প্রেমের ঘাটের মাঝি #পর্ব ১৭ #লেখনিতে খুশবু আকতার

0
138

#প্রেমের ঘাটের মাঝি
#পর্ব ১৭
#লেখনিতে খুশবু আকতার

“জুঁই তোর নাকি বিয়া ঠিক হইয়া গেছে?”

জহিরের প্রশ্ন শুনে জুঁই কিঞ্চিৎ অবাক হলো।এই খাবারটা তো জহিরের কান অব্দি যাওয়ার কথা না তবে গেল কি করে?প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“তোকে কে বলেছে?”

“সুজন কইলো।জুঁই তুই সত্যি অন্য কাউকে বিয়া কইরা নিবি?তুই আমারে ছাইড়া দিবি?”

“এসব আবোল তাবোল কি বলছিস?কে বলেছে তোকে আমি ছেড়ে দেবো তোকে?”

“তোর বাড়ি থেইকা তোর বিয়া ঠিক করছে তুই কি করবি এখন?আমার তো কোন বাড়ি ঘর নাই যেইখানে আমি তোরে লইয়া উঠুম।এহন আমি কি করুম?”

“চুপ কর।আমি বিয়ে ভাঙ্গার ব্যবস্থা করে নিয়েছি।”

“তুই যতডা সহজ ভাবতাছোস ততডা সহজ হইবো না জুঁই।আইজ নাহয় এই বিয়া ভাঙ্গলি কাইল আরেকটা আসবো,পরশু আরেকটা আসবো তহন কি করবি তুই?কোন না কোন একদিন আমার আর তোর সম্পর্কের কথা সব্বাইরে কইতেই হইবো।কিন্তু সেই দিন কি হইবো একবার ভাবছোস?কেউ আমারে মাইনা নিব না।তোর পাশে আমারে মাইনা নেওনের কথাও না।”

জহিরকে এতটা অস্থির হয়ে উঠতে দেখে জুঁই ওকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে বলল,

“তুই আগে শান্ত হ।আমি তোকে বলছি তো আমি তোকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করব না।”

জহির জুঁইয়ের হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে অনুরোধের স্বরে বলল,

“তুই আমারে ছাইড়া দিস না যেন জুঁই।দেখ আমি জানি তোরে পাওনের কোন যোগ্যতা আমার নাই কিন্তু আমি তোরে কথা দিতাছি আমি তোরে খুব সুখে রাখুম।তোর সুখের লাইগা আমি সব করুম।আমি দিনরাত এক কইরা কাজ করুম,তুই যা চাইবি তাই দেওনের চেষ্টা করুম।কিন্তু তাও তুই আমারে ছাইড়া যাইস না।”

“এবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।আমি তো বলছি তোকে যে আমি তোকে ছেড়ে যাব না।বিশ্বাস হয় না আমার কথা?”

“তাইলে চল আমরা পলাইয়া যাই।এই গেরামে থাকলে কেউ এই সম্পর্ক মাইনা নিব না।আমি একলা,আমারে সাহায্য করণের মতন কেউ নাই।জুঁই তুই জানোস আমি তোরে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু পারি না।এত মানুষের লগে আমি পারুম না জুঁই।
চল আমরা পলাইয়া যাই!”

জহিরের এমন কথায় জুঁই ভীষণ অবাক হলো।জহিরের মতন ভীতু ছেলেটাও কি না জুঁই কে হারানোর ভয়ে পালিয়ে যেতে চাইছে?না,এই ভালোবাসা কোনোমতেই জুঁই হারাতে দেবে না।জীবনে সব পাওয়া গেলেও এমন স্বচ্ছ ভালোবাসা আর পাওয়া যাবে না।

“পালিয়ে কোথায় যাব?”

জুঁইয়ের প্রশ্নটা যৌক্তিক।তবে জহির এখন এত কিছু ভাবার মতন মন মানসিকতায় নেই।

“সেসব পরে দেখা যাইবো।তুই খালি ক তুই আমার লগে যাইবি?তুই তো আমারে ভরসা করিস।আমার এই হাতখান ধইরা আমি যেইখানে নিয়া যামু যাইতে পারবি না?দরকার হইলে গাছতলায় থাকুম দুইজনে তাও তুই আমারে ছাড়িস না।আমি তোরে ছাড়া বাঁচুম না।তুই ছাড়া আমার আর কেউ নাই জুঁই।”

জুঁই জহির কে আশ্বস্ত করে বলল,

“বিয়েটা ভেঙে যাবে চিন্তা করিস না।দেখিস আজকে দিনের মাঝেই হয়তো এই খবরটা পেয়ে যাব আমরা যে বিয়েটা ভেঙে গেছে।নাদিম আমায় কথা দিয়েছিলো ও এই বিয়েটা ভেঙে দেবে চিন্তা করিস না।”

“তা না হয় বুঝলাম যে এই বিয়া ভািঙ্গ যাইবো কিন্তু আমরা কেমনে বিয়া করুম?”

