#শুভ্রফুল — ২৩
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]
” তুই এখানে?
” সারপ্রাইজ হ্যান্ড’সাম!
আশ্চর্য হলো শুভ্র। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অতি পরিচিত এবং প্রিয় দু’জনের মধ্যে একজন হিয়া। হ্যা হিয়া। শুভ্র অর্নব ও হিয়া একই কলেজে, ভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছে। হিয়া ও বিদেশ ছিলো এতোদিন। কোনো খবর না দিয়ে হঠাৎই দেশে চলে আসলো দেখে অবাক হলো শুভ্র।
” এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি? চলো ক্যান্টিনে যায়।
” এখন?
” ও আমার তো মনে হয় তুমি চলে যাচ্ছিলে বাসায়।
চলো বাসায় যায় আন্টি ও আংকেলের সাথে দেখা
করে আসি। নাকি এখনো আলাদা থাকো? ওহ্ হ্যা তুমি তো বিয়েটা মানতে পারোনি বলে আলাদা থাকো। আচ্ছা ওই মেয়েটা কি চলে গিয়েছে? আমাকে তো কিছুই জানালে না শুভ্র?
শুভ্র আলোর অসুস্থতার জন্য তাড়াহুড়ো করছিলো
বাসায় যেতে। মুচকি হাসলো শুভ্র ল্যাপটপটা রাখলো গাড়ির জানালা দিয়ে সিটের উপর। বললো,
” অনেক দিন পর দেখা হলো তোর সাথে কথা ও হয়নি। নানারকম ঝড়ঝাপটা গেলো সেইজন্যই জানাতে পারিনি তোকে। আলো আমার ওয়াইফ একটু অসুস্থ দোয়া করিস ওর জন্য। আর আমার এখন যেতে হবে মেয়েটা চাতক পাখির মতো চেয়ে রবে আমার আসার অপেক্ষায়। এমনিতেই অনেক লেইট হয়ে গিয়েছে।
জবাবের অপেক্ষা করলো না শুভ্র গাড়িতে ওঠে দ্রুত স্টার্ট দিলো সে। মুহুর্তের মধ্যে সায় সায় করে
চোখের বাইরে চলে গেলো কালো রঙের গাড়িটা। দেখলো না তার কথায় আঘাতপ্রাপ্ত একজোড়া টইটম্বুর আঁখি। হিয়ার হাত থেকে ফোনটা আপনাআপনি পড়ে গিয়েছে। পুরনো স্মৃতিতে ডুব দিলো সে। যেখানে কতশত মধুর সম্পর্ক ছিলো তাদের। প্রায় দশ বছরের সম্পর্ক তাদের। বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যে কখন যে শুভ্র নামক নামটা মনের কোণ জায়গা করে নিয়েছে তা আজও ঠাহর করতে পারেনি হিয়া। ভেবেছিলো দেশে এসে শুভ্র বিবাহ নামক বন্ধন ও যাকে সে জোরপূর্বক বিয়ে করতে হয়েছে তাকে মুক্তি দিলে সে তার মনের কথা শুভ্রকে জানাবে। যার জন্য আজও কাউকে ভালোবাসা হলো না। আছেই তো মনের মানুষ তার।
আর একটায় মন কতজনরে দেওয়া যায় বলো?
চেতনা ফিরতেই দ্রুত চোখের পানি মুছে ফেললো
হিয়া। চারপাশ চোখ বুলালো তেমন কেউ নেই এইদিকে। ফোনটা তুললো সে। যেই ফোনের স্ক্রিনে
ফুটে উঠেছে প্রিয় মানুষটার হাসি মাখা মায়াবী মুখ খানা। তাচ্ছিল্যের হাসলো হিয়া। তার কি করনীয় এখন? একলা একলা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
” যাকে ভালোবাসার কথা জানানোর আগেই
সে অন্যের হয়ে গেলো। তাকে কি জানানো উচিৎ?
