#প্রেমের ঘাটের মাঝি
#পর্ব ২২
#লেখনিতে খুশবু আকতার
“ওই কালা!”
জুঁইয়ের চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে জহির ছুটে এলো।আতঙ্কিত গলায় বলল,
“কি হয়েছে?”
অন্ধকারের মাঝে জুঁই জহিরের কন্ঠ অনুসরণ করে ছুটে এসে জাপটে ধরে বলল,
“তুই জানিস না অন্ধকারে আমার ভয় করে?দেখলি কারেন্ট চলে গেছে তারপরও ওই রুমে কি করছিলি?”
“কয়েকটা কাগজপত্র দেখার ছিল সেগুলো দেখছিলাম।”
“তো তোর কাজ কি আমার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ?আমি যদি এখানে হার্ট অ্যাটাক করে ম/রে যেতাম?”
“ম/রা কি এতই সহজ নাকি হ্যাঁ?আমি তোকে মরতে দিলাম নাকি?”
“আজরাইল কে তুই আর আটকাবি কি করে?”
“আচ্ছা সেসব কথা বাদ দে।আমাকে ছাড়। মোমবাতি জ্বালাই।”
“না আমাকে নিয়েই চল সাথে করে।আমি একা একা থাকতে পারবো না।তুই তো জানিস আমার ভূতে ভয় আছে।”
জহির শব্দ করে হেসে ওঠে বলল,
“তোর ভূতে ভয় এর কথা শুনে আমার ভীষণ হাসি পায়।তুই মানুষ দেখে ভয় করিস না অথচ যে ভূতের অস্তিত্ব নেই সেই ভূতকে দেখে ভয় করিস।কি অদ্ভুত!”
“ভূত না থাকুক জ্বিন তো আছে।আমি এতকিছু জানি না আমার ভয় করে তো করে! তুই হাসছিস কেন?একদম দাঁত ভেঙে দেবো হাসলে।”
জহিরের জুঁইয়ের হাতটা ধরে পাশের ঘরে গিয়ে মোম জ্বালালো।সাথে সাথেই কারেন্ট চলে এলো।জুঁই বিরক্তিকর গলায় বলল,
“যখন এত তাড়াতাড়ি আসারই ছিল তাহলে অযথা গিয়ে আমাকে ভয় দেখালি কেন? যত্তসব!”
“ও মানুষ নাকি যে ওর উপর রাগ দেখাচ্ছিস?”
“আমি যার উপর ইচ্ছে তার উপর রাগ দেখাবো।তুই চুপ করে খেতে আয়।”
জহির চুপচাপ জুঁইয়ের পিছন পিছন রান্নাঘরে গেল।এক এক করে ভাত তরকারি প্লেটগুলো এনে জুঁই মেঝেতে রাখল আর জহির বসার জন্য একটা কাপড় বিছালো।ছোট্ট সংসার দুজনের।সেই সংসারের এক বছর পার হয়ে গিয়েছে।তিন মাস হলো একটা বাড়ি ভাড়া নিয়েছে।তার আগে মতিউরের দেওয়া বাড়িতেই ওরা দুজনে থাকতো।তখন ভাড়া দিতে হতো না কিন্তু এখন আর ওরা থাকতে চায়নি।সারা জীবন তো আর এভাবে থাকা যায় না!সেজন্য একটা ছোটখাটো বাড়ি ভাড়া নিয়েছে।খেতে বসার আগে সদর দরজায় কড়াঘাতের শব্দ পাওয়া যায়।বেশ ভালোই রাত হয়েছে,এমনি তো ওদের বাড়িতে কেউ আসে না।আর এখন তো আসার কথাই না।জহির গিয়ে দরজা খুলে দিল।দরজার ওপাশে সুজনের হাস্যজ্জ্বল মুখটা দেখতেই মনে পড়লো যে কেউ না আসলেও ওদের বাড়িতে তো সুজনের নিয়মিত যাতায়াত আছে।সুজনের কথা ওরা ভুলল কি করে?