“তুই তো নিজেই বললি পালিয়ে নিয়ে যাবি তাহলে সমস্যা কি?”

“যাবি তো আমার লগে পলাইয়া?”

“কেন যাব না?শোন কালা তোকে আমি ভালোবাসি।আমি এক কথার মানুষ।আমি যখন একবার বলেছি সংসার করলে তোর সাথেই করবো,স্বামী হিসেবে কাউকে গ্রহণ করলে তোকেই করবো,অন্য কাউকে না।আমার সেই কথার নড়চড় হবে না।যদি কেউ জোর করার চেষ্টা করে দরকার পড়লে আমি বি/ষ খেয়ে ম/রবো তবুও অন্য কাউকে গ্রহণ করব না।”

জহির জুঁইয়ের মুখটা চেপে ধরে বলল,

“এসব কি কস?তুই ম/রবু ক্যান?”

“তোকে হারিয়ে এমনিতেও বাঁচতে পারব না।সেই জীবন রেখেই বা লাভ কি হবে?তার থেকে একেবারেই ম/রে যাব।হয় তোর সাথে বাঁচবো নয়তো ম/রবো।”

________
রান্নাঘরে তখন চা বানাতে ব্যস্ত জবা।ওদের ঘরের জানালা দিয়ে উঁকি দিলে রান্নাঘরটা বেশ ভালোভাবে দেখা যায়।মতিউর সেখান দিয়ে জবাকে দেখে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।জবা বারবার করে বলে গেছে যেন মতিউর এই সব বিষয়ে কোনো কথা না বলে।যদি বলে তাহলে নাকি জবা ওর সাথে কথা বলবে না।শেষে বাধ্য হয়ে মতিউর আর কিছু বলতে পারলো না।কিন্তু জবার এত কাজ করা তার একদমই পছন্দ হচ্ছে না।আরে ও কি বউকে কাজ করার জন্য এনেছে নাকি।এনেছে তো ভালোবাসার জন্য।এসব কাজ করে সময় নষ্ট না করে তার থেকে ভালো মতিউরের পাশে এসে একটু বসে থাকলেও তো হয়।সারা বাড়ির মানুষের জন্য খেটে ম/রবে অথচ মতিউর কে একটু সময় দেবে না।আবারো নিজের কাজে মনোযোগ দিলো মতিউর।জবার কাজের মাঝেই এক মধ্য বয়স্ক মহিলা এসে ওর পাশে পিরিতে বসলো।জবা চেনে তাকে।ওর চাচা শ্বশুরের বড় ছেলের বউ।মানুষটা ভীষণ নরম মনের।ওনাকে দেখতেই জবার মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠলো।

“কিছু বলবেন ভাবি?”

রাজিয়া আলতো হেসে বলল,

“দেখতে আইলাম তুমি কি করতাছো।”

“ও আচ্ছা।বসুন এক কাপ চা দেই আপনাকে কেমন?”

“না না লাগবো না।আমি চা খাই না।”

“খান না তো আজকে একটু খান।”

“না এসব কথা বাদ দাও।তোমারে আমি একখান কথা কইতে আইলাম।মন দিয়ে শুইনো আচ্ছা!”

“হ্যাঁ বলুন।”

রাজিয়া একবার আশেপাশে ভালো করে দেখে নিল যে কোথাও কান্তা কিংবা শিল্পীকে দেখা যাচ্ছে কিনা।না আসে পাশে একজন কেউ দেখা যাচ্ছে না।রাজিয়া যথাসম্ভব নিজের গলার আওয়াজ কমিয়ে জবা কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“দুপুরে কান্তা আর শিল্পী তোমারে কি খাইতে দিছিলো?”

জবা একটু মনে করার চেষ্টা করে বলল,

“শরবত এর মতন কিছু একটা বানিয়ে দিয়েছিল।”

“তুমি খাইছিলা?”