ভালোবাসা কি মুখে বলতে হয় বোঝে না তার মনের অনুভূতি? কেন এমন হয় তারা? কেন আপন হয়ে ও পরের খাতায় নাম ওঠাতে হয়? কেন আগে বলতে পারলাম না শুভ্র আমি তোমায় খুব খুব ভালোবাসি। কেন পারলাম না বলতে আফসোস।
লাগছে এখন? তুমি সুখী আছো তো শুভ্র? আমার সুখগুলো কি তাহলে তুমি উপভোগ করছো? আমার আনন্দ কেন কেঁড়ে নিলে শুভ্র? আমাকে বোঝা কি এতোই কঠিন ছিলো? কই কত কঠিন অংক চোখের পলকের মধ্যে সমাধান করে ফেলেছো। তাহলে কেন আমায় বোঝোনি? নাকি ইচ্ছে করে অবুঝ ছিলে?
অস্পষ্ট কথাগুলো কেবল হিয়ায় বুঝলো। কেউ জানলো না। আকাশের দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে
রইলো। মনে মনে অনেক ভাবলো। এটা ও বুঝলো
শুভ্র হিয়াকে বাসায় না নেওয়র কারনটা। হাসলো ফের হিয়া। কত ভয় পাচ্ছে ছেলেটা। আচ্ছা হিয়া কি নিজের জিনিস আদায় করতে জানে?
নিজের মনের কাছে প্রশ্ন করে হিয়া। তবে মন তো লোভী। যা অন্যায় পথ ও বেঁচে নিতে পারে। তাহলে, তাহলে মন নয় মস্তিষ্ককে জিজ্ঞেস করতে হবে। তাহলে সে বাস্তবতাসহ বোঝবে করনীয় কি?
কিন্তু, নাহ! সে তো এমন এক উদাহরণ যে, আমরা হাসলে মন ভালো থাকে, মস্তিষ্ক ও ভালো থাকে কিন্তু, মন ভালো না থাকলে আমরা হাসবো কিভাবে? এই মন মস্তিষ্কের মারপেঁচ এর মধ্যে পড়লে সবকিছু ধ্বংস করে দিতে হবে মনে হচ্ছে। চোখ দু’টো বন্ধ করে ফেললো হিয়া। মনের মধ্যে একপ্রকার যুদ্ধ চলছে। হার জিত নয় পাওয়া না পাওয়ার! হয় তো এগিয়ে যাওয়া নয়তো পিছিয়ে আসা। কি করনীয় বুঝে পাচ্ছে না হিয়া।
খানিকক্ষণ স্থির রইলো। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে লাগলো মেয়েটা৷ কোনো সিদ্ধান্তই নিলো না। নিজের সাথে করে আনা গাড়িটায় বসলো। ড্রাইভ করতে লাগলো। সবকিছুই চেনা কিছু বছর কেবল মধ্য থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে। নিজের বাসার দিকে রওনা হলো। হিয়া বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। বড় ভাই আছে তার বিয়ে করে দেশের বাহিরে সেটেল্ড তারা। বাংলাদেশে কেবল অতিথি হিসেবে আসে তারা। কিন্তু, তার মা বাবা অতিরিক্ত সময় বাংলাদেশেই কাটান। তাই মা বাবার সাথে বাংলাদেশে এসেছে হিয়া। নিজে ও জব করে সে।
পছন্দের মানুষের অপেক্ষায় কত মানুষকে ফিরিয়ে দিয়েছে হিয়া সেকারনে মায়ের সেকি কথা শুনতে হয়েছিলো। সব হজম করতো ভালোবাসার কারনে। বাসায় পৌঁছে চুপটি করে নিজের রুমে আসে। একটা ট্যাবলেট খায় সে। রাগ নিবারনের জন্য। প্রচন্ড টেনশন ও রাগ ওঠলে ঘুম হওয়ার জন্য খাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমে বিভোর হয়ে যায় সে। মূলত বাস্তবতা থেকে পালানোর ছোট্ট একটা অজুহাত মাত্র। কারন ঘুমালে আমরা সবকিছু থেকে মুক্তি পায়। ভুলে যায় টেনশন হারানোর ভয় আর প্রিয় মানুষদের।
___________________
” আলো ঘুমিয়ে পড়েছো? এই আলো?
