূর্ণ কন্ঠে মায়াকে বললো,,

“ এই মেয়ে.. এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে কি দেখছো?
আমার রুদ্র বেইবি কোথায়? ”

“ রুদ্র স্যার নিজের ঘরে আছেন। ”

“ওহহ,,আচ্ছা যাই আমি… আমার রুদ্র বেবি টা আমাকে মিস করছে অনেক। তাইতো এত রাত্রে বেলা ও আমাকে ডেকে এনেছে। ”,, নাকি সুরে টেনে টেনে কথাটি বললো লিজা।

মায়া মুচকি হাসলো,,“ আচ্ছা.. লিজা ম্যাম। আপনাদের কিছু লাগলে জানাবেন। ”

মায়ার জবাবে লিজা কিঞ্চিত হতবাক হলো। সে ভেবেছিল, কথাটি শুনিয়ে মায়ার বিষন্ন মুখ দেখতে পারবে। কিন্তু তার ইচ্ছাকে অপূর্ণ রেখে মায়াকে বেশ স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। এমনকি হাসিমুখে কথাও বলছে!

লিজা মুখ ভেংচিয়ে রুদ্রের রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। তবে তাকে আর যেতে হলো না, তার আগেই রুদ্রের দেখা পাওয়া গেল।
আসলে তখনকার কলিং বেলের আওয়াজ, রুদ্রের কানে’ও গিয়েছিল। এত রাতে কে আসতে পারে, সেটা জানার উদ্দেশ্যেই ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে সে।
তবে নিচে লিজাকে দেখতে পেয়ে, রুদ্রের ভ্রু যুগল কুঞ্চিত হলো। ধূসর নীলছে বুনো চোখ গুলো কিঞ্চিৎ সংকুচিত হলো।
‘এই মেক আপের ড্রামটা এই সময়ে এখানে কি করছে!’

রুদ্র দু’হাত পকেটে গুজে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বললো,

“ হঠাৎ এই সময়ে এইখানে কি করছো, লিজা?”

রুদ্রকে দেখে লিজা দৌড়ে গেল রুদ্রকে হাগ করতে..

“স্টপ্ লিজা…দূরে থাকো। ”,,রুদ্রের ভারী কন্ঠে লিজার পা অটোমেটিক থেমে গেল। কিঞ্চিৎ অপমানিত বোধ করল সে।

“ কেন এসেছো?”

“তুমি তো আমাকে মিস করছিলে… আর আমিও করছিলাম। তোমার কথা রাখতে তাই চলে এসেছি বেইবি। ”

“ কে বলেছে তোমাকে আমি তোমাকে মিস করছি!… আমি বলেছি? ”

রুদ্রের এমন কাট কাট জবাবে লিজা বেশ ঘাবড়ালো।‘রুদ্র এভাবে কেন কথা বলছে!, ওই বলদ মেয়েটা শুনে ফেললে তো বুঝে যাবে যে লিজা মিথ্যে বলেছিল ? ’।
লিজা ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালো, মায়া শুনতে পেয়েছে কিনা তা বোঝার জন্য। কিন্তু পিছনে কোথাও মায়া কে দেখতে না পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।‘মেয়েটা এই অল্প সময়ে কোথায় চলে গিয়েছে! যাক বাবা… গাঁইয়া মেয়েটা নেই বলেই হয়তো রুদ্র স্বাভাবিকভাবেই তার সাথে আগের মতো বিহেভ করছে..।’

‘ওহ রুদ্র.. আমি ভেবেছি বলদ মেয়েটা এখানে আছে।তাই ওকে জ্বালানোর জন্য নাটক করছিলাম। ”,,কথাটি বলেই লিজা উদ্ভটভাবে হাসলো, যেন এই কাজ করে সে ভীষণ খুশি।

“ ওর নাম ‘মায়া ’…এখন থেকে ওকে ওর নামেই ডাকবে… ওকে অন্য কোনো সম্বোধন করতে যেন না শুনি। ”,,কঠিন চোয়ালে শক্ত কণ্ঠ ভেসে আসলো রুদ্রের মুখ থেকে।

লিজার হাসি হাসি মুখটা চুপসে গেল। সে রুদ্রের দিকে অবাক চোখে তাকালো।
“তুমি এই ভাবে কথা বলছো কেন রুদ্র…. তাও আবার ওই মেয়েটার হয়ে! ”

বিরক্তিতে রুদ্রের মুখ থেকে ‘চ’ জাতীয় শব্দ বের হলো। হেঁটে গিয়ে সোফার কাছে গেল , তারপর দু’হাত মেলে মাথার পিছনে ভাজ করে রাখলো, সেখানে মাথা এলিয়ে হেলান দিয়ে বসে চোখ মুঝে থাকলো কিছুক্ষন। তারপর শান্ত শীতল কন্ঠে লিজাকে বললো,,

“আবার’ও বলছি.. ওর নাম মায়া। মায়া বলে ডাকবে… এক কথা দু’বার বলা পছন্দ করি না আমি।
বাই দ্যা ওয়ে, তুমি এখানে কেন এসেছো? ”

“ তুমি আমাকে যেই কাজ দিয়েছো…সেটাই করতে এসেছি রুদ্র। তুমি বলেছিলে,, তোমার সো কলড্ বউয়ের সামনে আমরা নিজেদের লাভলী কাপল হিসেবে প্রেজেন্ট করবো।
কয়েকদিন আমরা সেটাই করেছিলাম… কিন্তু তারপর তো তুমি আমায় ভুলেই গেলে, আর ডাকোনি আমাকে।
কিন্তু আমি তো আমার কাজের কথা ভুলতে পারি না,, তাই চলে এসেছি। ”

“ লাগবে না…!”

“ হুুুুুুুুউ..?বুঝতে পারিনি তোমার কথা.. কি লাগবে না?”

“ তোমার কাজ শেষ… এখন আর নাটক করা লাগবেনা।
সো, ইউ ক্যান গো নাউ..।
আর যদি থাকতে চাও,, তাহলে গেস্ট হিসেবে থাকতে পারো।”……

কথাগুলো বলেই রুদ্র ভাবলেসহীন ভাবে উঠে দাঁড়ালো। তারপর লিজাকে পুরোপুরি’ই উপেক্ষা করে মায়ার ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। মায়া দরজা লাগিয়ে রেখেছে,, তাই রুদ্র দরজায় হালকা আঘাত করে নরম কন্ঠে মায়াকে ডাকতে লাগলো,,

“এঞ্জেল..!এঞ্জেল !দরজা খোলো…
ওপেন দ্যা ডোর… লিটল বার্ড,, কাম হেয়ার! ”
~~~~~~~
…..চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here