“না খেতে পারিনি পুরোটা।এক চুমু খেয়ে কেমন যেন তেঁতো লেগেছিল তাই ফেলে দিয়েছি।ওদের কে বলবেন না কেমন।কষ্ট পাবে হয়তো।সকাল অব্দি তো আমার সাথে ঠিকঠাক কথাও বলছিলল না দুপুরে তাও গরমে আমার রান্না করতে কষ্ট হচ্ছিল জন্য শরবতটুকু বানিয়ে এনেছিল।যদিও ওটা কেমন শরবত আমি জানিনা।”

রাজিয়া একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,

“খাওনি ভালো করছো।শোন ওরা কিছু দিলে খাইবা না কেমন।”

জবা ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“কেন?“

“এত কথা তোমারে এহন কইতে পারুম না।যা কইতাছি তাই শোনো।”

“কিন্তু যদি কিছু দিতে আসে কিভাবে না করব?তাহলে তো আবার অশান্তি হবে?ওরা বলবে আমি মাতব্বরের মেয়ে জন্য ভাব নিচ্ছি।”

“কইলে কইবো।আর বেশি সমস্যা হইলে যা দিব নিয়া ঘরে যাইবা,কইবা পরে খাইবো।পরে ফালাইয়া দিবা বুঝছো?”

“কিন্তু কেন সেটা তো বলুন?”

“সব কথা এহনই জানার দরকার নাই তোমার।আমি তোমার ভালোর লাইগা কইতাছি।তুমি অনেক সহজ সরল মাইয়া,অগোরে মনের এত প্যাঁচ বুঝবানা।তোমারে আমার খুব পছন্দ হইছে হের লাইগা তোমারে আগে থেইকা সাবধান করতাছি।আমি তোমার বড় বোনের লাহান আমি তোমার খারাপ চামু না।মনে রাইখো আমার কথা ওরা কিছু দিলে খাবানা।”

কথাটা বলে রাজিয়া উঠে চলে গেল।জবা ওনার কথার আগামাথা কিছুই বুঝলোনা।রাজিয়ার কথা কে খুব একটা বেশি গুরুত্বও দিল না।সবগুলো কাপে চা ঢেলে একে একে সবার ঘরে দিয়ে সবার শেষে গেল মতিউরের কাছে।

মতিউর চা টা পাশে রেখে আবারো হিসেবের খাতায় মনোযোগ দিল।জবা বিরক্ত হলো।সেই সকাল থেকে এই হিসেবে লেগেছে।কিসের এত হিসাব করে যে সারাদিনে শেষ হয় না?

“এত কিসের হিসাব করেন হ্যাঁ যে সারাদিনে শেষ হয় না?আদৌ হিসাব করতে পারেন?”

মতিউর খাতার উপর থেকে চোখ তুলে জবার দিকে তাকিয়ে বলল,

“অংকে আমি মাস্টার্স করেছি আর আমায় বলছো হিসাব পারি না?”

জবা বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

“সত্যিই আপনি এত পড়াশোনা করেছেন?”

“কেন বিশ্বাস হয় না?তোমার স্বামী অনেক শিক্ষিত।আশেপাশের আরো দশ গ্রাম কেন বিশ গ্রামেও তোমার স্বামীর মতন শিক্ষিত আর কাউকে পাবে না।এজন্য হলেও তুমি কিন্তু গর্ব করতে পারো আমায় নিয়ে।”

“ঠিকই বলেছেন।একটু একটু গর্ব হচ্ছে আপনাকে নিয়ে।”

“আচ্ছা সুজন পড়াশোনা জানে?”

জবা তৎক্ষনাৎ উত্তরে বলল,

“হ্যাঁ অবশ্যই জানে।জানবে না কেন?সুজন মূর্খ না।ও এখনো পড়াশোনা করছে।”

“বুঝেছি।তুমি কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছো?”

“এইট।”

“তারপর পড়োনি কেন?জুঁই তো তারপরও পড়াশোনা করছে?”

“আমার ভালো লাগে না পড়তে।বুঝিনা জুঁইয়ের পড়াশোনার প্রতি কিসের এত ভালোবাসা।ক্লাস নাইনে ভর্তি হওয়ার জন্য দুই গ্রাম পার হয়ে যেতে হতো।আমার হাতে অত সময় ছিল না।অতটুকু সময় আমি সুজনের সাথে কাটাতাম।”

মতিউর কিঞ্চিৎ বিরক্তি কর গলায় বলল,

“একটু মিথ্যে বলতে পারো না মাঝে মাঝে?সুজনের সাথে সময় কাটাতে সেসব কেন বলতে হবে?আমার খারাপ লাগে না?”