কপালে হাত রাখলো চেইক করলো জ্বরটর হলো নাকি!
কিন্তু না সব ঠিক আছে। তবে এই অবেলায় শুইয়ে আছে কেন মেয়েটা? ফের আস্তেধীরে শুধালো সে,
” আলো!
” এসেছেন কেন?
শুভ্র মৃদু হাসলো আলো যে রাগ করেছে সেটা তার কথা শুনে বেশ বুঝতে পেরেছে। নরম স্বরে বললো শুভ্র,
” সরি আর হবে না লেইট ।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে কি ভেবে অবাক হলো শুভ্র,
বললো,
” আমার জন্য রাগ করেছো তুমি?
আলো শুভ্রর দিকে ফিরলো। চোখে অদ্ভুত এক অনুরাগ। রেগে বলে উঠলো আলো,
” নাহ তো! আমি আপনার সাথে রাগ করবো কেন? কে আপনি?
” আমি তোমার একমাত্র..
” ঝামেলা।
শুভ্র বাঁকা হাসলো। শার্টের বোতাম গুলো এক এক করে খুলছিলো। আলোর মুখের উপর কিছুটা ঝুঁকলো। বললো,
” ফাইন কারোর ঝামেলা হয়ে থাকাটা ও কোনো
সহজ কাজ নয় ম্যাডাম। ওকে যা ইচ্ছে বলো খেয়েছো?
কথাটা বললে ও বেড সাইড টেবিলেের দিকে তাকালো শুভ্র। কিছুই নেই। প্লেট বাটি।
” কি হলো তুমি নিচে গিয়েছো এই অবস্থায়?
আলো হকচকালো। মিথ্যা ও বলতে পারলো না। কিন্ত রাগ করে বললো,
” হ্যা আমি সুস্থ আছি তো এখানে খাবো কেন? সবার সাথে বসে খেয়েছি৷ তাতে আপনার কি?
শুভ্র হতাশ হলো। বললো,
” যা বারণ করবো তাই করতে হবে। এমন বউ পালার চেয়ে বিড়াল পালা ও ভালো অন্তত কথা শুনবে। নিজের ভালো বুঝবে।
বড় বড় চোখ করে তাকালো আলো। তাকে বিড়ালের সাথে তুলনা করলো লোকটা? আলো ধমকে বলে উঠলো,
” তাহলে বিড়াল পালুন আমি থাকবো না আপনার সাথে।
রাগে করে উঠতে নিলে শুভ্র বাহু চেপে ধরে আলোর।
” এই যে রাগিনী এতো রাগ আপনার শরীরে জন্য মোটেও ভালো না।
” ছাড়ুন আমি চলে যাবো।
” ছোট্ট এই টুকুনে শরীর তাকে এতো অবহেলা করছো কেন বলোতো?
” আমার শরীর আমি অবহেলা করবো আপনার কি তাতে? মরলে আম..
” হুসসসস! একটা বেয়াদপ বউ আমার শুধু শুধু হার্ট অ্যাটাক করার ব্যবস্থা করে দেয়। ভাগ্যিস হার্টের কোয়ালিটি ভালো নয়তো বেয়াদপ বউয়ের আগে আমারই টপকে যেতে হতো।
হাসি পেলো আলোর। শুভ্রর আড়ালে হাসলো। হাসি চেপে রাগি ভাব করে বললো,
” হয়েছে ছাড়ুন আমায়। ফ্রেস হয়ে আসুন। আজকে ও বাইরে থেকে খাবার খেয়ে আসছেন নাকি? এতো লেইট হলো কেন? প্রায় একঘন্টা তো হবেই। কার সাথে ছিলেন বলুন তো? কোন মেয়ে ছিলো?