“আমি কি একটু বেশিই রাতে এলাম?”
জহির দরজা সামনে থেকে সরে এসে আলতো হেসে বলল,
“আরে না,তোর যখন ইচ্ছে তখন আসতে পারিস বলিনি তোকে?”
সুজন ভিতর এসে হাতে থাকা মিষ্টির প্যাকেটটা জুঁইয়ের হাতে দিয়ে বলল,
“নাও,একটা সুখবর আছে।আমার তো তোমারা ছাড়া এখানে আপন কেউ নেই তাই তোমাদেরকে মিষ্টিমুখ আনলাম।”
জুঁই মিষ্টির প্যাকেটটা হাতে নিয়ে প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কি সুখবর?বিয়ে করছো নাকি?”
সুজন কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর গলায় বলল,
“তোমরা সবাই আমার বিয়ের পিছনে পরে কেন বলতো?এখানে আসলে তিন বেলা তুমি একই কথা বলো,মতিউর সাহেবের সাথে দেখা হলে তিনিও একই কথা বলেন।এ ছাড়া কি আমার জীবনে আর কোন কাজ নেই?”
“সেসব কাজ বিয়ের পরেও করা যাবে।”
“ধুর!বাদ দাও তো এসব কথা।যেটা বলতে এসেছিলাম সেটা আগে বলি।আমি যেখানে চাকরি করতাম তার থেকেও একটা ভালো চাকরি পেয়েছি।এখানে বেতনও আগের থেকে অনেক বেশি।”
জুঁই উৎচ্ছসিত গলায় বলল,
“তাহলে তো এবার আর বিয়ে করতে কোন বাঁধাই নেই?”
সুজন এবার শব্দ করে হেসে উঠে বলল,
“আমার বিয়ে নিয়ে আর আশা করে বসে থেকো না।বিয়ে হবে না আমার।”
জুঁইয়ের হাসি হাসি মুখটা থেকে হাসি উড়ে গেল।আজ কতগুলো দিন কেটে গেল তবুও সুজন সে একই জায়গায় পড়ে আছে।নিজের জীবনটা গুছিয়ে নেওয়ার কথা কল্পনাতেও ভাবতে পারে না।জুঁইয়েরা তো বিয়ের কথা বললে তাও রাগারাগি করে না,কিন্তু বাড়ির কেউ বিয়ের কথা বললে ঝড় তুলে ফেলে।জহির এগিয়ে এসে সুজনের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“আর কতদিন এভাবে থাকবি?জবা আপার বিয়ের তো কম দিন হলো না।”
জহিরের কথায় তাল মিলিয়ে জুঁইও বলল,
“হ্যাঁ সুজন ভাই,আগের মতন আর কিচ্ছু নেই। ভুলে যাও সব।নিজের জীবনটাকে নতুন করে শুরু করো।”
সুজন জুঁইকে বলল,
“আগের মতন কোন কিছু না থাকলেওআমি এখনো আগের মতনই আছি।জবা জীবনে এগিয়ে গেছে আমি তাতে ভীষণ খুশি।ও আর আমার কথা মনে করে এখন কষ্ট পায় না কাঁদেনা,এতেও আমি খুব খুশি।কিন্তু তাই বলে আমাকেও জবার কথা ভুলে যেতে হবে তেমন তো কোন মানে নেই।”
“রুমি এখনো তোমার কথা মনে করে।ও এখনও এই আশাতেই আছে যে তুমি কখন গিয়ে ওকে বিয়ে করবে।”
জুঁইয়ের কথা শুনে সুজন চমকালো।এমনটা নয় যে সুজন রুমির কথা ভুলে গিয়েছিল তবে খুব একটা মনে হয় না।শুধু মাঝে মাঝে এতোটুকু মনে হয় যে জবা ছাড়াও সুজনকে কেউ পাগলের মতন ভালোবাসে।বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,
“রুমির বিয়ে হয়নি?”