“অভ্যাসটা আপনি খারাপ করেছেন।আগে থেকেই যদি সুজনের নাম নিলে একটু রেগে যেতেন তাহলে আর আমি বলার সাহসই পেতাম না।”

“সমস্যাটা তো ওখানেই।তোমার সাথে রেগে কথা বলতে পারিনা।”

“চা খেয়ে নিন ঠান্ডা হয়ে গেল।”

মতিউর চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আবারো হিসেবের খাতায় মনোযোগ দিল।হিসাব করতে করতেই আবার জবাকে বলল,

“তুমি পড়াশোনা করতে চাও?শহরে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দেই ভালো স্কুলে?”

জবা তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলল,

“কোন দরকার নেই।আপনি পারলে ভবিষ্যতে জুঁই কে সাহায্য করবেন একটু আমার বদলে।”

“সে তো দরকার পড়লে করবোই।তোমাকেও পড়াবো সমস্যা কি?”

“অনেক সমস্যা।আমার এত পড়াশোনা করার ইচ্ছে কখনোই ছিল না।ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছি এতটুকুই যথেষ্ট।জানি আপনার সাথে হয়তো মানাবে না।আপনি এত উচ্চ শিক্ষিত মানুষ আর আপনার বউ মাত্র ক্লাস এইট পাশ।তাও মানুষকে অন্তত বলতে পারবেন যে আপনার বউ পড়াশোনা জানে,মূর্খ না।”

মতিউর আলতো হেসে বলল,

“খুব যে নিজেকে বউ বউ বলে পরিচয় দিচ্ছো আমার?একদিনে তোমার একটু বেশিই পরিবর্তন হয়ে গেল না জবা?”

জবা অস্বস্তি তে পড়লো।আশেপাশে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে বলল,

“পরিবর্তন হলেও দোষ,না হলেও দোষ।”

“জানো জবা হিসেবের খাতায় অনেক গরমিল দেখছি।প্রায় দশ হাজারের বেশি টাকার হিসাব মেলাতে পারছি না।বুঝতে পারছি না আমি গরমিল করছি নাকি আসলেও গরমিল হয়ে গেছে।”

“আপনার অবর্তমানে হিসেবের দায়িত্বে কে ছিল?”

“বড় ভাই।”

“তাহলে তো ওনাকে অবিশ্বাসও করা যায় না।আপনারই বোধহয় ভুল হচ্ছে।নিশ্চয়ই নকল করে পরীক্ষায় পাস করেছিলেন।”

“একটু চালাক হওয়া দরকার তোমার জবা।আমার ভাই জন্যেই যে অবিশ্বাস করা যাবে না এমনটা না।আগে আমার বর্তমানে আমার মেজো ভাই হিসেবের দায়িত্বে ছিল।তখন হিসেবে গরমিল হওয়ার কারণে পরে বড় ভাইকে দায়িত্ব দিয়েছি।আশা করছি আর বিস্তারিত বলতে হবে না।”

জবা বেশ অবাক হলো।নিজের মানুষগুলো এমন কেন হয়?তাদেরকেই যদি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস না করা যায় তাহলে আর কাকে করবে?হঠাৎ জবার মাথায় রাজিয়ার বলা কথাগুলো এল।সে তো আর তার অর্থ ঠিক করে বুঝতে পারেনি কিন্তু মতিউর তো ভীষণ চালাক।ওকে বললে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে।

“আচ্ছা শুনুন একটা কথা আছে।দরকারি কথা।”

“ভালোবাসি বলবে নাকি?”

“সব সময় এক কথা ভালো লাগে না।আগে শুনুন তো কি বলবো?”

“আচ্ছা বল।”

“রাজিয়া ভাবিকে চেনেন না?”

“তুমি নতুন বউ জবা,কিন্তু আমি এই বাড়ির নতুন ছেলে না যে ভাবিকে চিনবো না।কিন্তু ভাবি তো ভালো মানুষ।ভাবির তো কোন ঝামেলা করার কথা না।আর ঝামেলা করলেও তো তোমার আমায় বলার কথা না তাহলে হলোটা কি?”

“একটু আগে ভাবি আমার বলে গেলেন আমি যেন বড় আর মেজো ভাবির দেওয়া কোন খাবার না খাই এর কারণ কি?”

মতিউরের ভ্রুঁ দ্বয়ের মাঝে গাঢ় ভাঁজ সৃষ্টি হলো।পাল্টা প্রশ্ন করে বলল,

“সত্যি তো কারণ কি?”