” ক্লাস শেষে মিটিং ছিলো সবার তাই থাকতে হয়েছে। তাদের তো আর বলতে পারি না আপনারা
প্লিজ আমায় যেতে দিন আমার একটা মাত্র বউ আমার আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলো। বউটা আমায় চোখে হারায়। তাই না বউ?
আলো অনেক কষ্টে হাসি চেপে রেখেছে শুভ্রর কথা শুনে। আঙুল উঁচিয়ে বলে,
” আপনি দিনদিন দুষ্টু হয়ে যাচ্ছেন। আপনার চেয়ে
আঁধার অনেক ভালো আছে।
” তো কে করবে দুষ্টুমি মিসেস চৌধুরী?
” না আসলে টেনশনে রাখেন আসলে অস্বস্তিতে ফেলেন। আপনার যন্ত্রণায় আমি..
” আমি যন্তনা দেয়? যন্ত্রনার মানে বোঝো?
আলো ভাবলো। শুভ্র তারই দিকে ঝুঁকে আছে অপলক দৃষ্টিতে। আলো বললো,
” যে সাবজেক্ট নিয়ে তিনটে বছর, ছয়টি মাস কাটালাম সেই সাবজেক্ট এর মানে জানবো না?
আপনি বোঝেন মি. চৌধুরী কারন আপনি তো এই
শব্দটার সাথে অপরিচিত আবার কিছুটা পরিচিত বলা যায়। কারন আপনার জীবন আমার আগমনের পর থেকে আপনি অসহ্য যন্ত্রণায় ব্যথিত হয়ে মা বাবাকে ছেড়ে সুদূর বিদেশ পাড়ি দিলেন। আ…
” স্টপ ইডিয়ট! আমি তোমার জন্য নয় আমি আমার ক্যারিয়ারের জন্য বিয়েটা করতে চায়নি। এসব বিয়ে টিয়ে নিয়ে আমার কোনো ইনটেনশন ছিলো না। ধ্যাট’স ইট!
” আমার আপুনির সাথে ঝগড়া করছো কেন ভাইয়া?
সরে আসলো আলো। শুভ্র বিরক্ত হয়। আজকাল কোনো প্রাইভেসি নেই কোথাও। একান্তে কথা বলা ও অন্যায়। শুভ্র বলে উঠলো,
” কেন আসছিস?
” ঝগড়া থামাতে। তুমি আমার আপুনির সাথে এভাবে কথা বলছো কেন? আমি বইয়ে পড়েছিলাম তো,
হ্যা! নারী নির্যাতন করছো তাই না? পুলিশকে কল করবো? সোজা..
” আরেক পাগল আসছে। যা পুলিশকে কল কর।
এখন ডিস্টার্ব করবি না। যা..
” আমি মামুনিকে ডাকছি তুমি ঝগড়া করছো আপুনির সাথে।
চলে যেতে থাকে আঁধার। আলো হাসছে। সে শুভ্রকে বলে,
” আঁধার একদম ঠিক কাজ করেছে৷ আজকে লেইট করে আসার পানিশমেন্ট এটা। মামুনিকে আমিও বলবো আপনি আমার সাথে ঝগড়া করছেন।
শুভ্র কাবার্ড থেকে টি-শার্ট আর টাউজার বের করতে করতে বলে,
” আপনি আগে সুস্থ হোন ম্যাডাম তারপর না হয়
ঝগড়া করবো একসাথে। এখন চাইলে ও ইম্পসিবল।
আলো মিটিমিটি হাসছে। শুভ্র আলোর দিকে তাকাতেই মুখটা থমথমে করে ফেলে শুভ্র কিছু না বলে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায়৷ তারমধ্যে আবার আঁধার আসে।
” কেউ আসলো না আপুনি। মামুনি আম্মু সবাইকে বললাম আমার কথা কেউ শুনলো না।
” পাগল ছেলে৷ যা পড়তে বস। নয়তে কাকিয়া আচ্চা মতো পিটুনি দিবে।
” নাহ! আপুনি পড়াশোনা ভাললাগে না। জীবন
টা পুরায় তেজপাতা।
” পাকা ছেলে একটা। কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে বলে।
আঁধার বাধ্য ছেলের মতো চলে যায়।
” আলো কোথায় তুই মা?