“না।”
“কি করে সম্ভব?এতদিন ও আমার জন্য অপেক্ষা করছে?ওর পরিবার কিছু বলেনি?”
“ওর সাথে পেরে ওঠে না।তুমি জানো ও কতটা জেদি।পাত্রপক্ষ দেখতে আসার কথা হলেই কোনো না কোনো মতে ঠিক বাড়ি থেকে পালায়।সম্বন্ধটা ভেঙে গেলে আবার ফিরে আসে।একবার ভাবো তো ওর উপর দিয়ে একটা বছর কি ঝড় বয়ে গেছে। আমাদের মতন গ্রামে একটা মেয়ের এতগুলো দিন এভাবে নিজের পরিবারের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকার মানে বোঝো তুমি?তোমার সাথে ওর কোন যোগাযোগ নেই,তুমি কখনো ওকে কোনো আশা দাওনি, তারপরেও ও তোমার আশায় বসে আছে।তুমি রুমির এই ভালোবাসার দাম দেবে না সুজন ভাই?”
“আমি নিজেই তো ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি তাহলপ রুমিকে কি করে বাঁচাবো?”
“ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছো কিন্তু এখনো তো ধ্বংস হওনি?হয়তো রুমিই সে সুযোগ যার মাধ্যমে তুমি সে ধ্বংসের শেষ প্রান্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।রুমিকে সুযোগ দিলে তোমার জীবনটাও গুছিয়ে উঠবে,সেই সাথে রুমির জীবনও।
“এতই কি সোজা?যার স্মৃতি আগলে আজ একটা বছরেরও বেশি সময় পার করে দিলাম হঠাৎ করে তাকে ভুলে গিয়ে নতুন কাউকে জীবনে আনতে বলছো?”
“তবে আর কয়েকটা দিন সময় নাও।”
সুজন কিছুক্ষণ ভাবলো।তারপরে হঠাৎ করে হেসে উঠে বলল,
“এসব কথা এখন বাদ দাও।খুব ক্ষুদা লেগেছে,খাবার দেবে কি?”
“না দেওয়ার কি আছে?হাত মুখ ধুঁয়ে এসে বসে আমি দিচ্ছি।”
সুজন হাত মুখ ধুঁতে গেল।জুঁই আর জহির দুজনেই বেশ ভালো করে বুঝলো যে ব্যাপারটা সুজন এখন এড়িয়ে যেতে চাইছে। তাই তারা এখন আর কথা তুললো না।রুমির ব্যাপারটা অন্তত মনে তো করিয়ে দিয়েছে পরে না হয় আবার এই নিয়ে কথা বলা যাবে।
_______
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে জুঁই রান্নাবান্নার কাজে নেমে পড়ল।কলেজে যাবে সে।যাওয়ার আগে সকাল আর দুপুরে রান্নাটা করেই যায়।জহিরকে দুপুরের খাবারটা সকালে যাওয়ার সময় দিয়ে দিতে হয়।রান্নাবান্না শেষে খাবার বেড়ে জহিরকে ডাকলো।জহির একটা খাম জুঁইয়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“এটা নে।”
জুঁই খামটা হাতে নিয়ে বলল,
“কি আছে এতে?”
“টাকা।জমা দিয়ে দিস কলেজে।আর তুই বলেছিলে না তোর কিছু বই লাগবে সেসবের জন্য টাকা আছে।আমিই কিনে দিতাম কিন্তু এত বইয়ের নাম মনে রাখতে পারবো না,শেষে ভুলভাল কিছু নিয়ে চলে আসবো।”
জুঁইয়ের টাকাগুলো নিতে একটু সংকোচই হলো।জহিরের হাতের অবস্থা তো ভালো ছিল না।নতুন বাড়িতে ওঠার পর হাতে টাকা পয়সা তেমন ছিল না বললেই চলে।এর মাঝে এতগুলো টাকা জোগাড় করলো কি করে?