“সেটাইতো আমি আপনার কাছে জানতে চাইলাম।”

“আরে বোকা যে খেতে মানা করেছে তার থেকে তো উত্তরটা জানা দরকার ছিল।আমার থেকে জানতে চাইছো কেন?”

“আপনার না অনেক বুদ্ধি।আমায় তো বোকা বললেন।এতই যখন বুদ্ধি তাহলে বলুন।”

মতিউর শব্দ করে হেসে উঠে বলল,

“তুমি সব সময় আমার সাথে ঝগড়া করতে চাও তাই না?কই সুজন মিয়ার সাথে তো এত ঝগড়া করার কথা শুনিনি।”

“বলেছিলাম তো আপনাকে সুজনের সাথে যা যা করেছি সেসব কিছুই আপনার সাথে করবো না।এত আজেবাজে কথা না বলে বলুন না ভাবি কেন আমায় কিছু খেতে মানা করলো?”

মতিউর বিচক্ষণের ন্যয় ভেবে বলল,

“হয়তো ঝাড়ফুঁক করবে সেই ভয়ে!বা ধরো কালো জাদু করলো।এমন কালো জাদু করলো আমি আর তোমাকে ভালোবাসলাম না,তোমাকে রেখে আরেকটা বিয়ে করে নিলাম।”

জবার চোখে মুখে একটা আতঙ্ক ফুটে উঠলো।বোকা মেয়েটা মতিউরের চালাকিটা ধরতেও পারলো না,ভয় পেয়ে গেল।শঙ্কিত বলায় বলল,

“সত্যি এমনটা হয়?”

“না হওয়ার কি আছে?এই তো পাশের গ্রামে হলো।জানো লোকটা কত ভালোবাসতো বউকে।পরে এমন কালো জাদু করলো ওর বউকে দুই চোখে সহ্য করতে পারে না।মা/রতে মা/রতে গ্রাম ছাড়া করে আরেকটা বিয়ে করেছে।”

“আপনিও এমন করবেন?”

“দেখো কালো জাদু করলে তো আমার নিজের ওপরে কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।দেখা গেল তোমায় হয়তো তখন চিনতেই পারলাম না।তোমায় আগেই বলে রাখছি এমন সব রকম পরিস্থিতির জন্য নিজেকে তৈরি রাখবে।বলা যায় না কোনদিন হয়তো তোমাকে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হতে পারে।”

“আপনি সত্যিই এমন করবেন?”

“ভয় পেলে নাকি?”

“স্বাভাবিক নয় কি?”

“এই ভয়টা কিসের শ্বশুরবাড়িতে নিজের আশ্রয় হারানোর নাকি আমাকে হারানোর?”

“যদি বলি দুটোরই?”

মতিউর স্মিত হেসে বলল,

“চিন্তা করো না।তোমায় কখনো যদি আমার থেকে দূরে যেতেও হয় সুজন মিয়া আছে না?ও বলেছে তুমি যখন, যে পরিস্থিতিতেই যাও না কেন ও তোমায় গ্রহণ করবে হাসিমুখে।বরং আমি যদি তোমার সাথে কোন খারাপ আচরণ করি না ও আমাকে খু/ন করে রেখে যাবে।”

মতিউরের কথায় জবার ভীষণ মনঃক্ষুন্ন হলো।সন্দেহ জাগলো মতিউরের ভালোবাসার ওপর।মতিউর জবাকে ভালোবাসতেই পারেনা।ভালোবাসলে কি আবার এসব কথা বলত নাকি।মৃদু রাগী গলায় বলল,

“আপনি যে আমায় ভালোবাসেন না তার প্রমাণ পেলাম।শুধু মুখে ভালোবাসি বললেই হয় না কাজেও করে দেখাতে হয়।আপনি যদি আমায় সত্যিই ভালোবাসেন তাহলে কখনো এসব করতেই পারবেন না।”

“একদম ঠিক বলেছো।এটাই বোঝাতে চাইছিলাম তোমায়।শোনা জবা পৃথিবীতে কোন কালো জাদুরও ক্ষমতা নেই যে আমায় তোমায় ভুলিয়ে দেবে।আর যদিও বা ধরো কখনো প্রভাব ফেলল তবে আমি অন্য কাউকে বিয়ে করার আগে তুমি বরং আমাকে খু/ন করে ফেলো।তবুও যেন এ জীবনে অন্য কাউকে আমায় গ্রহণ না করতে হয়।”

চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here