আলো তাকালো দরজার দিকে। এমন এক অসুস্থ হলো নড়তে ও পারছে না ঠিকমতো। আলিয়া জাহান আসছেন।
” ঘুম ভেঙেছে আপনার চাচি?
তিনি পাশে এসে বসলেন।
” হ্যা রে। অনেক ক্লান্ত ছিলাম তো তাই। আচ্ছা
জামাই আসছে?
” হুম। ওনি গোসল করছেন। কিছু বলবেন?
” না মানে আমার কিছু টাকা লাগতো। আসলে তুই তো জানিস আমার কত ঔষধ লাগে প্রতিমাসে। না খেলে শরীর আরো অসুস্থ হয়ে যায়। কার কাছে বলবো বল একমাত্র তুই ছাড়া।
” আচ্ছা চাচি আমি ওনাকে বলবো।
” আচ্ছা আমি তাহলে যায়।
” ঠিক আছে।
আলো আর কিছুই ভাবলো না৷ শুভ্র বের হতেই
আলো বললো,
” খেয়ে আসুন। প্রায় রাত হয়ে আসছে।
” রাতেই খাবো এখন ইচ্ছে করছে না।
” আপনি খেয়ে আসবেন তারপর আপনার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে। প্লিজ আমার কথাটা শুনুন। প্রত্যেকদিন না খেয়ে থাকা শরীরে জন্য মোটেও ভালো না। এইদিকে আমাকে ঠিকই রুটিন মেনে চলতে হচ্ছে। আর ইনি অনিয়ম করছেন।
” আজ বুঝলাম বউয়ের অভাবে অসুস্থ হচ্ছিলাম এতোদিন। সরি বউ এখন নয় একসাথে খাবো। এখন বলো কি জরুরি কথা।
আলো জোর করলো না। বললো,
” আসলে চাচির কিছু টাকা লাগতো। আপনার কাছে থাকলে..
” সকালে দিয়ে দিও তুমি।
” আচ্ছা মিহুল ভাইয়া এবং আহির কোনো খোঁজ পেয়েছেন?
হঠাৎ বলে উঠলো আলো। শুভ্র অবাক হয়নি। নিজে ও ভাবছিলো কয়েকদিন যাবত বিষয়টা নিয়ে।
” নাহ! কেউ নিজ থেকে নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে পাওয়া বড়ই মুশকিল।
” যেমনটা আপনি।
” ফিরে এলাম তো।
” হুম অনেক অভিযোগ রেখে।
” এখনো রাগ আছে তাই না?
” উহুম! কেবল এক আকাশ অভিমান।
” এতোওওও
” অনেককক!
” কি করলে এই অভিমান ভাঙবে শুনি?
” মৃত্যু অব্দি হাতটা ধরে পাশে থাকতে হবে বুঝেছেন চৌধুরী সাহেব।
” ব্যাস এইটুকুই?
শুভ্রের কথায় আলো বলে,
” মুখে আমরা যতোটা সহজভাবে বলি জীবন ততোটা সহজ নয় চৌধুরী সাহেব। জীবন চলার পথ বড্ড কঠিন। একটায় চাওয়া আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না। শিকড়হীন গাছ যেমন বেঁচে থাকতে পারে না তেমন আপনিহীন আমি ও মূল্যহীন৷
আলো শুভ্রের কাঁধে মাথা রেখে বলে কথাগুলো।
” ইনশাআল্লাহ!
চলবে,,,,,,,