“কোথায় পেলি এত টাকা?”
“পেয়েছি।তোকে এত কিছু জানতে হবে না।”
“এই কালা,তুই আবার চুরি টুরি করিস নি তো?সত্যি করে বল আমায়?আমার পড়াশোনার দরকার নেই,তাও তুই এসব করিস না।”
“তোর মনে হয় আমার দ্বারা চুরি সম্ভব?আমি ধরা পড়ে যাব জুঁই।বেশি সময় কাজ করেছি।তার জন্য বেশি টাকা পেয়েছি।”
“আমার জন্য তোকে অনেক কষ্ট করতে হয় তাই না?আমি বরং পড়াশোনাটা ছেড়ে দেই? কি হবে এত পড়াশোনা করে?”
“কেন?তুই চাকরি করবি।তখন তুই চাকরি করবি আর আমি বসে থাকবো।এখন আমি কষ্ট করছি,তুই পড়াশোনা করছিস শোধ হয়ে গেল।”
জুঁই শব্দ করে কেঁদে উঠলো।হঠাৎ করে কান্না করায় জহির ভটকালো।ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলল,
“কি হলো?কাঁদছিস কেন?”
“তুই খুব ভালো কালা।আমার আব্বার পরেও যে কেউ আমার পড়াশোনায় এতটা সাহায্য করবে সেটা আমি কখনো ভাবিনি।”
জহির দু হাতে জুঁইকে আগলে নিলো।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“তোর সব স্বপ্ন আমি পূরণ করব।আমার নিজের যেসব স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে সেসব আমি তোর মাধ্যমে পূরণ করব।আমি সারা জীবন তোকে হাসিখুশি দেখতে চাই।আমার সাধ্যের বাইরের এমন অনেক কিছু তুই আমাকে দিয়েছিস।আমি কি,আমার যোগ্যতা কতটুকু,এসব ভুলে তুই আমার হাত ধরেছিস।তুই আমার ভালোবাসার মূল্য দিয়েছিস,এর জন্য আমি সারা জীবন তোর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।”
“একটা বিষয় খেয়াল করেছিস কালা?”
“কি?”
“শহরে আসার পরে এই এক বছরে কিন্তু তোর ভাষাটাও ঠিক হয়ে গেছে।তোর মাঝে কিন্তু একটা শহুরে ভাব চলে এসেছে।”
“তাই নাকি?তা তোর এই ভাবটা পছন্দ হচ্ছে না?”
“সেটা কখন বললাম?”
“তাহলে বল তোর কোন কালাকে পছন্দ? গ্রামের কালা না শহরে কালা?”
জুঁই নিজের হাতের বাঁধন আরও একটু শক্ত করে বলল,
“হলেই হলো।কালা তো কালাই সে হোক শহুরে কালা বা গ্রামের কালা।আমি আমার কালা কে সব রুপেই ভালোবাসি।”
_______
“শ্যামলডাঙ্গা থেকে আমার নামে চিঠি এসেছে জুঁই।”
জুঁই প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কে পাঠিয়েছে?”
“রুমি।”
জুঁই তাড়াহুড়ো কন্ঠে বলল,
“তাড়াতাড়ি খোলো।”
সুজন চিঠিটা খুললো।একবার নিজে পড়লো।বেশ অনেকটা সময় নিয়েই চিঠিটা পড়ল।জুঁই তাড়া দিয়ে বলল,
“কি লিখেছে সুজন ভাই?”
“ও এখনও আমার অপেক্ষায় আছে জুঁই।”
“আমিও তো তোমাকে সেটাই বলেছিলাম। এখন বলো কি লিখেছে।”
❝প্রাণ প্রিয় সুজন মিয়া,
পত্রের শুরুতে আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা তোমায় দিলাম।তোমার হৃদয় যে সত্যি এতটা নিষ্ঠুর সেটা আমি কখনো ভাবতে পারিনি।সেই যে তুমি আমার থেকে বিদায় নিয়েছিলে আর কখনো দেখাই দিলে না।আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে সে বিদায় হয়তো তোমার নেওয়া শেষ বিদায় হবে।আমার কথা একটুও মনে পড়ে না তোমার তাই না?গ্রামে যে রুমি নামক একটা মেয়ে তোমার অপেক্ষায় দিন পার করছে এসব কিছু মনে পড়ে না?
সে সব কথা বাদ দাও।আজ আর অভিযোগ করবো না তোমার কাছে কোন।এই মাসের ২৬ তারিখে আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।অনেক কষ্ট করে এতদিন পরিবারকে আটকে রেখেছিলাম কিন্তু এবারে আর সম্ভব হচ্ছে না। আব্বা ভীষণ অসুস্থ।আমার হাত দুটো ধরে অনুরোধ করে বলল যেন আমি বিয়েটা করে নেই।আমি কবুল বলার আগে অবধি তোমার অপেক্ষা করবো।দেখলে আজ আরেকবার পরিবারের জেদ জিতে গেল।আজ আরো একবার তুমি জিতে গেলে।কিন্তু কেন যেন এবার আমার নিজেকে হারতে দিতে ইচ্ছে করছিল না।আমি নিজেকে কথা দিয়েছিলাম তোমার না হলে আর কারো হবে না।আমি কাজী সাহেবের সামনে বসবো ঠিকই তবে হাতে বিষ নিয়ে।বললাম না কবুল বলার আগে অব্দি তোমার অপেক্ষায় থাকবো।তুমি না এলে ওই বিষটা খেয়ে নেব।
ভালো থেকো
ইতি,
তোমার দূরে থাকা অনেক কাছের কেউ।❞
চিঠিটা পড়া শেষে সুজন থামল।কি বলবে,কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।জুঁই অসহায় গলায় বলল,
“এখনো চুপ করে থাকবে তুমি?এই চিঠিটা পড়ার পরও তোমার কিছু বলার নেই,কিছু করার নেই,সুজন ভাই?”
“আজ কয় তারিখ জুঁই?”
“২৫ তারিখ।”
“মানে আগামীকাল রুমির বিয়ে?”
“হ্যাঁ।”
“আমি যদি এখন রওনা দেই তাহলে সময়মতো পৌঁছাতে পারবো না গ্রামে?”
জুঁই সন্দেহি দিয়ে গলায় বলল
“তুমি যাবে?”
“মরে যাবে তো মেয়েটা না হলে।”
“তুমি সত্যি যাবে সুজন ভাই?বিয়ে করবে রুমি?”
“ও মরে যাবে।ও খুব জেদী মেয়ে।ও যখন একবার বলেছে যে বিষ খাবে তার মানে খাবেই।আমার মনে হয় এবার যেতেই হবে তাই না?”
“একদম ঠিক বলেছো,রুমি খুব জেদী।আমি ওকে ছোটবেলা থেকে চিনি।তোমাকে এবার যেতেই হবে সুজন ভাই।আর দেরি করো না। এক্ষুনি যাও।”
সুজন আর সেখানে দাঁড়ালো না।ছুটে গেল নিজের বাড়িতে।জুঁইয়ের বাড়ি থেকে সুজনের বাড়ির দূরত্ব খুব বেশি না।হেঁটে গেলে ৫ মিনিট লাগে সেখানে সুজন দৌড়ে গেল।দরজা খুলে জমানো কিছু টাকা নিয়ে আবার দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়ল।ততক্ষণে জুঁই এসে পড়েছে।
“আমি আসছি জুঁই,আর দোয়া করো যেন খুব বেশি দেরি না হয়ে যায় আমার পৌঁছাতে।”
“দেখেশুনে যেও আর আমি অপেক্ষায় থাকবো তোমাদের দুজনের।রুমিকে বিয়ে করো কেমন?”
“কি করবো জানিনা তবে ওকে ম/রতে দেওয়া যাবে না।”
চলমান।

